বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শক্তিশালী মানবিক বার্তা দিয়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়েছিলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এক তুর্কি সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন—আর্জেন্টিনাকে হারালে আবারও তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াবেন কি না। প্রশ্নের জবাবে কোনো সাধারণ হ্যাঁ বা না না বলে হোসাম হাসান সরাসরি মানবতার পক্ষে কথা বলেন। তিনি বলেন, "পৃথিবীতে এমন কেউ যদি থাকে যে ফিলিস্তিনিদের কষ্ট অনুভব করতে পারে না, তবে সে মানুষই নয়। সে আরব, ইউরোপীয় বা যে কোনো দেশেরই হোক না কেন—এটি কেবল ধর্মের বা নাগরিকত্বের বিষয় নয়, এটি পুরোপুরি মানবতার বিষয়।" মিশরীয় কোচ পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন, "ইউরোপ ও আমেরিকায় পশুপাখির প্রতি নিষ্ঠুরতা হলেও মানুষ সোচ্চার হয়। তাহলে মানবাধিকার কোথায় গেল, যখন প্রতিদিন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুরা হামলার শিকার হচ্ছে? আমরা যখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে আরাম-আয়েশে খাচ্ছি, তখন আরেকটি জাতি রাস্তায় খাবার, পানি ও আশ্রয়হীন অবস্থায় ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। এই তীব্র শীতে বা গরমে তাদের রক্ষা করার কেউ নেই।" ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে বার্তা ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম উল্লেখ করে হোসাম হাসান আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, "আমি আরব বা মিশরীয় হওয়ার আগে একজন মানুষ। ফুটবলের মাধ্যমে আমরা পুরো বিশ্বকে একটি বার্তাই দিতে চাই—দয়া করে ফিলিস্তিনিদের বাঁচতে দিন, দয়া করে তাদের শান্তিতে বাঁচতে দিন।"
মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১৫ মিনিটে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। রোমাঞ্চকর এই জয়ের পর বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মতো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মির্জা গালিবও। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে একসময় আর্জেন্টিনার বিদায় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। মিশর ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। তবে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে প্রথমে দুই গোল শোধ করে সমতায় ফেরে লিওনেল মেসির দল। এরপর যোগ করা সময়ে আসে জয়সূচক তৃতীয় গোল। নাটকীয় এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি রসাত্মক পোস্ট করেন মির্জা গালিব। তিনি লেখেন, “ভাবছিলাম, আজকে আর্জেন্টিনা হারলে কাল থেকে মন দিয়া মরক্কো আর ইজিপ্টের সাপোর্ট করব। কিন্তু মনে হয়, আরও কিছুদিন আর্জেন্টিনারই সাপোর্ট করতে হইব।” ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় তার এই মন্তব্যকে অনেকেই আর্জেন্টিনার নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের প্রতি একজন সমর্থকের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর অন্য দলকে সমর্থনের কথা ভাবলেও শেষ মুহূর্তের জয়ে নিজের সেই সিদ্ধান্ত বদলে নেওয়ার কথাই হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। মির্জা গালিব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক। সমসাময়িক রাজনীতি, সমাজ, আন্তর্জাতিক বিষয় এবং খেলাধুলা নিয়ে তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশ করেন। তার ফেসবুক পেজে প্রায় পাঁচ লাখ অনুসারী রয়েছে। মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন বিশ্বকাপের এবারের আসরের অন্যতম রোমাঞ্চকর ম্যাচ হিসেবে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতার জন্য প্রশংসা কুড়াচ্ছে আর্জেন্টিনা, আর সেই জয়ের আনন্দই প্রতিফলিত হয়েছে মির্জা গালিবের সংক্ষিপ্ত কিন্তু আলোচিত ফেসবুক পোস্টে।
টেক্সাসের ডালাসে বিশ্বকাপ চলাকালে মিশর জাতীয় ফুটবল দলের এক কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনার অবসান হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ঘটনার পর ডালাস পুলিশ ও মিশর দলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে এবং উভয় পক্ষ সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে উপহার বিনিময় করে। ঘটনাটি ঘটে ২ জুলাই ডালাসে মিশর দলের হোটেলে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে মিশর দলের টিম ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির দৃশ্য দেখা যায়। সে সময় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। মিশর দলের দাবি, একজন খেলোয়াড় ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং টিম ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানকে ধাক্কা দেন। অন্যদিকে ডালাস পুলিশ জানায়, হোটেল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা সেখানে গিয়েছিল এবং পরিচয়পত্র (ক্রেডেনশিয়াল) যাচাইকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাস্থলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর শনিবার ডালাস পুলিশ জানায়, তারা মিশর দলের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ জার্সি ও স্মারক উপহার বিনিময় করে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়। মিশর দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসানও পরে জানান, পুলিশ তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং তিনি বিষয়টিকে সমাপ্ত বলে মনে করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপ আয়োজনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন পুরোপুরি থেমে যায়নি। ডালাস সিটি কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডাম বাজালদুয়া ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষিতে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
মিশরের রাজধানী কায়রোতে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে আটকে রাখা, মারধর এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. শরিফুল ইসলামের দাবি, তাকে প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। পরে জানালা দিয়ে বের হয়ে পাইপ বেয়ে নিচে নেমে তিনি পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেন। ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে ঢাকায় তার পরিচয় হয় মিশরপ্রবাসী এক বাংলাদেশি নারীর সঙ্গে। ওই নারী তাকে মিশর থেকে কমলা, খেজুর, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যবসার সুযোগের কথা জানান। একই সঙ্গে মিশরে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাসও দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী গত ১৮ জুন ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে ‘ওকে-টু-বোর্ড’ ভিসা নিয়ে কায়রো পৌঁছান শরিফুল। কায়রো বিমানবন্দরে কয়েক ঘণ্টা যাচাই-বাছাইয়ের পর তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। শরিফুলের অভিযোগ, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর অপেক্ষমাণ কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেন। প্রথমে তাকে একটি কফি শপে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে কায়রোর বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে রাত গভীর হলে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, ফ্ল্যাটে প্রবেশের পরপরই তার ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে লাগেজে থাকা প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। শরিফুল আরও জানান, পরদিন রাতে আরও দুই বাংলাদেশি সেখানে আসে। পরে তাকে অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আবারও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠলে তিনি পালানোর সুযোগ খুঁজতে থাকেন। অবশেষে এক রাতে জানালা দিয়ে বের হয়ে ভবনের পাইপ বেয়ে নিচে নামতে সক্ষম হন। পরে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেন। কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, শরিফুল ইসলাম বর্তমানে দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কি না, সে সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, বিদেশে ব্যবসা বা কর্মসংস্থানের সুযোগের প্রলোভনে অচেনা ব্যক্তির ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় মিশর থেকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে জরুরিভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ মঙ্গলবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিশরে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন প্রশাসন। বর্তমানে মিশরে অবস্থানরত প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। দ্রুততম সময়ে নাগরিকদের দেশটি থেকে উদ্ধার করা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি মিশরসহ ১৩টি আরব দেশকে তাদের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই তালিকায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানও রয়েছে। এর আগে গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের রেশ এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাঠানো বিশেষ বার্তায় মার্কিনিদের বলা হয়েছে, তারা যেন সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চার্টার ফ্লাইটের সুযোগ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই এলাকা ত্যাগ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিশাল সংখ্যক মানুষের গণ-স্থানান্তর প্রক্রিয়া সাধারণত বড় কোনো ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পূর্বলক্ষণ হিসেবে কাজ করে। ফলে পুরো অঞ্চলে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইরাক ও জর্ডানের আকাশসীমায় বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই বিশেষ বিমানগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তা ও ভিন্ন রুট ব্যবহার করে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মিশরের মতো স্থিতিশীল ও পর্যটন নির্ভর দেশে এমন জরুরি প্রস্থান স্থানীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ইরান ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য হামলা রুখতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। মিশরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে এখন মার্কিন নাগরিকদের দীর্ঘ লাইন এবং ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ বিমানগুলো দিনরাত এক করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও এখন মিশরে অবস্থানরত তাদের বিদেশি কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অঘোষিত যুদ্ধের আতঙ্কে থমথমে হয়ে আছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই মার্কিন প্রশাসন তাদের নাগরিকদের কোনো ধরনের জীবনের ঝুঁকির মুখে রাখতে চাচ্ছে না। দিনশেষে এই বিশাল প্রস্থান প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে কূটনীতি এখন কার্যকর হচ্ছে না। অস্ত্রের ঝনঝনানি ও যুদ্ধের দামামা এখন সবচাইতে বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এই নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে মিশরে অবস্থানরত অনেক পরিবার তাদের ব্যবসা ও বসতবাড়ি ছেড়ে দ্রুততম সময়ে বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে অবশেষে শান্তি আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আগ্রাসন ও পাল্টা হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে আজ রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আজ প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের উদ্দেশ্যেই এই দেশগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে। উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে ইরানের কঠোর সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান আসবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল। চার দেশের এই যৌথ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সূত্র: আল জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।