আলোচনা

Secretary of State Marco Rubio
ইরান আলোচনায় আন্তরিক নয়, সংকটের কূটনৈতিক সমাধানে এখনো প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানে এখনো প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরান এখনো আলোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিয়ে রুবিও বলেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার পথেই সমাধান চায়। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এখনো সেই আন্তরিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   রুবিওর এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটেও পড়তে শুরু করেছে। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতেও ইরানের হুমকির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   অন্যদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছেছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগের অন্তর্বর্তী সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এখনো কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সমঝোতার ঘোষণা দেয়নি।   মার্কিন প্রশাসন একদিকে আলোচনার কথা বললেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।   রুবিও স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক পথ বন্ধ করেনি। তবে তাঁর ভাষায়, আলোচনায় অগ্রগতি আনতে হলে ইরানকেও বাস্তবসম্মত অবস্থান নিতে হবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
পাকিস্তানে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে? ট্রাম্পের মন্তব্যে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি রহস্যময় মন্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে "বড় কিছু ঘটতে পারে"। ইসলামাবাদে অবস্থানরত নিউইয়র্ক পোস্টের একজন সংবাদদাতাকে ট্রাম্প বলেন, "আপনার সেখানে (পাকিস্তানে) থাকা উচিত, কারণ আগামী দুই দিনের মধ্যে সেখানে বিশেষ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমরা সেখানেই যেতে বেশি আগ্রহী।" জেনেভাকে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রতিই তার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প তাকে "ফ্যান্টাস্টিক" হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "ফিল্ড মার্শাল দুর্দান্ত কাজ করছেন। পাকিস্তানই হতে পারে উপযুক্ত স্থান।" অন্যান্য নিরপেক্ষ দেশের তুলনায় ট্রাম্প পাকিস্তানকে কেন বেছে নিচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, "যেসব দেশের এই বিষয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, আমরা সেখানে কেন যাব?" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও জেনারেল আসিম মুনিরের ওপর ট্রাম্পের এই ভরসা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যে কারণে সমাধান ছাড়াই শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক

কয়েক দশকের বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মুখোমুখি বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সরাসরি আলোচনা কোনো চুক্তি বা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই গোপন অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের সরাসরি (face-to-face) আলোচনা। মূলত চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোই ছিল এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। আল-জাজিরার প্রতিনিধি ওসামা বিন জাভেদ জানান, পাকিস্তান উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসাতে সক্ষম হলেও, যুদ্ধের সমাপ্তি টানার শর্তাবলি নিয়ে দেশ দুটি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো পক্ষই তাদের অবস্থানে ছাড় দিতে রাজি হয়নি, যার ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই সমাপ্তি ঘটে এই সম্মেলনের। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষকে একত্রিত করতে পারলেও তাদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা বা সক্ষমতা ছিল না। মূলত যুদ্ধের শর্তাবলী এবং আঞ্চলিক স্বার্থ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর অনাস্থাই এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙতে এই উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, মাঠপর্যায়ে এর কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন বা তেহরান—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এই বৈঠকের বিস্তারিত ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শান্তি ফেরানোর এই বিরল সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং তেহরান প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতায় ভেস্তে গেল আলোচনা: ইরানি স্পিকারের হুঁশিয়ারি

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং তেহরান প্রতিনিধিদলের প্রধান মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সরাসরি ঘোষণা করেছেন যে, সাম্প্রতিক আলোচনায় ইরানের আস্থা অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।  তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে এবং তাদেরই প্রমাণ করতে হবে তারা আদৌ ইরানের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে চায় কি না। সাবেক টুইটার (বর্তমানে এক্স) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে গালিবাফ জানান, আলোচনা শুরুর আগে ইরান যথেষ্ট সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা প্রদর্শন করেছিল। তবে অতীতের দুটি যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকায় প্রতিপক্ষের ওপর তাদের কোনো আস্থা ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরানি প্রতিনিধিদল বেশ কিছু দূরদর্শী ও কার্যকর প্রস্তাবনা উত্থাপন করলেও মার্কিন পক্ষ সেগুলোর মর্যাদা দিতে পারেনি। গালিবাফ আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা এক মুহূর্তের জন্যও থেমে থাকব না। গত ৪০ দিনের যুদ্ধে আমাদের যা কিছু অর্জন, তা ধরে রাখতে এবং আরও শক্তিশালী করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।” এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি ইরানের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ধন্যবাদ জানান।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক: হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চরম মতভেদ

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার উদ্দেশ্যে পর্দার আড়ালে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে দুই দেশ এখনও বড় ধরণের দ্বিমত পোষণ করছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ‘সাধারণ সমঝোতা কাঠামো’ (common framework) তৈরির লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে পরোক্ষভাবে বার্তার আদান-প্রদান করছে।  পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নিযুক্ত তাসনিমের বিশেষ প্রতিনিধির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আলোচনার টেবিলে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেলেও ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক’ দাবির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্বিপাক্ষিক এই আলোচনার অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালী ইস্যু। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ এবং সেখানে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে, যা বর্তমানে এক ‘গুরুতর মতভেদে’ রূপ নিয়েছে। বর্তমানে উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে গেলেও চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো এখনও অনিশ্চিত।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: যুদ্ধ বন্ধে প্রধান বাধাগুলো কী?

দীর্ঘদিনের বৈরিতা পেছনে ফেলে অবশেষে আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকদের এই বৈঠক ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।  আল জাজিরার কূটনৈতিক সম্পাদক জেমস বেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও শান্তি চুক্তির পথে এখনো রয়ে গেছে পাহাড়সম বাধা। আলোচনার মূল ‘স্টিকিং পয়েন্ট’ বা অমীমাংসিত বিষয়গুলো: নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের লড়াই: ইরান চাইছে তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি: তেহরানের স্পষ্ট কথা—অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি না উঠলে কোনো স্থায়ী চুক্তি নয়। তবে ওয়াশিংটন এই ইস্যুতে এখনো ‘ধীরে চলো’ নীতিতে অটল। আঞ্চলিক প্রভাবের দ্বন্দ্ব: ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে দেশ দুটির বিপরীতমুখী স্বার্থ আলোচনার গতিকে ধীর করে দিচ্ছে। কোনো পক্ষই নিজেদের প্রভাব বলয় ছাড়তে রাজি নয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দশকের পর দশক ধরে চলা পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করা রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে ইসলামাবাদের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক যদি সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে কোনো বড় ধরনের ‘ব্রেক-থ্রু’ বা চূড়ান্ত সংবাদের অপেক্ষায়।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার খবর নাকচ করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের জব্দকৃত বা ‘ফ্রিজ’ হয়ে থাকা বিশাল অংকের অর্থ যুক্তরাষ্ট্র অবমুক্ত করতে রাজি হয়েছে—এমন গুঞ্জন জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। বুধবার এক মার্কিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে নিশ্চিত করেছেন যে, তেহরানের সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত নেয়নি জো বাইডেন প্রশাসন। এর আগে আজ দিনের শুরুতে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কাতার ও অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে। একজন উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছিল, সম্পদ ছাড়ের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ভাষায় তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানান, তেহরানের ওপর আরোপিত আর্থিক বিধি-নিষেধ শিথিল করার কোনো পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। এই টানাপোড়েনের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আটকে রয়েছে। সম্পদ অবমুক্ত করার এই খবরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্পর্শকাতর।  ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক এই অস্বীকারের পর পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পাল্টা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান-মার্কিন ঐতিহাসিক বৈঠক: দীর্ঘ দশকের বরফ গলে কি শান্তি ফিরবে?

দীর্ঘ প্রায় এক দশকের অচলাবস্থা ভেঙে অবশেষে মুখোমুখি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই হতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রথম কোনো সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা। বিশেষ করে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির পর গত ১০ বছরে আর কখনোই দুই দেশের প্রতিনিধিদের এভাবে সরাসরি আলোচনার টেবিলে দেখা যায়নি। ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন একতরফাভাবে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক চরম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে 'ঐতিহাসিক' বলে আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।  পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামীয় প্রজাতন্ত্র ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নয়, বরং এটি অশান্ত মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে মূলত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং স্থগিত হয়ে যাওয়া বিভিন্ন চুক্তিগুলো নিয়ে পুনরায় সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। বিশ্ব রাজনীতিতে এই আলোচনার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী, যার দিকে এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল-লেবানন শান্তি আলোচনা: ওয়াশিংটনে আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে এক নতুন কূটনৈতিক দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিডিসিতে ইসরায়েল, লেবানন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।  ইসরায়েলি সরকারি সূত্র এবং আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য পক্ষগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই প্রথম দফার আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার শর্তাবলি এবং আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে "শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক" স্থাপন করা। তবে আলোচনার টেবিলে কিছু অমীমাংসিত জটিলতা এখনো বিদ্যমান। লেবানন শুরু থেকেই শর্ত দিয়েছে যে, আলোচনার আগে ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে। লেবাননের কর্মকর্তাদের মতে, হামলার মুখে থেকে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সাথে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। আজকের এই ঐতিহাসিক প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াদ। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরবর্তী রূপরেখা।

Unknown এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা নয়, কেবল বার্তা বিনিময় হচ্ছে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।  কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে বর্তমানে কেবল নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বার্তা আদান-প্রদান চলছে, যাকে কোনোভাবেই 'কূটনৈতিক সংলাপ' বলা যায় না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি জানান, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নিবিড় তত্ত্বাবধানেই এই সীমিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে তেহরানের যথেষ্ট আপত্তি ও সংশয় রয়েছে। ইরানের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, আলোচনার টেবিলে বসার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই পরোক্ষ যোগাযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ইরান একে কেবল 'বার্তা বিনিময়' বলে অভিহিত করছে, তবুও নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার আড়ালে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ সচল রয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০