- প্রচ্ছদ
- Topic
ডোনাল্ডট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করা বিবাহিত দম্পতিদেরও সরকারি শিশু যত্ন ভর্তুকির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে এ জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দের বদলে কর্মজীবী বাবা-মায়ের শিশু যত্নে ব্যবহৃত একটি ফেডারেল তহবিল থেকেই অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অন্যতম অগ্রাধিকার। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো বিবাহিত দম্পতির একজন সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করলে এবং অন্যজন বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলে তারা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। প্রস্তাবিত অর্থ আসবে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে। ১৯৯০-এর দশকে চালু হওয়া এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী বাবা-মাকে শিশু যত্নের খরচে সহায়তা করা, যাতে তারা কাজ, পড়াশোনা বা কর্মপ্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৯ হাজার ডলারের সহায়তা দেওয়া হয়। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনকারী অভিভাবকদের জন্য এটিই হবে ফেডারেল পর্যায়ে সরাসরি শিশু যত্ন সহায়তা পাওয়ার একটি নতুন পথ। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ঘরে থেকে সন্তান পালনের সুযোগকে উৎসাহিত করার রক্ষণশীল পারিবারিক ধারণারও মিল রয়েছে। মে মাসে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, প্রশাসন ঘরে থাকা বাবা-মায়ের জন্য শিশু যত্ন ব্যবস্থায় আরও সুযোগ তৈরি করতে চায়। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, একই তহবিলের অর্থ ঘরে থাকা অভিভাবকদের জন্য ব্যবহার করা হলে কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য বরাদ্দ সহায়তা কমে যেতে পারে। এতে শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলোও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান সেবার মূল্য বাড়ানো বা কার্যক্রম কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই শিশু যত্ন ভর্তুকি পাওয়া প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবারের প্রায় ৮০ শতাংশই একক কর্মজীবী অভিভাবকের পরিবার। তাদের বেশিরভাগই নারী। ফলে নতুন শ্রেণির পরিবারকে একই তহবিলের আওতায় আনা হলে বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকরা। খসড়া প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হোয়াইট হাউসের অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে এটি জনসাধারণের মতামতের জন্য প্রকাশিত হতে পারে। চূড়ান্ত হলে আগামী বছর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের প্রতি জনসমর্থন নতুন এক জরিপে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ফল রিপাবলিকানদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর জন্য ফোকালডেটার করা জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মাত্র ৩৩ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতি সন্তুষ্ট। মে মাস থেকে এ বিষয়ে জরিপ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন হার। আগের মাসের তুলনায়ও ট্রাম্পের অনুমোদন ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের বাড়তে থাকা হতাশা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে তার বাণিজ্য ও শুল্কনীতি নিয়ে অধিকাংশ ভোটার নেতিবাচক মত দিয়েছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন, মার্কিন অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে। আর ৫৭ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাদের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। এমনকি রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও ট্রাম্পের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান পরিচালনা নিয়ে সমর্থন কমেছে। মাত্র ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান এ বিষয়ে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেছেন, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ পয়েন্ট কম। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি খরচও বেড়েছে। শুক্রবার ডিজেলের জাতীয় গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৫.৮৫ ডলারে পৌঁছায়, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে বড় ধরনের যুদ্ধ হিসেবে দেখার বিষয়টি নাকচ করে এটিকে তুলনামূলক ছোট সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন। হরমুজ প্রণালির গুরুত্বও কমিয়ে দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, নতুন পাইপলাইন, নৌপথ ও স্থলপথে তেল পরিবহনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। এদিকে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি জনসমর্থনও বাড়ছে। গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন ২৫ শতাংশ। দুই দলের মধ্যে ৬ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। ফলে নভেম্বরে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াই রিপাবলিকানদের জন্য আরও কঠিন হতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। শনিবার মস্কোতে পৌঁছানোর পর তাদের স্বাগত জানান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ। পরে পুতিনের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মস্কো সফর শেষে উইটকফ ও কুশনার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যাবেন। যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম তারা কিয়েভ সফর করছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিনিধিদল যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা করবে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প তাদের ‘দারুণ আলোচক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব তারা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের কিয়েভ সফরকে সামনে রেখে মস্কো থেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে পরবর্তী তিন দিন কিয়েভে কোনো হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, আমেরিকান প্রতিনিধিদের কিয়েভ সফর ও সেখানে তাদের যোগাযোগের প্রস্তুতির সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর মধ্যেই কিয়েভের কাছাকাছি দুটি বিমানবন্দরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর মধ্যে বরিসপিল বিমানবন্দরও রয়েছে, যেটি একসময় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হতো। জেলেনস্কির ধারণা, ইউক্রেনে মার্কিন প্রতিনিধিদের বিমানযোগে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতির প্রতিক্রিয়াতেই এসব হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিদেশি নেতারা সাধারণত পোল্যান্ড থেকে রেলপথে কিয়েভে যাতায়াত করে আসছেন। বিমানবন্দরে হামলার খবরের কারণে উইটকফ ও কুশনারের কিয়েভ সফরের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। এর মধ্যেই শুক্রবার কিয়েভে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরেও রুশ হামলার খবর পাওয়া যায়। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে কিয়েভ অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। একই সময়ে পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরীগুলোর একটি অংশও রুশ বাহিনীর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় রাশিয়া যে সহজে ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়, তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন, ইউক্রেন পরিস্থিতিতে মাটির বাস্তবতা যুক্তরাষ্ট্রকে বিবেচনায় নিতে হবে। তার দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি কিয়েভের অনুকূলে নেই এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রুশ বাহিনী ধীরে ধীরে আরও এগিয়ে যাচ্ছে। তবে কিয়েভে মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা যতটা সম্ভব গঠনমূলক ও বাস্তবভিত্তিক হওয়া দরকার। যুদ্ধ কীভাবে বাস্তবসম্মতভাবে শেষ করা যায়, সে বিষয়ে সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করাই তাদের লক্ষ্য। ফলে মস্কো ও কিয়েভে উইটকফ-কুশনারের ধারাবাহিক সফরকে যুদ্ধ অবসানের নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে যাচ্ছে—এমন খবর প্রকাশের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া দুটি পোস্টে তিনি এসব প্রতিবেদনকে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। বৃহস্পতিবার এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গোলাবারুদ নেই—এমন দাবি করা সংবাদমাধ্যমগুলো ‘১০০ শতাংশ ভুল’। তার অভিযোগ, এসব সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জয় দেখতে চায় না। ট্রাম্প লেখেন, যারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে প্রচার করছে, তারা আসলে ‘বিশ্বাসঘাতক’। তার ভাষায়, এসব সংবাদমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে হেরে যাক—এটাই যেন চায়। এর কিছুক্ষণ পর আরও কড়া ভাষায় আরেকটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সমালোচকদের ‘বিশ্বাসঘাতক আবর্জনা’ বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ‘প্রায় সীমাহীন’ পরিমাণ মাঝারি থেকে উচ্চমানের গোলাবারুদ রয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন মাত্রায় গোলাবারুদ মজুত করছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবেই এই মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, বাইডেন প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে থাকা ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারের চেয়েও বেশি পরিমাণ গোলাবারুদ বিনামূল্যে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেন ও ন্যাটোকে শত শত বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে, যার মূল্য ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে নেওয়া যেত। ভবিষ্যতে মিত্রদের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টিও আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও কর্মীর বিদায়ের খবর সামনে আসছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মধ্যে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায়ে এই পরিবর্তন প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিদায়গুলোর একটি হলো হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটের। তিনি আগস্টের শেষ দিকে দায়িত্ব ছাড়ছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিবারকে আরও সময় দেওয়ার জন্য লেভিট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে দায়িত্ব ছাড়ার পরও তিনি ট্রাম্পের বাইরের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন। লেভিটের বিদায়ের পর হোয়াইট হাউসের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার চলে যাওয়ার খবর এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর জেমস ব্রেইড, হোয়াইট হাউস কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটন এবং ইউএস পারডন অ্যাটর্নি এড মার্টিন। জেমস ব্রেইড কংগ্রেসের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ট্রাম্প তার বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে কংগ্রেসে প্রশাসনের বিভিন্ন আইন পাস করানোর ক্ষেত্রে ব্রেইডের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউস ছাড়বেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটনও প্রশাসন ছাড়ছেন। তার জায়গায় দীর্ঘদিনের ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ সহযোগী উইল শার্ফকে নতুন শীর্ষ আইনজীবী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তন ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে সাম্প্রতিক এই বিদায়গুলোকে শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না কিছু পর্যবেক্ষক। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমত, প্রশাসনের জনপ্রিয়তা এবং আসন্ন রিপাবলিকান প্রাইমারি নিয়েও হোয়াইট হাউসের ভেতরে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেভিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ একজন মুখপাত্রের বিদায়ও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসনের সবচেয়ে দৃশ্যমান ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন ছিলেন। তার বিদায়ের পর হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ কৌশলে পরিবর্তন আসতে পারে। সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনে সাম্প্রতিক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদায়কে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে—এগুলো কি স্বাভাবিক প্রশাসনিক রদবদল, নাকি মধ্যবর্তী নির্বাচন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের আগাম প্রস্তুতি? আগামী কয়েক মাসে আরও কর্মকর্তা হোয়াইট হাউস ছাড়েন কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর গত এপ্রিলের হত্যাচেষ্টার পর এবার হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ ডিনার ঘিরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আগামী ২৪ জুলাই ওয়াশিংটনের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া হোটেলে পুনঃনির্ধারিত এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবার প্রচলিত কাগজের পাসের পরিবর্তে ডিজিটাল টিকিট ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি বড় আকারের ককটেল রিসেপশনও রাখা হচ্ছে না, যাতে অননুমোদিত কেউ সহজে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারে। নতুন ভেন্যুতে প্রায় এক হাজার অতিথি অংশ নিতে পারবেন, যা আগের ভেন্যু ওয়াশিংটন হিলটনের ধারণক্ষমতার এক-চতুর্থাংশেরও কম। এতে অতিথিদের পরিচয় যাচাই ও নিরাপত্তা তদারকি আরও সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র টম লিঞ্চ বলেন, এই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা পরিকল্পনার ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে আগেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ডিনারের সময় অভিযোগ অনুযায়ী, কোল থমাস অ্যালেন নামে এক ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে বলরুমের কাছাকাছি পৌঁছে যান এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেন। ওই ঘটনায় আতঙ্কিত অতিথিরা নিজেদের নিরাপত্তায় টেবিলের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এবার অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক যাচাই করবে। এরপর বৈধ ডিজিটাল টিকিটধারীদের সিক্রেট সার্ভিস পরিচালিত মেটাল ডিটেক্টর পার হয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে।
ইরানের রাজধানী তেহরানের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা প্যালেস্টাইন স্কয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে একটি বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বিলবোর্ডে ট্রাম্প, তার স্ত্রী ও সন্তানদের ছবির নিচে মার্কিন পতাকায় মোড়ানো কফিনের ছবি দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘রক্তের বদলে রক্ত’। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে বিলবোর্ডটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বিলবোর্ডটি তেহরানের প্যালেস্টাইন স্কয়ারে স্থাপন করা হয়েছে। এতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ট্রাম্পের সন্তানদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের নিচে মার্কিন পতাকায় মোড়ানো একাধিক কফিনের প্রতীকী ছবি দিয়ে প্রতিশোধের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে তেহরানের এঙ্গেলাব স্কয়ারেও আরেকটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে খোলা কালো কফিনে শোয়ানো অবস্থায় দেখানো হয়। সেখানে ইংরেজি ও ফারসি ভাষায় ‘We Kill Trump’ বা ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব’ লেখা ছিল। এসব বিলবোর্ড এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, যখন ইরানে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিও প্রকাশ্যে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তেহরানের প্যালেস্টাইন স্কয়ার ও এঙ্গেলাব স্কয়ারের বড় বড় দেয়ালচিত্র ও বিলবোর্ড দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী নানা প্রচারণায় এসব স্থান নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, তার বা তার পরিবারের ওপর ইরানের পক্ষ থেকে কোনো হামলার চেষ্টা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ও বিধ্বংসী জবাব দেবে। সাম্প্রতিক বিলবোর্ডগুলো দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।