আন্তর্জাতিক

আধুনিক যুদ্ধের প্রস্তুতি, ৫ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ বানাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ৪:২৯
দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রোন মহড়া; ৫ লাখ সেনা ড্রোন চালনায় প্রশিক্ষিত হচ্ছে | ছবি: এএফপি
দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রোন মহড়া; ৫ লাখ সেনা ড্রোন চালনায় প্রশিক্ষিত হচ্ছে | ছবি: এএফপি

উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলা এবং নিজেদের যুদ্ধকৌশলে আমূল পরিবর্তন আনতে নিজেদের পুরো সামরিক বাহিনীকে ড্রোন অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলার এক ঐতিহাসিক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশের সেনা, নৌ, বিমান এবং মেরিন বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ সামরিক কর্মীকে অত্যন্ত দক্ষ 'ড্রোন যোদ্ধা' বা ড্রোন ওয়ারিয়র হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-বেক শুক্রবার সিউলে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, রণক্ষেত্রে প্রতিটি সৈনিকের কাছে ড্রোন হবে তাদের দ্বিতীয় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের মতো অপরিহার্য সমরাস্ত্র।

 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-বেক জানান, ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো প্রমাণ করেছে যে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন গেমচেঞ্জার বা জয়-পরাজয় নির্ধারণের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কম খরচে বিপুল সংখ্যক ড্রোনের ব্যবহার যুদ্ধের মৌলিক ধরনকেই সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শত্রু দেশ উত্তর কোরিয়া ক্রমাগত তাদের ড্রোন ও অস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য এক বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। আর এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সিউল তাদের সামরিক বাহিনীকে ড্রোন প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী চলতি বছরের শেষের মধ্যেই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংখ্যাটি ২০২৯ সালের মধ্যে বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে শত্রুপক্ষের ওপর নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম ২০ হাজারেরও বেশি স্বল্পমূল্যের এবং একবার ব্যবহারযোগ্য 'আত্মঘাতী কমব্যাট ড্রোন' নিজস্ব বহরে যুক্ত করবে দেশটি। রণক্ষেত্রে প্রযুক্তির এই আধুনিকায়ন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও নিভেদ্য করে তুলবে।

 

একই সাথে দক্ষিণ কোরিয়া নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার সুইসাইড ড্রোন বা উড্ডয়ন ক্ষমতাসম্পন্ন সমরাস্ত্র 'কে-লুকাস' এর মোতায়েন প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার ঘোষণা দিয়েছে। এই ড্রোন ব্যবস্থাটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'লুকাস' ড্রোনের ধারণা থেকে তৈরি, যা ইরানের 'শাহেদ-১৩৬' আত্মঘাতী ড্রোনের রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্করণ। উল্লেখ্য, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে এই ইরানি ড্রোনটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। ড্রোনের আক্রমণ ঠেকাতে দক্ষিণ কোরিয়া লেজার এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্রের মতো অ্যান্টি-ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থাও দ্রুত সম্প্রসারণ করছে।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার এই আকস্মিক ও বিশাল সামরিক পদক্ষেপের পেছনে ২০২২ সালের একটি অত্যন্ত বিব্রতকর অধ্যায় কাজ করছে, যখন উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের নো-ফ্লাই জোনে ঢুকে পড়েছিল। সে সময় দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার থেকে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছুড়েও একটি ড্রোনও ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে রাশিয়ার সাথে সামরিক অংশীদারিত্বের কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন শক্তি বহুগুণ বেড়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়াকে দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
তেহরানে খামেনির ছবিসংবলিত বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন নারী | ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ধনী দেশ হওয়ার পথে ইরান

বিশ্বকাপ ফুটবলে বেলজিয়ামকে রুখে দিয়ে নকআউট পর্বের দোড়গোড়ায় পৌঁছানোর আনন্দের মাঝেই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরণের সুসংবাদ পেয়েছে ইরান। চার দশকের মার্কিন নীতিকে পুরোপুরি উল্টে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ আগামী ৬০ দিনের জন্য ইরানের খনিজ তেল উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহের অনুমতি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঐতিহাসিক ছাড় দীর্ঘমেয়াদে ইরানকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   ১৯৭৯ সালের জিম্মি সংকটের পর ১৯৮০ সালে ইরানের ওপর প্রথম মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। পরবর্তী সময়ে ওবামা আমলে পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, ট্রাম্পের আগের মেয়াদে তা আরও কঠোর রূপ নেয়। তবে এবারের নতুন লাইসেন্স অতীতের সব বাধাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এখন মার্কিন শোধনাগারগুলো সরাসরি পারস্যের পেট্রোলিয়াম কিনতে পারবে, ডলারে দাম মেটাতে পারবে এবং কালো তালিকাভুক্ত ট্যাংকার থেকেও তেল নিতে পারবে। লেবাননে ইসরায়েলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানোর লক্ষ্যেই মূলত ওয়াশিংটন এই আকস্মিক উদারতা দেখিয়েছে।   নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই বাজার এই জোয়ারের আভাস পেয়েছিল, যার ফলে মে মাসে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় থাকলেও বর্তমানে তা দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেলে গিয়ে ঠেকেছে। এতদিন ইরানের প্রায় পুরো তেলই গেছে উত্তর-পূর্ব চীনের ছোট ও স্বাধীন 'টিপট' শোধনাগারগুলোতে। তবে দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি আরও বাড়াতে ইরানকে এখন ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো নতুন ক্রেতা খুঁজতে হবে। যদিও ৬০ দিনের এই স্বল্পমেয়াদি ছাড়ের পর ট্রাম্প হুট করে সিদ্ধান্ত বদল করবেন না—এমন স্থায়ী ভরসা পাওয়ার পরই কেবল পশ্চিমা ও বড় এশীয় ক্রেতারা পুরোদমে চুক্তি করতে এগিয়ে আসবে।   আমেরিকার দৃষ্টিকোণ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের রাজনৈতিক ফল খুব একটা না মিললেও, ইরানের জন্য এটি এক বিরাট আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই লাইসেন্সের মেয়াদ যদি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়, তবে ইরান আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় ক্রেতাদের টানতে পারবে। এর সঙ্গে যদি যোগ হয় হরমুজ প্রণালির ট্রানজিট ফি বাবদ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক আয়, অবরুদ্ধ সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ তহবিল—তবে আগামী এক দশকের মধ্যেই ইরান পারস্য উপসাগরের অন্যতম শীর্ষ ধনী দেশে পরিণত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের পারমাণবিক কর্মসূচি বা আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন না কমিয়েই ইরান এই বিপুল ঐশ্বর্য পেতে যাচ্ছে, যা কার্যত আমেরিকার 'পূর্ণ আত্মসমর্পণ' হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ৫:০
যুক্তরাজ্যের বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লস | ছবি: রয়টার্স

১৭ মিলিয়ন ডলার কর দিয়ে ব্রিটেনের শীর্ষ করদাতার তালিকায় রাজা চার্লস

দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রোন মহড়া; ৫ লাখ সেনা ড্রোন চালনায় প্রশিক্ষিত হচ্ছে | ছবি: এএফপি

আধুনিক যুদ্ধের প্রস্তুতি, ৫ লাখ ‘ড্রোন যোদ্ধা’ বানাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

মেট অফিসের রেড হিট অ্যালার্ট শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত বৃদ্ধি | ছবি: ইপিএ

ইউরোপে সর্বকালের ভয়াবহতম দাবদাহ, জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা

গত সপ্তাহে মস্কোয় ২০০ ড্রোনের ইউক্রেনীয় হামলায় ক্ষয়ক্ষতি | ছবি: ইপিএ
ন্যাটো জোট ভাঙার নতুন ছক রাশিয়ার, ইউরোপে বড় হামলার আশঙ্কা

ইউক্রেন যুদ্ধের চরম চাপের মুখে পড়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ঐক্য পরীক্ষা করতে পোল্যান্ড অথবা বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোতে রাশিয়া একটি বড় ধরণের সামরিক 'উসকানি' বা হাইব্রিড হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তের দুটি সদস্য দেশের গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলার কারণে ক্রেমলিন প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছে এবং এই অচলাবস্থা ভাঙতেই পুতিন এমন বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে পারেন।   লাটভিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাশিয়া বাল্টিক দেশ বা পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে সামরিক উসকানির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক আক্রমণ হবে না, বরং ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনের সাহায্যে 'হাইব্রিড হামলা' হতে পারে। আরেকটি ন্যাটো সদস্য দেশের একজন সিনিয়র রাজনৈতিক সূত্রও নিশ্চিত করেছেন যে পুতিন এস্তোনিয়া, লাটভিয়া এবং লিথুয়ানিয়ার মতো ছোট ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর মার্কিন সমর্থন ঠিক কতটা মজবুত, তা পরীক্ষা করার জন্য একটি গোপন পরিকল্পনা করছেন। এই উসকানির মূল উদ্দেশ্য হলো পশ্চিমা বিশ্বকে এই বার্তা দেওয়া যে তারা যেন ইউক্রেনকে সহায়তা করা বন্ধ করে, অন্যথায় তাদের নিজেদের দেশেও বড় সমস্যা তৈরি হবে।   আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম নিজস্ব দূরপাল্লার ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে প্রায় ২০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোসহ বিভিন্ন তেল শোধনাগারে ভয়াবহ হামলা চালায়, যার ফলে ক্রেমলিন এখন ব্যাকফুটে চলে গেছে। চ্যাথাম হাউজের রাশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কেয়ার জাইলস বলেন, মস্কো কখনোই নিষ্ক্রিয়ভাবে নিজেদের পরাজয় মেনে নেবে না, বরং তারা যুদ্ধকে অন্য দেশে ছড়িয়ে দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করবে।   এদিকে চলতি মাসেই তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটোর বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে জোটের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। এর আগে ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ড ও জার্মানির ডিএইচএল পার্সেলের ভেতরে রাশিয়ান অগ্নিবোমা পাওয়া গিয়েছিল এবং গত সেপ্টেম্বরে ১৯টি রাশিয়ান ডেকয় ড্রোন পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। ফলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গের আকাশ সীমায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর পুতিন যদি নিজেকে চরম কোণঠাসা মনে করেন, তবে তিনি ন্যাটোর ওপর যেকোনো সময় ক্ষিপ্ত হয়ে আঘাত করতে পারেন যা পুরো ইউরোপের জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক সময়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ২:৪০
সৌদি আরব | ফাইল ছবি

৩ দেশের নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা সৌদি আরবের

নামফো বন্দরে ডেস্ট্রয়ার ‘চোয়ে হিয়ন’ উদ্বোধনে কিম জং উন | ছবি: রয়টার্স

পারমাণবিক শক্তির দানবীয় যুদ্ধজাহাজ বানাচ্ছে উত্তর কোরিয়া, উদ্বিগ্ন আমেরিকা

মারিয়া জাখারোভা | ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

ইউক্রেনকে ইউরেনিয়াম দিচ্ছে যুক্তরাজ্য, রাজনৈতিক চাল দেখছে রাশিয়া

রোনডায় রেস্তোরাঁর এসি মেরামত করছেন টেকনিশিয়ান | ছবি: জর্জ গেরেরো/এএফপি
ইউরোপে প্রচণ্ড গরমে এসি কেনার হিড়িক

ইউরোপের দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গ্রীষ্মকালীন দাবদাহ দিন দিন মারাত্মক রূপ ধারণ করায় এয়ার কন্ডিশনার বা এসি কেনার রেকর্ড হিড়িক পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয়রা এসি-কে একটি অপ্রয়োজনীয়, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিলাসিতা মনে করলেও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেই দীর্ঘদিনের ধারণা দ্রুত পাল্টাচ্ছে। তীব্র গরমে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঠেকাতে ইউরোপজুড়ে এখন ঘরে ঘরে এসি সংগ্রহের ধুম লেগেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ মহাদেশে প্রতি বছর অতিরিক্ত গরমের কারণে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ মারা যান। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের জীবন বাঁচাতে এসি এখন বিলাসিতা থেকে অন্যতম এক জরুরি পণ্যে পরিণত হয়েছে।   বিভিন্ন চিকিৎসা ও পরিবেশ বিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘরের ভেতরে সঠিক উপায়ে এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার গরমজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে। এত বড় সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ইউরোপের মাত্র ২০ শতাংশ পরিবারে এসি রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এই হার প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। ইউরোপে এতদিন এসির ব্যবহার কম থাকার পেছনে মূল কারণ ছিল তাদের ঐতিহ্যগত সহনশীলতা এবং প্রাচীন ঘরবাড়ির বিশেষ স্থাপত্যশৈলী। মহাদেশের দক্ষিণের দেশগুলোতে মোটা সাদা দেয়াল ও ছোট জানালার মাধ্যমে ঘর ঠান্ডা রাখা হতো, আর উত্তরের দেশগুলোতে গ্রীষ্মকালে কখনোই এমন তীব্র গরম অনুভূত হতো না। এছাড়া ইউরোপের দেশগুলোতে গ্যাসের উচ্চমূল্য এবং কম গড় বেতনের কারণে বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত খরচও এসি কেনার পেছনে একটি বড় সামাজিক বাধা হিসেবে কাজ করত।   তবে বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে ইউরোপ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এবং গরমে অতিষ্ঠ মানুষ একটু স্বস্তির খোঁজে নদী বা বিভিন্ন জলাশয়ে নামায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে প্যারিস ও এর আশপাশের দোকানগুলোতে সাধারণ এসি পুরোপুরি বিক্রি হয়ে গেছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যও তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত জুন মাস পার করছে। সেখানে গত ৩ বছরের তুলনায় এসি ব্যবহারের হার দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৪০ লাখ পরিবারে পৌঁছেছে। লন্ডনের স্থানীয় এসি সরবরাহকারী ও টেকনিশিয়ানরা জানিয়েছেন, করোনা মহামারীর পর থেকে এসির চাহিদা প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়লেও এবারের গরমের মতো এত ব্যস্ত সময় তারা গত ২৫ বছরে আর কখনো দেখেননি।   ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতে ২০০৩ সালের এক ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী দাবদাহের পর এসির ব্যবহার প্রথম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ওই সময়ে দেশটির মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়িতে এসি থাকলেও ২০২৪ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী তা বেড়ে ৫৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট এসি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের এক-তৃতীয়াংশই একা ব্যবহার করে ইতালি। আন্তর্জাতিক রেফ্রিজারেশন ইনস্টিটিউটের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে সামগ্রিকভাবে পুরো ইউরোপে এয়ার কন্ডিশনারের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এমনকি জার্মানি এবং উত্তরের অন্যান্য তুলনামূলক ঠান্ডা দেশগুলোতেও এখন ধীরে ধীরে এসির ব্যবহার এবং বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে।   জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করেছেন যে কয়লা বা গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে এসি চালালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রায় ৪ শতাংশ আসে কেবল এসি থেকে, যা বৈশ্বিক বিমান শিল্পের চেয়েও প্রায় দ্বিগুণ। এই পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা সাধারণ এসি বাদ দিয়ে আধুনিক এবং কম বিদ্যুৎসাশ্রয়ী 'হিট পাম্প' প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। একই সাথে এসির বিদ্যুৎ সরবরাহ সোলার বা সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৫০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করায় স্পেন, ইতালি ও গ্রিসের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই সরকারি ভবনগুলোতে গ্রীষ্মকালে এসি ব্যবহারের ওপর নির্দিষ্ট সীমা বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৬, ২০২৬ ১:১৫
ব্রিটিশ টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার ব্রুক জর্জ | ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ে প্রেমিককে হত্যার অভিযোগে ব্রিটিশ তরুণীর মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ‘বৃহত্তর পরিকল্পনা’ ধূলিসাৎ করে দিয়েছে পাকিস্তান

ছবিঃ কেসিএনএ

কিমের উপস্থিতিতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট সিস্টেমের পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

0 Comments