যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়ির ক্রমবর্ধমান দাম এবং করের চাপের কারণে অনেক পরিবার ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য ছেড়ে তুলনামূলক কম খরচের এলাকায় বসবাসের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক ও ইলিনয়ের মতো রাজ্য থেকে জর্জিয়া, টেনেসি, টেক্সাস, ফ্লোরিডা এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় স্থানান্তরের প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকের মতে, কম কর, সাশ্রয়ী আবাসন এবং তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এই প্রবণতার অন্যতম প্রধান কারণ।
এই পরিবর্তনের একটি উদাহরণ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক টেলিভিশন প্রযোজক ৫২ বছর বয়সী জাস্টিন ডেভিস ও তার স্ত্রী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি মেক ইট এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এমন একটি জায়গায় বসবাসের কথা ভাবছিলেন, যেখানে একটি আয়ের ওপর নির্ভর করেও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করা সম্ভব হবে এবং আর্থিক চাপ তুলনামূলক কম থাকবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লোভিস শহর ছেড়ে টেনেসির নক্সভিলে চলে যান।
দম্পতি ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের বাড়িটি ৫ লাখ ৯৭ হাজার ডলারে বিক্রি করেন। বিক্রয়লব্ধ অর্থের বড় একটি অংশ নতুন বাড়ির ডাউন পেমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করায় তাদের মাসিক মর্টগেজ কিস্তি নেমে আসে মাত্র ৯৮২ ডলারে। নক্সভিলে তারা প্রায় ১ হাজার ৭৯২ বর্গফুট আয়তনের একটি বাড়ি কিনেছেন, যার সঙ্গে রয়েছে প্রায় অর্ধ একর জমি। ক্যালিফোর্নিয়ায় একই বাজেটে এমন বাড়ি কেনা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করেন তারা।
তাদের আর্থিক সাশ্রয়ের আরেকটি বড় কারণ সম্পত্তি কর। ক্যালিফোর্নিয়ায় বছরে যেখানে প্রায় ১২ হাজার ডলার সম্পত্তি কর দিতে হতো, সেখানে টেনেসিতে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৪৩ ডলারে। এছাড়া টেনেসিতে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে ব্যক্তিগত আয়কর না থাকায় তাদের বার্ষিক ব্যয় আরও কমেছে।
জাস্টিন ডেভিসের ভাষ্য, শুধু অর্থ সাশ্রয়ই নয়, নতুন পরিবেশে তারা আরও শান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারছেন। একটি আয়ের ওপর নির্ভর করেও সংসার চালানো সম্ভব হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বেড়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা করাও সহজ হয়েছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, করোনা মহামারির পর দূর থেকে কাজ করার সুযোগ বাড়ায় অনেক কর্মজীবী মানুষ আর কর্মস্থলের কাছাকাছি ব্যয়বহুল শহরে বসবাসকে অপরিহার্য মনে করছেন না। ফলে তুলনামূলক কম খরচের রাজ্যে স্থানান্তরের প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে। এর পাশাপাশি আবাসনের মূল্য, সম্পত্তি কর, বীমা, জ্বালানি ব্যয় এবং দৈনন্দিন খরচের পার্থক্যও মানুষের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিবারগুলোর মধ্যেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে যারা প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চান বা অবসরের পর কম খরচে জীবনযাপন করতে চান, তারা এখন বাড়ির দাম, মর্টগেজ, সম্পত্তি কর এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে নতুন অঙ্গরাজ্যে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন।
আটলান্টা, জর্জিয়ার তরুণ রিয়েলটর ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আতাহার হোসেন বলেন, কেবল বাড়ির দাম বা কর কম হওয়াই কোনো অঙ্গরাজ্যে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত নয়। নতুন রাজ্যে যাওয়ার আগে চাকরির সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার মান, জলবায়ু, বীমার ব্যয়, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করা জরুরি। তার মতে, এসব দিক থেকে জর্জিয়া বর্তমানে বসবাস ও বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সম্ভাবনাময় অঙ্গরাজ্য। তাই নতুন করে বসবাসের পরিকল্পনা করা পরিবারগুলোকে জর্জিয়াকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয় এবং জীবনযাত্রার খরচের বৈষম্য অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতেও ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য থেকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী রাজ্যে মানুষের স্থানান্তরের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
প্রযুক্তি খাতে বছরে সাড়ে ৪ লাখ ডলার আয়ের চাকরি ছেড়ে হালাল বারবিকিউ রেস্টুরেন্ট চালু করেছিলেন সালাহউদ্দিন আবদুল-কাফি। ঝুঁকিপূর্ণ সেই সিদ্ধান্তই এখন সফল ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। টেক্সাসের তাঁর রেস্টুরেন্ট কাফি বারবিকিউ (Kafi BBQ) চালুর প্রথম বছরেই প্রায় ২৩ লাখ ডলার আয় করেছে। তবে এত আয়ের পরও তিনি এখন পর্যন্ত নিজের জন্য কোনো বেতন নেননি। বিজনেস ইনসাইডার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৫ বছর বয়সী সালাহউদ্দিন আবদুল-কাফি জানান, তিনি ১৪ বছর ধরে মাইক্রোসফট, গুগল, ইউটিউব, শপিফাই ও ক্রুজ-এর মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। কর্মজীবনের এক পর্যায়ে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তবে সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি খাতের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, মানুষের জীবন সহজ করার চেয়ে শুধু মুনাফাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল। এরপর ৩৩ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ছেড়ে টেক্সাসে একটি ধর্মীয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে আগের চাকরির তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি বেতন কমে যায়। অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পাশাপাশি বন্ধুদের জন্য বারবিকিউ রান্না করতেন কাফি। বিশেষ করে তাঁর তৈরি হালাল ব্রিসকেট বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অনেকেই তাঁকে জানান, প্রচলিত বারবিকিউ রেস্টুরেন্টে শূকরের মাংস ব্যবহারের কারণে হালাল খাবার খেতে অনেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তখনই তিনি শুধু হালাল বারবিকিউ নিয়ে ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে টেক্সাসের আরভিং শহরে যাত্রা শুরু করে কাফি বারবিকিউ। উদ্বোধনের আগে তিন দিনের জন্য যত খাবার প্রস্তুত করা হয়েছিল, সবই প্রথম দিন শেষ হয়ে যায়। সেদিন রাতেই আবার নতুন করে রান্না শুরু করতে হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই রেস্টুরেন্টটি সুনাম অর্জন করে। ডি ম্যাগাজিন ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ অঞ্চলের সেরা ১২টি বারবিকিউ রেস্টুরেন্টের তালিকায় কাফি বারবিকিউকে স্থান দেয়। আর ইটার এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি সেরা নতুন রেস্টুরেন্টের একটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কাফি জানান, প্রথম বছরে তাঁদের মোট আয় হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ডলার। চলতি বছর আয় ৪০ লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছেন তিনি। তবে ব্যবসার আয় বাড়লেও নিজের জন্য এখনো কোনো বেতন নেননি। ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকেই তিনি দৈনন্দিন খরচ চালাচ্ছেন। এর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তাঁর রেস্টুরেন্টের প্রতি মাসে শুধু খাবারের উপকরণ কিনতেই খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার। শ্রমিকদের বেতন বাবদ ব্যয় হয় আরও ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া ভাড়া, বিদ্যুৎ, বিপণন, মসলা ও অন্যান্য খাতে মাসিক মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ডলার। তিনি জানান, বর্তমানে রেস্টুরেন্টটি মাসিক ভিত্তিতে লাভ করছে। তবে ব্যবসা শুরু করতে যে প্রায় ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হয়েছে, সেই অর্থ এখনো পুরোপুরি উঠে আসেনি। তাই আপাতত নিজের জন্য কোনো বেতন নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। প্রযুক্তি খাতের চাকরির তুলনায় এখন সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ ঘণ্টা কাজ করলেও এই কাজ তাঁকে বেশি তৃপ্তি দেয় বলে জানান কাফি। তাঁর মতে, প্রতিদিন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে দেখা হওয়া, তাদের মতামত শোনা এবং নতুন নতুন খাবারের স্বাদ নিয়ে কাজ করাই তাঁর সবচেয়ে বড় আনন্দ। তিনি বলেন, প্রযুক্তি খাত ছেড়ে এলেও আগের অভিজ্ঞতা ব্যবসায় কাজে লাগছে। রেস্টুরেন্ট খোলার আগে কয়েক মাস বাড়ি থেকে বারবিকিউ বিক্রি করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের চাহিদা যাচাই করেন। পাশাপাশি মাংসের ওজন, উৎপাদন খরচ, বিক্রির পরিমাণসহ প্রতিটি তথ্য বিশ্লেষণ করে তারপরই বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। এখনো প্রতিটি রেসিপি গ্রাম হিসেবে মাপা উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়, যাতে প্রতিবার একই মানের খাবার পরিবেশন করা যায়। নতুন কোনো খাবার চালুর পর তিনি নিজেই ক্রেতাদের মতামত নেন এবং প্রয়োজন হলে রেসিপিতে পরিবর্তন আনেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, তাঁদের জনপ্রিয় পোমেগ্রানেট বিফ বেলি বার্ন্ট এন্ডস রেসিপিটি চূড়ান্ত করার আগে সাতবার পরিবর্তন করা হয়েছিল। কাফির ভাষায়, প্রযুক্তি খাত আর বারবিকিউ ব্যবসার মধ্যে পার্থক্য যতটা মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। দুই ক্ষেত্রেই নতুন ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সমস্যা সমাধান এবং পণ্যের মান উন্নয়নের কাজই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে বিনামূল্যের ২-কে (2-K) কর্মসূচিতে ভর্তির জন্য আবেদন করার শেষ দিন শুক্রবার। নির্ধারিত কয়েকটি স্কুল জেলায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৭ নিউইয়র্ক জানিয়েছে, এ দফায় মোট ২ হাজার বিনামূল্যের ২-কে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। এসব আসনের জন্য আবেদন করতে পারবেন স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ৬, ১০, ১৮, ২৩ ও ২৭-এর বাসিন্দারা। মেয়র জোহরান মামদানির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর অন্যতম ছিল সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে চালু করা হচ্ছে এই সম্প্রসারিত ২-কে কর্মসূচি। সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন আসনগুলোর বেশিরভাগই হবে পূর্ণদিবসের কর্মসূচি। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, বছরে ২৬০ দিন সেবা দেওয়া হবে। এতে কর্মজীবী অভিভাবকদের শিশু পরিচর্যার চাপ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ওয়াশিংটন হাইটস, ইনউড, ইস্ট ব্রুকলিনের ক্যানারসি, ব্রাউনসভিল এবং ওশান হিল এলাকায় এই আসনগুলো চালু করা হবে। আবেদন করা যাবে MySchools.nyc ওয়েবসাইটে, ফোনে ৭১৮-৯৩৫-২০০৯ নম্বরে যোগাযোগ করে অথবা নিউইয়র্ক সিটির ফ্যামিলি ওয়েলকাম সেন্টার-এ গিয়ে। কর্মসূচির প্রচারে সম্প্রতি একটি ২-কে জিঙ্গেল প্রতিযোগিতারও আয়োজন করে সিটি প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ব্রুকলিনের ইস্ট ফ্ল্যাটবুশের একটি প্রাক্-শৈশব শিক্ষা কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার বিজয়ী অ্যালেগ্রা লেভি ও তাঁর ব্যান্ডের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মেয়র মামদানি। সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি শরৎ মৌসুমে ২ হাজার বিনামূল্যের আসন দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। আগামী চার বছরে এটি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি প্রশিক্ষণ মাঠে ২৭ টন ওজনের একটি সাঁজোয়া যানের (ট্যাংক) নিচে চাপা পড়ে এক মার্কিন সেনার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ১০ জুন ভোরে সামরিক মহড়া চলাকালীন 'এম২ ব্র্যাডলি' নামের একটি ফাইটিং ভেহিকল বা সাঁজোয়া যানের নিচে চাপা পড়েন ২৯ বছর বয়সী আদ্রিয়ান বনসে। জানা গেছে, ওই মহড়া চলাকালীন সময়ে সাঁজোয়া যানটি থেকে চালকের দৃষ্টিসীমা বা ভিজিবিলিটি বেশ সীমিত ছিল, যার ফলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত আদ্রিয়ান বনসে মূলত জর্জিয়ার ফোর্ট স্টুয়ার্টে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাবাহিনীর থার্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের একজন কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে থার্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল জন লুবাস এক বিবৃতিতে বলেন, "এটি আমাদের পুরো ডিভিশনের জন্য একটি বিধ্বংসী ক্ষতি। আদ্রিয়ান ছিলেন একজন অসাধারণ সেনা, যিনি আমাদের মিশন এবং গর্বের সাথে দেশের সেবা করার প্রতি সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত ছিলেন। আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, প্রিয়জন ও সহকর্মীদের পাশে আছি।" নিউইয়র্কের বাসিন্দা স্পেশালিস্ট আদ্রিয়ান ২০২৩ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। জানা গেছে, মোহাভি মরুভূমির ন্যাশনাল ট্রেনিং সেন্টারে আদ্রিয়ান সাঁজোয়া যানগুলোর সাথে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। বিদেশে মোতায়েনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ঘোষণার আগে সেনা ইউনিটগুলো সাধারণত এক মাস ধরে এই প্রশিক্ষণ মাঠে বড় পরিসরে মহড়া পরিচালনা করে থাকে। থার্ড ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন তাদের ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, ফোর্ট স্টুয়ার্টে নতুন যোগ দিলেও আদ্রিয়ান ইতিমধ্যেই তার সহকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিলেন। উল্লেখ্য, গত বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ চলাকালীন দুর্ঘটনা বা বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৩১ জন সেনার মৃত্যু হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ছিল সামরিক যান উল্টে যাওয়ার মতো গ্রাউন্ড দুর্ঘটনা।