দক্ষিণ কোরিয়ার টেলিকম ও চিপ জায়ান্ট এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং এআই ধনকুবের চেয় তাই-ওনকে তাঁর সাবেক স্ত্রীকে প্রায় ৬৪৫ মিলিয়ন বা ৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার নগদ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল আদালত। দেশটির গণমাধ্যমে এটিকে শতাব্দীর সেরা বিবাহবিচ্ছেদ মামলা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল এসকে গ্রুপের চেয়ারম্যান চেয় তাই-ওনের প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি। তাঁর এই বিশাল সম্পত্তির একটি বড় অংশ এসেছে মেমোরি চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান 'এসকে হাইনিক্স' থেকে, যা বর্তমানে এনভিডিয়ার অন্যতম প্রধান অংশীদার এবং এআই খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে প্রায় এক দশক আগে, যখন চেয় তাই-ওন একটি সংবাদপত্রে চিঠি প্রকাশ করে তাঁর বিবাহিত সম্পর্কের বাইরে অন্য নারীর ঔরসে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন এবং দীর্ঘ তিন দশকের বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানতে চান। এরপর তাঁর স্ত্রী ও সাবেক দক্ষিণ কোরিয়ান প্রেসিডেন্টের কন্যা রোহ সু-ইয়ং বিবাহবিচ্ছেদের আইনি লড়াই শুরু করেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, চেয় তাই-ওনের শেয়ারগুলোকে যৌথ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তবে কোম্পানির ওপর ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে শেয়ারের পরিবর্তে নগদ অর্থে এই অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে চেয় তাই-ওনের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দেশে ফেরার পথে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলকে। প্রধান কোচ হং মিয়ুং-বোকে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন হং। ৫৭ বছর বয়সী হং মিয়ুং-বোর অধীনে এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। শুরুতে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়ে আশা জাগিয়েছিল দলটি। তবে পরে গ্রুপ 'এ'-তে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর কাছে টানা দুই ম্যাচে হেরে যায়। বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত আসরে সেরা আটটি তৃতীয় হওয়া দলের একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার। কিন্তু শনিবার ডিআর কঙ্গো ৩-১ গোলে উজবেকিস্তানকে হারানোর পর সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। ব্যর্থতার দায় নিয়ে কোচ হং মিয়ুং-বো পদত্যাগ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং তাকে "অযোগ্য" বলে মন্তব্য করেছেন। দলটি মঙ্গলবার দেশে ফিরলে ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৬০ জন দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও বিমানবন্দর পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে ইনচন মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি। পাশাপাশি ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশন বিশেষ নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও ২৫ জন অতিরিক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হং মিয়ুং-বোকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল তার মুখ অপরাধীদের মতো ঝাপসা করে সম্প্রচার করায় ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দল দেশে ফেরার সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বস্তু নিক্ষেপসহ যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং জাতীয় দলের পুরো কার্যক্রম পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "একসময় আমি একটি পেশাদার ফুটবল ক্লাবের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ছিলাম এবং হৃদয়ে এখনও রেড ডেভিলসের একজন সমর্থক। তাই এই অপ্রত্যাশিত ফল বিস্ময়ের পাশাপাশি গভীর হতাশাও তৈরি করেছে।" তিনি আরও বলেন, "আবারও প্রমাণ হলো, সঠিক ব্যক্তি নির্বাচনই সবকিছু নির্ধারণ করে। যোগ্যতার বদলে আনুগত্য ও গোষ্ঠীপ্রীতিকে গুরুত্ব দিয়ে অযোগ্য কাউকে নেতৃত্বে বসানো হলে ফল কী হবে, তা আগুনের মতোই স্পষ্ট।" দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, "এই অযৌক্তিক পরিস্থিতিতে জনগণকে যে হতাশার মুখে পড়তে হয়েছে, তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দ্রুত ক্রীড়া প্রশাসনে সংস্কার আনা হবে।" এটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের দায়িত্বে হং মিয়ুং-বোর দ্বিতীয় মেয়াদ। এর আগে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও তার অধীনেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল দলটি। দক্ষিণ কোরিয়া টানা ১১টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ২০০২ সালে নিজেদের মাটিতে যৌথ আয়োজক হিসেবে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল দেশটি।
যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বিবেচনায় সেনাবাহিনীর পাঁচ লাখ সদস্যকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। নতুন এ উদ্যোগের আওতায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা ব্যক্তিগত অস্ত্র ব্যবহারের মতো সহজেই ড্রোন পরিচালনা করতে পারেন। আজ শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় ড্রোন এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ড্রোন ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রায় পাঁচ লাখ সদস্যকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আন গিউ-ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে যে ড্রোন যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাঁর মতে, স্বল্প ব্যয়ে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের ফলে যুদ্ধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর জন্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার হামলাকারী ড্রোন ‘কে-লুকাস’-এর উৎপাদনও দ্রুত বাড়ানো হবে। এ ড্রোনের ধারণা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লুকাস ড্রোন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোন আবার ইরানের শাহেদ-১৩৬ আত্মঘাতী ড্রোনের নকশা অনুসরণে তৈরি। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ব্যাপকভাবে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে। ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও উদ্যোগ নিয়েছে সিউল। এ লক্ষ্যে লেজার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভভিত্তিক অস্ত্র প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার এ ঘোষণা এসেছে। ২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে একটি ড্রোন রাজধানী সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ওপরের সংরক্ষিত এলাকাতেও ঢুকে পড়ে। ওই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী হেলিকপ্টার মোতায়েন করে এবং প্রায় ১০০টি গুলি ছোড়ে। তবে কোনো ড্রোন ভূপাতিত করতে পারেনি। ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত কৌশল থেকে পিয়ংইয়ং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে হাজার হাজার সেনা ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য পাঠিয়েছে। এর ফলে দেশটির সেনারা বৃহৎ পরিসরের ড্রোন যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এদিকে একই দিনে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং-উন কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম তদারক করেছেন।
উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলা এবং নিজেদের যুদ্ধকৌশলে আমূল পরিবর্তন আনতে নিজেদের পুরো সামরিক বাহিনীকে ড্রোন অপারেটর হিসেবে গড়ে তোলার এক ঐতিহাসিক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশের সেনা, নৌ, বিমান এবং মেরিন বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ সামরিক কর্মীকে অত্যন্ত দক্ষ 'ড্রোন যোদ্ধা' বা ড্রোন ওয়ারিয়র হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-বেক শুক্রবার সিউলে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, রণক্ষেত্রে প্রতিটি সৈনিকের কাছে ড্রোন হবে তাদের দ্বিতীয় ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের মতো অপরিহার্য সমরাস্ত্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন গিউ-বেক জানান, ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো প্রমাণ করেছে যে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এখন গেমচেঞ্জার বা জয়-পরাজয় নির্ধারণের মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কম খরচে বিপুল সংখ্যক ড্রোনের ব্যবহার যুদ্ধের মৌলিক ধরনকেই সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শত্রু দেশ উত্তর কোরিয়া ক্রমাগত তাদের ড্রোন ও অস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলোর জন্য এক বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। আর এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সিউল তাদের সামরিক বাহিনীকে ড্রোন প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী চলতি বছরের শেষের মধ্যেই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংখ্যাটি ২০২৯ সালের মধ্যে বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে শত্রুপক্ষের ওপর নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম ২০ হাজারেরও বেশি স্বল্পমূল্যের এবং একবার ব্যবহারযোগ্য 'আত্মঘাতী কমব্যাট ড্রোন' নিজস্ব বহরে যুক্ত করবে দেশটি। রণক্ষেত্রে প্রযুক্তির এই আধুনিকায়ন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষাকে আরও বেশি শক্তিশালী ও নিভেদ্য করে তুলবে। একই সাথে দক্ষিণ কোরিয়া নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি দূরপাল্লার সুইসাইড ড্রোন বা উড্ডয়ন ক্ষমতাসম্পন্ন সমরাস্ত্র 'কে-লুকাস' এর মোতায়েন প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করার ঘোষণা দিয়েছে। এই ড্রোন ব্যবস্থাটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'লুকাস' ড্রোনের ধারণা থেকে তৈরি, যা ইরানের 'শাহেদ-১৩৬' আত্মঘাতী ড্রোনের রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্করণ। উল্লেখ্য, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধে এই ইরানি ড্রোনটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। ড্রোনের আক্রমণ ঠেকাতে দক্ষিণ কোরিয়া লেজার এবং উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্রের মতো অ্যান্টি-ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থাও দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই আকস্মিক ও বিশাল সামরিক পদক্ষেপের পেছনে ২০২২ সালের একটি অত্যন্ত বিব্রতকর অধ্যায় কাজ করছে, যখন উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের নো-ফ্লাই জোনে ঢুকে পড়েছিল। সে সময় দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার থেকে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছুড়েও একটি ড্রোনও ভূপাতিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে রাশিয়ার সাথে সামরিক অংশীদারিত্বের কারণে উত্তর কোরিয়ার ড্রোন শক্তি বহুগুণ বেড়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়াকে দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোলরক্ষকের এক অবিশ্বাস্য ভুলের সুযোগ নিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। শুক্রবার (১৯ জুন) এস্তাদিও গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথও সুগম করেছে মেক্সিকানরা। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে কিছুটা রক্ষণাত্মক ফুটবল দেখা যায়। তবে খেলার ভাগ্য নির্ধারণ হয় দ্বিতীয় হাফের ৫০তম মিনিটে। দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লি কি-হিউকের মাথার ওপর দিয়ে আসা একটি লুপ হেড বল লুফে নিতে যান গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউ। কিন্তু সতীর্থ ডিফেন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার কনুইয়ে চোট পান এবং হাত থেকে বলটি ফসকে যায়। একদম সামনে থাকা মেক্সিকান ফরোয়ার্ড লুইস রোমো এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেননি। আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে মেক্সিকোকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। দেশের হয়ে ৬৪তম ম্যাচে এটি রোমোর পঞ্চম আন্তর্জাতিক গোল। ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে মেক্সিকান গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেল অসাধারণ দক্ষতায় চো গুয়ে-সুং-এর হেড এবং ইয়াং হিউন-জুনের ফিরতি শট রুখে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচ শেষে মেক্সিকোর অভিজ্ঞ কোচ হাভিয়ের আগুইরে বলেন, "এটি বেশ কৌশলী একটি ম্যাচ ছিল, যা দর্শকদের জন্য উপভোগ করা কিছুটা কঠিন ছিল। তবে এই জয় আমাদের দলের পরিপক্বতার প্রমাণ দেয়। শেষ মুহূর্তের সেই আক্রমণটি বাদ দিলে পুরো ম্যাচ আমরা খুব ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করেছি।" এদিকে প্রথম ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারালেও এই হারের পর কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গেল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ড্র করতে পারলেই তাদের নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিউং-বো বলেন, "আজকের ফলাফল হতাশাজনক। গোলরক্ষকের ভুলটি দুর্ভাগ্যজনক ছিল, তবে আমাদের ভেঙে পড়লে চলবে না। পরবর্তী ম্যাচের জন্য আমাদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।"
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সহযোগিতা ও নেতৃত্ব চেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সংঘাত নিরসনে ট্রাম্প যেভাবে কূটনৈতিক ভূমিকা রেখেছেন, ঠিক একইভাবে তিনি যেন উত্তর কোরিয়া ইস্যুতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এবার ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়া সংকটের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে। এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছেন খোদ ট্রাম্প নিজেই। ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকের একটি ছবি পোস্ট করেন, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। সিউলের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় (ব্লু হাউস) জানিয়েছে, বৈঠকে ট্রাম্প অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সমাধানের মতোই উত্তর কোরিয়া সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানেও আপনি নেতৃত্ব দিন।" জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টও উত্তর কোরিয়া ইস্যুটির স্থায়ী সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে তার পূর্বসূরি ইউন সুক-ইওলের কঠোর অবস্থানের বিপরীত হেঁটে তুলনামূলক নমনীয় ও আলোচনার নীতি অনুসরণ করছেন। যদিও পিয়ংইয়ং এখন পর্যন্ত সিউলের এই শান্তি উদ্যোগগুলোতে ইতিবাচক সাড়া না দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে, তবুও ট্রাম্পের সম্ভাব্য মধ্যস্থতা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় এনে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই গ্যালারিতে হাজার হাজার আসন ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা টুর্নামেন্টের টিকিটের দাম নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ২–১ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারায়। তবে এস্তাদিও আকরন স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লাল আসন ফাঁকা দেখা যায়, যা দর্শক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে টিকিটের “ডায়নামিক প্রাইসিং” বা পরিবর্তনশীল মূল্যনীতির পক্ষে অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবে মাঠে দর্শক উপস্থিতির এই চিত্র সেই নীতিকে ঘিরে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে কয়েকটির টিকিটের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। একই সময়ে ফিফার অফিশিয়াল রিসেল পোর্টালে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টিকিট অবিক্রীত ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা দাবি করেছিল, টিকিটের জন্য ৫০০ মিলিয়নেরও বেশি বুকিং অনুরোধ এসেছে। তবে বাস্তবে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক দর্শক মাঠে গিয়ে খেলা দেখা থেকে বিরত থাকছেন বলে অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে ফাইনালসহ কিছু ম্যাচের টিকিটের দাম কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছেছে, যা সাধারণ দর্শকদের জন্য নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে সমালোচকদের দাবি। এই প্রাইসিং নীতি নিয়ে অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের সময় দীর্ঘ অপেক্ষা, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং চূড়ান্ত দামের অস্পষ্টতা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির রাজনীতিকরা আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু করেছেন। তবে খালি আসন থাকা সত্ত্বেও ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের সমর্থকদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে স্টেডিয়ামের পরিবেশ প্রাণবন্ত ছিল। ম্যাচে লাদিস্লাভ ক্রেজসি চেক প্রজাতন্ত্রকে এগিয়ে নিলেও হোয়াং ইন-বমের সমতা ফেরানো গোল এবং ওহ হিয়ন-গিউয়ের জয়সূচক গোলে দক্ষিণ কোরিয়া জয় নিশ্চিত করে।
উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এ রায় দেন। আদালত রায়ে বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে পিয়ংইয়ংয়ের আকাশসীমায় ড্রোন পাঠানোর ঘটনায় ইউন শুরু থেকেই জড়িত ছিলেন। আদালত তাকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শত্রুপক্ষকে সহায়তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই ড্রোন অভিযান ছিল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউনের ব্যর্থ সামরিক আইন জারির পরিকল্পনার পক্ষে একটি অজুহাত তৈরির অংশ। তবে ইউন সুক ইওল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তিনি কখনো এ ধরনের অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেননি কিংবা পরে এর অনুমোদনও দেননি। তাদের বক্তব্য, উত্তর কোরিয়া কয়েক মাস ধরে সীমান্তের ওপারে আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠানোর প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছিল এবং এর সঙ্গে সামরিক আইন জারির কোনো সম্পর্ক ছিল না। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ইউনের বিরুদ্ধে ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। সাবেক এই রক্ষণশীল নেতা একসময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান প্রসিকিউটর ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টা দেশটিকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে দেয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আরেকটি মামলায় সামরিক আইন জারির চেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ইউনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত বছর সাংবিধানিক আদালত তার অভিশংসন বহাল রাখলে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত হন। এরপর অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসেন উদারপন্থী নেতা লি জে মিয়ং। বর্তমানে ইউন সুক ইওল কারাগারে রয়েছেন। তবে শুক্রবারের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ তার রয়েছে।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে এবং অর্থনৈতিক ও শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার (১ এপ্রিল) দেশটিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই আগ্রহের কথা জানান দক্ষিণ কোরিয়ার গণকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী লিম সাং উ। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই একটি ‘অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর হতে পারে, যা বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে বলে সিউল মনে করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তৌফিক ইসলাম শাতিল, দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে গত পাঁচ দশকে অবকাঠামো, তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল খাতে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দেশের নবনির্বাচিত সরকার সুশাসন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় দেশকে উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় দক্ষিণ কোরিয়াকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ঢাকা। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্যের মাধ্যমে দুই দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন ফুটে ওঠে। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় উভয় দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার। এই আয়োজন কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।