- প্রচ্ছদ
- Topic
অক্সফোর্ড
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সিদ্দিকী যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার অব পাবলিক পলিসি প্রোগ্রামে পড়াশোনা শুরু করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টে এই উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি জয়েন্ট জাপান ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ প্রোগ্রামের সহায়তা পেয়েছেন বলে নিজের প্রকাশিত বক্তব্যে জানিয়েছেন। ইসরাতের এই অর্জনের কথা জানিয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিও। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বার্তায় তাঁকে আইন বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রাক্তনী হিসেবে উল্লেখ করে অক্সফোর্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য অভিনন্দন জানানো হয়েছে। অক্সফোর্ডের ব্লাভাটনিক স্কুল অব গভর্নমেন্টে প্রকাশিত পরিচিতি অনুযায়ী, ইসরাত ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ও আন্তর্জাতিক আইনে বিশেষায়িত এলএলএম সম্পন্ন করেছেন। স্নাতকে তিনি ‘ম্যাগনা কাম লাউডে’ সম্মাননা অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী। আইন পেশার পাশাপাশি উন্নয়ন খাতে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অক্সফোর্ডের পরিচিতিতে বলা হয়েছে, লিঙ্গভিত্তিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন ইসরাত। তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নয়ন খাতে তাঁর পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে আইন ও নীতি সংস্কার, গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের কাজে যুক্ত হন তিনি। আইন ও নীতির পরিবর্তন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা তাঁর কাজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসরাতের নীতিগত আগ্রহের মধ্যে রয়েছে নারী ও পুরুষের পৃথক প্রয়োজন বিবেচনায় শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিচার খাতের সংস্কার এবং আইন ও নীতির পরিবর্তনকে কার্যকর জনসেবায় রূপ দেওয়া। আইন বিষয়ে পড়াশোনা ও উন্নয়ন খাতে কাজের অভিজ্ঞতার পর এবার অক্সফোর্ডে জননীতি নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন তিনি। সূত্র: ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি
যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগান নারীদের স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের সুযোগ করে দিতে নতুন একটি বৃত্তি চালু করা হয়েছে। ‘উইডেনফেল্ড-হফম্যান ট্রাস্ট’-এ প্রদান করা ২৫ লাখ মার্কিন ডলারের এই অনুদানের মাধ্যমে প্রতি বছর একজন আফগান নারী অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ পাবেন। আফগান শিক্ষাবিদ এবং অক্সফোর্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শাবানা বাসিজ-রাসিখ এই অনুদান দিয়েছেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আফগান নারীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার এবং নেতৃত্ব বিকাশে একটি দীর্ঘস্থায়ী সুযোগ তৈরি করবে। এই বৃত্তির আওতায় প্রথম বা দ্বিতীয় প্রজন্মের আফগান বংশোদ্ভূত নারীরা আবেদন করতে পারবেন, যদি তারা অক্সফোর্ডের স্নাতকোত্তর কোর্সের সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ বা উপবৃত্তি এবং অক্সফোর্ডে আসার আগের আনুষঙ্গিক ভ্রমণ ব্যয়ও এই বৃত্তির অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে 'স্কুল অব লিডারশিপ, আফগানিস্তান' (SOLA) প্রতিষ্ঠা করা শাবানা বাসিজ-রাসিখ নারী শিক্ষার অন্যতম বড় প্রবক্তা। তিনি নিজেও উইডেনফেল্ড-হফম্যান ট্রাস্টের বৃত্তির মাধ্যমে ২০১৯-২০ সালে অক্সফোর্ড থেকে পাবলিক পলিসিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। নতুন এই অনুদান সম্পর্কে শাবানা বলেন, তারা কারও করুণা চান না, বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ ও সাফল্য নিজে হাতে গড়ে তোলার জন্য শুধু প্রয়োজনীয় সুযোগটুকু চান। তাঁর মতে, অক্সফোর্ডে এক বছর একজন আফগান নারীর নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হবে, আর এরপর বছরের পর বছর ধরে অন্য নারীরাও একইভাবে এই সুযোগ পেতে থাকবেন। তালেবান শাসনে আফগান নারীদের শিক্ষার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার এই কঠিন সময়ে এমন একটি উদ্যোগ পিছিয়ে পড়া ও ঝুঁকিতে থাকা মেধাবী ছাত্রীদের জন্য এক অনন্য আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটি আবারও বিশ্বের সেরা শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১ হাজার বৃহৎ শহরের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে নিউইয়র্ক। বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানির দায়িত্বের প্রথম বছরেই এই র্যাঙ্কিং প্রকাশিত হলেও, গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে যে নিউইয়র্কের শীর্ষ অবস্থান কোনো একক মেয়র বা প্রশাসনের কারণে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত শক্তির ফল। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণে পাঁচটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করেছে। এগুলো হলো অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ এবং শাসনব্যবস্থা। এই পাঁচ সূচকের সমন্বিত স্কোরে নিউইয়র্ক পেয়েছে ১০০, যা তালিকার সর্বোচ্চ। নিউইয়র্কের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান অর্থনীতিতে। এই বিভাগে শহরটি পূর্ণ ১০০ স্কোর পেয়েছে। মানবসম্পদে স্কোর ৮৯ দশমিক ৫, জীবনযাত্রার মানে ৮০ দশমিক ৮, পরিবেশে ৭২ দশমিক ৮ এবং শাসনব্যবস্থায় ৭৫ দশমিক ৭। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লন্ডন, যার সামগ্রিক স্কোর ৯৮ দশমিক ৮। তৃতীয় প্যারিস, চতুর্থ সিয়াটল এবং পঞ্চম সান ফ্রান্সিসকো। শীর্ষ দশে আরও রয়েছে ডাবলিন, বোস্টন, সান হোসে, টোকিও এবং জুরিখ। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস বলেছে, নিউইয়র্ক ও লন্ডন শীর্ষে থাকার অন্যতম বড় কারণ তাদের বিশাল অর্থনীতি এবং শক্তিশালী শ্রমবাজার। বিশেষ করে নিউইয়র্ক বিশ্বের বৃহত্তম মেট্রো অর্থনীতির অধিকারী। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শহরটির অর্থনৈতিক আকার টোকিও ও লস অ্যাঞ্জেলেসের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে শুধু বর্তমান অবস্থা নয়, একটি শহরের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়। অর্থনৈতিক আকার, কর্মসংস্থান, শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি, জীবনযাত্রার পরিবেশ, প্রাকৃতিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কাঠামো মিলিয়ে প্রতিটি শহরের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। নিউইয়র্কের শীর্ষস্থান নিয়ে আলোচনায় মেয়র জোহরান মামদানির নামও উঠে এসেছে। তিনি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নির্বাচনের আগে ও পরে বিভিন্ন সমালোচক আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তার কিছু নীতি শহরের অর্থনীতি ও ব্যবসার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের সূচক মামদানির প্রশাসনকে নিউইয়র্কের প্রথম হওয়ার কৃতিত্ব দেয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর শক্তি বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। কয়েক বছরের দুর্বল প্রবৃদ্ধি বা রাজনৈতিক পরিবর্তনও অনেক সময় এসব শহরের মৌলিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দ্রুত বদলে দিতে পারে না। নিউইয়র্কের অর্থনৈতিক শক্তির বড় অংশ আসে ফাইন্যান্স, প্রফেশনাল সার্ভিস, টেকনোলজি, মিডিয়া, রিয়েল এস্টেট এবং অন্যান্য বড় খাত থেকে। বিশেষ করে বৈশ্বিক ফাইন্যান্স সেন্টার হিসেবে শহরটির দীর্ঘদিনের অবস্থান এখনো এর অর্থনৈতিক স্কোরকে শক্তিশালী রাখছে। তবে সূচকে নিউইয়র্ক সব ক্ষেত্রেই প্রথম নয়। পরিবেশ এবং শাসনব্যবস্থায় শহরটির স্কোর অর্থনীতি ও মানবসম্পদের তুলনায় কম। অর্থাৎ বিশ্বের সেরা সামগ্রিক শহর হলেও আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার চাপ, পরিবেশ এবং প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মতো বিষয় এখনো নিউইয়র্কের সামনে রয়েছে। ২০২৬ সালের র্যাঙ্কিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শীর্ষ তিন শহরের অবস্থান গত বছরের তুলনায় অপরিবর্তিত। নিউইয়র্ক প্রথম, লন্ডন দ্বিতীয় এবং প্যারিস তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস বলছে, এটি দেখায় যে বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর অর্থনৈতিক ও মানবসম্পদভিত্তিক শক্তি দীর্ঘমেয়াদে বেশ স্থিতিশীল। বিশ্বের ১ হাজার শহরের মধ্যে নিউইয়র্কের আবারও প্রথম হওয়া শহরটির বৈশ্বিক গুরুত্বের একটি বড় স্বীকৃতি। বিশেষ করে অর্থনীতি ও মানবসম্পদে শক্তিশালী অবস্থান নিউইয়র্ককে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং প্রতিভার কেন্দ্র হিসেবে ধরে রেখেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের স্নাতক ফারিহা ইকবাল যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডে মাস্টার্সে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। ‘ডব্লিউসিএন রাইজিং ওয়াইল্ডলাইফ লিডার্স’ স্কলারশিপে তাঁর এই সুযোগের কথা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ‘আরইউ ইনসাইডার্স’-এর এক পোস্টে জানানো হয়েছে। পোস্ট অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ শুরু হতে যাওয়া শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হতে মঙ্গলবার রাতে অক্সফোর্ডের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। তাঁর আইইএলটিএস স্কোর ৮.০। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন নেটওয়ার্কের তথ্য অনুযায়ী, তাদের এই স্কলারশিপে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়, যা টিউশন ফি, আবাসন, জীবনযাত্রার খরচসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা যায়। ফারিহা যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে মাস্টার্সের সুযোগ এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নে ইকোসিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিষয়ে পড়ার সুযোগও পেয়েছিলেন। তবে তিনি অক্সফোর্ডকে বেছে নেন। টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে অক্সফোর্ড প্রথম, উইসকনসিন-ম্যাডিসন যৌথভাবে ৫৩তম এবং মেলবোর্ন ৩৭তম স্থানে ছিল। কিউএসের ২০২৬ সালের বিষয়ভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ে অক্সফোর্ডের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা স্কুল ভূগোল বিষয়ে টানা ১৬তম বছরের মতো বিশ্বে প্রথম স্থান পায়। সূত্র : Ru insiders
যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিয়নের এক বহুল আলোচিত বিতর্কে ইসলামবিরোধী একটি প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত সদস্যদের ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বিতর্কে প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন কট্টর ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক ভাষ্যকার লরেন্স ফক্স। অন্যদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সভাপতি, গাজার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম শিক্ষার্থী আরওয়া এলরায়েস এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী জ্যাকব রিস-মগ। গত ১৭ জুন অনুষ্ঠিত বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘পশ্চিমা বিশ্বের ইসলামের প্রতি সন্দিহান হওয়া উচিত।’ দীর্ঘ আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর শেষে সদস্যদের ভোটে ৩৩–৩০ এবং চেম্বারের ভোটে ৫৭–৪১ ব্যবধানে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। বিতর্কে টমি রবিনসন ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয় উদ্ধৃতি তুলে ধরে দাবি করেন, ইসলাম অন্য ধর্মের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে উৎসাহিত করে না। এর জবাবে আরওয়া এলরায়েস বলেন, ধর্মীয় গ্রন্থের বক্তব্যকে প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা ছাড়া উদ্ধৃত করলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও আচরণের প্রতিফলন হিসেবে দেখানো ন্যায়সঙ্গত নয়। তিনি বলেন, সন্দেহের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই সব উগ্রবাদী গোষ্ঠী, যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে সহিংসতা ছড়ায়—কোনো ধর্ম বা তার অনুসারীরা নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মুসলমানরাও সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে থাকেন এবং অনেক মুসলিম নারীও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তার বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে উপস্থিত দর্শকদের করতালি ও সমর্থন দেখা যায়। অন্যদিকে লরেন্স ফক্স বিতর্কে দাবি করেন, ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং একটি ‘যুদ্ধযন্ত্রের’ মতো। এর প্রতিবাদ করে আরওয়া এলরায়েস কোরআনের ধর্মীয় সহনশীলতা, ন্যায়বিচার এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আচরণ সম্পর্কিত শিক্ষার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি ধর্মকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা উগ্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে মূল ধর্মীয় শিক্ষা ও বৃহত্তর অনুসারীদের বাস্তব অবস্থান বিবেচনা করা উচিত। বিতর্কে সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী জ্যাকব রিস-মগও ইসলামবিরোধী প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, কিছু চরমপন্থীর কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে দায়ী করা যায় না। তার মতে, যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন যথেষ্ট শক্তিশালী এবং একটি ধর্মকে সামগ্রিকভাবে সন্দেহের চোখে দেখার যৌক্তিক ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ভয়ের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা শরিয়া আইন ব্রিটিশ আইনের বিকল্প হয়ে উঠবে—এ ধরনের আশঙ্কার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কগুলো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক এই বিতর্কের ভিডিও ও বিশেষ করে আরওয়া এলরায়েসের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তার উপস্থাপিত যুক্তি, পাল্টা প্রশ্ন এবং বিতর্ক পরিচালনার ধরন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।