সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ফাইন্যান্সিং

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের জন্য সুদ এড়িয়ে ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ি কেনার যেসব বিকল্প আছে
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের জন্য সুদ এড়িয়ে ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ি কেনার যেসব বিকল্প আছে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী যেসব মুসলিম সুদ বা রিবা এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, গাড়ি কেনা কিংবা বাড়ির ফাইন্যান্সিং নিয়ে অনেক সময় দ্বিধা তৈরি হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় কিছু ক্ষেত্রে সুদ না দিয়েও এসব সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামি স্কলার ও ফিকহ বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতামতেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কিছু বিকল্প ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া যায়। তবে প্রতিটি আর্থিক চুক্তির শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।   ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই যে অবশ্যই সুদ দিতে হবে, এমন নয়। যেসব কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, সেখানে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করলে সাধারণ কেনাকাটার ওপর সুদ না দেওয়ার সুযোগ থাকে।   যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো জানিয়েছে, বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার জন্য গ্রেস পিরিয়ড থাকে। তবে সব কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড থাকা বাধ্যতামূলক নয় এবং কার্ডভেদে শর্ত আলাদা হতে পারে।   অর্থাৎ, কেউ যদি এক মাসে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে ১ হাজার ডলারের কেনাকাটা করেন এবং নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো ১ হাজার ডলার পরিশোধ করেন, তাহলে গ্রেস পিরিয়ড প্রযোজ্য থাকা অবস্থায় ওই কেনাকাটার জন্য সুদ দিতে হয় না। কিন্তু পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ না করে শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিলে সুদ আরোপ হতে পারে। ক্যাশ অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রেও সাধারণ কেনাকাটার মতো নিয়ম প্রযোজ্য নয় এবং সেখানে দ্রুত সুদ শুরু হতে পারে।   এই বাস্তবতার সঙ্গে ইসলামি ফিকহের কিছু মতামতেরও মিল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম জুরিস্টস অব আমেরিকা বা এএমজেএর একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রয়োজনের বাস্তবতা বিবেচনায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ছাড় রয়েছে।   ব্যবহারকারীকে নিশ্চিত হতে হবে যে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন এবং সুদ কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি করবেন না। এএমজেএর আরেকটি সিদ্ধান্তেও গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে পুরো পাওনা পরিশোধ করার শর্তে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনুমতির কথা বলা হয়েছে।   তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের ক্রেডিট কার্ডকে ইসলামি স্কলাররা সুদমুক্ত বা শরিয়াহসম্মত বলে ঘোষণা করেছেন। বরং বিষয়টি শর্তসাপেক্ষ। বিশেষ করে যে চুক্তিতে বিলম্ব হলে সুদ দিতে হয়, সেটি গ্রহণ করা নিয়ে আলেমদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। তাই কোনো কার্ড নেওয়ার আগে তার চুক্তি, সুদের শর্ত, গ্রেস পিরিয়ড, ক্যাশ অ্যাডভান্সের নিয়ম এবং বিলম্বিত পেমেন্টের শর্ত ভালোভাবে দেখা জরুরি।   গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন ক্রেতাদের সামনে কিছু বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা ও ডিলার সময় সময় নির্দিষ্ট গাড়ি, নির্দিষ্ট মেয়াদ ও নির্দিষ্ট যোগ্যতার ক্রেতাদের জন্য শূন্য শতাংশ বা ০ শতাংশ এপিআর ফাইন্যান্সিং অফার করে। তবে এ ধরনের অফার সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ভালো ক্রেডিট স্কোর, নির্দিষ্ট গাড়ির মডেল, ডাউন পেমেন্ট, ঋণের মেয়াদ কিংবা অন্য কোনো শর্ত থাকতে পারে।   ইসলামি ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মঞ্জের কাহফের প্রকাশিত ফতোয়াতেও যুক্তরাষ্ট্রে ০ শতাংশ গাড়ি ফাইন্যান্সিং নিয়ে ইতিবাচক মতামত পাওয়া যায়। একটি ক্ষেত্রে তিনি এমন গাড়ি কেনার ব্যবস্থা অনুমোদনযোগ্য বলেছেন, যেখানে ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি চুক্তিতে সুদের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা নেই এবং ডিলার নিজস্ব খরচের অংশ হিসেবে অন্য কোনো অর্থ পরিশোধ করে। তার ব্যাখ্যায় মূল বিষয় হলো ক্রেতার সঙ্গে করা চুক্তির প্রকৃতি।   আরেকটি ফতোয়ায় ড. মঞ্জের কাহফ যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সুদভিত্তিক ফাইন্যান্সিং এড়িয়ে চলার কথা বলেন এবং উল্লেখ করেন যে বিভিন্ন গাড়ি ডিলারের কাছ থেকে ০ শতাংশ ফাইন্যান্সিংয়ের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে বাজারের অফার এবং চুক্তির শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট গাড়ির অফার শরিয়াহসম্মত কি না, তা চুক্তি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ।   এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ০ শতাংশ এপিআর লেখা থাকলেই কোনো গাড়ির ফাইন্যান্সিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামি দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। চুক্তিতে বিলম্বের সুদ, অতিরিক্ত চার্জ, মালিকানা, লিজের কাঠামো এবং অন্যান্য শর্ত কী আছে, তা দেখতে হবে। একইভাবে কোনো ডিলার যদি গাড়ির দাম বাড়িয়ে নির্দিষ্ট কিস্তিতে বিক্রি করে, সেটি সরাসরি সুদভিত্তিক ঋণের সমান কি না, তা চুক্তির কাঠামোর ওপর নির্ভর করে।   বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন মুসলিমদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি বিকল্প তৈরি হয়েছে। প্রচলিত মর্টগেজের পরিবর্তে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো মুরাবাহা, ইজারা এবং ডিমিনিশিং মুশারাকার মতো কাঠামো ব্যবহার করে থাকে।   ডিমিনিশিং মুশারাকায় সাধারণভাবে ক্রেতা এবং ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাড়ির মালিক হন। ক্রেতা মাসিক পেমেন্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অংশ কিনে নেন। শেষ পর্যন্ত বাড়ির সম্পূর্ণ মালিকানা ক্রেতার কাছে চলে আসে। মুরাবাহায় ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান বাড়ি কিনে নির্ধারিত লাভ যোগ করে গ্রাহকের কাছে একটি নির্দিষ্ট মোট মূল্যে বিক্রি করে। আর ইজারায় লিজ বা ভাড়া ভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকতে পারে।   বাড়ির ফাইন্যান্সিং নিয়ে এএমজেএর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনার পর এএমজেএর রেসিডেন্ট ফতোয়া কমিটি কিছু প্রতিষ্ঠানের কাঠামো নির্দিষ্ট শর্তে শরিয়াহসম্মত হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাদের পর্যালোচনায় মুরাবাহা, ডিমিনিশিং মুশারাকা এবং ইজারার মতো চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   আরও সাম্প্রতিকভাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এএমজেএর রেসিডেন্ট ফতোয়া কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়া কোম্পানির ডিমিনিশিং পার্টনারশিপ বা ধীরে ধীরে মালিকানা হস্তান্তরভিত্তিক হোম ফাইন্যান্সিং চুক্তি পর্যালোচনা করে সেটিকে ইসলামি আইনের অধীনে গ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছে। তবে কমিটি একই সঙ্গে স্বাধীন শরিয়াহ তদারকি বোর্ড রাখার পরামর্শ দিয়েছে এবং চুক্তিতে নির্ধারিত শর্তগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।   এএমজেএর আগের পর্যালোচনায় মুবরাক মর্টগেজের মুরাবাহা চুক্তিকেও শরিয়াহসম্মত হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে। তবে একই প্রতিষ্ঠান স্পষ্ট করেছে, কোনো কোম্পানির চুক্তি পরিবর্তিত হলে আগের ফতোয়ার অবস্থানও পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ইসলামিক ফাইন্যান্সের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই সেটির বর্তমান চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ধরে নেওয়া যাবে না।   এখানে ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইসলামিক ফাইন্যান্স মানে শুধু প্রচলিত সুদের নাম পরিবর্তন করা নয়। প্রকৃত মালিকানা কার, সম্পদের ঝুঁকি কে বহন করছে, লাভ কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, বিলম্ব হলে কী হচ্ছে, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও ইন্স্যুরেন্সের দায়িত্ব কার এবং চুক্তি শেষ হলে সম্পদের মালিকানা কীভাবে হস্তান্তর হবে, এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।   তাই যুক্তরাষ্ট্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন মুসলিমদের জন্য বাস্তব কিছু পথ রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করে সুদ এড়ানোর সুযোগ কিছু ইসলামি ফিকহ বিশেষজ্ঞ শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছেন। গাড়ির ক্ষেত্রে প্রকৃত ০ শতাংশ ফাইন্যান্সিং কিংবা চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী শরিয়াহসম্মত বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। আর বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মুরাবাহা, ইজারা ও ডিমিনিশিং মুশারাকার মতো ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে চালু রয়েছে।   তবে এগুলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য আর্থিক কিংবা ধর্মীয় সিদ্ধান্তের নির্দেশনা নয়। একজনের জন্য যে ব্যবস্থা উপযুক্ত হতে পারে, অন্যজনের জন্য তা নাও হতে পারে। বিশেষ করে ইসলামি ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং চুক্তির সামান্য পরিবর্তনেও ধর্মীয় সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে।   তাই সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন কেউ ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি বা বাড়ির ফাইন্যান্সিং নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পুরো চুক্তি ভালোভাবে পড়ুন, মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে তা হিসাব করুন, সব ধরনের ফি ও জরিমানার শর্ত দেখুন এবং প্রয়োজন হলে যোগ্য ও বিশ্বস্ত ইসলামি স্কলার বা ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থার তথ্যও যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

ওমরা করতে গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড ঠিক করতে ১০ বছর কাটালেন প্রকৌশলী

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০