- প্রচ্ছদ
- Topic
আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে একটি আবাসিক এলাকার বাড়ির মালিকদের মাসিক হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা এইচওএ ফি বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ ডলার করা হয়েছে। মাত্র পাঁচ বছর আগে একই এলাকায় এই ফি ছিল মাসে ১৫৮ ডলার। অস্বাভাবিক হারে ফি বৃদ্ধির কারণে অনেক বাসিন্দা নিজেদের বাড়ি হারানোর আশঙ্কা করছেন। কেউ কেউ দেউলিয়া হয়ে যাওয়া কিংবা বাধ্য হয়ে বাড়ি বিক্রির পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারেন বলে জানিয়েছেন। গত ৩১ অক্টোবর নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নর্থ ক্যারোলিনার ক্যাটাওবা কাউন্টির শেরিলস ফোর্ড এলাকায় অবস্থিত ম্যাগনোলিয়া কোভ আবাসিক কমিউনিটিতে। এখানে প্রায় ৮০টি বাড়ি রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসওসি-টিভির তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার কমিউনিটির এইচওএ বোর্ড মাসিক ফি ১ হাজার ২৫০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৫০০ ডলার করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথমে মাসিক ফি ৭ হাজার ৫০০ ডলার করার প্রস্তাব উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে বাড়ির মালিকদের বছরে শুধু এইচওএ ফি বাবদ ৩০ হাজার ডলার দিতে হবে। এই বিপুল অর্থের বাইরে রয়েছে বাড়ির মর্টগেজ, প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য নিয়মিত খরচ। ফলে যারা অবসরকালীন আয় কিংবা নির্দিষ্ট মাসিক বেতনের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাড়ি কেনার সময় তাঁরা কখনো ভাবেননি, এইচওএ ফি এত বেশি হবে। এখন বাড়ির মালিক হয়েও সেখানে বসবাস চালিয়ে যাওয়া তাঁদের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ম্যাগনোলিয়া কোভের বাসিন্দা জিল মেনসন ও তাঁর স্বামী এই আবাসিক এলাকায় বাড়ি কিনেছিলেন জীবনের বাকি সময় সেখানে কাটানোর পরিকল্পনা নিয়ে। পাঁচ বছর আগে তাঁদের মাসিক এইচওএ ফি ছিল মাত্র ১৫৮ ডলার। এরপর কয়েক দফায় ফি বাড়তে থাকে। চলতি বছরের গ্রীষ্মে তা ১ হাজার ২০০ ডলারের বেশি হয়ে যায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ হাজার ডলারের বিশেষ ফিও আরোপ করা হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে মাসিক ফি ২ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে। জিল মেনসন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, এত বেশি ফি দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব হবে না। বাড়ি বিক্রি করার কথাও ভাবছেন, কিন্তু উচ্চ এইচওএ ফির কারণে নতুন ক্রেতা পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে বাড়িতে থাকা কঠিন, আবার বাড়ি বিক্রি করেও পর্যাপ্ত অর্থ পাওয়া যাবে কি না, তা অনিশ্চিত। আরেক বাসিন্দা ডায়ানা ব্রোকাও এইচওএ ফি বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়ির মালিকদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। অন্য একজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, কয়েক মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, ফি পরিশোধ করতে না পারলে বাড়ির ওপর আইনি দাবি বা লিয়েন আরোপ করা হতে পারে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে ফোরক্লোজারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তবে এইচওএ কর্তৃপক্ষ ফি বৃদ্ধির পেছনে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে বাসিন্দাদের একটি অংশ নিয়মিত ফি পরিশোধ করেননি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে ২০ জনের বেশি বাড়ির মালিক এইচওএ এবং কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ওই মামলাগুলো পরিচালনা করতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে আইনি ব্যয়ই সংস্থাটির বাজেটের সবচেয়ে বড় খাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইচওএর দাবি, বাড়ির মালিকদের করা মামলাগুলোর কয়েকটি তাঁরা নিজেরাই প্রত্যাহার করেছেন এবং অন্যগুলো আদালত খারিজ করেছেন। পরে মানহানিসংক্রান্ত পাল্টা মামলায় কয়েকজন বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে জুরি বোর্ড ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত দিয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য, এসব মামলা পরিচালনার ব্যয় এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া ফি মিলিয়ে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে যারা নিয়মিত ফি দিচ্ছেন, তাঁদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ পড়ছে। ম্যাগনোলিয়া কোভ এইচওএ আরও জানিয়েছে, এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য ব্যবহার করা হয় না। সংস্থার পরিচালনা, আইনি ব্যয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। বকেয়া অর্থ আদায় এবং আইনি ব্যয় কমে এলে ভবিষ্যতে মাসিক ফি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে বোর্ড। তবে বাসিন্দাদের একটি অংশ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাঁদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকার ডেভেলপার অ্যারন গেস এখনো অধিকাংশ বাড়ির মালিকানা ধরে রেখেছেন এবং এইচওএ বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন। তাঁদের দাবি, বাড়ি কেনার সময় সুইমিং পুল, লন পরিচর্যা এবং মেইলবক্সসহ কয়েকটি সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু সেসব সুবিধার সবকিছু বাস্তবায়িত হয়নি। এই নিয়ে আগেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন বাসিন্দারা। অন্যদিকে এইচওএ বোর্ডের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের মতে, মামলার কারণে যে আর্থিক ব্যয় তৈরি হয়েছে, তা শেষ পর্যন্ত কমিউনিটিকেই বহন করতে হচ্ছে। বাসিন্দা পেইজ জনসন বলেন, যাঁরা মামলা করেছিলেন, তাঁরা সেই আইনি লড়াইয়ে সফল হননি। এখন মামলার ব্যয় নিয়ে অন্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। ফলে একই আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। এদিকে নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যের আইনে এইচওএ ফি বছরে সর্বোচ্চ কতটা বাড়ানো যাবে, তার কোনো সাধারণ নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে প্রতিটি এইচওএকে নিজেদের পরিচালনাসংক্রান্ত নথি ও প্রযোজ্য আইন মেনে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অর্থাৎ ফি বৃদ্ধির ওপর সাধারণ সীমা না থাকলেও সংস্থার সব সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনসম্মত হয়ে যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এইচওএ বা হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত হয়। এসব সংস্থা কমিউনিটির যৌথ সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা, রাস্তা, সুইমিং পুল, লন পরিচর্যা এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনার জন্য বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত ফি সংগ্রহ করে। তবে কোন এলাকায় কী সুবিধা দেওয়া হবে এবং কত অর্থ দিতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির নিয়মের ওপর নির্ভর করে। কিছু এলাকায় মাসিক ফি তুলনামূলক কম হলেও অন্য এলাকায় তা কয়েক শ কিংবা কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ বাড়ি কিনতে আগ্রহী অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন বাড়ি কেনার আগে শুধু মর্টগেজের মাসিক কিস্তি দেখলেই হবে না। বাড়িটি কোনো এইচওএর আওতায় রয়েছে কি না, বর্তমান মাসিক ফি কত, ভবিষ্যতে ফি বাড়ানোর নিয়ম কী এবং বিশেষ অ্যাসেসমেন্ট আরোপের সুযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কমিউনিটির আর্থিক অবস্থা, বকেয়া ফি এবং চলমান মামলা সম্পর্কে তথ্য নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাগনোলিয়া কোভের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বাসিন্দাদের আশঙ্কা ও আর্থিক সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে সর্বশেষ ফি বৃদ্ধির কারণে নির্দিষ্ট কোনো বাড়ির মালিককে ইতিমধ্যে ফোরক্লোজারের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাড়ি হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত ঘটনা নয়, বরং বাসিন্দাদের আশঙ্কা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সব মিলিয়ে নর্থ ক্যারোলাইনার এই আবাসিক এলাকায় মাসিক এইচওএ ফি ২ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত হওয়ায় বাড়ির মালিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের একটি অংশ বলছেন, এই ব্যয় বহন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে এইচওএ কর্তৃপক্ষের দাবি, আদালতের মামলা ও বকেয়া ফি আদায় করতে না পারার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ভবিষ্যতে ফি কমবে কি না এবং বাড়ির মালিকেরা কী ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক প্রতিকার পাবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, ৩১ অক্টোবর ২০২৬; ডব্লিউএসওসি-টিভি, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর ২০২৬।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার্স সোসাইটির ১৮তম বার্ষিক বৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে ‘সিভিলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ট্রাফিক সুপারভাইজার আনোয়ার হোসেন। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কুইন্সের টেরেস অন দ্য পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন ও কমিউনিটিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে অনুষ্ঠানসংক্রান্ত তথ্যে জানানো হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের মুসলিম কর্মকর্তাদের সংগঠন মুসলিম অফিসার্স সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশসহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ট্রাফিক বিভাগের সদস্য, তাঁদের পরিবার এবং বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রায় ৭০০ অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আয়োজনে পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও জনসেবায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি-আমেরিকান আনোয়ার হোসেনের সম্মাননা প্রাপ্তির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। তিনি এনওয়াইপিডির ট্রাফিক বিভাগে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। তাঁর দায়িত্ব পালন ও কমিউনিটিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘সিভিলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুসলিম অফিসার্স সোসাইটির সভাপতি ডেপুটি ইন্সপেক্টর ওয়াহিদ আখতার সংগঠনের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত মুসলিম কর্মকর্তাদের পেশাগত অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পুলিশ বিভাগের সম্পর্ক শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান। পুলিশ বিভাগের সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদান রাখা কর্মকর্তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে পেশাগত উন্নয়ন, নেতৃত্বের সুযোগ এবং সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত, অতিথিদের বক্তব্য ও পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। নৈশভোজ ও আরবি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এতে বিভিন্ন দেশের মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ পান। নিউইয়র্কে কর্মরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য এ ধরনের সম্মাননা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে তাঁদের পেশাগত অবদান কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে। আনোয়ার হোসেনের সম্মাননা প্রাপ্তির খবরও সেই অর্জনের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।
নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়াতে ব্রঙ্কসের একটি আবাসন ভবনে মাসে ৬৭৫ ডলারে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্সের এসব অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২০ নভেম্বর। নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকা এক বা দুই সদস্যের পরিবার এ আবাসন কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবে। অ্যাপার্টমেন্টগুলো ব্রঙ্কসের ট্রেমন্ট এলাকায় ৪১১ ইস্ট ১৭৮তম স্ট্রিটে অবস্থিত ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্স ভবনে। ভবনটির পরিচালনায় রয়েছে অলাভজনক আবাসন সংস্থা ব্রেকিং গ্রাউন্ড। মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭৫ ডলার। আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ২৬ হাজার ৯২ ডলার থেকে ৭১ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে। তবে শুধু আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নিশ্চিত নয়, নির্ধারিত যোগ্যতা ও বাছাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাসিন্দা নির্বাচন করা হবে। ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে ব্যায়ামাগার, নিজস্ব লন্ড্রি সুবিধা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাব্যবস্থা। ব্রেকিং গ্রাউন্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্সে মোট ১৭০টি ছোট আকারের স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি গৃহহীনতার অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তি ও বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত। বাকি ৮০টি ইউনিট ব্রঙ্কসের স্বল্প আয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য রাখা হয়েছে। ভবনটি ২০১৮ সালে চালু হয়। আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া আবেদনপত্র পেতে (৬৪৬) ৮৭০-৮৩৪০ নম্বরে ফোন করা অথবা intake@breakingground.org ঠিকানায় ইমেইল করা যাবে। আবেদন করার আগে আয়সীমা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। অনলাইন আবেদন নিউইয়র্ক স্টেটের আবাসন আবেদন পোর্টাল আবেদন করুন সূত্র: পিক্স১১, ব্রেকিং গ্রাউন্ড।
ফুটবল জানেন? তাহলে প্রমাণ করুন। উত্তর দিন, ম্যাচ প্রেডিকশন করুন, আর জিতে নিন আকর্ষণীয় পুরস্কার! ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা, প্রিয় দলের জয়-পরাজয়ের গল্প আর বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মতো বাংলাদেশি দর্শকরাও এখন মেতে উঠেছেন বিশ্বকাপের রঙে। সেই বিশ্বকাপ উন্মাদনাকে আরও আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে বিশেষ আয়োজন নিয়ে এসেছে আমেরিকা বাংলা। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমেরিকা বাংলা আয়োজন করছে "World Cup Quiz Game & Match Prediction"। এই আয়োজনে প্রতিদিন ফুটবলভিত্তিক কুইজ প্রশ্নের উত্তর এবং ম্যাচ প্রেডিকশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জিতে নিতে পারবেন নগদ অর্থ ও মোবাইল রিচার্জ। বিশ্বকাপ চলাকালে প্রতিদিন আমেরিকা বাংলার ফেসবুক পেজে ১ থেকে ৫টি প্রশ্ন প্রকাশ করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা পোস্টের কমেন্টে উত্তর জমা দিতে পারবেন। নির্ধারিত সময় শেষে সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। প্রতিটি কুইজ ও প্রেডিকশন পর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। একজন বিজয়ী সর্বোচ্চ ২০০ টাকা মোবাইল রিচার্জ অথবা ৫০০ টাকা নগদ অর্থ জয়ের সুযোগ পাবেন। বিজয়ীদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরস্কার পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশ্বকাপজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং পাঠকদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আমেরিকা বাংলা। অংশগ্রহণের নিয়মাবলি এই পোস্টে লাইক দিতে হবে পোস্টটি শেয়ার করতে হবে কমেন্টে সঠিক উত্তর বা প্রেডিকশন লিখতে হবে অবশ্যই America Bangla ফেসবুক পেজ ফলো করা থাকতে হবে একজন অংশগ্রহণকারী একটি প্রশ্ন বা প্রেডিকশনের জন্য একবারই উত্তর দিতে পারবেন সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে বিজয়ীদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে পুরস্কার ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রদান করা হবে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ভুল বা একাধিক উত্তর প্রদান করলে অংশগ্রহণ বাতিল হতে পারে। ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে অংশগ্রহণ গ্রহণযোগ্য হবে না। পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে আয়োজকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে আয়োজক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মাবলিতে পরিবর্তন আনার অধিকার সংরক্ষণ করে। বিশ্বকাপের প্রতিটি দিনকে আরও রোমাঞ্চকর করতে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে থাকুন। প্রশ্নের উত্তর দিন, ম্যাচ প্রেডিকশন করুন এবং জিতে নিন আকর্ষণীয় পুরস্কার!
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।