- প্রচ্ছদ
- Topic
ইসলামাবাদ
ইসলামাবাদের একটি হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে তখন ভয়াবহ আগুন। চারদিকে ধোঁয়া আর আগুনের শিখা। সবাই যখন প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করছেন, তখন নিজের জীবনের কথা না ভেবেই আগুনের মধ্যে ঢুকে পড়লেন নার্স রাজিয়া নূরিন। মাত্র আট সেকেন্ড পর একটি নবজাতককে বুকে জড়িয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি। শিশুটি বেঁচে গেল। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি বাকি ১৪ নবজাতককে। গত ২৬ আগস্ট পাকিস্তানের ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (পিআইএমএস) নার্সারিতে এই ভয়াবহ আগুন লাগে। এরপর থেকেই রাজিয়া নূরিনকে সাহসিকতার জন্য প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন পাকিস্তানের মানুষ। আগুন লাগার সময় নূরিন ও তাঁর সহকর্মীরা ১৫ নবজাতকের দেখাশোনা করছিলেন। পরে পাশের একটি কক্ষে কয়েকজন শিশুর জন্য ইনজেকশন প্রস্তুত করছিলেন তাঁরা। হঠাৎ নূরিন আগুনের শিখা দেখতে পান। হাতে থাকা সিরিঞ্জ ফেলে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান নার্সারির দিকে। নার্সারিতে ঢুকেই একটি শিশুকে কোলে তুলে নেন তিনি। শিশুটিকে নিজের বুকের সঙ্গে শক্ত করে চেপে ধরে আগুন ও ধোঁয়া থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। এরপর দ্রুত বেরিয়ে আসেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই মুহূর্তের দৃশ্য। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাত্র আট সেকেন্ডের মধ্যে শিশুটিকে নিয়ে আগুন থেকে বেরিয়ে আসেন নূরিন। বাইরে এসে শিশুটিকে এক চিকিৎসকের হাতে তুলে দেন। এরপর আবারও আগুনের দিকে ফিরে যেতে চান তিনি। তাঁর আশা ছিল, ভেতরে থাকা অন্য শিশুদেরও হয়তো বাঁচানো যাবে। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ও ধোঁয়া এতটাই বেড়ে গেছে যে আর ভেতরে ঢোকা সম্ভব হয়নি। “আমি অন্যদেরও বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আমি আশা হারাইনি,” অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন নূরিন। তারপরও চেষ্টা থামাননি তিনি। আরেক নার্সকে সঙ্গে নিয়ে মাটিতে নেমে ধোঁয়ার নিচ দিয়ে নার্সারিতে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘন ধোঁয়ায় সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। দম বন্ধ হয়ে আসছিল, প্রচণ্ড কাশি হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আগুনের তীব্রতার কাছে তাঁকে ফিরে আসতে হয়। এর কিছুক্ষণ পর নূরিন জানতে পারেন, ভেতরে থাকা বাকি ১৪ নবজাতক মারা গেছে। খবরটি শুনে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। যে শিশুটিকে তিনি আগুন থেকে বের করে এনেছিলেন, সে-ই ছিল ওই নার্সারির একমাত্র জীবিত শিশু। সরকারি তদন্তে বলা হয়েছে, আগুন লাগার পর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই নার্সারির পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেই সময়ের মধ্যেই নূরিন মাত্র আট সেকেন্ডের জন্য আগুনের মধ্যে ঢুকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তাঁর এই সাহসিকতার জন্য পাকিস্তানজুড়ে প্রশংসা শুরু হয়। সরকার তাঁকে দেশটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক সম্মাননা ‘সিতারা-ই-খিদমত’ বা ‘স্টার অব সার্ভিস’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাঁকে আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হবে। কিন্তু নূরিন নিজেকে কোনো বীর মনে করেন না। তাঁর কাছে তিনি শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। “কোনো মা কি তার সন্তানকে আগুনে পুড়তে দেখতে পারে?” বলেন নূরিন। এরপর নিজেই উত্তর দেন, “না। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের জন্য কোনো উপকার করেন না। এটা তাঁদের দায়িত্ব।” নূরিন একজন খ্রিস্টান। পাকিস্তানের ছোট একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য তিনি। কিন্তু তাঁর সাহসিকতার প্রশংসায় ধর্মের কোনো ভেদাভেদ দেখা যায়নি। বিভিন্ন ধর্মের মানুষই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন। তবে এত প্রশংসার পরও নূরিনের মনে শান্তি নেই। কারণ তিনি বারবার ফিরে যাচ্ছেন সেই ১৪ শিশুর কথায়, যাদের তিনি বাঁচাতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না তিনি। নার্সারির কাছে গেলেই আগুনের সেই ভয়াবহ দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কখনো কখনো তাঁর মনে হয়, এখনো যেন শিশুদের কান্না শুনতে পাচ্ছেন। তখন নিজেকে আর সামলাতে পারেন না। “ওই শিশুদের মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে কষ্ট দিয়েছে। স্বাভাবিক হতে আমার হয়তো কয়েক বছর লেগে যাবে,” বলেন তিনি। আগুনের ঘটনায় শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নূরিন। তিনি জানান, তাঁর জ্বর ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠেছিল। তারপরও তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, কারণ ওই শিশুদের কথা মানুষকে জানাতে চেয়েছেন। “ওই শিশুরা আমাকে ঘুমাতে দেয় না,” বলেন তিনি। নূরিনের ভাষায়, নবজাতকরা যখন হাসপাতালে আসে, তখন তাদের মায়েরা কিছু সময়ের জন্য সন্তানদের নার্সদের হাতে তুলে দেন। সেই সময় নার্সরাই শিশুদের খাওয়ান, ওষুধ দেন এবং সারাক্ষণ তাদের দেখাশোনা করেন। তাই ধীরে ধীরে একজন নার্সের কাছেও শিশুরা নিজের সন্তানের মতো হয়ে যায়। সেই কারণেই আগুন লাগার মুহূর্তে নিজের জীবনের কথা ভাবার সময় পাননি নূরিন। “আমি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমাকে আমার কাজ করতে হবে। মায়েরা তাঁদের সন্তানদের আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন,” বলেন তিনি। “আমি একজন মায়ের মতো আচরণ করেছি। নিজের জীবনের কথা আমি ভাবিনি।” প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পাকিস্তানের মানুষ তাঁকে সম্মান জানানোয় কৃতজ্ঞ নূরিন। কিন্তু তাঁর কাছে এই কাজ কোনো পুরস্কার পাওয়ার জন্য ছিল না। “আমি কোনো পুরস্কার বা অর্থের জন্য এটা করিনি,” বলেন তিনি। জ্বলন্ত নার্সারিতে ঢোকার সময় তিনি জানতেন না, সেখান থেকে জীবিত বের হতে পারবেন কি না। তবুও তিনি ঢুকেছিলেন। কারণ তখন তাঁর কাছে একটাই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল—শিশুদের বাঁচানো। “আমার সামনে তখন একটাই লক্ষ্য ছিল—এখন জীবন বাঁচানোর সময়। আমি সব শিশুকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম। এক সেকেন্ডের জন্যও নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবিনি।” মাত্র আট সেকেন্ডের সেই সাহসী সিদ্ধান্তে একটি নবজাতকের জীবন বেঁচে গেছে। আর সেই শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে রাজিয়া নূরিন নিজের জীবনও বাজি রেখেছিলেন। আজ পাকিস্তান তাঁকে হিরো বলছে। কিন্তু তাঁর কাছে তিনি শুধু একজন নার্স—যিনি সেই মুহূর্তে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন মায়ের মতো হয়ে উঠেছিলেন।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপানো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মানতে পাকিস্তান কোনোভাবেই বাধ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহের আন্দ্রাবি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের এই নতুন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে এসব নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে নিজেদের আবদ্ধ রাখতে রাজি নয় পাকিস্তান। বরং অর্থনৈতিক চাপ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বদলে কূটনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই এমন আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে দেশটি। পাকিস্তানের এই সাহসী ও স্পষ্ট অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নতুন করে তেহরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে। গত সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করেন। মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড সীমিত করতে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, আর্থিক নেটওয়ার্ক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর এমন চাপ প্রয়োগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য, তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ফেলে ইরানকে বিভিন্ন ইস্যুতে ছাড় দিতে বাধ্য করা। তবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত থাকার পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তার মতো বহুমুখী স্বার্থ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে না দেখার এই ঘোষণার মাধ্যমে পাকিস্তান মূলত আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। একদিকে তারা যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ধরে রাখতে চায়, তেমনি প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক অটুট রাখার পরিষ্কার বার্তা দিল। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার পর পাকিস্তান ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভবিষ্যতে ঠিক কী ধরনের প্রভাব পড়ে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার ভোরে হাসপাতালের মাতৃসদনের নবজাতক ওয়ার্ডে আগুন ছড়িয়ে পড়লে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ওয়ার্ডে থাকা ১৫ নবজাতকের মধ্যে একজনকে একজন চিকিৎসক উদ্ধার করতে সক্ষম হন। আগুনটি হাসপাতালের তৃতীয় তলায় অবস্থিত মা ও শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালটি ইসলামাবাদের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালগুলোর একটি। ভোরের দিকে আগুন লাগার পর দ্রুত ধোঁয়া ও আগুন পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে থাকা অনেক নবজাতক ইনকিউবেটরে ছিল অথবা অক্সিজেনের সহায়তায় চিকিৎসাধীন ছিল বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ডা. আনিজা জলিল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার সময় ওয়ার্ডে ১৫টি শিশু ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে একজন চিকিৎসক উদ্ধার করেন। আগুন থেকে বাঁচতে সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদেরও কয়েক তলা সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নেমে যেতে হয়। ইসলামাবাদের প্রধান কমিশনার সোহেল আশরাফ জানান, সকাল ৭টার কিছু আগে জরুরি ফোন পেয়ে উদ্ধারকারী ও পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর শিশুদের দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। আগুনের ঘটনায় হাসপাতালের আশপাশে নিহত শিশুদের স্বজনেরা জড়ো হন। পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, আগুনের সময় অনেক নবজাতক ইনকিউবেটর ও অক্সিজেনের ওপর ছিল। অক্সিজেনের সিলিন্ডার আগুনকে আরও তীব্র করে থাকতে পারে বলে তিনি জানান। আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কথা বলা হলেও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছিলেন এবং আগুনের চূড়ান্ত কারণ তখনো নিশ্চিত করা হয়নি। হাসপাতালটিতে সংস্কার ও নির্মাণকাজ চলছিল বলেও জানানো হয়েছে। এ কারণে আগুনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিহত শিশুদের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, শিশুদের জড়িত এমন পরিস্থিতির ক্ষতি অপূরণীয়। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসলামাবাদের এই অগ্নিকাণ্ড সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানের অন্যতম ভয়াবহ হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ড হিসেবে সামনে এসেছে। দেশটিতে বড় ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে এবং দুর্বল অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভবন নির্মাণবিধির যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া ও নিরাপত্তা তদারকির ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে। এই ঘটনায় নবজাতকদের মৃত্যুতে হাসপাতালের বাইরে স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। তবে আলোচনার এই আবহাওয়ার মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গত কালই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো থেকে এখনো অনেক দূরে রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশ দুটির মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শেষ হতে যাচ্ছে। এদিকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আন্তালিয়ায় এক সম্মেলনে জানান, যুদ্ধ অবসানে উভয় দেশই আলোচনার সদিচ্ছা দেখালেও বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। অন্যদিকে, ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ট্রাম্প ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবেন না। সংঘাতের অন্যান্য খবরে জানা গেছে, গত দুই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর (আইডিএফ) আরও দুই সদস্য নিহত হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পারস্য উপসাগর অভিমুখী দুটি এলপিজি ট্যাংকার মাঝপথেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ লিও।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অচলাবস্থা নিরসনে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মার্কিন কর্মকর্তা ও মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এ তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দুই পক্ষই আলোচনায় ফেরার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে বৈঠকের স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ আবারও সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি জেনেভা-কেও বিকল্প স্থান হিসেবে ভাবা হচ্ছে। এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আগের বৈঠকের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে এই নতুন বৈঠক কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৈঠক চলাকালে অন্তত ডজনখানেকবার ট্রাম্পকে ফোন করা হয় বলে জানা গেছে। একই সময়ে মার্কিন প্রতিনিধিদল আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে পরামর্শ করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা এই বৈঠকের মূল বিষয় ছিল। তবে শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংলাপ শেষ পর্যন্ত ফলহীনই থেকে যায়। সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, বৈঠকের পুরো সময়জুড়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল। নির্দিষ্ট সংখ্যা না জানালেও তিনি ইঙ্গিত দেন, গত ২১ ঘণ্টায় অন্তত অর্ধডজন থেকে এক ডজনবার কথা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আলোচনার সময় মার্কিন প্রতিনিধিদল সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গেও যোগাযোগ রেখেছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভ্যান্সের ভাষায়, সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে কেন আলোচনা ভেঙে গেল, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি তিনি। শুধু ইঙ্গিত দিয়েছেন, মূল বিরোধ ছিল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং সেই সক্ষমতাও অর্জন করবে না। এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন এই নিশ্চয়তা চেয়ে আসছে, কিন্তু এখনো তা মেলেনি। যদিও ভবিষ্যতে সমাধানের আশা রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিরা দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আলোচনায় অংশ নিলেও মার্কিন পক্ষের অযৌক্তিক দাবির কারণে কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনা ভেঙে যায়। সূত্র– এনডিটিভি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপস্থিত ছিলেন। শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসহ চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে অবস্থান করছে ইরানি প্রতিনিধিদল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং আলোচনার প্রস্তুতি নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ঘিরে পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে প্রেক্ষাপটে এ বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ এক কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পাকিস্তানে। শনিবার অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠক ঘিরে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।' কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই আলোচনায় তিন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা অংশ নিতে পারেন, যেখানে শান্তিপূর্ণ সমাধান ও পারস্পরিক উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা: • জেডি ভ্যান্স – ভাইস প্রেসিডেন্ট • স্টিভ উইটকফ – বিশেষ দূত • জ্যারেড কুশনার – সাবেক প্রেসিডেন্ট উপদেষ্টা • ব্র্যাড কুপার – সেন্টকম কমান্ডার ইরানের প্রতিনিধিরা: • মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ – পার্লামেন্ট স্পিকার • আব্বাস আরাগচি – পররাষ্ট্রমন্ত্রী • মাজিদ তাখত রাভানচি – উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী (অপ্রত্যাশিত/অনিশ্চিত) • মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর – জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব (অপ্রত্যাশিত/অনিশ্চিত) পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা: • শেহবাজ শরিফ – প্রধানমন্ত্রী • আসিম মুনির – সেনাপ্রধান • ইসহাক দার – পররাষ্ট্রমন্ত্রী • মোহাম্মদ আসিম মালিক – জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠক সফল হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে এখনো কিছু প্রতিনিধির অংশগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি, যা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। উল্লেখ্য, বৈঠকের ফলাফল ও সিদ্ধান্তের দিকে এখন বিশ্ববাসীর নজর রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।