ইসলামী

ছবি: লানা সিল্ক, প্রেসিডেন্ট ও সিইও, ট্রান্সফর্ম ইরান।
ইসলাম নিয়ে আমেরিকানদের অনেক ধারণাই বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না: ইরানে জন্ম নেওয়া খ্রিস্টান নেত্রীর দাবি

ইরানে জন্ম নেওয়া খ্রিস্টান নেত্রী ও মানবিক সহায়তা সংস্থা ট্রান্সফর্ম ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লানা সিল্ক দাবি করেছেন, ইসলাম সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রে অনেকের যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি সংবাদমাধ্যম সিবিএন নিউজে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন।    ‘আমেরিকায় ইসলাম নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: আমরা কি এমন একটি ধর্মকে গ্রহণ করছি, যেখান থেকে বিশ্বের বহু মানুষ বেরিয়ে আসতে চাইছে?’ শিরোনামের ওই নিবন্ধে লানা সিল্ক বলেন, ইসলামি বিপ্লব-পরবর্তী ইরানের বাস্তবতায় বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি হচ্ছে, তার অনেকটাই ইরানের মতো দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর সমালোচনার লক্ষ্য মুসলিম জনগোষ্ঠী নয়; বরং ইসলামের বিষয়ে তাঁর নিজস্ব মূল্যায়ন।    লানা সিল্ক বর্তমানে ট্রান্সফর্ম ইরানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। সংস্থাটি ইরানের ভেতরে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি সংস্থাটির বৈশ্বিক প্রেসিডেন্ট ও সিইওর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ইরানে জন্ম নিলেও পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ইরানের মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর পক্ষে আন্তর্জাতিক পরিসরে কাজ করে আসছেন।    বিশ্লেষণে লানা সিল্ক স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর পরিচিত অধিকাংশ মুসলিমই ভদ্র, সম্মানজনক ও শান্তিপ্রিয় মানুষ। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তিকে শুধু তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।    তিনি আরও বলেন, মুসলিমদের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা রয়েছে এবং তাঁদের সেবাকেই তিনি নিজের জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখেন। তাঁর ভাষায়, মুসলিমদের কাছে ঈশ্বরের ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর সংগঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, ইসলাম সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে আবেগের পরিবর্তে ইতিহাস, ধর্মীয় শিক্ষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।    সিবিএন নিউজে প্রকাশিত নিবন্ধে লানা সিল্ক ইসলাম সম্পর্কে বেশ কয়েকটি সমালোচনামূলক মন্তব্যও করেছেন। তবে সেগুলো তাঁর ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। ইসলাম, কোরআন এবং ইসলামি শিক্ষা সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন সর্বজনস্বীকৃত নয় এবং এ বিষয়ে মুসলিম সমাজ, ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রয়েছে।    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লানা সিল্ক ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে ইরানের ভেতরে বসবাসকারী মানুষের জীবন, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং মানবিক সংকট নিয়ে তাঁর সংগঠন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সচেতনতা তৈরির কাজ করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
স্পেনে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে ইসলাম I ছবি: সংগৃহীত
স্পেনে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে ইসলাম, মুসলিম জনসংখ্যা ছাড়াল ২৫ লাখ

ইউরোপের অন্যতম ঐতিহাসিক দেশ স্পেনে বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ইসলাম। সাম্প্রতিক এক জনমিতিক (ডেমোগ্রাফিক) সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশটিতে বসবাসরত মুসলিম জনসংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫ লাখের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। স্পেনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তনকে একটি বড় রূপান্তর হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।   প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের এই ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক (অনূর্ধ্ব ৫০ শতাংশ) অংশই এখন দেশটির স্থায়ী নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ স্পেনে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বাকিরা পরবর্তী সময়ে দীর্ঘস্থায়ী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট প্রমাণ করে যে মুসলিম সম্প্রদায় এখন আর কেবল অস্থায়ী অভিবাসী বা বহিরাগত জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তারা স্পেনের মূলধারার সমাজ, রাজনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে স্থায়ীভাবে মিশে গেছে।   বর্তমানে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল কাতালোনিয়া, আন্দালুসিয়া এবং রাজধানী মাদ্রিদে মুসলিমদের বসতি ও ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে এই সম্প্রদায় দেশটির দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, জনসংখ্যাগত এই রূপান্তর, সুনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নীতি এবং নতুন প্রজন্মের দ্রুত বিকাশের ফলে স্পেনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম সম্প্রদায়ের এই শক্তিশালী উপস্থিতি আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি দৃশ্যমান ও প্রভাবশালী হয়ে উঠবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবলের দেশ ব্রাজিলে বাড়ছে ইসলামের অনুসারী, মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ

ফুটবল, সাম্বা, আমাজনের বিস্তীর্ণ অরণ্য এবং মনোমুগ্ধকর সমুদ্রসৈকতের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রাজিল। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশটির পরিচিতি সাধারণত এসব বিষয় ঘিরেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে এই পরিচিত চিত্রের আড়ালে দেশটিতে নীরবে বিস্তার লাভ করছে ইসলাম, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষক ও ধর্মীয় পর্যবেক্ষকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে।   খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই লাতিন আমেরিকান দেশে মুসলিম সম্প্রদায় এখন আর কেবল অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অভিবাসনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের মধ্যেও ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে, যা দেশটির ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   ব্রাজিলের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা আইবিজিই এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৬৭ হাজার থেকে ১৫ লাখের মধ্যে রয়েছে। যদিও বিভিন্ন গবেষণায় সংখ্যাগত কিছু পার্থক্য দেখা যায়, ইসলামিক সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী বর্তমানে ব্রাজিলে প্রায় ১৫ লাখ সক্রিয় মুসলিম বসবাস করছেন। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ।   গবেষকদের মতে, সরকারি আদমশুমারিতে ধর্ম পরিবর্তনের তথ্য অনেক সময় দ্রুত হালনাগাদ না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ব্রাজিলে মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশজুড়ে প্রায় ১৫১টি সক্রিয় মসজিদ রয়েছে। এর পাশাপাশি শতাধিক নামাজকেন্দ্র এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে সাও পাওলো, পারানা, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া, কুরিতিবা এবং ফোজ দো ইগুয়াসু অঞ্চলে মুসলিম জনসংখ্যা এবং মসজিদের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি।   বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলে ইসলামের প্রসারের পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমটি হলো অভিবাসন। গত শতাব্দীতে সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন থেকে বিপুল সংখ্যক আরব মুসলিম ব্রাজিলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও মুসলিম অভিবাসীরা সেখানে আসেন।   দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের ইসলাম গ্রহণের প্রবণতাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কারণে অনেক ব্রাজিলীয় ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হচ্ছেন। ফেডারেশন অব মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনস ইন ব্রাজিলের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশটিতে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি স্থানীয় ব্রাজিলীয় ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে সংগঠনটির দাবি।   ব্রাজিলের ইসলামি ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো সাও পাওলোর মেসকিতা ব্রাজিল। ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদকে শুধু ব্রাজিল নয়, সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম এবং সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি দেশটিতে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।   এ ছাড়া ফোজ দো ইগুয়াসু শহরের ওমর ইবনুল খাত্তাব মসজিদও মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা। ১৯৮৩ সালে নির্মিত এই মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী এবং বিশাল মিনার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পারানা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কুরিতিবায় অবস্থিত ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব মসজিদ এবং রাজধানী ব্রাসিলিয়ার ইসলামিক সেন্টারও মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।   গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রাজিলের প্রায় সব মুসলিমই নগরাঞ্চলে বসবাস করেন। সাও পাওলো, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া, ফোজ দো ইগুয়াসু, কুরিতিবা এবং বেলো হরিজন্তে শহরগুলো মুসলিম জনসংখ্যার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের অন্যতম বড় হালাল মাংস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও ব্রাজিলের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। দেশটির বিশাল হালাল খাদ্যশিল্প শুধু স্থানীয় মুসলিমদের প্রয়োজন মেটাচ্ছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও বিপুল পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করছে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রাজিলে ইসলাম এখন আর শুধুমাত্র অভিবাসীদের ধর্ম হিসেবে বিবেচিত হয় না। স্থানীয় সমাজে মুসলিমদের অংশগ্রহণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামের প্রতি আগ্রহ দেশটিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।   ফুটবলপ্রেমী এই লাতিন আমেরিকান দেশে মুসলিমরা এখন একটি ছোট কিন্তু ক্রমবর্ধমান সম্প্রদায় হিসেবে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলেছেন। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে ব্রাজিলে ইসলামের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সিনেটর জন কর্নিন ও টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল ক্যান প্যাক্সটন
টেক্সাস প্রাইমারি নির্বাচন: ভোটার টানতে রিপাবলিকান শিবিরে ইসলাম-বিদ্বেষী প্রচারণার হিড়িক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আসন্ন রিপাবলিকান প্রাইমারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তবে এবারের প্রচারণায় উন্নয়নের চেয়েও বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য ও ইসলামফোবিয়া। রিপাবলিকান প্রার্থীদের একটি বড় অংশ উগ্র রক্ষণশীল ভোটারদের তুষ্ট করতে এবং দলীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সিএনএন-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, টেক্সাসের শীর্ষ পর্যায়ের রিপাবলিকান প্রার্থীরা বিভিন্ন টেলিভিশন বিজ্ঞাপন এবং জনসভায় ইসলামকে সরাসরি ‘পাশ্চাত্য সভ্যতার জন্য হুমকি’ হিসেবে চিত্রায়িত করছেন। অনেক প্রার্থী তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় দাবি করছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘শরিয়া আইন’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে এবং তারা এর কট্টর বিরোধী। বিশেষ করে ক্যান প্যাক্সটন এবং জন কর্নিনের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রচারণায় এই সুর অত্যন্ত জোরালো। রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল পদপ্রার্থী অ্যারন রেইৎজ তার এক বিতর্কিত বিজ্ঞাপনে সরাসরি মুসলিম অভিবাসনকে ‘আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া ডালাসের উত্তরে একটি মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আবাসিক প্রকল্প নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে তুমুল বিরোধ দেখা দিয়েছে, যা তারা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাসের রিপাবলিকান ভোটারদের একটি বড় অংশ ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল। তাদের ভোট নিশ্চিত করতেই প্রার্থীরা ‘ভয়ের রাজনীতি’ বেছে নিয়েছেন। রিপাবলিকান কনসালট্যান্ট ভিনি মিনচিলো বলেন, "টেক্সাস রিপাবলিকান প্রাইমারিতে মুসলিম ভীতি বা ইসলামফোবিয়া একটি অত্যন্ত কার্যকর রাজনৈতিক অস্ত্র। ভোটারদের মধ্যে এক ধরণের কাল্পনিক ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের ভোট আদায় করা অনেক সহজ।" এদিকে, এই ধরণের প্রচারণাকে ‘অমানবিক’ এবং ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছে টেক্সাসের মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো। ‘কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স’ (CAIR)-এর অস্টিন শাখার অপারেশন ম্যানেজার শায়মা জায়ান বলেন, "আমাদেরকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে তারা একটি পুরো সম্প্রদায়কে দানব হিসেবে উপস্থাপন করছে। এটি কেবল বিভাজনই বাড়াবে না, বরং মুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে।" উল্লেখ্য যে, টেক্সাসে প্রায় ৩ লাখের বেশি মুসলিম বসবাস করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যা। হওয়া সত্ত্বেও, আসন্ন মে মাসের রান-অফ এবং নভেম্বরের চূড়ান্ত নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে বর্ণবাদ ও ইসলামফোবিয়াকে মূলধারার রাজনীতিতে নিয়ে আসার এই প্রবণতা মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা। সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রাইমারি নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে কে কার চেয়ে বেশি ইসলাম বিরোধী হতে পারেন, তা নিয়ে যেন এক অঘোষিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই মেরুকরণের রাজনীতি টেক্সাসের আগামী দিনের সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
ইস্টার সানডেতে 'ইসলাম' নিয়ে ট্রাম্পের উপহাসের নিন্দা সিএআইআর'র

মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিল (সিএআইআর) ইস্টার সানডে পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর 'ইসলামকে উপহাস' করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সিএআইআর এক বিবৃতিতে জানায়, ট্রাম্পের ওই পোস্টে ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকির পাশাপাশি 'বিকৃতভাবে ইসলামকে উপহাস' করা হয়েছে, যা 'বেপরোয়া, বিপজ্জনক এবং মানবজীবনের প্রতি উদাসীনতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'এই ধরনের বক্তব্য শূন্য থেকে আসে না। এটি মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ও নীতির দীর্ঘ ধারাবাহিকতার অংশ, যা দেশে ও বিদেশে মুসলমানদের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।' ট্রাম্প তাঁর ওই ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টের শেষে আল্লাহর প্রশংসা হোক বাক্যটি ব্যবহার করেন। সিএআইআর উল্লেখ করে, পশ্চিমা বিশ্বে অনেকেই—ট্রাম্পসহ এই বাক্যটিকে কেবল ইসলামের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন। তবে বাস্তবে 'আল্লাহ' শব্দটি আরবি ভাষায় 'ঈশ্বর' এরই অনুবাদ, যা কোনো একটি ধর্মের একচেটিয়া নয়। সিএআইআর আরও জানায়, 'সহিংস হুমকির প্রেক্ষাপটে ‘আল্লাহর প্রশংসা হোক’এই বাক্যটির ব্যবহার উদ্বেগজনক। এটি একদিকে ধর্মীয় ভাষাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা, অন্যদিকে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি অবমাননাকর মনোভাবের প্রতিফলন।'   ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি:

Unknown এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
বার্সেলোনা এবং স্পেনের উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল। ছবি: সংগৃহীত
‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’ ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বার্সেলোনা তারকা ইয়ামালের প্রতিবাদ

স্পেন ও মিশরের মধ্যকার প্রীতি ম্যাচে গ্যালারি থেকে ভেসে আসা ইসলামবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী স্লোগানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। স্পেনের আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দর্শকদের একটি অংশের এমন কুরুচিপূর্ণ আচরণকে 'অসহনশীল' এবং 'অজ্ঞতা' বলে অভিহিত করেছেন ১৮ বছর বয়সী এই মুসলিম ফুটবলার। মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারি থেকে যে লাফাবে না, সে মুসলিম (jump, jump, jump, whoever doesn't jump is a Muslim)—এমন আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ইয়ামাল। নিজের বিশ্বাসের কথা গর্বের সাথে জানিয়ে ইয়ামাল লেখেন, আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। আমি জানি এই স্লোগানগুলো প্রতিপক্ষ দলের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল এবং এটি ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরুদ্ধে ছিল না। কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে আমি মনে করি, এটি চরম অবমাননাকর এবং একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের একাংশের এই আচরণকে ধিক্কার জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "মাঠে কোনো ধর্মকে বিদ্রূপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা আপনাদের অজ্ঞতা এবং বর্ণবাদী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। ফুটবল হচ্ছে আনন্দ এবং সমর্থনের জায়গা, কারও পরিচয় বা বিশ্বাসকে অপমান করার জায়গা নয়।" এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর স্পেনের ফুটবল অঙ্গনে নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্প্যানিশ জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে 'ঘৃণ্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে, কাতালুনিয়ার আঞ্চলিক পুলিশ (মোসোস ডি'এসকুয়াদ্রা) এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে ইসলামোফোবিয়া এবং জেনোফোবিয়ার (বিদেশিবিদ্বেষ) প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা একে একটি 'নিন্দনীয় বর্ণবাদী কাজ' বলে উল্লেখ করেছে। উল্লেখ্য, ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলেও গ্যালারির এই অপ্রীতিকর ঘটনাটিই এখন বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বার্সেলোনা এবং স্পেনের এই উদীয়মান তারকা ইয়ামালকে ইতোমধ্যে ফুটবল বিশ্বের অনেক সতীর্থ এবং সমর্থক সমর্থন জানিয়েছেন। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে স্প্যানিশ ফুটবলে লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন ইয়ামালের এই সাহসী অবস্থান ফুটবল ভক্তদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০