সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ডাইনোসর গবেষণা

প্রাগৈতিহাসিক যুগের অন্যতম ভয়ংকর শিকারি প্রাণী ছিল টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স। ছবি: সংগৃহীত
৬ কোটি ৬০ লাখ বছর পর জানা গেল, কীভাবে মারা গিয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে ভারী মাংসাশী ডাইনোসর

প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিশাল শিকারি ডাইনোসর টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের শেষ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রহস্যের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘স্কটি’ নামে পরিচিত সবচেয়ে বড় আবিষ্কৃত টি-রেক্সের একটি পাঁজরের হাড়ে পাওয়া আঘাত ও সংরক্ষিত রক্তনালির চিহ্ন বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা ধারণা করছেন, অন্য একটি ডাইনোসরের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।   স্কটির জীবাশ্ম ১৯৯১ সালে কানাডার সাসকাচেওয়ানের ফ্রেঞ্চম্যান রিভার ভ্যালিতে আবিষ্কৃত হয়। রয়্যাল সাসকাচেওয়ান মিউজিয়ামের গবেষকেরা সেখানে এর কঙ্কালের সন্ধান পান। জীবদ্দশায় স্কটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪৩ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১৯ হাজার ৫০০ পাউন্ড বা প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কেজি। এই বিশাল আকারের কারণে স্কটিকে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় টি-রেক্স কঙ্কাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   তবে স্কটির গুরুত্ব শুধু আকারে নয়। এর একটি পাঁজরের হাড়ে এমন নরম টিস্যুর অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা কোটি কোটি বছর টিকে থাকার পরও গবেষণার উপযোগী অবস্থায় ছিল। বিশেষ করে সেখানে খনিজে পরিণত হয়ে যাওয়া রক্তনালির একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জীবাশ্মে এ ধরনের রক্তনালির কাঠামো সংরক্ষিত থাকা অত্যন্ত বিরল।   এই অস্বাভাবিক সংরক্ষণই গবেষকদের স্কটির জীবনের শেষ অধ্যায় সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার পদার্থবিজ্ঞানীরা। দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাউরিসিও বারবি এবং পিএইচডি গবেষক জেরিট মিচেল। জীবাশ্মের ভেতরের গঠন না কেটে বা ক্ষতিগ্রস্ত না করে দেখার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে অবস্থিত মার্কিন জ্বালানি বিভাগের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে নিউট্রন ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।   এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্কটির পাঁজরের ভেতরের গঠন ত্রিমাত্রিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। সাধারণ এক্স-রে যেখানে মূলত ঘন হাড়ের গঠন দেখাতে কার্যকর, সেখানে নিউট্রন বিভিন্ন হালকা মৌল, বিশেষ করে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। ফলে জীবাশ্মের ভেতরে থাকা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ক্ষীণ টিস্যুর চিহ্নও আলাদা করে দেখা সম্ভব হয়েছে।,   গবেষকদের ধারণা, স্কটির পাঁজরটি জীবদ্দশায় ভেঙে গিয়েছিল। আঘাতের পর শরীর স্বাভাবিকভাবে হাড়টি সারিয়ে তোলার চেষ্টা শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আয়রনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছায় এবং সেখানে নতুন রক্তনালির একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। সেই রক্তনালির খনিজায়িত চিহ্নই কয়েক কোটি বছর পর গবেষকদের সামনে স্কটির আঘাতের প্রমাণ হিসেবে ধরা দেয়।   কীভাবে পাঁজরটি ভেঙেছিল, সে বিষয়ে গবেষকেরা একটি সম্ভাবনার কথা বলছেন। ধারণা করা হচ্ছে, শিকার বা সংঘর্ষের সময় অন্য কোনো ডাইনোসরের সঙ্গে লড়াইয়ে স্কটি আঘাত পেয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কোন প্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল বা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল, তা জীবাশ্ম থেকে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।   গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁজরের হাড়ে সেরে ওঠার চিহ্ন পাওয়া গেলেও সেটি পুরোপুরি জোড়া লাগেনি। অর্থাৎ আঘাতের পর কিছু সময় স্কটি বেঁচে ছিল এবং তার শরীর ক্ষত সারানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। তাই পাঁজরের আঘাতটি তার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করলেও, এটিই মৃত্যুর একমাত্র কারণ ছিল বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।   স্কটির মৃত্যুর পর তার দেহ কীভাবে এত সূক্ষ্ম টিস্যু সংরক্ষণ করতে পেরেছিল, সেটিও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিজ্ঞানীদের মতে, সে একটি লবণাক্ত জলাভূমিতে মারা গিয়ে থাকতে পারে। এমন পরিবেশে অক্সিজেনের প্রবেশ সীমিত থাকায় পচন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে সাধারণত দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা এমন নরম টিস্যুর কিছু অংশ দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   স্কটির পাঁজরে সংরক্ষিত রক্তনালির আবিষ্কারের সূত্রপাত অবশ্য আরও কয়েক বছর আগে। ২০২০ সালে তৎকালীন স্নাতক শিক্ষার্থী জেরিট মিচেল স্কটির পাঁজর নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এক্স-রে ভিত্তিক মাইক্রো-সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে অস্বাভাবিক কাঠামো শনাক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে কানাডিয়ান লাইট সোর্সে আরও উন্নত এক্স-রে প্রযুক্তি ও অণুবীক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে সেই কাঠামো নিয়ে গবেষণা করা হয়।   ২০২৬ সালের এপ্রিলে গবেষক দল ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে গিয়ে নিউট্রনভিত্তিক দুটি যন্ত্র ব্যবহার করে স্কটির পাঁজর পরীক্ষা করে। এর মধ্যে একটি পদ্ধতিতে বড় হাড়ের ভেতরের গঠন অক্ষত রেখেই পরীক্ষা করা হয়। নিউট্রন পরীক্ষার ফল আগের এক্স-রে গবেষণার সঙ্গে মিলে যায় এবং রক্তনালির অস্তিত্ব সম্পর্কে পাওয়া তথ্যকে আরও শক্তিশালী করে।   ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার অধ্যাপক মাউরিসিও বারবি এই আবিষ্কারকে লটারি জেতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কারণ কোটি কোটি বছর পুরোনো একটি ডাইনোসরের হাড়ের ভেতরে এত বিস্তৃত রক্তনালির কাঠামো সংরক্ষিত থাকা গবেষকদের জন্য অত্যন্ত বিরল সুযোগ।   গবেষণায় যুক্ত পিএইচডি গবেষক জেরিট মিচেলের মতে, প্রতিটি জীবাশ্ম অতীতের একটি ছোট্ট মুহূর্তের ছবি। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেই ছবির ভেতরের আরও সূক্ষ্ম তথ্য বের করে আনা সম্ভব হচ্ছে। ফলে শুধু ডাইনোসরের আকার বা কঙ্কালের গঠন নয়, তারা কীভাবে আহত হতো এবং তাদের শরীর কীভাবে সেই আঘাত সারানোর চেষ্টা করত, সে বিষয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।   গবেষকদের কাছে এই কাজের আরেকটি বড় গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বহু পুরোনো জীবাশ্ম সংরক্ষিত রয়েছে। সেগুলোর অনেকগুলোর ভেতরেও হয়তো এমন অদৃশ্য তথ্য লুকিয়ে আছে, যা প্রচলিত পদ্ধতিতে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিউট্রন ইমেজিং ও উন্নত এক্স-রে প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার ভবিষ্যতে সেই তথ্য সামনে আনার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।   অর্থাৎ, প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে মারা যাওয়া স্কটির কঙ্কাল আজও বিজ্ঞানীদের কাছে শুধু একটি বিশাল টি-রেক্সের নিদর্শন নয়। এর ভাঙা পাঁজর, ক্ষত সারানোর চেষ্টা এবং সংরক্ষিত রক্তনালির চিহ্ন সেই প্রাণীর জীবনের শেষ সময় সম্পর্কে এমন তথ্য দিচ্ছে, যা এত দিন জীবাশ্মের ভেতরেই অদৃশ্য ছিল।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনা, কানাডিয়ান লাইট সোর্স, এনডিটিভি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০