সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরা প্রথম নারী মারিয়া গার্সিয়া, মেক্সিকোয় গড়লেন ইতিহাস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৬:৩৩
আনা মারিয়া গার্সিয়া
আনা মারিয়া গার্সিয়া

মেক্সিকোর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক এক রায়ে পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরার অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। আদালত বলেছে, মুখমণ্ডল পুরোপুরি দৃশ্যমান থাকলে ধর্মীয় পোশাক হিসেবে হিজাব পরা পাসপোর্টের ছবি তোলার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দেওয়া এই রায়ে চিহুয়াহুয়া ও মেক্সিকো সিটির দুই মুসলিম নারীর করা মামলায় তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। 

মামলাগুলোর একটি করেছিলেন মেক্সিকোর মুসলিম নারী আনা মারিয়া গার্সিয়া। ২০২৩ সালের অক্টোবরে মেক্সিকো সিটিতে পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে তাকে জানানো হয়, হিজাব পরে ছবি তোলা হলে পাসপোর্ট দেওয়া যাবে না। এরপর তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হন। 

 

মেক্সিকোর পাসপোর্ট বিধিমালায় সাধারণভাবে ছবি তোলার সময় মাথা অনাবৃত রাখার শর্ত রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বলেছে, ধর্মীয় কারণে কেউ হিজাব পরলে এবং তাতে তার মুখ শনাক্ত করতে কোনো সমস্যা না হলে ওই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। 

আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, হিজাব মুখ ঢেকে না রাখায় ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিচয় শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারও সমন্বয় করা যায়। এ ক্ষেত্রে হিজাব পরার কারণে পাসপোর্টের আবেদন আটকে রাখা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

 

রায়টি ৮-১ ভোটে গৃহীত হয়। সুপ্রিম কোর্ট একই সঙ্গে দুই মামলার আবেদনকারীকে অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হিজাব পরা ছবি ব্যবহার করে পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয়। 

 

এই সিদ্ধান্তের ফলে মেক্সিকোয় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সরকারি পরিচয়পত্রের ক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি হয়েছে। তবে আদালত পাসপোর্টের ছবিতে মাথা অনাবৃত রাখার সাধারণ নিয়ম পুরোপুরি বাতিল করেনি; ধর্মীয় পোশাকের ক্ষেত্রে, যখন তা মুখ শনাক্তকরণে বাধা সৃষ্টি করে না, তখন ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
তেল উৎপাদন চুক্তি
চীন-রাশিয়ার হাতছাড়া, ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে এবার মার্কিন কোম্পানি

ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ এবার চীন ও রাশিয়ার কোম্পানির হাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে যাচ্ছে। মার্কিন তেল কোম্পানি নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স এসব তেলক্ষেত্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে বলে সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বড় ধরনের তেল উৎপাদন চুক্তির অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আসছে। এতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রভাবও কমে আসবে।   ভেনেজুয়েলা সরকার নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সকে নতুন করে ১৪টি তেল প্রকল্প দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দেশটিতে ১৭টি প্রকল্প পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ পাবে। এসব প্রকল্পে উৎপাদন বাড়িয়ে তেলের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্স আগে মার্কিন তেল ব্যবসায়ী হ্যারি সার্জেন্টের মালিকানায় ছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণে আছেন ভেনেজুয়েলার ব্যবসায়ী আলেহান্দ্রো বেটানকোর্ট। তিনি চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হলে দেশটির মানুষ এবং যুক্তরাষ্ট্র—দুই পক্ষই উপকৃত হবে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার মূল দায়িত্ব থাকবে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে। তবে কোম্পানিটির ৩৫ শতাংশ অংশীদারিত্বের ওপর মার্কিন সরকারের অধিকার থাকবে। পাশাপাশি কোম্পানির উৎপাদিত তেলের ২০ শতাংশ উৎপাদন খরচে কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রাধিকার পাবে।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বাকি ৮০ শতাংশ তেল কেনার ক্ষেত্রেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে সবার আগে কেনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও পরিচালকদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও থাকবে। পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্যকে হতে হবে মার্কিন নাগরিক। নতুন করে দেওয়া ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে পাঁচটি আগে চীনা কোম্পানিগুলো পরিচালনা করত। আর একটি প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল রাশিয়ার একটি কোম্পানি। চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কনকর্ড রিসোর্সেস দুটি প্রকল্প পরিচালনা করত। ইরান-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আরেকটি প্রকল্প পরিচালনা করত চীনা জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সিনোপেক। অন্য একটি ছিল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) অধীনে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তির ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় নতুন ব্যবসার সুযোগ পাচ্ছে না, দেশটির তেলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রও বড় বাজারে পরিণত হচ্ছে। এর আগে এসব তেলের একটি বড় অংশ চীনে পাঠানো হতো।   কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, নতুন করে নর্থ আমেরিকান ব্লু এনার্জি পার্টনার্সের হাতে যাওয়া দুটি প্রকল্প আগে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলেক্স সাবের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করত। সাব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। আরেকটি তেলক্ষেত্র মাদুরুর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের এক ভাতিজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলেও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, বেসরকারি ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে ‘মিলিয়ন মিলিয়ন ব্যারেল’ তেল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। এসব তেল টেক্সাস ও লুইজিয়ানাসহ বিভিন্ন এলাকার শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। মঙ্গলবার তেল ও গ্যাস খাতের ব্যবসায়ী এবং শোধনাগার মালিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক করার কথা রয়েছে।   তেলের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের আলোচনা চলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। দেশটির সাংবিধানিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে তৈরি আইনি প্রশ্নের সমাধান করাই এসব আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য। ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৫ সালের জাতীয় পরিষদকে ভেনেজুয়েলার সংবিধানের অধীনে সর্বশেষ নির্বাচিত ও কার্যকর আইনসভা হিসেবে বিবেচনা করে। যদিও বর্তমানে ওই পরিষদের কোনো আনুষ্ঠানিক শাসনক্ষমতা নেই।মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ওই পরিষদের সঙ্গে সমঝোতা হলে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য একটি সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা দেশটির তেল শিল্পকে আবার সচল করার পথও খুলে যেতে পারে।   সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। চীন ও রাশিয়ার প্রভাব কমিয়ে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল প্রকল্পগুলোতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৭:২২
আনা মারিয়া গার্সিয়া

পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরা প্রথম নারী মারিয়া গার্সিয়া, মেক্সিকোয় গড়লেন ইতিহাস

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র: সারাহ আলড্রিচ

শিকাগোয় ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ গ্রেপ্তার

শিকাগোয় ফেডারেল অভিযানে ৩০৫ গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২৪ নিখোঁজ শিশু

টাইমস স্কয়ারে দুইজনকে ছুরিকাঘাত
টাইমস স্কয়ারে দুইজনকে ছুরিকাঘাত, পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নারী নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যস্ত টাইমস স্কয়ারে দুই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের পর পুলিশের গুলিতে পামেলা সিসনেরোস (৪৯) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট ও সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (NYPD) কর্মকর্তারা জানান, সিসনেরোসের হাতে দুটি ছুরি ছিল। তিনি প্রথমে ৬৮ বছর বয়সী এক পুরুষের পেটে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর ৩২ বছর বয়সী এক নারীর পেটে ছুরিকাঘাত করেন। পরে আহত ওই নারীকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত পুরুষের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশের তথ্যমতে, হামলার পর সিসনেরোস ছুরি হাতে একটি পুলিশ সাবস্টেশনের দিকে এগিয়ে যান। কর্মকর্তারা প্রায় চার মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তিনি নির্দেশ মানেননি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি দেন বলে দাবি পুলিশের।   পুলিশ জানায়, তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে টেজার ব্যবহার করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। একপর্যায়ে ছুরি হাতে তিনি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে এলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালান। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।   NYPD কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, ঘটনাটি অনেকটা আকস্মিক ও বিনা উসকানিতে হামলার মতো মনে হচ্ছে। ঘটনার সময় টাইমস স্কয়ারে বিপুলসংখ্যক মানুষ, পর্যটক ও পরিবার উপস্থিত ছিলেন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসনেরোসের ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনায় NYPD-তে নথিবদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। তবে হামলার সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে। পুলিশের বডি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হতে পারে।   ঘটনায় নিহত নারী ও আহত পুরুষের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ২:৫৮
মাকে বাঁচাতে মায়ের বয়ফ্রেন্ডকে ছুরিকাঘাত ১২ বছরের ছেলের

"চুপ করে থাকতে পারেনি" মাকে বাঁচাতে মায়ের বয়ফ্রেন্ডকে ছুরিকাঘাত ১২ বছরের ছেলের

কিশোর বয়সে গাড়ি চুরি, ১৫ বছরেই বাবা, সেই তরুণই আজ জনস হপকিন্সের সার্জারি প্রধান

কিশোর বয়সে গাড়ি চুরি, ১৫ বছরেই বাবা, সেই তরুণই আজ জনস হপকিন্সের সার্জারি প্রধান

আমেরিকায় চাকরির ইমেইলে ভালো ইমপ্রেশনের জন্য ১০টি জরুরি নিয়ম জানা প্রয়োজন

আমেরিকায় চাকরির ইমেইলে ভালো ইমপ্রেশনের জন্য ১০টি জরুরি নিয়ম জানা প্রয়োজন

চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা
চার সন্তান সামলাতে হিমশিম মা, শেষে ৯১১-এ ফোন: ‘আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের চার সন্তানের মা কাইলি গ্রাইমস এক রাতে ৯১১-এ ফোন করেছিলেন সন্তানদের কোনো জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতির জন্য নয়, নিজের ভেঙে পড়ার মুহূর্তে সাহায্য চেয়ে। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি, একসঙ্গে দুই সন্তানের টাইপ ১ ডায়াবেটিসের যত্ন এবং চার সন্তান সামলানোর চাপের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, আর একা সামলানো সম্ভব হচ্ছে না।    ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে। সেদিন স্বামী কাইল কাজে থাকায় সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে একাই ছিলেন কাইলি। এর আগের কয়েক মাসে পরিবারের ওপর একের পর এক চাপ তৈরি হয়। তাদের ছোট ছেলে নোবেলের বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন তার টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এর ৬৩ দিন পর একই রোগে আক্রান্ত হয় তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে গোল্ডিও। পরিবারের আগে এমন রোগের ইতিহাস ছিল না।   দুই সন্তানের ডায়াবেটিসের যত্ন নিতে গিয়ে কাইলির ঘুম ও বিশ্রাম প্রায় হারিয়ে যায়। ছোট সন্তানের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ওষুধ ও খাবারের হিসাবসহ প্রতিদিনের নানা দায়িত্ব তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছিল।   ৩১ জুলাই রাতেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সন্তানরা রাতের খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এর মধ্যেই ছোট নোবেল একটি ঘরের গাছের টবের মাটি মুখে নিয়ে ফেললে কাইলি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরও তিনি বুঝতে পারেন, মানসিকভাবে তিনি আর স্বাভাবিক অবস্থায় নেই।    কাইলি প্রথমে স্বামীকে ফোন করে সাহায্য চান। কিন্তু তিনি তখনও প্রায় ৩০ মিনিট দূরে ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি ৯১১-এ ফোন করেন।   ডিসপ্যাচার জানতে চান, জরুরি পরিস্থিতি কী। কাইলি বলেন, তিনি আর পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না, তিনি ভীষণ চাপে আছেন এবং সাহায্য প্রয়োজন। এরপর যখন আবার জানতে চাওয়া হয়, আসল জরুরি বিষয়টি কী, তখন তার উত্তর ছিল, “আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'।”   কাইলি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেকে বা সন্তানদের ক্ষতি করতে যাচ্ছেন না। তিনি শুধু বুঝতে পেরেছিলেন যে তার জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এবং সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্যও তাকে কিছুটা সহায়তা নিতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন পুলিশ অফিসার বাড়িতে পৌঁছান। পরে অন্য ফার্স্ট রেসপন্ডাররাও আসেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাকে একজন সোশ্যাল ওয়ার্কারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন।    এই ঘটনার পর কাইলি পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে আরও সহায়তা নিতে শুরু করেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তিনি জানান, সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে কোনো মা বা কেয়ারগিভার মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে সেটিকে লুকিয়ে রাখার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়।   কাইলির অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান বা পরিবারের সদস্যের অতিরিক্ত যত্নের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, সাহায্যের প্রয়োজন হওয়া ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। বরং নিজের সীমা বুঝে সময়মতো সহায়তা চাওয়াও দায়িত্বশীলতার অংশ।   কাইলি পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাতৃত্ব, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সন্তানদের যত্ন এবং কেয়ারগিভার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তার এই খোলামেলা অবস্থান অনেক অভিভাবকের মধ্যে সন্তান লালনপালনের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ০:৪২
টেক্সাসে শরিয়া আইন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শরিয়ার প্রকৃত অর্থ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শরিয়াহ আইন নিয়ে রিপাবলিকানদের কঠোর অবস্থান, প্রতিবাদে মুসলিমরা

২০ ডলারে শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর

২০ ডলারে শিশুর পড়াশোনায় এআই টিউটর! নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা নিয়ে স্থগিতাদেশ বাতিল করেছে মার্কিন ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পাওয়ায় বাধা কাটল বাংলাদেশিদের, বাতিল হলো পুরোনো নিষেধাজ্ঞা

0 Comments