জাতিসংঘ

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন বিচারকদের গণহারে ছাঁটাই করছে ট্রাম্প প্রশাসন, উদ্বেগ জানাল জাতিসংঘ

যুক্তরাষ্ট্রে শতাধিক ইমিগ্রেশন বিচারককে গণছাঁটাই এবং অবৈধ অভিবাসীদের তড়িঘড়ি করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত এসব সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে এবং অভিবাসীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকারকে চরমভাবে বিঘ্নিত করতে পারে।   ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে শিকাগোসহ দেশজুড়ে অন্তত ১০০ জনেরও বেশি ইমিগ্রেশন বিচারককে পদচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া বহাল থাকা বিচারকদের ওপর বিচার বিভাগ থেকে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে অভূতপূর্ব চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।   বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই পদক্ষেপগুলো কেবল বিচার বিভাগ পুনর্গঠন বা ছোট করার বিষয় নয়, বরং নিরপেক্ষ বিচারকদের সরিয়ে তাদের জায়গায় মূলত 'বহিষ্কার কার্যকর করার বিচারক' বসানোর একটি রাজনৈতিক চেষ্টা।   তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যারা নির্যাতন বা বৈষম্যের ভয়ে আশ্রয়ের আবেদন করছেন, তাদের মামলা অবশ্যই একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থার অধীনে শুনানির অধিকার রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রযোজ্য বাধ্যতামূলক আইনি বাধ্যবাধকতার স্পষ্ট লঙ্ঘন ঘটাচ্ছে।   এদিকে শিকাগোর সাবেক ইমিগ্রেশন বিচারক কার্লা এস্পিনোজা জানান, বর্তমান বিচারকদের ওপর মামলা দ্রুত শেষ করার জন্য প্রশাসনিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। অভিবাসীদের তাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কিংবা মুক্তির আবেদন জানানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না।   জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে একজন বিচারককে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১০০ থেকে ২০০টি মামলা নিষ্পত্তি করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগকে কার্যত অসম্ভব করে তোলে। সংস্থাটি মনে করিয়ে দিয়েছে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী নাগরিক বা অনাগরিক নির্বিশেষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রত্যেকেরই আইনি সুরক্ষার (ডিউ প্রসেস) অধিকার রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতিকে চান ট্রাম্প

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস কিংবা ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।   বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তাঁর উত্তরসূরি ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। জাতিসংঘের পরবর্তী নেতৃত্ব বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইনফান্তিনোর পরিচিতি, বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং বৃহৎ একটি বৈশ্বিক সংস্থা পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষকে অভিন্ন লক্ষ্যে একত্র করার বিশেষ দক্ষতা ইনফান্তিনোর রয়েছে বলে মনে করেন ট্রাম্প।   ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ ও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোয় আয়োজিত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ঘিরে ট্রাম্প ও ইনফান্তিনোর যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।   তবে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ইনফান্তিনো আগ্রহী কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও ইনফান্তিনোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।   ট্রাম্পের বৈশ্বিক অংশীদারত্ববিষয়ক বিশেষ দূত পাওলো জাম্পাওলি সম্ভাব্য এই মনোনয়নের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে গঠিত ফিফা পরিচালনার অভিজ্ঞতা ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ইনফান্তিনোকে সহায়তা করতে পারে।   তবে কোনো দেশের সমর্থন পেলেই জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়া যায় না। প্রার্থীকে প্রথমে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেতে হয়। পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের প্রত্যেকের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশের পর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে মহাসচিব নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।   পরবর্তী মহাসচিব পদের জন্য ইতোমধ্যে কয়েকজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রসি, কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান, সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তা ভার্জিনিয়া গাম্বা।   ভৌগোলিক আবর্তনের অলিখিত রীতি অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মহাসচিব নির্বাচনের প্রত্যাশা রয়েছে। সর্বশেষ ওই অঞ্চল থেকে জাতিসংঘের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পেরুর হাভিয়ের পেরেজ দে কুয়েলার। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রার্থিতা তাই প্রচলিত আঞ্চলিক প্রত্যাশার বাইরে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।   এর মধ্যেই ফিফা সভাপতির দায়িত্ব ধরে রাখার পরিকল্পনা জানিয়েছেন ইনফান্তিনো। তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। ফিফার ৭৭তম কংগ্রেস ও সভাপতি নির্বাচন ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে জাতিসংঘের শীর্ষ পদ নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও আপাতত তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য ফিফার নেতৃত্বে আরও এক মেয়াদ থাকা।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
বামে জোহরান মামদানি ,ডানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
"জাতিসংঘ সম্মেলনে নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার হতে দেব না"- মামদানির গ্রেপ্তার ইঙ্গিতের জবাবে ট্রাম্প

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।” তিনি নিউইয়র্ক সফরের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও অবাধ উপস্থিতির বিষয়েও আশ্বাস দেন।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। মামদানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আলোকে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আইনগতভাবে কী করা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে “সক্রিয়ভাবে আলোচনা” করছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, আইন যা অনুমতি দেয়, তার বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।   মামদানির বক্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মনে করেন মেয়র মামদানি “গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করেন”। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এসব মন্তব্য সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সফর নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।   এদিকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য আশ্বাসের পর বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধ-সংক্রান্ত অভিযোগে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির এই এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনও আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আদালতের পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জাতিসংঘে যত সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তাব এসেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: দাবি ইরানের

জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাসের তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসদমন নিয়ে জাতিসংঘে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে দেশ দুটির নেতিবাচক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এই কড়া মন্তব্য করা হয়।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এমন বিরোধিতাপূর্ণ আচরণের দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসদমন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দেশ দুটির ধারাবাহিক নেতিবাচক ভোটদানের ধরন প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন রাখেন, “এগুলো কি তাদের আসল রূপ উন্মোচন করছে না?”   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্রের মতে, সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো একটি বৈশ্বিক ও সর্বজনীন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই প্রকাশ্য বিরোধিতা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে আসে। বিশ্বমঞ্চে তাদের এই অবস্থান অত্যন্ত হতাশাজনক এবং এটি তাদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন বলে দাবি করেছেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবাহী বহরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৫ সহায়তাকর্মী

দক্ষিণ সুদানের জংলেই অঙ্গরাজ্যে স্পষ্ট মানবিক সহায়তার চিহ্নযুক্ত একটি ত্রাণবাহী বহরে সশস্ত্র হামলায় পাঁচজন সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে ২৯ জন ত্রাণকর্মী ও ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ এই হামলার পর দেশটিতে মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।   স্টিফেন ডুজারিক বলেন, জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী রামানাথন বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তিনি জানান, হামলার শিকার বহরটি স্পষ্টভাবে মানবিক সহায়তা বহনকারী হিসেবে চিহ্নিত ছিল।   তিনি আরও বলেন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   হামলার শিকার বহরের পরিচালনাকারী জন দাউ ফাউন্ডেশন (জেডিএফ) জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শেষে পায়ুয়েল পায়াম থেকে পাজুত এলাকায় ফিরছিলেন। পথে বহরটির ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক ঘটনা। এদিকে দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশনের (ইউএনএমআইএসএস) প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে দেশটিতে সহিংসতায় ৭৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এ সংখ্যা ৮৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   ২০১১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই দক্ষিণ সুদান ধারাবাহিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মানুষের কাছ থেকেই বৈষম্য আর বর্ণবাদ শিখছে এআই, জাতিসংঘের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিন দিন মানুষের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠছে—বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিবিদদের মুখে প্রতিনিয়ত এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এমনকি প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিরাও দাবি করেছেন যে, ইতোমধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে গেছে এআই। তবে জাতিসংঘের নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এআই-এর বুদ্ধিমত্তার আড়ালে এক ভয়াবহ আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত মানুষের কাছ থেকেই সমাজ ও ইতিহাসের কিছু কুৎসিত পক্ষপাতিত্ব উত্তরাধিকারসূত্রে গ্রহণ করছে।   জাতিসংঘের গবেষকেরা বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত ১৩৩টি এআই সিস্টেম নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখেছেন। এই গবেষণায় দেখা গেছে, এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ৪৪ শতাংশ সিস্টেমে স্পষ্ট লিঙ্গবৈষম্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, এক-চতুর্থাংশের বেশি এআই সিস্টেমে একই সঙ্গে লিঙ্গবৈষম্য ও বর্ণবাদ বা জাতিগত বিদ্বেষ উভয়েরই উপস্থিতি দেখা গেছে। লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো (এলএলএম) বারবার নারীদের ঘরবাড়ি, পরিবার ও সন্তান লালন-পালনের গৎবাঁধা কাজের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং পুরুষদের ব্যবসা, নেতৃত্ব ও কর্মজীবনে সফলতার প্রতীক হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এআই সিস্টেমগুলো এমন সব উত্তর তৈরি করেছে, যেখানে নারীদের কেবল যৌনতার বস্তু কিংবা পুরুষের অধীনস্ত হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতাবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, গবেষকরা যখন লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোকে কোনও ব্যক্তির লিঙ্গ দিয়ে বাক্য শুরু করে তা সম্পন্ন করতে বলেছিলেন, তখন প্রতি পাঁচটি উত্তরের মধ্যে প্রায় একটি উত্তর চরম লিঙ্গবৈষম্যমূলক বা নারীবিদ্বেষী হিসেবে এসেছে। এমনকি কিছু উত্তর নারীদের স্বাধীন মানুষ না ভেবে সম্পত্তি বা বস্তু হিসেবেও বর্ণনা করেছে।   জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোটি কোটি মানুষ ই-মেইল লেখা, প্রেজেন্টেশন তৈরি, কনটেন্ট তৈরি এবং দৈনন্দিন নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কাজে যেহেতু দিন দিন এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছেন, তাই এই বৈষম্যমূলক অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান অসমতাগুলো আরও বেশি সুদৃঢ় হচ্ছে। ইউএন উইমেন স্পষ্ট জানিয়েছে, এটি কোনো সফটওয়্যার বাগ বা যান্ত্রিক ত্রুটি নয়; বরং এআই মূলত ইন্টারনেট থেকে এসব কুসংস্কার শেখে। ইন্টারনেট জগতটি গত কয়েক দশকের নানা রকম গৎবাঁধা ধারণা ও বৈষম্যে ভরপুর থাকায় এআই শেষ পর্যন্ত মানুষের সেই পক্ষপাতগুলোকেই পুনরায় ফুটিয়ে তোলে।   সংস্থাটির ডিজিটাল প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান জয়তমা বিক্রমনায়েকে বলেন, এআই模型গুলো মানুষের দ্বারা এবং মানুষকে নিয়ে লেখা বহু দশকের টেক্সট থেকে এসব পক্ষপাত শিখছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, নারীরা ইতোমধ্যে অনলাইনে অসম মাত্রায় হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন এবং এআইয়ের মাধ্যমে কিছু কিছু সহিংসতার রূপ তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া আরও সহজ হয়ে উঠছে। জরিপে অংশ নেওয়া নারী মানবাধিকার কর্মী, সমাজকর্মী ও নারী সাংবাদিকদের মধ্যে প্রায় প্রতি চারজনের একজন এআইয়ের সহায়তায় অনলাইন সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন।   ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে ১২ শতাংশ বলেছেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করা হয়েছে। অন্যদিকে6 শতাংশ বলেছেন, তাদের ডিপফেক বা বিকৃত ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই বৈষম্য দূর করতে ইউএন উইমেন এআই তৈরির প্রতিটি স্তর থেকে শুরু করে তা বাস্তবায়ন ও নীতি নির্ধারণের প্রতিটি ধাপে লিঙ্গ সমতা এবং নারী অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, বর্ণবাদী পক্ষপাতগুলো এভাবে চলতে থাকলে তা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কারগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

তাবাস্সুম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কঠোর শর্ত দিল ফ্রান্স

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আসন্ন আলোচনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে সন্তুষ্ট না হলে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মতি দেবে না ফ্রান্স।   শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আলোচনায় শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।   ▶️ ভিডিও দেখুন...ট্রাম্প-ইরান চুক্তিতে লেবানন, হরমুজ প্রণালী ও ইউরেনিয়াম নিয়ে যা আছে | America Bangla   বারো বলেন, ইরানের কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড় নিশ্চিত হলেই কেবল জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং ভেটো ক্ষমতাধারী দেশ হিসেবে ফ্রান্সের অবস্থান ছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সম্ভব নয়।   তার ভাষায়, “ইরানের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন আনাই আমাদের লক্ষ্য। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে এই সংকটের সমাধানে ফ্রান্সের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”   আরও পড়ুন... ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি   চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার বাইরে থাকা ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি পরবর্তী দফার আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি:সংগৃহীত
নাইজেরিয়ায় উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ভয়াবহ হামলা, অন্তত ২০ জন নিহত

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় আবারও চরমপন্থীদের ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। নাইজার সীমান্তবর্তী কেব্বি রাজ্যের আরেওয়া জেলার ফেসকেন রাফি সম্প্রদায়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে অন্তত ২০ জনকে হত্যা করেছে 'লাকুরাওয়া' নামের একটি রহস্যময় উগ্রপন্থী গোষ্ঠী। সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রস্তুতকৃত একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই প্রাণহানির মর্মান্তিক তথ্য উঠে এসেছে, যা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে পৌঁছেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বেশ কয়েক দিন আগে ঘটলেও গত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কেব্বি রাজ্যের উপ-গভর্নরের এলাকা পরিদর্শনের পর তা জনসমক্ষে আসে। তবে এই হামলার সুনির্দিষ্ট কোনও তারিখ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেশ কয়েক মাস ধরে এই লাকুরাওয়া গোষ্ঠীর সহিংসতা তুলনামূলকভাবে বন্ধ থাকলেও নতুন করে তাদের এই হামলা রীতিমতো উদ্বেগজনক।   সামরিক বাহিনীর জোরদার অভিযানের মুখেও তারা যে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে জটিল ও বড় ধরনের হামলা চালাতে সক্ষম, মূলত সেই শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই এই প্রাণঘাতী হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।এর আগে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।   নাইজেরিয়া সরকারের দাবি অনুযায়ী, ওই সামরিক অভিযানে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস), লাকুরাওয়া এবং অন্যান্য সশস্ত্র ডাকাত চক্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। যদিও সেই মার্কিন হামলায় ঠিক কতজন নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা এখনও অস্পষ্ট। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ওপর মুক্তিপণ আদায় এবং জমিতে চাষাবাদের জন্য চাঁদা দাবির জেরে এই ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা ও অপহরণের ঘটনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
তালেবান সরকারের অধীনে আফগানিস্তান স্থিতিশীল রয়েছে, জানাল জাতিসংঘের সহায়তা মিশন

আফগানিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ইমারাতে ইসলামিয়ার অধীনে দেশটি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন বা ইউনামা। সোমবার (৮ জুন) আফগানিস্তানের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই মন্তব্য করেন ইউনামার রাজনৈতিক বিষয়ক উপ-বিশেষ প্রতিনিধি জর্জেট গ্যাগনন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমান কর্তৃপক্ষের শাসনের বিরুদ্ধে দেশটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সশস্ত্র বা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ আপাতত নেই।   নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জর্জেট গ্যাগনন উল্লেখ করেন, ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাকে নিজেদের অন্যতম প্রধান অর্জন হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। তবে দেশটির দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ মূলত বাস্তবে ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের শাসন কাঠামোর অভ্যন্তরীণ গতিশীলতার ওপরই নির্ভর করছে বলে মনে করেন তিনি। গ্যাগনন আরও জানান, এখন পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের চিত্র থেকে যা দেখা যাচ্ছে, তাতে ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যদিও এর কোনো স্পষ্ট চূড়ান্ত রূপ এখনো নির্ধারিত হয়নি।   একই বৈঠকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং। তিনিও আফগানিস্তানের বর্তমান স্থিতিশীলতার বিষয়টি স্বীকার করে নেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেও দেশটিতে মানবিক সহায়তা প্রদান এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখনো অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর পর্যায়ে রয়ে গেছে।   আফগান জনগণের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দেশটিতে স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন চীনা প্রতিনিধি। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং আফগানিস্তানের বর্তমান কর্তৃপক্ষকে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে একটি অভিন্ন পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।   উল্লেখ্য, আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠকটি ছিল ইউনামার পূর্বঘোষিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের প্রথমটি। আগামী ১৬ জুন দ্বিতীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ইউনামার ম্যান্ডেট বা কার্যপরিধির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকা বাংলা কোলাজ
যুদ্ধের ধুলো পেরিয়ে ফুটবল মাঠে একসঙ্গে প্রাক্তন যোদ্ধারা, মধ্য আফ্রিকায় শান্তির বার্তা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফুটবল উন্মাদনা চলছে, তখন মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের একটি ছোট্ট শহরে ফুটবল হয়ে উঠেছে পুনর্মিলন ও শান্তির প্রতীক।   দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘রেতুর, রেক্লামাসিওঁ, রেয়াবিলিতাসিওঁ’ (৩আর) ২০২৫ সালে অস্ত্র সমর্পণ করার পর নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়। এরপর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন মিনুস্কার উদ্যোগে শুরু হয় পুনর্মিলন কার্যক্রম।   এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রাক্তন বিদ্রোহী যোদ্ধা, সরকারি বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা একসঙ্গে বিভিন্ন কমিউনিটি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।   যারা একসময় সংঘাতের বিপরীত পক্ষে অবস্থান করেছিলেন, তারা এখন একই মাঠে খেলছেন, একে অপরকে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং খেলা শেষে করমর্দন ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।   পর্যবেক্ষকদের মতে, ফুটবল এখানে শুধু একটি খেলা নয়; এটি আস্থা পুনর্গঠন এবং সামাজিক পুনর্মিলনের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।   মিনুস্কার সেনেগালি কন্টিনজেন্টের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল গেরাল্ড আরান্দা আসিনে বলেন, কয়েক মাস আগেও এমন দৃশ্য কল্পনা করা কঠিন ছিল।   তার ভাষায়, “যারা একসময় একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল, আজ তারা একই দলে খেলছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।”   জাতিসংঘের সহায়তায় জেমিওসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে স্কুল পুনরায় চালু হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে এবং সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত অনেক পরিবার নিজ এলাকায় ফিরে আসছে।   স্থানীয় এক সাবেক শিশু সৈনিক, যিনি এখন পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন, বলেন তিনি এখন নিরাপদ বোধ করেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মৌসুমে মধ্য আফ্রিকার এই অভিজ্ঞতা ফুটবলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতার মাধ্যম নয়, এটি বিভক্ত সমাজকে একত্রিত করারও শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।   মধ্য আফ্রিকার একটি ছোট্ট শহরের এই ফুটবল ম্যাচ হয়তো বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে জায়গা পাবে না, তবে সংঘাত-পরবর্তী পুনর্মিলনের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে এটি স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে।

Unknown জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
১৭ বছর বয়সে দু’টি স্যুটকেস নিয়ে আমেরিকায় এসে প্রেস্টিজিয়াস কলেজে ভর্তি, স্বপ্ন জাতিসংঘে কাজ করার

মাত্র ১৭ বছর বয়সে জীবনের সব স্মৃতি, স্বপ্ন আর প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে দুটি স্যুটকেস হাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এক দক্ষিণ এশীয় তরুণী। দুবাইয়ে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি ওফ ক্যালিফর্নিয়া, বার্কলিতে। এখন তার স্বপ্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী কাজে যুক্ত হওয়া এবং একদিন ইউনাইটেড নেশন এ কাজ করা।   তরুণীর পারিবারিক জীবন সহজ ছিল না। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তার মা একাই তিন সন্তানকে বড় করেছেন। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে যেখানে অল্প বয়সী মেয়েদের একা বিদেশে পড়তে পাঠানো খুব সাধারণ নয়, সেখানে তার মা সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে স্বাধীন ও শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।   তরুণী জানান, তার মা অল্প বয়সেই বিয়ে ও মাতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাই তিনি চেয়েছিলেন মেয়ের জীবনে সেই চক্র ভাঙতে। মায়ের সেই সাহস এবং আত্মত্যাগই তাকে নতুন জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে এসে শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত এক পৃথিবী। কোনো বন্ধু বা আত্মীয় ছাড়াই তাকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, নিজে রান্না করা, পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনযাপনের প্রতিটি বিষয় তাকে নতুন করে শিখতে হয়েছে।   প্রথমে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ডে আনজা কলেজে ভর্তি হন। সেখানে নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একাডেমিক সাফল্য অর্জনের পর ২০২৫ সালের বসন্তে ট্রান্সফার হওয়ার সুযোগ পান ইউনিভার্সিটি ওফ ক্যালিফর্নিয়া, বার্কলিতে, যা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।   বার্কলিতে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়ার মুহূর্তটি তার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতিগুলোর একটি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে দুবাইয়ে থাকা মাকে ফোন করেন। তখন ভোর ৪টা হলেও মা আনন্দে সেই খবর উদযাপন করেছিলেন। তরুণীর ভাষায়, “বার্কলিতে ভর্তি হওয়া শুধু আমার নয়, আমার মা ও আমার যৌথ সংগ্রামের ফল।”   শুধু পড়াশোনাতেই নয়, নেতৃত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করেছেন তিনি। বার্কলিতে “মুসলিম টেক কোলাবরেটিভ ”–এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন।   বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক অর্থনীতি (পলিটিকাল ইকোনোমি) বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি কীভাবে মানুষের জীবন ও সমাজকে প্রভাবিত করে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতেই তার আগ্রহ বেশি।   স্নাতক শেষ করার পর তিনি সান ফ্রান্সিসকোর কোনো স্টার্টআপে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে বিশ্বের বিভিন্ন কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখছেন। আর সেই লক্ষ্য থেকেই একদিন জাতিসংঘে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন এই তরুণী।   অনেকের কাছে এটি শুধুই একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প। কিন্তু বাস্তবে এটি একজন মায়ের সাহস, একটি মেয়ের আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতাকে জয় করার এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন পথে মৃত্যুমিছিল; এক বছরেই ঝরে গেল প্রায় ৮ হাজার প্রাণ!

বিশ্বজুড়ে অভিবাসন সংকট কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তা প্রকাশ পেল জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে উন্নত জীবনের আশায় পাড়ি জমানো অন্তত ৭ হাজার ৯০০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।   আইওএম-এর ‘মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্ট’-এর তথ্যমতে, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অভিবাসন পথে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই সংখ্যাটি কেবল নথিভুক্ত ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। দুর্গম পথ এবং সমুদ্রে সলিল সমাধির অনেক ঘটনাই অগোচরে থেকে যায় বলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি এই মৃত্যুমিছিল রোধে বিশ্বনেতাদের আরও কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জীবন বাঁচাতে মরিয়া এই মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে বৈশ্বিক অভিবাসন পরিস্থিতি আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ খোলা রাখা ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’: জাতিসংঘ মহাসচিব

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা একটি ‘সঠিক পদক্ষেপ’।   জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতার পূর্ণ পুনরুদ্ধার জরুরি এবং তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দ্বারা সম্মানিত হওয়া উচিত।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান সংলাপকেও এটি আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি খোলা রাখা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং চলমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।   সূত্র: বিবিসি

Unknown এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০
তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুর্তুলমুস
জাতিসংঘ থেকে ইসরায়েলকে বহিষ্কার করার দাবি তুরস্কের

ফিলিস্তিনিদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন এবং বর্ণবাদী নীতি অনুসরণের অভিযোগে ইসরায়েলকে জাতিসংঘ (UN) থেকে স্থগিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুর্তুলমুস। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ১৫২তম ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU) অ্যাসেম্বলির উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, কুর্তুলমুস তার ভাষণে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৪ সালে বর্ণবাদী নীতির কারণে যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জাতিসংঘ থেকে স্থগিত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য পৃথক আইন এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চালু রেখেছে, যা স্পষ্টত একটি বর্ণবাদী বা 'অ্যাপার্থাইড' ব্যবস্থার প্রতিফলন। ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা ও গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা চরম সংকটের মুখে পড়বে। কুর্তুলমুস আরও সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, নির্বিচারে আটক এবং অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন-ইরান আলোচনায় নতুন আশার সুর, ‘শিগগিরই শুরু হতে পারে’—গুতেরেস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থগিত থাকা আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার ‘প্রবল সম্ভাবনা’ দেখছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন।   নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গুতেরেস বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে এর প্রভাব বেশি দৃশ্যমান। শক্তি প্রয়োগের নীতিমালা উপেক্ষিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   মহাসচিব বলেন, চলমান এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত আলোচনা পুনরায় শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।   এ সময় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান আলোচনাকেও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ধরনের সংলাপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরদার করছে। যুদ্ধবিরতি টেকসই রাখা এবং আলোচনার পথ খোলা রাখাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।

Unknown এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ৩ কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

ইরান–সংঘাতের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটির মতে, চলমান এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’র মুখে ফেলেছে—যার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সংকট, খাদ্য সংকট এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংকট বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিনের উন্নয়নমূলক অগ্রগতিকে উল্টে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব হবে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী।   সংস্থাটির প্রশাসক এবং বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, এ ধরনের সংঘাত উন্নয়নকে বহু বছর পেছনে ঠেলে দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমনকি যদি এখনই যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়, তবুও এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজে পড়ে গেছে এবং এর প্রভাব দীর্ঘদিন স্থায়ী হবে।   তেহরানে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জ্বালানি সংকট শুধু বিদ্যুৎ বা পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সার উৎপাদন, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। কৃষি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সারের ঘাটতি ও উচ্চমূল্যের কারণে আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নতুন করে খাদ্য সংকট ডেকে আনতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অনেক দেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে পারে। ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণ সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু যুদ্ধবিরতি এই সংকট সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়; দারিদ্র্য মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় গত এক দশকে অতি দারিদ্র্য হ্রাসে যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জাতিসংঘের; সংঘাত এড়াতে সংলাপই একমাত্র পথ: গুতেরেস

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি দুই পক্ষকেই ‘সৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার এবং কূটনৈতিক এই সুযোগকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।   জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, গুতেরেস বিশ্বাস করেন একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চলের উত্তেজনা কমানো সম্ভব। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সংঘাত এড়িয়ে পুনরায় যুদ্ধাবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ।   জাতিসংঘের মহাসচিবের মতে, আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী সম্পন্ন করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। এদিকে, কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টায় সরাসরি সহায়তা প্রদানের জন্য মহাসচিবের এক ব্যক্তিগত দূত বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়েছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ‘নৃশংস’, উদ্বেগ জানালেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

লেবাননে একদিনে ইসরায়েলের চালানো ব্যাপক হামলায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞকে ‘নৃশংস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। বুধবার (৮ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।   বিবৃতিতে তিনি বলেন, লেবাননে ওই দিনের হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ। তার ভাষায়, এই হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা বর্ণনার অতীত।   ভলকার তুর্ক আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন হামলা চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে ভঙ্গুর শান্তি আরও চাপে পড়েছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিগুলো মানা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্যবস্তুর পার্থক্য নির্ধারণ, আক্রমণের আনুপাতিকতা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন।   তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব নীতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। যেকোনো পরিস্থিতিতে এবং যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে এগুলো মেনে চলা অপরিহার্য। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Unknown এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির আগে হরমুজ নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘকে আনতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প, চীন-রাশিয়ার ভেটে ব্যর্থ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব চীন ও রাশিয়ার ভেটোর মুখে পড়ে বাতিল হয়েছে।   মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তবে স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া ভেটো প্রয়োগ করায় প্রস্তাবটি পাস হয়নি। আলজেরিয়া ও গায়ানা ভোটদানে বিরত ছিল।   প্রস্তাবটি বাহরাইনের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার করা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এ উদ্যোগের পেছনে মার্কিন প্রশাসনের সক্রিয় সমর্থন ছিল।   ভেটোর ব্যাখ্যায় চীন ও রাশিয়া জানায়, প্রস্তাবটি একপেশে এবং ইরানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক। জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং বলেন, এমন প্রস্তাব বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভুল বার্তা দিতে পারে এবং সংঘাত আরও বাড়াতে পারে।   অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া প্রস্তাবটিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে জানান, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে একটি বিকল্প প্রস্তাব আনতে কাজ করছে, যেখানে সামগ্রিক উত্তেজনা হ্রাসে জোর দেওয়া হবে।   এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ চীন ও রাশিয়ার ভেটোর তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে, আর এই ভেটোর মাধ্যমে মস্কো ও বেইজিং সেই পরিস্থিতিকে সমর্থন দিচ্ছে।   চীন ও রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তাবটি কয়েক দফা সংশোধন করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের অবস্থান বদলায়নি। সংশোধিত প্রস্তাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগের ভাষা শিথিল করে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।   এদিকে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি এই ভেটোকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে নিরাপত্তা পরিষদকে একটি দেশের স্বার্থে ব্যবহারের ঝুঁকি কমেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদে এই বিভাজন মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে আসন্ন শান্তি আলোচনায় ইরানের অবস্থানও আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Unknown এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া
হরমুজ প্রণালী পুনর্খোলার চেষ্টায় চীন ও রাশিয়ার ভেটো: উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নাকচ হয়ে গেছে। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত চীন ও রাশিয়া তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাহরাইন সমর্থিত এই প্রস্তাবটি আটকে দেয়। নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত এই খসড়া প্রস্তাবে সদস্য দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসকর্ট প্রদানসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা মূলক পদক্ষেপে সমন্বয় করার জন্য "জোরালো উৎসাহ" দেওয়া হয়েছিল। কূটনৈতিক সূত্রমতে, প্রস্তাবটি ছিল মূল খসড়ার একটি নমনীয় সংস্করণ। উল্লেখ্য যে, মূল খসড়াটিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিধান রাখা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে চীন ও রাশিয়ার আপত্তি এড়াতে বাদ দেওয়া হয়। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। বিপরীতে চীন ও রাশিয়া বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় প্রস্তাবটি গৃহীত হতে ব্যর্থ হয়। এছাড়া দুটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। প্রস্তাবটি পণ্ড হওয়ার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ চীন ও রাশিয়ার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশ দুটি এমন একটি শাসনের পক্ষ নিচ্ছে যারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে ভয় দেখিয়ে বশ করতে চায়। অন্যদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তি দেন যে, এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে একটি "বিপজ্জনক নজির" তৈরি করতে পারে। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, প্রস্তাবটি পাস না হলেও ১১টি দেশের সমর্থন প্রমাণ করে যে বিশ্ব সম্প্রদায়ের বড় অংশ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Unknown এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে চীন-রাশিয়া-ফ্রান্সের ভেটো; ইরান আক্রমণের ছক ভেস্তে গেল!

হরমুজ প্রণালী শক্তি প্রয়োগে উন্মুক্ত করার বিষয়ে আরব দেশগুলোর আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তিনটি স্থায়ী সদস্যের ভেটোতে আটকে গেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে প্রস্তাবটির বিপক্ষে চীন, রাশিয়া এবং ফ্রান্স তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তা পাস হতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা বড় ধরনের কূটনৈতিক বাধার মুখে পড়ল।   আরব দেশসমূহ এবং বাহরাইনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই প্রস্তাবে জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সকল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা' বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে এই প্রধান নৌপথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। তবে চীন ও রাশিয়া শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের মতে, বলপ্রয়োগের বৈধতা দিলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।   ভেটো দেওয়া দেশগুলোর দাবি, সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকট সমাধান করা উচিত; অন্যথায় এর পরিণাম হবে অপূরণীয়। নিরাপত্তা পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী পাঁচ সদস্যের যে কোনো একটি দেশ ভেটো দিলে অন্য সব সদস্যের সমর্থন থাকলেও প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলো গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে, কারণ তাদের মতে এই পথটি বন্ধ থাকা মানে বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসা।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও রাশিয়ার এই শক্ত অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা এখন আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০