হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দুই দেশ। সোমবার প্যারিসে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে হবে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা। ইরান ইস্যুতে দুই দেশ আরও উত্তেজনা এড়াতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি আরব ও ফ্রান্স ইরানের পরমাণু কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে তেহরানকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং নৌপথের নিরাপত্তার জন্য হুমকিরও নিন্দা জানিয়েছে দুই দেশ।
বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে আগের স্বাভাবিক নৌচলাচল ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা, নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিবহন এবং কোনো ধরনের সরাসরি বা পরোক্ষ কর কিংবা চলাচলে বাধা না থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। সৌদি আরব ও ফ্রান্স হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে চুক্তির ঘোষণা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় টেকসই যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি এবং বেসামরিক মানুষের কাছে দ্রুত, নিরাপদ ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তারা।
দুই দেশ ফিলিস্তিনি জনগণের ১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন কার্যক্রম ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স।
বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সংস্কার কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনে আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা স্বাগত জানিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ সুগম করাই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার পরিস্থিতিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। লেবাননের ক্ষেত্রে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা এবং সব অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং লেবাননের সব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব ও ফ্রান্স। সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির ভূখণ্ডে হামলার বিরুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি ও পূর্ণ সমর্থনের কথাও জানিয়েছে প্যারিস।
সুদানের ক্ষেত্রে সংকট দ্রুত সমাধান, বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষার আহ্বান জানানো হয়েছে। সিরিয়ার ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দুই দেশ। পাশাপাশি সৌদি-সিরীয়-ফরাসি ব্যবসায়ী পরিষদ গঠনের বিষয়টিকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি সৌদি আরব ও ফ্রান্স অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের পরিকল্পনাও করেছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ছিল। এবার দুই দেশ পারস্পরিক বিনিয়োগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
প্রতিরক্ষা খাতেও নতুন সহযোগিতার ঘোষণা এসেছে। দুই দেশ অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণসহ ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও উদীয়মান প্রযুক্তিতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সৌদি আরবের আলউলা অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে যৌথ সহযোগিতা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।
এ ছাড়া ফ্রান্স রিয়াদ এক্সপো ২০৩০-এ অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দুই দেশের নেতারা মনে করছেন, এই আয়োজন সৌদি আরব ও ফ্রান্সের সম্পর্ক আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।
বৈঠকের সময় প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি ও বিনোদন খাতে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি-ফরাসি বিনিয়োগ গোলটেবিল বৈঠক থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ২২টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের ঘোষণা এসেছে।
সব মিলিয়ে, সৌদি আরব ও ফ্রান্সের নতুন যৌথ উদ্যোগ শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ইরান, হরমুজ প্রণালি, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও সিরিয়ার মতো মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ইস্যুতেও দুই দেশ নিজেদের সমন্বয় আরও জোরদার করতে চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব রাজনীতি
View moreইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর নতুন করে কঠোর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে তেল ও অন্যান্য বাণিজ্যে যুক্ত চীন, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো নতুন মার্কিন পদক্ষেপের আওতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করতে বড় ধরনের সমন্বিত চাপ তৈরির পরিকল্পনা করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এই চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের তেল বাণিজ্য। চীন ইরানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হওয়ায় দেশটির ওপর মার্কিন চাপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল পরিবহন ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চীনা প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বেসেন্ট এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী—সব দেশকেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হতে পারে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসগুলোকে সংকুচিত করা এবং দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই কৌশলগত নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। চীনসহ এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। চীনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসে। ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর জন্য চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়লে তা ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে ভারতীয় কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক যোগাযোগের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু ইরানকে লক্ষ্য করে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বরং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা তৃতীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগের পথ সংকুচিত করতে চাইছে। তবে চীন ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতিকে একই নীতির আওতায় আনতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রকেও কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন অর্থনৈতিক অভিযান এখন শুধু ওয়াশিংটন-তেহরান দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই। চীন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশে
হামাস রাজি, নেতানিয়াহু নারাজ - গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলে ট্রাম্পের জামাতা
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো সামরিক অক্ষ বা ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয় বলে জানিয়েছে রিয়াদ। সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও টেকসই করা। চুক্তিটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত নয় বলে সৌদি পক্ষ জানিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং বড় প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী, আর পাকিস্তানের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা। তবে তিন দেশই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। তুরস্কের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু ব্যাখ্যা চুক্তিটির প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। চুক্তিটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে নতুন এই প্রতিরক্ষা কাঠামোকে অনেকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে সৌদি আরবের বক্তব্য হলো, এর উদ্দেশ্য নতুন কোনো ‘সামরিক অক্ষ’ তৈরি করা নয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক সম্পর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি Strategic Mutual Defense Agreement স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে এক দেশের ওপর আগ্রাসনকে উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছিল। নতুন মক্কা চুক্তিতে তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় সেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন ত্রিপক্ষীয় কাঠামো পেয়েছে। চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। তিন দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, সমন্বয়, প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে ভারতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোও নজর রাখছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উত্তেজনার কারণে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামাবাদের এই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোকে দিল্লি কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এখনই এটিকে ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। চুক্তির প্রকাশ্য ভাষ্য অনুযায়ী এটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাঠামো; আর সৌদি আরব স্পষ্টভাবেই বলছে, এর লক্ষ্য কোনো নতুন সামরিক অক্ষ তৈরি করা নয়। অর্থাৎ, মক্কা থেকে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হলেও এর প্রকৃত কৌশলগত প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে চুক্তির অধীনে তারা কতটা যৌথ সামরিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়ন করে তার ওপর।
ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা ফের শুরু করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
আফ্রিকার ৬ দেশের অবস্থান ভুল দেখাল যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিব্রত পররাষ্ট্র দপ্তর
গাজায় অস্ত্র ছাড়বে হামাস? ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে বড় হুমকি তৈরি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী ঘোষণা দিয়েছে, তারা লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরবের বন্দরগুলোতে জাহাজ প্রবেশ বা সেখান থেকে পণ্য পরিবহন করতে দেবে না। এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। হুথিদের দাবি, সৌদি বন্দর লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক সংঘাতে চাপ বাড়াবে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৭ শতাংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি হুথিরা সত্যিই লোহিত সাগরে নৌ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাঁর ভাষায়, “হুথিদের বিরুদ্ধে আমরা আগেও ব্যবস্থা নিয়েছি, প্রয়োজনে আবারও নেব।” হুথিরা দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা মোকাবিলা করে টিকে আছে। তাদের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্রের সক্ষমতা রয়েছে, যা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একই সময়ে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং লোহিত সাগরে সক্রিয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক বিমান মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হলে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করতে হতে পারে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য এবং জ্বালানি এই পথেই পরিবহন হয়। অতীতে হুথিদের হামলার কারণে বিশ্বের বড় বড় শিপিং কোম্পানি এই রুট এড়িয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল করতে বাধ্য হয়েছিল। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময়—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অন্যদিকে, ইরানের ওপর চলমান অবরোধের কারণে হুথিদের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহও আগের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়তে পারে। তবুও হুথিদের এই নতুন হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির জন্যও এটি নতুন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
ফিলিস্তিনি হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া, হামাস অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয় ইঙ্গিতে কঠোর অবস্থান
বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফিরেই ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, দুই দিনে তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত