বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহুকে নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান মেয়র মামদানির, ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে কড়া বক্তব্য

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব আইনি ক্ষমতায় এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার চাইলে আইসিসির পরোয়ানা বাস্তবায়নের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে।   সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মামদানি নেতানিয়াহুকে "যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অভিযুক্ত ব্যক্তি" হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে আইসিসি তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে। তিনি বলেন, তার বিশ্বাস নেতানিয়াহুর বিচার আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় হওয়া উচিত। তবে ইসরায়েল সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং আইসিসির এখতিয়ারও স্বীকার করে না।   মামদানি জানান, নেতানিয়াহু যদি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আসেন, সে ক্ষেত্রে তার প্রশাসন কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে সিটির আইন বিভাগ পর্যালোচনা করেছে। তবে সেই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্ব আইনি ক্ষমতায় আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, "আমরা আইনের বাইরে গিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেব না। আইন যা অনুমতি দেয়, আমরা শুধু সেটুকুই করব।"   একই সঙ্গে মামদানি বলেন, "বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক সিটিতে স্বাগত নন। কোনো পলাতক যুদ্ধাপরাধের অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও আমরা স্বাগত জানাই না।" তিনি আরও বলেন, "আমরা হয়তো একা এই যুদ্ধ থামাতে পারব না, কিন্তু অন্যায়ের মুখে নীরব থাকব কি না, সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে।"   মামদানির এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফর নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ইসরায়েল এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আদালতের এখতিয়ার মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র নয়।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য না হওয়ায় এবং বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনৈতিক সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন বিধান জড়িত থাকায়, কোনো মার্কিন শহরের মেয়রের পক্ষে এককভাবে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা অত্যন্ত জটিল আইনি বিষয়। এ কারণে বিষয়টি মূলত ফেডারেল সরকারের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে।   এদিকে মামদানির বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আন্তর্জাতিক আইন এবং মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে গ্রেপ্তার করা হবে না, স্পষ্ট জানালেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাকে কোনো অবস্থাতেই গ্রেপ্তার করা হবে না। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার সম্ভাব্য আইনি পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করার পর ট্রাম্পের এই বক্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   সোমবার (২০ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, "বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।" পোস্টে তিনি সরাসরি জোহরান মামদানির নাম উল্লেখ করেননি। তবে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং বলেন, যাদের গ্রেপ্তার করা উচিত তারা হলো এই সংঘাতকে উসকে দিয়েছে এমন ব্যক্তিরা।   বিতর্কের সূত্রপাত হয় নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির এক মন্তব্যকে ঘিরে। নিউইয়র্ক টাইমসের ভিডিও পডকাস্ট দ্য ইন্টারভিউ-তে তিনি বলেন, তার প্রশাসনের আইন বিভাগ সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করছে, আইনের আওতায় নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। মামদানি বলেন, "আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে এবং আমি তাকে একজন যুদ্ধাপরাধের অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে দেখি।" তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো পদক্ষেপই আইনগত সীমার মধ্যেই নেওয়া হবে।   আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধ চলাকালে কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই আদালতের এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও আইসিসির সদস্য নয় এবং আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে না। মামদানির মন্তব্যের জবাবে ইসরায়েল সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে আইসিসিকে "সাজানো আদালত" বলে আখ্যা দেয় এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানাকে ভিত্তিহীন দাবি করে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করে, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইসরায়েল ও এর প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন।   প্রতি বছরের মতো এবারও সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে ঘিরে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি মূলত ফেডারেল সরকারের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে। তাই নিউইয়র্ক সিটির পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ বাস্তবে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে আইনি প্রশ্নও রয়েছে।   উল্লেখ্য, গত বছরের নির্বাচনে জয়ের পর জোহরান মামদানি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে হোয়াইট হাউসে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছিল। যদিও নির্বাচনী প্রচারণার সময় তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক এই ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান আবারও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।   সূত্র: রয়টার্স।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ফাইনালে আর্জেন্টিনার পক্ষে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী, জানালেন শুভকামনা

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ উল্লেখ করে তিনি ফাইনালে আর্জেন্টিনার জন্য শুভকামনা জানান।   টাইমস অব ইসরাইলের খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়ানিশের সঙ্গে বৈঠকের সময় নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর পক্ষ থেকে নেতানিয়াহুর কাছে একটি বার্তাও পৌঁছে দেন। এর জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, “হাভিয়ের, আপনি একজন সত্যিকারের বন্ধু। আপনি আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা আর্জেন্টিনার পাশে আছি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তাদের সমর্থন করি। আগামীকালের ম্যাচের জন্যও শুভকামনা। শুভকামনা আর্জেন্টিনার জন্য।” রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, আর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের আশা নিয়ে খেলবে স্পেন।   আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসরায়েলের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন।   বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনাও তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে স্পেন ও আর্জেন্টিনার সরকারের অবস্থানে পার্থক্য থাকায় ম্যাচটি মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনারও অংশ হয়ে উঠেছে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর ও বিদ্বেষমূলক কিছু পোস্টও ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও সেসব দাবির অনেকগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান ম্যামদানি নেতানিয়াহুকে নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহু ‘যুদ্ধাপরাধী’, আন্তর্জাতিক আদালত তার আসল ঠিকানা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তাকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মুখোমুখি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান ম্যামদানি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের আইনগত সুযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।    মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যামদানি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত একজন যুদ্ধাপরাধী।” তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে ব্যবহার করে কোনো বিদেশি সরকারপ্রধানকে আটক করার আইনি ক্ষমতা তার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান।    ম্যামদানি বলেন, বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা চলছে। আইন যতটুকু অনুমতি দেবে, তার প্রশাসন ততটুকুই করবে। এ জন্য নতুন কোনো আইন তৈরি করার পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।  আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ম্যামদানির এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আদালতের এখতিয়ারও স্বীকার করে না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর (ডানে) নিউইয়র্ক সফর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন জোহরান মামদানি (বামে)। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
‘নেতানিয়াহু যুদ্ধাপরাধী, নিউইয়র্কে পা রাখলে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মামদানির’

আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সিটি সফরের কথা রয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। তবে তার এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদারি।   মামদানি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী এবং তার আসল জায়গা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি)।   যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র মামদানি বলেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন একজন যুদ্ধাপরাধী যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত এবং তাকে দ্য হেগের আদালতে দাঁড় করানো উচিত।   নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে পা রাখলে তাকে গ্রেফতার করা হবে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র তার আইনি সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সরাসরি তার প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হলেও, নেতানিয়াহুর মতো একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেফতার করার আইনি এখতিয়ার সিটির মেয়রের রয়েছে কি না, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।   তবে বিষয়টি তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না। এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিটির আইন বিভাগের সাথে তিনি নিবিড় ও সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি।   সূত্র: আল-জাজিরা।

তাবাস্সুম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের প্রতি তুরস্কের আদালতের আনুষ্ঠানিক আবেদন

গাজামুখী আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটকের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছে তুরস্কের একটি আদালত। তবে এই নির্দেশের অর্থ এই নয় যে ইন্টারপোল ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে। বিষয়টি এখন ইন্টারপোলের নিজস্ব পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।   তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এবং আদালতের নথি অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের ১১তম হাই ক্রিমিনাল কোর্ট চলমান বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছে। আদালতের ভাষ্য, বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিযুক্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ইন্টারপোলে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। কোনো সদস্য রাষ্ট্র আবেদন করলে ইন্টারপোল সেটি তাদের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করে। অনুমোদন পেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত প্রতিটি সদস্য দেশের নিজস্ব আইনের ওপর নির্ভর করে।   মামলাটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে ঘিরে। তুরস্কের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী ত্রাণবহরটি আটক করে, জাহাজে থাকা বেসামরিক যাত্রীদের আটক ও নির্যাতন করে এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে অভিযান পরিচালনা করে। এ ঘটনায় তুর্কি নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।   ইস্তাম্বুলের প্রধান প্রসিকিউটর কার্যালয় গত এপ্রিলে নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, নির্যাতন, ইচ্ছাকৃত আহত করা, সম্পদের ক্ষতি, জোরপূর্বক আটকে রাখা এবং পরিবহনযান অবৈধভাবে দখলের মতো একাধিক অভিযোগ।   এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তুরস্কের একটি আদালত নেতানিয়াহুসহ ৩৭ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। বর্তমান সিদ্ধান্তকে সেই বিচারিক প্রক্রিয়ারই পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তুরস্কের আদালতে বিচার কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে। ইসরায়েল এ ধরনের অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ বিষয়ে বিভিন্ন আইনি ও কূটনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট (বাঁয়ে) আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর (ডানে) শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন | ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুকে হটাতে নির্বাচনি মাঠে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। আগামী নির্বাচনের চার মাস আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক জনাকীর্ণ সমাবেশের মধ্য দিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের আহ্বান জানান।   প্রথম নির্বাচনি সমাবেশে আইজেনকট বলেন, "ইসরায়েল একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার যোগ্য। আমরা সবাই মিলে সেই নতুন অধ্যায় লিখব।" তিনি বলেন, আগামী অক্টোবরে যে সরকার গঠিত হবে, তারা যেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনাকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।   ওই হামলায় হামাস ইসরায়েলে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছিল, যা নেতানিয়াহুর শাসনামলেই ঘটে।   আইজেনকট বলেন, "আমরা ইসরায়েলের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলব। এটি হবে ভালো একটি অধ্যায়। কারণ ইসরায়েলকে জিততেই হবে, আর ইসরায়েল জিতবেই।"   গাজা যুদ্ধ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নীতি ও নেতৃত্বের অন্যতম কঠোর সমালোচক ছিলেন আইজেনকট। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ গঠন করেন। হিব্রু ভাষায় ‘ইয়াশার’ শব্দের অর্থ ‘সোজা’ বা ‘ন্যায়নিষ্ঠ’।   ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকটের দল পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে ২২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল পেতে পারে ২৪টি আসন।   মরক্কো থেকে আসা ইহুদি অভিবাসী পরিবারের সন্তান আইজেনকট সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় বলে বিবেচিত। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের সময় তার ছেলে গাল নিহত হওয়ার পর তার প্রতি জনসমর্থন আরও বেড়ে যায়। একই যুদ্ধে তার দুই ভাতিজাও প্রাণ হারান।   ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকট ২০২২ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। তখন তিনি সাবেক আরেক সেনাপ্রধান বেনি গান্টজের সঙ্গে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে তার অবস্থান খুব বেশি স্পষ্ট নয়। তবে তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।   সমাবেশে আইজেনকট বলেন, ইসরায়েলের জন্য এখন একটি সৎ ও মর্যাদাপূর্ণ জায়নবাদী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তার ভাষায়, এমন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভিন্ন মতের মানুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও শক্তিশালী দেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখবেন।   তিনি বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিদ্যমান নেতৃত্বের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য বা কৌশল নেই। তার দাবি, "এমন নেতৃত্বকে সরাতে হবে, যারা দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে।"   আইজেনকটের বক্তব্যের সময় সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য’ ঘোষণা করে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাদের যৌথ বিবৃতি | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যা ধর্মীয় দায়িত্ব, ফতোয়া দিলেন ইরানের শীর্ষ আলেমরা

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার ডাক দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতারা। এই দুই নেতাকে 'মাহদৌর আল-দাম' অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য ঘোষণা করে তাদের হত্যা করা ধর্মীয় দায়িত্ব বলে ফতোয়া জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা দেশটির ৮৮ সদস্যের অত্যন্ত প্রভাবশালী 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ ১০ দফার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইহুদিবাদী ইসরায়েলের দুষ্ট প্রধানমন্ত্রী এবং আমেরিকার অপরাধী প্রেসিডেন্টকে যে কোনো পরিস্থিতিতে হত্যা করা একটি ধর্মীয় কর্তব্য। ইরানের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া এখন তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।   বিবৃতিতে কড়া ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, যে কোনো ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি যদি এই দুই অপরাধীর নাগাল পান, তবে তাদের সরাসরি জাহান্নামে পাঠিয়ে দেওয়া ওই ব্যক্তির জন্য বাধ্যতামূলক। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় পত্রিকা 'হামশাহরি' তাদের প্রথম পাতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি রাইফেলের নিশানা ট্রাম্পের মুখের ওপর তাক করা রয়েছে এবং বড় অক্ষরে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, 'প্রতিশোধ নিশ্চিত'।   এদিকে দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের এই শীর্ষ আলেমরা। তারা দাবি করেছেন, বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে তা কেবল একটি সময় ক্ষেপণ করার কৌশল মাত্র, যাতে আমেরিকাকে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করার সুযোগ দেওয়া যায়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ৩০ এবং ৬০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সব সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান করতে হবে, অন্যথায় আবার বড় ধরনের হামলা শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে তারা খামেনির নামে ইরানের সাধারণ জনগণকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।   সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট

তাবাস্সুম জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক যান চলাচল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের দাবি ইসরায়েলি সেনাদের পরিবারের, ‘সন্তানদের আর বলি দেব না’

লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে এবার প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাদের মা-বাবারা। তারা যুদ্ধ বন্ধ করে দ্রুত সেনাদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন।   মঙ্গলবার ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সেনাদের পরিবারগুলো অভিযোগ করে বলেছে, লেবাননে দায়িত্ব পালনরত ইসরায়েলি সেনারা কার্যত ‘হাত-পা বাঁধা অবস্থায়’ কাজ করছেন এবং যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে স্পষ্টতা নেই।   তারা লিখেছেন, “আমাদের সেনারা এমন একটি পরিস্থিতিতে কাজ করছে যেখানে মনে হচ্ছে বাইরের কোনো শক্তি যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদাসীনতা কিংবা অন্য কোনো স্বার্থের কারণে আমরা আমাদের সন্তানদের জীবন বলি হতে দেব না।”   চিঠিতে যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে সরকারের প্রতি কঠোর সমালোচনাও করা হয়েছে। সেনাদের মা-বাবারা বলেছেন, লেবাননে সামরিক অভিযানের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য এখনো দৃশ্যমান নয় এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে সেনাদের ফেলে রাখা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।   তাদের ভাষ্য, “হয় শত্রুকে পরাজিত করুন, না হয় এখনই যুদ্ধ শেষ করে সব সেনাকে ঘরে ফিরিয়ে আনুন।” এছাড়া যেসব মন্ত্রী বা রাজনৈতিক নেতার সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিরা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে চিঠিতে।   চিঠিতে বলা হয়, যারা নিজের পরিবারের সদস্যদের সেনাবাহিনীতে পাঠাননি এবং এ নিয়ে গর্ব করেন, তাদের যুদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেনাদের পরিবারের এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন লেবানন সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে।

Unknown জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় তীব্র ধস, রাজনীতি থেকে বিদায় চাইছেন ৫৯% ইসরাইলি

ইসরাইলের রাজনীতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক চাইছেন, দীর্ঘদিনের এই প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে রাজনীতি থেকে বিদায় নিন। সম্প্রতি দেশটির শীর্ষ সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর এক জরিপে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৯ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন, নেতানিয়াহুর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত এবং আসন্ন শরতের নির্বাচনে তার আর অংশ নেওয়া ঠিক হবে না। জরিপে মাত্র ৩৩ শতাংশ মানুষ লিকুদ পার্টির এই নেতার পুনরায় নির্বাচনে লড়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। বাকি ৮ শতাংশ মানুষ বিষয়টি নিয়ে কোনো মতামত জানাননি।   নেতানিয়াহুর এই প্রবল চাপের পেছনে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের পাশাপাশি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে ৬০ দিনের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। কিন্তু এই চুক্তিকে অনেক ইসরাইলি ওয়াশিংটনের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি আত্মসমর্পণ এবং লজ্জাজনক চুক্তি, যার ফলে ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।   দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি থাকা ৭৬ বছর বয়সি নেতানিয়াহুর ওপর তার নিজস্ব সমর্থকদের আস্থা মূলত তলানিতে ঠেকেছে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকে। ওই হামলায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন অপহৃত হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলিরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে। এরপর গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংস ও রক্তক্ষয়ী অভিযানে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ইসরাইল একঘরে হয়ে পড়েছে। এমনকি গাজায় যুদ্ধাপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা। শুরুতে ইসরাইল আপত্তি জানালেও গত শুক্রবার লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর নৃশংসতা পুরোপুরি থামেনি। শুক্রবার এক দিনেই দেশটিতে অন্তত ৪৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং শনিবার নতুন করে আরও ১২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই চুক্তি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতাকে সীমিত করে দেবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা, যা দেশটির উত্তরের অঞ্চলের জন্য বড় হুমকি।   ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়া এই রাজনীতিক পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এবং সাময়িক বিরতির পর ২০২২ সাল থেকে টানা দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভোটারদের বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন যে, কেবল তিনিই ইসরাইলকে নিরাপদ রাখতে পারেন। তবে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন দেশটির জন্য একটি বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। দেশ-বিদেশে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণের চাপে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘নেতানিয়াহু সবাইকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চান’, উপদেষ্টাদের কাছে ট্রাম্পের মন্তব্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছে মন্তব্য করেছেন যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সামলানো কঠিন। তিনি বলেছেন, নেতানিয়াহু ‘সবাইকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চান’। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের বলেছেন, নেতানিয়াহু তার কাছে ‘চমৎকার’ একজন ব্যক্তি মনে হলেও অনেক সময় তিনি সীমা অতিক্রম করে ফেলেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া বেশির ভাগ ফোনালাপেই নেতানিয়াহু নতুন সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। এসব আলোচনায় ট্রাম্প ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।   ওই কর্মকর্তা বলেন, “বিবি (নেতানিয়াহু) প্রেসিডেন্টকে বোঝান কেন কোনো স্থানে হামলা চালানো প্রয়োজন, কেন ইসরাইলি গোয়েন্দারা তা করতে সক্ষম এবং কখন তা করা উচিত। প্রেসিডেন্ট এসব শোনেন। প্রায় প্রতিটি ফোনালাপ একই ধরনের হয়।”   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও সামরিক অভিযান ও আঞ্চলিক সংঘাত মোকাবিলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে নেতানিয়াহুর সামরিক কৌশল নিয়ে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির কথাও উঠে এসেছে।

Unknown জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনায় একই ধাঁচ, ক্লান্ত ট্রাম্প

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ন্ত্রণ করা বা সামলানো অত্যন্ত কঠিন—এমন মন্তব্য নাকি ব্যক্তিগত আলোচনায় করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি নেতানিয়াহু পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে থাকেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছে নেতানিয়াহুর আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প জানান, ব্যক্তি হিসেবে তিনি নেতানিয়াহুকে “চমৎকার” মনে করেন, যদিও মাঝে মাঝে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আবেগপ্রবণ হয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দূর এগিয়ে যান।   মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই নেতার মধ্যে হওয়া টেলিফোন আলাপগুলো প্রায়ই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তাব বা চাপকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো। এতে করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একই ধরনের অনুরোধ শুনতে শুনতে কিছুটা ক্লান্তি অনুভব করতে শুরু করেন ট্রাম্প।   হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে ওই কর্মকর্তা বলেন, “নেতানিয়াহু সাধারণত প্রেসিডেন্টকে বোঝানোর চেষ্টা করেন কেন কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা প্রয়োজন এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কেন এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট মনোযোগ দিয়ে এসব শোনেন, কিন্তু কথোপকথনের ধরণ প্রায় একই থাকে।”   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে কৌশলগত মতপার্থক্যের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে সামরিক পদক্ষেপের মাত্রা ও সময় নির্ধারণ নিয়ে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের নীতিগত অবস্থান ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীলুফা নিশাত জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
আরাদ শহর পরিদর্শনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহু: ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেউ নিহত না হওয়া 'অলৌকিক', আত্মতুষ্টিতে না ভোগার আহ্বান

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাস্থল আরাদ পরিদর্শন করেছেন এবং এই হামলায় কেউ নিহত না হওয়াকে ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   শনিবার আরাদ শহরে ইরানের হামলায় ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যদিও কেউ নিহত হননি, মি. নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের সতর্ক করেছেন আত্মতুষ্টিতে না ভোগার জন্য। তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্ক সংকেত পাওয়ার পর অবিলম্বে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হবে।   প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “সতর্কবার্তা পাওয়ার পর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার আগ পর্যন্ত ছিল মাত্র দশ মিনিট। যদি সবাই ওই কয়েক মিনিটের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেত, তাহলে কেউই আহত হতো না।” নেতানিয়াহুর এই আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে জনসাধারণকে সচেতন রাখার উদ্দেশ্যে এসেছে।

Unknown মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পরস্পরবিরোধী অবস্থান; যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইল বিরোধী জনমত তুঙ্গে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সময়ে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরান যুদ্ধ শুরু করেছেন, যখন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একবিংশ শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক ‘গ্যালাপ’ জরিপে দেখা গেছে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মার্কিনিরা ইসরাইলিদের চেয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের ফলে।   ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম সেন্টারের বিদায়ী পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করে সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ইসরাইল এবং তার শক্তিশালী লবি যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইসরাইল যেকোনো মূল্যে ইরানে হামলা চালাবে এবং ইরান তার প্রতিশোধ নেবে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে—এই যুক্তিতেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি। তবে ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তীতে এই অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধের পক্ষে ভিন্ন অজুহাত খুঁজতে শুরু করে।   সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরাইলি হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, এই বড় ধরনের হামলা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই জানত না এবং এতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। যদিও মার্কিন ও ইসরাইলি বিভিন্ন সূত্র এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে যে, উভয় পক্ষ এই হামলার বিষয়ে আগে থেকেই সমন্বয় করেছিল। ট্রাম্পের এমন অবস্থান কেন্টের মতো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব পোষণকারীদের আরও খোরাক জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড স্বীকার করেছেন যে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য সবক্ষেত্রে এক নয়। ইসরাইল যেখানে ইরানি নেতৃত্ব নির্মূলে আগ্রহী, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ইরানকে নিরস্ত্রীকরণের দিকে বেশি মনোযোগী। সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ অবশ্য জানিয়েছেন, সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে থাকুক বা না থাকুক, ইরানি আক্রমণের শিকার হতো। যুদ্ধের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এমন অস্পষ্টতা ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০