- প্রচ্ছদ
- Topic
উত্তর কোরিয়া
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কিশোরী মেয়েকে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। সংস্থাটির সেপ্টেম্বরের মূল্যায়নে বলা হয়, মেয়েটির অবস্থান আরও জোরালো হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই তিনি বাবার সঙ্গে অন্তত ৩০টি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কিমের মেয়েকে সাধারণত ‘কিম জু আয়ে’ নামে উল্লেখ করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস আইনপ্রণেতাদের জানায়, তাঁকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তাদের ধারণা। এপ্রিলে সংস্থাটি আরও জানায়, জু আয়েকে উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আনার পক্ষে তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তবে এগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার মূল্যায়ন; উত্তর কোরিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। জু আয়েকে প্রথম প্রকাশ্যে দেখা যায় ২০২২ সালের নভেম্বরে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সময়। এরপর সামরিক পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও তাঁকে কিমের সঙ্গে দেখা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দাদের ধারণা, এই উপস্থিতিগুলো ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য তাঁকে পরিচিত করে তোলার অংশ হতে পারে। সর্বশেষ ১৯ অক্টোবর পিয়ংইয়ংয়ে পোশাক ও জুতার একটি প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময়ও কিমের সঙ্গে তাঁর মেয়েকে দেখা যায়। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ছবির ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ। তাঁর নাম বা বয়স কোনোটিই উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাঁকে কিমের ‘সম্মানিত’ কন্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তিনি সম্ভবত ২০১৩ সালে জন্মেছেন। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিতি উত্তরাধিকার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিলেও উত্তরসূরি চূড়ান্ত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে তা যথেষ্ট নয়। সূত্র: ইয়োনহাপ, রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে সীমান্তে আবারও বিশালাকার লাউডস্পিকার চালুর ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে সীমান্তে নতুন সামরিক অবস্থান ও প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়াকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, পিয়ংইয়ংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিউল হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখলে তাদের ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। জাপান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিম ইয়ো জং বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ পুরো সীমান্তজুড়ে দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী এসব লাউডস্পিকার সক্রিয় করা হবে। এর আগে বুধবার রাতে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের সেনা দুর্গ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন কিম ইয়ো জং। এ সময় তিনি জানান, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক ইউনিটগুলো সীমান্তে নতুন অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে সীমান্ত এলাকায় উসকানিমূলক বার্তা সম্প্রচার এবং সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। কিম ইয়ো জং স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এসব গুলিতে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা কোনো সেনাসদস্য সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং উত্তর কোরিয়ার বাহিনী বিনা দ্বিধায় নির্মমভাবে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও আত্মরক্ষামূলক বলে দাবি করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা ও একীভূতকরণ মন্ত্রণালয় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাতিসংঘ কমান্ডের সহায়তায় অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) নিয়ন্ত্রণ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিম ইয়ো জংয়ের এই কড়া প্রতিক্রিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের দুই দেশের বৈরিতা কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে সিউল এ কথাও স্পষ্ট করেছে যে, উত্তর কোরিয়া তাদের হুমকি বাস্তবায়ন করলে দক্ষিণ কোরিয়াও এর সমানুপাতিক ও উপযুক্ত জবাব দেবে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে ডিএমজেড সীমান্তে দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। ঐতিহাসিকভাবেই দুই দেশ এই সীমান্তে প্রচারযুদ্ধের অংশ হিসেবে বড় আকারের লাউডস্পিকার ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চালিয়ে আসছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুলের মতে, কিম ইয়ো জংয়ের হুমকির অর্থ এই নয় যে লাউডস্পিকারগুলো তাৎক্ষণিকভাবেই চালু হয়ে যাবে, তবে এ ঘোষণা সিউল প্রশাসনের সামনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট তৈরি করেছে। সীমান্তে লাউডস্পিকার পুনরায় চালুর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুই কোরিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা যে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে, তা নিয়ে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উচ্চগতির ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নতুন একটি টর্পেডোর পানির নিচে পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জ্যাম-২.০’ নামের এই অস্ত্র শত্রুর লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এবং সেদিকে নির্ভুলভাবে এগিয়ে যেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষাটি চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই পরীক্ষা দেশটির নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে অস্ত্রটির প্রকৃত গতি, পাল্লা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) শনিবার পরীক্ষার খবর প্রকাশ করে। তাদের ভাষ্য, টর্পেডোটির চালনা ব্যবস্থা ও রকেটচালিত প্রপালশন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এ-সংক্রান্ত প্রযুক্তির ওপর ১৮০টিরও বেশি পরীক্ষা চালানোর পর সাম্প্রতিক পরীক্ষাটি নেওয়া হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা একে নৌবাহিনীর উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে পরীক্ষার স্থান, অস্ত্রটির কার্যকর পাল্লা কিংবা বাস্তব পরিস্থিতিতে এর সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়, এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জ্যাম-২.০ এমন এক ধরনের টর্পেডো হতে পারে, যা পানির নিচে চলার সময় নিজের সামনের অংশে বায়ুর বুদ্বুদ তৈরি করে পানির বাধা কমায়। এ প্রযুক্তিকে ‘সুপারক্যাভিটেশন’ বলা হয়। এর ফলে প্রচলিত টর্পেডোর তুলনায় অনেক বেশি গতিতে চলা সম্ভব হতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়ার নতুন অস্ত্রটিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানো হয়েছে, সে বিষয়েও পিয়ংইয়ং কোনো প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা দেয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করার ইতিহাস রয়েছে বলে মনে করেন কিছু পর্যবেক্ষক। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রের দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণে সফটওয়্যারের উন্নতি সম্ভব হলেও পানির নিচে অত্যন্ত উচ্চগতিতে চলার সময় লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা ও নির্ভুলভাবে গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। তাই উত্তর কোরিয়ার ঘোষণাকে দেশটির দাবির ভিত্তিতেই বিবেচনা করা হচ্ছে, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত সক্ষমতা হিসেবে নয়। সাম্প্রতিক সময়ে নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনে সক্রিয় হয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত বুধবার দেশটি সাবমেরিন থেকে দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। প্রায় তিন বছর পর পানির নিচ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ফেরার এই ঘটনাকে দেশটির নৌবাহিনী শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। পাশাপাশি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে পিয়ংইয়ং। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা কৌশলে নৌবাহিনীর ভূমিকাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী মাসে চীনে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের সময় দুই নেতার সাক্ষাৎ হতে পারে বলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ২০১৯ সালে কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কথিত বৈরী নীতি প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে না রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। নতুন টর্পেডো পরীক্ষার দাবি এমন এক সময় সামনে এল, যখন কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
২০১১ সালের ডিসেম্বরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে কঠোর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে দেখা যায়, পিয়ংইয়ংয়ের সড়ক ও বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভের সামনে হাজার হাজার মানুষ কাঁদছেন, চিৎকার করছেন এবং বুক চাপড়াচ্ছেন। তবে পরে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে, এই শোক শুধু আবেগের প্রকাশ ছিল না, বরং তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। কিম জং ইল ২০১১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় ১৯ ডিসেম্বর। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কমিটি ১৭ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক শোকপর্ব ঘোষণা করে। ২৮ ডিসেম্বর পিয়ংইয়ংয়ে তার শেষকৃত্য এবং পরদিন কেন্দ্রীয় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে কিম জং ইলের শেষযাত্রার সময় তুষারে ঢাকা সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষকে কাঁদতে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও সে সময় পিয়ংইয়ংয়ের শোকানুষ্ঠানের দৃশ্য প্রচার করে। তবে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ সূত্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি এনকে পরে জানায়, এসব অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতি এবং আচরণ অনেক ক্ষেত্রেই সংগঠিত ও বাধ্যতামূলক ছিল। ডেইলি এনকের ২০১১ সালের ডিসেম্বরের একটি প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, কারখানা, কর্মস্থল ও স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট থেকে নির্দিষ্ট সময় ধরে মানুষকে শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে পাঠানো হচ্ছিল। অনেকের জন্য স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো কার্যত বাধ্যতামূলক ছিল। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ আসে শোকপর্ব শেষ হওয়ার পর। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ডেইলি এনকে উত্তর হামগিয়ং প্রদেশের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, যারা আয়োজিত শোকসভায় অংশ নেননি অথবা উপস্থিত হয়েও যথেষ্ট দুঃখ প্রকাশ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল। প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, কারও শোক যথেষ্ট আন্তরিক মনে না হলে তাকে অন্তত ছয় মাসের জন্য শ্রম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কর্মস্থল ও স্থানীয় ইউনিটে আত্মসমালোচনামূলক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। যারা শোকানুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের দেশদ্রোহী এবং যাদের আচরণ যথেষ্ট শোকাহত মনে হয়নি, তাদের প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগও উঠে আসে। তবে উত্তর কোরিয়া অত্যন্ত বন্ধ ও তথ্যনিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র হওয়ায় এসব শাস্তির পূর্ণাঙ্গ সরকারি নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। ফলে ডেইলি এনকের এসব তথ্যকে অভ্যন্তরীণ সূত্রনির্ভর প্রতিবেদন হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। শেষকৃত্যের দিন পোশাক নিয়েও কঠোর নির্দেশনার অভিযোগ ছিল। ডেইলি এনকের একটি প্রতিবেদনে পিয়ংইয়ংয়ের এক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ২৮ ডিসেম্বরের শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের টুপি, গ্লাভস ও স্কার্ফ না পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তখন পিয়ংইয়ংয়ের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ছিল। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শোকযাত্রার সারির পেছনে পর্যবেক্ষক রাখা হয়েছিল। তবে এই দাবির সব অংশ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। একই সময়ের কিছু ছবি ও আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনে কিছু অংশগ্রহণকারীকে শীতের পোশাক পরতেও দেখা যায়। ফলে পোশাকসংক্রান্ত নির্দেশনার প্রয়োগ কতটা সর্বজনীন ছিল, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় শোকপর্বে বিনোদন, মদ্যপান এবং উচ্চস্বরে উৎসবধর্মী কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার নির্দেশ ছিল বলেও সে সময় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়। বাজার কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখার কথাও ডেইলি এনকের অভ্যন্তরীণ সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে উঠে আসে। আরও কঠোর কিছু দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর সবগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত নয়। বিশেষ করে নিজের পরিবারের কেউ মারা গেলে প্রকাশ্যে কাঁদা নিষিদ্ধ ছিল কিংবা শোকের নিয়ম ভাঙলেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন প্রমাণ সীমিত। তাই এসব বিষয়কে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। তবে তুলনামূলকভাবে শক্তভাবে নথিবদ্ধ যে বিষয়টি হলো, কিম জং ইলের মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ায় শোক ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে সংগঠিত, পর্যবেক্ষিত এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত। ডেইলি এনকের পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগ করা হয়, শোকপর্বে অনুপস্থিতি, মদ্যপান, সরকারের সমালোচনা বা শোকের আবহ ভঙ্গ করার অভিযোগে কাউকে শ্রমশিবিরে পাঠানো, দলীয় পদ হারানো কিংবা দূরবর্তী এলাকায় নির্বাসনের মতো শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। কিম জং ইলের শেষকৃত্য শুধু একজন নেতার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। এটি একই সঙ্গে ক্ষমতা তার ছেলে কিম জং উনের হাতে হস্তান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। শেষযাত্রায় কিম জং উনকে বাবার কফিনবাহী গাড়ির পাশে হাঁটতে দেখা যায়। এরপর দ্রুতই তিনি উত্তর কোরিয়ার নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
চাকরির ইন্টারভিউ ও নিয়োগ পরীক্ষাকেই সাইবার হামলার ফাঁদে পরিণত করেছে উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট ‘ওয়াটারপ্লাম’ নামের একটি হ্যাকিং গ্রুপ। ভুয়া নিয়োগকারী বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে আইটি পেশাজীবীদের চাকরির প্রস্তাব দিয়ে ইন্টারভিউ, কোডিং পরীক্ষা কিংবা সফটওয়্যার সমস্যা সমাধানের নামে ক্ষতিকর ফাইল ও কোড চালাতে প্রলুব্ধ করছে তারা। এতে কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার ঢুকে চুরি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ক্রিপ্টোকারেন্সি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট সাইবার ক্রাইম সেন্টার, জাপানের ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি, অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং জার্মানির সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ১৮ সেপ্টেম্বর যৌথভাবে এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ‘ওয়াটারপ্লাম’কে ‘কনটেজিয়াস ইন্টারভিউ’ নামেও শনাক্ত করা হয়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই কার্যক্রমে ১০০টির বেশি দেশে অন্তত ৩০ হাজার ডিভাইস আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে ৭ হাজারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট থেকে অর্থ বা অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হিসাবে, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অন্তত ১.৭ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১০.৭১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি উত্তর কোরিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপার, ওয়েব ডিজাইনার, ইঞ্জিনিয়ার এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি, ব্লকচেইন ও ওয়েব৩ খাতের বিশেষজ্ঞরা এই হামলার প্রধান লক্ষ্য। হ্যাকাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন চাকরির প্ল্যাটফর্ম, গিগ-ওয়ার্ক সেবা ও ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা এনএফটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। ফাঁদের পরের ধাপটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ভুয়া ইন্টারভিউ বা টেকনিক্যাল অ্যাসাইনমেন্টের সময় প্রার্থীকে কোনো কোড চালানো, ফাইল ডাউনলোড করা, সফটওয়্যারের সমস্যা সমাধান করা কিংবা নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে বলা হয়। কিন্তু এসব নির্দেশনার আড়ালে থাকতে পারে ক্ষতিকর কোড। সেটি চালানোর পর ম্যালওয়্যার আক্রান্ত কম্পিউটারে প্রবেশ করে এবং হ্যাকাররা লগইন তথ্য, সংবেদনশীল নথি ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত তথ্য চুরি করতে পারে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, আক্রান্ত ডিভাইসের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কর্মস্থল বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানের তথ্য, মেধাস্বত্ব বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেমের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ধরনের প্রতারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ফেস-সোয়াপ প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও আগে থেকেই এফবিআইয়ের নজরে রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট কিছু আইটি কর্মী ভিডিও ইন্টারভিউতে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করতে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। ফলে শুধু ভিডিও কলে প্রার্থীর চেহারা দেখেই পরিচয় নিশ্চিত না করে অতিরিক্ত যাচাইয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিশেষ করে আইটি চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক থাকতে বলেছে। অচেনা নিয়োগকারীর পাঠানো কোড, ফাইল বা সফটওয়্যার নিজের মূল কম্পিউটারে চালানোর আগে তার উৎস যাচাই করা জরুরি। একইভাবে কোনো চাকরির প্রস্তাবে অস্বাভাবিকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ পরিশোধ, অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ব্যবহার কিংবা পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্যে অসঙ্গতি থাকলে বাড়তি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এফবিআইয়ের সাইবার সতর্কতা তালিকাতেও ‘ওয়াটারপ্লাম’ বা ‘কনটেজিয়াস ইন্টারভিউ’ নিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বরের যৌথ সতর্কবার্তাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংস্থাগুলোর মতে, চাকরির স্বাভাবিক নিয়োগপ্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশের এই কৌশল আইটি পেশাজীবী ও নিয়োগদাতা—দুই পক্ষের জন্যই নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। Source: এফবিআই, মার্কিন ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট সাইবার ক্রাইম সেন্টার
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত ২০২০ সালে সীমান্তে আন্তঃকোরীয় যোগাযোগ কার্যালয় উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওন বা প্রায় ৩২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় দেন। কায়েসং সীমান্ত এলাকায় থাকা ওই কার্যালয়টি ২০১৮ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চালু করা হয়েছিল। তবে ২০২০ সালের ১৬ জুন উত্তর কোরিয়া বিস্ফোরক ব্যবহার করে ভবনটি ধ্বংস করে। সে সময় উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করেছিল, দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে সীমান্তে সরকারবিরোধী প্রচারপত্র পাঠানো বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার তিন বছর পর, ২০২৩ সালের জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করে। এটিই উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সরাসরি করা প্রথম মামলা বলে জানিয়েছে রয়টার্স ও এপি। আদালত দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি করা পুরো ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ওনই অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ধ্বংস হওয়া যোগাযোগ কার্যালয়ের জন্য ১০ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ওন এবং পাশের একটি সহযোগিতা কেন্দ্রের ক্ষতির জন্য ৩৪ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ওন ধরা হয়েছে। তবে রায় হলেও উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে অর্থ আদায় করা কঠিন। মামলার শুনানিতে উত্তর কোরিয়ার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে পিয়ংইয়ংকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই রায়টি বাস্তবে অর্থ আদায়ের চেয়ে প্রতীকী আইনি পদক্ষেপ হিসেবেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুই কোরিয়ার মধ্যে আবারও সংলাপ ও সহযোগিতা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে সিউল। সোর্স: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার একদিন পর পূর্ব উপকূল থেকে সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে চালানো এই উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর ওনসানের এলাকা থেকে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পূর্ব সাগরে গিয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সুনির্দিষ্ট ধরন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিস্তারিত বিশ্লেষণ চলছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো উৎক্ষেপণের শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। জাপানের সঙ্গেও এ বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান করা হয়েছে। সম্ভাব্য আরও উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করেছে। উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করে। বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ঘটনাটিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে এবং উত্তর কোরিয়াকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ উৎক্ষেপণ তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বা দেশটির মিত্রদের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়াসহ আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতিরক্ষায় ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি বহাল রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি এমন সময়ে হলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান তাদের পাঁচ দিনের ‘ফ্রিডম এজ’ যৌথ সামরিক মহড়া শেষ করেছে। ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোকাবিলায় তিন দেশের সামরিক সমন্বয় ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোই ছিল মহড়ার অন্যতম লক্ষ্য। উত্তর কোরিয়া শুরু থেকেই এই মহড়ার বিরোধিতা করে আসছিল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম সং-গি মহড়া শুরুর দিন সতর্ক করে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া শক্ত অবস্থান থেকে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে সম্ভাব্য আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া প্রায়ই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়ার সময় বা তার পরপরই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। গত ২০ আগস্টও দেশটি পূর্ব সাগরের দিকে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এবার ২৩ দিনের বিরতির পর আবারও একই ধরনের উৎক্ষেপণ করা হলো। এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে দেশটি ‘ক্যাং কন’ নামে প্রায় ৫ হাজার টন ওজনের একটি নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করেছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন জানিয়েছেন, জাহাজটি দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে তাই শুধু সামরিক মহড়ার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং দেশটির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদর্শনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামরিক হামলার প্রস্তুতি নির্দেশ করে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আল জাজিরা
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের কোনো ছেলে সন্তান আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) জানিয়েছে, কিমের বড় ছেলে থাকার খবর যাচাই করা হচ্ছে। তবে ছেলে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে কিমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং কিমের কিশোরী মেয়ে কিম জু অ্যাইকে এখনও উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী নেতা হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে সংস্থাটি। কিমের পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন কিম জং উনের স্ত্রী রি সল জুর কোনো ছেলে সন্তান নেই। এর পরই এনআইএস জানায়, কিমের বড় ছেলে আছে কি না, সে বিষয়ে তারা এখনও তথ্য যাচাই করছে। এনআইএসের আগের মূল্যায়ন অনুযায়ী, কিমের মেয়ে জু অ্যাইকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তার বয়স আনুমানিক ১৩ বছর। তবে তার নাম বা বয়স উত্তর কোরিয়ার সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। কিমের মেয়ের নাম জু অ্যাই হওয়ার তথ্যের মূল ভিত্তি সাবেক এনবিএ তারকা ডেনিস রডম্যানের বক্তব্য। ২০১৩ সালে পিয়ংইয়ং সফরের সময় কিমের শিশুকন্যাকে কোলে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে কিম জং উনের সঙ্গে মেয়েটির প্রকাশ্য উপস্থিতি ক্রমেই বেড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, সামরিক কুচকাওয়াজ, অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন এবং সামরিক মহড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে বাবার পাশে দেখা গেছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তাকে কিমের ‘সবচেয়ে প্রিয়’ বা ‘সম্মানিত’ সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেছে। চলতি মাসের শুরুতেও কিম জং উনের সঙ্গে একটি নতুন যুদ্ধজাহাজের কমিশনিং অনুষ্ঠানে মেয়েটিকে দেখা যায়। এর আগে সামরিক মহড়ায় বাবার সঙ্গে অস্ত্র পরিদর্শন ও পিস্তল পরীক্ষাতেও তাকে দেখা গেছে। এসব প্রকাশ্য উপস্থিতি তার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণাকে আরও জোরালো করেছে। তবে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ১৯৪৮ সালে দেশটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কিম পরিবারের তিন প্রজন্মের শাসকই পুরুষ। কিম জং উনের আগে তার বাবা কিম জং ইল এবং দাদা কিম ইল সুং দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে একজন নারীকে সর্বোচ্চ নেতৃত্বে মেনে নেওয়া নিয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এনআইএস জানিয়েছে, কিমের আরও একটি ছোট সন্তান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে সেই সন্তানের লিঙ্গ নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে কিমের বড় ছেলে আদৌ আছেন কি না, সেটিও এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। কিম জং উনের বয়স বর্তমানে ৪২ বছর। ফলে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এত অল্প বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি নির্ধারণ করা তার জন্য প্রয়োজনীয় নয়। উত্তরসূরি ঘোষণা করলে তার নিজের রাজনৈতিক কর্তৃত্বেও প্রভাব পড়তে পারে বলে তাদের মত। তারপরও মেয়ের ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক অনুষ্ঠানে উপস্থিতি উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে চলেছে। আপাতত দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন হলো, কিমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে জু অ্যাইয়ের অবস্থানই সবচেয়ে শক্তিশালী।
উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার ‘ক্যাং কন’। দেশটির নেতা কিম জং উন বলেছেন, যুদ্ধজাহাজটি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করবে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা গড়ে তুলবে। রোববার পূর্ব উপকূলের ওয়ানসান বন্দরে আয়োজিত কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম জং উন নতুন যুদ্ধজাহাজটি পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রি সল-জু ও মেয়ে কিম জু-এ। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, জাহাজটি দেশটির পূর্ব সাগর বহরে যুক্ত করা হয়েছে। কিম বলেন, নতুন প্রজন্মের এই ডেস্ট্রয়ারকে রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক পাল্টা-আঘাত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে সক্ষম হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনীতে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্যাং কন ডেস্ট্রয়ারে বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। রয়টার্সও জানিয়েছে, কেসিএনএ যুদ্ধজাহাজটি পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার অংশ হবে বললেও এতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি। ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাং কন উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার। এর আগে একই শ্রেণির ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের প্রথম যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হয়। গত জুলাইয়ে ক্যাং কন থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও চালানো হয়েছিল বলে উত্তর কোরিয়ার দাবি। যুদ্ধজাহাজটির নির্মাণেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। গত বছরের মে মাসে প্রথমবার পানিতে নামানোর সময় এটি উল্টে যায়। পরে মেরামতের পর প্রায় এক মাসের মধ্যে আবার জাহাজটি পানিতে নামানো হয়। উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে নৌবাহিনী আধুনিকায়নে জোর দিয়েছে। দেশটি পশ্চিম ও পূর্ব উভয় উপকূলে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন নৌযান মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ১০ হাজার টন শ্রেণির আরও বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। এদিকে নতুন যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে যুক্ত করার খবর এমন সময়ে এলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ‘ফ্রিডম এজ’ নামে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে সমালোচনা করে আসছে।
জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ‘ফ্রিডম এজ ২৬’ নামের এই মহড়া ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুষ্ঠিত হবে। তিন দেশের সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহড়ায় সমুদ্র, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রসহ একাধিক ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, বিমান প্রতিরক্ষা, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান এবং সমুদ্রপথে বাধাদানের মতো সামরিক কার্যক্রমও মহড়ার অংশ হবে। ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া প্রথম শুরু হয় ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৪ সালের জুন ও নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এর আয়োজন করা হয়। এবার চতুর্থ দফায় তিন দেশ একসঙ্গে এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, মহড়াটি নিয়মিত ও প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে মহড়াটির ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়। ১৭ আগস্ট শুরু হওয়া ওই মহড়া ১১ দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনেই শেষ করা হয়। ট্রাম্পের নির্দেশেই এর সময় কমানো হয়েছিল বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে বড় আকারের সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনাপূর্ণ বার্তা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এর মধ্যেই জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে মহড়াটি পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হলে পিয়ংইয়ং এটিকে সামরিক চাপ হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চলমান প্রচেষ্টার গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে তিন দেশের যৌথ মহড়াকে শুধু উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে দেখছেন না কিছু বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় মহড়াগুলো মূলত উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির ওপর জোর দিলেও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় মহড়ার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। এটি পূর্ব এশিয়ায় চীনের সামরিক প্রভাব মোকাবিলায়ও একটি প্রতিরোধমূলক বার্তা দিতে পারে। এবারের ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়ায় তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় এবং তিন দেশের বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমকে আরও উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক ও বিমান সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবহার, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা পরিস্থিতির অনুশীলন এবং আহত বা বিপদে পড়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণও থাকবে। মহড়ার নির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম, জাহাজ বা বিমানসংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগের আয়োজনগুলোর মতো এবারও এর সময়কাল প্রায় পাঁচ দিন থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চলতি আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া চলাকালে পিয়ংইয়ং প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। ফলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রিপক্ষীয় মহড়াকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। একদিকে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ খোলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রাখছে। এই দুই ধারার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোলকে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই "কাঠামোগত পুনর্গঠন পরিকল্পনা" অনুমোদিত হয় বলে রবিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ (KCNA) নিশ্চিত করেছে। কেসিএনএ-এর তথ্যমতে, নো কোয়াং চোলকে কেবল প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকেই সরানো হয়নি, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্বেও তার পদাবনতি ঘটিয়ে ‘যুদ্ধাস্ত্র শিল্প বিভাগের প্রথম ভাইস ডিরেক্টর’ করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কোরিয়ান পিপলস আর্মির জেনারেল পলিটিক্যাল ব্যুরোর পরিচালক কিম সং গিকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পাক জং চোনকে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাসীন দলের শক্তিশালী পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল ও পদোন্নতি ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শেষ হওয়ার পরপরই উত্তর কোরিয়ার সামরিক নেতৃত্বে এই বড় পরিবর্তনের ঘটনা ঘটল। পিয়ংইয়ং বরাবরই এ ধরনের যৌথ মহড়াকে দেশটিতে আগ্রাসনের মহড়া হিসেবে কঠোর সমালোচনা করে আসছে। তবে এ বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মহড়ার সময়সীমা সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দিলে বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ট্রাম্প এই মহড়াকে উত্তর কোরিয়ার জন্য উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে সিউলের সমালোচনা করেন এবং কিম জং উনের ইতিবাচক প্রশংসা করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং শহরে একটি সম্মেলনে যোগ দিতে চেয়েছিলেন কেনিয়ার ড্যানিয়েল ওলোমায়ে ওলে সাপিত। কিন্তু গন্তব্যের নামের সামান্য ভুলে তার যাত্রা শেষ হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দেশে। দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ের বদলে ভুল করে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের টিকিট কেটে ফেলেছিলেন তিনি। সেখানে পৌঁছানোর পর কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালে। কেনিয়ার মাসাই সম্প্রদায়ের সদস্য সাপিত তখন জীববৈচিত্র্যবিষয়ক একটি জাতিসংঘ সম্মেলনে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার ভ্রমণ সংস্থা গন্তব্যের নাম গুলিয়ে পিয়ংচ্যাংয়ের পরিবর্তে পিয়ংইয়ংয়ের টিকিট করে দেয়। দুই শহরের নামের উচ্চারণ ও বানানে মিল থাকায় ভুলটি সময়মতো ধরা পড়েনি। সাপিতের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানে ওঠার পরও তিনি বুঝতে পারেননি যে গন্তব্য ভুল হয়েছে। বিমানটি যখন অবতরণের দিকে যাচ্ছিল, তখন জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে তার সন্দেহ হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক ও ঘনবসতিপূর্ণ নগরীর বদলে নিচে তার চোখে পড়ে তুলনামূলক ছোট একটি বিমানবন্দর ও ভিন্ন ধরনের পরিবেশ। পরে উত্তর কোরিয়ার সুনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর ভুলটি তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। সেখানে বিপুলসংখ্যক সামরিক সদস্য ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের ছবি দেখতে পান তিনি। তখনই বুঝতে পারেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে নয়, উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে এসে পৌঁছেছেন। উত্তর কোরিয়ায় বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। সাপিতের কাছে বৈধ উত্তর কোরীয় ভিসা না থাকায় দেশটির কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে কয়েক ঘণ্টা আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি কীভাবে ভুল করে সেখানে পৌঁছেছেন, তা ব্যাখ্যা করার সুযোগ পান। সাপিতকে শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তার আগে তাকে একটি নথিতে স্বাক্ষর করতে হয় এবং প্রায় ৫০০ ডলার জরিমানা ও নতুন টিকিটের খরচ দিতে হয় বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর তাকে সঠিক গন্তব্য দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সাপিত পরে ঘটনাটি বর্ণনা করে বলেন, পিয়ংইয়ং ও পিয়ংচ্যাংয়ের নামের মধ্যে বিভ্রান্তি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে বিদেশিদের জন্য দুই নামের মিল সহজেই ভুলের কারণ হতে পারে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দক্ষিণ কোরিয়াতেও বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়। কারণ পিয়ংচ্যাং ও পিয়ংইয়ংয়ের নামের মিল নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। পিয়ংচ্যাং দক্ষিণ কোরিয়ার গ্যাংওন প্রদেশের একটি শহর, আর পিয়ংইয়ং উত্তর কোরিয়ার রাজধানী। দুই শহর একই দেশ বা একই ধরনের গন্তব্য নয়, বরং দুই ভিন্ন রাষ্ট্রে অবস্থিত। পিয়ংচ্যাংয়ের নাম নিয়ে বিভ্রান্তি কমাতে পরে দক্ষিণ কোরিয়া শহরটির ইংরেজি বানানকে বিশেষভাবে “PyeongChang” হিসেবে প্রচার শুরু করে। নামের মাঝখানে বড় হাতের ‘C’ ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে পার্থক্য আরও স্পষ্ট করা। ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজনের সময় এই বানানটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিকের আয়োজক শহর ছিল পিয়ংচ্যাং। অলিম্পিকের প্রচারণার সময় আয়োজকেরা বিদেশি দর্শকদেরও সতর্ক করেছিলেন, যেন নামের মিলের কারণে কেউ ভুল করে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের দিকে না চলে যান। পিয়ংচ্যাং ও পিয়ংইয়ংয়ের বিভ্রান্তির এই ঘটনা শুধু একটি ভ্রমণ ভুলের গল্প নয়, দুই কোরিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেও এটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া technically একই কোরীয় উপদ্বীপে অবস্থিত হলেও তাদের মধ্যে সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত সীমান্ত। ফলে একটি দেশের নির্ধারিত গন্তব্যের বদলে অন্য দেশের রাজধানীতে ভুল করে পৌঁছে যাওয়া সাধারণ ভ্রমণভুলের মতো সহজ বিষয় নয়। ড্যানিয়েল ওলোমায়ে ওলে সাপিত পরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জাতিসংঘের নথিতেও তাকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সাপিতের এই অভিজ্ঞতা পরে পিয়ংচ্যাংয়ের নামের বানান পরিবর্তনের আলোচনাতেও উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, পিয়ংচ্যাংকে আলাদা করে চেনাতে ইংরেজি বানানে বড় হাতের ‘C’ ব্যবহার করলে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বিভ্রান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। একটি ভুল টিকিট কীভাবে একজন যাত্রীর গন্তব্যই বদলে দিতে পারে, সাপিতের ঘটনা তারই বিরল উদাহরণ। দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সাধারণ ভ্রমণ পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে গিয়েছিল বিশ্বের অন্যতম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রের রাজধানীতে। কয়েক ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ, জরিমানা ও নতুন টিকিটের পর অবশেষে তিনি নিজের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পান। এই ঘটনার পর পিয়ংচ্যাংয়ের নাম উচ্চারণ বা লেখার সময় সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে আলোচনায় আসে। কারণ পিয়ংচ্যাং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে পার্থক্য মাত্র কয়েকটি অক্ষরের হলেও, ভুল গন্তব্যে পৌঁছালে তার পরিণতি যে কতটা ভিন্ন হতে পারে, সাপিতের অভিজ্ঞতাই তার সবচেয়ে স্মরণীয় উদাহরণ। সংবাদসূত্র: ইউপিআই ও দ্য কোরিয়া টাইমস।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করার ইচ্ছা কখনোই গোপন রাখেননি। নিজের প্রথম মেয়াদে তিনবার কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে এখনো পর্যন্ত তাদের সরাসরি দেখা হয়নি। ট্রাম্প দাবি করছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই বহুল কাঙ্ক্ষিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন সম্ভবত ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে একমত নন। দুই নেতার মধ্যে আলোচনার জন্য ট্রাম্পের এই আগ্রহে সাড়া দেওয়ার পরিবর্তে পিয়ংইয়ং উল্টো নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা দক্ষিণ কোরিয়া—কারো সঙ্গেই তারা আলোচনায় বসবে না। অথচ দক্ষিণ কোরিয়া গত কয়েক মাস ধরেই তার এই যুদ্ধংদেহী উত্তরের প্রতিবেশীর সঙ্গে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কিমকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পারছে না। গত বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তার সঙ্গে কিমের কথা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি দ্রুতই উড়িয়ে দিয়েছেন কিমের বোন এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি বলেছেন যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ভাইয়ের 'চমৎকার সম্পর্ক' রয়েছে, তবে দুই নেতার মধ্যে কোনো ধরনের যোগাযোগের কথা তিনি নিশ্চিত করেননি। তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।" এদিকে, গত রোববার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়া শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প হঠাৎ করেই তা সীমিত করার ঘোষণা দেন। তারপরও উত্তর কোরিয়ার মনোভাবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পিয়ংইয়ং বরাবরই এসব মহড়ার তীব্র সমালোচনা করে আসছে এবং এগুলোকে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। বার্ষিক এই যৌথ মহড়ার বিষয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, এটি উত্তর কোরিয়ার প্রতি "একটি সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও বৈরী বার্তা দেয়।" তার এই মন্তব্যকে অনেকেই পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন। যদিও ট্রাম্প একই সঙ্গে এই মহড়া কমানোকে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এক ধরনের শাস্তি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে সিউল জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। 'উলচি ফ্রিডম শিল্ড' নামের এই সামরিক মহড়াটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই, আগামী শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কিম ইয়ো জং এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "মার্কিন পক্ষ যদি তাদের এই পদক্ষেপগুলোকে কোনো ধরনের 'সদিচ্ছার নিদর্শন' হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করে, তবে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত উত্তর পাবে না।" গত জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করে আসছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি সীমান্তের ওপারে লাউডস্পিকারে বাজানো প্রোপাগান্ডা সম্প্রচার বন্ধ করে দেন। লি দ্রুত "অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনার দুষ্টচক্র" শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে গত মে মাসে পিয়ংইয়ং আনুষ্ঠানিকভাবে সিউলের সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণের কয়েক দশকের পুরনো লক্ষ্য থেকে সরে আসে। এরও প্রায় দেড় বছর আগে তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজেদের "প্রধান শত্রু" হিসেবে ঘোষণা করেছিল।\ প্রযুক্তিগতভাবে কোরীয় উপদ্বীপের দেশ দুটি এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের অবসানের পর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে কেবল লড়াই থেমেছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ-এর বরাত দিয়ে গত শুক্রবার দেশটির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থামানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনাই হলো সবচেয়ে "বাস্তবসম্মত" উপায়। ওই কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, "আন্তঃকোরীয় বিনিময় বর্তমানে পুরোপুরি থমকে আছে।" কিম জং উন কেন ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় অনাগ্রহী, তার পেছনের কারণও বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ট্রাম্প কিম সম্পর্কে বলেছিলেন, "আমার মনে হয় সে আমাকে মিস করে।" তিনি উত্তর কোরিয়ার এই নেতাকে একজন "স্মার্ট লোক" এবং "ধর্মীয় উন্মাদ নয়" বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন। তবে গত বছরের শুরুর দিকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেশ কিছু পদক্ষেপে উত্তর কোরিয়া ক্ষুব্ধ হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উত্তর কোরিয়াকে একটি "দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র" (রোগ স্টেট) বলে আখ্যায়িত করলে পিয়ংইয়ং এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা এই মন্তব্যকে "অমার্জিত ও অযৌক্তিক" উল্লেখ করে বলে যে, এটি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে অবিবেচকের মতো ক্ষুণ্ন করেছে। এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের 'গোল্ডেন ডোম' বা পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঢাল নির্মাণের পরিকল্পনারও সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র হামলাসহ সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ সালে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনের স্মৃতি এখনো কিমের মনে গেঁথে আছে। সেবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্রাগার নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারায় ট্রাম্প হঠাৎ করেই আলোচনা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। ওই সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, "মাঝে মাঝে আপনাকে আলোচনা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয়।" উত্তর কোরিয়া এখন নিজেদের একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করতে চায় এবং তারা কখনোই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সহায়তায় ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পর থেকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক বলেছেন, সিউলের মূল্যায়ন অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১২০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এই সংখ্যাটি আগের দিন ট্রাম্পের দাবি করা ৫৭টির চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের শুরুতে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছিলেন যে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে প্রায় ৬০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করতেই CNN-এর এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সাংবাদিককে বারবার চুপ করতে বলেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে ‘ফেক নিউজ’ বলেও আক্রমণ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ১৬ বছর বয়সী লাইফগার্ড রাইডার উইলিয়ামসকে সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সাগরের প্রবল স্রোত থেকে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধারের জন্য তাকে সম্মানিত করা হয়। সেই অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গ সামনে আসে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন তিনি এবং কিম সেই উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন। তবে ঠিক কীভাবে যোগাযোগ হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কথা হয়েছে কি না কিংবা কিম জং উন কী বার্তা দিয়েছেন - এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। রয়টার্সও জানিয়েছে, কিম তার উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন বলে প্রেসিডেন্ট দাবি করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। আর এখান থেকেই আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি। CNN-এর হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা ক্রিস্টেন হোমস জানতে চান - যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর জন্য কিম জং উন কি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন? প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই তাকে থামিয়ে দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি সাংবাদিককে চুপ করতে বলেন এবং সেখানে উপস্থিত কিশোরের সামনে তাকে অসম্মানজনক আচরণ করার অভিযোগ করেন। এরপর ক্রিস্টেন হোমসকে উচ্চস্বরে কথা বলা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে ‘ফেক নিউজ’ বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে সাংবাদিকের মূল প্রশ্নটির সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। আর ঠিক এই জায়গাতেই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এসব মহড়াকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে উসকানিমূলক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একই সঙ্গে কিম জং উনের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন। তার বক্তব্য, উত্তর কোরিয়ার নেতা তাকে সম্মান করেন এবং দুজনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া রয়েছে। নতুন করে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ তৈরির আগ্রহও দেখাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তের পেছনে কিম জং উনের কোনো অনুরোধ ছিল কি না - সেই প্রশ্নটির উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা দেখছে। সিউল আশা করছে, দুই নেতার সম্পর্ক কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সংলাপ আবার শুরু করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সম্পর্কও আগের তুলনায় অনেক গভীর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যৌথ সামরিক মহড়া কমালে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হতে পারে বলে সতর্ক করছেন সমালোচকেরা। মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংও বলেছেন, তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ মহড়াগুলো প্রতিরক্ষামূলক - উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণ বা উসকানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। এদিকে ওভাল অফিসের ঘটনার পর বিতর্ক আরও বাড়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়ায়। ক্রিস্টেন হোমসকে লক্ষ্য করে হোয়াইট হাউসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়। CNN পাল্টা তাদের সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়ে জানায়, হোমস প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করছিলেন এবং একজন সাংবাদিকের দায়িত্বই হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের কাছে জবাব চাওয়া।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ তৈরি করতে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। একই সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি কাঠামোর পরিবর্তে একটি স্থায়ী ‘শান্তি ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি। শনিবার জাপানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে কোরিয়ার মুক্তির বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং বলেন, দুই কোরিয়ার উচিত মুখোমুখি বসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়ে আলোচনা করা। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া সংঘাত প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়া ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার পথ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। কোরীয় যুদ্ধ ১৯৫৩ সালে কোনো শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়নি। যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে সামরিক সংঘাত থামানো হয়েছিল। ফলে দুই কোরিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি এখনো হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং মনে করেন, এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কাঠামোর পরিবর্তে একটি স্থায়ী শান্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপে সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি তৈরি হতে পারে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার এমন উদ্যোগের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দুই কোরিয়ার পুনর্মিলনের প্রচেষ্টার প্রতি অনাগ্রহ দেখিয়েছেন। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে ঘিরে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মহড়ার আগে উত্তর কোরিয়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছুড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের সংলাপের আহ্বান দুই কোরিয়ার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে উত্তর কোরিয়া এই প্রস্তাবে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
এটি ১২ আগস্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ ঘটনা। উত্তর কোরিয়া বুধবার পূর্ব উপকূলের ওয়ানসান এলাকা থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে উৎক্ষেপণ করা হয়। জাপানও এটিকে সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করেছে। জাপানের অর্থনৈতিক জলসীমায় এটি পড়েনি বলে জানানো হয়েছে। এই উৎক্ষেপণের সময়টিই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা। ১১ দিনের এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে। ফলে বড় ধরনের মহড়ার আগে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এটি এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে ৬ আগস্টও দেশটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উৎক্ষেপণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সিউল জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক করেছে এবং পিয়ংইয়ংকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে ওয়াশিংটন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক মহড়ার আগে এই ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে এবার রাশিয়ায় একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করছে উত্তর কোরিয়া। কিয়েভের দেওয়া তথ্যমতে, রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে অবস্থিত ১১২তম মিসাইল ব্রিগেডের অধীনে প্রায় ৯০ জন উত্তর কোরিয়ান কর্মীকে নিয়ে এই বিশেষ ইউনিটটি গঠন করা হচ্ছে। আগামী মাসে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সামরিক মোতায়েনের চূড়ান্ত রূপরেখা এবং মোট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নির্ধারিত হবে বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে কিয়েভ ধারণা করছে, এই ইউনিটে অন্তত ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ছয়টি লঞ্চার যুক্ত থাকতে পারে। উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের জন্য নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে কিয়েভ উচ্চমানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংকট আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, কারণ এ ধরনের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ভূপাতিত করা অত্যন্ত কঠিন। বিদেশি থিঙ্ক ট্যাংকের সামরিক বিশ্লেষক রব লি উল্লেখ করেছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এই অভাবই বর্তমানে ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান দুর্বলতা। বিশেষ করে আসন্ন শীতকালে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিড বা জ্বালানি অবকাঠামোতে ভারী হামলার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তা কিয়েভের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এর আগে ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকেই রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার তৈরি প্রায় ১৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ইউক্রেনের রাদুশনে গ্রামে উত্তর কোরীয় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে কোটি কোটি আর্টিলারি শেল বা গোলা সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে হাজার হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের খবরও সামনে এসেছে। তবে নতুন করে এই ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট গঠনের বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘে অবস্থিত উত্তর কোরিয়ার দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় এক দশক ধরে স্থগিত থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প আবারও চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই রেললাইনটি ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর ওনসানের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির একীকরণ মন্ত্রণালয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড) সংলগ্ন গিয়ংওন রেললাইনের বিচ্ছিন্ন অংশ পুনরুদ্ধার করা হবে। প্রকল্পটি প্রথম শুরু হয় ২০১৫ সালে, তবে দুই কোরিয়ার সম্পর্কের অবনতির কারণে ২০১৬ সালে এটি স্থগিত হয়ে যায়। পুনরায় চালু হলে এটি ভবিষ্যতে আন্তঃকোরীয় রেল সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণমন্ত্রী চুং ডং-ইয়ং বলেছেন, এই রেলপথ কেবল সম্ভাব্য আন্তঃকোরীয় যোগাযোগই নয়, বরং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি, শান্তি ও পরিবেশভিত্তিক পর্যটনের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে আন্তঃকোরীয় সহযোগিতা তহবিলের অর্থ দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সীমান্ত উন্নয়নমূলক প্রকল্পেও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং স্বীকার করেছেন যে, বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করা অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনেকটা “প্রতিধ্বনিহীন শূন্যতায় কথা বলার” মতো হলেও কোরীয় উপদ্বীপে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। উত্তর কোরিয়া ২০২৪ সালে সীমান্তবর্তী সড়ক ও রেল সংযোগের অংশ ধ্বংস করে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে সিউলের এই উদ্যোগ তাৎক্ষণিকভাবে রেল চলাচল শুরু করবে না, তবে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে দুই কোরিয়ার মধ্যে পুনরায় রেল যোগাযোগ স্থাপনের পথ উন্মুক্ত রাখতে পারে।
তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে নাগরিকদের কুকুরের মাংসের স্যুপ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দেশটির শাসক ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপত্র ‘রোডং সিনমুন’ এক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে গরমে সুস্থ থাকার উপায় হিসেবে এই খাবারের সুপারিশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী পিয়ংইয়ং জেনারেল হাসপাতালের এক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপজনিত অবসাদ (হিট এক্সহস্টশন) এবং হিটস্ট্রোকের কারণে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও হাইপারথাইরয়েডিজমের মতো রোগের জটিলতা বেড়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে তরমুজ, মুগ ডাল ও শসার মতো খাবারের পাশাপাশি কুকুরের মাংসের স্যুপ, মাছের পায়েস এবং লাল শিমের পায়েসকে ‘উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন’ খাবার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় কুকুরের মাংসের স্যুপ স্থানীয়ভাবে ‘ডানগোগি গুক’ বা ‘মিষ্টি মাংসের স্যুপ’ নামে পরিচিত। বহু বছর ধরেই দেশটির সরকার এটিকে গ্রীষ্মকালের ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে প্রচার করে আসছে। পিয়ংইয়ংয়ে কুকুরের মাংসের বিশেষায়িত রেস্তোরাঁ রয়েছে এবং এই খাবারকে কেন্দ্র করে রান্না প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। উত্তর কোরিয়ার সাবেক কূটনীতিক রি চোল ‘দিস উইক ইন এশিয়া’কে বলেন, ডানগোগি দেশটিতে জনপ্রিয় হলেও এটি তুলনামূলক ব্যয়বহুল। সাধারণত গরমের দিনে তাপজনিত ক্লান্তি দূর করার বিশ্বাস থেকে অনেকেই এই খাবার খেয়ে থাকেন। এদিকে গত ২৭ জুলাই থেকে উত্তর কোরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে টানা উষ্ণ রাত বিরাজ করছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি রয়েছে। অনেক স্থানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কোথাও কোথাও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়াতেও চলছে কয়েক দশকের অন্যতম তীব্র তাপপ্রবাহ। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, জাপানের দিকে অগ্রসর হওয়া টাইফুন ‘ডলফিন’ এই অঞ্চলে শীতলতা না এনে বরং গরম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ার অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হেঁটেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ২০২৪ সালে দেশটি কুকুরের মাংসের জন্য কুকুর পালন, জবাই, বিতরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে আইন পাস করে। তিন বছরের রূপান্তরকাল শেষে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হবে। এরপর আইন লঙ্ঘনকারীদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৩ কোটি দক্ষিণ কোরিয়ান ওন পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। যদিও উত্তর কোরিয়ায় কুকুরের মাংসকে ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে প্রচার করা হয়, তবুও এর উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের অনেকের কাছেই এটি সহজলভ্য নয়।
যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বিবেচনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ লাখ সদস্যকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। নতুন এ উদ্যোগের আওতায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা ব্যক্তিগত অস্ত্র ব্যবহারের মতো সহজেই ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন। আজ শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় ড্রোন এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ড্রোন ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্যকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আন গিউ-ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে যে ড্রোন যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাঁর মতে, স্বল্প ব্যয়ে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের ফলে যুদ্ধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হামলাকারী ড্রোন ‘কে-লুকাস’-এর উৎপাদনও দ্রুত বাড়ানো হবে। এ ড্রোনের ধারণা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস ড্রোন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোন আবার ইরানের শাহেদ-১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোনের নকশা অনুসরণে তৈরি। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ব্যাপকভাবে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে। ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও উদ্যোগ নিয়েছে সিউল। এ লক্ষ্যে লেজার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভভিত্তিক অস্ত্র প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার এ ঘোষণা এসেছে। ২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে একটি ড্রোন রাজধানী সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওপরের সংরক্ষিত এলাকাতেও ঢুকে পড়ে। ওই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করে এবং প্রায় ১০০টি গুলি ছোড়ে। তবে কোনো ড্রোন ভূপাতিত করতে পারেনি। ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত কৌশল থেকে পিয়ংইয়ং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে হাজার হাজার সেনা ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য পাঠিয়েছে। এর ফলে দেশটির সেনারা বৃহৎ পরিসরের ড্রোন যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এদিকে একই দিনে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং-উন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম তদারক করেছেন।
উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলা এবং নিজেদের যুদ্ধকৌশলে আমূল পরিবর্তন আনতে নিজেদের পুরো সামরিক বাহিনীকে ড্রোন অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলার এক ঐতিহাসিক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশের সেনা, নৌ, বিমান এবং মেরিন বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ সামরিক কর্মীকে অত্যন্ত দক্ষ 'ড্রোন যোদ্ধা' বা ড্রোন ওয়ারিয়র হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-বেক শুক্রবার সিউলে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, রণক্ষেত্রে প্রতিটি সৈনিকের কাছে ড্রোন হবে তাদের দ্বিতীয় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের মতো অপরিহার্য সমরাস্ত্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-বেক জানান, ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো প্রমাণ করেছে যে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন গেমচেঞ্জার বা জয়-পরাজয় নির্ধারণের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কম খরচে বিপুল সংখ্যক ড্রোনের ব্যবহার যুদ্ধের মৌলিক ধরনকেই সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শত্রু দেশ উত্তর কোরিয়া ক্রমাগত তাদের ড্রোন ও অস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য এক বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। আর এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সিউল তাদের সামরিক বাহিনীকে ড্রোন প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী চলতি বছরের শেষের মধ্যেই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংখ্যাটি ২০২৯ সালের মধ্যে বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে শত্রুপক্ষের ওপর নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম ২০ হাজারেরও বেশি স্বল্পমূল্যের এবং একবার ব্যবহারযোগ্য 'আত্মঘাতী কমব্যাট ড্রোন' নিজস্ব বহরে যুক্ত করবে দেশটি। রণক্ষেত্রে প্রযুক্তির এই আধুনিকায়ন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও নিভেদ্য করে তুলবে। একই সাথে দক্ষিণ কোরিয়া নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার সুইসাইড ড্রোন বা উড্ডয়ন ক্ষমতাসম্পন্ন সমরাস্ত্র 'কে-লুকাস' এর মোতায়েন প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার ঘোষণা দিয়েছে। এই ড্রোন ব্যবস্থাটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'লুকাস' ড্রোনের ধারণা থেকে তৈরি, যা ইরানের 'শাহেদ-১৩৬' আত্মঘাতী ড্রোনের রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্করণ। উল্লেখ্য, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে এই ইরানি ড্রোনটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। ড্রোনের আক্রমণ ঠেকাতে দক্ষিণ কোরিয়া লেজার এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্রের মতো অ্যান্টি-ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থাও দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই আকস্মিক ও বিশাল সামরিক পদক্ষেপের পেছনে ২০২২ সালের একটি অত্যন্ত বিব্রতকর অধ্যায় কাজ করছে, যখন উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের নো-ফ্লাই জোনে ঢুকে পড়েছিল। সে সময় দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার থেকে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছুড়েও একটি ড্রোনও ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে রাশিয়ার সাথে সামরিক অংশীদারিত্বের কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন শক্তি বহুগুণ বেড়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়াকে দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।