- প্রচ্ছদ
- Topic
আমেরিকান
নিউজিল্যান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেওয়া ‘গোল্ডেন ভিসা’ কর্মসূচিতে ধনী আমেরিকানদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। দেশটির সরকার বিনিয়োগের শর্ত সহজ করার পর আবেদন বেড়েছে কয়েক গুণ। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস ভিসার জন্য ৮৩৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৭৭টি আবেদন এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে। নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই ২৭৭টি আবেদনে আবেদনকারী ও তাদের পরিবারের সদস্য মিলিয়ে মোট ৮৩৮ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে চীন থেকে ১৫৬টি এবং হংকং থেকে ১১০টি। এরপর রয়েছে জার্মানি ৫৬টি এবং তাইওয়ান ৪৫টি। ফক্স লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার ধনী বাসিন্দাদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের এই ভিসা নিয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচিটির নাম ‘অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস ভিসা’। বিনিয়োগের বিনিময়ে নিউজিল্যান্ডে বসবাস ও কাজের সুযোগ থাকায় এটি সাধারণভাবে ‘গোল্ডেন ভিসা’ নামে পরিচিত। নিউজিল্যান্ড সরকার ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল কর্মসূচিটির নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। বর্তমানে দুটি বিনিয়োগ ক্যাটাগরি রয়েছে, গ্রোথ এবং ব্যালান্সড। গ্রোথ ক্যাটাগরিতে কমপক্ষে ৫০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার তিন বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে হয়। ব্যালান্সড ক্যাটাগরিতে প্রয়োজন কমপক্ষে এক কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার এবং বিনিয়োগ ধরে রাখতে হয় পাঁচ বছর। গ্রোথ ক্যাটাগরির অর্থ নিউজিল্যান্ডের ব্যবসা, ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ও অনুমোদিত ম্যানেজড ফান্ডের মতো তুলনামূলক উচ্চ প্রবৃদ্ধির বিনিয়োগে দেওয়া যায়। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এই ক্যাটাগরির মোট বিনিয়োগের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অনুমোদিত জনকল্যাণমূলক খাতে অনুদান দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যালান্সড ক্যাটাগরিতে বন্ড, তালিকাভুক্ত শেয়ার ও নির্দিষ্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টসহ তুলনামূলক বিস্তৃত বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। নিয়ম সহজ করার আগে এই ভিসায় আগ্রহ ছিল অনেক কম। নিউজিল্যান্ড ইমিগ্রেশনের হিসাবে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পুরোনো নিয়মে মাত্র ১১৫টি আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত আবেদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৭টিতে। এর মধ্যে ৩৯৫টি আবেদন ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে এবং আরও ২৮৫টি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে শারীরিকভাবে অবস্থানের সময়সীমাও কমানো হয়েছে। গ্রোথ ক্যাটাগরির বিনিয়োগকারীদের তিন বছরে অন্তত ২১ দিন নিউজিল্যান্ডে থাকতে হয়। ব্যালান্সড ক্যাটাগরিতে সাধারণভাবে পাঁচ বছরে অন্তত ১০৫ দিন অবস্থান করতে হয়, যদিও নির্দিষ্ট শর্তে অতিরিক্ত গ্রোথ ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে এই সময় কমানোর সুযোগ রয়েছে। এই ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা নিউজিল্যান্ডে অনির্দিষ্টকাল বসবাস করতে পারেন এবং সেখানে কাজ ও পড়াশোনার সুযোগও পান। তবে এটি শুধু অর্থ জমা দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। বিনিয়োগের অর্থ বৈধ উৎস থেকে এসেছে কি না, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অনুমোদিত খাতে অর্থ রাখা হয়েছে কি না এবং অন্যান্য ইমিগ্রেশন শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, সেগুলো যাচাই করা হয়। সরকারি হিসাবে, নতুন নিয়ম চালুর পর ২০২৬ সালের ২৩ জুলাই পর্যন্ত অ্যাকটিভ ইনভেস্টর প্লাস কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১৪৮ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার ইতোমধ্যে বিনিয়োগ হয়েছে। এর প্রায় দুই তৃতীয়াংশ গ্রোথ ক্যাটাগরিতে এসেছে। নিউজিল্যান্ড সরকার বলছে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু ধনী বিদেশিদের বসবাসের সুযোগ দেওয়া নয়। বিদেশি পুঁজি দেশটির ব্যবসা, উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজে লাগানোই এর মূল উদ্দেশ্য। আবেদনকারীদের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা এখন স্পষ্টভাবে শীর্ষে থাকায় দেশটির বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচিতে আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা শাজিয়া হক। আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলমেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ শাজিয়া হক ব্যবসা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শাজিয়া যুক্তরাষ্ট্রে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন কমিউনিটি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন। তার প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, তিনি লালমাটিয়া কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলেস ভ্যালি কলেজ থেকে লিবারেল আর্টসে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি চ্যানেল আইল্যান্ডস থেকে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বেও শাজিয়া হকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের উইলশায়ার সেন্টার-কোরিয়াটাউন নেবারহুড কাউন্সিলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের নেবারহুড কাউন্সিলের নথিতে তাকে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সক্রিয় ছিলেন। শাজিয়া হকের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে স্থানীয় জননিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় ব্যবসার বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সঙ্গে সিটি সরকারের যোগাযোগ আরও সহজ করা এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা সরাসরি সিটি কাউন্সিলে তুলে ধরার ওপরও তিনি জোর দিচ্ছেন। ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন শাজিয়া। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় ছোট ব্যবসার বিকাশে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার জীবনীতে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও শাজিয়া হকের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সংগঠন ও বিভিন্ন আয়োজনে তার সম্পৃক্ততার কথা তার প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও সঞ্চালক ও আয়োজক হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছেন শাজিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশ এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা ও স্বার্থ নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। অভিবাসন ইস্যুতেও সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্য জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে স্পেকট্রাম নিউজ। ওই প্রতিবেদনে শাজিয়া হক তার বাবা-মা ও ভাইবোনদের বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং নতুন সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও শাজিয়া হকের দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস-হলিউডভিত্তিক ফোবানা আয়োজনের কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত রয়েছেন বলে কমিউনিটি পর্যায়ে জানানো হয়েছে। মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে শাজিয়া হকের প্রার্থিতা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ বাড়ার ধারাবাহিকতায় তার এই নির্বাচনী প্রচেষ্টা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মন্টেবেলো সিটির সরকারি নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সাধারণ পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ওই নির্বাচনে ডিস্ট্রিক্ট ১-এর কাউন্সিলমেম্বার পদও রয়েছে। নির্বাচিত কাউন্সিলমেম্বারের মেয়াদ হবে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। শাজিয়া হকের সামনে এখন মূল লক্ষ্য স্থানীয় ভোটারদের কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থন বাড়ানো। নির্বাচনে জয়ী হলে ব্যবসা ও কমিউনিটি নেতৃত্বের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করার সুযোগ পাবেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়ির ক্রমবর্ধমান দাম এবং করের চাপের কারণে অনেক পরিবার ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য ছেড়ে তুলনামূলক কম খরচের এলাকায় বসবাসের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক ও ইলিনয়ের মতো রাজ্য থেকে জর্জিয়া, টেনেসি, টেক্সাস, ফ্লোরিডা এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় স্থানান্তরের প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকের মতে, কম কর, সাশ্রয়ী আবাসন এবং তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এই প্রবণতার অন্যতম প্রধান কারণ। এই পরিবর্তনের একটি উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক টেলিভিশন প্রযোজক ৫২ বছর বয়সী জাস্টিন ডেভিস ও তার স্ত্রী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি মেক ইট এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এমন একটি জায়গায় বসবাসের কথা ভাবছিলেন, যেখানে একটি আয়ের ওপর নির্ভর করেও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করা সম্ভব হবে এবং আর্থিক চাপ তুলনামূলক কম থাকবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লোভিস শহর ছেড়ে টেনেসির নক্সভিলে চলে যান। দম্পতি ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের বাড়িটি ৫ লাখ ৯৭ হাজার ডলারে বিক্রি করেন। বিক্রয়লব্ধ অর্থের বড় একটি অংশ নতুন বাড়ির ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করায় তাদের মাসিক মর্টগেজ কিস্তি নেমে আসে মাত্র ৯৮২ ডলারে। নক্সভিলে তারা প্রায় ১ হাজার ৭৯২ বর্গফুট আয়তনের একটি বাড়ি কিনেছেন, যার সঙ্গে রয়েছে প্রায় অর্ধ একর জমি। ক্যালিফোর্নিয়ায় একই বাজেটে এমন বাড়ি কেনা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করেন তারা। তাদের আর্থিক সাশ্রয়ের আরেকটি বড় কারণ সম্পত্তি কর। ক্যালিফোর্নিয়ায় বছরে যেখানে প্রায় ১২ হাজার ডলার সম্পত্তি কর দিতে হতো, সেখানে টেনেসিতে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৪৩ ডলারে। এছাড়া টেনেসিতে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে ব্যক্তিগত আয়কর না থাকায় তাদের বার্ষিক ব্যয় আরও কমেছে। জাস্টিন ডেভিসের ভাষ্য, শুধু অর্থ সাশ্রয়ই নয়, নতুন পরিবেশে তারা আরও শান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারছেন। একটি আয়ের ওপর নির্ভর করেও সংসার চালানো সম্ভব হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বেড়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা করাও সহজ হয়েছে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, করোনা মহামারির পর দূর থেকে কাজ করার সুযোগ বাড়ায় অনেক কর্মজীবী মানুষ আর কর্মস্থলের কাছাকাছি ব্যয়বহুল শহরে বসবাসকে অপরিহার্য মনে করছেন না। ফলে তুলনামূলক কম খরচের রাজ্যে স্থানান্তরের প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে। এর পাশাপাশি আবাসনের মূল্য, সম্পত্তি কর, বীমা, জ্বালানি ব্যয় এবং দৈনন্দিন খরচের পার্থক্যও মানুষের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর মধ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চান বা অবসরের পর কম খরচে জীবনযাপন করতে চান, তারা এখন বাড়ির দাম, মর্টগেজ, সম্পত্তি কর এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে নতুন অঙ্গরাজ্যে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। আটলান্টা, জর্জিয়ার তরুণ রিয়েলটর ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আতাহার হোসেন বলেন, কেবল বাড়ির দাম বা কর কম হওয়াই কোনো অঙ্গরাজ্যে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত নয়। নতুন রাজ্যে যাওয়ার আগে চাকরির সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার মান, জলবায়ু, বীমার ব্যয়, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করা জরুরি। তার মতে, এসব দিক থেকে জর্জিয়া বর্তমানে বসবাস ও বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সম্ভাবনাময় অঙ্গরাজ্য। তাই নতুন করে বসবাসের পরিকল্পনা করা পরিবারগুলোকে জর্জিয়াকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয় এবং জীবনযাত্রার খরচের বৈষম্য অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতেও ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য থেকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী রাজ্যে মানুষের স্থানান্তরের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্য ও স্বাস্থ্যসেবার উচ্চ ব্যয় নিয়ে আবারও সরব হয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যে একজন ব্যক্তি ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে পারেন, অথচ লাখো আমেরিকান চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার খরচও বহন করতে পারেন না। ম্যাসাচুসেটসের এই সিনেটর বলেন, দেশের সম্পদ ক্রমশ অল্প কয়েকজন ধনীর হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ব্যয়, বাসস্থান, শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, বর্তমান ব্যবস্থায় সম্পদ ধনীদের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, আর মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ওয়ারেন আবারও তাঁর বহুল আলোচিত ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ বা সম্পদ করের প্রস্তাব সামনে আনেন। তিনি মনে করেন, অতিধনীদের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারবে, যা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে ওয়ারেনের অবস্থান নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, আয়ের পাশাপাশি বিপুল সম্পদের ওপরও কর আরোপ করা হলে অর্থনৈতিক ভারসাম্য কিছুটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদ রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, সম্পদ কর বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক উদ্যোগকে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং এর বাস্তবায়নও জটিল হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ধনী-গরিব বৈষম্য কমাতে এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করতে এমন পদক্ষেপ প্রয়োজন। ওয়ারেনের সাম্প্রতিক মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, আয় বৈষম্য এবং ধনীদের কর কাঠামো নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকেই অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর প্রস্তাবিত সমাধানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ওয়ারেনের অবস্থান স্পষ্ট—তাঁর মতে, এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে কেবল অল্প কয়েকজন নয়, বরং সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা সহজে পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবে।
স্বাস্থ্যবিমার বা হেলথ ইন্সুরেন্স এর ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখো মানুষ তাদের স্বাস্থ্যবিমা কভারেজ হারাচ্ছেন বা স্বেচ্ছায় বাতিল করছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবার, স্বনিযুক্ত কর্মী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মালিকদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় বাইডেন প্রশাসনের অধীনে চালু হওয়া ‘আমেরিকান রেসকিউ প্ল্যান’ কর্মসূচির মাধ্যমে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (ACA) স্বাস্থ্যবিমায় অতিরিক্ত কর-ছাড় ও ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল। এই সুবিধার ফলে কোটি কোটি আমেরিকান তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যবিমা গ্রহণ করতে সক্ষম হন এবং ACA-তে নিবন্ধনের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়। তবে ২০২৫ সালের শেষে সেই অতিরিক্ত ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে শুরু করেছে। অনেক পরিবারের মাসিক স্বাস্থ্যবিমা প্রিমিয়াম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, ফলে অনেকে কভারেজ ধরে রাখতে পারছেন না। স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে ACA-এর আওতায় ২ কোটির বেশি মানুষ থাকলেও ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কয়েক মিলিয়ন আমেরিকান স্বাস্থ্যবিমাহীন হয়ে পড়তে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন সেই সব মানুষ যারা খুব বেশি আয় করেন না, আবার মেডিকেইডের জন্যও যোগ্য নন। ফলে তারা একদিকে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার বাড়তি খরচও বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বাস্থ্যবিমা ছাড়ার ফলে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং চিকিৎসা ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, ভর্তুকি বন্ধের সিদ্ধান্ত লাখো কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। তবে বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে হাজার হাজার পরিবার স্বাস্থ্যবিমা নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেকেই বলছেন, বর্তমান প্রিমিয়ামের খরচ তাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমাহীন মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।