- প্রচ্ছদ
- Topic
কূটনৈতিক
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পরামর্শও তিনি ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার জেরুজালেমে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৈঠকে ইরানকে মোকাবিলায় তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এগুলো হলো কূটনৈতিক সমঝোতা, সামরিক পদক্ষেপ এবং তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানো। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তি হলে ইসরায়েলের আপত্তি নেই। তবে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে এমন চুক্তি সম্ভব কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এ সময় ইরানের নেতাদের ‘সেভেজ’ বা ‘বর্বর’ বলে আখ্যা দেন তিনি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ট্রাম্পকে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে ইরানের ওপর ‘চাপ আরও শক্ত করার’ কথা বলেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, সেটি ওই কৌশলেরই অংশ। সোমবার ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান চলাচল ও শিপিং খাতকে লক্ষ্য করা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশের কিছু প্রতিষ্ঠানও ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। ট্রাম্পও বুধবার ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলকে সমর্থন করে বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিজয়ের দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে বিরোধ চলছে। ইরান ও ওমান বর্তমানে প্রণালির ভবিষ্যৎ নৌ চলাচল নিয়ে আলোচনা করছে। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি এখন পুরোপুরি খোলা এবং সেখানে মাইনও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত অস্ত্র ও সামরিক ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে নতুন সামরিক সরঞ্জামও আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পুনর্গঠন ও নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ করা হয়েছে। ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবস্থান কঠোর হওয়ার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর এমন মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দুই দেশ। সোমবার প্যারিসে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে হবে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা। ইরান ইস্যুতে দুই দেশ আরও উত্তেজনা এড়াতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স ইরানের পরমাণু কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তেহরানকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং নৌপথের নিরাপত্তার জন্য হুমকিরও নিন্দা জানিয়েছে দুই দেশ। বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে আগের স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা, নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিবহন এবং কোনো ধরনের সরাসরি বা পরোক্ষ কর কিংবা চলাচলে বাধা না থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে চুক্তির ঘোষণা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় টেকসই যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি এবং বেসামরিক মানুষের কাছে দ্রুত, নিরাপদ ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তারা। দুই দেশ ফিলিস্তিনি জনগণের ১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রম ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনে আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ সুগম করাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার পরিস্থিতিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। লেবাননের ক্ষেত্রে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং সব অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং লেবাননের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। ইয়েমেনে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির ভূখণ্ডে হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি ও পূর্ণ সমর্থনের কথাও জানিয়েছে প্যারিস। সুদানের ক্ষেত্রে সংকট দ্রুত সমাধান, বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। সিরিয়ার ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি সৌদি-সিরীয়-ফরাসি ব্যবসায়ী পরিষদ গঠনের বিষয়টিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি সৌদি আরব ও ফ্রান্স অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের পরিকল্পনাও করেছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। এবার দুই দেশ পারস্পরিক বিনিয়োগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতেও নতুন সহযোগিতার ঘোষণা এসেছে। দুই দেশ অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণসহ ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও উদীয়মান প্রযুক্তিতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সৌদি আরবের আলউলা অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে যৌথ সহযোগিতা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া ফ্রান্স রিয়াদ এক্সপো ২০৩০-এ অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুই দেশের নেতারা মনে করছেন, এই আয়োজন সৌদি আরব ও ফ্রান্সের সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে। বৈঠকের সময় প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি ও বিনোদন খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি-ফরাসি বিনিয়োগ গোলটেবিল বৈঠক থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ২২টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের ঘোষণা এসেছে। সব মিলিয়ে, সৌদি আরব ও ফ্রান্সের নতুন যৌথ উদ্যোগ শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইরান, হরমুজ প্রণালি, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার মতো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইস্যুতেও দুই দেশ নিজেদের সমন্বয় আরও জোরদার করতে চাইছে।
গাজায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শান্তি পরিকল্পনাকে আবারও সচল করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মিসরের কায়রোতে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বিরল সরাসরি বৈঠকের একদিন পর জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পরও মূল বিরোধের সমাধান হয়নি। কুশনারের এই সফরের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ১৫ দফা গাজা রোডম্যাপ বাস্তবায়নের পথ তৈরি করা। পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার বেসামরিক শাসন নতুন ব্যবস্থার হাতে তুলে দেওয়া এবং এর বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে। হামাস পরিকল্পনাটিতে সম্মতি জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কিন্তু কোন পদক্ষেপটি আগে বাস্তবায়িত হবে - সেটিই এখন সবচেয়ে বড় বাধা। ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট - হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র হওয়ার আগে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে চান না প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে হামাস চায় ইসরায়েল প্রথমে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে স্পষ্ট ও কার্যকর প্রতিশ্রুতি দিক। এই দুই অবস্থানের ব্যবধানের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর আগে কায়রোতে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন জ্যারেড কুশনার। আলোচনায় মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরাও যুক্ত ছিলেন। হামাস নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির এমন সরাসরি আলোচনা এখনো বিরল ঘটনা - ফলে বৈঠকটিকে গাজা নিয়ে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কুশনারের সঙ্গে হামাসের এটিই প্রথম পরিচিত সরাসরি যোগাযোগ নয়। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্টিভ উইটকফকে সঙ্গে নিয়ে হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি। তবে এবারের আলোচনা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার নিরাপত্তা, নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো সামনে চলে এসেছে। কায়রোর আলোচনা শেষে জেরুজালেমে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন কুশনার। বৈঠকটিকে ইসরায়েলি পক্ষ ‘গভীর ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা পরিকল্পনায় ইসরায়েলের পূর্ণ সম্মতি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও গাজা পরিকল্পনার মূল বাধা এখনো কাটেনি। তবে বৈঠক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। গাজার নিরস্ত্রীকরণ এবং অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করতে দুটি পৃথক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে নেতানিয়াহু ও কুশনার একমত হয়েছেন। গাজার পুনর্গঠনের আগে অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কুশনার জানিয়েছেন, হামাসের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক বক্তব্য পাওয়া গেলেও এখন কথার পরিবর্তে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় ওয়াশিংটন। তার মতে, অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া এবং হামাসের ব্যবহৃত টানেল বন্ধের মতো দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হলে আগামী ৩০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে সেটি পুরোপুরি নির্ভর করছে পরিকল্পনার শর্ত বাস্তবায়নের ওপর। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধ করার কথা বলেছেন। এমন সময়ে এই মন্তব্য এসেছে, যখন তার দূত কুশনার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনায় এগিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন। এই কূটনৈতিক তৎপরতায় মিসর, কাতার ও তুরস্কের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কায়রোর আলোচনায় তিন দেশের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্ত ছিলেন এবং হামাস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগের পথ তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। ফলে গাজা নিয়ে বর্তমান আলোচনা শুধু ওয়াশিংটন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই - পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় বাধা এখনো একই জায়গায় - কে আগে পদক্ষেপ নেবে। হামাস ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা চায়, আর নেতানিয়াহু চান আগে হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ। কয়েক ঘণ্টার কুশনার-নেতানিয়াহু বৈঠকেও এই মৌলিক ব্যবধান দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে গাজা শান্তি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে দুই পক্ষের মধ্যে এই আস্থার সংকট কত দ্রুত কাটানো যায় তার ওপর। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার - যুক্তরাষ্ট্র এবার শুধু মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত সরাসরি হামাস নেতৃত্বের সঙ্গে বসছেন, পরদিনই আলোচনা করছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। গাজার যুদ্ধ থামানো এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির প্রচেষ্টা তাই নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এখন নজর থাকবে দুটি বিষয়ে - হামাস বাস্তবে নিরস্ত্রীকরণের পথে পদক্ষেপ নেয় কি না এবং তার বিপরীতে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয় কি না। এই দুই প্রশ্নের সমাধান না হলে বৈঠক যতই বাড়ুক, গাজা নিয়ে স্থায়ী সমঝোতার পথ খোলা কঠিনই থেকে যাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানালেও ইউক্রেনের বিশ্লেষকদের দাবি, ক্রেমলিন এখনো যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নয়। ইউক্রেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Kyiv Post-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধের পরিবর্তে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত মিলছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুতিন ইউক্রেনকে স্বাধীন জাতিসত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে আগের অবস্থানেই রয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য ও ক্ষমতার কাঠামো ধরে রাখার একটি হাতিয়ার হিসেবেও উপস্থাপন করছেন বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, সের্গেই লাভরভ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা বন্ধ, রাশিয়ার দখল করা অঞ্চলগুলোর দাবিকে স্বীকৃতি এবং মস্কোর নিরাপত্তা শর্ত মেনে নেওয়ার ওপর জোর দেন। এসব অবস্থানকে শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে Kyiv Post। তবে রাশিয়া বরাবরের মতোই বলছে, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু তা হতে হবে তাদের নিরাপত্তা স্বার্থ ও ঘোষিত শর্তের ভিত্তিতে। মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তাকেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করে আসছে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে ইসরায়েল সরকারের কিছু সদস্য সচেষ্ট ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। জনপ্রিয় পডকাস্ট উপস্থাপক জো রোগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান-নীতি পরিবর্তনের জন্য ইসরায়েল সরকারের কিছু ব্যক্তি মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তার দাবি, তারা চেয়েছিলেন সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হোক এবং কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হোক। ভ্যান্স আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাকে ব্যক্তিগতভাবেও লক্ষ্য করে একটি “অত্যন্ত অর্থায়ন-সমৃদ্ধ বিদেশি প্রভাব প্রচারণা” চালানো হয়েছিল। তবে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি এখনো বিশ্বাস করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানো জরুরি। তবে তার মতে, সেই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় সবসময় সামরিক অভিযান নয়; কূটনৈতিক পথও গুরুত্বপূর্ণ। ভ্যান্স যে সমঝোতার পক্ষে কথা বলেছেন, সেটি গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইরানের সঙ্গে সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচকদের দাবি, ওই সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিয়ে পর্যাপ্ত বিধিনিষেধ রাখা হয়নি। ভ্যান্সের এই মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কোনো ভাইস প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে কূটনীতি নাকি সামরিক চাপ—এই প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তদন্তে এক থাই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাতে জানা যায়, ইয়াঙ্গুনে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কর্মরত ওই অজ্ঞাত পরিচয়ের কূটনীতিককে দুই সপ্তাহ আগে সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেল থেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় কূটনৈতিক মহলের কয়েকজন ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলটি দূতাবাসের কাছাকাছি অবস্থিত এবং এটি বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক অতিথিদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি আবাসিক হোটেল। তারা আরও জানান, ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় থাই নাগরিক এক নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটক নারীকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত নিহত মার্কিন কূটনীতিক এবং আটক নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।