যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে ইন-অ্যান্ড-আউট বার্গারে বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ৩
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলস শহরের একটি ইন-অ্যান্ড-আউট বার্গার রেস্টুরেন্টে বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ২টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনসাধারণের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।
টুইন ফলস পুলিশ জানায়, বন্দুকধারী প্রথমে রেস্টুরেন্টের ভেতরে গুলি চালায়। পরে সে বাইরে পার্কিং লটে এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
টুইন ফলস পুলিশের প্রধান ম্যাথিউ হিকস বলেন, হামলাকারী নিহতদের মধ্যেই রয়েছে। তবে ঘটনায় ঠিক কতজন আহত হয়েছেন এবং অন্য কেউ এতে জড়িত ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি জানান, তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য এবং পুরো ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রত্যক্ষদর্শী লেন কোয়েন বলেন, তিনি ট্রাফিক সিগন্যালে অপেক্ষা করার সময় এক ব্যক্তিকে এআর-ধরনের একটি রাইফেল হাতে রেস্টুরেন্টের ড্রাইভ-থ্রু এলাকা থেকে বের হতে দেখেন। পরে আরেকজন পিস্তলধারী ওই সন্দেহভাজনের দিকে গুলি চালান।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ এক নারী কর্মীকে তাঁর এক সহকর্মী দ্রুত পার্কিং লট থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরে জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশ নিহত ও আহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি। হামলার উদ্দেশ্যও এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে জনসমাগমস্থলে বন্দুক হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ আইডাহোর এই ঘটনাও দেশটির বন্দুক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা যৌনজীবনে তুলনামূলক বেশি খোলামেলা বা নতুন অভিজ্ঞতার প্রতি আগ্রহী, তা নিয়ে একটি নতুন জরিপ প্রকাশ করেছে কনডম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘সে ইট উইথ এ কনডম’। জরিপে দেখা গেছে, এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নিউ মেক্সিকো। এরপর রয়েছে ওরেগন ও আরকানসাস। জরিপে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের সাপ্তাহিক যৌনসম্পর্কের গড় হার, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত দোকানে যাওয়ার প্রবণতা এবং প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তু বা বিশেষ যৌন আচরণ সম্পর্কিত অনলাইন অনুসন্ধানের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি ‘কিঙ্ক স্কোর’ নির্ধারণ করা হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকো ৯১ দশমিক ৬ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। অঙ্গরাজ্যটির বাসিন্দারা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ২ দশমিক ৬ বার যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হন। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তু নিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধানের হারও দেশটির অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ওরেগনের স্কোর ৮৫ দশমিক ৯৩। জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত দোকানে যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি এই অঙ্গরাজ্যে। তৃতীয় স্থানে থাকা আরকানসাসের স্কোর ৮৩ দশমিক ৬৭। শীর্ষ দশে থাকা অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো হলো ভারমন্ট, নর্থ ডাকোটা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, কানেকটিকাট, ওয়াশিংটন, রোড আইল্যান্ড এবং আলাস্কা। জরিপে আরও দেখা গেছে, আলাস্কার বাসিন্দারা সপ্তাহে গড়ে ২ দশমিক ৮১ বার যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ভারমন্ট ও নর্থ ডাকোটার বাসিন্দাদের মধ্যে এ ধরনের বিষয় নিয়ে অনলাইন অনুসন্ধানের হার উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্ক এ তালিকায় রয়েছে ২১তম স্থানে। অঙ্গরাজ্যটির কিঙ্ক স্কোর ৫২ দশমিক ৫। জরিপ অনুযায়ী, নিউইয়র্কের বাসিন্দারা সপ্তাহে গড়ে ১ দশমিক ৩৯ বার যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হন, যা জাতীয় গড় ১ দশমিক ৮-এর চেয়ে কিছুটা বেশি। অন্যদিকে নিউ জার্সি রয়েছে ৪৩তম অবস্থানে। অঙ্গরাজ্যটির স্কোর ৩২ দশমিক ৭৪। সেখানে প্রতি সপ্তাহে যৌনসম্পর্কের গড় হার ১ দশমিক ২১ হলেও অনলাইন অনুসন্ধান এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত দোকানে যাওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে সবচেয়ে কম স্কোর পেয়েছে টেক্সাস। এর স্কোর ২২ দশমিক ৭৪। তালিকার নিচের দিকের অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো হলো ফ্লোরিডা, টেনেসি, জর্জিয়া এবং মিসিসিপি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় ও আলোচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্য প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করেছে। যেমন, ক্যালিফোর্নিয়া রয়েছে ৪০তম স্থানে এবং ফ্লোরিডা ৪৯তম স্থানে। ‘সে ইট উইথ এ কনডম’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেঞ্জামিন শারম্যান বলেন, যৌনতা এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকলেও অনেকেই খোলাখুলি আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এই জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যেই এ ধরনের বিষয় নিয়ে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো যৌনসম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মতি, খোলামেলা যোগাযোগ এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নতুন কোনো অভিজ্ঞতা গ্রহণের আগে সঙ্গীর সঙ্গে স্পষ্টভাবে আলোচনা করা এবং নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কোথায় সবচেয়ে সুখে থাকেন মার্কিনরা? নতুন তালিকায় চমক দেখাল সিয়াটল
নিউ ইয়র্কে প্রথম ধরা পড়ল ‘বারবন ভাইরাসে’ আক্রান্ত রোগী, নেই টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা
তোপের মুখে নিউইয়র্কের স্কুলে এআই রোবট শিক্ষক প্রকল্প স্থগিত
যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলস শহরের একটি ইন-অ্যান্ড-আউট বার্গার রেস্টুরেন্টে বন্দুক হামলায় হামলাকারীসহ অন্তত তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ২টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনসাধারণের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই। টুইন ফলস পুলিশ জানায়, বন্দুকধারী প্রথমে রেস্টুরেন্টের ভেতরে গুলি চালায়। পরে সে বাইরে পার্কিং লটে এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। টুইন ফলস পুলিশের প্রধান ম্যাথিউ হিকস বলেন, হামলাকারী নিহতদের মধ্যেই রয়েছে। তবে ঘটনায় ঠিক কতজন আহত হয়েছেন এবং অন্য কেউ এতে জড়িত ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি জানান, তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য এবং পুরো ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রত্যক্ষদর্শী লেন কোয়েন বলেন, তিনি ট্রাফিক সিগন্যালে অপেক্ষা করার সময় এক ব্যক্তিকে এআর-ধরনের একটি রাইফেল হাতে রেস্টুরেন্টের ড্রাইভ-থ্রু এলাকা থেকে বের হতে দেখেন। পরে আরেকজন পিস্তলধারী ওই সন্দেহভাজনের দিকে গুলি চালান। আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ এক নারী কর্মীকে তাঁর এক সহকর্মী দ্রুত পার্কিং লট থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরে জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। পুলিশ নিহত ও আহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি। হামলার উদ্দেশ্যও এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে জনসমাগমস্থলে বন্দুক হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ আইডাহোর এই ঘটনাও দেশটির বন্দুক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষ আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে।
নিউ জার্সিতে পরিত্যক্ত কূপে আটকে পড়ে হরিণ, উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দিল পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে না ফেরার দেশে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী ও এনভিডিয়ার সিনিয়র ডেটা সায়েন্টিস্ট ড. ইরফান
ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির অভিযোগে ফ্লোরিডার বাসিন্দার ২ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে ইরান সফর শেষে ফেরার পর অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাক্স ব্লুমেনথালের দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) কর্মকর্তারা কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই তার ফোন দুটি জব্দ করে এক সপ্তাহ নিজেদের হেফাজতে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ফোন ফেরত দেওয়া হলেও, ওই সময়ে ফোনগুলোর সঙ্গে ঠিক কী করা হয়েছিল, তা জানতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে সাংবাদিকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আমেরিকান-আরব অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন কমিটি (এডিসি) জানিয়েছে, ফোনগুলো জব্দ ও সংরক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে সিবিপির কাছ থেকে ফরেনসিক তথ্য এবং হেফাজতের নথি (চেইন অব কাস্টডি রেকর্ড) আদালতের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে তারা আবেদন করেছে। সংস্থাটির দাবি, কেবল ফোন ফেরত দিলেই বিষয়টি শেষ হয়ে যায় না। ফোনগুলো সরকারি হেফাজতে থাকার সময় কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ব্লুমেনথাল ইরান সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তিনি জানান, সিবিপি কর্মকর্তারা তার দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেন। তবে তার সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ ও ক্যামেরা জব্দ করা হয়নি। ব্লুমেনথালের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি একজন সাংবাদিক এবং ইরানে শুধুমাত্র পেশাগত দায়িত্ব পালন করতেই গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার ফোনের পাসকোড দিলে গোপন সূত্র, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং সাংবিধানিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরপরও কর্মকর্তারা তাকে জানান, প্রয়োজনে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে ফোন থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্লুমেনথাল বলেন, “আমি সেখানে শুধু সাংবাদিকতার কাজ করেছি। আমি যা করছিলাম, তা পুরোপুরি সাংবাদিকতার দায়িত্বের অংশ ছিল।” এদিকে, এডিসি আদালতে জরুরি আবেদন করার এক দিন পর, গত ১৭ জুলাই সরকার ব্লুমেনথালের ফোন দুটি ফেরত দেয়। আবেদনপত্রে বলা হয়েছিল, ফোন জব্দ ও দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ও চতুর্থ সংশোধনী এবং প্রাইভেসি প্রোটেকশন অ্যাক্ট-এর পরিপন্থী। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ফোন দুটি থেকে কোনো তথ্য নেওয়া বা পরীক্ষা করা হয়নি, তবুও এডিসি এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। সংস্থাটির সভাপতি ও আইনি পরিচালক জেনিন ইউনেস বলেন, “শুধু ফোন ফেরত দিয়ে সরকার এই গুরুতর সাংবিধানিক অভিযোগের জবাব এড়িয়ে যেতে পারে না। যদি ফোনের তথ্যে প্রবেশই না করা হয়ে থাকে, তাহলে এক সপ্তাহ ধরে ফোন দুটি নিজেদের কাছে রাখার কারণ কী ছিল, সেটিরও ব্যাখ্যা দিতে হবে।” এডিসির মতে, ফোন দুটি জব্দ করার ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। ব্লুমেনথালের সঙ্গে থাকা ল্যাপটপ ও ক্যামেরা রেখে শুধুমাত্র ফোন জব্দ করা হয়েছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কর্মকর্তাদের আগ্রহ ছিল তার ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সংবাদসূত্র এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত সংবেদনশীল তথ্যের দিকে। এই মামলার শুনানিতে এডিসি আদালতের কাছে সরকারের আবেদন খারিজ করে পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক রেকর্ড ও হেফাজতের নথি প্রকাশেরও দাবি করেছে। সংস্থাটি বলছে, এই মামলার গুরুত্ব শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে সীমান্তে সাংবাদিকদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দের ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি সীমা থাকবে এবং গোপন সংবাদসূত্র কতটা সুরক্ষা পাবে, সেই প্রশ্নেও এই মামলার রায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। এডিসি আরও উল্লেখ করেছে, ব্লুমেনথাল একা ইরান সফর করেননি। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মার্কিন সাংবাদিক ছিলেন। কিন্তু তাদের পরিবর্তে শুধুমাত্র তাকেই জিজ্ঞাসাবাদ ও ফোন জব্দের মুখে পড়তে হয়। ব্লুমেনথাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, তার সাংবাদিকতার ধরন এবং প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এডিসির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার কয়েক দিন আগে রাজনৈতিক কর্মী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক লরা লুমার এক্সে ব্লুমেনথালকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান এবং ইরান সফরের অর্থায়ন নিয়ে তদন্তের দাবি তোলেন। পরে বিমানবন্দরে সিবিপির জিজ্ঞাসাবাদেও একই ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এডিসির আইনজীবীদের মতে, যদি রাজনৈতিক চাপের পর কোনো সাংবাদিকের ডিভাইস জব্দ করে এক সপ্তাহ আটকে রাখা হয় এবং পরে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ফেরত দিয়ে বিষয়টি শেষ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের জন্য উদ্বেগজনক নজির হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব ভার্জিনিয়ার ফেডারেল জেলা আদালতে চলমান এই মামলার ফলাফল শুধু ম্যাক্স ব্লুমেনথালের ফোন জব্দের ঘটনার ব্যাখ্যাই নয়, ভবিষ্যতে সীমান্তে সাংবাদিকদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি ও জব্দের ক্ষেত্রে আইনি সীমারেখা নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে চাকরি করলে কী কী সুবিধা মেলে, আবেদন করবেন কীভাবে?
দুজনেই বুয়েটের শিক্ষার্থী, তবু ছিলেন অপরিচিত; যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে গিয়ে পরিচয়, প্রেম, তারপর বিয়ে