২০ বছর পলাতক থাকার পর ধরা পড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডিত যৌন অপরাধী
দুই দশক ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়ানোর পর অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের দণ্ডিত যৌন অপরাধী রোনাল্ড এল. ফিশার। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক উপকূল থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে সমুদ্রে ভাসমান তার পালতোলা নৌযান থেকে তাকে আটক করে মার্কিন মার্শালস সার্ভিস।
মার্কিন মার্শালস সার্ভিস জানিয়েছে, ৭০ বছর বয়সী ফিশার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করে আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ‘দ্য সিলভার লাইনিং’ নামের ৫৬ ফুট দীর্ঘ একটি পালতোলা নৌযানে অবস্থান করছিলেন। নৌযানটি ‘রিচার্ড গ্রেডন’ নামে নিবন্ধিত ছিল, যা ফিশারের ব্যবহৃত একাধিক ছদ্মনামের একটি।
তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে নিজের ‘লায়ন কিং’ নামের ইয়টে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফিশারের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ২০০৫ সালে রোড আইল্যান্ডের নিউপোর্টে সেই মামলার বিচার চলাকালে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। বিচার শেষ হওয়ার আগেই তিনি নিখোঁজ হয়ে গেলেও আদালত তার অনুপস্থিতিতেই বিচার সম্পন্ন করে এবং তাকে প্রথম ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে।
মামলার সমাপনী যুক্তিতর্ক শুরুর কয়েক দিন আগে নিজের আইনজীবীকে পাঠানো এক ইমেইলে ফিশার দাবি করেছিলেন, তিনি নির্দোষ। তবে দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তির ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে অন্য দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও তিনি লিখেছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ফিশার একসময় অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। তিনি দক্ষ নাবিক এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হওয়ায় দীর্ঘদিন গ্রেপ্তার এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন। তার বিরুদ্ধে আদালতে হাজির না হওয়া, প্রথম ডিগ্রির যৌন নিপীড়ন এবং বিচার এড়াতে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল।
রোড আইল্যান্ড স্টেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক অবস্থায় তাকে ধরিয়ে দিতে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘আমেরিকাস মোস্ট ওয়ান্টেড’-এ একাধিকবার তার পরিচয় ও তথ্য প্রচার করা হয়েছিল।
মার্কিন মার্শালস সার্ভিস জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের আগে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে ফিশারের অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর সমুদ্রে তার নৌযানকে আটকে কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারের পর ফিশারকে প্রথমে নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নেওয়া হয়। পরে তাকে ম্যানহাটনে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত হবে, তিনি বিচার এড়িয়ে পালিয়ে থাকার অভিযোগে ফেডারেল আদালতে হাজির হবেন, নাকি রোড আইল্যান্ডে প্রত্যর্পণের শুনানির জন্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আদালতে পাঠানো হবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে এনভিডিয়ার ৩২ বছর বয়সী সিনিয়র এআই গবেষক ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যু নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করলেও সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা। পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবিতে এবার ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। ইরফানকে গত জুলাইয়ে পালো আল্টোর নিজ বাসায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ জুলাই তার মৃত্যু হয়। এনবিসি বে এরিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে। তবে মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। পরিবারের দাবি, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেও ইরফান একটি পেশাগত প্রেজেন্টেশন করেছিলেন। তার বোন সারাহ আল-হুসেইনি বলেন, ওই সময় ইরফান স্বাভাবিক ছিলেন এবং প্রেজেন্টেশনও ভালোভাবে শেষ করেছিলেন। পরিবারের কাছে তাই আত্মহত্যার সিদ্ধান্তটি অসংগতিপূর্ণ মনে হচ্ছে। মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে আরও তদন্তের দাবি জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও জরুরি আবেদন জমা দিয়েছেন। মরদেহ দাহের আগে ফরেনসিক পরীক্ষা, টক্সিকোলজি বিশ্লেষণ এবং স্বাধীন তদন্তের সুযোগ নিশ্চিত করতে তারা হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। পরিবারের আশঙ্কা, মরদেহ দাহ হয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রমাণ আর পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না। ইরফানের পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, তার মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় পুলিশ ও সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ পরিবারের বক্তব্য; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। এনবিসি বে এরিয়া জানিয়েছে, মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ইরফানের ময়নাতদন্তের ফলাফল সম্পর্কে তাদের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। ইরফান আল-হুসাইনি ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং জর্জিয়া টেক থেকে পিএইচডি করা একজন গবেষক। স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাখ্যাযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করতেন তিনি। জর্জিয়া টেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি এনভিডিয়ায় যোগ দেন। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক ময়নাতদন্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - ইরফানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করলেও পরিবার সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে। স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি ও কারণ স্পষ্ট হবে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
২০২৬ সালে আমেরিকার সবচেয়ে সস্তা আবাসন কোনটি! জেনে নিন, তালিকায় আরো ১০ শহর
৪০তম ফোবানা শেষে হিউস্টনে ৪১তম আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু, স্পনসরশিপ প্যাকেজ ঘোষণা
ভিসা জটিলতা ও পেশাগত বাধা পেরিয়ে মার্কিন নাগরিক হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি গ্রেফতারের আহ্বান জানানোর পরও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে নেতানিয়াহু ২৪ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে নিউইয়র্কে যাবেন এবং জাতিসংঘের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন। ড্যানন বলেন, গাজা যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মামদানি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করছেন। মামদানি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যা দিয়ে গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটির নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করার আইনগত ক্ষমতা নেই। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের আরেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। ওই পরোয়ানায় গাজায় মানবিক সহায়তা সীমিত করার মাধ্যমে অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ আনা হয়। ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নিউইয়র্ক সিটির ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনগত ক্ষমতা না থাকলেও মামদানির আহ্বানকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ড্যানন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর জাতিসংঘে উপস্থিত হওয়া ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ ও চাপের মধ্যেও নেতানিয়াহু তার বক্তব্য দেবেন। ড্যাননের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এরপর একই রাতেই তিনি ইসরায়েলে ফিরে যাবেন। জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের নেতাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভের আশঙ্কাও রয়েছে। ড্যানন বলেন, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলাকালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ নিউইয়র্কের রাস্তায় আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। গত বছর নেতানিয়াহু জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাধারণ পরিষদের হল থেকে বহু প্রতিনিধি বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। তবে ড্যানন বলেন, নেতানিয়াহু এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিজ্ঞ এবং প্রতিবাদ বা বিরোধিতার মধ্যেও তিনি জাতিসংঘে তার বক্তব্য দেবেন। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিকভাবে ক্রমেই বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন। ফলে এবারের জাতিসংঘ সফরও ব্যাপক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
কানাডায় দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি প্রবাসী মাসুদ, ছেলের পা বাঁচাতে লড়াই চলছে
বাংলাদেশি মালিকানাধীন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটিতে ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য ৬৫ লাখ ডলারের টিউশন সহায়তা
নিউ ইয়র্কে হোমস্কুলিং বেড়েছে ২০০%, স্কুলব্যবস্থা নিয়ে হতাশ হয়ে মুখ ফিরাচ্ছে পরিবারগুলো
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেসের অধ্যাপক মেলিনা আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে এক আইসিই এজেন্টের পরিচয় ও সম্ভাব্য অবস্থান প্রকাশ করে তাকে লক্ষ্য করার আহ্বান জানানোর অভিযোগ উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অক্সনার্ডে রোববার এক সমাবেশে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুল্লাহ এক আইসিই এজেন্টের নাম উল্লেখ করে বলেন, ওই কর্মকর্তা অক্সনার্ডের একটি হোটেলে থাকতে পারেন। এরপর তাঁকে উদ্দেশ করে একাধিকবার অশালীন ভাষায় ‘ফাক হিম আপ’ মন্তব্য করেন। নিরাপত্তার কারণে এজেন্টটির সম্ভাব্য অবস্থানের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আবদুল্লাহ বলেন, তিনি ওই শব্দগুলো ‘অনেকভাবে’ বোঝাতে ব্যবহার করেছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আইসিই এজেন্টদের কর্মকাণ্ড গোপন রাখা উচিত নয়; বরং তাঁদের কার্যক্রম জনসমক্ষে তুলে ধরা দরকার। তবে নির্দিষ্ট একজন এজেন্টের পরিচয় ও সম্ভাব্য অবস্থান প্রকাশের পর এমন মন্তব্য করায় সমালোচকেরা এটিকে ওই কর্মকর্তার জন্য সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। ঘটনাটি ঘটে ‘লা ডিফেনসা দেল পুয়েবলো’ নামে একটি সম্মেলনে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিবাসী কমিউনিটির অধিকার এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নীতির বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়। আবদুল্লাহ ক্যাল স্টেট এলএ-তে প্যান-আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক এবং ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার লস অ্যাঞ্জেলেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা। ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন। যে আইসিই এজেন্টকে নিয়ে আবদুল্লাহ বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে দায়িত্বের বাইরে থাকা অবস্থায় একটি প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনায় কিথ পোর্টার জুনিয়র নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, পোর্টার একটি রাইফেল থেকে গুলি ছুড়ছিলেন এবং সংঘর্ষের একপর্যায়ে ওই এজেন্ট আত্মরক্ষায় গুলি চালান। এ ঘটনায় এজেন্টটির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আবদুল্লাহর সাম্প্রতিক বক্তব্যের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে তাঁর মন্তব্য আইনগতভাবে সহিংসতায় উসকানির পর্যায়ে পড়ে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।
নিউইয়র্কে টাকা ছাড়াই খাবার! ৮০০ জায়গায় মিলছে ফ্রি গ্রোসারি, জানুন ঠিকানা ও সময়
‘এআই মানুষকে শেষ করে দিতে পারে’, আশঙ্কায় অ্যানথ্রপিক গবেষকের পদত্যাগ