উত্তর কোরিয়া

২০২৩ সালের মে মাসে এক সামরিক মহড়ায় সারিবদ্ধভাবে উড়ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ড্রোন। ফাইল ছবি: এএফপি
৫ লাখ সেনাকে ড্রোন যোদ্ধা বানানোর পরিকল্পনা দক্ষিণ কোরিয়ার

যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বিবেচনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ লাখ সদস্যকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। নতুন এ উদ্যোগের আওতায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা ব্যক্তিগত অস্ত্র ব্যবহারের মতো সহজেই ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন।   আজ শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় ড্রোন এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ড্রোন ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা হবে।   দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্যকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।   আন গিউ-ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে যে ড্রোন যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাঁর মতে, স্বল্প ব্যয়ে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের ফলে যুদ্ধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।   নতুন পরিকল্পনার আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।   দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হামলাকারী ড্রোন ‘কে-লুকাস’-এর উৎপাদনও দ্রুত বাড়ানো হবে। এ ড্রোনের ধারণা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস ড্রোন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোন আবার ইরানের শাহেদ-১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোনের নকশা অনুসরণে তৈরি। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ব্যাপকভাবে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে।   ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও উদ্যোগ নিয়েছে সিউল। এ লক্ষ্যে লেজার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভভিত্তিক অস্ত্র প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার এ ঘোষণা এসেছে। ২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে একটি ড্রোন রাজধানী সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওপরের সংরক্ষিত এলাকাতেও ঢুকে পড়ে।   ওই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করে এবং প্রায় ১০০টি গুলি ছোড়ে। তবে কোনো ড্রোন ভূপাতিত করতে পারেনি। ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।   রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত কৌশল থেকে পিয়ংইয়ং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।   উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে হাজার হাজার সেনা ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য পাঠিয়েছে। এর ফলে দেশটির সেনারা বৃহৎ পরিসরের ড্রোন যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।   এদিকে একই দিনে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং-উন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম তদারক করেছেন।

Unknown জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রোন মহড়া; ৫ লাখ সেনা ড্রোন চালনায় প্রশিক্ষিত হচ্ছে | ছবি: এএফপি
আধুনিক যুদ্ধের প্রস্তুতি, ৫ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ বানাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলা এবং নিজেদের যুদ্ধকৌশলে আমূল পরিবর্তন আনতে নিজেদের পুরো সামরিক বাহিনীকে ড্রোন অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলার এক ঐতিহাসিক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশের সেনা, নৌ, বিমান এবং মেরিন বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ সামরিক কর্মীকে অত্যন্ত দক্ষ 'ড্রোন যোদ্ধা' বা ড্রোন ওয়ারিয়র হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-বেক শুক্রবার সিউলে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, রণক্ষেত্রে প্রতিটি সৈনিকের কাছে ড্রোন হবে তাদের দ্বিতীয় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের মতো অপরিহার্য সমরাস্ত্র।   প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-বেক জানান, ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো প্রমাণ করেছে যে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন গেমচেঞ্জার বা জয়-পরাজয় নির্ধারণের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কম খরচে বিপুল সংখ্যক ড্রোনের ব্যবহার যুদ্ধের মৌলিক ধরনকেই সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শত্রু দেশ উত্তর কোরিয়া ক্রমাগত তাদের ড্রোন ও অস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য এক বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। আর এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সিউল তাদের সামরিক বাহিনীকে ড্রোন প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী চলতি বছরের শেষের মধ্যেই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংখ্যাটি ২০২৯ সালের মধ্যে বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে শত্রুপক্ষের ওপর নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম ২০ হাজারেরও বেশি স্বল্পমূল্যের এবং একবার ব্যবহারযোগ্য 'আত্মঘাতী কমব্যাট ড্রোন' নিজস্ব বহরে যুক্ত করবে দেশটি। রণক্ষেত্রে প্রযুক্তির এই আধুনিকায়ন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও নিভেদ্য করে তুলবে।   একই সাথে দক্ষিণ কোরিয়া নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার সুইসাইড ড্রোন বা উড্ডয়ন ক্ষমতাসম্পন্ন সমরাস্ত্র 'কে-লুকাস' এর মোতায়েন প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার ঘোষণা দিয়েছে। এই ড্রোন ব্যবস্থাটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'লুকাস' ড্রোনের ধারণা থেকে তৈরি, যা ইরানের 'শাহেদ-১৩৬' আত্মঘাতী ড্রোনের রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্করণ। উল্লেখ্য, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে এই ইরানি ড্রোনটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। ড্রোনের আক্রমণ ঠেকাতে দক্ষিণ কোরিয়া লেজার এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্রের মতো অ্যান্টি-ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থাও দ্রুত সম্প্রসারণ করছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার এই আকস্মিক ও বিশাল সামরিক পদক্ষেপের পেছনে ২০২২ সালের একটি অত্যন্ত বিব্রতকর অধ্যায় কাজ করছে, যখন উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের নো-ফ্লাই জোনে ঢুকে পড়েছিল। সে সময় দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার থেকে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছুড়েও একটি ড্রোনও ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে রাশিয়ার সাথে সামরিক অংশীদারিত্বের কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন শক্তি বহুগুণ বেড়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়াকে দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছে।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
নামফো বন্দরে ডেস্ট্রয়ার ‘চোয়ে হিয়ন’ উদ্বোধনে কিম জং উন | ছবি: রয়টার্স
পারমাণবিক শক্তির দানবীয় যুদ্ধজাহাজ বানাচ্ছে উত্তর কোরিয়া, উদ্বিগ্ন আমেরিকা

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার পাশাপাশি আরও বড় আকারের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় এই নতুন পরিকল্পনা উন্মোচন করা হয়েছে বলে বুধবার দেশটির সরকারি গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হামলা মোকাবিলায় পারমাণবিক কর্মসূচিকে অপরিহার্য প্রতিরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করে উত্তর কোরিয়া। আর এই পরমাণু কর্মসূচির কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির ওপর একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।   গত বছর পানিতে ভাসানো ৫ হাজার টন শ্রেণীর দুটি যুদ্ধজাহাজের একটি ‘চো হিয়োন’ এর কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম জং উন এই বক্তব্য দেন। দেশটির বন্দর নগরী নামপোতে গত মঙ্গলবার এই জমকালো অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় বলে সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ রিপোর্ট করেছে। অনুষ্ঠানে কিম বলেন, নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কর্মসূচিটি তাদের পূর্বপরিকল্পিত পথ ধরেই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু শক্তিকে বহুমুখী এবং কার্যকর অপারেশনের জন্য সদা প্রস্তুত রাখতে এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।   উত্তর কোরিয়া এর আগেই দাবি করেছিল যে তাদের এই ‘চো হিয়োন’ ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সব সমরাস্ত্রে সজ্জিত। এমনকি গত এপ্রিল মাসে কিম জং উন স্বশরীরে এই জাহাজ থেকে একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কার্যক্রম তদারকি করেছিলেন। কিম তার দেওয়া বক্তব্যে আরও জানান, চো হিয়োনের পর তারা খুব শীঘ্রই ‘কাং কন’ নামের আরেকটি যুদ্ধজাহাজ অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করবেন। এরপর একের পর এক ১০ হাজার টনের বিশাল কৌশলগত যুদ্ধজাহাজ সাগরে ভাসানো হবে বলে কেসিএনএর ইংরেজি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   উত্তর কোরিয়ার মূল লক্ষ্য হলো প্রতি বছর অন্তত দুটি বড় যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা, যার মান চো হিয়োনের চেয়েও উন্নত হবে এবং এর মধ্যে একটি হবে ১০ হাজার টনের ক্রুজ জাহাজ। সাধারণত ১০ হাজার টন শ্রেণীর একটি যুদ্ধজাহাজ ১৫০ থেকে ১৭০ মিটার লম্বা হয়ে থাকে, যা প্রায় দেড়টি ফুটবল মাঠের সমান এবং এর ওজন কয়েক হাজার গাড়ির সমান। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীতে ৫ হাজার টনের চেয়ে বড় ১০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, যেখানে উত্তর কোরিয়ার রয়েছে মাত্র দুটি। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ হাজার টনের এই মাইলফলক উত্তর কোরিয়ার জন্য একটি বিশাল প্রতীকী জয় এবং এটি সিউলের সামুদ্রিক শক্তির চেয়ে পিছিয়ে না থাকার দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করে।   ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে হ্যানয় সম্মেলন ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে পিয়ংইয়ং বারবার নিজেদের একটি অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে আসছে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরিয়ান যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি ছাড়াই কেবল একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ায় দুই কোরিয়া প্রযুক্তিগতভাবে এখনও যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান নিরাপত্তা সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ রুখতেই মূলত উত্তর কোরিয়া এই ধরনের পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং ঝুঁকি আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সূত্র: জিও নিউজ

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কেসিএনএ
কিমের উপস্থিতিতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট সিস্টেমের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ (KCNA) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শীর্ষনেতা কিম জং উনের সরাসরি উপস্থিতিতে এই অস্ত্র পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হয়।   কেসিএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অস্ত্র পরীক্ষার তালিকায় ছিল ২৪০ মিলিমিটারের ২৪-টিউব মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেমের একটি উন্নত সংস্করণ, ট্যাকটিক্যাল বা কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫৫ মিলিমিটারের সেলফ-প্রোপেলড হাউইটজার। অত্যাধুনিক এই রকেট লঞ্চারটি একটি স্বয়ংক্রিয় নির্ভুল গাইডেন্স সিস্টেম বা পথনির্দেশক ব্যবস্থা দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি লঞ্চারটির ফায়ারিং রেঞ্জ বা হামলার পরিধি বাড়িয়ে ৯০ কিলোমিটার (৫৬ মাইল) পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছে।   অস্ত্র পরীক্ষার এই সফল ফলাফলে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। কেসিএনএ জানায়, কিম বলেছেন পিয়ংইয়ং তাদের অস্ত্র কর্মসূচিতে স্বয়ংক্রিয়তা, দূরপাল্লার আক্রমণ সক্ষমতা এবং ‘অতি-নির্ভুলতা’ বা আল্ট্রা-প্রিসিশন অর্জনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মূলত নিজেদের দক্ষিণ সীমান্ত, অর্থাৎ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে থাকা সীমানায় নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও নিশ্ছিদ্র করাই এই সামরিক আধুনিকায়নের মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি কার্যকরভাবে উল্লেখ করেন।   এর আগে গত মে মাসেও উত্তর কোরিয়া আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের উপযোগী করে তৈরি বেশ কয়েকটি অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর কথা জানিয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক মিসাইল, আর্টিলারি রকেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নিয়ন্ত্রিত প্রিসিশন ক্রুজ মিসাইলের একটি সংমিশ্রণ ছিল। পিয়ংইয়ং ধারাবাহিকভাবে তাদের কৌশলগত এবং প্রচলিত অস্ত্রভাণ্ডার উন্নত করে চলেছে এবং এগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় মোতায়েনের অঙ্গীকার করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পর উত্তর কোরিয়ায় নজর দিতে চান ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পর এবার উত্তর কোরিয়ার দিকে নজর দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি-এর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের পর এবার তার প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার দিকে নজর দিতে চায়। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট লি নিশ্চিত করেন, ট্রাম্প তাকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এবার উত্তর কোরিয়া ইস্যুর দিকে নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার সময় এসে গেছে।   বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানান যে, উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো বর্তমানে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পিয়ংইয়ং ও মস্কোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা মারাত্মক হারে বেড়ে যাওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে গেছে বলে মনে করেন লি। তার মতে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা সামান্য সামরিক বা অর্থনৈতিক সহায়তাও বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার জন্য বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনছে।   এদিকে, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠকের একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিটির সঙ্গে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য যুক্ত না করলেও, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পোস্ট ঘিরে নতুন জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান ইস্যুতে বড় ধরনের অগ্রগতির পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার দিকে তাদের পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক মনোযোগ নিবদ্ধ করতে পারে।   উল্লেখ্য, ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরিয়া যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তির বদলে কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে দুই দেশ কেবল একটি সুনির্দিষ্ট অসামরিকীকৃত সীমান্ত অঞ্চলের (ডিএমজেড) মাধ্যমে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
কিম জং উনকে মোকাবিলায় ট্রাম্পের সহযোগিতা চাইল দক্ষিণ কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সহযোগিতা ও নেতৃত্ব চেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সংঘাত নিরসনে ট্রাম্প যেভাবে কূটনৈতিক ভূমিকা রেখেছেন, ঠিক একইভাবে তিনি যেন উত্তর কোরিয়া ইস্যুতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।   কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এবার ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়া সংকটের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে। এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছেন খোদ ট্রাম্প নিজেই। ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের একটি ছবি পোস্ট করেন, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। সিউলের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় (ব্লু হাউস) জানিয়েছে, বৈঠকে ট্রাম্প অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সমাধানের মতোই উত্তর কোরিয়া সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানেও আপনি নেতৃত্ব দিন।" জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টও উত্তর কোরিয়া ইস্যুটির স্থায়ী সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।   উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে তার পূর্বসূরি ইউন সুক-ইওলের কঠোর অবস্থানের বিপরীত হেঁটে তুলনামূলক নমনীয় ও আলোচনার নীতি অনুসরণ করছেন। যদিও পিয়ংইয়ং এখন পর্যন্ত সিউলের এই শান্তি উদ্যোগগুলোতে ইতিবাচক সাড়া না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে, তবুও ট্রাম্পের সম্ভাব্য মধ্যস্থতা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় এনে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
চীন–উত্তর কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ

চীন ও উত্তর কোরিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোয় এগিয়ে নিতে ‘সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা’ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ)। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়া সফর করেন। এই সফরের সময় দুই দেশ ভবিষ্যৎ সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়।   শি জিনপিংয়ের এই সফর এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।   কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দিনের এই সফরে চীন ও উত্তর কোরিয়া তাদের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়।   সফর শেষে কিম জং উনকে পাঠানো এক চিঠিতে শি জিনপিং বলেন, উভয় নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয়ে অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছেছেন।   চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বৈঠক দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করা, যৌথ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি এগিয়ে নেওয়া এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।   সূত্র: বিএসএস

Unknown জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিধ্বংসী রণতরী থেকে উত্তর কোরিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

উত্তর কোরিয়া তাদের অত্যাধুনিক রণতরী ‘চো হিউন’ থেকে শক্তিশালী ক্রুজ ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, শীর্ষ নেতা কিম জং উন স্বয়ং উপস্থিত থেকে এই সামরিক মহড়া পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল রণতরীর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদে নাবিকদের দক্ষতা যাচাই করা। মহড়ায় দুটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পশ্চিম উপকূলের আকাশে প্রায় সাত হাজার নয়শ সেকেন্ড উড়ে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। কিম জং উন এই সফল মহড়ার পর নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে শত্রুর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পাল্টা হামলা চালানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এই মহড়ার সময় কিমকে বর্তমানে নির্মাণাধীন আরও দুটি আধুনিক রণতরীর কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া একই শ্রেণির তৃতীয় ও চতুর্থ যুদ্ধজাহাজ তৈরির মাধ্যমে নৌবহরকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে পিয়ংইয়ং তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর গতি ত্বরান্বিত করছে। তারা মূলত বিচ্ছিন্ন কোনো যুদ্ধজাহাজের বদলে একটি শক্তিশালী সমন্বিত রণতরী বহর তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার এই ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা কোরীয় উপদ্বীপসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। কিমের এই আধুনিক রণতরী নির্মাণের ঘোষণা প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়া ২০২৫ সাল থেকেই এই ৫ হাজার টন ওজনের শক্তিশালী জাহাজ থেকে মরণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। দেশটির লক্ষ্য প্রতি বছর অন্তত দুটি করে এই ধরণের উন্নত যুদ্ধজাহাজ তৈরি করে নৌবাহিনীর শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমাদের মনোযোগ যখন অন্য যুদ্ধের দিকে নিবদ্ধ তখন কিম তার কৌশলগত পরমাণু শক্তিকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলছেন। উত্তর কোরিয়ার এই ধরণের পরীক্ষাগুলো মূলত তাদের দীর্ঘমেয়াদী সমরাস্ত্র উন্নয়ন পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ২০২৬, কিম জং উন সামরিক মহড়া, চো হিউন রণতরী, কোরিয় উপদ্বীপ উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সংবাদ।

Unknown এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ১০ ধাপের সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য যা জানা জরুরি

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০