বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর ইরানকে লক্ষ্য করে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক হামলায় নিহত মার্কিন সেনাসদস্যদের স্মরণেই ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। রোববার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা আজ রাতে আবারও তাদের ওপর খুব কঠোর হামলা চালিয়েছি। সম্ভবত তিনজন মহান দেশপ্রেমিকের সম্মানেই এই হামলা।” এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, শনিবার ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইরানের একটি হামলায় একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের একটি হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করার পর সেটির অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বিস্ফোরিত হলে ওই সেনাসদস্য নিহত হন। একই ঘটনায় আরও একজন সেনা আহত হন। এর মাত্র একদিন আগে জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ হন। পরে সেন্টকম জানায়, হামলার স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ের মানবদেহের কিছু অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। পরপর দুই দিনে তিন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তারা লড়াই করছিলেন, যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।” এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তারা ইরানের বিরুদ্ধে আরও এক দফা সামরিক অভিযান শুরু করেছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা একাধিক ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছে। একই সময়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সিরিয়ায় শত্রুপক্ষের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বাজানো হয়েছে। নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক সমাধানের কোনো ইঙ্গিত এখনো না থাকায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
মিত্রদের ওপর চাপ, ভিসা বাতিল ও নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি—ICC-কে একঘরে করতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিযান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন ও সমন্বিত অভিযান শুরু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। আদালতটির কর্মকর্তা ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা বাতিল, আর্থিক অবরোধ সম্প্রসারণ এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আদালতটি মার্কিন নাগরিক, সামরিক সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনার মাধ্যমে দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে। সোমবার, ১৩ জুলাই প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের বিচার করার উদ্দেশ্যে আদালতটি প্রতিষ্ঠিত হলেও সময়ের সঙ্গে এটি তার মূল দায়িত্বের সীমা ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে মার্কিন সীমান্তরক্ষী, সামরিক কর্মকর্তা, প্রসিকিউটর বা অন্য সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন কর্মকর্তা Reuters-কে বলেছেন, ICC-এর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে আদালতের কর্মকর্তা ও তাঁদের সহযোগীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা, ইতিমধ্যে দেওয়া ভিসা প্রত্যাহার, আর্থিক নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানো এবং ICC-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয় রয়েছে। শুধু আদালতের কর্মকর্তা নয়, ICC-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকেও এই অভিযানের আওতায় আনতে চাইছে ওয়াশিংটন। মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি মেনে নেয় অথবা মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল—এমন দেশগুলোকে আমেরিকান কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যদের ওপর ICC-এর এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করতে বলা হচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা গ্রহণ করেও যেসব দেশ ওয়াশিংটনের অবস্থান সমর্থন করবে না, তারা বাড়তি পর্যালোচনা বা চাপের মুখে পড়তে পারে। তবে সহায়তা কমানো, ভিসা সীমিত করা কিংবা নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো কোন পদক্ষেপ কোন দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ICC তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন অভিযানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আদালতের মুখপাত্র ওরিয়ান মাইয়েত Reuters-কে বলেছেন, বর্তমান পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো মন্তব্য করবে না। রোম সংবিধির ভিত্তিতে ২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাজ হলো গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আগ্রাসনের অপরাধের বিচার করা। বর্তমানে ১২৫টি দেশ এই আদালতের সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইসরায়েলসহ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ এর সদস্য নয়। আদালতের নীতি অনুযায়ী, কোনো দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলেই ICC সাধারণত হস্তক্ষেপ করে। তবে কোনো অ-সদস্য দেশের নাগরিক সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে আদালতের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ করলে ICC সেই ঘটনা তদন্ত করতে পারে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো পরিস্থিতি আদালতে পাঠালেও অ-সদস্য দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করে আসছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, রোম সংবিধি অনুমোদন না করা কোনো দেশের নাগরিককে তার সম্মতি ছাড়া ICC-এর আওতায় নেওয়া রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। অন্যদিকে আদালতের আইনি কাঠামো বলছে, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থান যদি কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ড হয়, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তির জাতীয়তা নির্বিশেষে বিচারিক এখতিয়ার তৈরি হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ একটি চিঠিতে ICC-কে জানায়, আদালতটির কোনো তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে না এবং আমেরিকান নাগরিকদের ওপর এর এখতিয়ার স্বীকার করে না। এ অবস্থানের ধারাবাহিকতায় এবার আদালতটিকে শুধু আইনি নয়, কূটনৈতিক ও আর্থিকভাবেও বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ICC-এর সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ নতুন নয়। তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্ত নিয়ে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। ওই সময় তৎকালীন ICC প্রসিকিউটর ফাতু বেনসুদা এবং তাঁর এক সহযোগীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। আফগানিস্তান তদন্তে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও বন্দীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখার সুযোগ ছিল। তবে ২০২১ সাল থেকে আদালতের প্রসিকিউটর মার্কিন বাহিনীর ভূমিকা অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে সরিয়ে তালেবান ও আফগান সরকারি বাহিনীর সম্ভাব্য অপরাধের দিকে বেশি মনোযোগ দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তা বা সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি ICC। ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান কঠোর অবস্থানের আরেকটি বড় কারণ ইসরায়েল। ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ICC। ট্রাম্প প্রশাসন ওই সিদ্ধান্তকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে। ইসরায়েলও রোম সংবিধির সদস্য নয়, তবে ফিলিস্তিন আদালতটির সদস্য হওয়ায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধের ওপর ICC এখতিয়ার দাবি করে। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ICC-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধের ব্যবস্থা অনুমোদন করেন। আদেশে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্র দেশের সুরক্ষিত ব্যক্তিদের সম্মতি ছাড়া তদন্ত, গ্রেপ্তার বা বিচারের প্রচেষ্টা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য অস্বাভাবিক ও গুরুতর হুমকি। এই নির্বাহী আদেশের অধীনে কোনো ব্যক্তি ICC-এর তদন্ত বা বিচারিক কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিলে কিংবা অর্থ, প্রযুক্তি, পণ্য বা সেবা দিয়ে সহায়তা করলে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ অবরুদ্ধ করা যেতে পারে। তাঁর সঙ্গে মার্কিন নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও নিষিদ্ধ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ব্যবস্থাও আদেশে রাখা হয়েছে। তবে এসব নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিরোধ চলছে। জুনে ICC-এর তিন বিচারক নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞাগুলো বিচারিক সিদ্ধান্তের প্রতিশোধ নেওয়া এবং বিচারকদের ওপর বেআইনি চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়েছে। মামলার নথিতে বিচারকেরা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ভ্রমণ বুকিং, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমা সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের মতে, এই ব্যবস্থা বিচারকদের আইনের পরিবর্তে ব্যক্তিগত আর্থিক নিরাপত্তা বিবেচনা করতে বাধ্য করার চেষ্টা। হোয়াইট হাউস ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রশাসনের দাবি, International Emergency Economic Powers Act-এর অধীনে প্রেসিডেন্ট বৈধভাবেই ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজনীয়। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কূটনৈতিক অভিযান আন্তর্জাতিক অপরাধবিচার ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন মতপার্থক্য সৃষ্টি করতে পারে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের বহু ঘনিষ্ঠ মিত্র ICC-এর সদস্য। তারা আদালতের স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে থাকলেও একই সঙ্গে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশও ICC-এর সদস্য এবং ২০১০ সালে রোম সংবিধি অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়নের অভিযোগের একাংশ বাংলাদেশের ভূখণ্ডে সংঘটিত হওয়ায় ICC বাংলাদেশ–মিয়ানমার পরিস্থিতিতে তদন্ত চালাচ্ছে। ২০১৯ সালে আদালতের বিচারকেরা ওই তদন্তের অনুমোদন দেন। ফলে আদালতের কার্যক্রম, আর্থিক সক্ষমতা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার ওপর মার্কিন চাপ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত চলমান আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এখন নজর থাকবে যুক্তরাষ্ট্র কোন দেশ বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যবস্থা নেয়, মিত্র রাষ্ট্রগুলো ওয়াশিংটনের আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেয় এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা মার্কিন আদালতে টিকে কি না। একই সঙ্গে ICC-কে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করবে, নাকি আদালতের এখতিয়ার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের নতুন রাজনৈতিক সমাধান তৈরি করবে—সেটিও আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের জাহাজগুলো আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের নির্দিষ্ট পণ্যবাহী জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ টোল আদায় করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের ভাষায়, এই অর্থ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যয়ের প্রতিদান হিসেবে নেওয়া হবে। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় সামরিক হামলা শুরু করেছে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে। ট্রাম্প আরও বলেন, বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তাই সেই নিরাপত্তা ব্যয়ের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী দেশগুলোর কাছ থেকে টোল আদায় করা হবে। তবে এই টোল কীভাবে আদায় করা হবে বা কোন কোন দেশের ওপর তা প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিষয়ক কঠোর অবস্থানের সমর্থক এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তাঁর বোন ডারলিন গ্রাহাম নরডোনকে অস্থায়ীভাবে মার্কিন সিনেটে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের বড় একটি অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং নতুন টোল আরোপের ঘোষণা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ এমভি জিএফএস গ্যালাক্সি-তে হামলার জেরে ইরানে নতুন দফা সামরিক হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জাহাজটিতে হামলা চালানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, জাহাজে আগুন লাগে এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। এর জবাবে শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, নৌ সক্ষমতা, গোলাবারুদ গুদাম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থাসহ প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। অন্যদিকে ইরান বলছে, একটি জাহাজ অনুমোদনহীন রুটে চলাচল করায় সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়েছিল। তেহরান আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ইরানের একচ্ছত্র এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে এবং এ বিষয়ে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এ জলপথে জাহাজে হামলা, পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই তাঁর তাৎক্ষণিক পূর্বসূরিদের নীতির সমালোচনায় সরব ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে নতুন একটি প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। এখন তিনি শুধু সাম্প্রতিক প্রশাসনের সঙ্গে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও নিজের নেতৃত্বের তুলনা করছেন। বিভিন্ন জনসভা, ভাষণ ও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কখনও নিজেকে অতীতের সফল প্রেসিডেন্টদের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন। আবার কখনও দাবি করছেন, ইতিহাসে যেসব সিদ্ধান্তকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়, তাঁর প্রশাসন সেসব ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে কেবল বর্তমান সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরতে চাইছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা আদর্শ, ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং জাতীয় পরিচয়ের বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, অতীতের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে নিজের তুলনা করে ট্রাম্প একদিকে সমর্থকদের কাছে নিজের নেতৃত্বকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন, অন্যদিকে ভবিষ্যতে তাঁর প্রশাসনের মূল্যায়ন কীভাবে ইতিহাসে লেখা হবে, সেই বার্তাও আগেভাগেই প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কমিউনিজমকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য “প্রাণঘাতী হুমকি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠাতারা যে স্বাধীনতার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, তা রক্ষায় আমেরিকানদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, কমিউনিস্ট আদর্শ আমেরিকার মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হবে না এবং দেশকে সেই পথে যেতে দেওয়া হবে না। বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট প্রার্থীর নির্বাচনী সাফল্যের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এসব রাজনৈতিক প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠিত আদর্শের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য নিয়ে ভিন্নমতও দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস ও ২৫০ বছর পূর্তির মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে ঐক্যের বার্তার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিভাজনমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর সমর্থকদের দাবি, জাতীয় মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টি সামনে আনতেই এই বক্তব্য দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। তবে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে কয়েকটি এলাকায় অনুষ্ঠানসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যদিও ওয়াশিংটন ডিসি ও মাউন্ট রাশমোরের প্রধান আয়োজন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় আজ বুধবার আবারও ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানি ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও এই নতুন যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, পারমাণবিক চুক্তি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা টেবিলে ইরান মূলত ওয়াশিংটনকে কালক্ষেপণের মাধ্যমে ধোঁকা দিচ্ছে। ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ইরান এত দিন ধরে আমাদের বোকা বানাচ্ছে। এবার আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত শক্ত আঘাত হানতে যাচ্ছি।" সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, "যদি আপনারা টেলিভিশন সেট অন না করার কারণে রাতের ঘটনা মিস করে থাকেন, তবে জেনে রাখুন—আজ আমরা তাদের ওপর আবারও কঠোর হামলা চালাতে যাচ্ছি। এরপর দেখা যাবে চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হয়।" দুই দেশের মধ্যে এই আকস্মিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে ওমান উপকূলের হরমুজ প্রণালির একটি ঘটনা। গত সোমবার ইরানের ওপর চলমান নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মার্কিন বাহিনীর একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল অ্যাপাচি হেলিকপ্টার (এএইচ-৬৪) বিধ্বস্ত হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানি বাহিনী হেলিকপ্টারটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল এবং এর জবাবেই মূলত মঙ্গলবার রাত থেকে ইরানি রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। অবশ্য দুই মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের হামলাটি এমনভাবে পরিমাপ বা ক্যালিব্রেট করা হয়েছিল যাতে ইরানের কোনো সামরিক বা বেসামরিক নাগরিক হতাহত না হয়। ট্রাম্প বলেন, "আমাদের একটি অত্যন্ত দামি হেলিকপ্টারে তারা গুলি চালিয়েছে। এই একটি ঘটনাই আমাদের তাদের ওপর পাল্টা আঘাত হানার পূর্ণ অধিকার এনে দিয়েছে। সৌভাগ্যবশত হেলিকপ্টারে থাকা দুই ক্রু সদস্য বেঁচে গেছেন।" প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী মূর্তির মধ্যেও কূটনীতির পথ অবশ্য একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন যাতে ভেঙে পড়া আলোচনা আবার শুরু করা যায়। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবের জন্য গত দুই সপ্তাহ ধরে অপেক্ষা করতে করতে ট্রাম্পের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। ওভাল অফিসে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, "আমরা একটা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কেবলই সময় নষ্ট করছে, আমাদের সঙ্গে টালবাহানা খেলছে। যুক্তরাষ্ট্রকে আর বোকা বানানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।" আপাতত ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী আজ বুধবার ওমান সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলা চালাতে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।