চার অঙ্গরাজ্যে স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে ১৫ লাখ ডলারের প্রতারণা, ভারতীয় নাগরিকের দোষ স্বীকার
যুক্তরাষ্ট্রের চার অঙ্গরাজ্যে প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ১৫ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ও স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন জর্জিয়ায় বসবাসকারী ৩৩ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক প্রদীপ প্যাটেল। গত ১৮ আগস্ট আলাবামার মোবাইলের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তিনি দোষ স্বীকার করেন। তার প্লিয়া চুক্তি অনুযায়ী, আলাবামার পাশাপাশি সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও টেনেসিতে সংঘটিত প্রতারণার ক্ষতির দায়ও তিনি স্বীকার করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার একটি ঘটনায় আলাবামার ফেয়ারহোপের এক দম্পতিকে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে বিশ্বাস করানো হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারী তার আইপ্যাডে একটি পপআপ বার্তা পান, যেখানে তার অ্যাপল অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশের সতর্কতা দেখানো হয়। বার্তায় দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করার পর একজন নিজেকে ‘স্কট গিবসন’ নামে পরিচয় দেন এবং পরে তাকে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন।
ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘রবিন স্টল’ নামে পরিচয় দিয়ে রিজিয়ন্স ব্যাংকের প্রতিনিধি বলে দাবি করেন। তিনি ওই নারীকে জানান, হ্যাকাররা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরির চেষ্টা করছে এবং ব্যাংকের একজন কর্মীও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এ কারণে স্থানীয় ব্যাংক শাখার কর্মীদের বিষয়টি জানাতে নিষেধ করা হয়।
প্রতারকদের নির্দেশনা অনুসরণ করে ওই দম্পতি কয়েক দফায় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নেন। প্রথমে ১২ হাজার ৫০০ ডলার তুলে একটি বিটকয়েন এটিএমে জমা দেন। পরবর্তী সময়ে আরও ৩২ হাজার ডলারের বেশি অর্থ উত্তোলন করেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর প্রতারণার কৌশল বদলে দম্পতিকে স্বর্ণের বার কেনার জন্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার একটি টেক্সাসভিত্তিক বুলিয়ন ডিলারের কাছে পাঠাতে বলা হয়। তাদের বোঝানো হয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে অর্থ স্বর্ণে রূপান্তর করা প্রয়োজন।
প্লিয়া চুক্তি অনুযায়ী, প্রদীপ প্যাটেল জর্জিয়া থেকে গাড়ি চালিয়ে ফেয়ারহোপে ওই দম্পতির বাড়িতে যান এবং তারা কেনা স্বর্ণের বার সংগ্রহ করেন।
তবে প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু আলাবামার এই ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সাউথ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা ও টেনেসিতেও একই ধরনের প্রতারণায় তার ভূমিকা ছিল।
সাউথ ক্যারোলাইনার মাউন্ট প্লেজেন্টে এক দম্পতির কাছ থেকে ২০২৫ সালের মার্চে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫২৭ ডলারের ক্ষতির ঘটনায় প্যাটেল তার দায় স্বীকার করেছেন। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে বলা হয়েছিল, তার অ্যাপল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে শিশু পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এরপর তাকে ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠাতে এবং স্বর্ণ কিনতে প্ররোচিত করা হয়। প্যাটেল স্বীকার করেছেন, তিনি ওই স্বর্ণ সংগ্রহকারী কুরিয়ারদের একজন ছিলেন।
মাউন্ট প্লেজেন্টের আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ১১৫ ডলারের স্বর্ণমুদ্রা প্যাটেল সংগ্রহ করেন বলেও প্লিয়া চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ফ্লোরিডার পানামা সিটির এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৮১ হাজার ২৯ ডলারের স্বর্ণ এবং টেনেসির বার্ডসটাউনের আরেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২ লাখ ২ হাজার ৬৫ ডলারের স্বর্ণ নেওয়ার ঘটনায়ও তিনি দায় স্বীকার করেছেন।
প্লিয়া চুক্তিতে এসব প্রতারণার সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ ১৫ লাখ ডলারের বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলায় নেপালের নাগরিক সৌরভ শর্মার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ফেয়ারহোপের একই দম্পতির কাছ থেকে তিনি আলাদাভাবে স্বর্ণ সংগ্রহ করেছিলেন। শর্মাকে জুন মাসে জর্জিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলাটি এখনো বিচারাধীন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, প্যাটেল এর আগে মার্চে অভিযোগ অস্বীকার করে দোষী নন বলে আবেদন করেছিলেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি প্লিয়া চুক্তির মাধ্যমে দোষ স্বীকার করেন।
ফেডারেল আইনে প্যাটেলের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে দোষ স্বীকারের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রসিকিউটররা তার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম শাস্তির সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন আদালত।
প্যাটেলের সাজা ঘোষণার কোর্ট হিয়ারিং আগামী ১৯ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক ‘গোল্ড বার স্ক্যাম’-এর একটি উদাহরণ, যেখানে প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ব্যাংক বা প্রযুক্তি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ নিরাপদ রাখার নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা স্বর্ণে রূপান্তর করতে বলে। আলাবামা সিকিউরিটিজ কমিশনও ২০২৫ সালে এ ধরনের গোল্ড বার প্রতারণা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যে প্রাণীদের মধ্যে জলাতঙ্কের ঘটনা বাড়ায় জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্কতা জারি করেছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় একটি ভ্রাম্যমাণ পেটিং জুর কয়েকটি ছাগলের শরীরে জলাতঙ্ক শনাক্ত হওয়ার পর শত শত মানুষের সম্ভাব্য সংস্পর্শের বিষয়টি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই সময়ে আইডাহোতে এ বছর ইতোমধ্যে ২৪টি জলাতঙ্ক আক্রান্ত বাদুড় শনাক্ত হয়েছে, আর টেক্সাসের সান আন্তোনিও এলাকায় বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো পেটিং জুর ছাগলের সংস্পর্শে আসা ২৮৪ জনের জলাতঙ্কের ঝুঁকি মূল্যায়ন করেছে। তাদের মধ্যে ২১৩ জনকে পোস্ট এক্সপোজার প্রফাইল্যাক্সিস বা পিইপি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব মানুষ ২৮ জুলাই থেকে ২৭ আগস্টের মধ্যে ফার্ম অ্যাডভেঞ্চার্স নামের একটি ভ্রাম্যমাণ পেটিং জুর ছাগলের সংস্পর্শে এসেছিলেন। অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আইরেডেল কাউন্টির হারমোনিতে থাকা ওই পেটিং জুর তিনটি বাচ্চা ছাগলের পরীক্ষায় জলাতঙ্ক শনাক্ত হয়েছে। আরেকটি ছাগল পরীক্ষা করা না হলেও সেটিও আক্রান্ত ছিল বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, জুলাইয়ের শেষ দিকে ছাগলগুলোর খোঁয়াড়ে ঢুকে পড়া একটি স্কাঙ্কের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে। ছাগলগুলো নর্থ ক্যারোলাইনার বিভিন্ন এলাকায় শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের জন্য আয়োজিত একাধিক অনুষ্ঠানে নেওয়া হয়েছিল। ফলে সম্ভাব্য সংস্পর্শের পরিধিও বড় হয়েছে। আক্রান্ত ছাগলগুলোর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা প্রয়োজন কি না তা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এদিকে আইডাহোতেও জলাতঙ্ক নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ২৪টি জলাতঙ্ক আক্রান্ত বাদুড় পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে। গত তিন বছরের যেকোনো পুরো বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেশি। বাদুড়ের সংস্পর্শে আসার সম্ভাব্য ঘটনা নিয়েও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছে আগের তুলনায় বেশি ফোন আসছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানুষের বসতি বাড়ার কারণে বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শ বাড়তে পারে। তবে আইডাহোতে বাদুড়ের সংক্রমণ বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বাসিন্দাদের বাদুড় ধরতে বা স্পর্শ না করতে এবং মানুষ বা পোষা প্রাণীর সম্ভাব্য সংস্পর্শ ঘটলে দ্রুত স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। টেক্সাসের সান আন্তোনিওতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শহরটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন ও জুলাইয়ে বেক্সার কাউন্টিতে বন্যপ্রাণীর মধ্যে ২২টি জলাতঙ্কের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগের দুই বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র দুই থেকে তিনটি। এ সময় এক পোষা কুকুরের শরীরেও জলাতঙ্ক শনাক্ত হয়েছে, যা বেক্সার কাউন্টিতে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে কোনো পোষা কুকুরের প্রথম নিশ্চিত সংক্রমণ। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কুকুরটি জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি বাচ্চা স্কাঙ্ক মেরে ফেলার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে পরীক্ষায় তার শরীরে জলাতঙ্কের ভাইরাস শনাক্ত হয়। সংস্পর্শে আসা মানুষ ও অন্যান্য পোষা প্রাণীকে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। জলাতঙ্ক একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর কামড়, আঁচড় বা লালার সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। বন্য প্রাণী, বিশেষ করে বাদুড়, স্কাঙ্ক, র্যাকুন ও শেয়াল এ ভাইরাসের গুরুত্বপূর্ণ বাহক। আক্রান্ত প্রাণীর লালা চোখ, মুখ, নাক বা কাটা-ছেঁড়া ত্বকে লাগলেও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, জলাতঙ্কের উপসর্গ শুরু হয়ে গেলে রোগটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী। তবে সম্ভাব্য সংস্পর্শের পর উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই দ্রুত পিইপি নেওয়া হলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা তাই পোষা কুকুর, বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন আপডেট রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অপরিচিত বা বন্য প্রাণীকে স্পর্শ না করা এবং কোনো প্রাণীর কামড়, আঁচড় বা লালার সম্ভাব্য সংস্পর্শ ঘটলে দেরি না করে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার
চার অঙ্গরাজ্যে স্বর্ণের লোভ দেখিয়ে ১৫ লাখ ডলারের প্রতারণা, ভারতীয় নাগরিকের দোষ স্বীকার
১৯ সেকেন্ডের ভিডিও থেকে বিলিয়ন ডলারের ইউটিউব, নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কেন্দ্রস্থল টাইম স্কয়ারে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেভেন্থ অ্যাভিনিউ ও ওয়েস্ট ৫০ নম্বর স্ট্রিটের কাছে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণের মুখ ও পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী বেইজ রঙের সোয়েটার পরিহিত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত ওই তরুণ বর্তমানে নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান বা উইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই হামলাটি কোনো বিরোধের জেরে নাকি সম্পূর্ণ আকস্মিক ছিল, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। শনিবারের এই হামলার মাত্র কয়েকদিন আগেই টাইম স্কয়ারে আরেকটি মারাত্মক ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় পামেলা সিসনেরোস (৪৯) নামের মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী রোড আইল্যান্ডের ৬৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাত করেন। পরবর্তীতে ৪১ ও ৪২ নম্বর স্ট্রিটের মাঝে পুলিশের সঙ্গে পামেলার মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। পুলিশ তাকে ছুরি ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে চার মিনিট ধরে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ টিজার ব্যবহার করলে তিনি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। বাধ্য হয়ে পুলিশ গুলি চালালে ওই নারীর মৃত্যু হয়। একের পর এক এমন সহিংস ঘটনায় টাইম স্কয়ারে আসা পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এখন এই এলাকায় চলাফেরা করতে গিয়ে নিজেদের অনিরাপদ বোধ করছেন এবং চারপাশের পরিবেশ নিয়ে সতর্ক থাকছেন। সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা মনে করছেন, শহরে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। শনিবারের হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরতে পুলিশের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিউইয়র্কে প্রাক্তন ছাত্রীকে স্টকিংয়ের অভিযোগ, শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলজীবনেই যৌ ন সম্পর্কের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের জন্য সুদ এড়িয়ে ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ি কেনার যেসব বিকল্প আছে
যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ড-নাগরিকত্ব, সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে থেকে নিজের সন্তানকে দেখাশোনা করা কিছু বাবা-মাকে ফেডারেল চাইল্ড কেয়ার সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন পরিকল্পনাটি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে এসেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা বিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে একজন বাবা বা মা ঘরে থেকে নিজের সন্তানের যত্ন নিলে এবং অন্য স্বামী বা স্ত্রী সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করলে পরিবারটি চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বা সিসিডিএফ-এর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। এই অর্থ নতুন কোনো আলাদা ফেডারেল তহবিল থেকে দেওয়ার পরিকল্পনা নয়। বরং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীনে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থ ব্যবহারের নিয়ম পরিবর্তন করে নতুন ধরনের চাইল্ড কেয়ার সহায়তা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই তহবিল বর্তমানে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী বাবা-মা, স্কুলে থাকা কিংবা চাকরির প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া অভিভাবকদের সন্তানদের চাইল্ড কেয়ার খরচে সহায়তা করে। খসড়া নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় একজন বিবাহিত বাবা বা মা নিজের সন্তানকে ঘরে থেকে দেখাশোনা করলেও চাইল্ড কেয়ার সহায়তার জন্য যোগ্য হতে পারেন। প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য হবে ঘরে থাকা অভিভাবকের হারানো আয়ের একটি অংশ পুষিয়ে দিতে সহায়তা করা। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৯ হাজার ডলার সমপরিমাণ চাইল্ড কেয়ার সহায়তা পেয়ে থাকে। তবে নতুন প্রস্তাবের অর্থ সরাসরি ৯ হাজার ডলার নগদ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে দেওয়া হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রস্তাবিত নিয়মে বিবাহিত দম্পতিদের জন্য বিশেষ শর্ত রাখা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, একজন স্বামী বা স্ত্রীকে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং অন্যজন নিজের সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য ঘরে থাকতে পারবেন। নির্দিষ্ট আয়ের সীমাও প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে, অবিবাহিত দম্পতি যেখানে একজন বাবা বা মা ঘরে থেকে সন্তান দেখাশোনা করেন, তারা এই প্রস্তাবিত নতুন ক্যাটাগরির আওতায় থাকবেন না। একইভাবে কাজ না করা একক অভিভাবকরাও এই নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য হবেন না। বর্তমান সিসিডিএফ নিয়মেও পরিবারের আয় এবং বাবা-মায়ের কাজ, শিক্ষা অথবা চাকরির প্রশিক্ষণের সঙ্গে যোগ্যতার সম্পর্ক রয়েছে। ফেডারেল নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যগুলো তাদের নির্ধারিত রাজ্যের মধ্যম আয়ের সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত আয় করা পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় নিতে পারে। তবে অনেক রাজ্য এর চেয়ে কম আয়ের সীমা নির্ধারণ করে। তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। চাইল্ড কেয়ার নীতির বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, একই তহবিল থেকে ঘরে থাকা বাবা-মাকে সহায়তা দেওয়া হলে বর্তমানে যারা কাজ করার জন্য চাইল্ড কেয়ার ভর্তুকি ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমে যেতে পারে। এতে কিছু চাইল্ড কেয়ার সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কংগ্রেসে উত্থাপিত নতুন কোনো বিল নয়। প্রশাসন বিদ্যমান সিসিডিএফ কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য নতুন করে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে খসড়া নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার আগে হোয়াইট হাউসের অনুমোদন এবং সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার মতো নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রস্তাবটি এখনো পরিবর্তিত হতে পারে এবং চূড়ান্ত হওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনুমোদিত হলে আগামী বছর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বর্তমানে যারা ঘরে থেকে সন্তান দেখাশোনা করছেন, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন এই সুবিধার নামে এখনই কোনো আবেদন বা অর্থ পাওয়ার দাবি করার সুযোগ তৈরি হয়নি। নিয়ম চূড়ান্ত হওয়ার পরই যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া এবং কোন রাজ্যে কীভাবে সুবিধাটি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে চাইল্ড কেয়ার খরচ নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকটের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ কার্যকর হলে ফেডারেল চাইল্ড কেয়ার অর্থ কীভাবে পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে, তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আপাতত এটি একটি প্রস্তাবিত নীতি, চালু হওয়া সরকারি সুবিধা নয়।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিমান দুর্ঘটনায় মায়ের সঙ্গে প্রাণ গেল দুই ছেলের, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বস্তিতে ট্রাম্প