ইসরায়েলকে ঘৃণা করলে মিলবে না যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, কড়া বার্তা ট্রাম্প প্রশাসনের
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন ও কঠোর ভিসা নীতির ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক ভিডিও বার্তায় জানান, নতুন নীতির আওতায় এমন কোনো বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা বিদ্বেষ উসকে দেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন সবসময় ইহুদি জনগোষ্ঠীর পাশে থাকবে এবং তাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ভিসা নীতির লক্ষ্য হলো বিদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ানো, সহিংসতাকে উসকে দেওয়া বা চরমপন্থী প্রচারণা ঠেকানো। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলবিরোধী কিছু উগ্র বক্তব্য প্রায়ই সন্ত্রাসীদের প্রচারপত্র বা ইশতেহারের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে ঘিরে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভূমিকাও ওয়াশিংটন আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি ‘আব্রাহাম চুক্তি’র পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কার্যক্রম, চরমপন্থী সংগঠনের প্রতি সমর্থন, ইহুদিবিদ্বেষমূলক বক্তব্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি—এসব বিষয় এখন ভিসা প্রক্রিয়ায় অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া দাবির বিপরীতে মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নীতি ঘোষণা করেনি যে, শুধু ইসরায়েলের সমালোচনা করলেই কাউকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে না। রুবিওর বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার বিষয়টির ওপর, সাধারণ রাজনৈতিক সমালোচনার ওপর নয়। এ বিষয়টি স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেক সংস্থাও নিশ্চিত করেছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের জন্য দ্রুত সাক্ষাৎকারের নতুন সুযোগ চালু করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করে তুলনামূলক দ্রুত সাক্ষাৎকারের তারিখ পেতে পারবেন। তবে এই অর্থ পরিশোধ করলেও ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে না। এটি শুধু দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ দেবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচি ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু থাকবে। এটি শুধুমাত্র বি-১/বি-২ ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য। আসন খালি থাকলে আবেদনকারীরা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করতে পারবেন। এই সুবিধা নিতে হলে আবেদনকারীকে প্রথমে ডিএস-১৬০ ফরম পূরণ করতে হবে, ১৮৫ ডলারের এমআরভি ফি পরিশোধ করতে হবে এবং নিয়মিত পদ্ধতিতে একটি সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটে এই সুবিধা চালু থাকলে এবং আবেদনকারী যোগ্য হলে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিয়ে দ্রুত সাক্ষাৎকারের আবেদন করা যাবে। দ্রুত সাক্ষাৎকারের সময় নির্বাচন করার পর ১০ মিনিটের মধ্যে অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করে বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। অর্থ পরিশোধের পর সাক্ষাৎকারের তারিখ বা সময় পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে উপস্থিত না হলে অতিরিক্ত এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দ্রুত সাক্ষাৎকারের এই সুবিধা ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা দেয় না। সব আবেদনকারীকে আগের মতোই পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করলেও ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্তে কোনো বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে না। বর্তমানে এই কর্মসূচি নির্বাচিত কিছু মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। কোন দেশে বা কোন দূতাবাসে এই সুবিধা পাওয়া যাবে, তা আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট বা ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমে যাচাই করতে হবে। সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
গৃহহীনদের জন্য হোটেল ব্যবহারে ১৮৬ কোটি ডলারের চুক্তি নবায়ন করলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি
ইতালির স্থায়ী রেসিডেন্সি মিলবে না যাদের, প্রকাশ হলো ৫টি শ্রেণির তালিকা
বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন ও কঠোর ভিসা নীতির ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক ভিডিও বার্তায় জানান, নতুন নীতির আওতায় এমন কোনো বিদেশি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা বিদ্বেষ উসকে দেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন সবসময় ইহুদি জনগোষ্ঠীর পাশে থাকবে এবং তাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। রুবিওর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ভিসা নীতির লক্ষ্য হলো বিদেশি নাগরিকদের মাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ানো, সহিংসতাকে উসকে দেওয়া বা চরমপন্থী প্রচারণা ঠেকানো। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলবিরোধী কিছু উগ্র বক্তব্য প্রায়ই সন্ত্রাসীদের প্রচারপত্র বা ইশতেহারের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইসরায়েলকে ঘিরে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের ভূমিকাও ওয়াশিংটন আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি ‘আব্রাহাম চুক্তি’র পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এদিকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কার্যক্রম, চরমপন্থী সংগঠনের প্রতি সমর্থন, ইহুদিবিদ্বেষমূলক বক্তব্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি—এসব বিষয় এখন ভিসা প্রক্রিয়ায় অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া দাবির বিপরীতে মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নীতি ঘোষণা করেনি যে, শুধু ইসরায়েলের সমালোচনা করলেই কাউকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে না। রুবিওর বক্তব্যে জোর দেওয়া হয়েছে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার বিষয়টির ওপর, সাধারণ রাজনৈতিক সমালোচনার ওপর নয়। এ বিষয়টি স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেক সংস্থাও নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা বন্ড নীতির আওতায় এলো আরও ৫ দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাড়ি কিনতে চান? সরকার দেবে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা
শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে থাকছেন সাকিব আল হাসান
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নতুন এক সাফল্যের নজির স্থাপন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের ২০১৬ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী সাজিদা ফেরদাউস ইরিনা ও মো. মাসুদ উন নবী শুভ। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ বৃত্তিসহ ডক্টরেট (পিএইচডি) গবেষণার সুযোগ অর্জন করেছেন। সাজিদা ফেরদাউস ইরিনা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যালবানি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগবিষয়ক ডক্টরেট গবেষণা কর্মসূচিতে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে মো. মাসুদ উন নবী শুভ ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও গণমাধ্যম অধ্যয়নবিষয়ক ডক্টরেট গবেষণা কর্মসূচিতে ভর্তি হয়েছেন। উভয়েই সম্পূর্ণ অর্থায়নের আওতায় এই সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে সাধারণত বৃত্তি, গবেষণা বা শিক্ষাসহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে শিক্ষাব্যয় এবং জীবনযাপনের জন্য ভাতা অন্তর্ভুক্ত থাকে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তাঁরা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা, শিক্ষাদান এবং বিভিন্ন একাডেমিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র প্রকাশ, গবেষণা প্রকল্পে সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন একাডেমিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা তাঁদের এই অর্জনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডক্টরেট পর্যায়ে ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হওয়ায় একাডেমিক ফলাফল, গবেষণার মান এবং ভবিষ্যৎ গবেষণা পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। উচ্চশিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, অ্যালবানি বিশ্ববিদ্যালয় যোগাযোগ, জনসংযোগ, স্বাস্থ্য যোগাযোগ, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগ বিষয়ে গবেষণার জন্য সুপরিচিত। অন্যদিকে ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয় গণমাধ্যম, ডিজিটাল যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ, সাংবাদিকতা এবং সমাজভিত্তিক গবেষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সুনাম অর্জন করেছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়, একই ডিসিপ্লিন এবং একই শিক্ষাবর্ষ থেকে যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের দুই খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ বৃত্তিসহ ডক্টরেট গবেষণার সুযোগ অর্জন নিঃসন্দেহে একটি বিরল সাফল্য। শিক্ষাবিদদের মতে, এই অর্জন শুধু খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, বাংলাদেশের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে মন্দায় পড়বে পারে যুক্তরাজ্য, সতর্কতা
‘আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না’ ইরানের সাথে আজই নতুন আলোচনা: ট্রাম্প