সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

গৃহহীনদের জন্য হোটেল ব্যবহারে ১৮৬ কোটি ডলারের চুক্তি নবায়ন করলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৯:৩১
গৃহহীনদের জন্য হোটেল ব্যবহারে ১৮৬ কোটি ডলারের চুক্তি নবায়ন করলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
গৃহহীনদের জন্য হোটেল ব্যবহারে ১৮৬ কোটি ডলারের চুক্তি নবায়ন করলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির গৃহহীনদের জরুরি আশ্রয় নিশ্চিত করতে পাঁচটি বরোর বিভিন্ন হোটেল ব্যবহারের জন্য ১৮৬ কোটি ডলারের একটি চুক্তি নবায়ন করেছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। নতুন এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

 

চুক্তিটি করা হয়েছে নিউইয়র্ক সিটি হোটেল অ্যাসোসিয়েশন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে, যারা প্রায় ৩০০টি হোটেলের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজন হলেই কেবল এসব হোটেলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। পুরো ১৮৬ কোটি ডলারের অর্থ ব্যয় নাও হতে পারে।

 

নিউইয়র্ক সিটির গৃহহীন সেবা বিভাগ জানিয়েছে, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সংকটের সময় তাদের বাণিজ্যিক হোটেলের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। একই সঙ্গে তারা স্থায়ী ও উন্নতমানের আশ্রয়কেন্দ্র চালু করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বিশেষ করে শিশু থাকা পরিবারগুলোর জন্য হোটেলের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো যায়।

 

শহরের ‘রাইট টু শেল্টার’ আইন অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থী প্রত্যেককে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় শয্যা ধরে রাখতে এই চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৮২ হাজার ৯২৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু অবস্থান করছিলেন।

 

কোভিড-১৯ মহামারির সময় জরুরি ভিত্তিতে গৃহহীনদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে হোটেল ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। পরে অভিবাসন সংকটের সময়ও হাজারো আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার জন্য শহরের প্রায় ১৫০টি হোটেল, মোটেল ও সরাইখানাকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়।

 

এদিকে একই কর্মসূচির আওতায় হোটেলে অবস্থানরত গৃহহীন ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর দৈনন্দিন সেবার জন্য দুটি সামাজিক সেবাদানকারী সংস্থাকেও ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের দুটি আলাদা চুক্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি, হোটেলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করায় পর্যটন খাতের ওপর চাপ বাড়ছে এবং কক্ষের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। তবে গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, পর্যাপ্ত স্থায়ী আবাসন গড়ে না ওঠা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা একটি প্রয়োজনীয় বিকল্প।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক এজেন্ট বাংলাদেশি তরুণ আবদুল্লাহ
পরিশ্রমে স্বপ্নজয়, নিউইয়র্ক পুলিশের ট্রাফিক এজেন্ট বাংলাদেশি তরুণ আবদুল্লাহ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক এজেন্ট হিসেবে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের তরুণ আবদুল্লাহ। তিনি বিয়ানীবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের খাসা বিলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং বিলাল উদ্দিনের ছেলে। তাঁর এই সাফল্যের খবরে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শৈশব থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত আবদুল্লাহ প্রবাসে গিয়েও নিজের লক্ষ্য ধরে রাখেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও অধ্যবসায়ের পর তিনি নিউইয়র্কের ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট পদে সফল হয়েছেন।   আবদুল্লাহর এই অর্জনে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন মহল থেকেও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সাফল্যের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   নিউইয়র্কে ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্টরা শহরের সড়কে যানবাহন ও পার্কিংসংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কাজটির মধ্যে ট্রাফিক ও পার্কিং বিধি প্রয়োগ, রাস্তায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যান চলাচল ব্যবস্থাপনার মতো দায়িত্ব রয়েছে।   প্রবাসজীবনে নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এমন পেশায় জায়গা করে নেওয়া আবদুল্লাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তাঁর সাফল্যের খবর বিয়ানীবাজারের স্থানীয় পর্যায়ে আনন্দের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও আগ্রহ তৈরি করেছে। সূত্র: বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ০:৪৬
পলিটিকো ও এমএস নাউ নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

মিথ্যা প্রচারের অভিযোগে হোয়াইট হাউসে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

কেপ কডে পাওয়া দুই মাথার বিরল ডায়মন্ডব্যাক টেরাপিন কচ্ছরছানা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কেপ কডে বিরল দুই মাথাওয়ালা কচ্ছপের সন্ধান, চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ

ভুয়া পরিচয়ে ৩০ বছর মার্কিন সামরিক কারখানায় কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নাগরিক পরিচয় জাল করে ৩০ বছর সামরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী

নিউইয়র্কের মেকানিকভিলে চার শিশু নিহতের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মা ও নানির হাতে চার শিশু খুন, ৪০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাবার মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে চার সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনায় ৪০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করার উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের বাবা ব্র্যাডি হারমন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ওপর নির্যাতন ও অবহেলার নানা সংকেত থাকার পরও স্থানীয় সরকারি সংস্থা, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।   ১০ সেপ্টেম্বর দাখিল করা আইনি নোটিশে হারমন মেকানিকভিল শহর, সারাটোগা কাউন্টি, মেকানিকভিল সিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট, বলস্টন স্পা সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং মেকানিকভিল হাউজিং অথরিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন। নিউইয়র্কের আইনে এ ধরনের নোটিশ দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে আনুষ্ঠানিক মামলা করা যায়।   হারমনের চার সন্তান হলেন ১৩ বছর বয়সী হার্পার, ১১ বছর বয়সী হাডসন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ গ্রেসলিন ও গ্যাভিন। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে মেকানিকভিলের একটি আবাসিক ভবনে চার শিশুসহ তাদের মা সারাহ মায়ার্স ও নানি অ্যামি স্টেডম্যানের মরদেহ পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা ছিল, শিশুদের অধিকাংশের মৃত্যু বিষক্রিয়ার কারণে হয়েছে। একজন শিশুর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতও পাওয়া যায়। পরে ময়নাতদন্ত ও বিষতত্ত্ব পরীক্ষার ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।   হারমনের আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, সন্তানদের মায়ের কাছ থেকে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও চিকিৎসাজনিত নির্যাতন করা হয়েছিল। নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, শিশুদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেলাটোনিন, বেনাড্রিল ও ক্রাটমসহ বিভিন্ন পদার্থ নিয়মিত দেওয়া হতো। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   মামলার নথিতে ২০২৪ সালের মে মাসের একটি ঘটনাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্কুলে থাকা অবস্থায় চার শিশুই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে মাদকজাতীয় অতিরিক্ত ব্যবহারের লক্ষণ দেখা যায়। তিন শিশুকে আলবানি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। গ্রেসলিনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ন্যালোক্সোন, যা ওপিওয়েডের অতিরিক্ত মাত্রার প্রভাব কাটাতে ব্যবহৃত হয়, দেওয়া হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে শিশু সুরক্ষা সংস্থাকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হারমনের আইনজীবীদের অভিযোগ, এত গুরুতর ঘটনার পরও শিশুদের মায়ের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া বা দ্রুত ফৌজদারি ও নির্যাতনের তদন্ত শুরু করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।   আইনি নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, চার শিশুর মধ্যে গ্যাভিন কথিত নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধ করছিল। পরে তাকে একাধিক মানসিক রোগের ভুল রোগনির্ণয় করিয়ে মানসিক চিকিৎসার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন হারমন। এসব দাবিরও বিচারিক যাচাই এখনো হয়নি।   হারমন ও তাঁর সাবেক স্ত্রী সারাহ মায়ার্সের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের হেফাজত নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০১৯ সালে মায়ার্স শিশুদের নিয়ে ইউটাহ থেকে নিউইয়র্কে চলে আসার পর থেকে হারমন তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতে পারেননি বলে নথিতে দাবি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সন্তানদের চিকিৎসা ও শিক্ষাসংক্রান্ত তথ্যও পর্যাপ্তভাবে পেতেন না।   সন্তানদের মৃত্যুর আগে তাঁদের অবস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে হারমন একাধিকবার পুলিশকে খোঁজ নিতে বলেছিলেন বলেও আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রায় দুই সপ্তাহ পর প্রতিবেশীর কাছ থেকে দুর্গন্ধের খবর পেয়ে অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।   পুলিশের আগের তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে একটি চিঠি পাওয়া যায়। সেখানে মায়ার্স হারমনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন এবং সন্তানদের রক্ষা করার জন্যই তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। হারমন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ব্যবহার করে সহানুভূতি, সরকারি সহায়তা ও অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।   হারমনের আইনজীবী নিকোলাস লিয়াকাস ও ক্যাসান্দ্রা রোমে বলেছেন, শিশু সুরক্ষা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে একাধিক সতর্কসংকেত থাকার পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটির উদ্দেশ্য শুধু হারমন পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়া নয়, ভবিষ্যতে নিউইয়র্কের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পথ তৈরি করাও।   তবে যেসব সরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আইনি নোটিশে আসামি করার কথা বলা হয়েছে, তাদের কয়েকটি তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি। বলস্টন স্পা সেন্ট্রাল স্কুল ডিস্ট্রিক্টও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।   হারমনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ৪০ কোটি ডলারের অঙ্কটি প্রাথমিক দাবি এবং তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নোটিশে আরও তথ্য যুক্ত হতে পারে। তাঁদের মতে, এই অর্থের পরিমাণ সন্তানদের হারানোর ব্যক্তিগত ক্ষতির কোনো বাস্তব মূল্য নির্ধারণ করে না, বরং অভিযোগ করা ক্ষতি ও সম্ভাব্য আইনি দাবির পরিসর বোঝায়।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, টাইমস ইউনিয়ন, স্পেকট্রাম নিউজ ১

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২৩:১২
মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গোপনীয়তার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

মেটার এআই চশমায় গোপনে যৌনতা, নগ্নতা ও বাথরুমের দৃশ্য ধারণের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ায় মামলা

৯৮ বছর বয়সে হাইস্কুলের সনদ হাতে পল লিটল। ছবি: সংগৃহীত

পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি, তবু ১৫০ শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণে পাশে ছিলেন পল

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক, যেখানে বৃহস্পতিবার রাতে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এক ঘণ্টায় চার ছিনতাই, খোয়া গেল ৬ জনের মোবাইল

নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারের উদ্বোধন

নিউইয়র্কের স্টেটেন আইল্যান্ডের সাউথ শোর এলাকায় নতুন একটি মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টার চালু হয়েছে। মুসলিমদের নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে নতুন এই কেন্দ্র।   শনিবার হুগেনটন অ্যাভিনিউয়ের নতুন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আয়োজন করে মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি (এমএএস)। অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন অংশ নেন। স্টেটেন আইল্যান্ডে এটি সংগঠনটির দ্বিতীয় কেন্দ্র। সাবেক নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির একটি ভবন সংস্কার করে নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারটি তৈরি করা হয়েছে। ভবনটি হুগেনটন স্টেশন থেকে খুব কাছেই অবস্থিত।   মুসলিম আমেরিকান সোসাইটির রাজনৈতিক ও জনসংযোগবিষয়ক পরিচালক আবদুল্লাহ আকল বলেন, সাউথ শোর এলাকায় মুসলিম জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এতদিন স্থানীয় অনেক মুসল্লিকে নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটি কার্যক্রমে অংশ নিতে ডংগান হিলস এলাকার মসজিদে যেতে হতো। হুগেনটন এলাকার অনেক বাসিন্দাকে সেখানে যেতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট গাড়ি চালাতে হতো।   এমএএস একটি জাতীয় সংগঠন, যার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৫০টির বেশি শাখা রয়েছে। নিউইয়র্ক শাখার অধীনে বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাতটি কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।   স্টেটেন আইল্যান্ডে সংগঠনটির প্রথম কেন্দ্রটি বার্গার অ্যাভিনিউয়ে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ওই কেন্দ্রটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সেবা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি সেখানে নির্মাণকাজ হয়েছে এবং আগামী মাসে কেন্দ্রটির পুনরায় উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আকল।   নতুন হুগেনটন কেন্দ্রটি শুধু মুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে না। স্থানীয় সব ধর্মের মানুষের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম উন্মুক্ত থাকবে। কেন্দ্রটিতে কারাতে ও ফুটবল প্রশিক্ষণ, সপ্তাহের মাঝামাঝি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং সাপ্তাহিক খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।   আকল বলেন, নতুন কেন্দ্রটির মূল উদ্দেশ্য শুধু মসজিদ পরিচালনা করা নয়। মুসলিম ও অমুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এখানকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন।   নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির হুগেনটন শাখার সঙ্গেও নতুন কেন্দ্রটির সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় শিশুদের পড়াশোনা ও বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে সাক্ষরতা ও পাঠাভ্যাসভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে।   ভবনটি আগে নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শাখা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। নতুন জায়গায় লাইব্রেরি স্থানান্তরের সময় কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় এমএএস কর্তৃপক্ষ তাদের আগের ভবনে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। কয়েক সপ্তাহ আগে লাইব্রেরিটি নতুন স্থানে চলে যাওয়ার পর ভবনটি মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের কাজ শেষ করা হয়।   আকল জানান, লাইব্রেরির নতুন জায়গায় কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে তাদের পুরোনো ভবনে লাইব্রেরির সেবা চালু রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিল এমএএস।   নতুন কেন্দ্রটির সরকারি ধারণক্ষমতা ৩০০ জন। শুরুতে সেখানে ২৫০ থেকে ৩০০ জন মুসল্লি ও অংশগ্রহণকারীকে সেবা দেওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রায় এক বছর আগে ভবনটি অধিগ্রহণ করা হয়। এরপর প্রায় দুই মাসের সংস্কারকাজে লাইব্রেরির তাক সরানো, ভবন পরিষ্কার করা এবং নামাজের জন্য কার্পেট বসানোসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শৌচাগার ও ভবনের অবকাঠামোর আরও উন্নয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।   কেন্দ্রটি সপ্তাহের সাত দিনই খোলা থাকবে। শুক্রবার দুপুরের জুমার নামাজ হবে সাপ্তাহিক প্রধান ধর্মীয় আয়োজন। এছাড়া মুসলিমদের দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ব্যবস্থাও থাকবে।   আকলের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেটেন আইল্যান্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুরোনো কমিউনিটি কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে আগের তুলনায় বেশি মানুষের চাহিদা সামাল দিতে হচ্ছে। এমনকি সংগঠনটির পরিচালিত খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতেও প্রতি সপ্তাহে খাবার শেষ হয়ে যায় বলে জানান তিনি।   এমএএস স্টেটেন আইল্যান্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও শিশু, তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিভিন্ন ধর্মীয়, শিক্ষামূলক, ক্রীড়া ও সামাজিক কার্যক্রমের তথ্য দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি আগে থেকেই স্থানীয় মুসলিম ও বৃহত্তর কমিউনিটির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।   নতুন কেন্দ্র চালুর উদ্যোগটি স্টেটেন আইল্যান্ডে এমএএসের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। সংগঠনটির আগের কেন্দ্রটি জায়গার সংকটে একাধিক জুমার জামাত, বিভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক স্কুল এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে বলে তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।   সূত্র: স্টেটেন আইল্যান্ড অ্যাডভান্স/সিলাইভ, মুসলিম আমেরিকান সোসাইটি স্টেটেন আইল্যান্ড

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২০:৪৩
মেরিল্যান্ডে কিশোরী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অবৈধ অভিবাসী চালক গ্রেপ্তার

মেরিল্যান্ডে কিশোরী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অবৈধ অভিবাসী চালক গ্রেপ্তার

২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে শতাধিক নেতাকর্মীর প্রস্তুতি

২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে শতাধিক নেতাকর্মীর প্রস্তুতি

ক্যালিফোর্নিয়ায় হুইলচেয়ারে থাকা ব্যক্তিকে চাপা দিয়ে পালাল গাড়ি, র ক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে মৃ ত্যু

ক্যালিফোর্নিয়ায় হুইলচেয়ারে থাকা ব্যক্তিকে চাপা দিয়ে পালাল গাড়ি, র ক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে মৃ ত্যু

0 Comments