সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

নরওয়ে

নরওয়ের প্রয়াত রাজা হ্যারাল্ড ও তাঁর বড় বোন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড। ছবি: সংগৃহীত
নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের দুই দিন পর মারা গেলেন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড

নরওয়ের রাজপরিবারে নেমে এসেছে আরও এক দফা শোক। দেশটির প্রয়াত রাজা হ্যারাল্ডের বড় বোন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। শুক্রবার তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে নরওয়ের রাজপ্রাসাদ।   রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের মাত্র দুই দিন পর রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যু হলো। গত বুধবার অসলোতে অনুষ্ঠিত ভাইয়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়াই ছিল তাঁর শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি।   রাজপরিবারের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ জীবনে রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড উষ্ণতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজা হাকন অষ্টম তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং রাজপরিবারের জন্য তাঁর দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করেছেন।   রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের ভাই রাজা হ্যারাল্ড গত ২৮ আগস্ট ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। তিন দশকেরও বেশি সময় নরওয়ের সিংহাসনে থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। ৯ সেপ্টেম্বর অসলোতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাজপরিবার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।   ভাইয়ের শেষকৃত্যে অ্যাস্ট্রিডকে রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা যায়। এরপর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তাঁর নিজের মৃত্যুর খবর আসে। রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড নরওয়ের রাজপরিবারে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনে তিনি রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজপ্রাসাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার সঙ্গে এসব দায়িত্ব পালন করেন তিনি।   রাজা হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়ের সিংহাসনে বসেছেন তাঁর ছেলে হাকন অষ্টম। হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের মধ্য দিয়ে দেশটির রাজপরিবারে একটি দীর্ঘ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যু রাজপরিবারে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি করেছে।   রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যে অসলো শহরের রাস্তায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তাঁর কফিন রাজপ্রাসাদ থেকে অসলো ক্যাথেড্রালে নেওয়ার সময় হাজারো মানুষ শ্রদ্ধা জানান। পরে তাঁকে আকর্শুস দুর্গের রাজকীয় সমাধিতে সমাহিত করা হয়।   রয়টার্স জানিয়েছে, রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। সূত্র: রয়টার্স

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
৬০০ বছর পর নরওয়ের সিংহাসনে নারী
৬০০ বছর পর নরওয়ের সিংহাসনে নারী, ইতিহাস গড়ছেন ২২ বছরের ইনগ্রিড

নরওয়ের রাজপরিবারে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে হাকন অষ্টম সিংহাসনে বসায় ২২ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্সেস ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা এখন নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। ভবিষ্যতে তিনি রাজা হলে দেশটির ৬০০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে প্রথম নারী শাসক হবেন।   ১ সেপ্টেম্বর নরওয়ের পার্লামেন্ট স্টোরটিংয়ে নতুন রাজা হাকন অষ্টম সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের শপথ নেন। এর চার দিন আগে, ২৮ আগস্ট রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুর পর হাকন নরওয়ের নতুন রাজা হন।   শপথ অনুষ্ঠানে বাবার পাশে ছিলেন ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা। বাবার শপথের পর তিনি লিখিত একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে তাঁর উত্তরাধিকারীর অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়। ফলে রাজা হাকন ভ্রমণে থাকলে, অসুস্থ হলে বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকলে ইনগ্রিড আইন অনুযায়ী রিজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।   ইনগ্রিডের উত্তরাধিকারী হওয়াটিও ঐতিহাসিক। নরওয়ের আধুনিক রাজতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নতুন উত্তরাধিকারী প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। তাঁর বাবা হাকন ও দাদা হ্যারাল্ড তাঁদের বাবারা রাজা হওয়ার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।   ইনগ্রিডের উত্তরাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পেছনে নরওয়ের ১৯৯০ সালের উত্তরাধিকার আইনও গুরুত্বপূর্ণ। ওই পরিবর্তনের পর সিংহাসনের ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম বাতিল হয়ে বড় সন্তানকেই উত্তরাধিকারী করার বিধান চালু হয়। ফলে ইনগ্রিডের ছোট ভাই প্রিন্স স্ভের্রে ম্যাগনুস জন্ম নেওয়ার পরও তিনি উত্তরাধিকারীর অবস্থান হারাননি।   ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা সিংহাসনে বসলে নরওয়ের ইতিহাসে ৬০০ বছরেরও বেশি সময় পর কোনো নারী আবার দেশটির শাসক হবেন। সর্বশেষ নারী শাসক ছিলেন কুইন মার্গারেট, যিনি ১৩৮৮ থেকে ১৪১২ সাল পর্যন্ত শাসন করেছিলেন।   ইনগ্রিড বর্তমানে শিক্ষার্থী। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। পরে দেশে ফিরে ইউনিভার্সিটি অব অসলোতে পড়াশোনা শুরু করেন।   ইউরোপের ভবিষ্যৎ নারী শাসকদের সঙ্গেও ইনগ্রিডের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। বেলজিয়ামের প্রিন্সেস এলিজাবেথ ও নেদারল্যান্ডসের প্রিন্সেস ক্যাথারিনা-আমালিয়ার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব রয়েছে। তিনজনই নিজ নিজ দেশের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী।   রাজপরিবারের এই নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রার অবস্থান তাই শুধু নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই নয়, ইউরোপের রাজতন্ত্রে পরিবর্তনশীল নেতৃত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।  

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
নরওয়ের স্বালবার্ডে ঘুমন্ত মেরু ভাল্লুককে জাহাজের হর্ন বাজিয়ে জাগানোর অপরাধে এক ব্যক্তিকে বিপুল অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ঘুমন্ত মেরু ভাল্লুককে জাগানোর জন্য শাস্তি! গুনতে হলো ৫ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা

ঘুমিয়ে থাকা একটি মেরুভাল্লুককে ইচ্ছাকৃতভাবে জাহাজের হর্ন বাজিয়ে জাগানোর ঘটনায় নরওয়েতে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার নরওয়েজিয়ান ক্রোনার জরিমানা করা হয়েছে। মার্কিন মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৩০০ ডলার। নরওয়ের স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে চলতি আগস্টে ঘটনাটি ঘটে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি একটি নৌযানে করে স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় নৌযানে থাকা লোকজন স্থলভাগে একটি মেরু ভাল্লুককে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। এরপর ওই ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জাহাজের ফগহর্ন বাজান।   বিকট শব্দে মেরু ভাল্লুকটির ঘুম ভেঙে যায়। এরপর সেটি ওই স্থান ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যায়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   স্বালবার্ডের আইন অনুযায়ী, প্রয়োজন ছাড়া মেরু ভাল্লুককে বিরক্ত করা, আকৃষ্ট করা বা তাড়া করা নিষিদ্ধ। আইন ভাঙার দায়ে ওই ব্যক্তিকে ৫০ হাজার নরওয়েজিয়ান ক্রোনার জরিমানা করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি জরিমানা মেনে নিয়ে অর্থ পরিশোধ করেছেন।   নরওয়ের মূল ভূখণ্ড ও উত্তর মেরুর মাঝামাঝি আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত স্বালবার্ড  ভাল্লুকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। সেখানে ভাল্লুক দেখার জন্য প্রতি বছর বহু পর্যটক গেলেও প্রাণীগুলোর কাছাকাছি যাওয়া বা তাদের স্বাভাবিক আচরণে হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।   স্বালবার্ডে মেরু ভাল্লুক ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকে সুরক্ষিত প্রাণী হিসেবে বিশেষ আইনি সুরক্ষা পেয়ে আসছে। পর্যটন ও নৌযান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেরু ভাল্লুকের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাসহ বন্যপ্রাণী সুরক্ষার নিয়ম আরও গুরুত্বের সঙ্গে প্রয়োগ করা হচ্ছে।   কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বন্যপ্রাণীকে শুধু শারীরিকভাবে আঘাত করলেই আইন লঙ্ঘন হয় না। অপ্রয়োজনে শব্দ করে ভয় দেখানো বা বিশ্রামে থাকা প্রাণীকে স্থান পরিবর্তনে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও শাস্তিযোগ্য হতে পারে। এই ঘটনাতেও মেরু ভাল্লুকটির কোনো শারীরিক ক্ষতির খবর না থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটানোর কারণেই জরিমানা করা হয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের ফোনে বদলে যায় ফিফার সিদ্ধান্ত, ট্রাম্পের প্রভাব নিয়ে ফিফাকে কাঠগড়ায় তুলছে নরওয়ে

বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)।   ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের পরবর্তী বোর্ড সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে অভিযোগটি ফিফার স্বাধীন তদন্ত কমিটির কাছে জমা দেওয়া হবে।   বিতর্কের সূত্রপাত বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বালোগুনের লাল কার্ড পাওয়ার পর। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু পরে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাঁকে মাঠে নামার অনুমতি দেয়।   পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এরপর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন। এই ঘটনাকে ঘিরে ইউরোপের ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।   নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যদি শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তবে তা ফুটবলের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক নজির।   এর আগেও ট্রাম্পকে ফিফার প্রস্তাবিত ‘পিস প্রাইজ’ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল নরওয়ে। ফেডারেশন জানিয়েছে, নতুন অভিযোগে সেই বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।   অন্যদিকে ফিফা বলেছে, তাদের বিচারিক সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত ফিফার প্রচলিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসারেই নেওয়া হয়েছে।   বালোগুনকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন শুধু একটি শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং বিচারিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িক স্থগিতের দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। ছবি: সংগৃহীত
ফিফা থেকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধের দাবি, এবার ইউরোপে চাপ বাড়াচ্ছে নরওয়ে

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইসরায়েলকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এবার ইউরোপের ভেতরেই কূটনৈতিক ও ক্রীড়া পর্যায়ে চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নরওয়ে। রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) ইউরোপীয় ফুটবল মহলে এ বিষয়ে সমর্থন গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।   এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনএফএফ সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস। তিনি একজন আইনজীবী, নরওয়ে নারী জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় এবং বর্তমানে উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার মতে, কোনো দেশকে একতরফাভাবে বয়কট করার পরিবর্তে ফিফা ও উয়েফার আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। গত বছর অসলোতে নরওয়ে ও ইসরায়েলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে ক্লাভেনেস প্রকাশ্যে বলেন, নরওয়ে বিশ্বাস করে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা উচিত। তার ভাষায়, বিষয়টি মূলত ফুটবলের নিয়ম ও নীতিমালা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের প্রশ্ন।   তবে নরওয়ে সেই ম্যাচ বয়কট করেনি। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, ম্যাচে অংশ না নিলে ইসরায়েল ওয়াকওভার পেয়ে যেত, যা তাদের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিত। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ম্যাচটি ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে জিতে নেয়। নরওয়ের অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি হলো ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের পর ফিফা ও উয়েফার নেওয়া সিদ্ধান্ত। সে সময় রাশিয়ার জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। ক্লাভেনেস এবং তার সমর্থকদের দাবি, এই দুই ঘটনার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ ফুটবলের নীতিমালা ও মানবাধিকারবিষয়ক মানদণ্ড সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।   ২০২৪ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন জানায়। তাদের অভিযোগের মধ্যে ছিল গাজায় সামরিক অভিযান, ফিলিস্তিনি ও আরব ক্রীড়াবিদদের প্রতি বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিতে অবস্থিত ক্লাবগুলোর ইসরায়েলি লিগে অংশগ্রহণ। মানবাধিকারবিষয়ক কয়েকজন আইনজীবীও দাবি করেছেন, বৈষম্যবিরোধী নীতি, মানবাধিকারবিষয়ক মানদণ্ড এবং অধিকৃত অঞ্চলে ক্লাব পরিচালনা সংক্রান্ত ফিফার বিভিন্ন বিধিমালা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন লঙ্ঘন করেছে। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরওয়ের সক্রিয় ভূমিকার ফলে বিষয়টি এখন আর শুধু আরব বা এশিয়ার ফুটবল সংস্থাগুলোর আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।   এদিকে অসলোতে নরওয়ে-ইসরায়েল ম্যাচকে ঘিরেও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির বিভিন্ন কর্মসূচি দেখা যায়। নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ম্যাচের টিকিট বিক্রির অর্থ গাজার চিকিৎসা সহায়তার জন্য দান করে। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে বহু দর্শক ফিলিস্তিনের পতাকা ও কেফিয়েহ প্রদর্শন করেন। স্টেডিয়ামে "শিশুদের বাঁচতে দাও" লেখা একটি ব্যানারও টানানো হয়। একই সময়ে স্টেডিয়ামের বাইরে শত শত বিক্ষোভকারী ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সমাবেশ করেন। চলতি বছরের মার্চে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ক্লাবগুলোর ইস্যুতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন নাকচ করে ফিফা। তবে বৈষম্য ও আপত্তিকর আচরণসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে সংস্থাটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়।   এর পাশাপাশি ফিফা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বাধ্যতামূলক বৈষম্য প্রতিরোধ পরিকল্পনা গ্রহণ, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষা কার্যক্রম চালু, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার এবং ম্যাচে বৈষম্যবিরোধী বার্তা প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়।   ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকজন ফুটবল কর্মকর্তা এ বিষয়ে ফিফা ও উয়েফার আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ফিফা বা উয়েফা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নরওয়ের সাগরে মিলল ‘টাইম ক্যাপসুল’ জাহাজ, অক্ষত রয়েছে আঠারো শতকের মূল্যবান পণ্য

উত্তর ইউরোপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নরওয়ের জলসীমায় আঠারো শতকের একটি প্রাচীন জাহাজের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। নরওয়েজিয়ান ডিরেক্টরেট ফর কালচারাল হেরিটেজ-এর পরিচালক হানা গেইরান জানিয়েছেন, জাহাজটিতে থাকা অক্ষত পণ্যসামগ্রী উত্তর ইউরোপে এর আগে আবিষ্কৃত যেকোনো জাহাজের ধ্বংসাবশেষের চেয়ে একেবারেই আলাদা ও বিরল। গত জুনের শুরুর দিকে এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে সংস্থাটি।   ঐতিহাসিক এই ধ্বংসাবশেষটি আবিষ্কার করেছেন ঘড়ির নকশাকার এসপেন সাসতাড, যিনি একটি ছোট রিমোটলি অপারেটেড ভেহিকেল (আরওভি) এবং জরিপকারী কোম্পানি পরিচালনা করেন। নরওয়ের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের স্কাগেরাক প্রণালির প্রায় ১,৯৭০ ফুট গভীরে সমুদ্রতলে জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। সাগরের তলদেশ থেকে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা গেছে, জাহাজের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে চীনা পোর্সেলিনের থালাবাসনসহ অন্যান্য প্রাচীন নিদর্শন স্তূপাকারে পড়ে রয়েছে। গেইরান জানিয়েছেন, আঠারো শতকের কোনো জাহাজে এতটা নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত পণ্য খুঁজে পাওয়ার ঘটনা সত্যিই বিরল।   এখন পর্যন্ত জাহাজটি থেকে বিপুল পরিমাণ অক্ষত চীনা পোর্সেলিন বা চীনামাটির বাসনপত্র শনাক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঝাড়বাতির অংশবিশেষ, পানপাত্র (গবলেট), বোতল এবং শস্যভর্তি ব্যারেলেরও সন্ধান মিলেছে। গেইরান জানান, সেখানে সারি সারি বাক্স বা ক্রেট আবিষ্কৃত হলেও সেগুলো এখনো পুরোপুরি পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এর একটিতে টেক্সটাইল বা বস্ত্রজাতীয় পণ্য এবং অন্যটিতে চা, লতাপাতা ও ওষুধের মতো বিভিন্ন জৈব পদার্থ থাকতে পারে। বয়স বিবেচনায় পণ্যগুলো অবিশ্বাস্যভাবে অক্ষত থাকলেও, আধুনিক ট্রলারের কারণে ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   জাহাজটি কোথা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বা এর গন্তব্য কোথায় ছিল, সে বিষয়ে গবেষকরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে গেইরান মনে করেন, ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার হওয়া ছোটখাটো সূত্রগুলোই তাদের উত্তরের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, চীনা পোর্সেলিন ছাড়াও অন্যান্য বিলাসবহুল পণ্যগুলো ইংল্যান্ড বা জার্মানি থেকে এসে থাকতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্রটি হলো জাহাজের রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ইট, যাতে ‘লুবেকার রাটজিগেলেই’ (Lübecker Ratsziegelei)-এর সিলমোহর রয়েছে। এটি জার্মানির লুবেক শহরের একটি সুপরিচিত ইটভাটা, যা পনেরো শতক থেকে ১৭৭২ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।   গবেষকরা এই পণ্যের আদি আর্থিক মূল্য সঠিকভাবে নিরূপণ করতে না পারলেও, আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে পোর্সেলিনকে ইউরোপের অভিজাতদের কাছে একটি অত্যন্ত বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে বর্তমানে এর আর্থিক মূল্যের চেয়ে একটি সংরক্ষিত সাংস্কৃতিক স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবেই এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক বেশি। ভবিষ্যতে আরও অনুসন্ধান চালালে নতুন কোনো নিদর্শন পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে গবেষকরা অত্যন্ত আশাবাদী। সাগরের তলদেশ থেকে পাওয়া ছবিতে পোর্সেলিনের তৈরি একটি চমৎকার পদ্মফুলের ঝলকও দেখা গেছে, যা এই প্রত্নতাত্ত্বিক অভিযানকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিল ছবি: সংগৃহীত
২৪ বছরের খরা কাটল না, নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিল

মিশন ছিল বিশ্বমঞ্চে ষষ্ঠ শিরোপা বা 'হেক্সা' জয় করা। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে উল্টো এক ট্র্যাজিক হেক্সার বৃত্ত পূরণ হলো ব্রাজিলের। এই নিয়ে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে ব্যর্থ হলো ফুটবলের সফলতম এই দেশটি। সেই ২০০২ সালে এশিয়ার মাটিতে রোনালদো-রিভালদোদের হাত ধরে সর্বশেষ সোনালি ট্রফিতে চুমু খেয়েছিল সেলেসাওরা। এরপর দীর্ঘ ২৪টি বছর কেটে গেলেও বিশ্বকাপের ট্রফি আর ব্রাজিলে ফেরানো সম্ভব হয়নি।   চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই। কিন্তু মাঠের খেলায় ভাগ্য ও পারফরম্যান্স কোনোটিই পক্ষে ছিল না দলটির। প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিসের ধাক্কা এবং দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল ব্রাজিলকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে নেইমার জুনিয়র পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও তা কেবল সান্ত্বনার তালিকাই ভারী করেছে, ব্রাজিলের বিদায় আটকাতে পারেনি।   ২০০২ সালের পর থেকে প্রতিবারই ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে ব্রাজিল। কিন্তু ২০০৬, ২০১০, ২০১৮, ২০২২ এবং এবার ২০২৬—এই পাঁচবারই কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই থামতে হয়েছে তাদের। আর ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে সেমিফাইনালের সেই ৭-১ গোলের দুঃস্বপ্ন তো রয়েছেই। সোনালি ট্রফি জয়ের মিশন নিয়ে এসে প্রতিবারই এভাবে খালি হাতে ফিরতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।   রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের মধ্যেই নেইমারসহ ব্রাজিলের ফুটবলারদের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন কোটি সমর্থকের সেই ২৪ বছরের কান্নারই প্রতিচ্ছবি। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফির খোঁজে আসা সেলেসাওদের এখন আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। আর এর মধ্য দিয়েই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হলো টানা ছয়টি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ট্রফিহীন থাকার এক অনাকাঙ্ক্ষিত দীর্ঘ খরা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
শক্তিশালী একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল
নরওয়েকে বিদায় করতে শক্তিশালী একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার মর্যাদাপূর্ণ লড়াইয়ে আজ নরওয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড সমৃদ্ধ নরওয়েকে রুখতে এবং মাঠে নিজেদের চিরচেনা আধিপত্য বজায় রাখতে অভিজ্ঞ ও তরুণদের মিশ্রণে এক শক্তিশালী শুরুর একাদশ ঘোষণা করেছে সেলেসাওরা।   আজকের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলের গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক আলিসন বেকার। রক্ষণভাগ সামলানোর মূল দায়িত্ব থাকছে অভিজ্ঞ মার্কিনিওস এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের ওপর। উইং ব্যাক হিসেবে রক্ষণ ও আক্রমণ দুই বিভাগেই সমানভাবে সাহায্য করবেন দলের অধিনায়ক দানিলো এবং দগলাস সান্তোস।   মাঝমাঠের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নরওয়ের আক্রমণ রুখতে অভিজ্ঞ কাসেমিরোর সঙ্গে জুটি বাঁধবেন ব্রুনো গিমারাইস। তাদের ঠিক সামনে মাঝমাঠ ও উইংয়ের সংযোগ সেতু হিসেবে খেলবেন আর্সেনাল তারকা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। অন্যদিকে, আক্রমণভাগে নরওয়ে রক্ষণভাগকে চূর্ণ করতে মূল অস্ত্রের ভূমিকায় থাকবেন রিয়াল মাদ্রিদ মহাতারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্ট্রাইকার পজিশনে মাতেউস কুনিয়ার ওপর ভরসা রেখেছে ব্রাজিল কোচ, আর তাদের সঙ্গে ডানপ্রান্তের আক্রমণে থাকবেন উদীয়মান তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
দেম্বেলের রেকর্ডগড়া হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ফ্রান্স l ছবি: সংগৃহীত
দেম্বেলের ৩২ মিনিটের হ্যাটট্রিকে নরওয়েকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স

আর্লিং হালান্ডকে ছাড়া মাঠে নামা নরওয়ের জন্য গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল এক চরম দুঃস্বপ্নে। শুরুর একাদশে ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে থাকলেও, মাঠের ফুটবলে সব আলো নিজের দিকে টেনে নেন সদ্য ব্যালন ডি’অর জয়ী উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে। তার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ভর করে নরওয়েকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরের পর্ব নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নেয় দিদিয়ের দেশমের দল। ফলস্বরূপ, মাত্র সপ্তম মিনিটেই দলের প্রথম গোলটি আদায় করে নেন দেম্বেলে। এর কিছুক্ষণ পর, ২০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। দুই গোল হজমের পর নরওয়েও দ্রুত লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ২১তম মিনিটে থেলোনিয়াস আসগার্ডের দারুণ এক গোলে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনে তারা। কিন্তু ফরাসিদের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে নরওয়ের রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রতিরোধ ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।   ম্যাচের ৩২তম মিনিটে এক অসাধারণ দলীয় বোঝাপড়ার মাধ্যমে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন দেম্বেলে। মাঝমাঠ থেকে অরেলিয়েন চুয়ামেনির বাড়ানো বল বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের দারুণ এক বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি, যেখানে নরওয়ের গোলরক্ষকের তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। মাত্র ৩২ মিনিটে করা এই হ্যাটট্রিকটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক হিসেবে রেকর্ড বুকে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে চেকোশ্লোভাকিয়ার বিপক্ষে মাত্র ২৪ মিনিটে হ্যাটট্রিক করে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রিয়ার সাবেক স্ট্রাইকার এরিক প্রবস্ট।   বিরতির পর নরওয়ে ম্যাচে ফেরার একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেনাল্টি বক্সে অস্কার বব ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেনের নেওয়া দুর্বল স্পটকিকটি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইনিঁয়া। এরপর ফরাসিদের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের মাঝেই যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে দেজিরে দুয়ের গোলে ৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
নরওয়ের রাজকুমারী মেটে-মারিটের পুত্র মারিয়াস বোরগ হোইবি | ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষণের দায়ে নরওয়ের রাজকুমারীর ছেলের ৪ বছরের জেল

নরওয়ের যুবরাজবধূ মেটে-মারিটের বড় ছেলে মারিয়াস বোর্গ হইবিকে ধর্ষণের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। আজ সোমবার অসলোর জেলা আদালত ৪টি ধর্ষণ মামলার মধ্যে ২টিতে হইবিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা ঘোষণা করেন। বাকি দুটি ধর্ষণের অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হলেও মারধর ও পারিবারিক নির্যাতনের আলাদা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।   কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের পক্ষ থেকে দণ্ডিত হইবিকে ভুক্তভোগী নারীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, উনত্রিশ বছর বয়সী হইবির বিরুদ্ধে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারজন নারীকে ঘুমন্ত বা অবশ অবস্থায় যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মারধর, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যসহ মোট ৪০টি ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।   এই দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় হইবি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও অন্যান্য ছোটখাটো অপরাধের কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছিলেন। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অসলো জেলা আদালতের কাছে হইবির জন্য সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস চেয়ে এবং অন্যান্য স্বীকার করা অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ আঠারো মাসের সাজা দেওয়ার আবেদন করেছিলেন।   তবে আজ সোমবার রায় ঘোষণার সময় হইবি শারীরিক অসুস্থতার কারণে সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি কারাগার থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে আদালতের এই রায় শোনেন। গত মার্চ মাসে শেষ হওয়া এই ছয় সপ্তাহের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় একাধিক ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং হইবির মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন বার্তা, ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অবশ্য এই রায়ই চূড়ান্ত নয় এবং হইবি চাইলে এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।   অভিযুক্ত মারিয়াস বোর্গ হইবি রাজপরিবারের সরাসরি সদস্য না হওয়ায় তাঁর কোনো রাজকীয় উপাধি বা অফিশিয়াল দায়িত্ব নেই। তিনি নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ হাকোনের সাথে মেটে-মারিটের বিয়ের আগের সম্পর্কের সন্তান। তবে ভবিষ্যৎ রাজার পরিবারে একসঙ্গে বড় হওয়ার কারণে এই মামলাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।   যুবরাজবধূ মেটে-মারিটের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই মামলা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে। ফুসফুসের জটিল রোগে আক্রান্ত মেটে-মারিট বর্তমানে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে রায়ের আগে হইবিকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে আইনি লড়াই চললেও আদালত রায় ঘোষণা পর্যন্ত তাঁকে কারাগারেই রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত নরওয়ের রাজকন্যার ছেলে, ৪ বছরের কারাদণ্ড

নরওয়ের রাজকন্যা মেতে-মারিতের ছেলে মারিয়াস বোরগ হোইবিকে ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ওসলো আদালত। একই সঙ্গে একজন ভুক্তভোগী নারীকে সুরক্ষার জন্য তার চলাচলের ওপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।   সোমবার (তারিখ উল্লেখ নেই) সকালে ওসলো আদালত দীর্ঘ বিচার কার্যক্রম শেষে এই রায় ঘোষণা করে। প্রায় তিন মাস আগে শুরু হওয়া এবং ছয় সপ্তাহব্যাপী আলোচিত এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে আগেই ব্যাপক ভিড় দেখা যায়।   রায়ে বিচারক ইয়ন স্ভেরদ্রুপ এফিয়েস্তাদ তার সাবেক প্রেমিকা নোরা হাউকল্যান্ডকে নির্যাতনের অভিযোগে হোইবিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মামলার ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেবল নোরা হাউকল্যান্ডের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। আদালত হোইবিকে হাউকল্যান্ডসহ আরও তিনজন নারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।   তবে একই মামলায় আনা ধর্ষণের আরও দুটি অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান। মামলায় মোট ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছিল হোইবির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ছিল চারটি ধর্ষণের অভিযোগ, হামলা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং যানবাহন সংক্রান্ত অপরাধ। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের একটি অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়।   ২৯ বছর বয়সি হোইবি আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, বিশেষ করে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কিছু কম গুরুতর অপরাধের দায় তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তার আইনজীবীরা তাকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন। সেই অনুযায়ী তিনি ইলা কারাগার থেকে অনলাইনে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন।   রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিল। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষ সর্বোচ্চ ১৮ মাসের সাজা দাবি করে, ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস চেয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারজন নারীকে কেন্দ্র করে ধর্ষণের ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়। প্রতিটি ঘটনায় বলা হয়, ভুক্তভোগীরা ঘুমন্ত অবস্থায় বা অসহায় পরিস্থিতিতে ছিলেন।   এই রায় নরওয়ের রাজপরিবারের জন্যও কঠিন সময়ের মধ্যে এলো। কারণ হোইবির মা রাজকন্যা মেতে-মারিত দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। পাশাপাশি পরিবারের বিরুদ্ধে অতীতে বিতর্কিত সম্পর্ক নিয়ে জনসমালোচনাও রয়েছে।   গত সপ্তাহে আদালত তাকে সাময়িক মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করলেও পরে আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে। তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে আটক ছিলেন। এই মামলা নরওয়ে ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Unknown জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস্পেন বার্থ এইড
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিক পথেই সমাধান চায় বৈশ্বিক জোট: নরওয়ে

হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা নিরসনে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বিশ্বজুড়ে কূটনীতিকদের একটি বড় জোট। সামরিক অভিযানের পরিবর্তে তারা এখন সংকট মোকাবিলায় কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস্পেন বার্থ এইড এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি ৪০টিরও বেশি দেশের কূটনীতিকদের নিয়ে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধস নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইড বলেন, "যুদ্ধ চলাকালীন সামরিকভাবে আসলে কতটুকু অর্জন করা সম্ভব, সে বিষয়ে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। এই জোট ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক পন্থায় অগ্রসর হবে।" নরওয়ের এই অবস্থানের সাথে একমত পোষণ করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তিনি ইরানের সাথে আলোচনার পক্ষ নিয়ে বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথটি পুনরায় সচল করার জন্য সামরিক হস্তক্ষেপের চিন্তা করা "অবাস্তব"। উল্লেখ্য যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার জন্য সমালোচনা করেছিলেন এবং তাদের হরমুজ প্রণালী "দখল" করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি তিনি ন্যাটো (NATO) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকিও দেন। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যাটো জোটের কৌশলগত পার্থক্যের কথা মনে করিয়ে দেন। এস্পেন বার্থ এইড স্পষ্ট করে বলেন, "যখন কোনো সদস্য রাষ্ট্র নিজেদের পছন্দে অন্য কোথাও যুদ্ধ শুরু করে, তখন ন্যাটো সেই যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য নয়। তবে ৯/১১ হামলার সময় আমাদের এক সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।" বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব নেতারা যুদ্ধের দাবানল আরও ছড়িয়ে না দিয়ে আলোচনার টেবিলেই সংকটের সমাধান খুঁজছেন।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০