অবৈধ অভিবাসী

ফ্লোরিডার ২৮টি সরকারি কলেজে অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধে নতুন নিয়ম অনুমোদন | ছবি: অরল্যান্ডো বিজনেস জার্নাল
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবৈধ অভিবাসীদের কলেজে ভর্তি ও জিইডি প্রোগ্রাম নিষিদ্ধ

আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি কলেজ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষামূলক ‘জিইডি’ (GED) প্রস্তুতিমূলক প্রোগ্রামে অবৈধ অভিবাসীদের ভর্তির সুযোগ বন্ধ করে নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে রাজ্য শিক্ষা বোর্ড। মঙ্গলবার এক কনফারেন্স কলের মাধ্যমে এই বিতর্কিত নিয়মটি পাস করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফ্লোরিডার ২৮টি সরকারি কলেজের ট্রাস্টি বোর্ডকে এখন থেকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা মার্কিন নাগরিক কিংবা আইনগতভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন। এর পাশাপাশি সরকারি হাইস্কুল ও স্টেট কলেজগুলোতে পরিচালিত প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং জিইডি কোর্সেও অনথিভুক্ত বা অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও অভিবাসী অধিকারকর্মী। তাদের দাবি, ফ্লোরিডার আইনসভা বা লেজিসলেচার চলতি বছর যে বিধিনিষেধগুলো পাস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, শিক্ষা বোর্ড এখন সেই নিয়মগুলোই জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। গভর্নর রন ডেসান্টিসের নিযুক্ত করা বোর্ড সদস্য ড্যানিয়েল ফোগানহোলি একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেন।   ফ্লোরিডার কলেজ বিভাগের চ্যান্সেলর ক্যাথি হেবদা অবশ্য বোর্ড সদস্যদের জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার বিদ্যমান আইনের সাথে কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই নিয়মগুলো আপডেট করা হয়েছে। তবে চলতি বছরের আইনসভা অধিবেশনে এই ধরনের বিল ব্যর্থ হওয়ার পরেও কেন নতুন করে এই প্রশাসনিক নিয়ম চালুর প্রয়োজন হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।   অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে অরল্যান্ডোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যানা এসকামানি বলেন, কোনো শিশুর নিজের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও কেবল ইমিগ্রেশন নথির অজুহাতে তার উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ করে দেওয়াটা সম্পূর্ণ অ-আমেরিকান এবং সংবিধান পরিপন্থী। এমনকি আইনসভার দ্বিপাক্ষিক যৌথ প্রশাসনিক পদ্ধতি কমিটিও এই নতুন নিয়মের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষা বিভাগকে চিঠি পাঠিয়েছে।   সূত্র: ফক্স ৩৫ ওর্ল্যান্ডো

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা
টেক্সাসে ১৭০০ অপরাধে জড়িত ৭৩৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন এলাকায় মে মাসে এক ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৭৩৫ জন অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্ট এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। গ্রেপ্তারকৃত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৭১১টি অপরাধের সাজা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০টি অপরাধ সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিপজ্জনক গ্যাং বা অপরাধী চক্রের সদস্য, খুনি, শিশু যৌন নির্যাতনকারী, ধর্ষক, অগ্নিসংযোগকারী, মাদক পাচারকারী এবং বিদেশি পলাতক আসামি রয়েছে।   হিউস্টনের আইসিই এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মে মাসে মোট ৭৩৫ জন অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬২৫ জন সরাসরি মানুষের জীবনহানির জন্য দায়ী। মোট অপরাধের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ১৮২টি অপরাধ ছিল চরম সহিংস প্রকৃতির, যা জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল এবং বাকি অপরাধগুলো মার্কিন নাগরিকদের সম্পদের ক্ষতি করার সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও নৃশংস আন্তর্জাতিক এবং কারাবন্দী গ্যাংয়ের সদস্য বা সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।   গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধের তালিকায় রয়েছে ৫টি হত্যাকাণ্ড, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টা, ৩৮টি যৌন অপরাধ, ১২টি মানব পাচার, ১৭০টি চুরি-ডাকাতি এবং ২২৪টি মারাত্মক শারীরিক আক্রমণের ঘটনা। এছাড়া তালিকায় ৪টি অগ্নিসংযোগ, ৩২টি অভিবাসী চোরাচালান, ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালানো, ৩০টি অস্ত্র অপরাধ, ৩টি অপহরণ, ২৩টি পারিবারিক সহিংসতা, ৮টি শিশু নির্যাতন এবং ৪৯৫টি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সাজা রয়েছে, যার মধ্যে বারবার এই একই অপরাধ করা ব্যক্তিরাও রয়েছে।   গ্রেপ্তার হওয়া বিপজ্জনক অপরাধীদের মধ্যে হন্ডুরাসের ৪৩ বছর বয়সী হুয়ান এস্তেবান জেলায়া হার্নান্দেজ রয়েছেন, যিনি চারবার বিতাড়িত হওয়ার পরও ফিরে এসে অপরাধে জড়ান এবং তিনি পাইসাস গ্যাংয়ের সদস্য। অন্যান্যদের মধ্যে ভিয়েতনামের দিন কুয় নগুয়েন পুলিশকে হত্যার চেষ্টায় সাজাপ্রাপ্ত এবং মেক্সিকোর মিগুয়েল রোসাস ভেঞ্চুরা ও জাভিয়ের মোয়া-টেনটোরি উভয়ই পূর্বে বিতাড়িত হওয়া সাজাপ্রাপ্ত খুনি আসামি। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জোসে ওলবান মার্টিনেজ এবং ১২ বার অনুপ্রবেশকারী মাদক পাচারকারী আলোনসো রাফায়েল ব্যারেরা-ডি লিওনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   হন্ডুরাসের হুয়ান জোসে আগুইলেরা-লেমুস এবং মেলভিন হার্নান্দেজ নামক দুই চরম সহিংস অপরাধীসহ পাকিস্তানের বুরহান কুরেশি এবং এল সালভাদরের ফেলিসিয়ানো লুনা-মেন্ডোজার মতো বহুবার বিতাড়িত অপরাধীদের আটক করা হয়। এছাড়াও আইসিই আরও ২০০ জনেরও বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে যাদের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেমন হন্ডুরাসের ওয়ান্টেড পলাতক আসামি কার্লোস গ্যালিয়ানো লারা। সংস্থাটির মাঠ কর্মকর্তা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেজ বলেন, এরা নিরীহ অর্থনৈতিক অভিবাসী নয়, এরা মূলত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বড় হুমকি।   সূত্র: আইসিই

তাবাস্সুম জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার নীতিতে জনসমর্থন বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত এবং অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের বহিষ্কারের পক্ষে জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও এ নীতির প্রতি সমর্থন আগের তুলনায় বেড়েছে।   হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি ও হ্যারিস পোলের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, মোট ভোটারের প্রায় ৮০ শতাংশ বলেছেন, “অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এবং অপরাধে জড়িত অভিবাসীদের বহিষ্কার করা উচিত।” এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৭৫ শতাংশ।   জরিপে আরও দেখা যায়, রাজনৈতিক সব শিবিরেই সমর্থন বৃদ্ধি পেলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে পরিবর্তন তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের ৭১ শতাংশ অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা এপ্রিলের ৬৩ শতাংশের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ সমর্থন প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। এপ্রিলের ৮৯ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ৯০ শতাংশ রিপাবলিকান এই নীতিকে সমর্থন করছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও সমর্থন ৭৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে।   তবে সব অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের বিষয়ে জনমত তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৫৬ শতাংশ এই নীতির পক্ষে মত দিয়েছেন, যা আগের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।   দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ এখন সব অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কারের পক্ষে, যা এক মাস আগে ছিল ৩৩ শতাংশ। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই সমর্থন ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার ৮০ শতাংশ থেকে কমে ৭৭ শতাংশে নেমেছে।   হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর আমেরিকান পলিটিক্যাল স্টাডিজের জন্য দ্য হ্যারিস পোল ও হ্যারিস এক্স পরিচালিত জরিপে ১ হাজার ৭২৫ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। ২৯ ও ৩০ মে পরিচালিত এই জরিপের মার্জিন অব এরর ছিল প্লাস মাইনাস ২.৪ শতাংশ।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসী দেশ ছেড়েছেন বা বহিষ্কৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় “সেলফ ডিপোর্টেশন” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশ ত্যাগ করেছেন।   বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে প্রায় ৯ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আরও প্রায় ৯ লাখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ‘খারাপের চেয়ে খারাপ’ তালিকায় ১০ বাংলাদেশি, প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন ও অপরাধ দমনে জোরদার অভিযানের অংশ হিসেবে ‘খারাপের চেয়ে খারাপ’ বা ‘ওর্স্ট অব দ্য ওর্স্ট’ তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র বিভাগ। এই তালিকায় বিভিন্ন দেশের অপরাধীদের পাশাপাশি অন্তত ১০ জন বাংলাদেশির নাম উঠে আসায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।   মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে রয়েছে যৌন নির্যাতন, অস্ত্র বহন, চুরি, জালিয়াতি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগ। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে বহিষ্কার (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হচ্ছে গুরুতর অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা।   অন্যদিকে, এই তালিকা প্রকাশের পর প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, কিছু ব্যক্তির অপরাধের কারণে পুরো কমিউনিটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কমিউনিটি নেতারা সবাইকে আইন মেনে চলা এবং নিজেদের অবস্থান বৈধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কঠোরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন অভিযান আরও বাড়তে পারে। ফলে প্রবাসীদের জন্য সতর্ক থাকা এবং আইনগত বিষয়গুলো সঠিকভাবে মেনে চলা এখন সময়ের দাবি।

তাবাস্সুম মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিজ মায়ের হাতে তিন সন্তান হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে কেঁদে ফেললেন আদালতে উপস্থিত সদস্যরা

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০