নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে ‘বিস্ফোরক পরিস্থিতি’, পুলিশ-জনতার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
নিউইয়র্কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আসন্ন সফর ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্কে আসার কথা রয়েছে। এ সফরকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র দাবি করেছে, মেয়র জোহরান মামদানির নেতানিয়াহুবিরোধী অবস্থান ও সাম্প্রতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। একজন পুলিশ কর্মকর্তা পরিস্থিতিকে ‘বারুদের স্তূপের’ সঙ্গে তুলনা করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বড় ধরনের বিক্ষোভ বা সহিংসতা হলে পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
মামদানি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের কঠোর সমালোচক। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। তবে গত জুলাইয়ে আইনি পর্যালোচনার পর মামদানি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটি সরকারের নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা নেই। তিনি এরপর বিষয়টিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপ চেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির সদস্য নয়। পাশাপাশি জাতিসংঘের কাজে নিউইয়র্কে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে মামদানির আগের অবস্থান বাস্তবায়নে গুরুতর আইনি বাধা রয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সফরের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, সফরের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন হবে তা হুমকি মূল্যায়ন ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ‘বারুদের স্তূপ’ বা মামদানির বক্তব্যের কারণে সরাসরি বিপদ তৈরি হয়েছে—এটি নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের মূল্যায়ন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকির মাত্রা নির্ধারণে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreসাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রোস্টেট ক্যান্সার হাড়সহ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এতে তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যথার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে হান্টার বাইডেন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাবার শারীরিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন হান্টার। তিনি বলেন, ক্যান্সারটি মেটাস্টেসিস হয়ে হাড়ে এবং শরীরের আরও কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে রোগটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও দুর্বল করে দিচ্ছে। হান্টার বলেন, বাবার অসুস্থতা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, বাইডেন খুব কমই নিজের কষ্টের কথা বলেন। বরং অসুস্থতার মধ্যেও তিনি নিজের মতো করে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে বাইডেনের প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার কথা প্রকাশ্যে আসে। পরে তার কার্যালয় জানায়, ক্যান্সারটি হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউস ছাড়ার কয়েক মাস পরই তার এই রোগ শনাক্ত হয়। প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যান্সার। তবে শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে এটি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বাইডেনের ক্ষেত্রে রোগটি হাড়ে ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। হান্টার জানান, অসুস্থতার মধ্যেও তার বাবা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্যে কথা বলছেন। তার ভাষায়, বাইডেন এখনো ‘নিজের কাজ করে যাচ্ছেন’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার বিশ্বাস অটুট রয়েছে। বাইডেনের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে অবশ্য প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক ছিল। বিশেষ করে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ওই বছরের জুলাইয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হস্তান্তর করে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস ছাড়েন বাইডেন। এরপর কয়েক মাসের মধ্যেই তার ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। বাবার অসুস্থতার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও কথা বলেছেন হান্টার। বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সময়কাল ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি স্মৃতিকথা প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে। ‘Promise Me, America’ নামের বইটি প্রকাশ করবে Little, Brown and Company। বইটির প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ নভেম্বর ২০২৬—মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রায় দুই সপ্তাহ পর। বইটিতে বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি অর্থনীতি, কোভিড-১৯ মহামারি, আফগানিস্তান ও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা থাকবে। তিনি কেন পুনর্নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং পরে কেন সরে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই বিষয়ও বইটিতে তুলে ধরার কথা রয়েছে। হান্টার বলেন, তার বাবার অসুস্থতা দেখা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। তবে রোগের প্রভাবের মধ্যেও বাইডেনের দেশের প্রতি আগ্রহ ও বিশ্বাস কমেনি। হান্টারের বক্তব্যে একই সঙ্গে সামনে এসেছে একটি পরিবারের কঠিন বাস্তবতা এবং একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের জনজীবনে সক্রিয় থাকার চেষ্টা। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্যেও বাইডেন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে যাচ্ছেন।
সুরক্ষা হারিয়ে সাউথ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত পাঠাতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র
ওষুধ ডেলিভারি দিতে গিয়ে হুইলচেয়ারে থাকা নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানি নাগরিক গ্রেপ্তার
নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে ‘বিস্ফোরক পরিস্থিতি’, পুলিশ-জনতার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাওয়ার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় এই সরবরাহ যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ ও ইন্টারসেপ্টর ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, প্রতি মাসে কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সমঝোতা রয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি এবং রাশিয়ার হামলার মাত্রা বিবেচনায় ইউক্রেনের আরও বেশি সরঞ্জাম প্রয়োজন। রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলার কারণে কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর চেয়ে আসছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সক্ষমতার কারণে কিয়েভ বারবার আরও প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা ও এর ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে। জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত সরবরাহের সমঝোতা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় কিছুটা নিশ্চয়তা তৈরি করলেও বর্তমান চাহিদা পূরণে তা যথেষ্ট নয়। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিয়েভ।
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে শিশুদের আসক্তি ও যৌন শোষণের ঝুঁকি, মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসে রেকর্ড ৫১ হাজার অভিবাসী আটক, বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযান
২০২৩ সালের পর থেকে আর ঘুমাননি! চিকিৎসার খোঁজে ঘুরছেন দেশে দেশে
এক বছর আগে জটিল হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার। এরপর দীর্ঘ পুনর্বাসন, একের পর এক আরও দুটি অস্ত্রোপচার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবার প্রতিযোগিতার মঞ্চে ফিরেছেন মিনেসোটার মলি স্যানবর্ন। আর এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রয়েছে এমন এক মানুষের দান, যাকে তিনি কখনো দেখেননি। স্যানবর্ন জন্ম থেকেই বাইকাসপিড অ্যাওর্টিক ভালভ নিয়ে বেঁচে ছিলেন। পরে গর্ভাবস্থায় তার হৃদযন্ত্রের প্রধান ধমনিতে অ্যানিউরিজম ধরা পড়ে। সময়ের সঙ্গে ভালভ সংকুচিত ও ধমনির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বাড়তে থাকায় অস্ত্রোপচার জরুরি হয়ে পড়ে। তিনি বেছে নেন রস পদ্ধতির অস্ত্রোপচার। এতে নিজের পালমোনারি ভালভটি অ্যাওর্টিক অবস্থানে বসানো হয় এবং সেই জায়গায় বসানো হয় একজন দাতার ভালভ। অস্ত্রোপচারের পরও তার লড়াই শেষ হয়নি। বুকের হাড় ঠিকভাবে জোড়া না লাগায় দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারে বসাতে হয় পাঁচটি টাইটানিয়াম প্লেট ও ৪০টি স্ক্রু। পরে একটি প্লেট খুলে যাওয়ায় তৃতীয়বার অস্ত্রোপচার করতে হয়। এর মধ্যেই আসে সেই চিঠি। দাতা নেটওয়ার্ক থেকে স্যানবর্ন জানতে পারেন, তার শরীরে বসানো ভালভটি ছিল ২৭ বছর বয়সী এক তরুণের দান করা। খবরটি তাকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। তিনি দাতার পরিবারের উদ্দেশে একটি চিঠিও লেখেন জানান, তাদের প্রিয়জনের দানের কারণে তিনি আবার নিজের স্বপ্নের জীবনে ফিরতে পারছেন। স্যানবর্ন একজন লেখক, বক্তা এবং প্রতিযোগিতামূলক নিনজা অ্যাথলেট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘চিজবল চিক’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর চলতি বছরের মার্চে তিনি আবার প্রশিক্ষণে ফেরেন। কয়েক মাস পরই বিশ্ব ফাইনালে পঞ্চম স্থান অর্জন করেন। তার ভাষায়, একজন তরুণের মৃত্যুর মধ্যেও তার পরিবার যে উদারতার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটিই তাকে নতুন করে জীবন দিয়েছে। একজনের জীবনের শেষ সিদ্ধান্ত অন্য একজনের জীবনে হয়ে উঠল নতুন শুরুর কারণ।
স্বপ্নের নারীকে আগেই ছবিতে এঁকেছিলেন শিল্পী, এক বছর পর হুবহু সেই চেহারার নারীর সঙ্গেই সাক্ষাৎ, প্রেম, অতঃপর বিয়ে!
চাঁদে প্রথম পা রাখা নীল আর্মস্ট্রংয়ের শৈশবের বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪ লাখ ৩০ হাজার ডলারে