বেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই কি বাড়ে ক্রেডিট স্কোর? প্রচলিত ভুল ধারণা জানুন
যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন এমন অনেকের ধারণা, কার্ডে যত বেশি খরচ করা হবে এবং নিয়মিত বিল পরিশোধ করা হবে, তত দ্রুত বাড়বে ক্রেডিট স্কোর। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। বরং ক্রেডিট কার্ডের লিমিটের কতটা ব্যবহার করা হচ্ছে, সময়মতো পেমেন্ট করা হচ্ছে কি না এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্রেডিট কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে, সেগুলোই স্কোরের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
ফিকোর তথ্য অনুযায়ী, একটি সাধারণ ফিকো ক্রেডিট স্কোরে পেমেন্ট হিস্ট্রি সবচেয়ে বড় বিষয়, যা স্কোরের প্রায় ৩৫ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। এরপর অ্যামাউন্টস ওয়েড বা কতটা ঋণ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি প্রায় ৩০ শতাংশ। এছাড়া ক্রেডিট হিস্ট্রির দৈর্ঘ্য ১৫ শতাংশ, নতুন ক্রেডিট ১০ শতাংশ এবং ক্রেডিট মিক্স ১০ শতাংশ পর্যন্ত ভূমিকা রাখে। তবে ব্যক্তিভেদে এসব বিষয়ের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন। সহজভাবে বললে, আপনার মোট ক্রেডিট লিমিটের কত শতাংশ আপনি ব্যবহার করছেন, সেটিই ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন।
ধরুন, আপনার একটি ক্রেডিট কার্ডের লিমিট ৫ হাজার ডলার। আপনি যদি সেই কার্ডে ৪ হাজার ডলার ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার ইউটিলাইজেশন দাঁড়ায় ৮০ শতাংশ। বিপরীতে ১ হাজার ডলার ব্যবহার করলে তা হয় ২০ শতাংশ।
ফাইকো বলছে, ক্রেডিট লিমিটের বড় একটি অংশ ব্যবহার করা স্কোরের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। সাধারণভাবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যালান্স যত কম রাখা যায়, তত ভালো।
তাহলে কি ৩০ শতাংশের নিচে থাকলেই ক্রেডিট স্কোর ভালো থাকবে?
৩০ শতাংশকে অনেক সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ গাইডলাইন হিসেবে বলা হয়। কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো বা সিএফপিবি বলছে, বিশেষজ্ঞরা সাধারণত মোট ক্রেডিট লিমিটের ৩০ শতাংশের বেশি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। তবে এটি কোনো জাদুকরী সীমা নয়। সিএফপিবি আরও স্পষ্ট করে বলছে, ভালো ক্রেডিট স্কোরের জন্য ক্রেডিট কার্ডে ব্যালান্স বহন করার প্রয়োজন নেই।
অর্থাৎ ৫ হাজার ডলারের ক্রেডিট লিমিট হলে ৩০ শতাংশ হলো ১ হাজার ৫০০ ডলার। তবে সম্ভব হলে এর চেয়েও কম ইউটিলাইজেশন রাখা ভালো। সম্প্রতি প্রকাশিত এক্সপেরিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ভালো ক্রেডিট স্কোরধারীদের অনেকের ইউটিলাইজেশন ১০ শতাংশের নিচে থাকে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ৩০ শতাংশ কোনো নির্দিষ্ট বা বাধ্যতামূলক সীমা নয়।
আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর জন্য মাস শেষে ক্রেডিট কার্ডে কিছু টাকা বাকি রাখতে হবে এবং সেই ব্যালান্সের ওপর সুদ দিতে হবে। এটিও সঠিক নয়।
সিএফপিবি বলছে, প্রতি মাসে ক্রেডিট কার্ডের বিল পুরোপুরি পরিশোধ করাই ভালো ক্রেডিট ব্যবস্থাপনার অংশ। শুধু ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর জন্য ব্যালান্স রেখে সুদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। আপনি মাসের মধ্যে কত খরচ করেছেন, সেটিই সবসময় আপনার ক্রেডিট রিপোর্টে দেখা যাবে এমন নয়। সাধারণত ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি যে ব্যালান্স ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করে, সেটিই রিপোর্টে প্রতিফলিত হতে পারে। তাই নির্ধারিত ডিউ ডেট এর আগে পুরো বিল পরিশোধ করলেও রিপোর্ট হওয়ার সময় কোনো ব্যালান্স থাকলে সেটি আপনার ইউটিলাইজেশন এ প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্রেডিট স্কোরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়মতো পেমেন্ট। একটি পেমেন্ট দেরি হলে শুধু সেই মাসের হিসাবই নয়, আপনার ক্রেডিট ইতিহাসেও তার প্রভাব পড়তে পারে। ফাইকো অনুযায়ী, পেমেন্ট হিস্ট্রি তাদের স্কোরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
যাদের ক্রেডিট স্কোর কমে গেছে, তাদের জন্যও রাতারাতি স্কোর বাড়ানোর কোনো বৈধ শর্টকাট নেই। সিএফপিবি বলছে, ক্রেডিট পুনর্গঠনে সময় লাগে। নিয়মিত সময়মতো বিল পরিশোধ করা, ক্রেডিট লিমিটের খুব কাছাকাছি না যাওয়া এবং অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত নতুন ক্রেডিটের জন্য আবেদন না করাই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আর যাদের যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি হয়নি, তাদের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। ছোট পরিসরে ক্রেডিট শুরু করে সময়মতো পেমেন্ট এবং কম ইউটিলাইজেশন বজায় রাখার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি করা যায়। সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডও নতুনদের জন্য একটি বিকল্প হতে পারে। তবে কার্ড নেওয়ার আগে সেটি ক্রেডিট ব্যুরোগুলোতে রিপোর্ট করে কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, বেশি ক্রেডিট কার্ড থাকা বা বেশি টাকা খরচ করাই ভালো স্কোরের নিশ্চয়তা নয়। বরং আপনার কাছে যতটুকু ক্রেডিট আছে, সেটি কতটা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করছেন সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ৫ হাজার ডলারের কার্ড থাকলে ৫ হাজার ডলার খরচ করার লক্ষ্য নয়। বরং নিজের প্রয়োজন ও সামর্থ্যের মধ্যে খরচ করা, ইউটিলাইজেশন কম রাখা এবং প্রতিবার সময়মতো পেমেন্ট করাই ভালো ক্রেডিট স্কোর তৈরির মূল কৌশল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্রেডিট স্কোর কোনো একদিনে তৈরি হয় না। নিয়মিত ভালো আর্থিক অভ্যাস এবং দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বশীল ক্রেডিট ব্যবস্থাপনাই একটি শক্তিশালী ক্রেডিট প্রোফাইল তৈরির ভিত্তি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে একটি কার্গো বিমানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। মিয়ামি-ডেইড কাউন্টির শেরিফ রোজি কর্ডেরো-স্টুটজ এক সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের এই মর্মান্তিক সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে ছেড়ে আসা বোয়িং ৭৬৭-৩০০ মডেলের কার্গো বিমানটি '২১ এয়ার'-এর ফ্লাইট ৭৫৯৮ হিসেবে আমাজন প্রাইম এয়ারের পণ্য পরিবহন করছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে মিয়ামি বিমানবন্দরে অবতরণের পর এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের বাইরে চলে যায় এবং পার্শ্ববর্তী একাধিক গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানটিতে তীব্র আগুন ধরে যায় এবং চারপাশ ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। খবর পেয়ে মিয়ামি-ডেইড ফায়ার রেসকিউয়ের ৬০টিরও বেশি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিমানের জ্বালানি লিক হওয়া ঠেকানোর কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনার জেরে মিয়ামি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ (গ্রাউন্ড স্টপ) ঘোষণা করে এফএএ। পরবর্তীতে বিকাল ৫টার দিকে গ্রাউন্ড স্টপ তুলে নেওয়া হলেও রানওয়েতে দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি পড়ে থাকায় ফ্লাইটগুলোতে বিলম্ব অব্যাহত থাকে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে। এ বিষয়ে আমাজনের মুখপাত্র কেলি নানটেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সেবাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে এফএএ।
ব্যাংক কর্মকর্তা সেজে প্রবীণদের ফাঁদে ফেলত, এরপর যেভাবে হাতিয়ে নিত সোনা ও লাখ লাখ ডলার
অবৈধ অভিবাসীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বন্ধের দাবি ওহাইওর দুই সিনেটরের
বেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই কি বাড়ে ক্রেডিট স্কোর? প্রচলিত ভুল ধারণা জানুন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি বোয়িং ৭৬৭ কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে। স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার দিকে অবতরণের পর বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত পেরিয়ে যায়। ভয়াবহ দুর্ঘটনার ভিডিওতে বিমান থেকে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, এটি ২১ এয়ার ফ্লাইট ৭৫৯৮, একটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০ কার্গো বিমান। বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে উড়েছিল। অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে বিমানবন্দরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিমানটি একাধিক গাড়িতে আঘাত করে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে ৬০টির বেশি ফায়ার-রেসকিউ ইউনিট পাঠানো হয়। একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার কথা জানানো হলেও, তাদের আঘাতের মাত্রা বা প্রাণহানির বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং উড্ডয়ন-অবতরণে গ্রাউন্ড স্টপ জারি করা হয়। এতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং ফ্লাইটে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানটিকে সড়কের পাশে আগুনে জ্বলতে এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এফএএ ঘটনাটি তদন্ত করছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট | রয়টার্স| অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি
কেপ ভার্দেতে বাস খাদে পড়ে নিহত ২৫, বেশিরভাগই স্কুলশিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হা/ম/লায় আল-কায়েদার ব্যয়ের হিসাব জানাল তদন্ত কমিশন
যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণকালীন সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি মেহেদি শিল্পী হিসেবেও কাজ করছেন ভারতীয় প্রকৌশলী প্রিয়াঙ্কা জৈন। মেহেদি দেওয়ার জন্য তিনি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার টাকা, পারিশ্রমিক নেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০ ঘণ্টার কাজ থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে প্রিয়াঙ্কা জৈন প্রযুক্তি খাতে নিজের চাকরির পাশাপাশি মেহেদির ব্যবসা পরিচালনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, মেহেদি দেওয়ার কাজটি তার পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি করা একটি শখের ব্যবসা। প্রযুক্তি খাতের চাকরিই তার প্রধান আয়ের উৎস হলেও মেহেদির কাজের প্রতি তার আলাদা আগ্রহ রয়েছে। প্রিয়াঙ্কার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মেহেদি দেওয়ার জন্য তিনি ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ডলার নেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থ প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকার সমপরিমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বকশিশও পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিয়ে বা কনের মেহেদির বুকিংয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় এবং সেখান থেকে বড় অঙ্কের আয় হয়। একটি কনের মেহেদির অনুষ্ঠানে প্রায় ১০ ঘণ্টা কাজ করে তিনি প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করতে পারেন বলেও জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রে আয় বেশি হলেও সেখানে জীবনযাপনের খরচও বেশি বলে উল্লেখ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাই মেহেদির কাজ থেকে পাওয়া অর্থকে তিনি নিজের প্রধান আয়ের সঙ্গে তুলনা না করে আলাদা একটি শখের ব্যবসা হিসেবে দেখেন। প্রিয়াঙ্কার কাছে সবচেয়ে বড় পার্থক্য শুধু আয়ের পরিমাণ নয়, বরং একজন শিল্পী হিসেবে পাওয়া সম্মান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে শিল্পীদের অনেক বেশি মূল্যায়ন ও সম্মান করা হয়। অন্যদিকে ভারতে মেহেদি শিল্পীর কাজকে অনেক সময় ভালো পেশা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এই বিষয়টিকেই তিনি নিজের অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন। মেহেদি দেওয়ার কাজকে ছোট বা বড় হিসেবে দেখারও বিরোধিতা করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তার বক্তব্যের মূল কথা হলো, কোনো কাজই ছোট বা বড় নয়, কাজ মানেই কাজ। পূর্ণকালীন সফটওয়্যার প্রকৌশলীর চাকরির পাশাপাশি মেহেদি শিল্পী হিসেবে কাজ করাকে তিনি তাই ভিন্ন কোনো ছোট পেশা হিসেবে দেখেন না। বরং নিজের আগ্রহকে কাজে পরিণত করে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রিয়াঙ্কার এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ কেউ তার নেওয়া পারিশ্রমিকের পরিমাণ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ কেউ ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে মেহেদির পারিশ্রমিকের তুলনা করেছেন। কয়েকজন মন্তব্যকারী তার কাজের ধরন ও যুক্তরাষ্ট্রে এর মূল্যায়ন নিয়েও নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। একজন মন্তব্যকারী তাকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আরেকজন বলেছেন, ভারতে অনেক মানুষ পুরো কনের মেহেদির জন্য ১ হাজার টাকা দিতেও আপত্তি করেন। অন্য একজন ভারতীয় সমাজে শিল্পীদের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, শুধু মেহেদি আঁকার জন্য এত বেশি পারিশ্রমিক নেওয়ার বিষয়টি অনেকে সহজভাবে দেখেন না। আরেক নারী মন্তব্য করেছেন, তিনিও মেহেদি দিয়ে থাকেন। তার অভিজ্ঞতায় ভারতে এই কাজের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সম্মান, আয় ও মূল্যায়ন পাওয়া যায় না। এসব মন্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রিয়াঙ্কার অভিজ্ঞতা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেহেদি শিল্পীদের পারিশ্রমিক, পেশাগত সম্মান এবং ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রিয়াঙ্কার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পূর্ণকালীন চাকরিই প্রধান পেশা ও আয়ের উৎস। এর পাশাপাশি মেহেদি দেওয়ার কাজকে তিনি শখের ব্যবসা হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘণ্টায় প্রায় ১০০ ডলার পারিশ্রমিক, বিয়ের অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময়ের বুকিং এবং বকশিশ মিলিয়ে এই কাজ থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
মেইল ভোটে বিধিনিষেধ কার্যকরে সুপ্রিম কোর্টে আবার ট্রাম্প প্রশাসন
ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দুই শিশুর