মার্কিন বিচার বিভাগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতি ফেডারেল আইন ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী বলে জানাল বিচার বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
ইউসি সান ডিয়েগো মেডিকেল স্কুলে শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগো (ইউসি সান ডিয়েগো) স্কুল অব মেডিসিন ভর্তিপ্রক্রিয়ায় শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় আবেদনকারীদের প্রতি বৈষম্য করেছে। বিভাগের তদন্তে বলা হয়েছে, কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক আবেদনকারীদের ভর্তি বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যা ফেডারেল আইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী।    যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশন সোমবার জানায়, তাদের তদন্তে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি আবেদনকারীদের এমসিএটি স্কোর ও জিপিএর মতো একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি এমন কিছু বিষয় বিবেচনা করেছে, যা বাস্তবে বর্ণভিত্তিক অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়েছে। বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে তুলনামূলকভাবে কম একাডেমিক যোগ্যতা থাকা কিছু কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক আবেদনকারী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, আর বেশি যোগ্যতা থাকা কিছু শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় আবেদনকারী বাদ পড়েছেন।    বিচার বিভাগ আরও দাবি করেছে, আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ বা প্রতিকূলতা সম্পর্কিত উত্তরের মাধ্যমে তথাকথিত ‘আন্ডাররিপ্রেজেন্টেড মাইনরিটি’ শনাক্ত করা হতো। পরে সেই তথ্য ব্যবহার করে সাক্ষাৎকারের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তদন্তে এ পদ্ধতিকে ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্টের টাইটেল সিক্স এবং ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের ‘স্টুডেন্টস ফর ফেয়ার অ্যাডমিশনস বনাম হার্ভার্ড’ মামলার রায়ের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।    তবে ইউসি সান ডিয়েগো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বিচার বিভাগের চিঠি পর্যালোচনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, তাদের মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থীকে একই কঠোর একাডেমিক মানদণ্ড পূরণ করতে হয় এবং তারা আইন মেনেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।    বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ভর্তিনীতি সংশোধনের চেষ্টা করবে। সমঝোতা না হলে আদালতে মামলা করা হতে পারে।    ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণভিত্তিক ভর্তি নীতি বাতিলের রায় দেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। এর আগে ইউসিএলএ, ইয়েল এবং ইউসি ডেভিসের মেডিকেল স্কুলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ তুলে তদন্তের ফল প্রকাশ করেছিল বিচার বিভাগ।

তাবাস্সুম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি ডিভাইসগুলো থেকে টিকটক অপসারণের আইন আর মার্কিন সংস্করণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে জানাল বিচার বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
মালিকানা বদলাতেই কাটল নিষেধাজ্ঞা, সরকারি ফোনেও টিকটক চালানোর অনুমতি দিল মার্কিন বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এই সপ্তাহে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে যে, সরকারি ডিভাইসগুলো থেকে টিকটক অপসারণের যে আইন ছিল, তা অ্যাপটির বর্তমান মার্কিন সংস্করণের ক্ষেত্রে আর প্রযোজ্য নয়।   বেইজিং-ভিত্তিক বাইটড্যান্সের ১৯.৯% শেয়ার রেখে টিকটকের মার্কিন কার্যক্রমের মালিকানা অধিকাংশ আমেরিকান উদ্যোক্তাদের একটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার ছয় মাস পর এই আইনি মতামত সামনে এলো।   জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে বছরের পর বছর ধরে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে, যা প্ল্যাটফর্মটিকে দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে ফেলেছিল।   ২০২২ সালের শেষের দিকে, কংগ্রেস একটি দ্বিপাক্ষিক আইন পাস করে যার মাধ্যমে নির্বাহী শাখার সংস্থাগুলোকে ফেডারেল ডিভাইস থেকে টিকটক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এবিসি নিউজের তথ্য অনুসারে, আইনটি "বাইটড্যান্স লিমিটেড বা বাইটড্যান্স লিমিটেডের মালিকানাধীন কোনো সত্তা দ্বারা তৈরি বা সরবরাহকৃত যেকোনো উত্তরসূরি অ্যাপ্লিকেশন বা পরিষেবার" ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল।   গত বৃহস্পতিবার, বিচার বিভাগের অফিস অফ লিগ্যাল কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির ডেপুটি কাউন্সেলকে উদ্দেশ্য করে লেখা একটি ১২ পৃষ্ঠার মতামতে জানিয়েছে যে, আইনটি টিকটকের বর্তমান মার্কিন সংস্করণের ক্ষেত্রে আর প্রযোজ্য নয়।   অফিসটি তাদের মতামতে বলেছে, "কংগ্রেস শুধুমাত্র টিকটকের সেই সংস্করণটি নিষিদ্ধ করেছিল যা একই রকম সমস্যাযুক্ত মালিকানার বৈশিষ্ট্যগুলো ভাগ করে।"   এই মতামত সত্ত্বেও, ফেডারেল সংস্থাগুলো এখনও উৎপাদনশীলতাসহ কর্মীবাবলী ব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি ডিভাইসগুলোতে অ্যাপটি নিষিদ্ধ রাখতে পারে।   মূলত সংবেদনশীল সরকারি তথ্য অ্যাপটির মাধ্যমে চীনা সত্তাগুলো অ্যাক্সেস করতে পারে এমন জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে প্রাথমিকভাবে এই বিধিনিষেধগুলো আরোপ করা হয়েছিল।   ২০২৪ সালে, কংগ্রেস একটি আইন পাস করে যা বাইটড্যান্স তার মার্কিন কার্যক্রমের মালিকানা ত্যাগ না করলে দেশব্যাপী টিকটককে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করত। আইনটি কার্যকর হওয়ার একদিন আগে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিচার বিভাগকে এটি প্রয়োগ না করার নির্দেশ দেন এবং বলেন যে তাঁর প্রশাসন একটি চুক্তি নিয়ে কাজ করছে।   সেই চুক্তিটি জানুয়ারিতে চূড়ান্ত হয়েছিল, যখন বেশিরভাগ মার্কিন বিনিয়োগকারীদের একটি দল টিকটকের মার্কিন কার্যক্রমের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদারিত্ব অর্জন করে, যেখানে বাইটড্যান্স একটি ১৯.৯% অংশীদারিত্ব ধরে রাখে।  

তাবাস্সুম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি দোকানে বিক্রির জন্য রাখা ডিমের কার্টন | ছবি: এপি ফটো/টনি গুতেরেজ
ডিমের দাম কারসাজির অভিযোগে ৩ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বড় জরিমানা ও ডিম অনুদান

যুক্তরাষ্ট্রে সিন্ডিকেট করে অবৈধভাবে ডিমের দাম বাড়ানোর অভিযোগে দেশের তিনটি শীর্ষস্থানীয় ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ এবং ১৭টি অঙ্গরাজ্যের যৌথ চুক্তির আওতায় এই কোম্পানিগুলোকে সম্মিলিতভাবে ৩৩ লাখ ডলার জরিমানা এবং ৫ কোটি ৩০ লাখ পিস ডিম অনুদান দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছর ডিমের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোর পেছনে তাদের অবৈধ গোপন চুক্তি দায়ী বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।   অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—ক্যাল-মেইন ফুডস, ভার্সোভা এবং হিকম্যানস এগ র‍্যাঞ্চ। ম্যারিল্যান্ডের ফেডারেল আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ঠকিয়ে কৃত্রিমভাবে ডিমের দৈনিক বাজার মূল্য বাড়িয়ে রেখেছিল। বিশেষ করে, তারা গোপনে একত্রিত হয়ে ‘আর্নার ব্যারি পাবলিকেশন্স’ নামক ডিমের মূল্য নির্ধারণকারী সূচকে ইচ্ছেমতো দর জমা দিত, যার ওপর ভিত্তি করে আমেরিকার সব গ্রোসারি শপ ও রেস্তোরাঁ ডিমের দাম নির্ধারণ করে।   নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস এই তদন্তের নেতৃত্ব দেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, শক্তিশালী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যখন পর্দার আড়ালে দাম বাড়ানোর জন্য জোট বাঁধে, তখন তার খেসারত দিতে হয় সাধারণ কর্মজীবী পরিবারগুলোকে। এই ডিম উৎপাদনকারীরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের পকেট কেটে অতিরিক্ত মুনাফা লুটেছে।   চুক্তি অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোর কোনোটিই সরাসরি নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেনি, তবে মামলার দায় থেকে বাঁচতে তারা এই সমঝোতা মেনে নিয়েছে। জরিমানার ৩৩ লাখ ডলার রাজ্যগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে এবং জরিমানাস্বরূপ দেওয়া ৫ কোটি ৩০ লাখ পিস ডিম বিভিন্ন ফুড ব্যাংক ও দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যৎ কারসাজি রোধে কোম্পানিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের মূল্য সংক্রান্ত যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বার্ড ফ্লু মহামারির অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রে এক ডজন ডিমের দাম রেকর্ড ৬.২৩ ডলারে পৌঁছেছিল। সে সময় কোম্পানিগুলো লাখ লাখ মুরগি মেরে ফেলার অজুহাত দিলেও, বিচার বিভাগের তদন্ত শুরুর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই ডিমের দাম নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করে। বর্তমানে ২০২৬ সালের মে মাসের হিসাব অনুযায়ী, আমেরিকার বাজারে ডিমের দাম ডজনপ্রতি ২.২০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।   এর মধ্যে ক্যাল-মেইন ফুডস এককভাবে ১৫ লাখ ডলার জরিমানা এবং ৩ কোটি ডিম দেবে। বাকি অর্থের মধ্যে হিকম্যানস ১০ লাখ ডলার ও ৩২.৫ লাখ ডিম এবং ভার্সোভা ৮ লাখ ডলার ও ২ কোটি ডিম প্রদান করবে। এই সমঝোতা চুক্তিতে নিউইয়র্ক ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, পেনসিলভানিয়া ও ওহাইওসহ মোট ১৭টি অঙ্গরাজ্য অংশ নিয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের যৌন শোষণের দায়ে ফ্লোরিডার বাসিন্দার ৩০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ভ্রমণের মাধ্যমে শিশুদের যৌন শোষণের মতো জঘন্য ও ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তিকে ৩০ বছরের দীর্ঘ কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, বিশ্বের যে প্রান্তেই হোক না কেন, শিশু নির্যাতনকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এই রায়ের মাধ্যমে শিশুদের প্রতি সহিংসতা ও শোষণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের বিষয়টিই নতুন করে স্পষ্ট করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অপরাধ বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এ. টাইসেন ডুভা এই জঘন্য অপরাধের বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আসামির এই বিকৃত কর্মকাণ্ড কেবল একাধিক শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের মাধ্যমেই গুরুতর ক্ষতি সাধন করেনি, বরং সে এই নির্যাতনের দৃশ্যগুলো স্মৃতি হিসেবে ধারণ করে অন্যান্য অপরাধীদের কাছেও তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে ভুক্তভোগী শিশুদের ক্ষতির মাত্রা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়।   মার্কিন বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, শিশু যৌন নির্যাতনকারী কোনো অপরাধীই যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না। সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ডুভা আরও জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে কিংবা আন্তর্জাতিক পরিসরে যেখানেই শিশুদের ক্ষতি করুক না কেন, তাদের অবশ্যই কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে বিচার বিভাগ বদ্ধপরিকর। এই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় এমন অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের জন্য একটি সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় প্রতিবন্ধীদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা কমানোর নতুন আইন, তীব্র বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় তহবিল সহায়তার বিষয়ে একটি নতুন আইনি মতামত প্রকাশ করেছে, যাকে নাগরিক অধিকার বিশেষজ্ঞরা প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকারের ওপর এক বড় ধরনের আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রকাশিত এই নতুন আইনি মতামতে দাবি করা হয়েছে, মানসিক, শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য রাজ্য সরকারগুলো কমিউনিটি বা হোম-ভিত্তিক যত্ন দিতে আইনত বাধ্য নয়।   বিচার বিভাগের ‘অফিস অফ লিগ্যাল কাউন্সেল’ (ওএলসি) এই মতামতটি তৈরি করেছে। প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ল্যানোরা পেটিটের লেখা এই আইনি মতামতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী অধিকার আইনের মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়কে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ১৯৯৯ সালের সেই ঐতিহাসিক ‘ওমস্টেড বনাম এলসি’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কোনো প্রতিষ্ঠানে আবদ্ধ থাকার চেয়ে তাদের নিজস্ব কমিউনিটিতে থেকে সেবা পাওয়ার অধিকারী।   দীর্ঘ দুই দশক ধরে মার্কিন বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগ এই ‘ওমস্টেড’ রায়ের ওপর ভিত্তি করেই রাজ্যগুলোকে চাপ দিয়ে আসছিল যাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মানসিক হাসপাতাল বা বিশেষ প্রতিষ্ঠানে আটকে না রেখে সমাজে পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু নতুন আইনি মতামতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের সেই রায়ে আসলে কমিউনিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশ ছিল না। রায়ের পরিধি আরও সংকীর্ণ ছিল এবং সেখানে কেবল অযৌক্তিক প্রাতিষ্ঠানিক বন্দিত্বকে বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   নাগরিক অধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ব্যাখ্যার ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ কমে যাবে এবং তাদের বিশেষ প্রতিষ্ঠানে আটকে রাখার প্রবণতা অনেক বেড়ে যাবে। যদিও ওএলসি-র এই নতুন মতামতটি সরাসরি দেশের আইন পরিবর্তন করে না বা কোনো আইনি নজির তৈরি করে না, তবে এটি বৈষম্যের অভিযোগ তদন্ত ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের দীর্ঘদিনের ভূমিকাকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সংকুচিত করার যে ধারাবাহিক চেষ্টা চলছে, বিচার বিভাগের এই নতুন পদক্ষেপকে তারই অংশ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী একটি আইনি তত্ত্বকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল এই ওএলসি। এছাড়া বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের বর্তমান সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিত ধিলনও ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা থেকে নজর সরিয়ে রক্ষণশীল নীতি বাস্তবায়নে মনোযোগ দিচ্ছেন, যা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।

তাবাস্সুম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
১৭ জনের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ নিল বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জালিয়াতি, মাদক ব্যবসা এবং যৌন অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ১৭ জন স্বাভাবিক উপায়ে নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সোমবার দেশটির বিচার বিভাগ এই ১৭ জনের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে, অপরাধের ইতিহাস গোপন করে বা কোনো ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন, তবে ফেডারেল আদালতের আদেশের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করার বিধান রয়েছে। যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়াটির অপব্যবহার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন এই জিরো-টলারেন্স বা শূন্য-সহনশীলতা নীতি কার্যকর করছে।   অপরাধের তথ্য গোপন করে যারা অবৈধভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করতে প্রশাসন সব ধরনের আইনি পথ ব্যবহার করছে। জালিয়াতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   তবে বিচার বিভাগের এই ব্যাপক নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান নিয়ে দেশটির অভিবাসন আইনজীবী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, আগে অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই আইনি প্রক্রিয়াটি এখন নিয়মিত ব্যবহার করায় সাধারণ অভিবাসীদের মনে এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি হতে পারে।

তাবাস্সুম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০