সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ক্রেডিট কার্ড

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ক্যাশব্যাক ও বিভিন্ন রিওয়ার্ড সুবিধা পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত
ক্রেডিট কার্ডে বছরে শত শত ডলার বেনিফিট, একাউন্ট খোলার আগে যেসব বিষয় দেখবেন

যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত কেনাকাটার জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে শুধু পেমেন্টের সুবিধাই নয়, ক্যাশব্যাক, রিওয়ার্ড পয়েন্ট, সাইনআপ বোনাস এবং বিভিন্ন বিশেষ অফার থেকেও আর্থিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে কোন কার্ডে কী সুবিধা, কত খরচ করতে হবে, বার্ষিক ফি কত এবং সুদের হার কত, এসব হিসাব না করে শুধু বড় বোনাস দেখে কার্ড খুললে উল্টো আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও থাকে।   ক্রেডিট কার্ডের অন্যতম আকর্ষণীয় সুবিধা হলো সাইনআপ বোনাস। অনেক কার্ডে নতুন গ্রাহককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করার শর্তে কয়েকশ ডলারের সমপরিমাণ ক্যাশ বা রিওয়ার্ড পয়েন্ট দেওয়া হয়। যেমন কোনো কার্ডে প্রথম তিন মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ কেনাকাটা করলে কয়েকশ ডলারের বোনাস পাওয়া যেতে পারে।   তবে এই ধরনের অফার নেওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্ধারিত খরচটি নিজের স্বাভাবিক বাজেটের মধ্যে আছে কি না। শুধু বোনাস পাওয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করলে সেই বোনাসের চেয়ে বেশি অর্থ খরচ হয়ে যেতে পারে। আবার সব ধরনের কেনাকাটাও সাইনআপ বোনাসের জন্য নির্ধারিত খরচের মধ্যে গণনা নাও হতে পারে। তাই কার্ডের শর্তগুলো ভালোভাবে পড়া জরুরি।   ক্যাশব্যাকও ক্রেডিট কার্ডের বড় সুবিধা। কোনো কার্ডে গ্রোসারি, গ্যাস, রেস্টুরেন্ট বা নির্দিষ্ট অনলাইন কেনাকাটায় তুলনামূলক বেশি ক্যাশব্যাক দেওয়া হয়। আবার কিছু কার্ডে সব ধরনের কেনাকাটায় নির্দিষ্ট হারে ক্যাশব্যাক দেওয়া হতে পারে। তাই নিজের মাসিক খরচ কোন খাতে বেশি, সেটি আগে হিসাব করে কার্ড বেছে নিলে সুবিধা বেশি পাওয়া সম্ভব।   অনেক কার্ডে ক্যাশব্যাকের পরিবর্তে পয়েন্ট বা মাইল দেওয়া হয়। এসব পয়েন্ট পরে ট্রাভেল, হোটেল, কেনাকাটা, স্টেটমেন্ট ক্রেডিট কিংবা অন্যান্য সুবিধার জন্য ব্যবহার করা যায়। তবে একটি পয়েন্টের প্রকৃত মূল্য কত এবং কোনভাবে ব্যবহার করলে বেশি সুবিধা পাওয়া যায়, তা কার্ডভেদে আলাদা হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবি জানিয়েছে, ক্রেডিট কার্ডের রিওয়ার্ড প্রোগ্রামে অনেক সময় জটিল শর্ত থাকতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বোনাস পাওয়ার যোগ্যতা, পয়েন্ট ব্যবহারের নিয়ম বা রিওয়ার্ডের মূল্য পরিবর্তনের বিষয়গুলো শর্তের মধ্যে থাকতে পারে। তাই শুধু বিজ্ঞাপনে দেখানো বোনাসের পরিমাণ নয়, পুরো শর্ত ও নিয়ম দেখা গুরুত্বপূর্ণ।   ক্রেডিট কার্ডের বার্ষিক ফিও গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ক্রেডিট কার্ডে কোনো বার্ষিক ফি নেই। আবার কিছু রিওয়ার্ড বা ট্রাভেল কার্ডে বছরে উল্লেখযোগ্য ফি থাকতে পারে। কোনো কার্ডে বার্ষিক ফি থাকলে ক্যাশব্যাক, পয়েন্ট, ট্রাভেল ক্রেডিটসহ মোট সুবিধা সেই ফি-এর চেয়ে বেশি কি না, সেটি হিসাব করে দেখা উচিত।   কার্ডের বার্ষিক সুদের হার বা এপিআরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্ডের বিজ্ঞাপনে বড় অঙ্কের ক্যাশব্যাক বা বোনাস দেখা গেলেও বকেয়া ব্যালেন্স বহন করলে সুদের খরচ দ্রুত সেই সুবিধা ছাড়িয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি বলছে, পুরো বিল পরিশোধ না করলে বকেয়া ব্যালেন্সের ওপর সুদ দিতে হতে পারে এবং শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিয়ে চললে ঋণ পরিশোধে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে।   কিছু কার্ডে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শূন্য শতাংশ প্রাথমিক এপিআর দেওয়া হয়। এ ধরনের অফার বড় কেনাকাটা বা ব্যালেন্স ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। কিন্তু শূন্য শতাংশ অফার কতদিন থাকবে এবং অফার শেষ হওয়ার পর সুদের হার কত হবে, তা আগে থেকেই জানা জরুরি।   এখানে শূন্য শতাংশ এপিআর এবং বিলম্বিত সুদের পার্থক্যও বুঝতে হবে। শূন্য শতাংশ এপিআর ধরনের অফারে প্রচারণামূলক সময়ের মধ্যে সাধারণত সুদ যোগ হয় না এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বকেয়া ব্যালেন্সের ওপর নিয়মিত সুদ শুরু হতে পারে। কিন্তু “নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ করলে সুদ নেই” ধরনের অফারে সময়সীমার মধ্যে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ না করলে আগের সময়ের সুদও যোগ হতে পারে। ফলে বিজ্ঞাপনের ভাষা ভালোভাবে বোঝা জরুরি।   ক্রেডিট কার্ড খোলার আগে বিদেশি লেনদেনের ফিও দেখা উচিত। যারা বাংলাদেশসহ অন্য দেশে নিয়মিত ভ্রমণ করেন বা বিদেশি মুদ্রায় কেনাকাটা করেন, তাদের জন্য এই ফি না থাকা কার্ড বেশি উপকারী হতে পারে।   একই সঙ্গে ক্রেডিট স্কোরের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা দরকার। সময়মতো বিল পরিশোধ এবং দায়িত্বশীলভাবে ক্রেডিট ব্যবহার করলে ভালো ক্রেডিট ইতিহাস গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে সময়মতো পেমেন্ট না করলে বিলম্ব ফি, অতিরিক্ত সুদ এবং ক্রেডিট ইতিহাসে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   বিশেষ করে একসঙ্গে অনেকগুলো ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করার আগে সতর্ক হওয়া উচিত। নতুন কার্ডের আবেদন করলে সাধারণত ক্রেডিট রিপোর্টে অনুসন্ধানের রেকর্ড তৈরি হতে পারে। সামনে মর্টগেজ, গাড়ির ঋণ বা অন্য কোনো বড় ঋণের আবেদন করার পরিকল্পনা থাকলে নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া দরকার।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো প্রতি মাসে সময়মতো এবং সম্ভব হলে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করা। পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে সুদ এড়ানো সম্ভব। শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিলে বকেয়া অর্থের ওপর সুদ জমতে থাকে এবং ক্রেডিটের প্রকৃত খরচ বেড়ে যায়।   ধরা যাক, একজন ব্যক্তি প্রতি মাসে এমন কিছু খরচ করেন যা তিনি যেকোনোভাবেই করতেন। সেই স্বাভাবিক খরচ সঠিক ক্যাশব্যাক বা রিওয়ার্ড কার্ডে করলে বছর শেষে কয়েকশ ডলারের সুবিধা পাওয়া সম্ভব। এর সঙ্গে উপযুক্ত সাইনআপ বোনাস যোগ হলে মোট সুবিধা আরও বাড়তে পারে। তবে এটি কোনো নিশ্চিত আয় নয় এবং সুবিধার পরিমাণ সম্পূর্ণভাবে কার্ডের শর্ত, ব্যক্তির খরচের ধরন এবং কার্ড ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে।   তাই ক্রেডিট কার্ডকে অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে দেখার চেয়ে নিয়মিত খরচ থেকে অতিরিক্ত বেনিফিট পাওয়ার একটি আর্থিক টুল হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত। ডেবিট কার্ডে যে খরচটি স্বাভাবিকভাবেই করা হতো, সেটি সঠিক ক্রেডিট কার্ডে করে এবং প্রতি মাসে পুরো বিল পরিশোধ করতে পারলে একই খরচ থেকে ক্যাশব্যাক বা রিওয়ার্ড পাওয়া যেতে পারে।   নতুন কার্ড খোলার আগে তাই শুধু কত ডলার বোনাস দেওয়া হচ্ছে সেটি না দেখে বার্ষিক ফি, ক্যাশব্যাকের হার, সাইনআপ বোনাসের শর্ত, প্রাথমিক এপিআরের মেয়াদ, নিয়মিত সুদের হার, বিদেশি লেনদেনের ফি এবং নিজের খরচের সঙ্গে কার্ডটির সুবিধা কতটা মেলে, সবকিছু একসঙ্গে হিসাব করা উচিত।   সঠিক কার্ড সঠিকভাবে ব্যবহার করলে দৈনন্দিন খরচ থেকেই বছরে কয়েকশ ডলারের বেনিফিট পাওয়া সম্ভব। তবে বোনাসের জন্য অপ্রয়োজনীয় খরচ করা বা সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে সেই সুবিধাই বড় সুদের খরচে পরিণত হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
বেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই কি বাড়ে ক্রেডিট স্কোর?
বেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই কি বাড়ে ক্রেডিট স্কোর? প্রচলিত ভুল ধারণা জানুন

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন এমন অনেকের ধারণা, কার্ডে যত বেশি খরচ করা হবে এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ করা হবে, তত দ্রুত বাড়বে ক্রেডিট স্কোর। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। বরং ক্রেডিট কার্ডের লিমিটের কতটা ব্যবহার করা হচ্ছে, সময়মতো পেমেন্ট করা হচ্ছে কি না এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্রেডিট কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে, সেগুলোই স্কোরের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।   ফিকোর তথ্য অনুযায়ী, একটি সাধারণ ফিকো ক্রেডিট স্কোরে পেমেন্ট হিস্ট্রি সবচেয়ে বড় বিষয়, যা স্কোরের প্রায় ৩৫ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এরপর অ্যামাউন্টস ওয়েড বা কতটা ঋণ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি প্রায় ৩০ শতাংশ। এছাড়া ক্রেডিট হিস্ট্রির দৈর্ঘ্য ১৫ শতাংশ, নতুন ক্রেডিট ১০ শতাংশ এবং ক্রেডিট মিক্স ১০ শতাংশ পর্যন্ত ভূমিকা রাখে। তবে ব্যক্তিভেদে এসব বিষয়ের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।    এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন। সহজভাবে বললে, আপনার মোট ক্রেডিট লিমিটের কত শতাংশ আপনি ব্যবহার করছেন, সেটিই ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন।   ধরুন, আপনার একটি ক্রেডিট কার্ডের লিমিট ৫ হাজার ডলার। আপনি যদি সেই কার্ডে ৪ হাজার ডলার ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার ইউটিলাইজেশন দাঁড়ায় ৮০ শতাংশ। বিপরীতে ১ হাজার ডলার ব্যবহার করলে তা হয় ২০ শতাংশ।   ফাইকো বলছে, ক্রেডিট লিমিটের বড় একটি অংশ ব্যবহার করা স্কোরের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। সাধারণভাবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যালান্স যত কম রাখা যায়, তত ভালো।    তাহলে কি ৩০ শতাংশের নিচে থাকলেই ক্রেডিট স্কোর ভালো থাকবে?   ৩০ শতাংশকে অনেক সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন হিসেবে বলা হয়। কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবি বলছে, বিশেষজ্ঞরা সাধারণত মোট ক্রেডিট লিমিটের ৩০ শতাংশের বেশি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। তবে এটি কোনো জাদুকরী সীমা নয়। সিএফপিবি আরও স্পষ্ট করে বলছে, ভালো ক্রেডিট স্কোরের জন্য ক্রেডিট কার্ডে ব্যালান্স বহন করার প্রয়োজন নেই।    অর্থাৎ ৫ হাজার ডলারের ক্রেডিট লিমিট হলে ৩০ শতাংশ হলো ১ হাজার ৫০০ ডলার। তবে সম্ভব হলে এর চেয়েও কম ইউটিলাইজেশন রাখা ভালো। সম্প্রতি প্রকাশিত এক্সপেরিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ভালো ক্রেডিট স্কোরধারীদের অনেকের ইউটিলাইজেশন ১০ শতাংশের নিচে থাকে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ৩০ শতাংশ কোনো নির্দিষ্ট বা বাধ্যতামূলক সীমা নয়।    আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর জন্য মাস শেষে ক্রেডিট কার্ডে কিছু টাকা বাকি রাখতে হবে এবং সেই ব্যালান্সের ওপর সুদ দিতে হবে। এটিও সঠিক নয়।   সিএফপিবি বলছে, প্রতি মাসে ক্রেডিট কার্ডের বিল পুরোপুরি পরিশোধ করাই ভালো ক্রেডিট ব্যবস্থাপনার অংশ। শুধু ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর জন্য ব্যালান্স রেখে সুদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।    তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আপনি মাসের মধ্যে কত খরচ করেছেন, সেটিই সবসময় আপনার ক্রেডিট রিপোর্টে দেখা যাবে এমন নয়। সাধারণত ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি যে ব্যালান্স ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করে, সেটিই রিপোর্টে প্রতিফলিত হতে পারে। তাই নির্ধারিত ডিউ ডেট এর আগে পুরো বিল পরিশোধ করলেও রিপোর্ট হওয়ার সময় কোনো ব্যালান্স থাকলে সেটি আপনার ইউটিলাইজেশন এ প্রভাব ফেলতে পারে।    ক্রেডিট স্কোরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়মতো পেমেন্ট। একটি পেমেন্ট দেরি হলে শুধু সেই মাসের হিসাবই নয়, আপনার ক্রেডিট ইতিহাসেও তার প্রভাব পড়তে পারে। ফাইকো অনুযায়ী, পেমেন্ট হিস্ট্রি তাদের স্কোরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।    যাদের ক্রেডিট স্কোর কমে গেছে, তাদের জন্যও রাতারাতি স্কোর বাড়ানোর কোনো বৈধ শর্টকাট নেই। সিএফপিবি বলছে, ক্রেডিট পুনর্গঠনে সময় লাগে। নিয়মিত সময়মতো বিল পরিশোধ করা, ক্রেডিট লিমিটের খুব কাছাকাছি না যাওয়া এবং অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত নতুন ক্রেডিটের জন্য আবেদন না করাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।    আর যাদের যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি হয়নি, তাদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। ছোট পরিসরে ক্রেডিট শুরু করে সময়মতো পেমেন্ট এবং কম ইউটিলাইজেশন বজায় রাখার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি করা যায়। সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডও নতুনদের জন্য একটি বিকল্প হতে পারে। তবে কার্ড নেওয়ার আগে সেটি ক্রেডিট ব্যুরোগুলোতে রিপোর্ট করে কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।    বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বেশি ক্রেডিট কার্ড থাকা বা বেশি টাকা খরচ করাই ভালো স্কোরের নিশ্চয়তা নয়। বরং আপনার কাছে যতটুকু ক্রেডিট আছে, সেটি কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করছেন সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   তাই ৫ হাজার ডলারের কার্ড থাকলে ৫ হাজার ডলার খরচ করার লক্ষ্য নয়। বরং নিজের প্রয়োজন ও সামর্থ্যের মধ্যে খরচ করা, ইউটিলাইজেশন কম রাখা এবং প্রতিবার সময়মতো পেমেন্ট করাই ভালো ক্রেডিট স্কোর তৈরির মূল কৌশল।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্রেডিট স্কোর কোনো একদিনে তৈরি হয় না। নিয়মিত ভালো আর্থিক অভ্যাস এবং দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বশীল ক্রেডিট ব্যবস্থাপনাই একটি শক্তিশালী ক্রেডিট প্রোফাইল তৈরির ভিত্তি।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
ক্রেডিট কার্ডের সুদ কমাতে বললেই মিলছে ছাড়
ক্রেডিট কার্ডের সুদ কমাতে বললেই মিলছে ছাড়, সফল ৮৪ শতাংশ গ্রাহক

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার কমানো বা বিভিন্ন ফি মওকুফের জন্য কার্ড কোম্পানির কাছে অনুরোধ করে বড় ধরনের সাড়া পাচ্ছেন গ্রাহকরা। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে সুদের হার কমানোর অনুরোধ করা ৮৪ শতাংশ গ্রাহকই সফল হয়েছেন।    ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক প্রতিষ্ঠান লেন্ডিংট্রির জরিপ অনুযায়ী, সুদের হার কমানোর পর গড়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। জরিপে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের জন্য এটি ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্যের হার।     শুধু সুদের হার নয়, বিভিন্ন ফি কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রেও সাফল্যের হার বেশ বেশি। বিলম্ব ফি মওকুফের অনুরোধ করা ৯২ শতাংশ গ্রাহক সফল হয়েছেন। বার্ষিক ফি কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রে সফলতার হার ৯৪ শতাংশ। বিদেশি লেনদেনের ফি কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ব্যালান্স ট্রান্সফার ফি কমানো বা মওকুফের ক্ষেত্রে ৬১ শতাংশ অনুরোধ অনুমোদন পেয়েছে।     তবে এমন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক গ্রাহক এসব ছাড়ের জন্য আবেদন করছেন না। জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ কার্ডধারী বলেছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে তারা ছাড় চাইতে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়েছেন। আবার প্রায় ১০ জনে ৪ জন জানিয়েছেন, কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধির সঙ্গে কথা না বলেই তারা সুদের হার কমানো বা কোনো ফি মওকুফের সুবিধা পেয়েছেন।     লেন্ডিংট্রির উদাহরণ অনুযায়ী, কারও ক্রেডিট কার্ডে ৭ হাজার ডলার ঋণ থাকলে এবং সুদের হার ২৫ শতাংশ থেকে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামানো গেলে, প্রতি মাসে ২৫০ ডলার করে পরিশোধ চালিয়ে গেলে প্রায় ১ হাজার ৩৪৬ ডলার সুদ সাশ্রয় হতে পারে।     বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সময়মতো বিল পরিশোধের রেকর্ড বা উন্নত ক্রেডিট স্কোর থাকলে সুদের হার কমানোর অনুরোধ করা যেতে পারে। অন্য প্রতিষ্ঠানের কম সুদের অফার থাকলেও সেটি দর-কষাকষিতে কাজে লাগতে পারে। অনুরোধ নাকচ হলে পরে আবার চেষ্টা করা বা অন্য প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩৮ হাজার ডলারের কেনাকাটা, তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ
ক্যালিফোর্নিয়ার ইরভাইনে চুরি করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ৩৮ হাজার ডলারের কেনাকাটা, তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের অরেঞ্জ কাউন্টির ইরভাইন শহরে চুরি করা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে ৩৮ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের বিলাসবহুল পণ্য কেনার অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে খুঁজছে স্থানীয় পুলিশ।   ইরভাইন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, স্থানীয় এক বাসিন্দার ক্রেডিট কার্ডের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে এই বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন সন্দেহভাজন স্থানীয় বিভিন্ন নামিদামি দোকানে গিয়ে চুরি করা তথ্যের সাহায্যে মোট ৩৮ হাজার ৪৩৫ ডলার ৫০ সেন্ট খরচ করে।   তাদের এই বিলাসবহুল কেনাকাটার তালিকায় ছিল মূলত নামী ব্র্যান্ডের পোশাক এবং উচ্চমূল্যের সব গয়না। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   তদন্তের স্বার্থে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ওই দুই নারী ও এক পুরুষের ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ। সাধারণ মানুষের কাছে তাদের শনাক্ত করার বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।   ইরভাইন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ এই তিনজনকে চিনতে পারলে বা তাদের সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে ডিটেকটিভ মেনার সঙ্গে ৯৪৯-৭২৪-৭১২৪ নম্বরে অথবা amena@cityofirvine.org ই-মেইলে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, সাধারণ মানুষের সহায়তায় ছবিগুলো প্রকাশের মাধ্যমে দ্রুতই এই প্রতারকদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
প্রথম কয়েক মাসে অতিরিক্ত ব্যালান্স রাখা বা পেমেন্টে দেরি করা ক্রেডিট স্কোরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ছবি: সংগৃহীত
ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার প্রথম ৬ মাসে যে ভুলগুলো নষ্ট করতে পারে ক্রেডিট স্কোর

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ক্রেডিট তৈরি করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার পরের প্রথম কয়েক মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে অতিরিক্ত ব্যালান্স রাখা, পেমেন্টে দেরি করা কিংবা অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করার মতো ভুল ক্রেডিট স্কোরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   আই সি ও  স্কোরের ক্ষেত্রে পেমেন্ট হিস্ট্রি সাধারণত ৩৫ শতাংশ এবং কত টাকা বকেয়া রয়েছে বা ক্রেডিটের কতটা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবার ক্ষেত্রে একইভাবে এসব বিষয়ের প্রভাব পড়ে না। একজন ব্যক্তির পুরো ক্রেডিট প্রোফাইলের ওপর নির্ভর করে স্কোরে বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব পরিবর্তিত হতে পারে।   প্রথম কয়েক মাসে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার ক্রেডিট ইউটিলাইজেশনে। অর্থাৎ আপনার মোট ক্রেডিট লিমিটের কত শতাংশ ব্যবহার করছেন। যেমন, ৫০০ ডলারের ক্রেডিট লিমিটের কার্ডে ৪০০ ডলার ব্যবহার করলে ইউটিলাইজেশন দাঁড়ায় ৮০ শতাংশ। এত বেশি ব্যবহার ক্রেডিট স্কোরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   আই সি ও নির্দিষ্টভাবে ৩০ শতাংশকে বাধ্যতামূলক সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেনি। তবে ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালান্স যত কম রাখা যায়, সাধারণত তত ভালো। তাই নতুন কার্ডধারীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে লিমিটের বড় অংশ ব্যবহার না করাই নিরাপদ অভ্যাস।   শুধু মিনিমাম পেমেন্টের ওপর নির্ভর করাও ভালো অভ্যাস নয়। স্টেটমেন্টে নির্ধারিত মিনিমাম পেমেন্ট সময়মতো দিলে সাধারণত অ্যাকাউন্ট লেট পেমেন্ট হিসেবে রিপোর্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। তবে বাকি ব্যালান্সের ওপর সুদ জমতে পারে। তাই সম্ভব হলে প্রতি মাসে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালান্স পরিশোধ করা ভালো।   এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর জন্য সুদ দিতে হয় না। বরং সময়মতো পেমেন্ট করা এবং ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালান্স কম রাখা ক্রেডিট গড়ার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   পেমেন্টের সময় নিয়েও অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। ডিউ ডেটের একদিন পর পেমেন্ট করলেই সাধারণত সেটি সঙ্গে সঙ্গে ক্রেডিট রিপোর্টে ৩০ দিনের লেট পেমেন্ট হিসেবে যুক্ত হয় না। তবে নির্ধারিত সময়ের পর পেমেন্ট করলে কার্ড কোম্পানি লেট ফি নিতে পারে। আর দীর্ঘ সময় বকেয়া থাকলে তা ক্রেডিট ব্যুরোতে নেতিবাচক তথ্য হিসেবে রিপোর্ট হতে পারে।   সাধারণত ৩০ দিন বা তার বেশি সময় পেমেন্ট বকেয়া থাকলে তা ক্রেডিট রিপোর্টে লেট পেমেন্ট হিসেবে দেখা যেতে পারে। নেতিবাচক পেমেন্ট হিস্ট্রি সাধারণত সাত বছর পর্যন্ত রিপোর্টে থাকতে পারে। তাই নতুন কার্ডধারীদের জন্য অটো পে চালু রাখা এবং ডিউ ডেটের আগেই প্রয়োজনীয় অর্থ অ্যাকাউন্টে রাখা ভালো অভ্যাস।   প্রথম কয়েক মাসে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করাও এড়িয়ে চলা উচিত। নতুন ক্রেডিটের জন্য আবেদন করলে হার্ড ইনকোয়ারি হতে পারে। আই সি ও স্কোরে নিউ ক্রেডিটের ওজন প্রায় ১০ শতাংশ। স্বল্প সময়ে একাধিক নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট খোলা, বিশেষ করে যাদের ক্রেডিট হিস্ট্রি এখনও ছোট, ঋণদাতার কাছে ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে।   তবে প্রতিটি হার্ড ইনকোয়ারিতে সবার ক্রেডিট স্কোর নির্দিষ্ট ৫ বা ১০ পয়েন্ট কমে যাবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। এর প্রভাব ব্যক্তির ক্রেডিট প্রোফাইল এবং ব্যবহৃত স্কোরিং মডেলের ওপর নির্ভর করে।   পুরনো ক্রেডিট কার্ড অপ্রয়োজনে বন্ধ করে দেওয়াও সবসময় ভালো সিদ্ধান্ত নয়। আই সি ও স্কোরে ক্রেডিট হিস্ট্রির দৈর্ঘ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এর ওজন সাধারণত প্রায় ১৫ শতাংশ। পুরনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলেই সঙ্গে সঙ্গে পুরো ক্রেডিট হিস্ট্রি মুছে যায় না। তবে দীর্ঘমেয়াদে ক্রেডিট প্রোফাইলে এর প্রভাব পড়তে পারে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত ক্রেডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করা। অ্যানুয়াল ক্রেডিট রিপোর্ট ডটকম এর মাধ্যমে বিনামূল্যে ক্রেডিট রিপোর্ট পাওয়া যায়। রিপোর্টে ভুল নাম, ভুল অ্যাকাউন্ট, ভুল ব্যালান্স কিংবা নিজের নয় এমন কোনো তথ্য থাকলে তা দ্রুত যাচাই করে সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট রিপোর্টিং কোম্পানির কাছে ডিসপিউট করা উচিত।   ভুল তথ্য সংশোধনের জন্য ভোক্তাদের নিজেরাই ডিসপিউট করার অধিকার রয়েছে। এ কাজের জন্য অবশ্যই কোনো ক্রেডিট রিপেয়ার কোম্পানিকে আসসালামু আলাইকুম টাকা দিতে হবে এমন নয়।   নতুন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য মূল বিষয়গুলো তাই সহজ। সময়মতো পেমেন্ট করতে হবে, ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালান্স কম রাখতে হবে, অপ্রয়োজনে অল্প সময়ে একাধিক নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করা এড়িয়ে চলতে হবে এবং নিয়মিত ক্রেডিট রিপোর্ট দেখে ভুল তথ্য থাকলে তা সংশোধন করতে হবে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম ছয় মাসেই সবার ক্রেডিট স্কোর ৬৮০ বা ৭২০-এ পৌঁছাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। নতুন ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি হতে সময় লাগে। কারও স্কোর কত দ্রুত বাড়বে, তা নির্ভর করে তার সম্পূর্ণ ক্রেডিট প্রোফাইল, অ্যাকাউন্টের ইতিহাস এবং পেমেন্টের অভ্যাসের ওপর।   তাই নির্দিষ্ট কোনো স্কোরের পেছনে না ছুটে শুরু থেকেই সময়মতো পেমেন্ট, কম ব্যালান্স এবং দায়িত্বশীল ক্রেডিট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তাবাস্সুম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্রেডিট কার্ডের মোট ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ছবি: গেটি ইমেজ
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলার, বাড়ছে খেলাপি

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডের মোট ঋণ বেড়ে ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই ঋণ ২১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। একই সময়ে ৯০ দিনের বেশি বকেয়া থাকা ঋণের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিমাণ গত বছরের ১ দশমিক ২৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি।   ঋণের পাশাপাশি বকেয়া পরিশোধের পরিস্থিতিও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ৯০ দিনের বেশি বকেয়া থাকা ক্রেডিট কার্ড ঋণের হার দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে উঠেছে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।   নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের গবেষকেরা বলছেন, অনেক পরিবার বেতন-নির্ভর জীবনযাপন করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জ্বালানির ব্যয় বাড়ায় কিছু পরিবার দৈনন্দিন খরচ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর বেশি নির্ভর করছে।   তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, ৯০ দিনের বেশি বকেয়ার হার বেড়েছে মানেই নতুন করে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন—এমনটা নয়। পুরোনো বকেয়া ঋণ দীর্ঘ সময় নথিতে থেকে যাওয়ায় এই হারও বেড়ে দেখা যেতে পারে। নতুন করে খেলাপি হওয়ার হার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।   ঋণের চাপ কমাতে বিশেষজ্ঞরা মাসিক পরিশোধের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নিজের ঋণ ও সুদের হার পর্যালোচনার পরামর্শ দিয়েছেন। ক্রেডিট স্কোর ভালো হয়ে থাকলে কম সুদের হার নিয়ে ঋণদাতার সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। এছাড়া যোগ্যতা থাকলে সুদমুক্ত নির্দিষ্ট সময়ের ঋণ স্থানান্তর সুবিধা বা কম সুদের ব্যক্তিগত ঋণও বিবেচনা করা যেতে পারে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জরুরি প্রয়োজনে নয়, নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ব্যবহার করছেন ৫৬% মার্কিনি
জরুরি প্রয়োজনে নয়, নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই ক্রেডিট কার্ডের ঋণ ব্যবহার করছেন ৫৬% মার্কিনি

যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক বর্তমানে তাদের দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি ‘ইউ.এস. নিউজ’-এর পরিচালিত দেশব্যাপী এক জরিপে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত ৮ থেকে ১১ জুন (২০২৬) পর্যন্ত পিওরস্পেকট্রামের মাধ্যমে ১২০০ জন ভোক্তার ওপর পরিচালিত এই জরিপে মার্কিনীদের ক্রেডিট কার্ডের ঋণ, তা পরিচালনার পদ্ধতি এবং ব্যয়ের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, ৫৬ শতাংশ আমেরিকান তাদের ক্রেডিট কার্ডের বড় অংশই গ্যাস, মুদি বাজার, সন্তানের দেখাশোনা বা ইউটিলিটি বিলের মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করছেন। এর মানে হলো, তারা এখন আর ক্রেডিট কার্ডকে কেবল জরুরি অবস্থার সুরক্ষাকবচ হিসেবে নয়, বরং দৈনন্দিন জীবন ধারণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। অপ্রত্যাশিত বা জরুরি কাজে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৪ শতাংশে।   জরিপের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৫৭ শতাংশ গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ডে বকেয়া ঋণ রয়েছে। এদের মধ্যে ৪১ শতাংশেরই সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১,০০১ থেকে ৬,০০০ ডলারের মধ্যে। ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বয়সীদের মধ্যে তারতম্য দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে ৫৮ শতাংশ গ্রাহক ন্যূনতম প্রদেয় অর্থের (মিনিমাম ডিউ) চেয়ে বেশি পরিশোধ করলেও তরুণ প্রজন্ম এক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে রয়েছে।   জেন এক্স এবং বেবি বুমাররা তুলনামূলক বেশি অর্থ পরিশোধ করলেও ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী জেন জি প্রজন্মের ৭০ শতাংশ এবং ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মিলেনিয়ালদের ৫৩ শতাংশই কেবল ন্যূনতম অর্থ পরিশোধ করেন। ঋণের মেয়াদকালের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ২২ শতাংশ গ্রাহক ছয় মাস থেকে এক বছর এবং ১৯ শতাংশ গ্রাহক পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঋণের বোঝা টানছেন। তবে আশার কথা হলো, ৭৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক তিন বছরের মধ্যে এই ঋণ পুরোপুরি শোধ করার বিষয়ে আশাবাদী, যদিও প্রায় ১০ শতাংশের আশঙ্কা তারা হয়তো কখনোই এই ঋণের বৃত্ত থেকে বের হতে পারবেন না।   মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণেই সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ক্রেডিট কার্ডের ওপর ঝুঁকছেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, মাস শেষের খরচ মেটাতে তাদের ক্রেডিট কার্ডের ওপরই নির্ভর করতে হয়। এক্ষেত্রে পুরুষদের (৫২%) তুলনায় নারীরা (৬২%) বেশি মাত্রায় ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভরশীল। এমনকি গত ১২ মাসে প্রায় ২৭ শতাংশ গ্রাহক তাদের ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ সীমা বা লিমিট শেষ করে ফেলেছেন। আকস্মিকভাবে এক হাজার ডলারের কোনো জরুরি খরচের সম্মুখীন হলে ৫৮ শতাংশ আমেরিকান তা মেটানোর জন্য ক্রেডিট কার্ডের ওপরই ভরসা করবেন, যা প্রমাণ করে যে বেশিরভাগ মানুষের কাছে কোনো জরুরি সঞ্চয় বা ইমার্জেন্সি ফান্ড নেই।   ক্রেডিট কার্ডের এই ঋণের পাহাড় আমেরিকানদের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ৬০ শতাংশ মানুষের মতে, এই ঋণ জরুরি সঞ্চয় তহবিল গঠনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া গাড়ি কেনা (৩৫%), বিনিয়োগ (৩১%) বা বাড়ি কেনার (২৩%) মতো বড় আর্থিক সিদ্ধান্তগুলোতেও এই ঋণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটা নিয়ে আক্ষেপও রয়েছে অনেক মার্কিনীদের। প্রায় ২৬ শতাংশ মানুষ আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস, পোশাক এমনকি মুদি বাজার বা ভাড়ার বিল ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করে পরবর্তীতে অনুশোচনা করেছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঋণের এই চাপ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন যে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে, যার মধ্যে ১৮ শতাংশের মতে এই প্রভাব অত্যন্ত গভীর।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
আইডেন্টিটি চুরি করে আপনার নামেই খুলতে পারে ক্রেডিট কার্ড, বিনা খরচে যেভাবে সুরক্ষিত রাখবেন ক্রেডিট
আইডেন্টিটি চুরি করে আপনার নামেই খুলতে পারে ক্রেডিট কার্ড, বিনা খরচে যেভাবে সুরক্ষিত রাখবেন ক্রেডিট

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য প্রতারকের হাতে চলে গেলে সেই তথ্য ব্যবহার করে আপনার অজান্তেই নতুন ক্রেডিট কার্ড বা ঋণের অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা হতে পারে। প্রতারণাটি দ্রুত ধরা না পড়লে অপরিচিত অ্যাকাউন্ট, বকেয়া ঋণ বা কালেকশনের তথ্য ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হয়ে বড় ধরনের আর্থিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। অথচ বিনা খরচে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। সেটি হলো তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোতে নিজের ক্রেডিট ফ্রিজ করে রাখা।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি বলছে, ক্রেডিট ফ্রিজ বা সিকিউরিটি ফ্রিজ চালু থাকলে সম্ভাব্য ঋণদাতারা সাধারণত আপনার ক্রেডিট রিপোর্টে প্রবেশ করতে পারে না। ব্যাংক ও অন্যান্য ঋণদাতা নতুন ক্রেডিট দেওয়ার আগে সাধারণত আবেদনকারীর ক্রেডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করে। ফলে রিপোর্টে প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকলে পরিচয় চুরি করা ব্যক্তির পক্ষে আপনার নামে নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট খোলা অনেক কঠিন হয়ে যায়।   এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, ক্রেডিট ফ্রিজ করতে কোনো টাকা লাগে না। ফ্রিজ তুলে নেওয়া বা প্রয়োজনে সাময়িকভাবে আনফ্রিজ করাও বিনামূল্যে। ক্রেডিট ফ্রিজ করার কারণে আপনার ক্রেডিট স্কোর কমে না এবং আপনি নিজে তুলে না নেওয়া পর্যন্ত ফ্রিজ কার্যকর থাকে।   তবে শুধু একটি ক্রেডিট ব্যুরোতে ফ্রিজ করলে পূর্ণ সুরক্ষা পাওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরো হলো ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান ও ট্রান্সইউনিয়ন। ক্রেডিট ফ্রিজ করতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই আলাদাভাবে যোগাযোগ করতে হবে।   কীভাবে করবেন ক্রেডিট ফ্রিজ:   ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান ও ট্রান্সইউনিয়নের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিনামূল্যে ক্রেডিট ফ্রিজের আবেদন করা যায়। ফোন বা ডাকযোগেও এই সুবিধা নেওয়া যায়।   আবেদনের সময় পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নাম, জন্মতারিখ, বর্তমান বা আগের ঠিকানা এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হতে পারে। এ কারণে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট ব্যুরোর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার করা উচিত। ইমেইল, টেক্সট মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা অপরিচিত লিংকের মাধ্যমে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা অন্য সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া নিরাপদ নয়।   ফেডারেল নিয়ম অনুযায়ী, অনলাইন বা ফোনে ক্রেডিট ফ্রিজের অনুরোধ পাওয়ার পর ক্রেডিট ব্যুরোকে এক কর্মদিবসের মধ্যে সেটি কার্যকর করতে হয়। আবার অনলাইন বা ফোনে ফ্রিজ তুলে দেওয়ার অনুরোধ করলে এক ঘণ্টার মধ্যে তা কার্যকর করতে হয়।   নতুন ক্রেডিট কার্ড বা মর্টগেজ নিতে চাইলে কী করবেন:   নিজের প্রয়োজনে নতুন ক্রেডিট কার্ড, গাড়ির ঋণ, মর্টগেজ বা অন্য কোনো নতুন ক্রেডিটের জন্য আবেদন করতে চাইলে ফ্রিজ স্থায়ীভাবে তুলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ঋণদাতা যে ক্রেডিট ব্যুরোর রিপোর্ট পরীক্ষা করবে, প্রয়োজনে শুধু সেই ব্যুরোর ফ্রিজ সাময়িকভাবে তুলে দেওয়া যায়। ক্রেডিট যাচাই শেষ হলে আবার ফ্রিজ করে রাখা সম্ভব এবং এজন্যও কোনো ফি দিতে হয় না।   ফ্রিজ করলেও পুরোনো ক্রেডিট কার্ড চলবে:   ক্রেডিট ফ্রিজ নিয়ে অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে। ক্রেডিট ফ্রিজ করলে বর্তমানে ব্যবহার করা ক্রেডিট কার্ড বা অন্য বিদ্যমান ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায় না। আগের ক্রেডিট কার্ড স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহার করা যায়।   তবে ক্রেডিট ফ্রিজ সব ধরনের প্রতারণা বন্ধ করতে পারে না। কোনো প্রতারক যদি আগে থেকেই আপনার বিদ্যমান ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য পেয়ে থাকে, ক্রেডিট ফ্রিজ সেই অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত লেনদেন ঠেকাবে না। তাই ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের স্টেটমেন্ট নিয়মিত পরীক্ষা করাও জরুরি।   নিয়মিত দেখুন নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট:   আইডেন্টিটি চুরি দ্রুত শনাক্ত করার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট নিয়মিত পরীক্ষা করা। সেখানে এমন কোনো ক্রেডিট কার্ড, ঋণ, অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট ইনকোয়ারি দেখা গেলে যা আপনি করেননি, সেটি পরিচয় চুরির সতর্কসংকেত হতে পারে।   ফেডারেল আইন অনুমোদিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমানে ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান ও ট্রান্সইউনিয়নের ক্রেডিট রিপোর্ট প্রতি সপ্তাহে বিনামূল্যে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত এসব রিপোর্ট পরীক্ষা করলে নিজের অজান্তে খোলা অ্যাকাউন্ট দ্রুত শনাক্ত করার সুযোগ বাড়ে।   আইডেন্টিটি চুরি হয়ে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন:   আপনার নামে ইতিমধ্যে অপরিচিত ক্রেডিট কার্ড বা ঋণের অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে বলে জানতে পারলে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের ফ্রড বিভাগে যোগাযোগ করতে হবে। অ্যাকাউন্টটি পরিচয় চুরির মাধ্যমে খোলা হয়েছে জানিয়ে সেটি বন্ধ বা ফ্রিজ করার ব্যবস্থা নিতে হবে।   এরপর তিনটি ক্রেডিট ব্যুরোতেই ক্রেডিট ফ্রিজ দেওয়া এবং ক্রেডিট রিপোর্টে ভুল বা প্রতারণামূলক তথ্য থাকলে তা নিয়ে আপত্তি জানানোর প্রক্রিয়া শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ।   এফটিসির সরকারি আইডেন্টিটি থেফট ব্যবস্থায় ঘটনাটি রিপোর্ট করলে ভুক্তভোগী নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী একটি রিকভারি পরিকল্পনা পেতে পারেন। এর মাধ্যমে প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা, অননুমোদিত চার্জ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্রেডিট রিপোর্ট সংশোধনের প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পর্কে নির্দেশনা পাওয়া যায়।   ক্রেডিট ফ্রিজের সঙ্গে ফ্রড অ্যালার্টও দেওয়া যায়:   ক্রেডিট ফ্রিজ ও ফ্রড অ্যালার্ট এক বিষয় নয়। ক্রেডিট ফ্রিজ আপনার ক্রেডিট রিপোর্টে সম্ভাব্য ঋণদাতার প্রবেশ সীমিত করে। অন্যদিকে ফ্রড অ্যালার্ট নতুন ক্রেডিট দেওয়ার আগে আবেদনকারীর পরিচয় অতিরিক্তভাবে যাচাই করার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে।   প্রাথমিক ফ্রড অ্যালার্ট বিনামূল্যে দেওয়া যায় এবং এটি এক বছর কার্যকর থাকে। এ ক্ষেত্রে তিনটি ক্রেডিট ব্যুরোতে আলাদাভাবে যোগাযোগ করারও প্রয়োজন নেই। ইকুইফ্যাক্স, এক্সপেরিয়ান বা ট্রান্সইউনিয়নের যেকোনো একটিতে ফ্রড অ্যালার্ট দিলে সেই প্রতিষ্ঠান অন্য দুই ব্যুরোকে জানাবে। প্রয়োজনে ক্রেডিট ফ্রিজের পাশাপাশি ফ্রড অ্যালার্টও রাখা যায়।   সন্তানের পরিচয়ও সুরক্ষিত রাখা যায়:   আইডেন্টিটি চুরির ঝুঁকি শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরও প্রতারণার কাজে ব্যবহার হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সন্তান বড় হয়ে প্রথমবার ক্রেডিটের জন্য আবেদন করার আগ পর্যন্ত পরিবার বিষয়টি জানতে নাও পারে।   এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সী সন্তানের জন্য অভিভাবক বিনামূল্যে ক্রেডিট ফ্রিজের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তিনটি ক্রেডিট ব্যুরোর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিচয় ও অভিভাবকত্বের প্রয়োজনীয় নথি দিতে হয়।   আগে থেকেই ফ্রিজ করতে পারেন ক্রেডিট:   ক্রেডিট ফ্রিজ করার জন্য আইডেন্টিটি চুরির শিকার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। এফটিসি বলছে, যে কেউ যেকোনো সময় বিনামূল্যে নিজের ক্রেডিট ফ্রিজ করতে পারেন। বিশেষ করে যারা শিগগিরই নতুন ক্রেডিট নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না, তাদের জন্য এটি পরিচয় চুরির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হতে পারে।   তবে ক্রেডিট ফ্রিজকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। নিয়মিত ক্রেডিট রিপোর্ট ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখা, অপরিচিত লেনদেনের নোটিফিকেশন চালু রাখা, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে শেয়ার না করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   আইডেন্টিটি চুরির মাধ্যমে একবার প্রতারণামূলক অ্যাকাউন্ট তৈরি হলে ব্যাংক, ঋণদাতা ও ক্রেডিট ব্যুরোর সঙ্গে যোগাযোগ করে সেগুলো সংশোধনের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্যও তিনটি ক্রেডিট ব্যুরোতে বিনামূল্যে ক্রেডিট ফ্রিজ করে রাখা এবং নিয়মিত নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট পরীক্ষা করা ব্যক্তিগত আর্থিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০