- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্রের
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ ইসরায়েলি সেনাদের অনির্দিষ্টকাল রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর এর সমালোচনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে চুক্তিতে থাকা কাঠামো অনুযায়ী সব পক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। ওয়াশিংটনের মতে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি ওই কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি ইসরায়েল ও লেবাননের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইসরায়েল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে লেবাননের ভূখণ্ড নিয়ে তাদের কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে পুরোপুরি সমর্থন করে বলেও জানান তিনি। এর আগে দক্ষিণ লেবানন সফরের সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা দেন, দেশটির সেনারা সেখানে থাকা ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ থেকে সরে যাবে না। তিনি বলেন, ইসরায়েল লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় নিজেদের নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘমেয়াদে সেনা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাটজের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ওই এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তিনি আগেই স্পষ্ট করেছেন যে ইসরায়েল ওই নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে সরে যাচ্ছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় জুনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যে কাঠামোগত সমঝোতা হয়, তাতে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে পুনর্বিন্যাস বা প্রত্যাহার এবং একই সঙ্গে লেবাননের সেনাবাহিনীকে ওই এলাকায় মোতায়েনের পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের বিষয়টি যাচাই করা। শর্তগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতির ভিত্তিতে ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে অবস্থান পরিবর্তনের কথা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, লেবাননের সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলক কয়েকটি এলাকায় দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে লেবাননের পক্ষ থেকেও উদ্বেগ রয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছেন। বর্তমানে ইসরায়েলি সেনারা সীমান্তবর্তী দক্ষিণ লেবাননের একটি অংশে অবস্থান করছে, যেটিকে ইসরায়েল ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে উল্লেখ করছে। এই অঞ্চল লেবাননের ভূখণ্ডের প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কাটজের দীর্ঘমেয়াদি সেনা অবস্থানের ঘোষণা শুধু ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার উত্তেজনাই বাড়াচ্ছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি সাম্প্রতিক সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের বার্তা স্পষ্ট—হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ও লেবাননের সেনা মোতায়েনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইসরায়েলকে ধাপে ধাপে সেনা পুনর্বিন্যাস করতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুক্তিতে দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার অবস্থানে অনড়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগে নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী টড ব্লঁশ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শপথ নিয়েছেন। একই সময়ে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের স্টাফ সেক্রেটারি উইল শার্ফকে নতুন হোয়াইট হাউস কাউন্সেল হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। টড ব্লঁশের নিয়োগ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি আগে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন এবং এপ্রিল থেকে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত শনিবার মার্কিন সিনেট ৫০-৪৯ ভোটে তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করে। রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ও লিসা মুরকোভস্কি তাঁর বিপক্ষে ভোট দেন। ব্লঁশের নিয়োগকে ঘিরে প্রধান বিতর্কের বিষয় হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। সমালোচকদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্টের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিচার বিভাগের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার বিভাগের কর্মকাণ্ড নিয়ে ইতোমধ্যে যে বিতর্ক চলছে, তার মধ্যে ব্লঁশের স্থায়ীভাবে অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়া নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে ব্লঁশকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চাপের মুখেও পড়তে হয়। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বিতর্কিত ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল বাতিলের বিষয়টি সিনেটের কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যের সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমালোচকেরা ওই তহবিলকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের সুবিধা দেওয়ার সম্ভাব্য হাতিয়ার হিসেবে দেখেছিলেন। এদিকে হোয়াইট হাউসেও গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পরিবর্তন আসছে। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, বর্তমানে হোয়াইট হাউসের স্টাফ সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উইল শার্ফ ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন হোয়াইট হাউস কাউন্সেল হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। তিনি বর্তমান কাউন্সেল ডেভিড ওয়ারিংটনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর শার্ফ ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ে কাজ করেছেন। প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপ্রিম কোর্ট মামলাতেও তিনি ট্রাম্পের পক্ষে কাজ করেছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বিচারক ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। হোয়াইট হাউস কাউন্সেল হিসেবে শার্ফ প্রেসিডেন্টের ক্ষমা প্রদানের বিষয়, আইন পর্যালোচনা এবং প্রেসিডেন্টকে ঘিরে বিভিন্ন মামলার আইনি দিকসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনগত বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। তাঁর নিয়োগ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কংগ্রেসীয় তদন্ত নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। টড ব্লঁশ ও উইল শার্ফ দুজনেরই ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আইনি ও রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকায় তাঁদের নতুন দায়িত্বকে শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, বিচার বিভাগ ও হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ আইনগত পদে প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ প্রশাসনের আইনগত নীতি ও স্বাধীনতা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্পের সমর্থকেরা বলছেন, দুজনের আইনি অভিজ্ঞতা প্রশাসনকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনায় সহায়তা করবে। এদিকে ব্লঁশ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর সামনে একদিকে বিচার বিভাগের নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব, অন্যদিকে রাজনৈতিক চাপ ও স্বাধীনতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন মোকাবিলার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মেধাবী তরুণ নাথান থমাস মাত্র ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে কলেজে অধ্যাপনা শুরু করে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপকের স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি ৩০৬ বছর ধরে অটুট থাকা একটি বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন। সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তার এই অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। নাথান ২০২৩ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি ডেড কলেজে প্রকৌশল বিভাগের ‘সি ফর ইঞ্জিনিয়ার্স’ কোর্স পড়ানো শুরু করেন। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ৩৪৬ দিন। এর ফলে তিনি ১৭১৭ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হওয়া স্কটিশ গণিতবিদ কলিন ম্যাকলরিনের ৩০৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেন। শুধু পুরুষদের রেকর্ডই নয়, নাথান বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন। তিনি ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে অধ্যাপক হওয়া আলিয়া সাবুরের রেকর্ডও ১৬ দিন কম বয়সে অতিক্রম করেন। নাথানের অসাধারণ শিক্ষাজীবন শুরু হয় খুব অল্প বয়সেই। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি মিয়ামি ডেড কলেজে ভর্তি হন। এরপর ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শুরু করে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে ২১ বছর বয়সী নাথান অনলাইনে প্রকৌশল পড়ানোর পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব মায়ামিতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। ভবিষ্যতে তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) আইন নিয়ে কাজ করতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন ও কঠোর ভিসা নীতির ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক ভিডিও বার্তায় জানান, নতুন নীতির আওতায় এমন কোনো বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা বিদ্বেষ উসকে দেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন সবসময় ইহুদি জনগোষ্ঠীর পাশে থাকবে এবং তাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ভিসা নীতির লক্ষ্য হলো বিদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ানো, সহিংসতাকে উসকে দেওয়া বা চরমপন্থী প্রচারণা ঠেকানো। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলবিরোধী কিছু উগ্র বক্তব্য প্রায়ই সন্ত্রাসীদের প্রচারপত্র বা ইশতেহারের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে ঘিরে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভূমিকাও ওয়াশিংটন আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি ‘আব্রাহাম চুক্তি’র পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কার্যক্রম, চরমপন্থী সংগঠনের প্রতি সমর্থন, ইহুদিবিদ্বেষমূলক বক্তব্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি—এসব বিষয় এখন ভিসা প্রক্রিয়ায় অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া দাবির বিপরীতে মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নীতি ঘোষণা করেনি যে, শুধু ইসরায়েলের সমালোচনা করলেই কাউকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে না। রুবিওর বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার বিষয়টির ওপর, সাধারণ রাজনৈতিক সমালোচনার ওপর নয়। এ বিষয়টি স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেক সংস্থাও নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সের পরিবারে এসেছে নতুন সদস্য। রোববার তাঁদের ঘরে জন্ম নিয়েছে চতুর্থ সন্তান, পুত্রসন্তান অ্যালেক নীল ভ্যান্স। মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বার্তায় জানিয়েছেন এই দম্পতি। এই জন্ম শুধু ভ্যান্স পরিবারের জন্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি বিরল ঘটনা। ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৭০ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কাইলার কোলফ্যাক্স দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তানের বাবা হওয়ার পর এই প্রথম কোনো কর্মরত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারে সন্তানের জন্ম হলো। অর্থাৎ প্রায় ১৫৬ বছর পর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বার্তায় জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমাদের ছেলে অ্যালেক নীল ভ্যান্স আজ সকালে জন্ম নিয়েছে। উষা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছে। আমাদের অন্য সন্তানরাও তাদের ছোট ভাইকে পেয়ে ভীষণ আনন্দিত।” তিনি ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক, নার্স ও হোয়াইট হাউস মেডিকেল ইউনিটের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। অ্যালেক নীল ভ্যান্স দম্পতির চতুর্থ সন্তান। এর আগে তাঁদের দুই ছেলে, ইওয়ান ও বিবেক এবং এক মেয়ে মিরাবেল রয়েছে। নতুন সদস্যকে নিয়ে এখন তাঁদের পরিবারে সদস্যসংখ্যা দাঁড়াল ছয়। জেডি ভ্যান্স ও উষা ভ্যান্স ইয়েল ল’ স্কুলে পড়াশোনার সময় একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় পরিবার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম শক্তিশালী ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যেও তাঁর জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, হাইস্কুল বা তার চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ভোটারদের বেশির ভাগই এখন ট্রাম্পের কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট। ইশেলন ইনসাইটসের জুলাইয়ের জরিপ অনুযায়ী, এই ভোটারগোষ্ঠীর ৪১ শতাংশ ট্রাম্পের কাজকে সমর্থন করেছেন। বিপরীতে ৫৭ শতাংশ তাঁর কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ, সমর্থনের তুলনায় অসন্তুষ্ট ভোটারের সংখ্যা ১৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার সময় এই গোষ্ঠীর মধ্যে তাঁর অবস্থান ছিল অনেক শক্তিশালী। তখন সমর্থন ও অসন্তোষের ব্যবধানে তিনি ১৮ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। এখন তিনি ১৬ পয়েন্ট পিছিয়ে। দেড় বছরে তাঁর অবস্থান মোট ৩৪ পয়েন্ট দুর্বল হয়েছে। এই পরিবর্তন ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কলেজ ডিগ্রি নেই এমন ভোটাররা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকানদের বড় সমর্থক হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে আবার হোয়াইট হাউসে ফিরিয়ে আনতেও এই ভোটারদের বড় ভূমিকা ছিল। তবে কম শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন এখনো জাতীয় গড়ের চেয়ে কিছুটা বেশি। সব ভোটারকে নিয়ে করা জরিপে মাত্র ৩৮ শতাংশ তাঁর কাজকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে ৬১ শতাংশ ভোটার অসন্তোষ জানিয়েছেন। সার্বিকভাবে সমর্থনের তুলনায় তাঁর অসন্তুষ্ট ভোটার ২৩ পয়েন্ট বেশি। অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের অবস্থান দুর্বল দেখা গেছে। জরিপে ৩৫ শতাংশ ভোটার তাঁর অর্থনৈতিক নীতিকে সমর্থন করেছেন, আর ৬১ শতাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অভিবাসন নীতিতে ৪২ শতাংশ সমর্থন এবং ৫৫ শতাংশ অসন্তোষ জানিয়েছেন। পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় তাঁর প্রতি সমর্থন ছিল ৩৭ শতাংশ, আর অসন্তোষ ৫৯ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া ৬২ শতাংশ ভোটার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে এগোচ্ছে। দেশ সঠিক পথে রয়েছে বলে মনে করেন ৩১ শতাংশ। জীবনযাত্রার ব্যয়কে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি বলেছেন ৪৫ শতাংশ ভোটার। চাকরি ও অর্থনীতিকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ২২ শতাংশ। জরিপটি ২০২৬ সালের ৯ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে এক হাজার চারজন সম্ভাব্য ভোটার অংশ নেন। জরিপের ত্রুটির সীমা প্লাস বা মাইনাস ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট। জরিপের ফলের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, প্রেসিডেন্টের নীতিগুলোর পূর্ণ প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। প্রশাসনের দাবি, কর কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আবাসন ব্যয় কমানোর উদ্যোগের ফল আগামী মাসগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে। একটি জরিপ দিয়ে পুরো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না। তবে দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যেও ট্রাম্পের সমর্থন কমে যাওয়ায় ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের উদ্বেগ বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টানা বিমান হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তীব্র গরমের মধ্যেই নাগরিকদের নির্দিষ্ট সময়ে এসি বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার। বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ কমাতে শুক্রবার দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা দেয়। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো হামলার শিকার হওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে নাগরিকদের ব্যস্ত সময়ে এসি ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। তবে কোন ধরনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন নাকি অন্য কোনো স্থাপনা। সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি মন্ত্রণালয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানে শুক্রবার তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়। শনিবার ও রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসেও তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে থাকার পাশাপাশি রোববার ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতভর চালানো হামলায় বন্দর আব্বাসের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে সড়ক ও রেলসেতুতে আঘাত হানা হয়। এছাড়া ওমান উপসাগর তীরবর্তী চাবাহার বন্দরের একটি টাওয়ার ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ। স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত এই বন্দরটি ভারতের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছিল এবং অতীতেওh একাধিকবার মার্কিন হামলার লক্ষ্য হয়েছে। এদিকে শুক্রবার ছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের টানা ষষ্ঠ দিনের বিমান হামলা। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জন নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এক ডেন্টাল শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার মামলা করেছেন তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তির পর কোনো আইসিইউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি রোগীকে দেখেননি; বরং দূরবর্তী স্থান থেকে ভিডিও স্ক্রিনের মাধ্যমে তার চিকিৎসা তদারকি করা হচ্ছিল। পরিবারের দাবি, এ অবহেলার কারণেই ২৬ বছর বয়সী কনর হাইলটনের মৃত্যু হয়েছে। আদালতে দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তীব্র পেটব্যথা, বমি, পানিশূন্যতা, মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ এবং অ্যালকোহল প্রত্যাহারজনিত জটিলতা নিয়ে কনর হাইলটন ব্রিজপোর্ট হাসপাতালের মিলফোর্ড ক্যাম্পাসে ভর্তি হন। পরে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হলেও সেখানে কোনো অনসাইট আইসিইউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ অনুযায়ী, রোগীর অবস্থা অবনতির দিকে গেলেও তাকে সরাসরি কোনো চিকিৎসক পরীক্ষা করেননি। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হাইলটনের খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরে তার হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যায়। জরুরি সংকেত দেওয়ার পর তাকে শ্বাসনালি দিয়ে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যবস্থা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিবারের অভিযোগ, জরুরি চিকিৎসা শুরু করতেও বিলম্ব হয়েছিল, কারণ যিনি রোগীকে ইনটিউবেট করতে এসেছিলেন তিনি প্রথমে আইসিইউর অবস্থানই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরিবারের আইনজীবীর দাবি, হাসপাতালটি একটি ‘টেলি–আইসিইউ’ পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছিল, যেখানে সংকটাপন্ন রোগীদের দূরবর্তী স্থান থেকে ভিডিওর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হতো। তাদের অভিযোগ, রোগী বা পরিবারের সদস্যদের আগে থেকে জানানো হয়নি যে আইসিইউতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরাসরি উপস্থিত থাকবেন না। যদি তারা বিষয়টি জানতেন, তাহলে কনরকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের চেষ্টা করতেন। মামলায় ইয়েল নিউ হ্যাভেন হেলথ, ব্রিজপোর্ট হাসপাতাল মিলফোর্ড ক্যাম্পাস এবং সংশ্লিষ্ট নর্থইস্ট মেডিকেল গ্রুপকে আসামি করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হলে কনরের মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল। অন্যদিকে ইয়েল নিউ হ্যাভেন হেলথ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মামলার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে বিচারাধীন হওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা রোগীদের নিরাপদ ও সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ
দুই দশক ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের দণ্ডিত যৌন অপরাধী রোনাল্ড এল. ফিশার। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক উপকূল থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে সমুদ্রে ভাসমান তার পালতোলা নৌযান থেকে তাকে আটক করে মার্কিন মার্শালস সার্ভিস। মার্কিন মার্শালস সার্ভিস জানিয়েছে, ৭০ বছর বয়সী ফিশার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ‘দ্য সিলভার লাইনিং’ নামের ৫৬ ফুট দীর্ঘ একটি পালতোলা নৌযানে অবস্থান করছিলেন। নৌযানটি ‘রিচার্ড গ্রেডন’ নামে নিবন্ধিত ছিল, যা ফিশারের ব্যবহৃত একাধিক ছদ্মনামের একটি। তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে নিজের ‘লায়ন কিং’ নামের ইয়টে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফিশারের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০০৫ সালে রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে সেই মামলার বিচার চলাকালে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। বিচার শেষ হওয়ার আগেই তিনি নিখোঁজ হয়ে গেলেও আদালত তার অনুপস্থিতিতেই বিচার সম্পন্ন করে এবং তাকে প্রথম ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। মামলার সমাপনী যুক্তিতর্ক শুরুর কয়েক দিন আগে নিজের আইনজীবীকে পাঠানো এক ইমেইলে ফিশার দাবি করেছিলেন, তিনি নির্দোষ। তবে দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তির ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্য দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও তিনি লিখেছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, ফিশার একসময় অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। তিনি দক্ষ নাবিক এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হওয়ায় দীর্ঘদিন গ্রেপ্তার এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন। তার বিরুদ্ধে আদালতে হাজির না হওয়া, প্রথম ডিগ্রির যৌন নিপীড়ন এবং বিচার এড়াতে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। রোড আইল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক অবস্থায় তাকে ধরিয়ে দিতে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘আমেরিকাস মোস্ট ওয়ান্টেড’-এ একাধিকবার তার পরিচয় ও তথ্য প্রচার করা হয়েছিল। মার্কিন মার্শালস সার্ভিস জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের আগে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে ফিশারের অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর সমুদ্রে তার নৌযানকে আটকে কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের পর ফিশারকে প্রথমে নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নেওয়া হয়। পরে তাকে ম্যানহাটনে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত হবে, তিনি বিচার এড়িয়ে পালিয়ে থাকার অভিযোগে ফেডারেল আদালতে হাজির হবেন, নাকি রোড আইল্যান্ডে প্রত্যর্পণের শুনানির জন্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আদালতে পাঠানো হবে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে ইসরায়েল সরকারের কিছু সদস্য সচেষ্ট ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। জনপ্রিয় পডকাস্ট উপস্থাপক জো রোগানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান-নীতি পরিবর্তনের জন্য ইসরায়েল সরকারের কিছু ব্যক্তি মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তার দাবি, তারা চেয়েছিলেন সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হোক এবং কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হোক। ভ্যান্স আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাকে ব্যক্তিগতভাবেও লক্ষ্য করে একটি “অত্যন্ত অর্থায়ন-সমৃদ্ধ বিদেশি প্রভাব প্রচারণা” চালানো হয়েছিল। তবে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি এখনো বিশ্বাস করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানো জরুরি। তবে তার মতে, সেই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর উপায় সবসময় সামরিক অভিযান নয়; কূটনৈতিক পথও গুরুত্বপূর্ণ। ভ্যান্স যে সমঝোতার পক্ষে কথা বলেছেন, সেটি গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইরানের সঙ্গে সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচকদের দাবি, ওই সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কিংবা পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিয়ে পর্যাপ্ত বিধিনিষেধ রাখা হয়নি। ভ্যান্সের এই মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কোনো ভাইস প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে অন্যতম কঠোর প্রকাশ্য সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে কূটনীতি নাকি সামরিক চাপ—এই প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান হোসেতে এক সহকারী পুলিশ প্রধানের ব্যক্তিগত বাসার বাইরে রাখা চিহ্নবিহীন পুলিশ গাড়ি থেকে একটি রাইফেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরি যাওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা যায়নি এবং ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি বলে জানিয়েছে সান হোসে পুলিশ বিভাগ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে সহকারী পুলিশ প্রধান লক্ষ্য করেন যে তাঁর চিহ্নবিহীন গাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিখোঁজ হয়েছে। পরে বিষয়টি সান হোসে পুলিশ বিভাগকে জানানো হলে তদন্ত শুরু করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চুরি যাওয়া অস্ত্রটি একটি রাইফেল। এটি কীভাবে গাড়ি থেকে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। পুলিশ আশপাশের এলাকার তথ্য ও সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহ করছে। সান হোসে পুলিশ বিভাগ স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছে, চুরি যাওয়া অস্ত্র সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। বর্তমানে অস্ত্রটি জননিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অস্ত্র উদ্ধারে কাজ চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি থেকে অস্ত্র চুরির ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত গাড়ি ও সরঞ্জামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সান হোসে পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষক অপ্রাপ্তবয়স্ক এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে একাধিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক জেসি হিউবেল (৩৭) স্বেচ্ছায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। মোনমাউথ কাউন্টি প্রসিকিউটরস অফিস মঙ্গলবার জানায়, হিউবেল ফ্রিহোল্ড টাউনশিপ হাই স্কুলের শিক্ষক। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয় এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তখন ১৮ বছরের কম বয়সী ছিলেন। তদন্তকারীরা জানান, অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনাগুলো নিউ জার্সির ফ্রিহোল্ড টাউনশিপ, ইংলিশটাউন, ম্যানালাপান টাউনশিপ এবং রেড ব্যাংক—এই চারটি এলাকায় সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে প্রতিটি এলাকায় পৃথকভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হিউবেলের বিরুদ্ধে প্রতিটি এলাকায় একটি করে ‘শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার’ অভিযোগ এবং দ্বিতীয়-ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত ও বিচার সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনগত এখতিয়ার অনুযায়ী পরিচালিত হবে। মোনমাউথ কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। অভিযুক্ত শিক্ষকের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কারও কাছে অতিরিক্ত তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানতে জেসি হিউবেলের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ইস্ট সেন্ট লুইস শহরে একই পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে চালানো একাধিক গুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের একজন নিহতদের আত্মীয় এবং হত্যাকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার সন্দেহ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার শহরের একটি সরকারি আবাসন এলাকা, একটি পার্ক এবং আরেকটি বাসভবন—এই তিনটি স্থানে অল্প সময়ের ব্যবধানে গুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহত সবাই একই পরিবারের সদস্য হওয়ায় ঘটনাগুলোকে একটি ধারাবাহিক হামলা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতরা হলেন ৭৪ বছর বয়সী প্যাট্রিসিয়া মে, ৪৯ বছর বয়সী চেরি মে, ২৪ বছর বয়সী ডেভিন মে, ২৫ বছর বয়সী শানিয়া থম্পসন এবং ২১ বছর বয়সী কুয়েন্টিন থম্পসন। আহত দুজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তারা হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর সন্দেহভাজনদের বহনকারী একটি গাড়ি থামিয়ে দুই কিশোরকে আটক করে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরস্পরের আত্মীয়। তবে তাদের সম্পর্কের বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, আটক হওয়া কিশোরদের একজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত। একই সঙ্গে তিনি নিহতদেরও একজন স্বজন। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের পুলিশের পরিচালক ব্রেন্ডেন কেলি বলেন, এটি অত্যন্ত নৃশংস ও মর্মান্তিক ঘটনা। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাটি নির্দিষ্ট একটি পরিবারকে লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে। তবে এর পেছনের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কোর্টনি হফম্যান বলেন, একটি পরিবারের ওপর কেন এমন ভয়াবহ হামলা চালানো হলো—তদন্তে এখন সেই প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
যুদ্ধের অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি খাতকে ঘিরে উদ্বেগ সত্ত্বেও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার। বছরের শুরু থেকে দেশের প্রধান শেয়ার সূচকগুলো উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং একাধিকবার নতুন রেকর্ড গড়েছে। বছরের শুরু থেকে স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস ৫০০ সূচক প্রায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রায় ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডাও জোন্স শিল্প গড় সূচকও প্রায় ৮ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উচ্চতায় অবস্থান করছে। মার্চের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হলেও পরবর্তী সময়ে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। বিশেষ করে অর্ধপরিবাহী চিপ ও স্মৃতিচিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের শক্তিশালী উত্থান বাজারকে নতুন গতি দেয়। মার্চের পর থেকে এ খাতের সূচক প্রায় ৮৮ শতাংশ বেড়েছে, যা এ সূচকের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স। তবে জুন মাসে প্রযুক্তি খাতে কিছুটা মন্দাভাব দেখা দেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং সেই বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় কত দ্রুত আসবে—এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস ৫০০ সূচক জুনে প্রায় ১ শতাংশ এবং নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়। বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের শেয়ার জুন মাসে প্রায় ১৭ শতাংশ এবং সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওরাকলের শেয়ার প্রায় ৩৫ শতাংশ কমেছে। এরপরও পুরো ত্রৈমাসিক হিসেবে দুটি প্রধান সূচকের এটি ২০২০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী পারফরম্যান্স। অন্যদিকে প্রযুক্তি খাত থেকে অর্থ সরিয়ে আর্থিক, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় ডাও জোন্স জুন মাসে প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মার্চের পর থেকে সূচকটির মোট প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৩ শতাংশ, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক অর্জন। এদিকে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে বড় কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফলাফল, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগের বাস্তব ফলাফলের দিকে। সাম্প্রতিক উত্থানের পর বাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধনের সম্ভাবনা থাকলেও অনেক বিনিয়োগকারী সম্ভাব্য দরপতনকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। সব মিলিয়ে, যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার প্রত্যাশার তুলনায় দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।