নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে প্রকাশ্য রাস্তায় বন্দুক হামলায় ১২ বছর বয়সী এক ছেলে নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার বিকেলে মাউন্ট ইডেন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এবং তদন্ত চলছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার কিছু আগে ওয়ালটন অ্যাভিনিউ ও এলিয়ট প্লেসের কাছে গুলির ঘটনা ঘটে। ১২ বছর বয়সী শিশুটি কাঁধে গুলিবিদ্ধ হলে তাকে দ্রুত লিংকন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত শিশুর পরিচয় পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিতম্বে এবং ৩৪ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। দুজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলি ছোড়া হয়। তবে নিহত ১২ বছর বয়সী শিশুটি ওই সংঘর্ষে জড়িত ছিল কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্তে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি এবং সন্দেহভাজনদের সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আবারও বন্দুক হামলার শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি রাইডশেয়ার চালক। ব্রুকলিনে এক যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর সামান্য সড়ক দুর্ঘটনার জেরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যেই অজ্ঞাত এক ব্যক্তি খুব কাছ থেকে তার মুখে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও অস্ত্রোপচারের পর তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্স জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে দায়িত্ব পালনরত চালকদের ওপর এটি দ্বিতীয় বন্দুক হামলার ঘটনা। পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে ব্রুকলিনের ফোর্ট গ্রিন এলাকার নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউয়ে ঘটনাটি ঘটে। ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশি অভিবাসী ও টিএলসি লাইসেন্সধারী চালক মোহাম্মদ আমিন একজন যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর তার গাড়ির সঙ্গে একটি মেডিকেল পরিবহন ভ্যানের সামান্য সংঘর্ষ হয়। এরপর দুই চালকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন উপস্থিত হন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, সংঘর্ষে জড়িত কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা এক ব্যক্তি পাশের হুইটম্যান হাউজেস আবাসন এলাকা থেকে বেরিয়ে এসে হঠাৎ চালকের জানালার কাছে গিয়ে তার ডান গালে গুলি করে। হামলার পরপরই ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোহাম্মদ আমিনকে দ্রুত নিউইয়র্ক-প্রেসবাইটেরিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক স্টেট ফেডারেশন অব ট্যাক্সি ড্রাইভার্সের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নান্দো মাতেও বলেন, মোহাম্মদ আমিন কোনো ঝগড়ায় জড়াননি। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভুল সময়ে ভুল জায়গায় থাকার কারণেই তিনি হামলার শিকার হন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, কুইন্সের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন গত ১৬ বছর ধরে নিউইয়র্কে গাড়ি চালিয়ে পরিবার চালিয়ে আসছেন। তার চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি হামলাকারীকে শনাক্তে তথ্যদাতার জন্য পুরস্কার ঘোষণার প্রস্তুতিও চলছে। ঘটনার পর আবারও ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার চালকদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি তুলেছেন ফার্নান্দো মাতেও। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের প্রতিটি টিএলসি লাইসেন্সধারী ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার গাড়িতে বাধ্যতামূলকভাবে ক্যামেরা স্থাপন করা উচিত। এতে চালকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সহজ হবে। এই হামলার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ব্রুকলিনেই আরেক চালক, পাকিস্তানি অভিবাসী ড্যানিশ সারওয়ার, ডাকাতির চেষ্টা ও গাড়ি ছিনতাইয়ের সময় গুলিবিদ্ধ হন। তার ঘাড়ে গুলি লাগে এবং দীর্ঘ সময় তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরপর দুটি ঘটনায় নিউইয়র্কে ট্যাক্সি ও রাইডশেয়ার চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, হামলার কারণ এবং বন্দুকধারীর পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন তদন্তকারীরা। হামলাকারীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ইস্ট সেন্ট লুইসে একই পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো একাধিক বন্দুক হামলায় পাঁচজন নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। ঘটনায় ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। ইলিনয় স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, রোববার ইস্ট সেন্ট লুইসের তিনটি পৃথক স্থানে, যার মধ্যে একটি পার্কও রয়েছে, এ হামলাগুলো সংঘটিত হয়। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল পরিকল্পিত বা ‘টার্গেটেড’ হামলা এবং এলোমেলোভাবে সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা নয়। ইলিনয় স্টেট পুলিশের পরিচালক ব্রেন্ডন কেলি বলেন, নিহতদের বয়স ছিল ৭৪, ৪৯, ২৫, ২৪ এবং ২১ বছর। যদিও নিহতদের পারিবারিক সম্পর্ক বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে অন্তত একজন সন্দেহভাজনের সঙ্গে ওই পরিবারের পূর্বপরিচয় বা সম্পর্ক ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই স্টেট পুলিশ একটি গাড়ি থামিয়ে ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে সেন্ট ক্লেয়ার কাউন্টির স্টেটস অ্যাটর্নি জেমস গমরিক জানান, মঙ্গলবারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ হামলায় নিজের মা, বোন এবং সৎ সন্তানদের হারিয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান মার্কাস মে। তিনি বলেন, “এক মুহূর্তে আমি যেন পুরো পরিবারকেই হারিয়ে ফেললাম।” ইলিনয় স্টেট পুলিশের পরিচালক ব্রেন্ডন কেলি বলেন, “এটি ভয়াবহ এবং নৃশংস ঘটনা। কিন্তু এতে ইস্ট সেন্ট লুইসের ইতিবাচক অগ্রগতি থেমে যাবে না।” সিটি কাউন্সিল সদস্য কোর্টনি হফম্যানও বলেন, এটি জনসাধারণের ওপর নির্বিচারে চালানো হামলা নয়; বরং নির্দিষ্ট একটি পরিবারকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর কারণ নেই। মিসিসিপি নদীর তীরে অবস্থিত ইস্ট সেন্ট লুইস শহরের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৫০০। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে শহরটিতে ১৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা ২০২০ সালের ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পেছনের কারণ, হামলাকারীদের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য অন্যান্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অবার্ন হিলস শহরের জনপ্রিয় শপিং মল গ্রেট লেকস ক্রসিং আউটলেটসে বন্দুক হামলায় একজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন এবং বর্তমানে জনসাধারণের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। অবার্ন হিলস পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৫টা ২০ মিনিটে মলের ফুড কোর্ট এলাকায় গুলির খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঘটনায় ২০ বছর বয়সী পন্টিয়াকের এক তরুণ নিহত হন। এছাড়া ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে জড়িত এক ২২ বছর বয়সী ডেট্রয়েটের বাসিন্দাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, গুলির ঘটনার আগে দুই ব্যক্তির মধ্যে মলের একটি বাথরুমে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ফুড কোর্টের কাছে আবার তাদের মুখোমুখি হলে সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলি ছোড়া হয়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরেক ব্যক্তির সন্ধানেও কাজ করছে তদন্তকারীরা। গুলির শব্দ শোনার পর মলে থাকা শত শত ক্রেতা ও কর্মচারীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দৌড়ে বেরিয়ে যান। পরে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ এবং তদন্তের স্বার্থে মলটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। অবার্ন হিলস পুলিশ ও ওকল্যান্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তর যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো নির্বিচার হামলা নয়; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে পূর্বের বিরোধ থেকেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় কর্তৃপক্ষ। গ্রেট লেকস ক্রসিং আউটলেটস মিশিগানের অন্যতম বৃহৎ শপিং গন্তব্য। প্রায় ১৭০টিরও বেশি দোকান, রেস্তোরাঁ ও বিনোদনকেন্দ্র নিয়ে গড়ে ওঠা এই মলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ কেনাকাটা ও অবসর কাটাতে আসেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কানাডার টরন্টো শহরের জনপ্রিয় ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ (Salsa on St. Clair) স্ট্রিট ফেস্টিভ্যালে বন্দুক হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শুরুতে পুলিশ ‘অ্যাকটিভ শুটার’ সতর্কতা জারি করলেও পরে জানায়, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হয়েছে। তবে হামলাকারী বা হামলাকারীদের এখনও গ্রেপ্তার করা যায়নি। টরন্টো পুলিশ জানায়, শহরের মিডটাউনের সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউ ও আর্লিংটন অ্যাভিনিউ এলাকায় বার্ষিক লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব চলাকালে গুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুলিবিদ্ধ ছয়জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তবে তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনার পরপরই পুলিশ সাধারণ মানুষকে এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয় এবং তদন্ত শুরু করে। পরে জানানো হয়, ঘটনাস্থল নিরাপদ করা হলেও সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য বা এটি লক্ষ্য করে চালানো হামলা ছিল কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ টরন্টোর অন্যতম বৃহৎ লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতিবছর হাজারো মানুষ এই দুই দিনের আয়োজন উপভোগ করতে সেখানে জড়ো হন। সঙ্গীত, নৃত্য, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার জন্য পরিচিত এই উৎসবে এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় পুরো শহরে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের জ্যাকসন শহরে বন্দুক হামলায় দুই নারী ও দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। জ্যাকসন পুলিশ বিভাগের প্রধান রাশাল ব্র্যাকনি জানান, শনিবার রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিটে কুইন আলেকজান্দ্রিয়া লেনের ৩০০ নম্বর ব্লকে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পৌঁছে তারা দুই নারী ও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের তথ্যমতে, নিহত দুই নারীর বয়স ২৬ ও ২০ বছর। তিনজনের শরীরেই একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। রোববার ভোরে পুলিশ জানায়, হামলার পর একটি লাল রঙের মিতসুবিশি মিরাজ গাড়িতে করে পালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে সশস্ত্র এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেই তিনি জড়িত। পরে রোববার দেওয়া হালনাগাদ তথ্যে পুলিশ জানায়, উত্তর জ্যাকসন এলাকায় সন্দেহভাজনের ব্যবহৃত গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গাড়িটি উদ্ধারের সময় সেখানে কেউ ছিল না। অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনার পর জ্যাকসনের মেয়র জন হর্ন শহরে বন্দুক-সহিংসতা দমনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে বন্দুক হামলা ও প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। কোনো পরিবারই সহিংসতার কারণে প্রিয়জনকে হারানোর কষ্ট পাওয়ার যোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের ঘটনাকে শহরের স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরে এক বন্দুকধারীর হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন বেসামরিক নাগরিক এবং হামলাকারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে চিকিৎসাধীন ওই কর্মকর্তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মন্ট্রিয়লের একটি ভবন থেকে গুলির শব্দ শোনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারী একজন পুরুষ এবং তিনি একাই এই হামলা চালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় নিহত বেসামরিক ব্যক্তি স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের একজন সদস্য ছিলেন। তবে ঘটনাটি ধর্মীয় বিদ্বেষ, জাতিগত উদ্দেশ্য অথবা অন্য কোনো কারণ থেকে ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেনি পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে তারা। এদিকে কানাডার ফরাসি ভাষার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও কানাডার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারী নারীবিদ্বেষী অনলাইন গোষ্ঠীভিত্তিক ‘ইনসেল’ মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হামলাকারীর অতীত কর্মকাণ্ড, অনলাইন কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন। তার সঙ্গে কোনো উগ্র মতাদর্শ বা চরমপন্থী গোষ্ঠীর যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই মন্ট্রিয়লের সংশ্লিষ্ট এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা ধরে অভিযান ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর বিকেল ৩টার দিকে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। কানাডায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জননিরাপত্তা এবং বন্দুক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও দেশটিতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন তুলনামূলক কঠোর, তারপরও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মন্ট্রিয়লের সর্বশেষ ঘটনাটিও সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে নিহতদের পরিচয় এবং হামলার পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মিডল্যান্ড শহরে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে ঘটা এই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন শহরের মেয়র লরি ব্লং। মেয়রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নৃশংস ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে হামলাকারীকে একটি ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। মিডল্যান্ড পুলিশ প্রধান গ্রেগ স্নো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালের দিকে শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার একটি ভবন থেকে আকস্মিক গুলির শব্দ শুনতে পান কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা। এর পরপরই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পুরো এলাকাটি সিলগালা করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। হামলাকারীকে বাগে আনতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ঘটনাস্থলে ভারী সাঁজোয়া যান (আর্মর্ড ইউনিট) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও এই বিশেষ অভিযানে অংশ নিয়েছে। বন্দুকধারীর সঙ্গে পুলিশের এখনো এক টানা অচলাবস্থা চলছে বলে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক জরুরি বার্তায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভিনিউ এবং ওয়াল স্ট্রিটের আশেপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিডল্যান্ড সিটি কাউন্সিলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জনসাধারণকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই এলাকাটি সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলার জোরালো অনুরোধ করা হয়েছে। প্রথম উদ্ধারকারী দল (ফার্স্ট রেসপন্ডারস) এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো এলাকা জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।