ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হওয়ার মানসিক চাপে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর আগে তিনি বাবার উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন, যেখানে বারবার চেষ্টা করেও সরকারি চাকরি না পাওয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, নিহত তরুণের নাম আনন্দ। তিনি ২০২৪ সালে কানপুরের বেসরকারি প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পিএসআইটি (PSIT) থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক লাভ করেন। একই সঙ্গে তিনি উত্তরপ্রদেশে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় তারা বড় ছেলের বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে বিহারে গিয়েছিলেন। পরে বাড়িতে কোনো সাড়া না পেয়ে গৃহকর্মী প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ লাইনের একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চিরকুটে তিনি লিখেছেন, “সরি পাপা, আমি সরকারি চাকরির জন্য প্রায় ৫০ বার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও।” নিহতের বাবা রাজকুমার জানান, স্নাতক শেষ করার পর আনন্দ পাওয়ার গ্রিড করপোরেশনে এক বছরের শিক্ষানবিশি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি রেলওয়ে, স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি), ব্যাংক এবং শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আনন্দ নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছিলেন না। গত কয়েক মাস ধরে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। পরিবার তাকে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি নিজের ব্যর্থতা নিয়ে ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। গোবিন্দ নগর থানার স্টেশন হাউস অফিসার অশোক কুমার দুবে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও চাকরির পরীক্ষায় সফল হতে না পারার হতাশা এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার সন্ধ্যায় কানপুরের ভৈরব ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে। ভারতে প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক প্রার্থী অংশ নেন। সীমিত সংখ্যক পদ এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেন। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিষ্ঠানের মানসিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একসময় রাজধানী ঢাকার একটি পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল ছিলেন তিনি। শত শত শিক্ষার্থীর কাছে ছিলেন সম্মানিত শিক্ষক, দক্ষ ইংরেজি প্রশিক্ষক এবং বইপ্রেমী মানুষ। কিন্তু জীবনের একের পর এক আঘাতে সবকিছু হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গত মঙ্গলবারে কুমিল্লার লাকসাম রেলস্টেশন এলাকায় তাঁর মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এক সংগ্রামী শিক্ষকের জীবনের করুণ অধ্যায়। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ঢাকার ফার্মগেটের সিটি রয়্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালের দিকে কলেজের পরিচালনা কমিটিতে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে এবং পরিচালনা কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় একপর্যায়ে রফিকুল ইসলামকে প্রিন্সিপালের পদ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। তাঁর স্বজনদের ভাষ্য, চাকরিটি তিনি স্বেচ্ছায় ছাড়েননি; পরিস্থিতির কারণেই তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়। চাকরি হারানোর পরও তিনি ভেঙে পড়েননি। নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা করেছিলেন। ফার্মগেট এলাকায় একটি পুরোনো বইয়ের লাইব্রেরি চালু করেন। পাশাপাশি ইংরেজির প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চালাতেন। শিক্ষক হিসেবে তাঁর সুনামের কারণে অনেক শিক্ষার্থী তাঁর কাছে ইংরেজি শিখতে আসতেন। ধীরে ধীরে আবার জীবন গুছিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২০ সালে করোনা মহামারি সেই স্বপ্নও ভেঙে দেয়। দীর্ঘদিনের বইয়ের ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। প্রাইভেট টিউশনিও একেবারে কমে আসে। আয়ের প্রায় সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন তিনি। যে মানুষটি সারা জীবন অন্যকে শিক্ষার আলো দিয়েছেন, সেই মানুষটিই তখন সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খেতে থাকেন। এর মধ্যেই নেমে আসে আরও বড় বিপর্যয়। হঠাৎ তাঁর স্ত্রী ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্ত্রীকে সুস্থ করে তুলতে তিনি নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেন। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে একের পর এক সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়। ঢাকায় টিকে থাকার মতো আর্থিক সামর্থ্যও ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত দুই সন্তানকে নিয়ে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে বাধ্য হন। কিন্তু সেখানেও ছিল না কোনো নিশ্চয়তা। চিকিৎসার খরচ জোগাতে গ্রামের সম্পত্তির বড় অংশ আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে হয় শ্বশুরবাড়িতে। সেই সময় সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ। বড় ছেলে এসএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থী। ছোট ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। কিন্তু কোথায় তাদের ভর্তি করাবেন, কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন—কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। গ্রামের আশপাশে ভালো স্কুল-কলেজেরও তেমন সুযোগ ছিল না। পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে পড়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তাঁর এক পুরোনো বন্ধুকে ফোন করে তিনি বলেছিলেন, বড় ছেলেকে হয়তো আর পড়াতে পারবেন না। সংসারের দায়ে তাকে রাজমিস্ত্রির কাজ শিখিয়ে দিতে হতে পারে। আর ছোট ছেলেকে অন্তত কোনো মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর চেষ্টা করবেন। একজন শিক্ষক, যিনি সারা জীবন অন্যের সন্তানদের শিক্ষিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তাকেই একদিন নিজের সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবতে হয়েছিল। ক্রমাগত আর্থিক সংকট, স্ত্রীর দীর্ঘ চিকিৎসা, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা এবং অসহায়ত্ব ধীরে ধীরে তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত সোমবার সকালে কাউকে কিছু না বলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন খবর আসে, কুমিল্লার লাকসাম রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ছেলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, দীর্ঘদিন মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভোগার পর তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরে লাকসাম রেলস্টেশন এলাকায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই পোস্টে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। রফিকুল ইসলামের জীবন কেবল একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির গল্প নয়; এটি এমন এক মানুষের গল্প, যিনি সম্মানিত পেশাজীবন থেকে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, পারিবারিক দুর্ভোগ ও মানসিক সংকটের অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছেন। একসময় যিনি কলেজের প্রিন্সিপালের কক্ষে বসে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁকেই ভাবতে হয়েছে—নিজের সন্তানদের পড়াশোনা কীভাবে চালাবেন। আর সেই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ শেষ হয়েছে লাকসামের রেললাইনে। রফিকুল ইসলামের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; এটি সমাজের কাছেও একটি নীরব প্রশ্ন—জীবনের কঠিনতম সময়ে একজন শিক্ষক, একজন মধ্যবিত্ত মানুষ এবং একটি অসহায় পরিবারের পাশে আমরা কতটা দাঁড়াতে পেরেছি?
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ব্রেইনার্ডে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে ঘিরে শোক, ক্ষোভ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিহত কিশোরী অ্যালেক্সিসের পরিবার দাবি করেছে, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে সহপাঠীদের বুলিংয়ের শিকার হওয়ার পরই সে এই চরম সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক বুলিং অভিযোগ জমা পড়েনি। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পর্যালোচনা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অ্যালেক্সিসের বাবা-মা শ্যান্টেল স্মিথ ও ব্রেন্ট উইলিসের অভিযোগ, তাদের মেয়ে ফরেস্টভিউ মিডল স্কুলে পড়ার সময় একদল সহপাঠী তার গায়ের রং, নাকের আকৃতি ও চেহারা নিয়ে নিয়মিত অপমান করত। তাদের দাবি, অ্যালেক্সিস বিষয়টি বন্ধু, পরিবারের সদস্য এমনকি স্কুলের কিছু কর্মীকেও জানিয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কখনো পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মন্তব্যের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণও ছিল। তারা মনে করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত। ঘটনার পর দায়িত্ব নেওয়া ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট চিপ র্যাঙ্কিন বলেন, অ্যালেক্সিসের মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে গভীর শোক নেমে এসেছে। তিনি জানান, স্কুল প্রশাসনের নথিতে অ্যালেক্সিসকে ঘিরে কোনো আনুষ্ঠানিক বুলিং রিপোর্ট নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকলেই যে বুলিং হয়নি, এমনটি বলা যায় না। র্যাঙ্কিন বলেন, বর্তমানে অনেক বুলিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘটে, যা স্কুল সময়ের বাইরে হওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবকদের জড়াতে না চাওয়ায় ঘটনাগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় না। তিনি জানান, অ্যালেক্সিসের মৃত্যুর পরপরই জেলার সংকট মোকাবিলা দল সক্রিয় করা হয়েছে। ফরেস্টভিউ মিডল স্কুলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় ৩০টিরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নীতিমালা অনুযায়ী যেকোনো বুলিং অভিযোগ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ইন-স্কুল বা আউট-অব-স্কুল সাসপেনশন, বহিষ্কার, এমনকি প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। র্যাঙ্কিন বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে বুলিং শনাক্তকরণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিযোগ গ্রহণ ও যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বুলিং প্রতিরোধ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং স্কুলে অভিভাবক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এদিকে মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের শৃঙ্খলাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলসে বুলিং ও হয়রানির ঘটনা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে যেখানে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল মাত্র তিনটি, সেখানে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০-এ। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা আরও বেড়ে ২৫-এ পৌঁছায়। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বুলিংয়ের ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও কঠোর হয়েছে। ইন-স্কুল সাসপেনশনের পাশাপাশি আউট-অব-স্কুল সাসপেনশনও আগের তুলনায় বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যালেক্সিসের মৃত্যু আরও বেশি আলোচনায় এসেছে, কারণ এর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে একই স্কুলের আরেক শিক্ষার্থীও আত্মহত্যা করেছিল। দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া না গেলেও পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, বুলিং প্রতিরোধ এবং স্কুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষাপরিবেশ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশ্বজুড়ে মানসিক রোগই এখন সবচেয়ে বিস্তৃত স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেট-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বিশ্বের প্রায় ১২০ কোটির বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগেছেন, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ বেশি। গবেষণায় দেখা যায়, উদ্বেগজনিত সমস্যা এবং মারাত্মক বিষণ্নতার হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার ১৫৮ শতাংশ এবং মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার ১৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই দুই রোগকে সবচেয়ে বিস্তৃত মানসিক সমস্যায় পরিণত করেছে। ল্যানসেটের গবেষণায় মোট ১২ ধরনের সাধারণ মানসিক রোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উদ্বেগজনিত সমস্যা, বিষণ্নতা, ডিসথাইমিয়া, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার, কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার, এডিএইচডি, অ্যানোরেক্সিয়া, বুলিমিয়া এবং বুদ্ধিবিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ মানসিক রোগে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও খাওয়াজনিত সমস্যায় নারীদের ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে, এডিএইচডি, অটিজম ও আচরণগত সমস্যাগুলো পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এ গবেষণায় প্রথমবারের মতো উঠে এসেছে, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের ওপর মানসিক রোগের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে। ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় সব দেশেই মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তবে উন্নত দেশগুলোতে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি। গবেষণায় আরও বলা হয়, ‘মানসিক রোগের কারণে হারানো জীবনকাল’ সূচকে নেদারল্যান্ডসে প্রতি এক লাখে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৫ জন আক্রান্ত, যেখানে ভিয়েতনামে এই সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৩০২। মাঝারি আয়ের দেশগুলোতে প্রতি লাখে গড়ে ১ হাজার ৮৫৩ জন এবং উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে প্রায় ২ হাজার ১৮৪ জন মানুষ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মানসিক রোগ বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে গবেষকরা একাধিক বিষয় উল্লেখ করেছেন। প্রধান গবেষক ড. ডামিয়ান স্যান্টোমাউরো বলেন, এর পেছনে অনেক জটিল কারণ কাজ করছে। অন্যদিকে ড. রবার্ট ট্রেস্টম্যান মনে করেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় এখন অনেকেই নিজেদের সমস্যার কথা খোলামেলাভাবে বলছেন, ফলে রোগ নির্ণয়ও বেড়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রোগ নির্ণয়ের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানসিক রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, যেখানে অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তকরণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় আধুনিক জীবনযাপনকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একাকীত্ব, কম শারীরিক পরিশ্রম, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সঙ্গে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। কোভিড-১৯ মহামারির পর লকডাউন, বেকারত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে মানসিক রোগীর সংখ্যা আরও বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজেকে ভালোবাসতে না পারলে অন্যকে ভালোবাসা সম্ভব নয়—জনপ্রিয় এই প্রবাদটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অনেকের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন মনোবিদরা। আপাতদৃষ্টিতে অনুপ্রেরণামূলক মনে হলেও পোর্টল্যান্ডের মনোবিদ জেফ গুয়েন্থার জানান, এ কথাটি আক্ষরিক অর্থে মোটেও সত্যি নয় এবং মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য কোনো বিশেষ যোগ্যতা বা শর্তের প্রয়োজন পড়ে না। জেফ গুয়েন্থার এই জনপ্রিয় প্রবাদের নেপথ্যে থাকা মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, যারা মারাত্মক আত্মবিশ্বাসের অভাব বা বিষণ্ণতায় ভোগেন, তারাও সন্তানদের প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন কিংবা বন্ধুর প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ান। নিজের প্রতি অনুরাগের অভাব থাকলেও মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বিলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কোনোভাবেই খর্ব হয় না। সুতরাং ভালোবাসা দেওয়ার ক্ষমতা নিজের প্রতি অনুরাগের ওপর নির্ভর করে না। এই উক্তিটি প্রায়ই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধবোধ তৈরি করে বলে মনে করেন এই মনোবিদ। তাদের বোঝানো হয় যে, আগে নিজেদের মানসিক সমস্যা ‘ঠিক’ বা ‘ফিক্স’ করতে হবে, তবেই তারা অন্যের ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য হবেন। এর ফলে অনেক মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন এবং এই একাকীত্বকে ‘নিজের ওপর কাজ করা’ বলে চালিয়ে দেন। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক সময় অন্যকে ভালোবাসার মাধ্যমেই মানুষের হারানো আত্মসম্মানবোধ ফিরে আসে। সম্পর্কে থেকে কঠিন সময়ে সঙ্গীর পাশে থাকা বা বিশ্বস্ত থাকাই প্রমাণ করে যে ওই ব্যক্তি অন্যদের চেয়েও অনেক বেশি সক্ষম। এটিই অনেক সময় মানসিক নিরাময়ের প্রকৃত পথ হিসেবে কাজ করতে পারে। জেফ গুয়েন্থার আরও উল্লেখ করেন, এই উক্তিটি মূলত যা বোঝাতে চায় তা হলো—অতীতের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু জটিল প্যাটার্ন তৈরি করে। তবে একে ‘ভালোবাসতে না পারা’ বলা সম্পূর্ণ ভুল। এগুলো মূলত স্নায়বিক সিস্টেমের কিছু অভ্যাস, যা ছোটবেলার অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হয় এবং এটি অবশ্যই নিরাময়যোগ্য।
দাম্পত্য সম্পর্কের বাইরে অন্য কারো সঙ্গে প্রেমে জড়ানো বা পরকীয়া বর্তমান সময়ে এক জটিল সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এর ফলে সুন্দর সংসার মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যাচ্ছে। পুরুষদের পাশাপাশি অনেক নারীও বিয়ের পর পরকীয়ায় আকৃষ্ট হচ্ছেন। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, নারীদের এই পথে পা বাড়ানোর পেছনে সাধারণত আবেগীয় ও মানসিক কারণগুলোই বেশি কাজ করে। লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের পরকীয়ায় জড়ানোর পেছনে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো: অতীতের স্মৃতি: অনেক নারী পরিবারের চাপে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করেন। এমন ক্ষেত্রে তারা তাদের প্রথম প্রেম বা অতীত সম্পর্ক ভুলতে পারেন না এবং সুযোগ পেলেই প্রাক্তন সঙ্গীর দিকে ঝুঁকে পড়েন। মানসিক একাকীত্ব: দাম্পত্য জীবনে স্বামী যদি স্ত্রীকে যথেষ্ট সময় না দেন বা তাদের মধ্যে অর্থবহ কোনো কথা না হয়, তবে স্ত্রীর মনে একাকীত্ব বাসা বাঁধে। এই শূন্যতা পূরণের জন্য তিনি অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেন। একঘেয়েমি ও অবহেলা: সম্পর্কের শুরুর দিকের আকর্ষণ হারিয়ে গেলে কিংবা স্বামীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ভালোবাসা ও মনোযোগ না পেলে নারীরা বিরক্ত হয়ে ওঠেন। তখন অন্য কেউ সামান্য মনোযোগ দিলেই তারা সেদিকে প্রভাবিত হন। চাহিদার অপূর্ণতা: মানসিক ও আবেগীয় চাহিদার পাশাপাশি শারীরিক চাহিদাও দাম্পত্যের একটি বড় অংশ। সঙ্গী যদি স্ত্রীর এই প্রয়োজনগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তবে নারীরা অনেক সময় বাইরে বিকল্প খুঁজতে শুরু করেন। প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা: স্বামী যদি আগে পরকীয়া করেন বা স্ত্রীকে প্রতিনিয়ত অবজ্ঞা ও অসম্মান করেন, তবে অনেক নারী এর প্রতিশোধ হিসেবে নিজেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। তারা সঙ্গীকে বুঝিয়ে দিতে চান যে অবহেলিত হওয়া কতটা কষ্টের।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।