সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মিয়ামি

মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাত্রীকে ঘিরে গোলযোগের অভিযোগ
সম্পূর্ণ পোশাক খুলে আশপাশের যাত্রীদের সঙ্গে অশা লী ন আচরণ, নারী আ ট ক

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে এক নারী যাত্রীর পোশাক খুলে অশা লী ন আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। পরে বিমানটি মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই নারীকে আ ট ক করে। ঘটনাটি ঘটে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭৭৯-এ, যা বাল্টিমোর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাচ্ছিল। প্রকাশিত এয়ারক্রাফট কমিউনিকেশনস অ্যাড্রেসিং অ্যান্ড রিপোর্টিং সিস্টেম, সংক্ষেপে একার্স-এর তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় কেবিন ক্রুরা ককপিটে যাত্রীর আচরণ সম্পর্কে জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ নম্বর সারির ৯ডি আসনে থাকা ওই নারী সম্পূর্ণ পোশাক খুলে ফেলেন এবং আশপাশের যাত্রীদের সামনে অশা লী ন আচরণ করেন বলে ক্রুরা রিপোর্ট করেন। কেবিন ক্রুর বার্তার পর বিষয়টি আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ইন্টিগ্রেটেড অপারেশনস সেন্টার ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়। তবে ফ্লাইটটি মাঝপথে অন্য কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ না করে নির্ধারিত গন্তব্য মিয়ামির দিকেই এগিয়ে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইট ১৭৭৯ বাল্টিমোর-ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাত ৯টা ৯ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং রাত প্রায় ১১টা ২৩ মিনিটে মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিমানটি প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছায়। বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর গেটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অপেক্ষা করছিলেন। পরে ওই নারীকে বিমান থেকে নামিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়। মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিস জানিয়েছে, উড়োজাহাজে একটি গোলযোগের ঘটনায় তাদের সদস্যরা সাড়া দেন এবং ঘটনাটি বিমানের ভেতরে সংঘটিত হয়েছে জানতে পেরে বিষয়টি এফবিআইকে জানানো হয়। ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম, বয়স এবং কেন তিনি এমন আচরণ করেছিলেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়। আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে ঘটনাটিকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা হলেও, প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া তথ্য হলো—ফ্লাইটে ওই নারীকে ঘিরে একটি গুরুতর আচরণগত গোলযোগের অভিযোগ ওঠে, বিমানটি মিয়ামিতে অবতরণ করে এবং পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কেন এমন আচরণ করেছিলেন বা তার পরবর্তী আইনি অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত দাবি করা যাচ্ছে না।   সোর্স: ইউএসএ টুডে, মিয়ামি-ডেড শেরিফের অফিসের বক্তব্য এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
মায়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনের পরিচয় প্রকাশ, তদন্তে ব্ল্যাক বক্স
মায়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনের পরিচয় প্রকাশ, তদন্তে ব্ল্যাক বক্স

মায়ামি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত আরও জোরদার করেছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি।   রোববার দুপুরে পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামিতে আসা বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটি রানওয়েতে অবতরণের সময় নির্ধারিত অংশের বাইরে চলে যায়। বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফুট এগিয়ে গিয়ে প্রথমে একটি ভ্যানে ধাক্কা দেয়। পরে বিমানবন্দরের সীমানার বেড়া ভেঙে পাশের সড়কে গিয়ে একটি গাড়িতেও আঘাত করে।   মায়ামি-ডেড শেরিফ রোজি কর্দেরো-স্টুটজ মঙ্গলবার নিহত পাঁচজনের পরিচয় প্রকাশ করেন। তারা হলেন ৫৫ বছর বয়সী রোলান্ডো আলেমান লিওন, ৫৩ বছর বয়সী ইয়োয়েল রদ্রিগেজ নারানহো, ৭৫ বছর বয়সী হুলিও সি. পিনেদা, ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস আকোস্তা ফাহার্দো এবং ৪৭ বছর বয়সী হাভিয়েরকিস রেইস কেভেদো।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচজনই প্রফেশনাল ওশান সার্ভিস কর্পোরেশনের কর্মী ছিলেন। বিমান পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত একটি ভ্যানে তারা ছিলেন। ওই ভ্যানে মোট সাতজন ছিলেন।   দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুইজনের অবস্থা গুরুতর বা সংকটজনক। আরেকজনের অবস্থা স্থিতিশীল। বিমানে থাকা পাইলট ও সহকারী পাইলটও আহত হয়েছিলেন। তবে চিকিৎসার পর তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এনটিএসবি’র ৩২ সদস্যের একটি তদন্তকারী দল বিমানটির গতি, আবহাওয়া, বিমানের যান্ত্রিক অবস্থা, পাইলটদের সিদ্ধান্ত এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।   তদন্তে বিমানের ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো সাধারণভাবে ব্ল্যাক বক্স নামে পরিচিত। এসব রেকর্ডার বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমানের গতি, অবস্থান এবং ককপিটে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   রানওয়ের শেষ প্রান্তে বিমান থামানোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মায়ামি বিমানবন্দরে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস অ্যারেস্টিং সিস্টেম বা ইমাস নেই। রানওয়ের শেষে থাকা এই বিশেষ ব্যবস্থাটি দ্রুতগতির বিমানকে থামাতে সাহায্য করতে পারে।   তবে মায়ামি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানবন্দরটি বর্তমানে ফেডারেল নিরাপত্তা নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।   তদন্তকারীরা এখনো দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ ঘোষণা করেননি। তাই পাইলটের ভুল, আবহাওয়া বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকে এখনই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে না। ব্ল্যাক বক্সের তথ্যসহ তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলো থেকেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
বাহামাসে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন মিয়ামির একই পরিবারের চার সদস্য
বাহামাসে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন মিয়ামির একই পরিবারের চার সদস্য

বাহামাসের উপকূলে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে বাহামাসের আন্দ্রোস দ্বীপের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ মাইল দূরে সাগরে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর কোস্টগার্ড ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে সমুদ্র থেকে ওই চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   নিহতরা হলেন ৮০ বছর বয়সী মারিও লামার সিনিয়র, তার ৭৯ বছর বয়সী স্ত্রী লিলি লামার এবং তাদের দুই নাতি-নাতনি ২৮ বছর বয়সী সোফি সোসা ও ২২ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ান সোসা। বিমানটি ফ্লোরিডার ওপা-লোকা এলাকায় অবস্থিত মিয়ামি এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।   শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহত মারিও লামার নিজে বিমানটি চালাচ্ছিলেন। তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ পাইলট ছিলেন এবং বিমান চালনায় তার ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল।   রয়্যাল বাহামাস ডিফেন্স ফোর্স সোমবার দুপুর ২টার দিকে প্রথম এই দুর্ঘটনার খবর পায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজের জন্য মার্কিন কোস্টগার্ডের সহায়তা তলব করে। কোস্টগার্ডের দেওয়া তথ্যমতে, দুপুর আড়াইটার ঠিক আগেই ছোট বিমানটি সাগরে আছড়ে পড়ে।   তবে একজন অভিজ্ঞ পাইলট থাকার পরও ঠিক কী কারণে এই আকস্মিক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
মিয়ামিতে আমাজনের পণ্যবাহী কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে একাধিক গাড়িতে ধাক্কা, ভয়াবহ আগুনে নি হত ৫
মিয়ামিতে আমাজনের পণ্যবাহী কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে একাধিক গাড়িতে ধাক্কা, ভয়াবহ আগুনে নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে একটি কার্গো বিমানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। মিয়ামি-ডেইড কাউন্টির শেরিফ রোজি কর্ডেরো-স্টুটজ এক সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের এই মর্মান্তিক সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।   ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে ছেড়ে আসা বোয়িং ৭৬৭-৩০০ মডেলের কার্গো বিমানটি '২১ এয়ার'-এর ফ্লাইট ৭৫৯৮ হিসেবে আমাজন প্রাইম এয়ারের পণ্য পরিবহন করছিল।   স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে মিয়ামি বিমানবন্দরে অবতরণের পর এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের বাইরে চলে যায় এবং পার্শ্ববর্তী একাধিক গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটিতে তীব্র আগুন ধরে যায় এবং চারপাশ ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।   খবর পেয়ে মিয়ামি-ডেইড ফায়ার রেসকিউয়ের ৬০টিরও বেশি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিমানের জ্বালানি লিক হওয়া ঠেকানোর কাজ শুরু করে।   দুর্ঘটনার জেরে মিয়ামি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ (গ্রাউন্ড স্টপ) ঘোষণা করে এফএএ।   পরবর্তীতে বিকাল ৫টার দিকে গ্রাউন্ড স্টপ তুলে নেওয়া হলেও রানওয়েতে দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি পড়ে থাকায় ফ্লাইটগুলোতে বিলম্ব অব্যাহত থাকে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে।   এ বিষয়ে আমাজনের মুখপাত্র কেলি নানটেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।   বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে এফএএ।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ৩৬ বছর বয়সী স্টেফানো ক্রেমাস্কো সিসারো। (ছবি: সংগৃহীত)
মায়ামিতে নিজের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে নিজের মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্টেফানো ক্রেমাস্কো সিসারো নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার বা দ্বিতীয় মাত্রার খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে ব্রিকল এলাকার একটি বহুতল ভবন থেকে ওই নারীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।   মিয়ামি পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে সাউথওয়েস্ট এইটথ স্ট্রিটের সলিটেয়ার ব্রিকল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পুলিশের কাছে একটি জরুরি কল আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ভবনের নিচতলার লবিতে স্টেফানোকে দেখতে পান পুলিশ কর্মকর্তারা। সে সময় তার জুতা, হাত ও পোশাকে রক্তের দাগ লেগে ছিল। পুলিশকে দেখেই তিনি বলে ওঠেন, আমি কেবল আত্মরক্ষা করছিলাম।   পুলিশ জানিয়েছে, ফ্ল্যাটের দরজা খুলতেই তারা এক নারীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীরে ছুরিকাঘাতের একাধিক চিহ্ন ছিল এবং পুরো শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। মিয়ামি ফায়ার রেসকিউ টিমের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভোর ৫টা ৮ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ নিশ্চিত করে যে, নিহত নারী স্টেফানোর মা। তবে তার বয়স ও নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মা ও ছেলেকে একসঙ্গে লিফটে উঠতে দেখা যায়। এরপর শুক্রবার ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে স্টেফানোকে সাদা শার্ট ও প্যান্ট পরা অবস্থায় লিফটে দেখা যায়। তখন তার পোশাকে রক্তের ছাপ ছিল এবং হাতে একটি ছুরি ছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ছুরিটি হাত থেকে ফেলে দেন এবং পরে সেটি কুড়িয়ে নিয়ে অন্য একটি লিফটে করে ওপরে চলে যান। কিছুক্ষণ পর অন্য একটি নীল রঙের ফুলহাতা শার্ট পরে তাকে লিফট থেকে নামতে দেখা যায়।   ঘটনার পর ভবনের লবিতে খাবার সরবরাহ করতে আসা এক কর্মীর সঙ্গে স্টেফানোর দেখা হয়। ওই নারী কর্মী পুলিশকে জানান, স্টেফানো ভেতর থেকে লবির দরজা খুলে দেন এবং তার কাছে সাহায্য চান। স্টেফানো নিজেই জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে ফোন করেন, কিন্তু ঠিকানা বলার জন্য ফোনটি ওই কর্মীর হাতে ধরিয়ে দেন। এ সময় ওই কর্মী স্টেফানোর শরীরে রক্তের দাগ দেখতে পান। কল শেষ হওয়ার পর ফোনটি ফেরত দিতে চাইলে স্টেফানো তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ এলে কর্মীটি ফোনটি তাদের কাছে হস্তান্তর করেন।   হত্যাকাণ্ডের পর মিয়ামি পুলিশের হোমিসাইড ইউনিটের গোয়েন্দারা ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালান। সেখানে তারা রক্তের দাগযুক্ত রান্নাঘরের কয়েকটি ছুরি, রক্তমাখা দুটি সাদা শার্ট, ভাঙা কাচ এবং একটি ভাঙা মদের বোতল উদ্ধার করেন। এছাড়া ভবনের লবি থেকে রক্তমাখা জুতা, চশমা, মোবাইল চার্জার এবং স্টেফানোর একটি কমলা রঙের আইফোন ১৭ উদ্ধার করা হয়।   তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, স্টেফানো ইনভেস্টর ভিসায় মায়ামিতে বসবাস করছিলেন। গত জুলাই মাস থেকে ওই ফ্ল্যাটে তিনি ও তার স্ত্রীর নামে চুক্তি ছিল। ঘটনার পর পুলিশ ফ্রান্সে অবস্থানরত স্টেফানোর স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তিনি জানান, স্টেফানোর মা মেক্সিকো থেকে তাদের কাছে বেড়াতে এসেছিলেন। বাবা মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে মায়ের সঙ্গে স্টেফানোর সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। এছাড়া কোকোনাট গ্রোভ এলাকায় একটি নতুন রেস্তোরাঁ চালু করা নিয়ে স্টেফানো বেশ মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন।   এই মর্মান্তিক ঘটনায় ওই ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জ্যাক কারসন নামের এক বাসিন্দা জানান, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত ভীতিকর। তিনি ভয়ে নিজের ফ্ল্যাটের ব্যালকনির দরজা বন্ধ করে দেন এবং প্রায় ১০ মিনিট দরজার ছিদ্র দিয়ে বাইরের পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করেন। পরে লিফট ব্যবহার না করে ৪৭ তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন। সেবাস্তিয়ান নামের আরেক বাসিন্দা জানান, এত পুলিশ দেখে তিনি অবাক হয়েছিলেন। তিনি বলেন, যা ঘটেছে তা সত্যিই ভয়ংকর।   গ্রেপ্তারের পর স্টেফানো নিজের আইনজীবীর উপস্থিতির দাবি জানান। বর্তমানে তাকে টার্নার গিলফোর্ড নাইট কারেকশনাল সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছে এবং তার জামিন এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ঠিক কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেনে খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়ে বন্দুকধারীদের হামলার মুখে পড়েন এক ডেলিভারি কর্মী। ছবি: সংগৃহীত
বন্দুক দেখিয়ে ডাকাতির চেষ্টা, নিজের অস্ত্রেই হামলাকারীকে হত্যা করল ফুড ডেলিভারিম্যান

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি গার্ডেনে খাবার ডেলিভারি দিতে গিয়ে বন্দুকধারী দুই ব্যক্তির হামলার মুখে পড়ে আত্মরক্ষায় একজনকে গুলি করে হত্যা করেছেন ২৮ বছর বয়সী এক ডেলিভারি কর্মী। ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থলে থেকে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করেন এবং তার আত্মরক্ষার দাবির পক্ষে আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহে সহায়তা করেন।   ঘটনার সময় ওই ডেলিভারি কর্মী একটি খাবারের অর্ডার পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। সেখানে দুই ব্যক্তি তাকে বন্দুকের মুখে জিম্মি করার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি নিজের বৈধভাবে বহন করা অস্ত্র বের করে গুলি চালান।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে সাত থেকে ১২টি গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে দুই সন্দেহভাজনের একজন গুলিবিদ্ধ হন। ওই ব্যক্তি তখন কালো স্কি মাস্ক পরা ছিলেন।   গুলিবিদ্ধ সন্দেহভাজনকে এয়ারলিফট করে আভেনচুরা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ এখনো তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।   ঘটনার পর ডেলিভারি কর্মী পালিয়ে না গিয়ে ঘটনাস্থলেই অবস্থান করেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করেন। নিজের আত্মরক্ষার দাবির পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহে তিনি আশপাশের বাসাবাড়ির নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও খুঁজতে সহায়তা করেন।   পরে স্থানীয় একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে ডেলিভারি কর্মীর দেওয়া ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে জানা গেছে। এতে তার আত্মরক্ষার দাবির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মেলে।   তবে হামলায় জড়িত দ্বিতীয় সন্দেহভাজন গুলিবর্ষণের পর ঘটনাস্থল থেকে পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।   ঘটনাটি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তাধীন। আত্মরক্ষার পরিস্থিতিতে অস্ত্র ব্যবহারের বৈধতা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
মিয়ামিতে ৪ বছরের কন্যা হত্যা মামলায় কারাবন্দি মা, এবার জেলেই সহবন্দীর হামলার শিকার
মিয়ামিতে ৪ বছরের কন্যা হত্যা মামলায় কারাবন্দি মা, এবার জেলেই সহবন্দীর হামলার শিকার

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার এক শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেহা গুপ্তা (৩৬) তার চার বছর বয়সী কন্যাকে হত্যার অভিযোগে বর্তমানে মিয়ামির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।   বিচারকার্যের অপেক্ষায় থাকা এই নারী সম্প্রতি বিচারকের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। নেহা গুপ্তার দাবি, তার সেল ব্লকের অন্য এক সহবন্দি তাকে বারবার মুখে ঘুষি মেরেছেন এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন।   নেহা গুপ্তার বিরুদ্ধে তার নিজের সন্তানকে হত্যার পর একটি এয়ারবিএনবি (Airbnb)-এর সুইমিংপুলে ফেলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর নাটক সাজানোর মতো চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।   তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে এক মর্মান্তিক সত্য; পানিতে ফেলার আগেই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল।   এই নৃশংস ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের (প্রথম মাত্রার খুনের) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে জামিন অযোগ্য অবস্থায় মিয়ামির কারাগারে দিন কাটছে এই অভিযুক্ত চিকিৎসকের।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২, ২০২৬ ১৪:০
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর হয়ে উঠেছে মায়ামি। ছবি: সংগৃহীত
মায়ামিতে থাকা এখন নিউইয়র্কের চেয়েও ব্যয়বহুল, মধ্যবিত্তের জন্য বাড়ছে টিকে থাকার সংকট

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি মহানগর এলাকায় বসবাসের খরচ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। একসময় কম কর, উষ্ণ আবহাওয়া ও তুলনামূলক কম খরচের কারণে যেসব মানুষ নিউইয়র্ক ছেড়ে মায়ামিতে চলে যেতেন, সেই সমীকরণ এখন বদলে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ আয়ের মানুষদের জন্য শহরটি এখনও আকর্ষণীয় হলেও মধ্যবিত্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।    যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের সর্বশেষ আঞ্চলিক মূল্যসূচক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মায়ামি–ফোর্ট লডারডেল–ওয়েস্ট পাম বিচ মহানগর এলাকার জীবনযাত্রার ব্যয়ের সূচক নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার চেয়েও বেশি। বর্তমানে কেবল সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াই মায়ামির চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল।  বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির পর নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক উচ্চ আয়ের মানুষ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দক্ষিণ ফ্লোরিডায় চলে আসে। এতে আবাসন বাজারে চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। পাশাপাশি বাড়ির মূল্য, ভাড়া, বীমা, ব্যক্তিগত স্কুলের খরচ এবং রেস্তোরাঁয় খাওয়ার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০১৯ সালের পর থেকে মায়ামি অঞ্চলে ভোক্তা মূল্য প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় মহানগরগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।   নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপে পড়েছেন মধ্যম আয়ের চাকরিজীবী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সেবাখাতের কর্মীরা। তাদের অনেকের আয় বাড়লেও তা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। ফলে শহরের কেন্দ্র থেকে দূরের এলাকায় চলে যাওয়া বা অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তরের প্রবণতাও বাড়ছে।    অন্যদিকে উচ্চ আয়ের পেশাজীবী, আর্থিক খাতের কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মায়ামির আকর্ষণ এখনো কমেনি। কারণ, ফ্লোরিডায় এখনো কোনো অঙ্গরাজ্য আয়কর নেই। অনেকের মতে, উচ্চ করের অঙ্গরাজ্য থেকে আসা ধনীদের জন্য কর-সুবিধা ব্যয় বৃদ্ধির একটি অংশ পুষিয়ে দেয়। তবে সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা কার্যত মিলছে না।    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মায়ামির দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ আবাসনের সীমিত সরবরাহ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, উচ্চ বীমা ব্যয় এবং শক্তিশালী রিয়েল এস্টেট বাজার। এসব কারণে শহরটির দীর্ঘদিনের ‘সাশ্রয়ী বিকল্প’ হিসেবে পরিচিতি প্রায় হারিয়ে গেছে।  যদিও মায়ামি এখনও উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্রসৈকত ও কর-সুবিধার কারণে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য, তবু জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় শহরটির ভবিষ্যৎ আবাসন বাজার এবং মধ্যবিত্তের টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মায়ামিতে মেসির ফ্ল্যাট কেনার পর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নজরে সেই টাওয়ার

বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই মাঠের বাইরের আরেকটি দারুণ জয় উদ্‌যাপন করতে পারেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। এক বছর আগে মায়ামির একটি সুউচ্চ আবাসিক ভবনে করা তাঁর বিশাল বিনিয়োগ এখন লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। গত বসন্তে 'সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সেস মায়ামি' (Cipriani Residences Miami) নামক একটি বিলাসবহুল টাওয়ারে চারটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন মেসি। তাঁর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের পর আবাসন প্রকল্পটির প্রতি ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে হস্তান্তরের জন্য নির্ধারিত এই ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে চূড়ায় পৌঁছেছে এবং হস্তান্তরের আগেই এর ৮০ শতাংশ ফ্ল্যাট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে।   সূত্রের খবর অনুযায়ী, মেসির পদাঙ্ক অনুসরণ করে আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন ফুটবলারও সেখানে ফ্ল্যাট কিনেছেন। পাশাপাশি নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সিটিডেল ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই সুউচ্চ ভবনে থাকার জন্য ছুটছেন। অভ্যন্তরীণ ক্রেতাদের পাশাপাশি মেক্সিকো, ইতালি, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখানে বিনিয়োগ করেছেন। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান মাস্ট ক্যাপিটাল ক্রেতাদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ না করলেও, প্রকল্পটির এই অভূতপূর্ব সফলতার কথা নিশ্চিত করেছে।   জানা গেছে, মেসি প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন ডলার বা ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বর্গফুটের একটি ৪-বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন। সেই সময় ভবনটির প্রাথমিক কাজ চলছিল এবং ২০২৮ সালে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে এখন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলায় আগামী বছরেই ক্রেতারা ফ্ল্যাট বুঝে পাবেন। প্রায় ৯৫০ ফুট উঁচু ৮৫ তলাবিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মাণ শেষ হলে নিউইয়র্ক সিটির দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে উঁচু আবাসিক ভবনে পরিণত হবে।   সিপ্রিয়ানি পরিবারের উত্তর আমেরিকায় গড়ে তোলা এই প্রথম গ্রাউন্ড-আপ রেসিডেনশিয়াল প্রকল্পে ৩৯৭টি ইউনিট থাকবে। বাসিন্দাদের জন্য এখানে ৫০ হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গা জুড়ে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৭ তলায় বিসকে উপসাগরমুখী স্পিকইজি, রিসোর্ট স্টাইলের পুল ডেক, স্পা, প্রাইভেট স্ক্রিনিং রুম এবং সিপ্রিয়ানি পরিবারের প্রায় শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্যে ভরপুর নিজস্ব ডাইনিং সুবিধা। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মতে, এই মাইলফলক মায়ামির আবাসন খাতকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গন্তব্যে পরিণত করারই একটি বড় প্রমাণ।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে মিয়ামিতে গ্রেপ্তার শিক্ষক
১৫ বছরের ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে মিয়ামিতে গ্রেপ্তার শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথওয়েস্ট মিয়ামি-ডেডের একটি চার্টার স্কুলের সাবেক ব্যান্ড শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গত মঙ্গলবার হেইহাচিরো নাকশিমা (৩৩) নামের ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে মিয়ামি-ডেড শেরিফ অফিস। তদন্তের ভিত্তিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অশ্লীল ও কামুক কার্যকলাপে জড়িত থাকার তিনটি পৃথক অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   সিবিএস নিউজ মিয়ামির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোয়েন্দা জেসুস ল্যানেসের নেতৃত্বাধীন একটি তদন্তে জানা গেছে, গত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে ডেডল্যান্ড মলের কাছে নাকশিমার অ্যাপার্টমেন্টে এই আপত্তিকর ঘটনাগুলো ঘটে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের এক সদস্য বিষয়টি প্রথম শেরিফ অফিসকে অবহিত করেন।   গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মিন্ডি গ্লেজার অভিযুক্তকে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কঠোরভাবে দূরে থাকার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ৪৫ হাজার ডলারের জামিন নির্ধারণ করে জিপিএস মনিটরসহ তাকে গৃহবন্দী (হাউস অ্যারেস্ট) রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া আদালত তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।   গ্রেপ্তারি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত নাকশিমা পাম গ্লেডস প্রিপারেটরি একাডেমি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা ল্যানেস জানান, শিক্ষক-ছাত্রী সম্পর্কের সুযোগ নিয়েই এই অনৈতিক সম্পর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে দিয়ে তার বিশ্বাস অর্জন করতেন এবং প্রেমের মিথ্যা জালে ফাঁসিয়েছিলেন। এমনকি তিনি নিজের বিভিন্ন মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের টিকিটও ওই ছাত্রীকে দিতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবক ও স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গোয়েন্দা ল্যানেস। তিনি বলেন, সন্তানরা হঠাৎ করে দামি বা অজানা কোনো জিনিসপত্র নিয়ে বাড়িতে ফিরলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। যদি তাদের কোনো আয়ের উৎস না থাকে, তবে তারা কীভাবে এসব জিনিস পাচ্ছে তা অভিভাবকদের গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি সন্তানদের মোবাইল ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকলাপেও নিয়মিত নজর রাখার তাগিদ দেন তিনি।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্দেহ করছে যে, এই শিক্ষকের দ্বারা আরও কেউ হয়রানির শিকার হয়ে থাকতে পারে। তাই এ বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, শুনানিকালে নাকশিমার আইনজীবী দাবি করেন যে, তার মক্কেল পালিয়ে যাওয়ার কোনো ঝুঁকিতে নেই বা সমাজের জন্য তিনি হুমকিস্বরূপ নন।   কারণ তার আগের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তিনি স্বেচ্ছায় গোয়েন্দাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে চার্টার স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
মিয়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার ম্যাচ, জাল টিকিট কাণ্ডে আটক ৮ দর্শক

মিয়ামি স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে মিয়ামি-ডেইড শেরিফ অফিস এবং মিয়ামি পুলিশ। শুক্রবারের এই ঘটনায় আটকদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে স্টেডিয়ামে প্রবেশ, জালিয়াতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   মিয়ামি-ডেইড শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি ক্রীড়া ইভেন্টে বেআইনিভাবে বাধা সৃষ্টির মতো গুরুতর (ফেলোনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সুইটওয়াটারের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী ডেলফিনা দেগুই স্টেডিয়ামের গেট খোলার আগেই অন্যের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশের কথা স্বীকার করেছেন।   অন্যদিকে, জেফারসন হনোরিও দা সিলভা (৪১) নামের এক ব্যক্তি জাল টিকিট নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। প্রথমবার ব্যর্থ হয়ে তিনি আবারও ফিরে আসেন এবং একটি গেট জোরপূর্বক খুলে সংরক্ষিত এলাকায় ঢুকে পড়েন। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।   বিনা টিকিটে নিরাপত্তাবেষ্টনী ফাঁকি দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়েছিলেন মিয়ামি বিচ এলাকার ২১ বছর বয়সী বাসিন্দা হুয়ান ক্যাপোটে গার্সিয়া। একটি বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক থেকে খেলা দেখতে আসা নিকোলাস পিনো এবং হুলিয়ান দাউদ নামের আরও দুই সমর্থককে তিন স্তরের কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী পার হওয়ার পর আটকে দেয় পুলিশ।   এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আরেক ব্যক্তি, ৩৫ বছর বয়সী নিকোলাস রিকের বিরুদ্ধে দুটি লঘু অপরাধের (মিসডিমিনার) অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য তাকে প্রথমে স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজে বাধা দিলে এবং বিরূপ আচরণ করলে শেষ পর্যন্ত তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০