ভিসা থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না বলে সতর্ক করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (২৮ মার্চ) দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা থাকে প্রবেশস্থলের (পোর্ট অব এন্ট্রি) ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার হাতে। দূতাবাস জানায়, একটি ইউএস ভিসা থাকা মানেই ভ্রমণকারী নিশ্চিতভাবে দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন এমন নয়। সংশ্লিষ্ট প্রবেশস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা চাইলে যে কাউকে প্রবেশে বাধা দিতে পারেন। মূলত ভিসা থাকা সত্ত্বেও একজন ভ্রমণকারী কতদিন সেখানে অবস্থান করতে পারবেন, তার শর্তাবলিও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাই নির্ধারণ করেন। ভিসাধারীদের সতর্ক করে পোস্টে আরও বলা হয়, পারমিটের মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করা বা ভিসার ধরন অনুযায়ী অনুমোদিত নয় এমন কোনো কাজে জড়িত হওয়া গুরুতর অপরাধ। বিশেষ করে টুরিস্ট ভিসায় গিয়ে চাকরি করার মতো নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির ওপর ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। মার্কিন দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, সঠিকভাবে ভিসা ব্যবহার করা সম্পূর্ণভাবে ভ্রমণকারীর নিজস্ব দায়িত্ব। নিয়ম মেনে দেশটিতে অবস্থান এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফিরে আসার ওপরই পরবর্তী ভিসা প্রাপ্তি বা ভ্রমণের সুযোগ নির্ভর করে। সম্প্রতি ভিসা জালিয়াতি রোধে কড়াকড়ি আরোপের অংশ হিসেবেই নিয়মিত এমন সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। শনিবার দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, সম্ভাব্য ভ্রমণ বিঘ্ন বা চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি। ভ্রমণকারীদের নিজ খরচ বহন করার সক্ষমতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস আরও উল্লেখ করেছে, ভিসা সাক্ষাৎকারে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে উপস্থিত হওয়া এবং এমন প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখা প্রয়োজন, যা থেকে বোঝা যায় আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। এ ছাড়া, ভুয়া নথি জমা দেওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়ে বলা হয়েছে, এটি প্রতারণার শামিল। এ ধরনের কাজের কারণে আবেদনকারী ভিসার জন্য অযোগ্য হতে পারেন এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস প্রাঙ্গণে ড্রোন হামলা হয়েছে। শনিবার এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানায় মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার দূতাবাস প্রাঙ্গণে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। এর আগে প্রাথমিকভাবে সেখানে মিসাইল (ক্ষেপণাস্ত্র) হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সূত্র: আল–জাজিরা
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। একজন সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, একটি ড্রোন সরাসরি দূতাবাস প্রাঙ্গণে আঘাত হেনেছে। আরেকটি নিরাপত্তা সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে, কূটনৈতিক মিশনটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। সূত্রগুলো জানায়, বাগদাদে ইরান-সমর্থিত দুই যোদ্ধা বিমান হামলায় নিহত হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যেই দূতাবাসে এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলে। তবে কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়। সংলাপ ভেঙে যাওয়ার পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে আলাদা সামরিক অভিযান শুরু করে। পরবর্তী সময়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান—যেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় কুয়েত সিটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জরুরি ভিত্তিতে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে এই সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ তাদের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। দায়িত্বশীল দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দূতাবাস খালি করার নির্দেশনার পাশাপাশি সেখানে সংরক্ষিত স্পর্শকাতর নথিপত্র ধ্বংস এবং গোপন তথ্যসম্বলিত সার্ভার সম্পূর্ণ মুছে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কুয়েতে অবস্থিত দূতাবাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন নাগরিকের হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও বিদেশে অবস্থানরত আমেরিকানদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরপর দূতাবাসকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন।
কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। সব নিয়মিত ও জরুরি কনসুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইরানের হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। গত সোমবার (২ মার্চ) কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায় ইরান, যা কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা নাগরিকদের সতর্ক করেছে। তালিকায় রয়েছে বাহরাইন, মিশর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, পশ্চিম তীর ও গাজা, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান ও কাতার। এদিকে সৌদি আরবে কানাডার দূতাবাসও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার ভোরে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে কানাডা এ সিদ্ধান্ত নেয়। হামলায় সামান্য আগুন ধরে যায় এবং আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সৌদি আরব হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হামলার জবাবে দ্রুত ‘পাল্টা পদক্ষেপ’ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের বহু দেশ ত্যাগের নির্দেশনা দিয়েছে। মঙ্গলবার এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরা নামদার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে দ্রুত নিচের দেশগুলো ত্যাগ করুন।’ সতর্কবার্তায় অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাহরাইন, জর্ডান ও ইরাক থেকে অনেক কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাহরাইন ও জর্ডানে কর্মরত মার্কিন কর্মীদের পরিবারের সদস্যদেরও দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। লেবাননে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র দাবি করেন, দুটি ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে আঘাত হেনেছে এবং এতে আগুন লাগে। পরে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। এদিকে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে। সংঘাত চতুর্থ দিনে গড়ালেও থামার কোনো ইঙ্গিত নেই। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জেরুজালেমও রয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তেহরান ও বৈরুতে হামলা চালানোর কথাও জানানো হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবির সদর দপ্তরে হামলা চালিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ঘটলেও সম্প্রচারে বড় ধরনের বিঘ্ন হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ইরানে এক হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও নৌবাহিনীর স্থাপনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, সংঘাতের তৃতীয় দিন পর্যন্ত ইরানে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার জবাব শিগগিরই দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান হবে ‘দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক’। অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টিত কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার ভোরে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা, যার পরপরই দূতাবাস প্রাঙ্গণ থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দূতাবাস সীমানার ভেতরে আগুনের শিখা দেখা যায়। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেছেন যে, বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এটি মূলত দুটি ড্রোন হামলার ফল। এতে দূতাবাসে 'সীমিত আকারে' আগুন লাগলেও বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে স্থাপনার কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে একটি জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বার্তায় সৌদি আরবে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই অঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা এবং ভ্রমণ সীমিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হামলার পেছনে কারা জড়িত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।