ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার বোর্ড অব গভর্নরসের এক ভোটাভুটিতে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
নতুন এই নীতি অনুযায়ী, যেসব স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সব যোগ্য আবেদনকারীকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে অবস্থানরত কোনো শিক্ষার্থী নতুন করে ভর্তি হতে পারবেন না। আগামী ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিতর্কিত এই নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
এর কয়েক মাস আগেই ফ্লোরিডার বোর্ড অব এডুকেশন রাজ্যের সরকারি কলেজ এবং বয়স্ক শিক্ষাকার্যক্রমেও অবৈধ অভিবাসীদের ভর্তিতে অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। নতুন এই নিয়মের মধ্য দিয়ে আলাবামা, জর্জিয়া ও সাউথ ক্যারোলাইনার পর চতুর্থ অঙ্গরাজ্য হিসেবে ফ্লোরিডা তাদের উচ্চশিক্ষায় অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করল।
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। এক পোস্টে তিনি জানান, তাদের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বহিরাগতদের বদলে ফ্লোরিডাবাসী তথা আমেরিকানদেরই সবসময় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ‘ইউনাইটেড ফ্যাকাল্টি অব ফ্লোরিডা’ এবং ‘ফ্লোরিডা এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন’। ইউনাইটেড ফ্যাকাল্টি অব ফ্লোরিডার প্রেসিডেন্ট রবার্ট ক্যাসানেলো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সবার জন্য উচ্চশিক্ষার সুরক্ষায় বোর্ড অব গভর্নরসের যে দায়িত্ব ছিল, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা তা হারিয়েছে।
রাজ্যের ভবিষ্যৎ কর্মী ও নেতৃত্ব গড়ে তোলার পরিবর্তে এই নিয়ম বরং উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করবে এবং সম্ভাবনার দরজাগুলো বন্ধ করে দেবে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন ফ্লোরিডায় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং দক্ষ শ্রমিকের তীব্র সংকট চলছে, তখন এই ধরনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য চরম ধ্বংসাত্মক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টিতে অভিনব এক প্রতারণার ফাঁদে পড়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার খুইয়েছেন ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। ভারতের দিল্লি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে এক নারী তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার উডসাইড থেকে ৩২ বছর বয়সী অভিযুক্ত ওই নারীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, গত ২৯ জুন থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়। অভিযুক্ত নারী ফোনে হিকসভিলের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধাকে জানান যে, তিনি ভারতে একটি অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তাকে অর্থ পাঠাতে হবে। ভয় পেয়ে ওই বৃদ্ধা এক মাসের ব্যবধানে ধাপে ধাপে মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ২০০ ডলার তুলে ওই প্রতারকের কাছে পাঠিয়ে দেন। গত মঙ্গলবার প্রতারক নারী আবারও কল করে তদন্তের নামে সিআইএ এজেন্টের কাছে হস্তান্তরের জন্য আরও তিন লাখ ডলারের সোনার বার ও কয়েন কিনতে বলেন। এরপরই বৃদ্ধা বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হচ্ছেন এবং পুলিশের দ্বারস্থ হন। পরে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ হিকসভিলের একটি পার্কিং লটে ফাঁদ (স্টিং অপারেশন) পাতে। সেখানে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫০ ডলার সমমূল্যের নকল সোনার বার নিতে এলে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন ওই নারী। আদালতে তার বিরুদ্ধে চুরির চেষ্টার (গ্র্যান্ড লারসিনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। নাসাউ কাউন্টির পুলিশ কমিশনার প্যাট্রিক রাইডার জানান, প্রতারকরা সফল হওয়ার জন্য হাজার হাজার কল করে থাকে, আর একটি সফল কলই তাদের পুরো বছরের আয়ের সমান হতে পারে। পুলিশ এই ঘটনায় বৃদ্ধাকে দোষারোপ না করে চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে কাজ করছে। পাশাপাশি এ ধরনের প্রতারণার বিষয়ে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ সদস্যদের সতর্ক রাখার আহ্বান জানিয়ে সন্দেহভাজন শিকারদের দ্রুত নাসাউ কাউন্টির ফ্রড অ্যান্ড ফোর্জারি সেকশনে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় স্বামীকে ‘লটারি কেনা বোকামি’ প্রমাণ করতে গিয়ে ১০ লাখ ডলার জিতলেন স্ত্রী
ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা
মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ৭১ বছরের বৃদ্ধা, পুলিশ স্টেশনে গুলি চালিয়ে পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস থেকে নিউয়ার্কগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এক উচ্ছৃঙ্খল যাত্রীকে ডাক্ট টেপ দিয়ে সিটের সাথে বেঁধে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাল্টিমোরে বিমানটির অপ্রত্যাশিত ও জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হন পাইলট। শুক্রবার এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেড-এর প্রকাশিত ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ওই যাত্রী মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং হঠাৎ করেই তার পাশের সিটের যাত্রীর ওপর চিৎকার করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট এগিয়ে এলে ওই যাত্রী তাকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী ও সমকামিতাবিদ্বেষী কটূক্তি করেন। একপর্যায়ে তিনি সহিংস হয়ে উঠলে বিমানের ক্রু এবং অন্য যাত্রীরা মিলে তাকে ডাক্ট টেপ দিয়ে সিটের সাথে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন। ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ফার্স্ট ক্লাসের সিটে বসা ওই ব্যক্তির কবজি, শরীর ও মাথা ডাক্ট টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে। বাল্টিমোরে বিমানটি অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই ব্যক্তিকে আটক করে বিমান থেকে নামিয়ে নেয়। এরপর ফ্লাইটটি পুনরায় নিউয়ার্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এক বিবৃতিতে আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, গ্রাহক ও কর্মীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং কোনো ধরনের সহিংসতা তারা বরদাস্ত করবে না। পেশাদারিত্বের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কর্মীদের ধন্যবাদও জানিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযুক্ত যাত্রী বর্তমানে স্টেট পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ফেডারেল চার্জ গঠন করা হবে কি না, তা নির্ধারণে ম্যারিল্যান্ড জেলার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সাথে আলোচনা করে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে মুসলিমদের হত্যার হুমকি, অ স্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ
ম্যাসাচুসেটসে তিন সন্তান হত্যার দায়ে অভিযুক্ত মার্কিন মায়ের মামলায় মিসট্রায়াল ঘোষণা
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫ আসনের গাড়িতে ৬ যাত্রী, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ৪ জনের মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিতর্কিত কিছু ভিডিও গেম উন্মুক্ত করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য অভিবাসী বিতাড়ন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক নীতিগুলোর প্রচার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্যান্ট স্টপ উইনিং’ স্লোগান দিয়ে এই আর্কেড গেমগুলোর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পরিচিত পুরোনো কিছু গেমের আদলে তৈরি এই গেমগুলোতে অভিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় বইছে। হোয়াইট হাউসের এই আর্কেডে মোট পাঁচটি গেম রয়েছে। এর মধ্যে 'বিল্ড দ্য ওয়াল' গেমটি তৈরি হয়েছে নব্বই দশকের জনপ্রিয় গেম টেট্রিসের অনুকরণে। এখানে খেলোয়াড়দের ব্লক সাজিয়ে দেয়াল তৈরির মাধ্যমে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে আসা অভিবাসীদের আটকাতে হয়। গেমটিতে অভিবাসীদের 'আক্রমণকারী দল' বা 'হোর্ড' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। অন্যদিকে 'রিও রান' নামের গেমটি স্নেক গেমের আদলে তৈরি, যেখানে খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রের 'বর্ডার সিজার' টম হোম্যানের চরিত্রে অভিনয় করেন। এখানে রিও গ্র্যান্ডে নদীর পাড় ধরে ছুটে চলা ভিন্ন বর্ণের অভিবাসীদের বন্দি করে নির্বাসন বা ডিপোর্টেশন পয়েন্ট বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। অভিবাসন ছাড়াও রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের 'মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন' উদ্যোগের অধীনে স্কুলের খাবার বাছাই করা এবং শিশুদের জন্য 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' ভরার মতো বিষয়গুলো নিয়েও গেম রয়েছে এই তালিকায়। গেমগুলোর চরম অমানবিক উপস্থাপনার কারণে মানবাধিকার কর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি টেট্রিস কোম্পানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মানুষকে বিভক্ত করার বদলে একত্র করায় বিশ্বাসী এবং বিনা অনুমতিতে কপিরাইট লঙ্ঘনের বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে দেখছে। একসময় ভিডিও গেমের সহিংসতা নিয়ে সরব থাকা প্রশাসন এখন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে গেমকে বর্ণবাদ ও বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ছাত্রীদের লকার রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রিন্সিপাল
জন্মদিনে ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছেলেকে দেখতে ৩২০ মাইল পথ পাড়ি, তবু জড়িয়ে ধরতে পারলেন না মা