- প্রচ্ছদ
- Topic
ডোনাল্ডট্রাম্প
রাশিয়া থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছে একটি তেলবাহী জাহাজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন জ্বালানি সরবরাহ চুক্তির পর এটিই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাঠানো প্রথম ডিজেলের চালান। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই চুক্তি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কিছু বিধানও শিথিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেন্দেস’ গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাশিয়ার বাল্টিক সাগরীয় প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটিতে রয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতি কম সালফারযুক্ত ডিজেল, যা প্রায় তিন লাখ ব্যারেলের সমপরিমাণ। এলএসইজি ও কেপলারের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারটির গন্তব্য নিউইয়র্ক। আগামী ৭ নভেম্বর এটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে চালানটির ক্রেতা ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এই চালান যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। সেই নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া থেকে সরাসরি জ্বালানি আমদানির পথ অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়। নতুন চুক্তির মাধ্যমে কয়েক বছর পর আবার রুশ ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জাহাজটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়নি। গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের নতুন চুক্তির ঘোষণা দেন। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করবে। এর পর নভেম্বরে আরও পাঁচ লাখ মেট্রিক টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের সমপরিমাণ। তবে ঘোষিত মোট সরবরাহের সবটুকু শুধু যুক্তরাষ্ট্রে আসবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইনের কয়েকটি বিধান প্রয়োগ সাময়িকভাবে শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে নির্দিষ্ট শর্তে রুশ ডিজেল বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়াও ডিজেল রপ্তানির ওপর নিজেদের আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। এর আগে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে ডিজেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল মস্কো। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দেশটি। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ডিজেল সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ করছে। প্রথম চালানের পর আরও জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ মেট্রিক টনে নিতে পারবে। এটি দেশটির স্বাভাবিক রপ্তানি সক্ষমতার কাছাকাছি। তবে ইউক্রেনের হামলায় কিছু রুশ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা এখনো চ্যালেঞ্জের বিষয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম কমানোর লক্ষ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প। জরুরি জ্বালানি মজুত থেকে ইউরোপের দেশগুলো আরও তেল বাজারে না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা। তবে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন চুক্তি এবং ইউরোপের ওপর চাপ প্রয়োগের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত জ্বালানি ও নিষেধাজ্ঞানীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, কৃষি ও নির্মাণ খাতে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে এসব খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে। তবে নতুন চালানটি নির্বাচনের চার দিন পর, ৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, একটি জাহাজে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল জ্বালানি বাজারের তুলনায় সীমিত। ফলে শুধু এই চালান দিয়ে দেশজুড়ে ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম, শোধনাগারের উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানির চাহিদাসহ একাধিক বিষয় ডিজেলের খুচরা মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। নতুন চুক্তির পর আরও কত চালান বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছায়, তার ওপরও সম্ভাব্য বাজারপ্রভাব নির্ভর করবে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কয়েক বছর ধরে কার্যকর রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পরিশোধিত তেলজাত পণ্য আমদানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। এরপর রাশিয়া প্রধানত ব্রাজিল, তুরস্ক এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডিজেল রপ্তানি করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সরবরাহ চুক্তির ফলে রুশ জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইউক্রেন ও তার মিত্রদের মধ্যে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ সাধারণ ভোক্তা, ট্রাকচালক, পরিবহন ব্যবসায়ী ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজেলের দামের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে। তবে রাশিয়া থেকে নতুন চালান আসার অর্থ এই নয় যে পাম্পে ডিজেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমে যাবে। জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো, সরবরাহ সম্পন্ন হওয়া এবং বাজারে অতিরিক্ত জ্বালানি প্রবেশের পর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। SOURCE - রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে দেশটি থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের হিসাব বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে বছরে ১০ লাখ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান বহিষ্কারের হার সেই লক্ষ্যের চেয়ে কম। একই সঙ্গে অভিবাসন কার্যক্রমের বিস্তারিত সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ বন্ধ থাকায় প্রশাসনের অভিযান কতটা এগিয়েছে, তা মূল্যায়ন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ব্যাপক হারে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অভিবাসন নীতির কট্টর সমর্থকদের একাংশের সমালোচনা, প্রশাসন আরও বেশি অনিবন্ধিত অভিবাসীকে দেশ থেকে সরিয়ে দিতে পারত। অন্যদিকে, বহিষ্কারের সংখ্যা ও অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন হিসাব তৈরিতে বিভিন্ন নথি ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন মার্ক রোজেনব্লাম, যিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের পরিসংখ্যানবিষয়ক দপ্তরের প্রধান ছিলেন। তিনি জুলাইয়ে ওই পদ ছাড়েন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া নথি এবং বাইরের গবেষকদের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বহিষ্কারের সংখ্যা নিরূপণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ‘বহিষ্কার’ বলতে দুটি পৃথক প্রক্রিয়াকে একসঙ্গে গণনা করা হয়েছে। প্রথমটি হলো ‘রিমুভাল’, যার আইনি পরিণতি তুলনামূলক কঠোর। দ্বিতীয়টি ‘রিটার্ন’, যেখানে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হয়, তবে প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিক বহিষ্কারের তুলনায় কম শাস্তিমূলক হতে পারে। এই দুই ধরনের প্রক্রিয়া মিলিয়েই ৯ লাখ ৮০ হাজারের হিসাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ের মোট সংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার ছিল আনুষ্ঠানিক রিমুভাল। প্রায় ৩ লাখ ক্ষেত্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রিটার্ন এবং আরও প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক রিটার্ন হয়েছে। অর্থাৎ সব অভিবাসীকে একই আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়নি। আনুষ্ঠানিক রিমুভালের বার্ষিক গড় হিসাবেও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সংখ্যা আগের কয়েকটি প্রশাসনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে বছরে গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে এই গড় ছিল প্রায় ৩ লাখ ৯২ হাজার। ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে বার্ষিক গড় ছিল ৩ লাখ ৮০ হাজারের সামান্য কম। ওবামার শাসনামলে ২০১৩ অর্থবছরে ৪ লাখ ৩২ হাজার অভিবাসীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল, যা এখনো এই ধরনের বহিষ্কারের সর্বোচ্চ বার্ষিক রেকর্ড। অন্যদিকে, দুই ধরনের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া একত্রে বিবেচনা করলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন কার্যক্রমের গতি জো বাইডেনের প্রশাসন এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় বেশি। তবু ঐতিহাসিক সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, মোট বহিষ্কারের প্রায় ৬৯ শতাংশ ছিল এমন অভিবাসী, যাঁদের প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে আটক করা হয়েছিল। অর্থাৎ সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোই এখনো সামগ্রিক সংখ্যার বড় অংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসরত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করে বহিষ্কারের হারও বেড়েছে। ২০২৫ সালে অভ্যন্তরীণ গ্রেপ্তার থেকে শুরু হওয়া বহিষ্কারের অংশ ছিল ২৮ শতাংশ; ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা বেড়ে ৩৯ শতাংশে পৌঁছায়। অভিবাসীদের অপরাধসংক্রান্ত তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার বহিষ্কারের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত দুই বছর বসবাসের পর বহিষ্কৃত অভিবাসীদের মধ্যে ৭১ শতাংশের কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড ছিল না। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, বহিষ্কারের আওতায় আসা সবাই অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন না। সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসী বহিষ্কারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও বছরে ১০ লাখ মানুষকে বহিষ্কারের ঘোষিত লক্ষ্যের সঙ্গে বর্তমান গতি মেলেনি। সরকারি বিস্তারিত তথ্য নিয়মিত প্রকাশ না হওয়ায় স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের গুরুত্বও বেড়েছে। অভিবাসন নীতির বাস্তব প্রভাব মূল্যায়নে বহিষ্কারের মোট সংখ্যা, আইনি প্রক্রিয়ার ধরন, সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ গ্রেপ্তারের অনুপাত এবং বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য—সবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ১৫ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত ইকেলন ইনসাইটসের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন গ্রামীণ ভোটারদের ৫০ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে, ৪৯ শতাংশ তাঁর কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ, এই ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার এখন এক পয়েন্ট ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পর নতুন জরিপে এই পরিবর্তন দেখা গেল। তবে এক মাসের ব্যবধানে সমর্থন বাড়লেও গ্রামীণ ভোটারদের মনোভাব স্থায়ীভাবে বদলে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ইকেলন ইনসাইটসের জরিপে দেখা গেছে, জুনে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ছিল ৫১ শতাংশ, আর অসন্তোষ ছিল ৪৮ শতাংশ। জুলাইয়ে চিত্র বদলে যায়—সমর্থন নেমে আসে ৪৭ শতাংশে, আর অসন্তোষ বেড়ে দাঁড়ায় ৫১ শতাংশে। আগস্টে ব্যবধান কিছুটা কমে সমর্থন ও অসন্তোষের হার হয় যথাক্রমে ৪৯ ও ৫০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ওই মাসে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানান মাত্র ৪০ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার, আর ৫৯ শতাংশ তাঁর কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অক্টোবরের নতুন জরিপে সমর্থন ৫০ শতাংশে ওঠায় এক মাসের ব্যবধানে তাঁর নিট অনুমোদনের হার ২০ পয়েন্ট উন্নত হয়েছে। তবে গ্রামীণ ভোটারদের এই উপগোষ্ঠী নিয়ে জরিপে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় ফলাফলে স্বাভাবিক ওঠানামার প্রভাব থাকতে পারে। গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বাড়লেও সামগ্রিক মার্কিন ভোটারদের কাছে ট্রাম্পের অবস্থান এখনো নেতিবাচক। একই জরিপে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩৯ শতাংশ ভোটার, আর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৬০ শতাংশ। কংগ্রেসের নির্বাচনে কোন দলকে ভোট দেবেন—এমন প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন ৫০ শতাংশ, রিপাবলিকানদের পক্ষে ৪৫ শতাংশ। ১৫ থেকে ১৯ অক্টোবরের এই জরিপে সম্ভাব্য ১ হাজার ১০ জন ভোটার অংশ নেন। পুরো জরিপের নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল প্লাস-মাইনাস ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট। এই ফলাফল এমন সময়ে এসেছে, যখন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। আইওয়া, কানসাস ও আলাস্কার মতো রাজ্যে সিনেট নির্বাচন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব রাজ্যে জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, কৃষি উৎপাদনের খরচ এবং পরিবারের আর্থিক চাপ ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর আইওয়ার সিউক্স সিটিতে রিপাবলিকান সমর্থকদের এক সমাবেশে অংশ নেন ট্রাম্প। নভেম্বরের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট টানতে তাঁর এই সফর ছিল দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ। বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁকে যেন ব্যালটের একজন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর ভাষায়, “ভাবুন, আমি যেন ব্যালটে আছি। কারণ আপনারা যদি ভোট দিতে বের হন, আমরা বড় ব্যবধানে জিতব।” আইওয়ার সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাশলি হিনসন ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেকের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কাছাকাছি। ইমারসন কলেজ পোলিংয়ের ৫ ও ৬ অক্টোবরের জরিপে হিনসনের সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ, আর টুরেকের ৪৫ শতাংশ। লিবার্টারিয়ান প্রার্থী থমাস লেন পেয়েছেন ২ শতাংশ সমর্থন; ৭ শতাংশ ভোটার তখনো সিদ্ধান্ত নেননি। জরিপটির নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল প্লাস-মাইনাস ৩ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে, মারিস্টের সেপ্টেম্বরের জরিপে টুরেক ৫০ শতাংশ এবং হিনসন ৪২ শতাংশ সমর্থন পান। দুটি জরিপের ফলের পার্থক্য দেখায়, ভোটারদের মনোভাব ও জরিপের পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র বদলাতে পারে। হিনসন ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং গরুর মাংসের ওপর শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জ্বালানি কেনা কিংবা দোকানে বাজার করার বাড়তি খরচের বোঝা আইওয়ার বাসিন্দাদের বহন করা উচিত নয়, বিশেষ করে যখন কৃষক ও পশুপালকেরা উৎপাদন ব্যয়ের চাপের মুখে রয়েছেন। ট্রাম্পের সমর্থকদের ধরে রাখার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির প্রশ্নে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি। কানসাসেও রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের সঙ্গে কঠিন লড়াই করছেন। কানসাসে ১৯৩২ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। কিন্তু সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দুই প্রার্থীর ব্যবধান খুবই কম। ইমারসন কলেজ পোলিং ও নেক্সস্টারের সেপ্টেম্বরের জরিপে হ্যামিলটন ৪৫ শতাংশ এবং মার্শাল ৪৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। একই জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন ছিল ৪০ শতাংশ, আর অসন্তোষ ছিল ৫৩ শতাংশ। ভোটারদের ৪৮ শতাংশ অর্থনীতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেন। আলাস্কায়ও রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি সহজ নয়। সিনেটর ড্যান সুলিভানের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ৮ থেকে ১৬ অক্টোবর পরিচালিত ডেটা ফর প্রগ্রেসের জরিপে পেলটোলা ৫১ শতাংশ এবং সুলিভান ৪৯ শতাংশ সমর্থন পান। তবে নমুনাগত ত্রুটির সীমা প্লাস-মাইনাস ৪ শতাংশ পয়েন্ট হওয়ায় এই ব্যবধানকে নিশ্চিত অগ্রগতি হিসেবে দেখা যায় না। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প আলাস্কায় ১৩ দশমিক ১ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। নেব্রাস্কাতেও রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ আসন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটসের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান অসবর্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পূর্বাভাসে এখনো রিকেটস এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক জরিপে লড়াই আগের ধারণার চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখা যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল ট্রাম্পের রাজনৈতিক জোটকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী জোট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে করছাড়, ওষুধের খরচ কমানো, সীমান্ত নিরাপত্তা, বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান এবং অবসরকালীন হিসাবের উন্নতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কতটা কাজে আসবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। কোনো ভোটার প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন জানালেও তাঁর দলের স্থানীয় প্রার্থীকে ভোট দেবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে কৃষি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ থাকলে ভোটাররা দলীয় আনুগত্যের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ৩ নভেম্বরের নির্বাচন তাই দেখাবে, গ্রামীণ এলাকায় ট্রাম্পের সমর্থনের সাম্প্রতিক উন্নতি রিপাবলিকানদের জন্য বাস্তব ভোটে কতটা রূপ নেয়।
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সৌদি আরব থেকে মার্কিন কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের হু থি গোষ্ঠীর হা ম লা এবং ইরানের সঙ্গে নতুন করে সা মা রি ক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সে না র উপস্থিতি কমানো হচ্ছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ আপাতত সৌদি আরবের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সৌদি আরবে বেসামরিক স্থাপনায় হু থি দের হা ম লা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক হা ম লায় বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হা ম লার কারণে প্রা ণ হা নি, আহত হওয়ার ঘটনা এবং বিমান চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, সৌদি আরবে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হু থি রা সৌদি আরবে বেসামরিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হা ম লা চালাচ্ছে। এসব ঘটনায় বেসামরিক মানুষের প্রা ণ হা নি এবং যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। পিগট আরও বলেছেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মী ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সে না কেও স্থানান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব পদক্ষেপের সবকটি বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবের বাইরে অন্য দেশগুলোতে কর্মী সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর সঠিক নয়। সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। হু থি দের আরও হা ম লার আশঙ্কায় দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। চলমান উত্তেজনার কারণে বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মার্কিন সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ অনুমতির বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর সা মা রি ক উত্তেজনা। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যু দ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্থাপনায় পা ল্টা হা ম লা চালায়। সে সময় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে মার্কিন কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তাঁদের কয়েকজনকে আবার ওই অঞ্চলে ফিরিয়ে আনা হয়। এখন নতুন করে হা ম লার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। এদিকে আগামী মাসে ইরানে নতুন করে হা ম লা চালানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সে না বাহিনী ইরানে পুনরায় হা ম লার জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর অভিযান শুরু হতে পারে। সম্ভাব্য অভিযানকে স্বল্প সময়ের হলেও তীব্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে। পরিকল্পনায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষে প ণা স্ত্র ও ড্রো নের মজুত লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় ধরনের আরেক দফা হা ম লার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে তেহরানকে কূটনৈতিক সমঝোতায় রাজি করানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তবে হা ম লা চালানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য নেই। ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হু থি দের হা ম লা সৌদি আরবের নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। এরই মধ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সা মা রি ক পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। ট্রাম্প এর আগে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে পূর্ণমাত্রার হা ম লা পুনরায় শুরু না করার কথা বলেছিলেন। তবে নির্বাচনের পর সা মা রি ক অভিযান আবার শুরু করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কূটনীতিক ও সে না সদস্যদের স্থানান্তর একদিকে নিরাপত্তা-উদ্বেগের প্রতিফলন, অন্যদিকে অঞ্চলটিতে নতুন সা মা রি ক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থেকে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন অনেক মার্কিন নাগরিক। তাঁদের কেউ চেয়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বাইরে থাকতে, কেউ আবার ইউরোপের উন্নত জীবনযাত্রা, সামাজিক নিরাপত্তা ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু নতুন দেশে বসবাস করতে গিয়ে তাঁদের কয়েকজনের সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। চাকরি পাওয়া, উচ্চ কর, স্বাস্থ্যসেবার বাস্তবতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জের কারণে কেউ কেউ এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ওয়্যার্ডের এক প্রতিবেদনে ইউরোপে চলে যাওয়া কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের এমন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘তারা ট্রাম্পের আমেরিকা ছেড়েছিলেন, এখন অনুতপ্ত’। এতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউরোপের জীবনযাত্রা নিয়ে যে আকর্ষণীয় ছবি তুলে ধরা হয়, বাস্তবে তার সঙ্গে অনেকের অভিজ্ঞতা মেলেনি। ‘অ্যানি’ ছদ্মনামে পরিচিত এক নারী জানান, যুক্তরাজ্যে জীবনযাপন নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির যে ছবি দেখেছিলেন, বাস্তবতা তার চেয়ে আলাদা। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, জীবনযাত্রার মান এবং দৈনন্দিন ব্যয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পর হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ যুক্তরাজ্যে কম বলে মনে হয়েছে তাঁর। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএসের মাধ্যমে বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যাবে—এমন ধারণা নিয়েই দেশটিতে গিয়েছিলেন অ্যানি। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতায়, কর ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ফি দেওয়ার বিষয়টি হিসাবের বাইরে ছিল। ফলে স্বাস্থ্যসেবাকে পুরোপুরি বিনা খরচের বলা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। অ্যানির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণভাবে ব্যবহৃত কিছু গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি যুক্তরাজ্যে অনেকের কাছে বিলাসী পণ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। ডিশওয়াশার ও কাপড় শুকানোর যন্ত্রের মতো পণ্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি দুই দেশের জীবনযাত্রার পার্থক্য তুলে ধরেন। শুধু আর্থিক বিষয় নয়, যুক্তরাজ্যের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ নিয়েও হতাশার কথা জানিয়েছেন অ্যানি। তাঁর অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে কয়েকজন তাঁর মার্কিন উচ্চারণ ও সংস্কৃতি নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। তাঁর ধারণা ছিল, ব্রিটিশ সমাজে ভদ্রতা ও সৌজন্যের যে চিত্র চলচ্চিত্রে দেখা যায়, বাস্তবেও তা একই রকম হবে। কিন্তু তাঁর অভিজ্ঞতা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। অন্যদিকে, সাংবাদিক ও পরামর্শক সারাহ উড গনজালেজ জানিয়েছেন, ভিন্ন পরিবেশে বসবাস করার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতির কিছু দিক নতুনভাবে উপলব্ধি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, মার্কিন কর্মক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিতে চায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সময় কম লাগে। জার্মানিতে চলে যাওয়া জশ নামের এক মার্কিন নাগরিকের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের। তিনি জানান, সেখানে চাকরি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা তাঁর হতাশা বাড়িয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে দৈনন্দিন জীবনযাপনের সহজতা, মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার যে অভিজ্ঞতা ছিল, তা তিনি মিস করতে শুরু করেন। জশের মতে, স্থানীয় সমাজে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠাও বিদেশিদের জন্য কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি স্থানীয়দের মতো দেখতে না হন বা সেখানকার সংস্কৃতিতে জন্ম থেকে বেড়ে না ওঠেন, তাহলে নিজেকে সমাজের অংশ মনে করা কঠিন হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। শেষ পর্যন্ত জশ যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন। প্রতিবেদনে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরে এখন অনেক বেশি ভালো আছেন। ইউরোপে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় হয়তো তিনি পরিস্থিতি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন। তবে ইউরোপে গিয়ে হতাশ হওয়ার কথা প্রকাশ করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়ছেন কেউ কেউ। ওয়্যার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা জানালে তাঁদের একাংশকে রাজনৈতিকভাবে রক্ষণশীল বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত বলে আখ্যা দেওয়া হয়। কেউ কেউ আবার মনে করেন, নতুন দেশে মানিয়ে নিতে না পারার দায় তাঁদের নিজেদেরই। প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদারপন্থী শহর ও অঙ্গরাজ্যে থাকা বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়ার পর তাঁদের সামাজিক সম্পর্কের অভাবও অনেকের মধ্যে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করেছে। নতুন দেশে জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিচিত মানুষ, সামাজিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসের গুরুত্ব তাঁরা নতুন করে উপলব্ধি করছেন। ভেনেজুয়েলায় জন্ম নেওয়া অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ডি মার্টিনোও ইউরোপে বসবাসের প্রত্যাশা নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, ইউরোপের সব দেশকে একইভাবে বিচার করা যায় না। গ্রিসের গড় আয়ের জীবনযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে, ডেনমার্কের মতো দেশে জীবনযাত্রার মান ভালো হলেও গড় আয় অনেক ক্ষেত্রে মার্কিনদের তুলনায় কম। তিনি বলেন, ইউরোপের কিছু দেশে অপরাধের হার কম এবং খাবারের মান ভালো হওয়ার মতো সুবিধা রয়েছে। তবে আয়, চাকরি পাওয়ার সুযোগ এবং করের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর মতে, অনেক ইউরোপীয় দেশে কর্মী ছাঁটাইয়ের নিয়ম কঠোর হওয়ায় নিয়োগদাতারা নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন ব্যবস্থার ব্যয় মেটাতে করের বোঝাও বেশি হতে পারে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে কাজ করা থিও ওল্ডও ইউরোপের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন উদারপন্থীদের প্রত্যাশার সমালোচনা করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন; এটি ইউরোপে বসবাসকারী সব মার্কিন নাগরিকের অভিজ্ঞতার প্রতিনিধিত্ব করে না। এখানে উল্লেখযোগ্য, ইউরোপে চলে যাওয়া সব মার্কিন নাগরিক যে হতাশ বা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন নয়। প্রতিবেদনে কয়েকজনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও নতুন দেশে চাকরি, আয়, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর ইউরোপে পাড়ি জমানো কিছু মার্কিন নাগরিকের কাছে এখন সেই সিদ্ধান্তের সুবিধা ও অসুবিধা নতুন করে সামনে এসেছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা বলছে, দূর থেকে কোনো দেশকে আকর্ষণীয় মনে হলেও সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে। আর সেই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে কি না, সেটিই শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার চিন্তাকে প্রভাবিত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেটের সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, দলটির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দুজনেরই সম্ভাবনা কমেছে। তবে এই পরিবর্তনকে এখনই রিপাবলিকান ভোটারদের মতামতের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। প্রেডিকশন মার্কেট পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়নসংক্রান্ত বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। সেখানে ৩ সেপ্টেম্বর ভ্যান্সের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ। মঙ্গলবার সেই হার নেমে এসেছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশে। অন্যদিকে, ৩ আগস্ট রুবিওর সম্ভাবনা ছিল ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ১ শতাংশে। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রিত আরেকটি প্রেডিকশন মার্কেট কালশির হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যদিও সেখানে পরিবর্তনের মাত্রা তুলনামূলক কম। ৩ সেপ্টেম্বর ভ্যান্সের সম্ভাবনা ছিল ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ, মঙ্গলবার তা কমে হয়েছে ৪৩ শতাংশ। রুবিওর ক্ষেত্রে ৩ আগস্টের ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে সম্ভাবনা নেমে এসেছে ১৮ শতাংশে। এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ হাজার ডলার। ভ্যান্সের সম্ভাবনা কমার পেছনে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। সপ্তাহান্তে এক বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সম্ভাবনাও রয়েছে। নিজের চারটি ছোট সন্তান এবং তাঁর স্ত্রীর রাজনীতির প্রতি অনাগ্রহের বিষয়টি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে অর্থনীতির অধ্যাপক ও প্রেডিকশন মার্কেট গবেষক কোলম্যান স্ট্রাম্পফ মনে করেন, ভ্যান্সের বক্তব্যকে বাজারের পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, গত এক সপ্তাহে ভ্যান্সের সম্ভাবনা প্রায় চার শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। এর কেবল একটি অংশ তাঁর বক্তব্যের পর ঘটেছে। বাজারের এই পরিবর্তনকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাধারণত ভ্যান্সের সম্ভাবনা কমলে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী রুবিওর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার কথা। কিন্তু এবার দুজনের সম্ভাবনাই কমছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের মতো সম্ভাব্য বিকল্পদের সম্ভাবনাও এখনো এক অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বাজারে ভ্যান্স বা রুবিওর পরিবর্তে কোনো একজন নতুন প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে আসছেন—এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। স্ট্রাম্পফের মতে, দুই শীর্ষ প্রার্থীর সম্ভাবনা কমলেও অন্য কোনো প্রার্থী উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে না আসার অর্থ হতে পারে, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এখনো ভ্যান্সের বক্তব্যকে বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং একাধিক অপেক্ষাকৃত কম সম্ভাবনাময় প্রার্থীর দিকে বাজারের হিসাব কিছুটা ছড়িয়ে পড়তে পারে। নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কস্টাস প্যানাগোপোলস মনে করেন, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, রিপাবলিকানরা যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত নেতাদের জন্য সেই সম্পর্ক রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও—দুজনই ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ায় এর প্রভাব তাঁদের ওপরও পড়তে পারে। প্যানাগোপোলসের মতে, কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ভবিষ্যতের সমস্যার জন্য বিরোধীদের দায়ী করার সুযোগও পেতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং তার পরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাই ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ক্যাম্পাসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক থ্যাড কাউসারও মনে করেন, ভ্যান্স ও রুবিওর শক্তির একটি বড় উৎস হলো ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। গত এক দশকে রিপাবলিকান প্রাথমিক নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সেই সমীকরণ বদলে যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া বা নেব্রাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দলটির জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। এমনকি যেসব এলাকায় রিপাবলিকানদের সহজে জেতার কথা, সেখানে অল্প ব্যবধানে জয়ও দলের সমর্থনে দুর্বলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। নির্বাচনের ফলাফলের পর রিপাবলিকানদের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, তারা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখবে, নাকি ভিন্ন পরিচয়ের দিকে এগোবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল শাটজের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলাফল হলে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সুবিধার বদলে অসুবিধা হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড় আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রেডিকশন মার্কেটের হিসাবকে সরাসরি জনমত জরিপ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। টেক্সাস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কিথ গ্যাডি সতর্ক করেছেন, বাজারের মূল্যকে ভোটারদের মতামতের বিকল্প হিসেবে দেখা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এসব বাজারে অংশগ্রহণকারীরা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও লেনদেন করেন; প্রার্থী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা বা জয়ের সম্ভাবনা নিয়েই কেবল তাঁদের হিসাব তৈরি হয় না। অন্যদিকে, স্ট্রাম্পফের মতে, বেশি লেনদেন হওয়া প্রেডিকশন মার্কেট দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রতিফলন দিতে পারে। তবে কোনো পূর্বাভাসই শতভাগ নির্ভুল নয়। সব মিলিয়ে, ভ্যান্স ও রুবিওর সম্ভাবনা কমে যাওয়া রিপাবলিকান ভোটাররা তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন—এমন প্রমাণ নয়। বরং এটি ২০২৮ সালের মনোনয়ন নিয়ে বাজারের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন, অর্থায়ন, গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সমর্থন এবং ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলই রিপাবলিকানদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
রাশিয়ায় চার বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দিয়েছে মস্কো। বুধবার (২১ অক্টোবর) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ তথ্য জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পর হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। মুক্তির পর হাবার্ডকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দরে রাখা হয়। সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার চলমান যু দ্ধ বন্ধে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সকালে সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছান উইটকফ। তাঁর এই সফরে হাবার্ডের মুক্তির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগের দিনই হাবার্ডের মুক্তির বিষয়ে পুতিনের সঙ্গে কথা বলার কথা প্রকাশ্যে জানান। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হাবার্ডের বিষয়টি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেছেন এবং তাঁকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তখনই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। পরদিনই রাশিয়ার পক্ষ থেকে মুক্তির ঘোষণা আসে। মিশিগানের বাসিন্দা হাবার্ড পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইজিয়ামে বসবাস করতেন তিনি। ২০২২ সালের এপ্রিলে শহরটিতে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর তাঁকে আ ট ক করা হয়। রুশ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, তিনি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষে ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। ইউক্রেনের একটি সামরিক চৌকিতে দায়িত্ব পালনের অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে রাশিয়ার একটি আদালত রুদ্ধদ্বার বিচার শেষে হাবার্ডকে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আ ক্র ম ণ শুরুর পর তিনি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। পরে রুশ বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। তবে হাবার্ডের মার্কিন আইনজীবী মার্টিন ডি লুকা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হাবার্ড জানিয়েছিলেন যে তিনি কোনো যু দ্ধ বা সামরিক ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। রুশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাবার্ড অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। তবে তাঁর পরিবার এ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। পরিবারের সদস্যরা তাঁর দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী মনোভাবের কথা উল্লেখ করে অভিযোগের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তৎকালীন বাইডেন প্রশাসন হাবার্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে অন্যায়ভাবে আটক ব্যক্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে। এর ফলে তাঁকে মুক্ত করতে মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। মুক্তির আগ পর্যন্ত রাশিয়ায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে তিনিই ছিলেন ওয়াশিংটনের এই শ্রেণিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত একমাত্র ব্যক্তি। হাবার্ডের মুক্তির ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যু দ্ধ বন্ধে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপও বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় হাবার্ডের মুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের বাড়তি ডিজেল খরচের চাপ কমাতে ৮ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের আর্থিক চাপ সামাল দিতে ‘হারভেস্ট ফুয়েল রিলিফ প্রোগ্রাম’ নামে এ কর্মসূচি চালু করছে দেশটির কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। সোমবার রাতে কানসাসে এক নির্বাচনী সমাবেশে এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কর্মসূচির আওতায় কৃষকেরা এককালীন অর্থসহায়তা পাবেন। তবে প্রত্যেকে কত টাকা পাবেন, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত হিসাবপদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট ফসলের ওপর। ট্রাম্পের ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকেরা ডিজেলসহ উৎপাদন উপকরণের বাড়তি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন। কৃষিকাজে ট্রাক্টর, হারভেস্টার, সেচব্যবস্থা ও অন্যান্য যন্ত্র চালাতে জ্বালানির প্রয়োজন হয়। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহের খরচও বাড়ে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ফসল উৎপাদন মৌসুমে কৃষকদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির একটি অংশ পুষিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। কানসাসের পার্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি বিভাগ নতুন এই কর্মসূচি চালু করবে। এ সময় তিনি রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের ভূমিকাও তুলে ধরেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্শাল এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। মার্শাল একজন চিকিৎসক এবং বর্তমানে কানসাসের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজ্যটিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের মুখোমুখি হচ্ছেন। নির্বাচনী পূর্বাভাসে সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ আসন। সাবাতোর ক্রিস্টাল বল এবং দ্য কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট—দুটি প্রতিষ্ঠানই আসনটিকে এমন অবস্থানে রেখেছে, যেখানে দুই দলের যেকোনো প্রার্থী জয়ী হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে এসব নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসে আসন হারানোর প্রবণতা দেখিয়েছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব বেশি নয়। ফলে কৃষকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থন ধরে রাখা দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন এবং অর্থনীতি, অভিবাসন ও কর্মসংস্থানের মতো বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর প্রতি জনসমর্থন কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো নিয়ে পরিবারগুলোর উদ্বেগও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের জন্য নতুন আর্থিক সহায়তার ঘোষণা এসেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত পেট্রলের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪.২৯৫৩ ডলার এবং ডিজেলের দাম ৬.৩১৮৭ ডলার। কানসাসে নিয়মিত পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৩.৯৭৮৩ ডলার এবং ডিজেলের দাম ৬.০৭২২ ডলার। বিশেষ করে ডিজেলের উচ্চমূল্য কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অস্থায়ী বাজারবিঘ্ন এবং উৎপাদন উপকরণের বাড়তি খরচের কারণে কৃষকদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার একটি অংশ পুষিয়ে দিতে ৮ বিলিয়ন ডলার এককালীন অর্থসহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণে একটি অভিন্ন হিসাবপদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, যাতে যোগ্য কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সহায়তা পান। এই হিসাবের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ফসল উৎপাদন মৌসুমের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করা হবে। কৃষি বিভাগের বিশ্ব কৃষিপণ্য সরবরাহ ও চাহিদা-সংক্রান্ত পূর্বাভাস থেকে ফসলের দাম ও ফলনের তথ্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক গবেষণা বিভাগ থেকে উৎপাদন ব্যয়ের হিসাব এবং কৃষি বিভাগের ফার্ম সার্ভিস এজেন্সিতে (এফএসএ) জমা দেওয়া আবাদি জমির তথ্য ব্যবহার করা হবে। কর্মসূচির অর্থ কমোডিটি ক্রেডিট করপোরেশন চার্টার আইনের আওতায় বরাদ্দ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের অধীন ফার্ম সার্ভিস এজেন্সি অর্থ বিতরণের দায়িত্ব পালন করবে। কোন ফসলের জন্য কত হারে অর্থ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আগামী মাসে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ কর্মসূচির জন্য ফসলবিমা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে পণ্যের দাম ওঠানামা ও বাজারের ঝুঁকি সামলাতে কৃষকদের নতুন কর আইনে অন্তর্ভুক্ত উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুবিধা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। যেসব কৃষিপণ্য সাধারণত টাইটেল-ওয়ান পণ্যের তালিকায় পড়ে না, সেগুলোর জন্য সহায়তার হিসাবপদ্ধতি পরে ঘোষণা করা হবে। এ ধরনের পণ্যের মধ্যে বিশেষায়িত ফসল উৎপাদনকারীদের পাশাপাশি মৎস্যজীবীরাও রয়েছেন। জ্বালানির বাড়তি খরচের প্রভাব বিবেচনার জন্য তাঁদের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে HarvestFuel@usda.gov ঠিকানায়। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সহায়তার হার নির্ধারণ করা হতে পারে। আবেদনের সময়সীমা ঘোষণার আগেই কৃষকদের Login.gov-এ অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে আগে থেকে পূরণ করা আবেদনপত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। কৃষিমন্ত্রী ব্রুক এল. রোলিন্স বলেছেন, ফসল কাটার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কৃষকদের আরও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিতে এ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ৮ বিলিয়ন ডলারের এ বিনিয়োগ কৃষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমাতে এবং দেশের খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। তবে জ্বালানির দাম নিয়ে কৃষকদের অসন্তোষ নতুন নয়। ন্যাশনাল ব্ল্যাক ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জন বয়েড এর আগে বলেছিলেন, ডিজেলের উচ্চমূল্য এবং অন্যান্য আর্থিক চাপের কারণে কৃষকদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। নির্বাচনের আগে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ঘটনাও এবার নতুন নয়। গত মাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন-সংক্রান্ত সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর দল নির্বাচনে জয়ী হলে লাখ লাখ আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড চেক দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়াম পরিশোধে সহায়তার জন্য প্রায় ১০০ ডলারের চেক দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। নতুন কৃষি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে ডিজেলের বাড়তি খরচের কতটা চাপ কমানো সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে ফসলভিত্তিক অর্থসহায়তার হার এবং কৃষকেরা বাস্তবে কতটা অর্থ পাবেন তার ওপর। আপাতত কৃষকদের সম্ভাব্য ক্ষতির একটি অংশ পুষিয়ে দেওয়াই সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমার নতুন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের নিট অনুমোদন আট পয়েন্ট কমে ঋণাত্মক ১৯-এ নেমেছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে একই ধরনের পাঁচটি জরিপের ফলাফলের মধ্যে এটিই তাঁর সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান। ১০ থেকে ১২ অক্টোবর পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, পুরুষ ভোটারদের ৪০ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে, ৫৯ শতাংশ ভোটার তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির হারের ব্যবধান হিসাব করে নিট অনুমোদন নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাবে ট্রাম্পের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৯ পয়েন্টে। এর আগের ২ থেকে ৫ অক্টোবরের জরিপে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সন্তুষ্টির হার ছিল ৪৪ শতাংশ এবং অসন্তুষ্টির হার ছিল ৫৫ শতাংশ। সে সময় তাঁর নিট অনুমোদন ছিল ঋণাত্মক ১১ পয়েন্ট। অর্থাৎ, অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে এই ব্যবধান আরও আট পয়েন্ট বেড়েছে। সর্বশেষ জরিপে ১ হাজার ৪০৩ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। এতে সামগ্রিক নমুনার সমন্বিত ত্রুটির সীমা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। আগের জরিপে অংশ নিয়েছিলেন ১ হাজার ৩৮১ জন নিবন্ধিত ভোটার। ওই জরিপে ত্রুটির সীমা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট। তবে পরপর কয়েকটি জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গত ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে পুরুষদের মধ্যে তাঁর প্রতি সন্তুষ্টির হার ছিল ৪৪ শতাংশ এবং অসন্তুষ্টির হার ৫৫ শতাংশ। ১৮ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের জরিপে এই হার ছিল যথাক্রমে ৪৩ ও ৫৬ শতাংশ। আর ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে সন্তুষ্টির হার কমে ৪২ শতাংশে দাঁড়ায়, বিপরীতে অসন্তুষ্টির হার ছিল ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের জরিপগুলোতে ট্রাম্পের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরে ওঠানামা করেছে। সর্বশেষ জরিপে বড় পরিবর্তন দেখা গেলেও সেটি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও তথ্য প্রয়োজন। পুরুষ ভোটারদের তথ্য জাতীয় জরিপের একটি অংশ থেকে নেওয়া হয় বলে এই উপগোষ্ঠীর ফলাফলে অনিশ্চয়তাও তুলনামূলক বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ট্রাম্পের নির্বাচনী জোটে পুরুষ ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণ এবং চার বছর মেয়াদি কলেজ ডিগ্রিবিহীন ভোটারদের, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের সমর্থন দুর্বল হলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে। রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জেমস ড্রাকম্যানের মতে, সর্বশেষ পরিবর্তনটি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে অন্যান্য জরিপেও যদি একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিয়ারবর্ন ক্যাম্পাসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক মাইকেল মন্টগোমেরিও মনে করেন, পাঁচটি জরিপের ধারাবাহিকতা পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার কারণ তৈরি করেছে। তবে হোয়াইট হাউস এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের দুর্বলতা হিসেবে দেখছে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল বলেছেন, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের মাধ্যমে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের প্রধান নেতা এবং সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতেও তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরুষ ভোটারদের সমর্থন কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নারী ও পুরুষ ভোটারের পছন্দের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন। ট্রাম্প অতীতে এই ব্যবধান থেকে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছেন। ফলে তাঁর প্রতি সমর্থন কমে গেলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কারেন বেকউইথের মতে, রিপাবলিকান প্রার্থীরা যদি নিজেদের দলের পুরুষ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বা ভোটকেন্দ্রে আনতে ব্যর্থ হন, তাহলে নির্বাচনে ভালো ফল করা কঠিন হবে। তাঁর মতে, স্থানীয় অর্থনীতিতে কী ধরনের উন্নয়ন হয়েছে, তা তুলে ধরে প্রার্থীরা ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করতে পারেন। তবে অঙ্গরাজ্যজুড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান থেকে নিজেদের আলাদা করে উপস্থাপন করা আরও কঠিন হতে পারে। অর্থনৈতিক চাপকে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষের সম্ভাব্য বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় এবং করের চাপ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গাড়িতে জ্বালানি ভরার সময় বাড়তি খরচ অনেক ভোটারের কাছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে বলে মনে করেন মন্টগোমেরি। ড্রাকম্যানের মতে, তরুণ, গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা এবং কলেজ ডিগ্রিবিহীন পুরুষ ভোটারদের মনোভাব বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তাঁদের কাছে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো যদি সাংস্কৃতিক পরিচয় ও মূল্যবোধের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, আর অর্থনীতি তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না করে, তাহলে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। পররাষ্ট্রনীতিও এই সমর্থনে প্রভাব ফেলতে পারে। ড্রাকম্যানের মতে, এই ভোটারগোষ্ঠীর একটি অংশ বিদেশে যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করে। মন্টগোমেরি সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তরুণ পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন দ্রুত কমতে পারে। তবে জনমত জরিপে প্রেসিডেন্টের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা মানেই ভোটাররা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দেবেন, এমন নয়। সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কার্স্টেন ইংল্যান্ডের মতে, অসন্তুষ্ট ভোটাররা তিন ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—দল পরিবর্তন করতে পারেন, অন্য দলের প্রার্থীকে সমর্থন না করে রিপাবলিকান প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারেন, অথবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন। এই পার্থক্য রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট কিছু ভোটার কংগ্রেসের নির্বাচনে দল পরিবর্তন না করলেও ভোট দিতে অনাগ্রহী হতে পারেন। আবার যেসব প্রার্থী ট্রাম্পের অবস্থান থেকে নিজেদের দূরে রাখবেন, তাঁরা নিরপেক্ষ ও অসন্তুষ্ট ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারেন, কিন্তু একই সঙ্গে ট্রাম্পের একনিষ্ঠ সমর্থকদের উৎসাহ হারানোর ঝুঁকিও থাকবে। সুতরাং, সর্বশেষ জরিপ রিপাবলিকানদের সমর্থনভিত্তিতে সম্ভাব্য দুর্বলতার একটি সতর্কসংকেত দিলেও এটি এখনই বড় ধরনের দলবদলের প্রমাণ নয়। শেষ পর্যন্ত এই অসন্তোষ ভোটের বাক্সে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রচারের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনের পর প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়ার বিদায় শুধু একজন কর্মকর্তার চাকরি হারানোর ঘটনা নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে একটি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, ইরানকে ঘিরে সামরিক নীতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসে দ্রুত কর্মকর্তা পরিবর্তনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। ২০১৭ সালে অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১১ দিন যোগাযোগ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় তাঁর স্বল্পস্থায়ী দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। জাকারিয়ার পাঁচ দিনের মেয়াদ সেই ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে আলাদা বলে মনে করছে সম্পাদকীয়টি। ট্রাম্প এখন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে রয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী আরেকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তাঁর নেই। ফলে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ও উত্তরাধিকার নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে হিসাব-নিকাশ বাড়তে পারে। আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে—এমন আশঙ্কাও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন দলের অনেক পর্যবেক্ষক ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজনীতিক। কেটি জাকারিয়ার নিয়োগ ও দ্রুত বিদায়কে ঘিরে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্পাদকীয় বিশ্লেষণটির মতে, দীর্ঘদিনের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করেই জাকারিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দেয়। ওয়াইলস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের কার্যক্রমে বেশি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছেন বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জাকারিয়ার নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন বিবরণ এসেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁর প্রতি সংবাদমাধ্যমের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং তাঁকে দায়িত্বটি পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে জাকারিয়া পদটি ছাড়েন। এই ঘটনাকে ঘিরে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগব্যবস্থা, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের নীতিও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে বলে সম্পাদকীয়টির মূল্যায়ন। ইরানের সঙ্গে যু দ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে এতে দাবি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে সমঝোতার উদ্যোগও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে এমন সমঝোতা বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম কমাতে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের জন্য লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রণীত আইনে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু ১৬ অক্টোবর জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ওই আইনের কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, সমালোচকেরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। সম্পাদকীয়টির বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা মার্কিন ট্রাকচালক ও সাধারণ গাড়িচালকদের প্রত্যাশিত স্বস্তি নাও দিতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মনোভাব নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে ভোটারদের মূল্যায়নের ওপর। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের একটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রচলিত নিয়ম ও রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ করা। তাঁর সমর্থকেরা অনেক সময় এটিকে দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় হিসেবে দেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সেই কৌশল কার্যকর থাকছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক এবং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। এসব ঘটনা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে বিতর্ককে আরও বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, জাকারিয়ার মাত্র পাঁচ দিনের দায়িত্বকালকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে টানাপোড়েন এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একাধিক চ্যালেঞ্জ সামনে এনেছে। তবে এসব ঘটনাই ট্রাম্পের রাজনৈতিক যুগের অবসান শুরু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বরং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের হিসাব এবং প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোই নির্ধারণ করবে হোয়াইট হাউসের বর্তমান অস্থিরতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের পরিভাষা অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিযোগিতার নাম বদলে দিয়েছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। আগে ‘প্রেসিডেনশিয়াল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চ্যালেঞ্জ’ নামে পরিচিত প্রতিযোগিতাটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘প্রেসিডেনশিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্স চ্যালেঞ্জ’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে পরিচিত করার জন্য ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই এ পরিবর্তন এলো। ১৩ অক্টোবর প্রতিযোগিতাটির নতুন নাম ঘোষণা করেন মেলানিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ধারণা তৈরি ও বাস্তবায়ন করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। মেলানিয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, আগের বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতাটি শিশুদের বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমেরিকার পরবর্তী যুগান্তকারী ধারণাটি ইতিমধ্যে কোনো না কোনো শ্রেণিকক্ষে রয়েছে।’ শিক্ষার্থীদের সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সুযোগ তৈরি করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রতিযোগিতার নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প সরকারি যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কারণে মেলানিয়ার সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের পছন্দের পরিভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন বদলাচ্ছে এআইয়ের নাম ট্রাম্পের প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রচলিত নাম পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এতে আইন যতটা অনুমতি দেয়, ততটা সীমার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্বাহী বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে সরকারি চিঠিপত্র, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন, নীতিপত্র এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এসআই’ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ট্রাম্পের যুক্তি, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি প্রযুক্তিটিকে কৃত্রিম বা অবাস্তব বলে মনে করাতে পারে। তাঁর মতে, বর্তমান প্রযুক্তির সক্ষমতা বোঝাতে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি বেশি উপযুক্ত। তবে নির্বাহী আদেশটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একই পরিভাষা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেনি। ফলে প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রচলিত নাম পরিবর্তন করতেই হবে, এমন কোনো নির্দেশ নেই। ট্রাম্প এর আগে প্রচলিত ‘এআই’ শব্দ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে, নতুন পরিভাষার পরিবর্তে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহারকারীরা তাঁর বিরোধীদের তালিকায় পড়তে পারেন—এমন হুঁশিয়ারিও ছিল। এই মন্তব্যের পর প্রযুক্তি খাতে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। তবে প্রযুক্তি শিল্পের সবাই ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নাম গ্রহণ করেননি। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাংশের মতে, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি প্রযুক্তির একটি আরও উন্নত বা বিশেষ পর্যায়ের ধারণা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। তাই বর্তমানে প্রচলিত সব ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য এ নাম ব্যবহার করা নিয়ে আপত্তি রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পরিচিত প্রযুক্তির নাম বদলানোর চেষ্টা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাবে নতুন স্বীকৃতির সুযোগ ২০২৭ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন একটি স্বীকৃতির ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে। নির্ধারিত কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দিয়ে স্কুলগুলো ‘ফার্স্ট লেডি সিল অব এসআই রেডিনেস’ অর্জনের সুযোগ পাবে। এই স্বীকৃতির লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার, তা দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্কুল, স্থানীয় সমাজ ও বৃহত্তর পরিসরের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্প তৈরি করতে পারবে। এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সেই অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি শিক্ষায় মেলানিয়ার গুরুত্ব শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার মেলানিয়া ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর একটি। এর পাশাপাশি পালক পরিবারের শিশুদের সহায়তা এবং অনলাইনে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দিয়ে হয়রানি করার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। গত মাসে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন মেলানিয়া। সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন, তা দেখেন তিনি। এ সময় শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। মেলানিয়া বলেন, শিশুদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তবে প্রযুক্তি ভবিষ্যতের অংশ, তাই তাদের কী কী সুযোগ রয়েছে, তা শেখানো এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে তারা পিছিয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রকে এ প্রযুক্তিতে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন ফার্স্ট লেডি। এদিকে, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কও ট্রাম্পের নতুন পরিভাষার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি তাঁর কোম্পানি স্পেসএক্সএআইয়ের নাম পরিবর্তন করে স্পেসএক্সএসআই করার কথা বলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘আর এআই নয়, এসআই। এটি আরও ভালো।’ তাঁর এক অনুসারী নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সম্মতিসূচক জবাব দেন। সব মিলিয়ে, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার নাম পরিবর্তন শুধু একটি কর্মসূচির নতুন পরিচয় নয়; যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নাম ও পরিচিতি বদলানোর বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গেও এটি যুক্ত। তবে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের মধ্যে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্কুলগুলো নতুন কর্মসূচির সরকারি ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য এবং নিবন্ধনের নির্দেশনা দেখতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের মানুষের কল্যাণের চেয়ে নিজের সম্পদ ও ব্যক্তিগত ব্যবসার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করেন অধিকাংশ মার্কিনি। শুধু তাই নয়, প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি নিজের আর্থিক সুবিধা অর্জনে অনৈতিক কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলেও ধারণা অনেকের। নতুন এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এমন চিত্র। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ১০ জনের মধ্যে ছয়জন মনে করেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন এমন উপায়ে, যা বেআইনি অথবা নৈতিকতার পরিপন্থী। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের যৌথ জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মতামত নেওয়া হয়। নরকের আমেরিস্পিক প্যানেল থেকে অংশগ্রহণকারীদের নমুনা নির্বাচন করা হয়েছিল। জরিপে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং দেশের স্বার্থে তাঁর মনোযোগ নিয়ে মানুষের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। জরিপের ফল অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রেসিডেন্টের পদে থেকে ট্রাম্প বেআইনি কিছু করছেন। আরও ২০ শতাংশের ধারণা, তাঁর কর্মকাণ্ড অনৈতিক হলেও তা বেআইনি নয়। অন্যদিকে, ২০ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প কোনো অন্যায় করছেন না। বাকি অংশের উত্তরদাতারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাঁদের জানা নেই। দেশের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত ব্যবসায় বেশি গুরুত্ব জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প কোন বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন। উত্তরে ৫০ শতাংশের কিছু বেশি বলেছেন, ট্রাম্প নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশের স্বার্থকে একই মাত্রায় গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করেন মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা। নিজেদের মতো সাধারণ মানুষের স্বার্থে ট্রাম্পের যথেষ্ট মনোযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মাত্র ১০ শতাংশ উত্তরদাতা। অর্থাৎ, জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের বড় একটি অংশের ধারণা, প্রেসিডেন্টের অগ্রাধিকারের তালিকায় সাধারণ মানুষের কল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়েও একই ধরনের মনোভাব দেখা গেছে। জরিপে ৫৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসাকে ‘অনেক বেশি’ গুরুত্ব দিয়েছেন। একইভাবে, ৫৪ শতাংশ মনে করেন, তিনি নিজের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ব্যবসায়িক স্বার্থকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে প্রায় ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ট্রাম্প নিজের ব্যবসায়িক স্বার্থকে খুব সামান্য গুরুত্ব দিয়েছেন অথবা একেবারেই দেননি। এই মতের সমর্থকদের মধ্যে রিপাবলিকানদের সংখ্যাও অর্ধেকের কম। ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। জরিপে প্রায় ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট মনে করেন, ট্রাম্প আইন ভেঙেছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এই ধারণা পোষণ করেন প্রায় ৩০ শতাংশ। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার প্রায় ১০ শতাংশ। ট্রাম্পের আচরণকে অনৈতিক কিন্তু বেআইনি নয় বলে মনে করেন প্রায় ২০ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার ও রিপাবলিকান। ফলে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট। ডেমোক্র্যাটদের বড় অংশ যেখানে আইন ভাঙার অভিযোগ করছেন, সেখানে রিপাবলিকানদের মধ্যে এমন অভিযোগে বিশ্বাস করার প্রবণতা অনেক কম। তবে জরিপে উঠে আসা এসব মতামতকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেআইনি কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। এগুলো মূলত প্রেসিডেন্টের আচরণ, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মার্কিনিদের ধারণা তুলে ধরে। ক্রিপ্টো ব্যবসা ও বিদেশি চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ নিয়ে বিতর্কের পেছনে তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। গত জুনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণীতে তাঁর বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা থেকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে তাঁর ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে প্রায় ১২০ কোটি ডলার আয়ের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যবসাগুলোর প্রসার ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে আর্থিক বিবরণীতে দেখানো আয়কে সরাসরি নিট মুনাফা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এ ছাড়া, ট্রাম্পের অন্যতম বড় ক্রিপ্টো উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আসে। ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর এই বিনিয়োগ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্রিপ্টো ব্যবসা চীনের এক ধনকুবের প্রতিষ্ঠিত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগঠনের সহায়তাও পেয়েছে। ওই ধনকুবের যুক্তরাষ্ট্রে আইনি জটিলতায় রয়েছেন। রিয়েল এস্টেট ব্যবসাতেও ট্রাম্প পরিবারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম বছরে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন বিদেশে আটটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে। এসব ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক লেনদেন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাত তৈরি করছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সব মিলিয়ে, জরিপের ফল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পদ, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। দেশের স্বার্থের তুলনায় নিজের ব্যবসাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ এবং তাঁর আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন—দুই বিষয়ই ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জনমতের আলোচনায় রয়েছে।
মার্কিন নাগরিকদের প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আবারও সামনে এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন রাজনৈতিক শর্ত। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোনোর কথা বলেছেন তিনি। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আইন পাস হয়নি, এমনকি অর্থ বিতরণের সময়সূচি বা চূড়ান্ত যোগ্যতার শর্তও নির্ধারণ করা হয়নি। ১২ অক্টোবর ট্রাম্প আবারও এ প্রস্তাবের কথা বলেন। তাঁর দাবি, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে কর বাড়াবে এবং দেশ অর্থনৈতিক মন্দার দিকে এগিয়ে যাবে। তবে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক দাবি; এর পক্ষে কোনো অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়নি। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকেরা ৫ হাজার ডলার করে পেতে পারেন। তবে কারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নিয়ম প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প প্রথমবারের মতো এ পরিকল্পনার কথা বলেন গত ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক এক সম্মেলনে। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। এবারও অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সামনে এনে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় ধরে রাখার বিষয়টির সঙ্গে একে যুক্ত করেছেন। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের ব্যয় কত হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। সিএনবিসির এক হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের অর্থ বিতরণে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুলের বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্সের হিসাবে, সব প্রাপ্তবয়স্ককে অর্থ দিতে গেলে ব্যয় ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এত বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেই। প্রস্তাবটি নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি ও ডেভিড শোয়াইকাট এ ধরনের অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে সিনেটর বার্নি মোরেনো প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া ও জেমি রাসকিনও এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ একসঙ্গে মানুষের হাতে পৌঁছালে ভোগব্যয় বাড়তে পারে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা দ্রুত বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতির চাপও তৈরি হতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে অর্থের উৎস, বিতরণের পদ্ধতি এবং অর্থনীতির তৎকালীন পরিস্থিতির ওপর। এ ছাড়া অর্থ বিতরণের প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকেরা এ ধরনের প্রতিশ্রুতির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে প্রস্তাবটি বেআইনি বলে কোনো আদালতের রায় হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এখনো ঘোষণার পর্যায়েই রয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন, অর্থের জোগান, যোগ্যতার নিয়ম কিংবা অর্থ বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। ফলে মার্কিন নাগরিকেরা আদৌ এই অর্থ পাবেন কি না, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার সঙ্গে যু দ্ধ বন্ধে জেলেনস্কি একাধিক সুযোগ কাজে লাগাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হা মলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর দুই নেতার মধ্যে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে। শনিবার, ১০ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে। তাঁর মতে, এমন একজন নেতার প্রয়োজন, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করে যু দ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, জেলেনস্কি বহুবার চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েও তা গ্রহণ করেননি। ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কি চাইলে বহুবার যু দ্ধের সমাধান করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর দাবি, এ যু দ্ধ শুরু হওয়ারই কথা ছিল না। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে যু দ্ধ শুরুর সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকলে সংঘাতটি ঘটত না। জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়ে ট্রাম্পের এ বক্তব্য ইউক্রেনের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য সমালোচনার অন্যতম কঠোর উদাহরণ। তবে ইউক্রেনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা পরিকল্পনার কথা তিনি জানাননি। দেশটির নেতৃত্ব নির্ধারণের বিষয়টি ইউক্রেনের নিজস্ব সাংবিধানিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিজেল চুক্তি ঘিরে নতুন বিরোধ শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল সরবরাহ করবে। তাঁর ঘোষণায় বলা হয়, প্রথম ধাপে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করা হবে। নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং এরপর আরও ১০ লাখ টন সরবরাহের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়ে আরও বড় পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের দাবি, বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির দাম কমানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তাঁর মতে, রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতার ওপর হা মলা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, খামারির পাশাপাশি অন্যান্য দেশের ভোক্তারাও সমস্যায় পড়তে পারেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনায় ইউক্রেন হা মলা চালাতে পারলেও তেল পরিশোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে তিনি জেলেনস্কিকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হা মলা চালিয়েছে। চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় হা মলা চালায় বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু ও চুক্তির শর্তের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে সব তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়। ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির শর্ত মেনে হা মলা বন্ধে সম্মত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই। ইউক্রেনের আপত্তি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার সমালোচনা করেছে ইউক্রেন। দেশটির অবস্থান, রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ বাড়লে দেশটি আরও বেশি অর্থ পাবে, যা চলমান যু দ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে। ইউক্রেনের মতে, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো হলে মস্কোর সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউক্রেনের যুক্তি, রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হা মলা দেশটির যু দ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করার একটি উপায়। অন্যদিকে, ট্রাম্প মনে করছেন এসব হা মলা ডিজেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহে সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়াতে পারে। দুই পক্ষের এই ভিন্ন অবস্থানই নতুন বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। জ্বালানি অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ মার্গারিটা বালমাসেদার মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় রাশিয়াকে বেশি সুবিধা দিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, রাশিয়া কম দামে জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে রুশ তেল পরিশোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হা মলা অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার পক্ষে প্রতিশ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হতে পারে। ট্রাম্প-জেলেনস্কি সম্পর্কে আগের টানাপোড়েন ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্কে এর আগেও প্রকাশ্য বিরোধ দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বৈঠকের সময় ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে জেলেনস্কির তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের আচরণের সমালোচনা করেন এবং সতর্ক করে বলেন, তিনি তৃতীয় বিশ্বযু দ্ধের ঝুঁকি নিয়ে খেলছেন। বৈঠকে পরিকল্পিত খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করা হয়। পরে দুই নেতার সম্পর্কে কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দেখা গেলেও রাশিয়ার সঙ্গে যু দ্ধ বন্ধের শর্ত এবং ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা তুলে ধরেছিলেন। একই বছরের ডিসেম্বরে মার-আ-লাগোতে বৈঠকের পর দুই পক্ষই যু দ্ধের সমাধানের দিকে অগ্রগতির কথা বলেছিল। পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়। ২০১৮ সালে হেলসিঙ্কিতে দুই নেতার বৈঠক এবং ২০২৫ সালে তাঁদের একাধিক যোগাযোগের পরও রাশিয়া-ইউক্রেন যু দ্ধ বন্ধে স্থায়ী সমাধান আসেনি। ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকও যুদ্ধবিরতি ছাড়াই শেষ হয়। ট্রাম্প এবারও যু দ্ধ অব্যাহত থাকার দায় জেলেনস্কির ওপর চাপিয়েছেন। তবে যু দ্ধ বন্ধের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে কী ধরনের চুক্তি সম্ভব, কিংবা নতুন নেতৃত্ব এ ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আনতে পারে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেননি। রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেন নীতিতে কী পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভবিষ্যতে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হা মলা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে চুক্তির আওতায় রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহ কতটা কার্যকর হবে এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে।
মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে নিয়ে নতুন করে তীব্র আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আক্রমণের ভাষার পাশাপাশি এবার ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে প্রার্থীর নাম নিয়েও তৈরি হয়েছে আলোচনা। আবদুল এল-সাইয়েদের বদলে তাকে ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এরপর তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি। বুধবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ ডেমোক্র্যাটদের জন্য একজন ‘ভয়ংকর প্রার্থী’। একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, এল-সাইয়েদ ‘জিহাদের সময়ের’ সঙ্গে যুক্ত এবং তাকে ‘চরমপন্থী’ ও ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে ট্রাম্পের পোস্টে ব্যবহৃত ‘মোহাম্মদ এল-সাইয়েদ’ নামে মিশিগানের এবারের সিনেট নির্বাচনে কোনো প্রার্থী নেই। নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আবদুল এল-সাইয়েদ। ফলে ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে নামটি বদলে লিখেছেন, নাকি ভুল করে লিখেছেন—তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প তার পোস্টে এল-সাইয়েদের সঙ্গে অনলাইন স্ট্রিমার হাসান পিকারকে নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি এল-সাইয়েদকে পিকারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে দুজনকেই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে এসব মন্তব্যের পক্ষে ওই পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি ট্রাম্প। একই পোস্টে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থনও ঘোষণা করেন। তিনি রজার্সকে অত্যন্ত ভালো প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করে মিশিগানের ভোটারদের তার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ আলোচিত। আবদুল এল-সাইয়েদ আগস্টে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি জিতে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্স। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে এল-সাইয়েদ ও রজার্সের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন পোস্ট-শার স্কুল জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদ ৪৮ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। জরিপটির মার্জিন অব এরর ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট, অর্থাৎ ব্যবধানটি পরিসংখ্যানগতভাবে খুব বড় নয়। এল-সাইয়েদকে নিয়ে রিপাবলিকানদের আক্রমণ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে থেকেই তার রাজনৈতিক অবস্থান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে রিপাবলিকান প্রচারে তাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কের যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে এল-সাইয়েদ তার প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও বাণিজ্যের মতো স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রাখছেন। তার প্রচারণার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। রজার্সও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু নীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে ভিন্নমত দেখিয়েছেন। বিশেষ করে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান শুল্ক বিরোধ শেষ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। মিশিগানের কানাডার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকায় এই ইস্যুটি তার প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পোস্টে রজার্সের প্রতি তার সমর্থন স্পষ্ট। আর আবদুল এল-সাইয়েদের নাম ‘মোহাম্মদ’ লিখে তাকে ‘সন্ত্রাসবাদী সমর্থক’ বলার বিষয়টি মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক প্রচারের নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। মিশিগানের সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ভোটের আগে দুই দলের প্রচারণা আরও তীব্র হওয়ার পাশাপাশি প্রার্থীদের ঘিরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণও বাড়তে পারে।
ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তৈরি একটি ব্যঙ্গাত্মক সোনালি ভাস্কর্য প্রদর্শন করা হয়েছে। ২৩ ক্যারেট সোনায় মোড়ানো প্রায় ২ দশমিক ৬ মিটার বা ৮ দশমিক ৫ ফুট উঁচু এই ভাস্কর্যে ট্রাম্পকে ন গ্ন অবস্থায় একজন অপেক্ষাকৃত ছোট মানুষের কাঁধের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। ড্যানিশ শিল্পী ইয়েন্স গালশিওটের তৈরি ভাস্কর্যটির নাম ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’। শিল্পীর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি ক্ষমতা, বৈশ্বিক রাজনীতি, গণতন্ত্র ও জলবায়ু সংকট নিয়ে তার সমালোচনামূলক শিল্পকর্মগুলোর একটি। ভাস্কর্যের নিচে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, একজন মানুষ অন্য একজনের পিঠে বসে আছে এবং তার ভারে নিচের মানুষটি ডুবে যাচ্ছে। তাকে সাহায্য করার কথা বলা হলেও সেই ভারী ব্যক্তি তার পিঠ থেকে নামতে রাজি নন। বার্তাটির শেষে তাকে ‘দ্য কিং অব ইনজাস্টিস’ বা ‘অন্যায়ের রাজা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্পী গালশিওট তার ব্যাখ্যায় বলেছেন, ট্রাম্পকে তিনি নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখেন। ভাস্কর্যটির মাধ্যমে তিনি সেই রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার সমালোচনা তুলে ধরতে চেয়েছেন। ভাস্কর্যটিতে ট্রাম্পের সঙ্গে ক্ষমতার বিভিন্ন প্রতীকও ব্যবহার করা হয়েছে। শিল্পীর মূল নকশায় এক হাতে দাঁড়িপাল্লা এবং অন্যদিকে একটি গলফ ক্লাব দেখা যায়। পুরো উপস্থাপনাটি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষমতার ভার অন্য মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রতীক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ নামটির মধ্যেও শিল্পীর রাজনৈতিক বক্তব্য রয়েছে। ভাস্কর্যটি ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে ক্ষমতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিশ্বব্যবস্থার ওপর তার প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলার উদ্দেশ্যে তৈরি। এতে ব্যঙ্গের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। শিল্পকর্মটির ধারণার সঙ্গে ড্যানিশ লেখক হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসনের বিখ্যাত গল্প ‘দ্য এম্পেরর’স নিউ ক্লোদস’-এরও সম্পর্ক রয়েছে। সেই গল্পে একজন শাসক নিজের পোশাক নিয়ে আত্মতুষ্টিতে থাকলেও বাস্তবে তিনি ন গ্ন ছিলেন। গালশিওটের ভাস্কর্যেও ট্রাম্পকে ন গ্ন অবস্থায় দেখিয়ে ক্ষমতা ও রাজনৈতিক অহংকার নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রদর্শনের আগে ভাস্কর্যটি সোমবার কমলা রঙের কাপড়ে ঢাকা ছিল। পরে মঙ্গলবার সেটি উন্মুক্ত করা হয়। স্ট্রাসবুর্গে প্রদর্শনীটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থাকার কথা রয়েছে। এই ভাস্কর্য এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজন ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রদর্শিত হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কপ৩০ জলবায়ু সম্মেলনেও এটি প্রদর্শিত হয়েছিল। ২০২৬ সালে জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন এবং ডেনমার্কের রেবিল্ড উৎসবেও শিল্পকর্মটির প্রদর্শনী হয়। ডেনমার্কের রেবিল্ড উৎসবটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডেনমার্কের ঐতিহাসিক সম্পর্ক উদযাপনের আয়োজন। একই বছর ডেনমার্কে ‘হ্যান্ডস অফ গ্রিনল্যান্ড’ নামের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও ভাস্কর্যটি প্রদর্শিত হয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাস্কর্যটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেন ড্যানিশ ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পের ক্লাউসেন। তার উদ্যোগেই গালশিওটের এই শিল্পকর্মটি পার্লামেন্ট ভবনে প্রদর্শনের সুযোগ পায়। প্রদর্শনী ঘিরে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিল্পের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমালোচনা প্রকাশের বিষয়টি। আয়োজকদের মতে, ভাস্কর্যটি শুধু ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গ নয়; বরং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং জলবায়ু নীতি নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার একটি মাধ্যম। ভাস্কর্যটি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রদর্শন শেষ হওয়ার পর তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কয়েক দিনের ইউরোপীয় প্রদর্শনীর পরও ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’ আন্তর্জাতিক জলবায়ু রাজনীতি ও রাজনৈতিক শিল্পের আলোচনায় থাকতে পারে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। গত বছরও পুরস্কারটির জন্য তার সম্ভাবনা বেশ আলোচনায় ছিল। তবে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আগে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে এসেছে। বরং পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের হিসাবে ট্রাম্পের চেয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার কালশির হিসাবে ট্রাম্পের ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা ১ শতাংশের নিচে, আর কার্নির সম্ভাবনা ২ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে পলিমার্কেটে ট্রাম্প ও কার্নি—দুজনের সম্ভাবনাই ১ শতাংশ করে দেখানো হয়েছে। তবে এসব সংখ্যা নোবেল কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস নয়; বাজারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধারণা ও লেনদেনের ভিত্তিতে সম্ভাবনা ওঠানামা করে। কার্নির সম্ভাবনা অবশ্য এর কিছুদিন আগেই অনেক বেশি ছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কালশিতে তার সম্ভাবনা সাময়িকভাবে ১৪ শতাংশে উঠে যায় এবং তিনি ওই সময় তালিকার শীর্ষে ছিলেন। পরে তা দ্রুত কমে যায়। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন ওঠানামাই দেখায় যে পূর্বাভাসভিত্তিক বাজারের তথ্যকে নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় না। ট্রাম্প গত বছরজুড়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তার প্রচেষ্টায় আটটি যু দ্ধের অবসান হয়েছে। এসব দাবির কারণে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে তার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। পরে তিনি নিজের নোবেল পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। ট্রাম্প সেটি গ্রহণ করেন। নোবেল কমিটি ট্রাম্পকে পুরস্কার না দেওয়ার পর হোয়াইট হাউস থেকে কমিটির বিরুদ্ধে ‘রাজনীতিকে শান্তির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার’ অভিযোগও তোলা হয়েছিল। ২০২৬ সালে পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য আরও কঠিন হয়েছে। চলতি বছরে তার প্রশাসনের ভেনেজুয়েলা অভিযান এবং ইরানে মার্কিন হামলার পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে তার সম্ভাবনা পূর্বাভাস বাজারে নেমে এসেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও ট্রাম্পের এবারের সম্ভাবনা খুব কম বলে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত উঠে এসেছে। অন্যদিকে মার্ক কার্নি ২০২৫ সালে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি এবং কানাডার ওপর অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার সম্ভাবনার কথাও একাধিকবার ওঠে এসেছে, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। কার্নি একই সময়ে ইউরোপের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি তিনি বিশ্বের মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে নিজেদের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক আলোচিত বক্তৃতায় কার্নি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থার মধ্যে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর জোর দেন। তার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয় এবং পরবর্তী সময়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনাতেও তার নাম উঠে আসে। তবে কার্নি নোবেল কমিটির চূড়ান্ত তালিকায় আছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। নরওয়ের নোবেল কমিটি নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান বছরের মনোনীতদের নাম প্রকাশ করে না। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও সেটি নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা স্বীকৃতি নয়। মনোনয়নসংক্রান্ত তথ্য সাধারণত ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন বা প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩১ জানুয়ারি। এরপর কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করে এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় নেয়। বর্তমান পূর্বাভাস বাজারে ট্রাম্প ও কার্নির পাশাপাশি সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবার নামও আলোচনায় রয়েছে। কালশির বর্তমান বাজারে সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস এগিয়ে রয়েছে। তবে এগুলোও কেবল বাজারভিত্তিক পূর্বাভাস, নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত নয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার সাধারণত এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়, যারা জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, শান্তি প্রতিষ্ঠা, সামরিক শক্তি কমানো কিংবা শান্তি সম্মেলন আয়োজন ও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৬ সালের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর নরওয়ের অসলোতে। ফলে নোবেল ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে ট্রাম্প ও কার্নিকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন মূলত পূর্বাভাস বাজার। সেখানে কার্নির সম্ভাবনা ট্রাম্পের চেয়ে বেশি দেখা গেলেও শেষ সিদ্ধান্ত নেবে নরওয়ের নোবেল কমিটিই।
২০০৯ সালের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হা ম লা চালিয়ে ১৩ জনকে হ ত্যা র দায়ে মৃ ত্যু দ ণ্ড পাওয়া সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের সাজা ফা য়া রিং স্কোয়াডে কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশের পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। এখন সাজা কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন আর্মি সেক্রেটারি। তবে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পরও তাৎক্ষণিকভাবে সাজা কার্যকর হচ্ছে না। নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং মেজর পদে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গু লি চালান। এতে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নি হ ত হন। আ হ ত হন আরও ৩২ জন। ঘটনাস্থলে পুলিশের গু লিতে হাসানও আ হ ত হন এবং পরে আংশিকভাবে প ক্ষা ঘা তগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ২০১৩ সালে সামরিক আদালতের জুরি তাকে পূর্বপরিকল্পিত হ ত্যা ও হ ত্যা চেষ্টার মোট ৪৫টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃ ত্যু দ ণ্ড দেন। বিচার চলাকালে তিনি নিজেই নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করেন এবং হা ম লার দায় অস্বীকার করেননি। আদালতে হাসান বলেছিলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের মোতায়েন ঠেকানো এবং বিদেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ করতেই তিনি হা ম লা চালিয়েছিলেন। তবে তার এই বক্তব্য আইনি প্রতিরক্ষা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল ৫ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ হাসানের মৃ ত্যু দ ণ্ড ফা য়া রিং স্কোয়াডে কার্যকরের সুপারিশ করেন এবং ট্রাম্প তা অনুমোদন করেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীতে মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকর অত্যন্ত বিরল। দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বশেষ ১৯৬১ সালে সেনাসদস্য জন বেনেটের সাজা কার্যকর করেছিল। তাকে ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃ ত্যু দ ণ্ড দেওয়া হয়। আর সামরিক ফা য়া রিং স্কোয়াডে সর্বশেষ পরিচিত সাজা কার্যকরের ঘটনা ঘটে ১৯৪৫ সালে। ট্রাম্পের অনুমোদনের পরও হাসানের সামনে আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ রয়েছে। সামরিক মৃত্যুদণ্ডের মামলায় পরবর্তী আইনি আবেদন এবং ফেডারেল আদালতে চ্যালেঞ্জের সুযোগ থাকতে পারে। ফলে সাজা কার্যকরের সময়সূচি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করতে পারে। বর্তমানে হাসান কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থের সামরিক কারাগারে রয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সামরিক মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা চারজন বন্দির একজন। মার্কিন আর্মির নীতিমালা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের ৬০ দিনের আগে সাজা কার্যকর করা যাবে না। সাধারণভাবে ১৫০ দিনের মধ্যে কার্যকর করার কাঠামো রয়েছে। তবে আদালতে নতুন আবেদন হলে এই সময়সীমা পরিবর্তিত হতে পারে। হাসানের মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিচারব্যবস্থার দীর্ঘদিনের আলোচিত মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর একটি। ২০০৯ সালের সেই ঘটনার ১৬ বছর পর ট্রাম্পের অনুমোদনে সাজা কার্যকরের প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন নজর থাকবে সাজা কার্যকরের দিন-স্থান নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য নতুন আইনি পদক্ষেপের দিকে। সাজা শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে ছয় দশকেরও বেশি সময় পর কোনো মার্কিন সেনাসদস্যের মৃ ত্যু দ ণ্ড কার্যকর করবে দেশটির সামরিক বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জা লি য়া তি করলে এবার কঠোর শা স্তির মুখে পড়তে হতে পারে। এ ধরনের অ প রা ধে দো ষী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জে লের মেয়াদ চালুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে জা লি য়া তির বিষয়টি জানার পরও তা ঠেকাতে ব্যর্থ রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। শনিবার প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প কংগ্রেসকে এ বিষয়ে নতুন আইন করার আহ্বান জানান। তার প্রস্তাব কার্যকর হলে মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি থেকে অর্থ আ ত্ম সা ৎ করে দো ষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্যারোল বা প্রবেশনে সাজা এড়ানোর সুযোগ থাকবে না। ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানদের অর্থ নি য়ে যারা জা লি য়া তি করবে, তাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য জে লে যেতে হবে। চু রি করা অর্থের পরিমাণ যত বেশি হবে, শা স্তির মেয়াদও তত বাড়বে বলে জানান তিনি। একই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার একই ধরনের অ প রা ধে দো ষী হলে তার শা স্তি দ্বিগুণ করার প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। শুধু জা লি য়া তিকারীদের বিরুদ্ধেই নয়, বিষয়টি জেনেও ব্যবস্থা না নেওয়া রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেছেন ট্রাম্প। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা যদি জা লি য়া তির বিষয়টি জানেন এবং তা ঠেকানোর ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না নেন, তাহলে আমেরিকান করদাতাদের যে অর্থ ক্ষ তি হয়েছে, তার জন্য তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষ্য, এই উদ্যোগের দুটি লক্ষ্য রয়েছে—একদিকে সরকারি সুবিধা কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জা লি য়া তি করা ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করা, অন্যদিকে যেসব কর্মকর্তা এসব অ নি য় ম দেখেও চোখ বন্ধ করে থাকেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড হলো যোগ্য আমেরিকানদের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি। অন্যদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির আওতায় অবসরকালীন আয়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন তার প্রশাসন সরকারি সুবিধা কর্মসূচিতে জা লি য়া তি ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত জা লি য়া তির অভিযোগে ৪৫৫ জনের বিরুদ্ধে অ ভি য়ো গ আনে। এসব মামলায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ভুয়া দাবি জড়িত থাকার কথা জানানো হয়েছিল। মার্চে ট্রাম্প ফেডারেল সুবিধা কর্মসূচিতে জা লি য়া তি, অপচয় ও অ প ব্যবহারের বিরুদ্ধে কাজ করতে ‘টাস্ক ফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড’ গঠন করেন। এর লক্ষ্য হলো সরকারি বিভিন্ন সুবিধা কর্মসূচিতে অ নি য় ম শনাক্ত করা এবং করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখা। তবে ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব এখনো আইন হয়নি। বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জে ল এবং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়ের বিধান কার্যকর করতে কংগ্রেসকে আইন পাস করতে হবে। ভিডিও বার্তার শেষ দিকে জা লি য়া তিকারীদের উদ্দেশে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, এখন থেকে তাদের ওপর নজর রাখা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিগ বেন্ড অঞ্চলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিশাল সীমান্ত প্রাচীর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনি এই আদেশ দেন। এর ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বড় একটি প্রকল্প আপাতত আইনি বাধার মুখে পড়েছে। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আওতায় টেক্সাসের দক্ষিণ সীমান্তে প্রায় ৩০ ফুট উঁচু ইস্পাতের প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধক, নতুন রাস্তা এবং আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের কথা রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো বাড়িয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকানো এবং নজরদারি জোরদার করাই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। তবে প্রকল্পটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষ এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করে। স্থানীয় জমির মালিক, ব্যবসায়ী, পরিবেশবাদী সংগঠন, রুইডোসার একটি ঐতিহাসিক গির্জার সমর্থক এবং নদীপথে পর্যটকদের নিয়ে কাজ করা রিভার গাইডরা মামলায় একত্র হন। মামলাকারীদের অভিযোগ, বিগ বেন্ড অঞ্চলের প্রায় ৫০০ মাইল দীর্ঘ পাহাড়ি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি এমনিতেই সীমান্ত অতিক্রমের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। সেখানে ব্যাপক আকারে প্রাচীর ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করলে স্থানীয় পরিবেশ, বন্যপ্রাণী এবং ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাদের আরও অভিযোগ, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে ট্রাম্প প্রশাসনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পরিবেশ, সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নিয়ম ও প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়েছে। এসব পদক্ষেপ আইনসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শুক্রবারের রায়ে বিচারক ক্যাথলিন কার্ডোনি বলেন, মামলাকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর অন্তত একটিতে তাদের পক্ষে রায় পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এই পর্যায়ে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে বাদী পক্ষ গুরুতর ও পরে পূরণ করা সম্ভব নয়—এমন ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আদালত জনস্বার্থ এবং মামলার সার্বিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিয়েছে। ফলে মূল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজে সাময়িকভাবে বিরতি থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্কের কিছু এলাকাও পড়বে। এর আগে পার্কের ভেতরে বুলডোজার দিয়ে জমি পরিষ্কারের কাজ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের রাজনীতিকদের মধ্য থেকেই সমালোচনা আসে। পরে প্রশাসন সেখানে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে টেক্সাসে এর আগেও জমির মালিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ দেখা গেছে। বিশেষ করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে প্রাচীর নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপি আদালতের আদেশের পরও প্রকল্পটির পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিগ বেন্ডের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করেই সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা নিজেদের মূল্যায়নের ওপর আস্থাশীল। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে তারা বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। অন্যদিকে মামলাকারী পরিবেশবাদী সংগঠন সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল ডাইভার্সিটির লায়েকেন জর্ডাল আদালতের সিদ্ধান্তকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় আপাতত বুলডোজারগুলোকে সরে যেতে হবে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে বিগ বেন্ড, টেক্সাস এবং মার্কিন সংবিধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ন্যাশনাল পার্কস কনজারভেশন অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টিয়ারনান সিটেনফেল্ডও আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বিগ বেন্ড এলাকায় ইতোমধ্যে হওয়া ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত না করে বিকল্প সমাধান খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন। আদালতের এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত রায় নয়। মূল মামলায় সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের পরিকল্পনা আইনগতভাবে বৈধ কি না, পরিবেশ ও ঐতিহাসিক সম্পদ সুরক্ষার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং প্রকল্পটি কীভাবে এগোবে—এসব বিষয় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
নিজের বুদ্ধিমত্তার মান বা আইকিউ ‘সবচেয়ে বেশি’ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনার সময় নিজের চাচা ও এমআইটির সাবেক অধ্যাপক জন ট্রাম্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ দাবি করেন। সাক্ষাৎকারের প্রকাশিত ট্রান্সক্রিপ্টেও তাঁর এই বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, অল্টম্যানকে তিনি পছন্দ করেন এবং তাঁকে বুদ্ধিমান মনে করেন। এআই নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের উচ্চ আইকিউয়ের অধিকারী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এরপর নিজের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, “আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি। একেবারে সর্বোচ্চ।” তবে নিজের আইকিউয়ের কোনো নির্দিষ্ট স্কোর তিনি উল্লেখ করেননি। তাঁর এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও সাক্ষাৎকারে দেওয়া হয়নি। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প তাঁর চাচা জন জি. ট্রাম্পের কথা বলেন। তাঁর দাবি, জন ট্রাম্প ৪১ বছর এমআইটিতে ছিলেন এবং প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি নিজেও এসব বিষয় বুঝতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি বংশগত বৈশিষ্ট্যে বিশ্বাস করেন এবং এ বিষয়ে তাঁর একটি বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করেন। জন ট্রাম্প অবশ্য নিজেই ছিলেন একজন স্বীকৃত বিজ্ঞানী। এমআইটির তথ্য অনুযায়ী, জন জি. ট্রাম্প ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যাপক এবং তাঁর নাম ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স পাওয়া এমআইটির বিজ্ঞানীদের তালিকায় রয়েছে। ১৯৮৩ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পরিবারের কোনো সদস্যের মেধা, শিক্ষা বা বৈজ্ঞানিক সাফল্য দিয়ে অন্য একজনের আইকিউ নির্ধারণ করা যায় না। মেডলাইনপ্লাসের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের বুদ্ধিমত্তা একটি জটিল বৈশিষ্ট্য, যার ওপর জেনেটিক ও পরিবেশগত—দুই ধরনের প্রভাবই রয়েছে। জিনের পাশাপাশি শিক্ষা, পারিবারিক পরিবেশ, শেখার সুযোগ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া আইকিউ পরীক্ষাও বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের একমাত্র পদ্ধতি নয়। মেডলাইনপ্লাস বলছে, বিভিন্ন আইকিউ পরীক্ষা নির্দিষ্ট কিছু সক্ষমতা পরিমাপ করে এবং এগুলো একজন মানুষের সব ধরনের প্রতিভা বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পুরোপুরি তুলে ধরতে নাও পারে। ফলে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বেশি আইকিউ’ থাকার দাবি আপাতত তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই থাকছে। কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার স্কোর বা স্বাধীন বৈজ্ঞানিক যাচাই ছাড়া এই দাবিকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।