বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তা করা একটি আন্তঃদেশীয় মানবপাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্রাজিলে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের পর টেক্সাসে তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর তিনি লারেডো, টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে প্রথমবার হাজির হন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৩৯ বছর বয়সী আল-মামুনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সংশোধিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীদের দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর ষড়যন্ত্রে অংশ নেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অবস্থানকারী অভিবাসীদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং তাদের পরবর্তী যাত্রার সমন্বয় করতেন। মামলার নথি অনুযায়ী, আল-মামুনের সঙ্গে আরও দুই বাংলাদেশি—মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮)—এই চক্রে জড়িত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় অভিবাসীদের রাখতেন এবং তাদের মনতেরের দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। অন্যদিকে মোক্তার হোসেন মনতেরেতে তাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হয়ে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অনেক অভিবাসীকে অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, এই নেটওয়ার্ক দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের জন্য একাধিক দেশের রুট ব্যবহার করত। দোষী সাব্যস্ত হলে আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের ষড়যন্ত্র এবং অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানবপাচারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন এর আগে দোষ স্বীকার করেছেন এবং তারা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI), যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (JTFA) এবং ব্রাজিলসহ একাধিক দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুন আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসে বহু বছর ধরে সক্রিয় একটি মানবপাচার ও যৌন শোষণ চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী, পালিয়ে যাওয়া শিশু এবং অসহায় নারীদের টার্গেট করে প্রতারণা, ভয়ভীতি ও সহিংসতার মাধ্যমে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করত। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ফিগুয়েরোয়া করিডরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এই অভিযানে একাধিক সংস্থা একযোগে অংশ নেয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয় এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পরিচিতজন এবং বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে কিশোরী ও তরুণীদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনত। চাকরি, ভালো আয় কিংবা নিরাপদ জীবনের আশ্বাস দিয়ে তাদের ফাঁদে ফেলা হতো। পরে শারীরিক নির্যাতন, হুমকি ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, অপরাধচক্রটি কয়েক বছর ধরে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে নিত। কেউ ভুক্তভোগী সংগ্রহ করত, কেউ তাদের ওপর নজরদারি চালাত, আবার কেউ অর্থ লেনদেন ও থাকার ব্যবস্থা পরিচালনা করত। একটি মোটেলের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে যে তিনি জেনেশুনে কক্ষ ভাড়া দিয়ে এই অপরাধ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তদন্তে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫১ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং কেউ কেউ পালিয়ে যাওয়া শিশু বা পালক পরিবারে বেড়ে ওঠা কিশোরী। তদন্তকারীরা বলছেন, এসব ভুক্তভোগীকে চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণ, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনা এবং অর্থপাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে কয়েকজন অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তদন্ত কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এই চক্রটি কেবল একজন বা দুজনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো না। এটি ছিল একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক, যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করত। তদন্তের স্বার্থে ডিজিটাল তথ্য, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের নথি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এই অভিযানের মাধ্যমে দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে মানবপাচার ও যৌন শোষণ চক্রের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তদন্ত এখনো চলমান থাকায় ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তার বা নতুন অভিযোগ আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। মানবপাচারকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুতর সংঘবদ্ধ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অসহায় মানুষকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এমন অপরাধ দমনে ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। সর্বশেষ এই অভিযান সেই প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে মানবপাচারের সম্ভাব্য লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সন্দেহজনক কোনো ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন মানবপাচার এবং দুর্বল বা অরক্ষিত মানুষদের শোষণ রোধে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে রোড আইল্যান্ড স্টেট পুলিশ। 'অপারেশন রেড কার্ড' নামের এই বহুমুখী অভিযানটি ম্যাসাচুসেটস স্টেট পুলিশ, ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), নেভাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস (এনসিআইএস), রোড আইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিসের যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। অর্থের বিনিময়ে অবৈধ যৌন ব্যবসায় লিপ্ত হওয়া, শিশু নির্যাতন এবং মানবপাচারের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িতদের লক্ষ্য করেই মূলত এই অভিযানটি চালানো হয়েছে। অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলো আয়োজক দেশগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সুবিধা বয়ে আনলেও, এটি মানবপাচারকারী এবং অপরাধীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই মানবপাচার প্রতিরোধ, ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ওই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। চলমান এই তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনের নাম ও অপরাধের বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের রেহোবোথের বাসিন্দা ৩৪ বছর বয়সী রিচার্ড ল্যালিয়ারকে ১৬ বছরের কম বয়সী নাবালকদের প্রলোভন দেখানো এবং অশ্লীল সামগ্রী প্রেরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এছাড়া রোড আইল্যান্ডের নর্থ প্রভিডেন্সের ২৭ বছর বয়সী জোশুয়া লিংকন, ক্র্যানস্টনের ২৬ বছর বয়সী জ্যাকব পালাজো, জনস্টনের ৬০ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কো মিকোলি, টিভারটনের ৩৮ বছর বয়সী ট্র্যাভিস শ এবং সেন্ট্রাল ফলসের ৩৮ বছর বয়সী রকি জোসেফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যৌনতা ক্রয়, নাবালকের কাছে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রচার এবং অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের অনেককেই ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রোড আইল্যান্ড স্টেট পুলিশ এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো সাধারণ জনগণকে এই ধরনের অপরাধের বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মানবপাচার অনেক সময়ই প্রকাশ্যে ঘটে এবং ভুক্তভোগীরা সাধারণত নিয়ন্ত্রিত বা জোরজবরদস্তির শিকার হয়ে থাকেন, যার ফলে তারা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন না। মানবপাচার সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা ন্যাশনাল হিউম্যান ট্রাফিকিং হটলাইনে (১-৮৮৮-৩৭৩-৭৮৮৮) যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে। সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা এই হটলাইনে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে তথ্য প্রদান করা যাবে।
ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে গৃহপরিচারিকার চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে মানবপাচারের শিকার করার অভিযোগে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তকারীদের দাবি, অনলাইনে প্রকাশিত একটি চাকরির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ার ওই নারীকে ফ্লোরিডায় আনা হয়েছিল। পরে তাকে জোরপূর্বক যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তদন্ত নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী একটি চাকরি খোঁজার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়েছিলেন। বিজ্ঞাপনে ঘণ্টায় ৩৫ ডলার বেতন, বিনামূল্যে আবাসন এবং যাতায়াত সুবিধাসহ গৃহপরিচারিকার কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। চাকরির আশায় তিনি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ফ্লোরিডায় যান। তদন্তকারীরা জানান, ফ্লোরিডায় পৌঁছানোর পর তাকে লেক ওয়ার্থ বিচ এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার পাসপোর্ট এবং কাজের অনুমতিপত্র নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাকে জানানো হয় যে, প্রতিশ্রুত চাকরির পরিবর্তে তাকে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ খুঁজতে থাকেন ওই নারী। পরে একটি জানালার ওপর লাগানো প্লাইউড ভেঙে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন এবং নিরাপদ স্থানে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘটনার তদন্ত শেষে ৩৩ বছর বয়সী ডায়ানা ক্যাথরিন চাপারো কন্ত্রেরাস এবং ৫০ বছর বয়সী সান্দ্রা লুজ পেরাল্টা আগুইলারের বিরুদ্ধে মানবপাচার, পতিতাবৃত্তি পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তদন্তে জড়িত কর্মকর্তারা বলছেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে অন্য অঙ্গরাজ্য বা দেশে নিয়ে গিয়ে শোষণের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। বিশেষ করে অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে প্রতারণা ও মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে বহুবার সতর্ক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণের আগে নিয়োগকর্তার পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের বৈধতা এবং চাকরির শর্ত যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে আড়াই শতাধিক যাত্রীবাহী একটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, গত ৯ এপ্রিল বিকেলে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভাসমান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’। পরে তাঁদের কোস্ট গার্ডের টহল জাহাজ ‘মনসুর আলী’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন বাংলাদেশি ও তিনজন রোহিঙ্গা। তাঁদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া এক রোহিঙ্গা যুবক জানান, তাঁকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারের কুতুপালং এলাকা থেকে অপহরণ করে টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছাকাছি সমুদ্রে একটি বড় ট্রলারে তোলা হয়, যেখানে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন রোহিঙ্গা এবং বাকিরা বাংলাদেশি। তিনি দাবি করেন, ট্রলারে নারী ও শিশুসহ অনেক যাত্রী ছিলেন। আন্দামান সাগরের কাছে পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পাচারকারীরা যাত্রীদের সংকীর্ণ কুঠুরিতে গাদাগাদি করে রাখলে শ্বাসরোধে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হয়। পরে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়। আরেক উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি জানান, তিনি পানির ট্যাংক আঁকড়ে ধরে দুই দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর উদ্ধার হন। এ ঘটনায় কোস্ট গার্ড বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তানজিনা সুলতানা’ নামের ট্রলারটি অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় পড়ে। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, উদ্ধার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জনকে সন্দেহভাজন মানব পাচারকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিনজনকে ভুক্তভোগী হিসেবে আদালতের নির্দেশে পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ যাত্রীদের সঠিক সংখ্যা ও তাঁদের পরিণতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্ধার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ায় ঘটনাটি তদন্তে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
উত্তর ফ্রান্সের উপকূল থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে যাওয়ার চেষ্টাকালে নৌকা থেকে পড়ে ৪ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোরে ফ্রান্সের ক্যালে অঞ্চলের ইকুাইহেন ও একল্ট সৈকতের মাঝামাঝি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় মেয়র ক্রিশ্চিয়ান ফোরক্রয় জানান, প্রায় ৩০ জনের একটি অভিবাসী দল একটি ইনফ্ল্যাটেবল ডিঙি নৌকায় ওঠার চেষ্টা করার সময় বিপদে পড়ে পানিতে তলিয়ে যান। মৃতদের মধ্যে দুজন নারী এবং দুজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া আরও এক অভিবাসীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদল অভিবাসী সাগরে পড়ে গেলেও ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি না থেমে বাকিদের নিয়ে ব্রিটেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখে। পুলিশ জানিয়েছে, মানবপাচারকারীরা নজরদারি এড়াতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘ট্যাক্সি-বোট’ কৌশল ব্যবহার করায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে। চলতি বছরের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৭৭৬ জন অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। এই বিপজ্জনক পারাপার রোধে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে 'ওয়ান ইন, ওয়ান আউট' চুক্তি থাকলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। অভিবাসন নিয়ে এই প্রাণহানি এবং নিয়মিত অনুপ্রবেশ ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, শুধু সীমান্ত পাহারা দিয়ে এই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়; অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও আইনি পথ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সূত্র: রয়টার্স
সাবেক সংসদ সদস্য ও এক/এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা মানবপাচার মামলায় তাকে এ রিমান্ডে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এই আদেশ দেন। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। সোমবার (২৩ মার্চ) গভীর রাতে ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে। ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ ঢাকায় পাঁচটি এবং ফেনীতে ছয়টি মামলা রয়েছে। ফেনীর একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। এক/এগারো সরকারের সময় প্রভাবশালী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অবসরের পর রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অবসরের পর জনশক্তি রপ্তানি খাতে যুক্ত থাকার সময় মানবপাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।