আমেরিকা

টেক্সাসে ১৭০০ অপরাধে জড়িত ৭৩৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করল আইসিই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১৩:৩
ছবি: মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা
ছবি: মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন এলাকায় মে মাসে এক ব্যাপক অভিযান চালিয়ে ৭৩৫ জন অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্ট এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। গ্রেপ্তারকৃত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ১ হাজার ৭১১টি অপরাধের সাজা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০টি অপরাধ সরাসরি মার্কিন নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিপজ্জনক গ্যাং বা অপরাধী চক্রের সদস্য, খুনি, শিশু যৌন নির্যাতনকারী, ধর্ষক, অগ্নিসংযোগকারী, মাদক পাচারকারী এবং বিদেশি পলাতক আসামি রয়েছে।

 

হিউস্টনের আইসিই এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মে মাসে মোট ৭৩৫ জন অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬২৫ জন সরাসরি মানুষের জীবনহানির জন্য দায়ী। মোট অপরাধের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ১৮২টি অপরাধ ছিল চরম সহিংস প্রকৃতির, যা জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছিল এবং বাকি অপরাধগুলো মার্কিন নাগরিকদের সম্পদের ক্ষতি করার সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জন বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও নৃশংস আন্তর্জাতিক এবং কারাবন্দী গ্যাংয়ের সদস্য বা সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।

 

গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধের তালিকায় রয়েছে ৫টি হত্যাকাণ্ড, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টা, ৩৮টি যৌন অপরাধ, ১২টি মানব পাচার, ১৭০টি চুরি-ডাকাতি এবং ২২৪টি মারাত্মক শারীরিক আক্রমণের ঘটনা। এছাড়া তালিকায় ৪টি অগ্নিসংযোগ, ৩২টি অভিবাসী চোরাচালান, ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালানো, ৩০টি অস্ত্র অপরাধ, ৩টি অপহরণ, ২৩টি পারিবারিক সহিংসতা, ৮টি শিশু নির্যাতন এবং ৪৯৫টি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সাজা রয়েছে, যার মধ্যে বারবার এই একই অপরাধ করা ব্যক্তিরাও রয়েছে।

 

গ্রেপ্তার হওয়া বিপজ্জনক অপরাধীদের মধ্যে হন্ডুরাসের ৪৩ বছর বয়সী হুয়ান এস্তেবান জেলায়া হার্নান্দেজ রয়েছেন, যিনি চারবার বিতাড়িত হওয়ার পরও ফিরে এসে অপরাধে জড়ান এবং তিনি পাইসাস গ্যাংয়ের সদস্য। অন্যান্যদের মধ্যে ভিয়েতনামের দিন কুয় নগুয়েন পুলিশকে হত্যার চেষ্টায় সাজাপ্রাপ্ত এবং মেক্সিকোর মিগুয়েল রোসাস ভেঞ্চুরা ও জাভিয়ের মোয়া-টেনটোরি উভয়ই পূর্বে বিতাড়িত হওয়া সাজাপ্রাপ্ত খুনি আসামি। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জোসে ওলবান মার্টিনেজ এবং ১২ বার অনুপ্রবেশকারী মাদক পাচারকারী আলোনসো রাফায়েল ব্যারেরা-ডি লিওনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

হন্ডুরাসের হুয়ান জোসে আগুইলেরা-লেমুস এবং মেলভিন হার্নান্দেজ নামক দুই চরম সহিংস অপরাধীসহ পাকিস্তানের বুরহান কুরেশি এবং এল সালভাদরের ফেলিসিয়ানো লুনা-মেন্ডোজার মতো বহুবার বিতাড়িত অপরাধীদের আটক করা হয়। এছাড়াও আইসিই আরও ২০০ জনেরও বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে যাদের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেমন হন্ডুরাসের ওয়ান্টেড পলাতক আসামি কার্লোস গ্যালিয়ানো লারা। সংস্থাটির মাঠ কর্মকর্তা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেজ বলেন, এরা নিরীহ অর্থনৈতিক অভিবাসী নয়, এরা মূলত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বড় হুমকি।

 

সূত্র: আইসিই

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্প আব্দুল এল-সায়েদ এবং তার স্ত্রী সারা জুকাকুক। ছবি:সংগৃহীত
ট্রাম্প-মেলানিয়ার ছবির সাথে নিজেদের ছবি তুলনা করে এল সায়েদ বলেন, আমরা একে অপরকে সত্যি ভালোবাসি"

মিশিগান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টের জবাবে নিজের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প তাঁর স্ত্রী মেলানিয়ার সঙ্গে নিজের একটি ছবির পাশে এল-সাইয়েদ ও তাঁর স্ত্রী সারাহ জুকাকুর ছবি দিয়ে দুই দম্পতির সম্পর্ককে দুই ভিন্ন ধরনের আমেরিকার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।    রোববার সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সাইয়েদ বলেন, ট্রাম্প ঠিকই বলেছেন যে তারা দুই ভিন্ন ধরনের আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করেন। এরপর তিনি নিজের স্ত্রী সারাহর সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ট্রাম্পের দাম্পত্য জীবন নিয়ে কটাক্ষ করেন।   এল-সাইয়েদ বলেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী একে অপরকে সত্যিকার অর্থেই ভালোবাসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের সংসারে পারস্পরিক ভালোবাসা ও পরিবারকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ গড়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। বিপরীতে ট্রাম্পের দাম্পত্য সম্পর্ককে তিনি এমন একটি সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে দুজনের মধ্যে ভালোবাসার ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।   ট্রাম্পের পোস্টে এল-সাইয়েদ ও তাঁর স্ত্রী সারাহ জুকাকুর একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। সারাহ একজন চিকিৎসক এবং হিজাব পরিহিত অবস্থায় ছবিতে ছিলেন। এল-সাইয়েদ ও সারাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পরিচিত হন। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে এবং তাঁরা মিশিগানের অ্যান আরবারে বসবাস করেন।    ট্রাম্পের সঙ্গে এল-সাইয়েদের রাজনৈতিক বিরোধও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। মিশিগানের ডেমোক্রেটিক দলের সিনেট প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প তাঁকে বিভিন্নভাবে আক্রমণ করে আসছেন। এল-সাইয়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়বেন।    নিজের দাম্পত্য প্রসঙ্গের পাশাপাশি এল-সাইয়েদ ট্রাম্পের নীতিরও সমালোচনা করেন। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ জ্বালানি ও বাজারের খরচ সামলাতে পারছেন কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   মিশিগানের আসন্ন সিনেট নির্বাচন তাই শুধু দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এল-সাইয়েদ জয়ী হলে একজন মুসলিম হিসেবে সিনেটে নতুন ইতিহাস তৈরি করবেন। অন্যদিকে তাঁর প্রচারণাকে ঘিরে ট্রাম্পের সরাসরি আক্রমণ নির্বাচনী লড়াইটিকে জাতীয় রাজনীতির আলোচনাতেও নিয়ে এসেছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৮:১৫
যুদ্ধকালীন সময়ে ৫৪ বছর বিচ্ছিন্ন থাকা এক দম্পতির আবেগঘন পুনর্মিলন। ছবি:সংগৃহীত

যুদ্ধ থেকে স্বামীর ফেরার আশায় ৫৪ বছর অপেক্ষা! শেষে জানলেন তিনি নতুন সংসার গড়েছেন

নিউইর্য়ক পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্ক পুলিশে বাড়ছে বাংলাদেশি পুলিশ! বেতন ৯০হাজার ডলার, আবেদন করুন আজই

উদ্ধারকৃত ডলার। ছবি:সংগৃহীত

বিমানবন্দরে লাগেজ থেকে ৬ লাখ ১৮ হাজার ডলার উদ্ধার, যুবকের কারাদণ্ড

নৌকায় অভিবাসীদের বহনকরার সময়। ছবি:সংগৃহীত
এক নৌকায় রেকর্ড ২৩০ অভিবাসী নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে, জাতীয় নিরাপত্তা জরুরি অবস্থা’র সতর্কতা

ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে একটি মাত্র নৌকায় রেকর্ড ২৩০ অভিবাসী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। সোমবার ভোরে ডোভার উপকূলে পৌঁছানো এই বড় আকারের ইনফ্ল্যাটেবল নৌকাটি এখন পর্যন্ত এক নৌযানে চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার সর্বোচ্চ সংখ্যার নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। ঘটনাটিকে যুক্তরাজ্যের জন্য ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌকাটি স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ২টার দিকে ডোভারে পৌঁছায়। এতে থাকা ২৩০ জন অভিবাসীকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়। এর আগে এক নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়ার সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ১৬৫ জন। নতুন ঘটনায় সেই রেকর্ড উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নৌকাটিকে ‘মেগা-ডিঙ্গি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর ধারণক্ষমতা একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিপজ্জনক ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ১৭৩ জনকে বহনকারী একটি নৌকার ইঞ্জিনে আগুন লাগার পর সেটি উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।    রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী এক নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফারাজ ব্রিটিশ সরকারের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি এটিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংকট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের আগমন ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন।    রিফর্ম ইউকে এরই মধ্যে ‘অপারেশন ফোর্ট্রেস’ নামে একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্ষমতায় গেলে রয়্যাল নেভি ও রয়্যাল মেরিনসকে ব্যবহার করে ইংলিশ চ্যানেলে অভিবাসীবাহী নৌকা আটকে দেওয়া এবং ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।    তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সমুদ্রে নৌকা আটকে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনাটি বাস্তবে কার্যকর করা কঠিন এবং এর আইনি ও নিরাপত্তাগত জটিলতাও রয়েছে।    সাম্প্রতিক রেকর্ডের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া মানুষের মোট সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। দ্য টাইমসের হিসাবে, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮১৯ জন ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ কম। একই সময়ে ব্রিটিশ ও ফরাসি কর্তৃপক্ষ অবৈধ চ্যানেল পারাপার ঠেকাতে নজরদারি ও উপকূলীয় টহল জোরদার করেছে।    তবে মোট সংখ্যা কমলেও একটি নৌকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ পাঠানোর মতো নতুন কৌশল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহনকারী এসব নৌকা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে এবং মানবপাচারকারীদের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। ফলে সাম্প্রতিক রেকর্ডটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংকট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৬:৩৮
ঘটনা স্থলে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

টেম্পল ইউনিভার্সিটির বাইরে প্রকাশ্যে গুলিতে আহত ২, হামলার কারণ রহস্যজনক

ভয়াবহ দাবানল।ছবি:সংগৃহীত

ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানলে পুড়েছে ৩ লাখের বেশি একর জমি

তীব্র গরমের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির আকাশে ঘন কালো মেঘ বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে তীব্র গরম, বিকেল-সন্ধ্যায় বজ্রঝড়ের আশঙ্কা

U.S. Senator Chris Murphy
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প ‘হেরে গেছেন’: মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘হেরে গেছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস মারফি।   এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারফি বলেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তত দুর্বল হচ্ছে এবং ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। তার মতে, এই সংঘাত দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন।   মারফি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হচ্ছে, ইরান শক্তিশালী হচ্ছে।” যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়বে মার্কিন জনগণের ওপর। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।   যুদ্ধ বন্ধের মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার ওপরও জোর দিয়েছেন মারফি। তার ভাষায়, আলোচনা থমকে থাকায় জলপথটি খুলে দেওয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খরচ দিন দিন বাড়ছে।   এমনকি হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে যুদ্ধ বন্ধ করা সম্ভব হলে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে একটি ‘খারাপ চুক্তিতেও’ সমর্থন দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন এই সিনেটর।   মারফি আরও বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দের বিরোধিতা করবেন তিনি। তবে সংঘাত শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে সমর্থন দেবেন।   তার বক্তব্যে মূল বার্তাটি স্পষ্ট—যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ তত বাড়বে। আর সেই সুযোগে ইরান কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে যেতে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ৪:৫৭
কুমিরের কামড়ে পানির নিচে আটকা নারী

কুমিরের কামড়ে পানির নিচে আটকা নারী, শেষ পর্যন্ত কেটে ফেলতে হলো ডান হাত

যুক্তরাষ্ট্রে স্বজন আনার পথে সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রে স্বজন আনার পথে সুখবর, ফ্যামিলি ভিসায় বড় অগ্রগতি; নাগরিকত্বে বাড়ছে ফি

২৫ আগস্ট সরাসরি নিয়োগের সুযোগ

নিউইয়র্কে চাকরি খুঁজছেন? ২৫ আগস্ট সরাসরি নিয়োগের সুযোগ

0 Comments