সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

৬০০ বছর পর নরওয়ের সিংহাসনে নারী, ইতিহাস গড়ছেন ২২ বছরের ইনগ্রিড

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৩:৭
৬০০ বছর পর নরওয়ের সিংহাসনে নারী
৬০০ বছর পর নরওয়ের সিংহাসনে নারী

নরওয়ের রাজপরিবারে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে হাকন অষ্টম সিংহাসনে বসায় ২২ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্সেস ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা এখন নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। ভবিষ্যতে তিনি রাজা হলে দেশটির ৬০০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে প্রথম নারী শাসক হবেন।

 

১ সেপ্টেম্বর নরওয়ের পার্লামেন্ট স্টোরটিংয়ে নতুন রাজা হাকন অষ্টম সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের শপথ নেন। এর চার দিন আগে, ২৮ আগস্ট রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুর পর হাকন নরওয়ের নতুন রাজা হন।

 

শপথ অনুষ্ঠানে বাবার পাশে ছিলেন ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা। বাবার শপথের পর তিনি লিখিত একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে তাঁর উত্তরাধিকারীর অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়। ফলে রাজা হাকন ভ্রমণে থাকলে, অসুস্থ হলে বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকলে ইনগ্রিড আইন অনুযায়ী রিজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

 

ইনগ্রিডের উত্তরাধিকারী হওয়াটিও ঐতিহাসিক। নরওয়ের আধুনিক রাজতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নতুন উত্তরাধিকারী প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। তাঁর বাবা হাকন ও দাদা হ্যারাল্ড তাঁদের বাবারা রাজা হওয়ার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।

 

ইনগ্রিডের উত্তরাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পেছনে নরওয়ের ১৯৯০ সালের উত্তরাধিকার আইনও গুরুত্বপূর্ণ। ওই পরিবর্তনের পর সিংহাসনের ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম বাতিল হয়ে বড় সন্তানকেই উত্তরাধিকারী করার বিধান চালু হয়। ফলে ইনগ্রিডের ছোট ভাই প্রিন্স স্ভের্রে ম্যাগনুস জন্ম নেওয়ার পরও তিনি উত্তরাধিকারীর অবস্থান হারাননি।

 

ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা সিংহাসনে বসলে নরওয়ের ইতিহাসে ৬০০ বছরেরও বেশি সময় পর কোনো নারী আবার দেশটির শাসক হবেন। সর্বশেষ নারী শাসক ছিলেন কুইন মার্গারেট, যিনি ১৩৮৮ থেকে ১৪১২ সাল পর্যন্ত শাসন করেছিলেন।

 

ইনগ্রিড বর্তমানে শিক্ষার্থী। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। পরে দেশে ফিরে ইউনিভার্সিটি অব অসলোতে পড়াশোনা শুরু করেন।

 

ইউরোপের ভবিষ্যৎ নারী শাসকদের সঙ্গেও ইনগ্রিডের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। বেলজিয়ামের প্রিন্সেস এলিজাবেথ ও নেদারল্যান্ডসের প্রিন্সেস ক্যাথারিনা-আমালিয়ার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব রয়েছে। তিনজনই নিজ নিজ দেশের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী।

 

রাজপরিবারের এই নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রার অবস্থান তাই শুধু নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই নয়, ইউরোপের রাজতন্ত্রে পরিবর্তনশীল নেতৃত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।

 


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
প্যারিসে ভারতীয় হিন্দুদের গণেশ উৎসবের ভিডিও ভাইরাল
প্যারিসে ভারতীয় হিন্দুদের গণেশ উৎসবের ভিডিও ভাইরাল, অভিবাসন নিয়ে নতুন বিতর্ক

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গণেশ চতুর্থীর শোভাযাত্রায় রাস্তায় নারকেল ভাঙার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। ধর্মীয় এই ঐতিহ্য নিয়ে কেউ পরিচ্ছন্নতা ও জনপরিসর ব্যবহারের প্রশ্ন তুলেছেন, আবার কেউ এটিকে হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে সমর্থন করেছেন।   রোববার, ৩০ আগস্ট প্যারিসের লা শাপেল এলাকায় শ্রী মানিকা বিনায়ক আলায়াম মন্দিরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক গণেশ উৎসব। প্যারিস ট্যুরিজম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৮তম অ্যারোঁদিসমঁর এই মন্দিরটি ফ্রান্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উপাসনালয় এবং লা শাপেল এলাকার দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির সঙ্গে এর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।   ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মন্দির থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। ফুল ও নানা উপকরণে সাজানো রথে ছিল গণেশের প্রতিমা। সঙ্গে ছিলেন নৃত্যশিল্পী, গায়ক ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পীরা। শোভাযাত্রার পথে ভক্তদের মধ্যে মিষ্টি ও আশীর্বাদপুষ্ট প্রসাদও বিতরণ করা হয়।   এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় রীতি হলো গণেশের রথের সামনে নারকেল ভাঙা। প্যারিস ট্যুরিজম অফিসের তথ্যেও শোভাযাত্রার অংশ হিসেবে পথে নারকেল ভাঙার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় প্রথায় নারকেল ভাঙাকে দেবতার উদ্দেশে নিবেদনের একটি প্রতীকী রীতি হিসেবে দেখা হয়।   উৎসবের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অবশ্য ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নারকেল ভাঙার কারণে রাস্তায় আবর্জনা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। কেউ কেউ আবার এমন প্রকাশ্য ধর্মীয় আয়োজন ইউরোপে ভারতীয় ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী কমিউনিটির ভাবমূর্তিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও মন্তব্য করেন।   তবে সমালোচনার পাশাপাশি উৎসবের পক্ষে অবস্থান নেন অনেকে। কয়েকজন অংশগ্রহণকারী দাবি করেন, এটি প্যারিসে দীর্ঘদিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা নিয়মিত আয়োজন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই শোভাযাত্রা পরিচালনা করা হয়। তাদের ভাষ্য, আয়োজন শেষে রাস্তাগুলো পরিষ্কার করার ব্যবস্থাও থাকে।   প্যারিসের লা শাপেল এলাকায় গণেশ উৎসবটি কয়েক দশক ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারও শোভাযাত্রাটি মার্কস দোরমোয়া এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ধর্মীয় আয়োজন হলেও এটি এখন প্যারিসের দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির একটি পরিচিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ৩:৪৩
৬০০ বছর পর নরওয়ের সিংহাসনে নারী

৬০০ বছর পর নরওয়ের সিংহাসনে নারী, ইতিহাস গড়ছেন ২২ বছরের ইনগ্রিড

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, শিশুসহ নিহত ৫

গোপনীয়তা নষ্ট করায় উল্টো স্বামীকেই জেলে পাঠাল আদালত!

গোপন ক্যামেরায় স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ, গোপনীয়তা নষ্ট করায় উল্টো স্বামীকেই জেলে পাঠাল আদালত!

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি। ছবি: সংগৃহীত
অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা চলবে: ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কথিত ‘অপরাধের জন্য অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাবে ইরান।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া এক বক্তব্যে জোলফাঘারি বলেন, দক্ষিণ ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানি বাহিনী অঞ্চলটির বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।   ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, এসব পাল্টা হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামো, স্থাপনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ মার্কিন কমান্ডার ও সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   জোলফাঘারি বলেন, “আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এসব আক্রমণাত্মক অভিযান চলতে থাকবে, যতক্ষণ না তারা তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরানের পরবর্তী জবাব আরও “ভারী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক” হবে। তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সহযোগী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করা যেকোনো দেশকে এর ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ মেনে নিতে হবে। এর আগে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর সামনে আসে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।   আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে সামরিক অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত রয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে ইরানের কর্মকর্তার করা নিহত ও আহতের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথ থাকায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   সংবাদসূত্র: আলজাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ০:৪
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত সাত বছরের শিশু ইসরা আল-হিসি। ছবি: সংগৃহীত

জীবন শুরু হওয়ার আগেই ইসরায়েলি বুলেট কেড়ে নিল ফিলিস্তিনি শিশুর নিষ্পাপ শৈশব

ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার পর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, জবাবে ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হামলা

ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানিদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন মার্কিন স্পিকার মাইক জনসন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানিদের বিশ্বাস করা যায় না, মিথ্যা বলা তাদের ধর্মের অংশ: মার্কিন স্পিকার মাইক জনসন

এবারের গরমে জার্মানিতে ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু
এবারের গরমে জার্মানিতে ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু

জার্মানিতে এবারের গ্রীষ্মে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এবারের গ্রীষ্ম দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় উষ্ণতম হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।   সোমবার (৩১ আগস্ট) গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার দিনে জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর (DWD) জানায়, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশটির গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০০৩ সালে গড় তাপমাত্রা ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল, যা এখন পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ।   এবার জার্মানিতে গড়ে ২২ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। প্রায় পাঁচ দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। জুনের শেষ দিকে দেশটির কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি উঠেছিল।   রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের (RKI) হিসাব অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুনের শেষের তীব্র তাপপ্রবাহেই মারা গেছেন প্রায় ৯ হাজার ৬০০ জন।   জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, জুনের শেষের তাপপ্রবাহ ছিল বিশেষভাবে ভয়াবহ। সংস্থাটি বলছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।   তীব্র গরমের পাশাপাশি দীর্ঘ খরায়ও বিপর্যস্ত হয়েছে জার্মানি। পানির স্তর কমে যাওয়ায় রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় ফেরি চলাচলও বন্ধ রাখতে হয়েছে। পশ্চিম জার্মানির কয়েকটি অঞ্চলে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের দাবানল।   এদিকে প্রতিবেশী অস্ট্রিয়াতেও এবারের গ্রীষ্ম ছিল রেকর্ড উষ্ণ। দেশটির ২৬০ বছরের আবহাওয়া রেকর্ড অনুযায়ী, এবারের গ্রীষ্ম ছিল সবচেয়ে উষ্ণ। প্রথমবারের মতো সেখানে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ৮:৫৫
ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

যুদ্ধ ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক চায় আফগানিস্তান

যুদ্ধ ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক চায় আফগানিস্তান

বকেয়া বিল না দেওয়ায় তরুণীর মাথা ন্যাড়া

বকেয়া বিল না দেওয়ায় তরুণীর মাথা ন্যাড়া, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ল সামাজিক মাধ্যমে

0 Comments