আমেরিকা

স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে কভারেজ ছাড়ছেন লাখো আমেরিকান, ঝুঁকিতে মধ্যবিত্ত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ৮:৪৯
স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে কভারেজ ছাড়ছেন লাখো আমেরিকান
স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে কভারেজ ছাড়ছেন লাখো আমেরিকান

স্বাস্থ্যবিমার বা হেলথ ইন্সুরেন্স এর ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখো মানুষ তাদের স্বাস্থ্যবিমা কভারেজ হারাচ্ছেন বা স্বেচ্ছায় বাতিল করছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবার, স্বনিযুক্ত কর্মী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মালিকদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

 

কোভিড-১৯ মহামারির সময় বাইডেন প্রশাসনের অধীনে চালু হওয়া ‘আমেরিকান রেসকিউ প্ল্যান’ কর্মসূচির মাধ্যমে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (ACA) স্বাস্থ্যবিমায় অতিরিক্ত কর-ছাড় ও ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল। এই সুবিধার ফলে কোটি কোটি আমেরিকান তুলনামূলক কম খরচে স্বাস্থ্যবিমা গ্রহণ করতে সক্ষম হন এবং ACA-তে নিবন্ধনের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়।

 

তবে ২০২৫ সালের শেষে সেই অতিরিক্ত ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে শুরু করেছে। অনেক পরিবারের মাসিক স্বাস্থ্যবিমা প্রিমিয়াম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, ফলে অনেকে কভারেজ ধরে রাখতে পারছেন না।

 

স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে ACA-এর আওতায় ২ কোটির বেশি মানুষ থাকলেও ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কয়েক মিলিয়ন আমেরিকান স্বাস্থ্যবিমাহীন হয়ে পড়তে পারেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন সেই সব মানুষ যারা খুব বেশি আয় করেন না, আবার মেডিকেইডের জন্যও যোগ্য নন। ফলে তারা একদিকে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার বাড়তি খরচও বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

 

স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মরত বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বাস্থ্যবিমা ছাড়ার ফলে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পিছিয়ে দিতে বাধ্য হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং চিকিৎসা ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

 

এদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, ভর্তুকি বন্ধের সিদ্ধান্ত লাখো কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।

 

তবে বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইতোমধ্যে হাজার হাজার পরিবার স্বাস্থ্যবিমা নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেকেই বলছেন, বর্তমান প্রিমিয়ামের খরচ তাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

 

স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমাহীন মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের স্মারক পাসপোর্ট
আমেরিকা ২৫০ উপলক্ষে স্মারক ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ চালু করল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, আবেদন করবেন যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের স্মারক পাসপোর্ট চালু করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন এই পাসপোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, তার স্বর্ণালি স্বাক্ষর এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের নকশা যুক্ত করা হয়েছে। এটি সাধারণ পাসপোর্টের মতোই বৈধ হলেও বিশেষ স্মারক সংস্করণ হিসেবে সীমিত সংখ্যায় ইস্যু করা হচ্ছে।    'আমেরিকা ২৫০' উদযাপনের অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই স্মারক পাসপোর্টে বাইরে থেকে প্রচলিত মার্কিন পাসপোর্টের নকশা বজায় রাখা হলেও ভেতরের পাতায় যুক্ত করা হয়েছে বিশেষ শিল্পকর্ম। প্রথম ভেতরের পাতায় রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অংশ এবং তার স্বর্ণালি স্বাক্ষর। অন্য একটি পাতায় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক চিত্র। পেছনের কভারে রয়েছে 'Freedom 250' লোগো।    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই স্মারক পাসপোর্টের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, ব্যবহারযোগ্যতা ও মেয়াদ সাধারণ পাসপোর্টের মতোই। তবে এটি অনলাইনে, ডাকযোগে, সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণকেন্দ্রে কিংবা বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন করলে পাওয়া যাবে না। নির্ধারিত বিশেষ কর্মসূচি অথবা ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতে সরাসরি আবেদনকারীরাই এটি সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।    প্রথম দিকে সীমিত সংখ্যক পাসপোর্ট ইস্যুর পরিকল্পনা থাকলেও ব্যাপক আগ্রহের কারণে পররাষ্ট্র দপ্তর পরে জানায়, দেশজুড়ে বিশেষ আবেদন কর্মসূচির মাধ্যমে অতিরিক্ত আড়াই লাখ 'প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট' ইস্যু করা হবে। আগস্ট থেকে বিভিন্ন শহরে নির্ধারিত তারিখে বিশেষ আবেদন কার্যক্রমও শুরু হচ্ছে।    এই স্মারক পাসপোর্ট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো জীবিত প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি পাসপোর্টের নকশায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি দেশের ২৫০তম স্বাধীনতা উদযাপনের একটি স্মারক উদ্যোগ। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকারি নথিতে একজন বর্তমান প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি ব্যবহার নজিরবিহীন এবং এটি অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ৩:৪৬
ভিটামিন ইনজেকশন না নেওয়ায় রক্তক্ষরণে মারা যাচ্ছে নবজাতক

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের পর এই ভিটামিন ইনজেকশন না নেওয়ায় রক্তক্ষরণে মারা যাচ্ছে নবজাতক! বাড়ছে উদ্বেগ

কম দামের বাড়ি পড়ে আছে ক্রেতার অপেক্ষায়

যুক্তরাষ্ট্রে দামী বাড়ির বিক্রি বাড়ছে, কম দামের বাড়ি পড়ে আছে ক্রেতার অপেক্ষায়

শিশুর বাবা। ছবি: সংগৃহীত

মৃত’ ঘোষণার পর জীবিত উদ্ধার শিশু! অবহেলার অভিযোগে মামলা থেকে মুক্তি পেলেন বাবা-মা

ভুয়া ফোনকল
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নম্বর ব্যবহার করে ব্যাংক প্রতারণা! টিবিআইর সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ফোনকলের মাধ্যমে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার নতুন ধরনের প্রতারণা বেড়ে যাওয়ায় সতর্কবার্তা জারি করেছে টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (টিবিআই)। সংস্থাটি বলছে, প্রতারকরা এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমনভাবে ফোন নম্বর পরিবর্তন করছে, যাতে কলটি গ্রাহকের ব্যাংক বা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোনো বৈধ নম্বর থেকে এসেছে বলে মনে হয়।   টিবিআইর তথ্যমতে, প্রতারকরা প্রথমে নিজেদের ব্যাংকের জালিয়াতি প্রতিরোধ বিভাগের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে। তারা দাবি করে, গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে অথবা পরিচয় ব্যবহার করে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আতঙ্ক তৈরি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে তারা এককালীন নিরাপত্তা কোড (ওটিপি), অনলাইন ব্যাংকিং তথ্য, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য কিংবা অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে চাপ দেয়।    তদন্ত সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতারকরা ‘স্পুফিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে কলার আইডিতে ব্যাংকের প্রকৃত ফোন নম্বর বা যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নম্বর দেখাতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে অনেক গ্রাহক ফোনটিকে আসল বলে বিশ্বাস করছেন এবং প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।    কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, কোনো ব্যাংক কখনো ফোন করে গ্রাহকের পাসওয়ার্ড, পিন, ওটিপি বা পূর্ণাঙ্গ কার্ড নম্বর চাইবে না। এ ধরনের ফোন পেলে সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দিয়ে ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা ব্যাংক কার্ডের পেছনে থাকা গ্রাহকসেবা নম্বরে নিজে ফোন করে বিষয়টি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।    মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষও একই ধরনের প্রতারণা নিয়ে বারবার সতর্ক করেছে। এফবিআই জানিয়েছে, প্রতারকরা ব্যাংকের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে মানুষের আর্থিক তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অচেনা নম্বর থেকে আসা জরুরি বা ভয়ভীতি সৃষ্টি করা ফোনকলের ক্ষেত্রে কখনো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য শেয়ার না করে সব সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১:২৫
লিজিওনেয়ার্স রোগ

নিউইয়র্কে লিজিওনেয়ার্স রোগে এই নিয়ে প্রাণহানীর সংখ্যা বেড়ে ৭!

ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

বাংলাদেশে ভ্রমণের ঝুঁকি আগের তুলনায় কম বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইয়েলোস্টোন নদীতে ডুবন্ত ব্যক্তিকে ল্যারিয়েটের সাহায্যে উদ্ধার করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ১৪ বছরের জোরি থমাস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দড়ির ফাঁস ছুড়ে নদীতে ডুবতে থাকা মানুষকে বাঁচাল ১৪ বছরের কিশোর

দেখতে রহস্যময় হলেও সমুদ্রের পানি পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সি পর্ক। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডার সৈকতে ভেসে এল তিমির মস্তিষ্কের মতো বস্তু: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় মিলল আসল পরিচয়

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্পেস কোস্ট উপকূলে একটি অদ্ভুত আকৃতির বিশাল সামুদ্রিক বস্তু ভেসে আসার পর তা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দেখায় অনেকে এটিকে তিমির মস্তিষ্ক, আবার কেউ বিশাল কোনো সামুদ্রিক প্রাণীর দেহাংশ বলে মনে করলেও পরে সামুদ্রিক বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, এটি আসলে ‘সি পর্ক’ নামে পরিচিত টিউনিকেট প্রাণীদের একটি বিশাল উপনিবেশ।   ঘटनাটি ঘটেছে ফ্লোরিডার ব্রেভার্ড কাউন্টির চেরি ডাউন পার্ক সৈকতে। নিয়মিত সৈকতে হাঁটতে যাওয়া ডেভ ক্লার্ক সূর্যোদয়ের ভিডিও ধারণ করার সময় অদ্ভুত এই বস্তুটি দেখতে পান। পরে তিনি এর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করলে সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কেউ এটিকে আপেল ফ্রিটার, কেউ আবার তিমির মস্তিষ্কের সঙ্গে তুলনা করেন।   পরে ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকূলীয় জৈব-ভূরসায়নের সহযোগী অধ্যাপক ড. টড অসবর্ন ছবিগুলো দেখে জানান, এটি কোনো একক প্রাণী নয়। বরং অসংখ্য ক্ষুদ্র টিউনিকেটের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশাল উপনিবেশ, যা সাধারণভাবে ‘সি পর্ক’ নামে পরিচিত।   বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিউনিকেট হলো ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণী, যারা সমুদ্রের পানি ছেঁকে খাদ্য সংগ্রহ করে। এরা ঝিনুক বা অয়েস্টারের মতো পানির ভেতরের ক্ষুদ্র কণা ছেঁকে খায়। এ প্রক্রিয়ায় সমুদ্রের পানি পরিষ্কার রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি সি পর্ক উপনিবেশে কয়েক লাখ থেকে কয়েক মিলিয়ন পর্যন্ত পৃথক টিউনিকেট একসঙ্গে বাস করতে পারে এবং বাইরে থেকে দেখতে এটি একটি একক জীবের মতো মনে হয়।   ডেভ ক্লার্কের ধারণা, তিনি যে সি পর্কটি দেখেছেন সেটির আকার প্রায় দুটি আমেরিকান ফুটবলের সমান ছিল। তিনি বলেন, সৈকতে হাঁটতে গিয়ে প্রায়ই নানা ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী দেখা যায়, তবে এমন অদ্ভুত কিছু আগে কখনো দেখেননি। তার ভাষায়, “দেখে মনে হচ্ছিল এটি যেন একটি মস্তিষ্ক। ভেতরে কিছু নড়াচড়া করছে বলেও মনে হচ্ছিল।”   বিশেষজ্ঞরা জানান, সি পর্ক সাধারণত সমুদ্রে ভাসমান কাঠ, দড়ি বা অন্য কোনো বস্তুর সঙ্গে লেগে থেকে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। প্রজননের মাধ্যমে উপনিবেশটি ক্রমে আকারে বিশাল হয়ে উঠতে পারে। তবে কোনো কারণে এটি উপকূলে ভেসে এলে এবং কয়েক মিনিটের বেশি সময় পানির বাইরে থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপনিবেশটি বেঁচে থাকতে পারে না।   সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীদের মতে, দেখতে অস্বাভাবিক বা কিছুটা ভীতিকর মনে হলেও সি পর্ক মানুষের জন্য সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং সমুদ্রের পরিবেশ সুস্থ রাখতে এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পানি পরিশোধনের পাশাপাশি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায়ও টিউনিকেটদের অবদান উল্লেখযোগ্য। তাই সৈকতে এ ধরনের প্রাণী দেখা গেলে অযথা স্পর্শ না করে নিরাপদ দূরত্ব থেকে পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ২৩:৩২
নতুন জরিপে ট্রাম্পের নীতি ও অগ্রাধিকার নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ উত্তরদাতা। ছবি: সংগৃহীত

নিজের দলেই ধস: জনপ্রিয়তায় ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

একই আইন প্রতিষ্ঠানের দুই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কেরভাইরাল দুই আইনজীবীর বসেরও গোপন প্রেম, মিলল ১০ কোটি ডলারের বিশাল চুক্তি

ঝোপের ছদ্মবেশে সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে চালকদের পর্যবেক্ষণ করছেন ডানেলেন পুলিশ বিভাগের এক কর্মকর্তা। ছবি: সংগৃহীত

ঝোপের ছদ্মবেশে পুলিশ কর্মকর্তা, নিউ জার্সিতে ৬ ঘণ্টায় ৭৪ অসচেতন চালককে জরিমানা

0 Comments