মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই তাঁর তাৎক্ষণিক পূর্বসূরিদের নীতির সমালোচনায় সরব ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যে নতুন একটি প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। এখন তিনি শুধু সাম্প্রতিক প্রশাসনের সঙ্গে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও নিজের নেতৃত্বের তুলনা করছেন।
বিভিন্ন জনসভা, ভাষণ ও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কখনও নিজেকে অতীতের সফল প্রেসিডেন্টদের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন। আবার কখনও দাবি করছেন, ইতিহাসে যেসব সিদ্ধান্তকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়, তাঁর প্রশাসন সেসব ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলের মাধ্যমে ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে কেবল বর্তমান সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরতে চাইছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা আদর্শ, ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং জাতীয় পরিচয়ের বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, অতীতের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে নিজের তুলনা করে ট্রাম্প একদিকে সমর্থকদের কাছে নিজের নেতৃত্বকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন, অন্যদিকে ভবিষ্যতে তাঁর প্রশাসনের মূল্যায়ন কীভাবে ইতিহাসে লেখা হবে, সেই বার্তাও আগেভাগেই প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় সাউথ ডাকোটার ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি স্বাধীনতার ইতিহাস, জাতীয় ঐক্য, আমেরিকার ভবিষ্যৎ এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের স্মরণ করেন এবং বলেন, আড়াই শতকের পথচলায় দেশটি বহু সংকট অতিক্রম করে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনা ও সংবিধানের মূল্যবোধ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। ভাষণের একপর্যায়ে ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকার সামনে নতুন ধরনের আদর্শিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, দেশে আবারও একটি ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা স্বাধীনতা, জাতীয় পরিচয় এবং আমেরিকার ঐতিহ্যের জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ট্রাম্প তার বক্তব্যে সরাসরি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করলেও বামপন্থী রাজনৈতিক ধারা ও নীতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমেরিকার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন নেতৃত্বের ওপর, যারা দেশের সংবিধান, স্বাধীনতা এবং জাতীয় মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ জানিয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এজন্য আগামী এক বছরজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো মানুষের সামনে ট্রাম্প আমেরিকার সামরিক বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাবেক যোদ্ধা এবং জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষায় তাদের ভূমিকা জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক সংগীত, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বর্ণিল আতশবাজির আয়োজন করা হয়। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী এক বছর দেশজুড়ে ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষামূলক কর্মসূচি, স্মারক প্রকাশ এবং নাগরিক অংশগ্রহণমূলক নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচির লক্ষ্য দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও জাতীয় ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা। ট্রাম্পের ভাষণের পর তা দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সমর্থকেরা তার বক্তব্যকে আমেরিকার স্বাধীনতা, জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, জাতীয় উদযাপনের মতো একটি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। এদিকে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী বছরের ৪ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ধারাবাহিক অনুষ্ঠান চলবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক আয়োজন, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং স্মারক অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাউন্ট রাশমোরের এই ভাষণের মধ্য দিয়েই আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতা উদযাপনের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, জাতীয় পরিচয় এবং আদর্শিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে আগ্রহী—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর ইরান এখন সমঝোতার পথ খুঁজছে। তিনি বলেন, “আমরা এক দিনেই ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকে কঠোরভাবে আঘাত করেছি। তারা এখন সমঝোতা করতে মরিয়া; তারা খুব করে সমঝোতা করতে চায়।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-র শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য ওয়াশিংটন তেহরানকে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিয়েছিল। “আমরা ভালো বলেই তাদের শেষ বিদায়ের জন্য সময় দিয়েছি,” যোগ করেন তিনি। এদিকে খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়কে ঘিরে ইরানে শুরু হয়েছে ছয় দিনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে এ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তেহরান ছাড়াও ইরাকের বিভিন্ন শহরে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তীতে তাকে দাফন করা হবে। রাজধানী তেহরান-এর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে মরদেহ পৌঁছানোর আগেই হাজার হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হন। অনেকের হাতে ছিল লাল পতাকা, যা প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এ সময় বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা স্লোগান দেন এবং প্রতিশোধের দাবি তোলেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই বিপুল সংখ্যক মানুষ গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। বিশাল এই প্রাঙ্গণের মূল চত্বর শোকাহত মানুষের ভিড়ে দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীজুড়ে কঠোর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির বিদায় অনুষ্ঠান শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান নয়; বরং এটি বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও শক্তির ভারসাম্যের প্রতিফলনও বহন করছে। একই সময়ে ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি নেতা মিনহাজ চৌধুরী। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি ভোটারদের সমর্থন কামনা করছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ কমিউনিটি এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক অধিকার, কমিউনিটি সেবা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত মিনহাজ চৌধুরী বর্তমানে অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (ASAAL)-এর মিশিগান চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি সংগঠনটির জাতীয় বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট। এর আগে তিনি মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট সংগঠনের ভাইস চেয়ার এবং ১৩তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট ডেমোক্র্যাটিক সংগঠনের অ্যাট-লার্জ বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি আমেরিকান মুসলিম পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (AMPAC)-এর মিশিগান চ্যাপ্টারের নির্বাহী বোর্ড সদস্য। পেশাগত জীবনে মিনহাজ চৌধুরী বর্তমানে ফোর্ড মোটর কোম্পানিতে কর্মরত। এর আগে তিনি আমেরিকান পোস্টাল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন। তার ভাষায়, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাই তাকে শ্রমজীবী মানুষ, অভিবাসী পরিবার এবং মধ্যবিত্তের বাস্তব সমস্যাগুলো কাছ থেকে জানার সুযোগ করে দিয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকারে তিনি ভালো বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহায়তা, সরকারি শিক্ষার মানোন্নয়ন, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাশ্রয়ী আবাসন, প্রবীণ ও ভেটেরানদের জন্য উন্নত সেবা এবং সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সম্প্রতি ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মিনহাজ চৌধুরী বলেন, নির্বাচিত হলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে শিশু ও সব বাসিন্দার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরাপদ কমিউনিটি গড়ে তোলার বিষয়েও তিনি কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আগামী ৪ আগস্টের প্রাইমারি নির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অথবা অ্যাবসেন্টি ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-১৪-এর আওতায় সেন্টার লাইন, হ্যাজেল পার্ক, ম্যাডিসন হাইটস এবং ওয়ারেন শহরের অংশবিশেষ অন্তর্ভুক্ত। আগামী ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে বিজয়ী প্রার্থী পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।