মাদক পাচার

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
জো বাইডেনের বিশেষ ক্ষমায় যাবজ্জীবন থেকে মুক্তি, এক বছর না পেরোতেই ফের অর্থ পাচার চক্রে জড়ালেন স্মিথ

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিশেষ ক্ষমায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া এক ব্যক্তি আবারও মাদক পাচার এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন। ৫৫ বছর বয়সী ল্যাকেন্টো ব্রায়ান স্মিথ নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই যাত্রায় তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সম্প্রতি মিশিগানের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার নথি উন্মুক্ত করা হয়।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার দায়ে জুরি বোর্ড স্মিথকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি, হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঠিক কয়েকদিন আগে জো বাইডেন তার সাজা মওকুফ করেন। এরপর একই বছরের জুলাই মাসে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ৮ বছরের শর্তসাপেক্ষ মুক্তির (সুপারভাইজড রিলিজ) অধীনে টেক্সাসের হিউস্টনে বসবাস শুরু করেন তিনি। প্রোবেশন অফিসের অনুমতি নিয়েই তিনি সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   তবে মুক্তির পর নতুন জীবনের সুযোগ পেয়েও তিনি পুরনো পথে হাঁটা শুরু করেন। আইআরএস (IRS) ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের স্পেশাল এজেন্ট জোসেফ ম্যাকের দায়ের করা ৩৩ পৃষ্ঠার অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউএস ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) এক ছদ্মবেশী এজেন্টের ফাঁদে পা দেন স্মিথ। ওই আন্ডারকভার এজেন্ট নিজেকে অর্থ পাচারকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।   স্মিথ তাকে জানান, তিনি টেক্সাসে থাকলেও তার মূল ব্যবসা মিশিগানে চলছে। এরপর মিশিগানের মাস্কেগনে থাকা তার এক সহযোগীর মাধ্যমে একটি ওয়ালমার্ট স্টোরের পার্কিং লটে ছদ্মবেশী আরেক নারী এজেন্টের কাছে ৮০ হাজার ডলারের অবৈধ অর্থ হস্তান্তর করেন স্মিথ। পরবর্তীতে এই অর্থ মেক্সিকোর ব্যাংকে পাচার করা হয়। এমনকি স্মিথ ওই এজেন্টের কাছে গর্ব করে বলেছিলেন, গত ২০ বছর আগে তিনি যখন রাস্তায় ছিলেন তখন বেশ বড় মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন এবং কারাগারে বসেও সপ্তাহে ২০ কিলোগ্রাম কোকেন পাচার নিয়ন্ত্রণ করতেন।   আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভয়ংকর কর্মকাণ্ড চালানোর মধ্যেই গত ১৬ জুলাই স্মিথ আদালতে তার শর্তসাপেক্ষ মুক্তির মেয়াদ কমানোর আবেদন করেছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি একটি ট্রাকিং কোম্পানি খুলেছেন এবং সমাজের একজন ইতিবাচক ও উৎপাদনশীল সদস্য হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেছেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমাকে দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছিলেন, তিনি আইন মেনে সৎ জীবনযাপন করছেন এবং এই সুযোগকে হেলায় হারাতে চান না। যদিও তার এই আবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি আদালত, তবে তার আগেই মাদক ও অর্থ পাচারের নতুন অভিযোগে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়লেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের নিচে উদ্ধার হওয়া অত্যাধুনিক গোপন সুড়ঙ্গের একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তের নিচে গোপন সুড়ঙ্গ, পুলিশের এক অভিযানে ফাঁস হলো ভয়ংকর রহস্য

মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের নিচে তৈরি একটি অত্যাধুনিক গোপন সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেনসহ বিভিন্ন মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত জেনারো লোপেজকে ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে। মেক্সিকো থেকে প্রত্যর্পণের পর সোমবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর একটি আদালতে ৫৪ বছর বয়সী লোপেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তিনি আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, লোপেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের দুই পাশেই পরিচালিত একটি মাদক পাচার চক্রের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন। প্রসিকিউটরদের আবেদনের পর আদালত তাকে জামিন না দিয়ে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ তাকে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ আসামি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।    তদন্তের সূত্রপাত ২০২১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার চুলা ভিস্তার একটি সন্দেহভাজন আস্তানায় অভিযান চালানোর মাধ্যমে। সেখান থেকে বের হওয়া তিনটি গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ২৪১ কেজি কোকেন, আটটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাগাজিন, একটি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং প্রায় ৪০ হাজার ডলার জব্দ করা হয়। ওই সময় লোপেজ পালিয়ে যান এবং পরে মেক্সিকোতে আত্মগোপন করেন। তার চার সহযোগী গ্রেপ্তার হয়ে দোষ স্বীকারের পর সাজা পেয়েছেন।    এর এক বছর পর, ২০২২ সালে ন্যাশনাল সিটির আরেকটি সন্দেহভাজন আস্তানার ওপর নজরদারির সময় তদন্তকারীরা সীমান্ত অতিক্রমকারী একটি গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পান। ওই অভিযানে চারটি গাড়ি আটক করে প্রায় ৮০০ কেজি কোকেন, ৭৪ দশমিক ৮ কেজি মেথামফেটামিন এবং ১ দশমিক ৬ কেজি ফেন্টানিল জব্দ করা হয়।    তদন্তকারীরা জানান, সুড়ঙ্গটি মেক্সিকোর তিজুয়ানা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার ওটে মেসা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রায় ১,৭৪৪ ফুট দীর্ঘ ও ৬১ ফুট গভীর এই সুড়ঙ্গে শক্তিশালী কংক্রিটের দেয়াল, রেলপথ, বিদ্যুৎ এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ছিল, যা মাদক পাচারের জন্য অত্যন্ত পরিকল্পিত অবকাঠামোর ইঙ্গিত দেয়।    মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অভিযানের পর লোপেজ মেক্সিকোতে পালিয়ে যান। চলতি বছরের মার্চে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। তার বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণ ও যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৪ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
তদন্তে জব্দ হওয়া অস্ত্র ও নগদ অর্থের তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্রেপ্তার সিনালোয়া কার্টেলের শীর্ষ নেতা, স্বর্ণখচিত অস্ত্র ও বিপুল মাদকের তথ্য প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরে সিনালোয়া কার্টেলের কথিত শীর্ষ নেতা কার্লোস পায়েজ পেরেদাকে (Carlos Paez Pereda) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অর্থপাচার, মাদক-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ পরিচালনার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।   মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয় এক অভিযোগপত্রে জানায়, পেরেদা ‘কার্লিতোস’ এবং ‘কার্লিতোস রাগর্যাটস’ নামেও পরিচিত। তিনি সিনালোয়া কার্টেলের ‘লস রাগর্যাটস’ নামে পরিচিত একটি অংশের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত এক দশকে তিনি সিনালোয়া থেকে তিজুয়ানা সীমান্ত করিডর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ মেথঅ্যামফেটামিন, ফেন্টানিল ও কোকেন পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একই সঙ্গে এসব মাদক বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত শত শত মিলিয়ন ডলার অর্থপাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মার্কিন মাদকবিরোধী সংস্থা ডিইএ-এর (DEA) সান ডিয়েগো বিভাগের বিশেষ এজেন্ট জেমস নানালির ভাষ্য, পেরেদা দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে তার অপরাধ চক্র পরিচালনা করেছেন।   তিনি বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী, এই সংগঠন নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে হত্যা, অপহরণ এবং সশস্ত্র হামলার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী মাদকের প্রবাহ অব্যাহত রেখে অসংখ্য পরিবার ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, পেরেদা শুধু মাদক পাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনাই করতেন না, তিনি কার্টেলের হয়ে সশস্ত্র সদস্য ও ভাড়াটে হত্যাকারীদেরও নির্দেশ দিতেন। এসব সদস্য হত্যাকাণ্ড, সশস্ত্র অপহরণ এবং অন্যান্য সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।   গ্রেপ্তারের আগে পেরেদার বিরুদ্ধে এফবিআই একটি 'সশস্ত্র ও বিপজ্জনক' সতর্কতা জারি করেছিল। গত মার্চ মাসে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি নিজের অস্ত্রভাণ্ডারের বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করতেন। সেখানে অন্তত তিনটি অ্যাসল্ট রাইফেলের ছবি দিয়ে তিনি লিখেছিলেন, 'My 3 Fav' (আমার তিনটি প্রিয়)। এছাড়া স্বর্ণখচিত একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং একটি অস্ত্রে নিজের পদবি ও আরেকটিতে 'Rugrats' খোদাই করা ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্কিন বিচার বিভাগ (DOJ) জানিয়েছে, পেরেদা সিনালোয়া কার্টেলের 'লস মায়োস' অংশের হয়ে মাদক বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। সাম্প্রতিক সময়ে কার্টেলের 'লস মায়োস' এবং 'লস চাপিতোস' অংশের মধ্যে সংঘর্ষেও তিনি অর্থ, অস্ত্র, যোদ্ধা এবং অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এফবিআইয়ের সান ডিয়েগো ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট মার্ক রেমিলি বলেন, 'লস রাগর্যাটস' শুধু মেক্সিকোতেই সহিংসতা ছড়ায়নি, তাদের মাদক পাচারের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কমিউনিটিতেও পৌঁছেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, এই মামলাটি মেক্সিকান মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ। তারা আরও দাবি করেছে, সিনালোয়া কার্টেলকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশের পর এই তদন্ত আরও জোরদার হয় এবং তারই ধারাবাহিকতায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।   তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কার্লোস পায়েজ পেরেদা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
অভিযানে জব্দ করা মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্রের অংশ। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতভিত্তিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, গ্রেপ্তার ১১

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারতভিত্তিক কয়েকটি আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 'অপারেশন হার্ড বল' নামে পরিচালিত এই অভিযানে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব চক্র মাদক ও অস্ত্র পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার আয় করছিল।   মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে), ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানেও অন্তত ৫০টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসাইলি বলেন, অনেকের কাছে অপরিচিত হলেও এসব অপরাধী চক্র অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অস্ত্র বেচাকেনা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, চুরি এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য, এসব সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পরিমাণ কোকেন ও মেথামফেটামিন ছড়িয়ে দিয়েছে এবং সহিংস অপরাধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।   আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, ভারতের কারাগারে বন্দি অবস্থায় থেকেও কয়েকজন শীর্ষ গ্যাং নেতা আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের সহযোগীদের পরিচালনা করতেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ভারতের কারাগারে বন্দি লরেন্স বিষ্ণোইর নেতৃত্বাধীন বিষ্ণোই গ্যাং চোরাই মোবাইল ফোন ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ক্যালিফোর্নিয়ায় মাদক পরিবহন, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার নির্দেশ দিত।   অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে বৃহত্তর লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী মাদকচক্রের কাছ থেকে প্রায় ১ হাজার ১৫০ পাউন্ড কোকেন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাতেও এই গ্যাং জড়িত। মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সহযোগী রাজন ভাট্টি এক গোপন ফেডারেল কর্মকর্তার কাছ থেকে দুই লাখ ডলার আদায়ের চেষ্টা করেন। ওই কর্মকর্তা নিজেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসকারী একজন ধনী প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভাট্টি ওই কর্মকর্তা ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেন।   এদিকে ভারতের কারাগারে বন্দি জগ্গু ভগবানপুরিয়ার নেতৃত্বাধীন ভগবানপুরিয়া গ্যাংয়ের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্যাংটির সদস্যরা ভারতে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু ব্যক্তির সহযোগিতায় মানুষকে মিথ্যা হত্যামামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। এই গ্যাংয়ের সদস্য গুরলাল সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ভারতের পাঞ্জাবের এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ কর্মকর্তার সহযোগিতায় ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে চাঁদা আদায়ের ষড়যন্ত্র করেছিলেন।   আরেক সদস্য গুরদেব সিং অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা অবস্থায়ও গোপনে যোগাযোগের মাধ্যমে একটি পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, জগ্গু ভগবানপুরিয়া ভারতের কারাগারে বন্দি থেকেও ক্যালিফোর্নিয়ায় বিপুল পরিমাণ কোকেন পরিবহন ও বিতরণের নির্দেশ দিতেন।   এছাড়া কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী রবিন্দর সিং ধান্দার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় প্রতি সপ্তাহে শত শত পাউন্ড কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তার চক্র আধা-ট্রাক ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাকের মাধ্যমে লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়েস্ট কোভিনা, অন্টারিও, ফন্টানা ও পেরিস এলাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্ত পর্যন্ত মাদক পরিবহন করত।   এই মামলায় অভিযুক্ত জাস্টিন গুজম্যানকে মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার এল মন্টে এলাকার একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি চক্রটির হয়ে ১৫০ পাউন্ডের বেশি কোকেন পাচারে অংশ নিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবারের অভিযানে লস অ্যাঞ্জেলেস, স্যাক্রামেন্টো, স্টকটন, সান হোসে, ফ্রেসনোসহ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরে অভিযান চালানো হয়। শুধু স্যাক্রামেন্টো এলাকায় ২৩টি এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে ১৯টি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের প্রধান জিম ম্যাকডনেল বলেন, অভিযুক্তরা ক্যালিফোর্নিয়াকে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২ হাজার ২০০ পাউন্ডের বেশি কোকেন ও হেরোইন, ৪০ হাজার মার্কিন ডলার নগদ অর্থ এবং অন্তত ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে সাতজন যুক্তরাষ্ট্রে, দুজন ভারতে এবং একজন ইউরোপে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   উল্লেখ্য, মামলায় উত্থাপিত সব অভিযোগই তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগপত্র ও আদালতের নথির ভিত্তিতে করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আটলান্টায় গ্যাং দমনে বড় পদক্ষেপ, পাঁচ সদস্যকে পাঠানো হলো ফেডারেল কারাগারে

আটলান্টা: মাদক পাচার, সশস্ত্র হামলা, ডাকাতি এবং অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আটলান্টাভিত্তিক ‘গুডফেলাস’ স্ট্রিট গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্যকে ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজন পূর্বে দণ্ডিত অপরাধী ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।   ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গুডফেলাস গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে আটলান্টা এবং জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। সংগঠনটি মূলত মাদক পাচার, ডাকাতি, গাড়ি ছিনতাই, প্রতারণা এবং অস্ত্র ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করত। নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে তারা সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নিত বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   উত্তর জর্জিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি থিওডোর এস. হার্টজবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, গ্যাংটির সদস্যরা চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি চালিয়ে শিশুদের আহত করেছে, একজন ব্যক্তিকে মারধর ও লুট করেছে, কারাগারে মাদক সরবরাহ করেছে এবং অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছে। তিনি বলেন, সহিংস অপরাধ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।   এফবিআই আটলান্টা ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট মার্লো গ্রাহাম বলেন, সহিংস গ্যাংগুলো স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এসব অপরাধী সংগঠনকে চিহ্নিত, বিচ্ছিন্ন এবং ভেঙে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি ডি’আন্দ্রে জ্যাকসন ও তার সহযোগীরা আটলান্টার একটি আবাসিক এলাকায় গিয়ে এক নারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলায় ওই নারী, তার ছয় বছর বয়সী ছেলে এবং ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোর আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। আহত সবাই প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করে।   এই ঘটনায় জ্যাকসনকে ১৫ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালত। সাজা ভোগ শেষে তাকে আরও পাঁচ বছর তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।   আরেকটি মামলায় ট্রেভন হকিন্স নামের এক গ্যাং সদস্যকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি আটলান্টার একটি বাড়িতে গিয়ে এক ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। পরে আরও দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে ওই ব্যক্তিকে মারধর করে এবং মাদকদ্রব্যসহ একটি ব্যাগ নিয়ে যায়। পরবর্তীতে হকিন্সের বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়, যা তার রাখার আইনগত অনুমতি ছিল না।   অন্যদিকে, ২০২৩ সালের আগস্টে ডাকুয়ান কসবি ও জেরেল রাকার একটি ড্রোন ব্যবহার করে টেলফেয়ার স্টেট প্রিজনে নিষিদ্ধ সামগ্রী সরবরাহের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের থামানোর চেষ্টা করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে গাড়ি থেকে একটি ড্রোন এবং ৫০০ গ্রামের বেশি মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় কসবির বাসা থেকে এক কেজি কোকেন এবং এক ডজনেরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।   এ ঘটনায় কসবিকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর আগে একই মামলায় জেরেল রাকারকে ১০ বছর এবং বেন্টোরে মুরকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক অভিযুক্ত টাভারাস বিয়ার্ড মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। আগামী জুলাইয়ে তার সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।   আটলান্টা পুলিশ প্রধান ড্যারিন শিয়ারবাম বলেন, গুলি, ডাকাতি, মাদক পাচার ও অস্ত্র অপরাধে জড়িত গ্যাংগুলোর জন্য সমাজে কোনো স্থান নেই। তিনি বলেন, আদালতের এই রায় অপরাধীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা—সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ার চেষ্টা করলে শেষ পর্যন্ত আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।   বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এফবিআই, আটলান্টা পুলিশ বিভাগ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থার যৌথ তদন্তের ভিত্তিতে মামলাগুলো পরিচালিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, সংগঠিত অপরাধ, মাদক পাচার এবং সহিংস অপরাধ দমনে চলমান জাতীয় অভিযানের অংশ হিসেবেই এই মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০