ঈদুল ফিতর

ছবি: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টারে ঈদ, হোলি ও স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি-এ সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টারে একসঙ্গে উদযাপিত হয়েছে ঈদুল ফিতর, হোলি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। গত ১৫ এপ্রিল (শুক্রবার) আয়োজিত এই বহুসাংস্কৃতিক মিলনমেলায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় আনন্দ, সম্প্রীতি ও বৈচিত্র্যের অনন্য পরিবেশ।   আয়োজনে অংশ নেন সেন্টারলাইট হেলথকেয়ারের পেস কর্মসূচির সদস্যরা। তারা বলেন, ঈদুল ফিতর রমজানের পর আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, হোলি বসন্ত ও নতুন জীবনের প্রতীক এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস গৌরবময় ইতিহাসের স্মারক। তিনটি ভিন্ন উৎসব একসঙ্গে উদযাপনের মধ্য দিয়ে প্রবাসে সংস্কৃতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়।   দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবারের আয়োজন, প্রার্থনা এবং শেষে বাইরে রঙ খেলার মধ্য দিয়ে হোলির উচ্ছ্বাস।   অংশগ্রহণকারী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “অনুষ্ঠানটি খুবই সুন্দর হয়েছে, সবাই দারুণ উপভোগ করেছে।”   সেন্টারলাইট হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারা বুয়োনোকোরে-রুট বলেন, ভিন্ন সংস্কৃতির উৎসব একসঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে সবাই নিজেকে মূল্যবান মনে করতে পারে।   সাউথ এশিয়ান কালচারাল সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশীয় বয়স্কদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চাহিদা পূরণে কাজ করে আসছে। এই আয়োজন প্রবাসে বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ঈদের ছুটি শেষে সচিবালয়ে কাজে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কর্মব্যস্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সচিবালয়। ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসেই সকাল থেকে দাপ্তরিক কাজে সক্রিয় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন। দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   সকাল ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকা-এর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। এরপর দুপুরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সংক্রান্ত কমিটির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। বিকেলে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা এবং পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচি রয়েছে।   উল্লেখ্য, টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ থেকে সচিবালয়সহ দেশের সব সরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলেছে। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ঈদের আনন্দ এখনও বজায় রয়েছে—তারা পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে উৎসবের আমেজ ভাগাভাগি করছেন।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: ফাইল ফটো
ঈদের সাত দিনের সরকারি ছুটি আজ শেষ হচ্ছে

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘোষিত টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি আজ সোমবার (২৩ মার্চ) শেষ হচ্ছে। এর ফলে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে সারা দেশে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা এবং শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে। গত শনিবার দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঈদের আমেজ বিরাজ করলেও কাল থেকেই ফিরতে হচ্ছে কর্মব্যস্ততায়।   সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭ মার্চ থেকে এই দীর্ঘ ছুটি কার্যকর হয়েছিল। তবে আগামীকাল অফিস খোলার মাত্র এক দিন পরেই সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা আবারও ছুটির আমেজ পাবেন। আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাধারণ ছুটি থাকবে। এর পরবর্তী দুদিন যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় অফিস খোলার পর পরই আবারও তিন দিনের টানা ছুটি পেতে যাচ্ছেন কর্মজীবীরা।   এদিকে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টানা পাঁচ দিনের ছুটিও আজ শেষ হচ্ছে। নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) গত ১৯ মার্চ থেকে আজ ২৩ মার্চ পর্যন্ত এই ছুটি ঘোষণা করেছিল। ফলে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সংবাদপত্র অফিসগুলোতেও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে এবং যথারীতি নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন শুরু হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় | ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
দলমত–নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।   শনিবার (আজ) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মাটিতে ঈদ উদ্‌যাপন করতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দেশের মানুষ আরও শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ঈদ উদ্‌যাপন করতে পারবে।   তিনি আরও বলেন, জনগণ যে বাংলাদেশ দেখতে চায়, সেই প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং যাবে। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকলে নির্বাচিত সরকার দেশগঠনের কাজে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে। এ সময় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।   বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এ শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।   শেষে দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
১৯৬৭ সালের পর প্রথমবার: ঈদের দিনে বন্ধ আল-আকসা, রাস্তায় নামাজ আদায় মুসল্লিদের

ঐতিহাসিক নজির ভেঙে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ঈদুল ফিতরের দিনে বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথমবার ঈদের দিনে মুসল্লিদের জন্য মসজিদটি বন্ধ রাখা হলো বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনারা মসজিদের প্রধান ফটকগুলো বন্ধ করে দিলে শত শত ফিলিস্তিনি মুসল্লি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তারা মসজিদের প্রবেশদ্বার ও আশপাশের সড়কে ঈদের নামাজ আদায় করেন।   শুক্রবার থেকে মসজিদের ভেতরের চত্বরে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে মুসল্লিরা দামেস্ক গেট এলাকায় জড়ো হয়ে নামাজ আদায় করেন, যেখানে গিয়ে তারা তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি অবস্থান নিতে পেরেছেন।   এ ঘটনায় জেরুজালেম গভর্নরেট তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ এবং ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন করে ‘ইহুদিকরণ’ বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং মসজিদটিকে ফিলিস্তিনি ও ইসলামি পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।উল্লেখ্য, ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত শুরুর পর গত ২১ দিন ধরে আল-আকসা মসজিদ-এ মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে।   অন্যদিকে, গাজা উপত্যকা-য় ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই ঈদ পালন করেছেন ফিলিস্তিনিরা। খোলা জায়গা ও ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে তারা নামাজ আদায় করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ১ হাজার ২৪০টি মসজিদের মধ্যে ১ হাজার ১০০টির বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঐতিহ্যের আবহে লাখো মুসল্লির ঢল: সিলেটের শাহী ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সম্পন্ন

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শাহী ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে আয়োজিত এ জামাতে অংশ নেন লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ফলে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।   ভোর থেকেই সিলেট নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা ঈদগাহমুখী হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত শুরুর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় আশপাশের সড়ক, ফুটপাত ও খোলা স্থানেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন অনেকে।   প্রধান জামাতে ইমামতি করেন শায়েখে পীর সাহেব বরুণা। জামাতের আগে বয়ান করেন বন্দরবাজার জামে মসজিদের খতিব হাফিজ মাওলানা কামাল উদ্দিন। বয়ানে ঈদের তাৎপর্য, ত্যাগের শিক্ষা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।   নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কল্যাণ, দেশবাসীর সুখ-শান্তি এবং সব ধরনের দুর্যোগ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। এ সময় অনেক মুসল্লিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।   প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সিলেট জেলায় মোট ২ হাজার ৯৫৮টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় হয় ৩৯৬টি জামাত। বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে।   প্রধান জামাতে অংশ নেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।   ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয় ব্যাপক ব্যবস্থা। প্রায় ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল। প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়।   নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শহরের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ঈদের আনন্দ, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নতুন পোশাক ও উচ্ছ্বাসে প্রাণ ফিরে পায় পুরো নগরী।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার ঈদ ও নওরোজ বার্তা

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি ফার্সি নতুন বছর 'নওরোজ' এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি লিখিত বার্তা প্রদান করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই বার্তায় তিনি আধ্যাত্মিকতার বসন্ত এবং প্রকৃতির বসন্তের মিলনক্ষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসাথে তিনি বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকেও ঈদের শুভেচ্ছা জানান।   মোজতবা খামেনি তার বার্তায় নতুন সৌর বছরকে "জাতীয় ঐক্য ও নিরাপত্তার নিরিখে প্রতিরোধ অর্থনীতির বছর" হিসেবে ঘোষণা করেছেন। জানুয়ারি মাসে দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে একটি ‘চাপিয়ে দেওয়া অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত অর্থনৈতিক সমস্যার সুযোগ নিয়েই এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল।   তবে সরকার পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। এই অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তার শারীরিক অবস্থা ও আঘাতের মাত্রা এবং ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে যে, মোজতবা খামেনি ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
খাল পার হচ্ছেন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত
উৎসব নয়, ছিল কেবলই বেঁচে থাকার লড়াই: একাত্তরের ঈদের ফিরে দেখা ইতিহাস

১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বর—পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। কিন্তু সেই ঈদ ছিল না উৎসবের, ছিল আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার। মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদ এসেছিল এক ভিন্ন বাস্তবতা নিয়ে।   মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা, ধরপাকড় ও দখলদারিত্বের মধ্যে মানুষের জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে চলছিল প্রতিরোধ যুদ্ধ। এমন দমবন্ধ পরিস্থিতিতেই আসে ঈদ।   যেখানে রমজান এলেই চট্টগ্রাম নিউমার্কেট ও রেয়াজুদ্দিন বাজারে মানুষের ভিড় লেগে থাকত, সেখানে একাত্তরে ছিল নিস্তব্ধতা। নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, অনেকেই ন্যূনতম আয়োজনেই ঈদ পার করেছেন।   প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে—ঈদের দিনটিতে আনন্দের চেয়ে ভয়ই ছিল বেশি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণ, লুটপাট ও গণহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ত প্রতিনিয়ত। তবুও মানুষের মনে ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন।   কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল–এর পরিবারও সেই বাস্তবতার বাইরে ছিল না। তাঁর ছেলে আবুল মোমেন স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ভয়, আশঙ্কা আর আশাবাদের মধ্যেই ঈদ এসেছিল। ঘরে ভালো খাবার হলেও কোনো উৎসব ছিল না।”   মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক মাহফুজুর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ঈদ উদ্‌যাপনের কোনো পরিবেশই ছিল না। বরং নিরাপত্তার কারণে অনেককে বাড়ি না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পরাধীন দেশে ঈদে উৎসব বর্জনের আহ্বান জানিয়ে প্রচারপত্রও বিতরণ করা হয়েছিল।   চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যা শহরটিকে পরিণত করেছিল মৃত্যুপুরীতে। বন্দর, হালিশহর, লালখান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয় বড় বড় হত্যাকাণ্ড। অনেক জায়গায় নালা ও ম্যানহোল থেকেও উদ্ধার করা হয় লাশ।   ঈদের দিনও ছিল না নিরাপদ। পটিয়ার মনসা গ্রামে এক মায়ের কান্না আজও স্মৃতিতে জাগ্রত—যুদ্ধের কারণে মেয়েকে দেখতে না পারার বেদনা তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল। আবার কোথাও বাবাকে হারানো সন্তানের কান্না ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছিল।   ইতিহাস গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক তাঁর স্মৃতিচারণে লিখেছেন, “ঈদের দিন নতুন কাপড় ছিল না, ছিল শুধু দুধের সেমাই আর ভয়ের মধ্যে কাটানো কিছু সময়।”   সেদিনের ঈদ ছিল না কোলাকুলি বা আনন্দের—ছিল নীরবতা, আতঙ্ক আর বেঁচে থাকার সংগ্রাম। তবুও মানুষের অন্তরে ছিল একটিই বিশ্বাস—স্বাধীনতা আসবে, অন্ধকার কেটে যাবে। আজকের স্বাধীন দেশে আনন্দমুখর ঈদ উদ্‌যাপনের পেছনে তাই লুকিয়ে আছে সেই ত্যাগ, বেদনা আর সংগ্রামের ইতিহাস।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত, একসঙ্গে নামাজে অংশ নিলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহে দেশের প্রধান ঈদ জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ জামাতে শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান জানানো হয়।   শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।   সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঈদগাহে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কয়েক মিনিট পর রাষ্ট্রপতি সেখানে উপস্থিত হন।   প্রধান এই জামাতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।   নামাজে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। নামাজ শেষে খুতবা ও মোনাজাতে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সহিংসতা ও সংঘাত নিরসনের জন্য দোয়া করা হয়।   এবারের ঈদ এমন এক সময়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ঈদের বার্তা নতুন করে আশা ও সম্প্রীতির আহ্বান জানিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা থাকলেও ঈদের সকালে আকাশ মেঘলা থাকলেও নামাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।   সকাল থেকেই মুসল্লিদের ঢল নামে জাতীয় ঈদগাহে। প্রবেশের সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়; আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হয় এবং পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় রাখা হয়।   জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গাসহ প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।   এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: ফ্রিপিক
ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন—জানুন ইসলামি বিধান

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   ঈদের দিনে করণীয় ঈদের দিনটি শুরু হয় পবিত্রতা ও ইবাদতের মাধ্যমে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী-   গোসল ও পরিচ্ছন্নতা: ঈদের সকালে গোসল করা সুন্নাত। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। তাকবির পাঠ: ঈদের দিন বেশি বেশি তাকবির পড়া সুন্নাত। এটি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। উত্তম পোশাক পরিধান: সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন বা পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা উচিত। এটি আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ। তাকওয়া অর্জন: বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি আত্মিক পবিত্রতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঈদুল ফিতরের আগে খাওয়া: ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যক খেজুর খাওয়া সুন্নাত। ফিতরা আদায়: ঈদের নামাজের আগে ফিতরা প্রদান করা জরুরি, যাতে অসহায় মানুষেরাও ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে। ঈদগাহে যাওয়া: সম্ভব হলে হেঁটে যাওয়া এবং ভিন্ন পথে ফিরে আসা সুন্নাত। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। শুভেচ্ছা বিনিময়: ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ বলে পরস্পর শুভেচ্ছা জানানো উত্তম আমল।   ঈদের দিনে যা করবেন না ঈদের আনন্দ যেন ইসলামের শিক্ষা থেকে বিচ্যুত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি- ঈদের দিনে রোজা রাখা: সম্পূর্ণ হারাম। মুহাম্মদ (সা.) এই দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। অপ্রয়োজনীয় নফল নামাজ: ঈদের নামাজের আগে বা পরে ঈদগাহে কোনো নফল নামাজ আদায় নেই। ইবাদতে অবহেলা: ব্যস্ততার কারণে ঈদের নামাজ অবহেলা করা উচিত নয়। বিদআত ও কুসংস্কার: ধর্মে নেই এমন কাজকে ইবাদত মনে করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অপচয় ও অনৈতিক কাজ: ঈদের আনন্দ যেন অপচয়, জুয়া বা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে পরিণত না হয়।   ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈদ শুধু আনন্দের দিন নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার চর্চারও একটি বড় সুযোগ। তাই ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন তা শরিয়তের নির্দেশনা মেনে উদযাপন করা হয়।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঈদুল ফিতরের নামাজ: নিয়ত, নিয়ম ও তাকবিরের বিস্তারিত

দেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) মুসলিমরা উদ্‌যাপন করবেন পবিত্র ঈদুল ফিতর। আনন্দঘন এই দিনে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদগাহসহ বিভিন্ন মসজিদে ২ রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন।   দীর্ঘ সময় বিরতির কারণে অনেকেই ঈদের নামাজের নিয়ত, নিয়ম এবং তাকবির ভুলে যান। তাই এখানে ঈদের দিন যথাযথভাবে নামাজ পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হলো—   ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত আরবি: نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْفِطْرِ مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهْةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَر   বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাকাআতাইন সালাতিল ইদিল ফিতরি মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তা’আলা ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াঝঝিহান ইলা ঝিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।   অর্থ: “আমি ঈদুল ফিতরের ২ রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ৬ তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য আদায় করছি — ‘আল্লাহু আকবার।’”   ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম ঈমামের তাকরিরে তাহরিমা “আল্লাহু আকবার” বলে হাত বাঁধা শুরু করতে হবে। তাকবিরে তাহরিমার পর ছানা পড়তে হবে: “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।” এরপর অতিরিক্ত ৩ তাকবির প্রদান করা হবে, প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত তুলে ছেড়ে দিতে হবে। তৃতীয় তাকবিরে হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বাঁধতে হবে। এরপর আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহসহ সুরা ফাতিহা পড়া এবং আরেকটি সুরা সংযোজন করে প্রথম রাকাত সম্পন্ন করতে হবে। দ্বিতীয় রাকাতে একইভাবে বিসমিল্লাহ, ফাতিহা ও আরেকটি সুরা পড়া হবে এবং ৩ অতিরিক্ত তাকবির দেওয়া হবে। তারপর নিয়মিত রুকু-সিজদা সম্পন্ন করে বৈঠকে বসা, তাশাহহুদ, দরূদ ও দোয়া পড়ার মাধ্যমে নামাজ শেষ হবে।   নামাজের পর তাকবির   ঈদের নামাজের সালাম ফেরানোর পর তাকবির পড়তে হয়। আরবি ও বাংলা উচ্চারণ নিম্নরূপ: আরবি: اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد   বাংলা: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, ওয়া-লিল্লাহিল হামদ্‌।” এ সময় ইমাম দু’টি খুতবা দেবেন। মুসল্লিদের মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে হবে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর: সিয়াম সাধনা শেষে খুশির ঈদ

অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে এক ফালি রুপালি চাঁদ দেখা মাত্র ঘরে ঘরে বেজে উঠল ঈদের চিরচেনা সুর, ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আজ শনিবার সারা দেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও আত্মশুদ্ধির এক বড় উপলক্ষ।   রমজান মাসব্যাপী ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট উপভোগ করে দরিদ্রদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা, আজ তার পূর্ণতা পায়। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজের সকলের জন্য উৎসব নিশ্চিত করা হয়, যা ঈদের সাম্যবোধের এক অনন্য উদাহরণ।   যাত্রী ও ভ্রমণকারীদের ভিড়ে গত কয়েকদিন ধরেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ছিল তীব্র ব্যস্ততা। দীর্ঘ সময়ের যানজট ও ক্লান্তি আজ ম্লান হয়ে গেছে প্রিয়জনের সঙ্গে পুনর্মিলনের আনন্দে। ঘরে ফিরেই অনুভূত হয় পরিবার ও বাড়ির উষ্ণতা, মায়ের হাসি ও ভাইবোনের খুনসুটি।   উৎসবের প্রস্তুতি ও প্রার্থনা রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চল, সবখানেই এখন ঈদের আমেজ। পাড়ার দোকানগুলোতে ছিল আতর, টুপি, সেমাই ও চিনি কেনার ভিড়। ভোর থেকেই গৃহিণীরা রান্নাবান্নার শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। রাজধানীর বিউটি পার্লারগুলোয় লম্বা লাইন এবং রাতভর চলছিল মেহেদি আঁকার আয়োজন। দেশের নানা প্রান্তে বসেছে ঈদমেলা, যা চারপাশে আনন্দ ও রঙিন উৎসবের আবহ ছড়িয়ে দিচ্ছে।   বাসস জানিয়েছে, দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক ইমামতি করবেন। আবহাওয়া বা অন্যান্য কারণে যদি জাতীয় ঈদগাহে জামাত সম্ভব না হয়, তবে সকাল ৯টায় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নারীদের জন্য আলাদা নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া পাঁচটি পর্যায়ক্রমিক জামাত সকাল ৭টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।   নামাজ শেষে মানুষ একে অপরকে বলবেন “ঈদ মোবারক” এবং কবরস্থানে প্রিয়জনদের রুহের মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করবেন। বিকেলে পরিবারসহ বেড়াতে যাওয়াও ঈদের আনন্দের অংশ।   সম্প্রীতি ও আগামীর অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা দেশবাসীর সুখ, সমৃদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তবে উৎসবের আনন্দে তা প্রভাব ফেলতে পারেনি। সামর্থ্য অনুযায়ী সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এই আনন্দকে আরও পূর্ণতা দেবে।   কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর পঙ্‌ক্তিই আজকের ঈদের মর্ম—“যারা জীবন ভ’রে রাখছে রোজা, নিত্য উপবাসী, সেই গরীব, এতিম, মিসকিনে দে যা কিছু মফিদ, ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ। তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানী তাগিদ।”   আজকের দিন শুধু আনন্দের নয়, বরং মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকারের প্রতীক। ঈদ যেন সকলের জীবনে শান্তি, কল্যাণ ও আনন্দ বয়ে আনে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে রেমিট্যান্স, চাঙা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার।   এর আগে, ৩ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৫.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩০.৫৮ বিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরা হয়েছিল।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা ২২০.৪৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৭,০০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এই প্রবাহ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ঈদ উৎসবের আগে স্বস্তি যোগ করেছে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে ঈদের শিক্ষা অনুপ্রেরণা দেবে: রাষ্ট্রপতি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশ-বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ঈদের শিক্ষা একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে নতুন উদ্যম ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।   শুক্রবার (২০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, রমজান মাসের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি অর্জন করে এবং অন্যায়-অবিচার থেকে দূরে থাকার শিক্ষা পায়। এই শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।   তিনি আরও বলেন, ঈদুল ফিতর ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধন দৃঢ় করে। একটি শান্তিপূর্ণ, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে ঈদের তাৎপর্য অপরিসীম।   রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ত্যাগ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঈদের চেতনা সবার মাঝে ইতিবাচক শক্তি জোগাবে।   বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবের কথাও উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সমাজের সচ্ছল ও বিত্তবানদের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।   বাণীর শেষে রাষ্ট্রপতি দেশের সার্বিক কল্যাণ, শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং সবার জীবনে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ভক্তদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ছবি: সংগৃহীত
ভক্তদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে ভক্ত ও মুসলিম সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক-এ নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সবাইকে ঈদ মোবারক। আশা করি আপনারা পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে একটি বিশেষ দিন কাটাচ্ছেন। সবার জন্য শান্তি ও সুখ কামনা করছি।   পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলারের পোস্টটি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। মুহূর্তেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং মন্তব্যের ঘরে ভক্তরা তাঁকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।   বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর-এ খেলার সুবাদে মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে রোনালদোর সংযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও তিনি ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা শেয়ার করলেন।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদের শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এই উৎসবের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।   প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে আনন্দ, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে। রমজান মাস আমাদের আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও অন্যের কষ্ট অনুভব করার যে শিক্ষা দেয়, তা ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত করাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য। তিনি ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।   তারেক রহমান আরও বলেন, ঈদের এই আনন্দের দিনে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার। তিনি ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিধিনিষেধে আল-আকসায় ঈদের নামাজ বন্ধ, ছয় দশকে প্রথম ঘটনা

ইসরায়েলের কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় ছয় দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে ফিলিস্তিনজুড়ে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিরা মসজিদের আশপাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে ইসরায়েলি বাহিনী স্টান গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে সড়ক ও ফুটপাতে নামাজ আদায় করেন।   ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম ঈদের দিনে আল-আকসা মসজিদ কার্যত বন্ধ রাখা হলো। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পুরো মসজিদ চত্বর সিলগালা করে দিলে মুসল্লিরা নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থান নেন। এ পরিস্থিতিতে আল-আকসার খতিব ও জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ইকরিমা সাবরি মুসলিমদের মসজিদের নিকটতম স্থানে ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান।   শুক্রবার সকালে ওল্ড সিটির প্রবেশপথগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হলে শত শত মানুষ বাইরে অবস্থান নেন। মসজিদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।   নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আল-আকসা প্রাঙ্গণ কার্যত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তবে ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে মসজিদ চত্বরে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে চায় ইসরায়েল।   সাম্প্রতিক সময়ে জেরুজালেমে ধর্মীয় নেতা ও মুসল্লিদের গ্রেপ্তারের ঘটনাও বেড়েছে। একই সঙ্গে বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।   বিবর্ণ ঈদ জেরুজালেমে সাধারণত ঈদের সময় জেরুজালেমের পুরোনো শহর ফিলিস্তিনিদের ভিড়ে মুখর থাকে। তবে এবারের ঈদে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে শহরজুড়ে ছিল অস্বাভাবিক নীরবতা। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন আর্থিক সংকটে।   এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন, আরব লিগ এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন। এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো বলেছে, এই পদক্ষেপ জেরুজালেমের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থার গুরুতর লঙ্ঘন।   গাজায় শোকের ছায়ায় ঈদ এদিকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা-তেও ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে লাখো মানুষ ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার সীমিত সামর্থ্য নিয়ে ঈদ পালন করছেন। কেউ হারিয়েছেন ঘর, কেউ প্রিয়জন। ফলে আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
শুক্রবার সন্ধ্যায় টেলিভিশন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও
ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের মানুষকে একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।   শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রচারিত এক টেলিভিশন বার্তায় তিনি বলেন, রমজান মাসের শিক্ষা ও সংযমের আদর্শকে ধারণ করে সবাই যেন পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ উদযাপন করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) বার্তাটি সম্প্রচার করে।   প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আসে মুসলিম উম্মাহর জন্য ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা নিয়ে। সমাজের সব স্তরের মানুষের মাঝে যেন ঈদের আনন্দ সমানভাবে পৌঁছে যায়—সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।   এ সময় তিনি দেশের জনগণসহ বিশ্বের মুসলিমদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে সবাইকে ঈদ মোবারক বলেন।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0