বিশ্ব

ব্রিটেনে রাজনৈতিক টালমাটাল: ১০ বছরে ৭ প্রধানমন্ত্রী কেন?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ৮:৩০
১০ বছরে ৭ প্রধানমন্ত্রী কেন?
১০ বছরে ৭ প্রধানমন্ত্রী কেন?

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে টানা অস্থিরতার মধ্যে অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার। সোমবার (২২ জুন) লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে এক আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। দলীয় আইনপ্রণেতাদের ক্রমবর্ধমান চাপ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

ব্রিটিশ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। সাধারণ নির্বাচনে জনগণ তাদের এলাকার প্রতিনিধিকে ভোট দিয়ে হাউস অব কমন্সে পাঠান। যে দল সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, সেই দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হন। ফলে দলের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তন হলে, সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী বদলানো সম্ভব।

 

এই ব্যবস্থার কারণেই গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে নজিরবিহীনভাবে দ্রুত প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন ঘটেছে। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে এখন পর্যন্ত সাতজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে একজন নেতা ডাউনিং স্ট্রিটে অবস্থান করতেন—উইনস্টন চার্চিল, মার্গারেট থ্যাচার বা টনি ব্লেয়ারের মতো নেতারা বছরের পর বছর ক্ষমতায় ছিলেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান অস্থিরতার সূচনা ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোট থেকেই। ওই গণভোটে অল্প ব্যবধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে রায় আসে, যা দেশের রাজনীতিতে গভীর বিভাজন তৈরি করে। গণভোটের ফল প্রকাশের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করেন। এরপর দায়িত্ব নেন থেরেসা মে, কিন্তু দলীয় বিভক্তির কারণে তিনি ব্রেক্সিট কার্যকর করতে গিয়ে চাপে পড়ে ২০১৯ সালে সরে দাঁড়ান।

 

তার উত্তরসূরি বরিস জনসন ‘ব্রেক্সিট সম্পন্ন’ করার অঙ্গীকারে ক্ষমতায় এলেও, কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিধিনিষেধ ভঙ্গসহ একাধিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। ‘পার্টিগেট’ কেলেঙ্কারির জেরে শেষ পর্যন্ত তাকেও পদত্যাগ করতে হয়।

 

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের সময়কাল ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ব্যর্থতায় মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় তাকে সরে যেতে হয়। এরপর দায়িত্ব নেন ঋষি সুনাক, কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে না পারায় ২০২৪ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভদের পরাজয় ঘটে।

 

ওই নির্বাচনে বড় জয় পেয়ে ক্ষমতায় আসে লেবার পার্টি এবং কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হন। তবে ক্ষমতায় আসার দুই বছরের মধ্যেই তার সরকার নানা সংকটে পড়ে। নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং জনসমর্থন হ্রাস—সব মিলিয়ে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

 

বিশেষ করে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফল দলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলে। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা পদত্যাগ করেন এবং স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত দলীয় চাপে নতি স্বীকার করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

 

বক্তব্যে স্টারমার বলেন, “আগামী নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি সঠিক ব্যক্তি কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে। আমি সেই প্রশ্নের উত্তর মেনে নিচ্ছি।” তিনি জানান, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

এদিকে তার পদত্যাগের পর লেবার পার্টির নতুন নেতা কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম সামনে আসছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী জুলাইয়ের শুরুতে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যগত দুই-দলীয় রাজনীতির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই সুযোগে বিকল্প শক্তি হিসেবে উঠে আসছে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে দল, যা সাম্প্রতিক নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।

 

জনমত বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৬ সালের পর থেকে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত না হওয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন এখন যুক্তরাজ্যের নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ দিয়েছেন ডেনমার্কের রাজকুমারী ইসাবেলা। ছবি: সংগৃহীত
রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে যোগ দিলেন ডেনমার্কের ১৯ বছর বয়সী রাজকুমারী ইসাবেলা

ডেনমার্কের ১৯ বছর বয়সী রাজকুমারী ইসাবেলা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ দিয়েছেন। ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ডেনমার্ক যখন সামরিক নিয়োগ সম্প্রসারণ করছে, ঠিক সেই সময়েই দেশটির রাজপরিবারের এই সদস্যের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   রাজকুমারী ইসাবেলা হলেন ডেনমার্কের রাজা দশম ফ্রেডেরিক এবং রানি মেরির কন্যা। রাজপরিবারের সদস্য হলেও দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তিনি সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ১ হাজার ৬০০ নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যের সঙ্গে মোট ১১ মাসের সামরিক সেবা সম্পন্ন করবেন। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ মাস থাকবে মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তী ছয় মাস থাকবে কার্যকরী সামরিক দায়িত্ব। তিনি স্লাগেলসে শহরে অবস্থিত গার্ড হুসার রেজিমেন্টে প্রশিক্ষণ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।   রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া, আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং উত্তর ইউরোপে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যও ডেনমার্কে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।   ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কৌশলগত ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক—দুই পক্ষই বারবার স্পষ্ট করেছে, অঞ্চলটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ধরনের দাবি তারা গ্রহণ করবে না।   প্রতিরক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে ডেনমার্ক সামরিক নিয়োগে নারীদেরও বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে আগে যেখানে সামরিক সেবার মেয়াদ ছিল চার মাস, এখন তা বাড়িয়ে ১১ মাস করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যের সংখ্যা আরও আড়াই হাজার বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।   রাজকুমারী ইসাবেলা তার বড় ভাই যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানের পথ অনুসরণ করছেন। যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানও একই গার্ড হুসার রেজিমেন্টে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছিলেন।   ডেনিশ সংবাদমাধ্যম বিটি (BT)-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজকুমারীর সামরিক সেবার সব ব্যয় বহন করবেন রাজা ফ্রেডেরিক ও রানি মেরি। তবে ইসাবেলা সেনাসদস্যদের জন্য নির্ধারিত খাবার ভাতা ও বেতন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২৫ সালে ডেনিশ রাজপরিবারের জন্য বরাদ্দ বাজেট ছিল ১ কোটি ৭২ লাখ ডেনিশ ক্রোনার।   রাজপরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সেবাস্টিয়ান ওলডেন-ইয়র্গেনসেন স্প্যানিশ সাময়িকী হোলা!-কে বলেন, ইসাবেলার এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পেশায় যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার ভাষায়, যদি তিনি ভবিষ্যতে সামরিক কর্মকর্তা হওয়ার পরিকল্পনা করতেন, তাহলে নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীর মতো অন্য কোনো শাখা বেছে নেওয়াই বেশি স্বাভাবিক হতো।   গত মাসে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, জোটের প্রতিটি ভূখণ্ড রক্ষায় তাদের দেশ প্রস্তুত, যার মধ্যে ডেনমার্কের নিজস্ব ভূখণ্ডও রয়েছে।   ডেনমার্কের পাশাপাশি সুইডেন ও নরওয়েও নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালু করেছে। অন্যদিকে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, সব সদস্যদেশ এখনো সেই লক্ষ্য পূরণের পথে সমানভাবে এগোতে পারেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ২১:৪১
ভারতের আসামে বন্যায় ১১ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে । ছবি: সংগৃহীত

ভারতের আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫, ২৫ জেলায় ১১ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে

Iran, Oman deal ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলছে না, নতুন নৌচলাচল ব্যবস্থায় সমঝোতার পথে ইরান-ওমান

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জেডি ভ্যান্স

ইসরায়েল নিয়ে সমালোচনার ব্যাখ্যা চাইতে ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু

লেবাননে বিস্ফোরণে প্রাণ হারাল দুই ইসরায়েলি সেনা, নতুন চাপে তেল আবিব
লেবাননে বিস্ফোরণে প্রাণ হারাল দুই ইসরায়েলি সেনা, নতুন চাপে তেল আবিব

দক্ষিণ লেবাননে একটি ভবনে তল্লাশি চালানোর সময় বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। জুনে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর লেবাননে এটিই প্রথম ইসরায়েলি সেনা নিহতের ঘটনা। এর জেরে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালালে অন্তত একজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জুন এলাকায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত করতে একটি ভবনে তল্লাশি চালানোর সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হলেও বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   ঘটনার পর শুরুতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তবে পরে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সরাসরি কোনো পক্ষকে দায়ী করা থেকে বিরত থাকেন। হিজবুল্লাহও এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি।   বিস্ফোরণের পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় হামলা চালায়। হামলার আগে আল-মানসুরি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়। এক মাসের বেশি সময় পর লেবাননে এমন প্রকাশ্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিল ইসরায়েল।   লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিবনিন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। আরও কয়েকটি এলাকায় গোলাবর্ষণ ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতদের পরিচয় এবং তারা বেসামরিক নাগরিক কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   নতুন করে সহিংসতা এমন সময়ে শুরু হলো, যখন ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা রোমে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। বিস্ফোরণ ও পাল্টা হামলার পর আলোচনা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হলেও পরে আবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জুনে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, ইসরায়েলের ধাপে ধাপে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া এবং ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ লেবাননের সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়ার কথা। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে সমঝোতা বাস্তবায়নের সময়সীমা ও পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।   লেবাননের ভেতরে অনেকেই এই চুক্তিকে ইসরায়েলের প্রতি অতিরিক্ত ছাড় হিসেবে দেখছেন। হিজবুল্লাহও সমঝোতার বিরোধিতা করেছে এবং আলোচনার অংশ ছিল না। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে তাদের নিরাপত্তা অভিযান চলবে।   চলতি বছরের মার্চে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর ইসরায়েল লেবাননে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর সংঘাতে লেবাননে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরায়েলেরও বহু সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।   বুধবারের ঘটনা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। কূটনৈতিক মহল আশঙ্কা করছে, বিস্ফোরণের জন্য দায়ী পক্ষ নিশ্চিত হওয়ার আগেই পাল্টাপাল্টি হামলা বাড়তে থাকলে সীমান্তে আবারও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৪:৫২
জাতিসংঘে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

জাতিসংঘে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

জাপানের ভূমিকম্প কি সত্যিই মানবসৃষ্ট ছিল? কুমামোতো বিপর্যয়ের পর জাপানে নতুন বিতর্ক

জাপানের ভূমিকম্প কি সত্যিই মানবসৃষ্ট ছিল? কুমামোতো বিপর্যয়ের পর জাপানে নতুন বিতর্ক

প্রতিবেশীর মামলায় ভেঙে ফেলতে হবে ৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বিলাসবহুল প্রাসাদ!

প্রতিবেশীর মামলায় ভেঙে ফেলতে হবে ৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বিলাসবহুল প্রাসাদ!

তীব্র গরমে ঘরই যেন ‘হিট ট্র্যাপ’, রান্নাঘরে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন ব্রিটিশরা
তীব্র গরমে ঘরই যেন ‘হিট ট্র্যাপ’, রান্নাঘরে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন ব্রিটিশরা

যুক্তরাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে অসহনীয় গরম থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ রান্নাঘর, বাগান কিংবা বারান্দায় ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ কাজে ছুটি নিচ্ছেন, আবার সামর্থ্যবানদের একটি অংশ ঠান্ডা পরিবেশে রাত কাটাতে হোটেল বুক করছেন। নাগরিক সহায়তা সংস্থা সিটিজেনস অ্যাডভাইসের এক জরিপে উঠে এসেছে, দেশটির প্রতি ছয়জনের একজন গরম মোকাবিলায় এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।    সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাজ্যের লাখ লাখ মানুষ এমন বাড়িতে আটকে আছেন, যেগুলো গরমের সময় সহজে ঠান্ডা করা যায় না। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৪ শতাংশ মানুষ জানান, ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে নিজেদের অসহায় মনে করেন। দুর্বল নকশা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাব এবং এয়ার কন্ডিশনারসহ কুলিং সরঞ্জামের উচ্চ খরচকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।    তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জানালায় টিন ফয়েল, কার্ডবোর্ড বা ভেজা চাদর লাগানোর মতো অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়েছেন। অনেক পরিবার শোবার ঘরে টিকে থাকতে না পেরে তুলনামূলক ঠান্ডা রান্নাঘরে ঘুমাচ্ছে। কেউ বাগান ও বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন, আবার অনেকে অসুস্থতার ছুটি বা বেতনবিহীন ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছেন।   ভাড়াটিয়াদের অবস্থা আরও কঠিন বলে জরিপে উঠে এসেছে। প্রাইভেট ও সোশ্যাল হাউজিংয়ে বসবাসকারী ৫১ শতাংশ ভাড়াটিয়া মনে করেন, ঘর অতিরিক্ত গরম হওয়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেই। বাড়ির মালিকদের ক্ষেত্রে এই হার ৪০ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, হিট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক গ্রীষ্মকালেও তাদের সেন্ট্রাল হিটিং বন্ধ করতে পারেননি বলে জরিপে জানানো হয়েছে।    সিটিজেনস অ্যাডভাইসের প্রধান নির্বাহী ডেম ক্লেয়ার মরিয়ার্টি বলেন, বহু মানুষের কাছে গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ রোদ উপভোগের বিষয় নয়। বরং অসহনীয় গরমের ঘরে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনের অনেক বাড়ি গ্রীষ্মে বড় ধরনের হিট ট্র্যাপ এবং শীতে বরফশীতল ঘরে পরিণত হচ্ছে।   সংস্থাটি সরকারের কাছে বাড়ির ইনসুলেশন, ভেন্টিলেশন এবং হিট নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, ঘরগুলোকে শুধু শীতে উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা করলেই হবে না, গ্রীষ্মের তীব্র গরমেও নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য রাখতে হবে।   গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই ছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের রেকর্ডে সবচেয়ে শুষ্ক জুলাই। ইংল্যান্ডে মাসজুড়ে মাত্র ৬ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং ওয়েলসে ৯ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। দক্ষিণ ইংল্যান্ডে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৯ মিলিমিটার, যা ওই অঞ্চলের যেকোনো মাসের সর্বনিম্ন রেকর্ড।    জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। তীব্র গরম ও বৃষ্টির ঘাটতিতে দাবানল, খরা এবং পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। মেট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় উষ্ণতম এবং রেকর্ডে সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল জুলাই ছিল।    সিটিজেনস অ্যাডভাইসের জরিপটি জুলাইয়ের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ১০৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠলে অপর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর আরও বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ২:৫৬
হাসপাতালের ছাদে ‘মৃত্যুর ফেরেশতা’ সেজে আতঙ্ক! গ্রেফতার যুবক

হাসপাতালের ছাদে ‘মৃত্যুর ফেরেশতা’ সেজে আতঙ্ক! গ্রেফতার যুবক

৩ বছর ধরে জেলে ইমরান খান, এবার মুক্তির দাবিতে বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপ

৩ বছর ধরে জেলে ইমরান খান, এবার মুক্তির দাবিতে বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপ

ইরান যুদ্ধের চাপ, দ্রুত কমছে অস্ত্রের মজুত, ট্রাম্প-প্রতিরক্ষামন্ত্রীর  বৈঠক নিয়ে তোলপাড়

ইরান যুদ্ধের চাপ, দ্রুত কমছে অস্ত্রের মজুত, ট্রাম্প-প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বৈঠক নিয়ে তোলপাড়

0 Comments