সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সৌদি

অসহায় প্রবাসী জামাল। ছবি:সংগৃহীত
অসুস্থ হওয়ায় রাস্তায় ফেলে যান স্ত্রী, সেই সৌদি ফেরত জামাল মারা গেছেন

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাতে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা সৌদি প্রবাসী জামাল উদ্দিন মারা গেছেন। সোমবার ১৭ আগস্ট দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় ভাতিজির বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের বরাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।   জামাল উদ্দিন কালমেঘা এলাকার মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।   জামালের ভাতিজির স্বামী শাহ আলম জানান, অসুস্থ অবস্থায় জামালকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার পর তারা নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাও করানো হয়। গত শুক্রবার হাসপাতাল থেকে আবার ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল।   শাহ আলম বলেন, সোমবার দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে জামাল মারা যান। তার ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পৌঁছানোর পর সবার সঙ্গে আলোচনা করে জানাজার ব্যবস্থা করা হবে।   জামাল উদ্দিনকে ঘিরে আলোচনার শুরু আগস্টের প্রথম দিকে। ১ আগস্ট গভীর রাতে তাকে কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক ভিটার কাছাকাছি একটি রাস্তার পাশে রেখে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা অসুস্থ অবস্থায় তাকে সেখানে দেখতে পান। পরে বৃষ্টি শুরু হলে তার ভাতিজি ইসমত আরা তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। জামাল কিডনির সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না বলে সে সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন।   প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, জামাল দীর্ঘদিন আগে নিজের পৈতৃক এলাকা ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান এবং প্রায় ১২ বছর সেখানে কাজ করেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বড় অংশ তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন।   তবে জামালের দেশে ফেরার সময় নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। পরিবারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলা হয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রায় আট মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। অন্যদিকে আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পরিবারের সদস্যদের বরাতে বলা হয়েছিল, তিনি প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছিলেন। ফলে দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট সময় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। তখন চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের অভিযোগ সামনে আসে।   জামালকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছিলেন তার স্ত্রী রিনা আক্তার। সে সময় তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগেই জামালকে ডিভোর্স দিয়েছেন এবং রাতে তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।   ঘটনার পর জামালের ছেলে আবু রায়হানও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বাবাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বাবার সঙ্গে এমন আচরণ ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।   স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অসুস্থ একজন মানুষকে এভাবে রাস্তায় রেখে যাওয়ার অভিযোগকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছিলেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন সে সময় জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।   রাস্তায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর প্রকাশের প্রায় দুই সপ্তাহ পর মারা গেলেন জামাল উদ্দিন। জীবনের দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটানো এই ব্যক্তির শেষ দিনগুলো কেটেছে নিজের পৈতৃক এলাকার ভাতিজির বাড়িতে, যেখানে তাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিলেন স্বজনরা।

Unknown আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয়: রিয়াদ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো সামরিক অক্ষ বা ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয় বলে জানিয়েছে রিয়াদ।   সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও টেকসই করা। চুক্তিটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত নয় বলে সৌদি পক্ষ জানিয়েছে।    গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।    চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসবে।    এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং বড় প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী, আর পাকিস্তানের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা।    তবে তিন দেশই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। তুরস্কের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু ব্যাখ্যা চুক্তিটির প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।    চুক্তিটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে নতুন এই প্রতিরক্ষা কাঠামোকে অনেকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে সৌদি আরবের বক্তব্য হলো, এর উদ্দেশ্য নতুন কোনো ‘সামরিক অক্ষ’ তৈরি করা নয়।    বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক সম্পর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি Strategic Mutual Defense Agreement স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে এক দেশের ওপর আগ্রাসনকে উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছিল। নতুন মক্কা চুক্তিতে তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় সেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন ত্রিপক্ষীয় কাঠামো পেয়েছে।    চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। তিন দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, সমন্বয়, প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।    অন্যদিকে, চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে ভারতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোও নজর রাখছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উত্তেজনার কারণে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামাবাদের এই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোকে দিল্লি কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তবে এখনই এটিকে ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। চুক্তির প্রকাশ্য ভাষ্য অনুযায়ী এটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাঠামো; আর সৌদি আরব স্পষ্টভাবেই বলছে, এর লক্ষ্য কোনো নতুন সামরিক অক্ষ তৈরি করা নয়।    অর্থাৎ, মক্কা থেকে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হলেও এর প্রকৃত কৌশলগত প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে চুক্তির অধীনে তারা কতটা যৌথ সামরিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়ন করে তার ওপর।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সৌদি পারমাণবিক চুক্তির বিরোধিতা করলেন রিপাবলিকান সেনেটর জন কেনেডি

সৌদি আরবের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা ও সংশয় প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান সেনেটর জন কেনেডি। মার্কিন আইনপ্রণেতারা যখন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি পর্যালোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই নিজের দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে এই অবস্থান নেন তিনি। সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে কেনেডি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে এই ধরনের চুক্তি করা একেবারেই সমীচীন নয়।   লুইজিয়ানার এই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা যুক্তি দেন যে, একদিকে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে সেজন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, আর অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যেরই আরেক দেশের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সই করা একটি চরম আন্তর্জাতিক বিরোধ তৈরি করে। যদিও এটি কেবল বেসামরিক বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি একটি প্রস্তাব, তবুও বিশ্বজুড়ে এটি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ সুগম করবে বলেই ধরে নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। কেনেডি ট্রাম্পের সার্বিক পররাষ্ট্রনীতির সমর্থক হলেও, বর্তমানের উত্তপ্ত বিশ্ব পরিস্থিতিতে সময়সীমা নির্বাচন নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।   চুক্তিটি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হঠাৎ শর্ত জুড়ে দেন যে, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সৌদি আরবকে অবশ্যই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। তবে সেনেটর কেনেডির মতে, ট্রাম্পের এই শর্ত পূরণ হওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ সৌদি আরব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুস্পষ্ট অগ্রগতি ছাড়া তারা ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে না; যা আবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত।   অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সেনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনও ট্রাম্প প্রশাসনের এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি শেষ মুহূর্তে নতুন শর্ত যুক্ত করার বিষয়টিকে সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে এক ধরনের ‘প্রতারণামূলক কৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন। অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্ট অনুযায়ী মার্কিন কংগ্রেসে ৯০ দিনের পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই প্রস্তাবটি। তবে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র বিরোধিতা এবং নিজস্ব দলেই কেনেডির মতো প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার উদ্বেগের কারণে ক্যাপিটল হিলে চুক্তিটি পাস করানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বেশ কঠিন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
হরমুজ অবরোধ না করতে ট্রাম্পকে বিরল হুঁশিয়ারি সৌদি যুবরাজের

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক নজিরবিহীন ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন সৌদি আরবের ক্ষমতাধর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। হরমুজ প্রণালী ও ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বিতর্কিত অবস্থানের প্রেক্ষিতে সৌদি যুবরাজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি তার বর্তমান অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে ইরানকে ঠেকানোর দায়িত্ব থেকে রিয়াদ হাত গুটিয়ে নেবে। সাম্প্রতিক এক টেলিফোনালাপে এমবিএস ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, "পিছু হটো, নতুবা ইরানকে আমরা উন্মুক্ত করে দেব (Unleash)।" বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি সৌদির পক্ষ থেকে আসা অন্যতম কঠোর ও বিরল হুঁশিয়ারি। দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে চাপে রাখার যে কৌশলে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র একসাথে কাজ করছিল, ট্রাম্পের কিছু একক সিদ্ধান্তের ফলে তাতে ফাটল ধরার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ট্রাম্পের হঠকারী মন্তব্য রিয়াদকে ক্ষুব্ধ করেছে। সৌদি আরবের আশঙ্কা, ট্রাম্পের অপরিপক্ব পদক্ষেপের ফলে ইরান যদি পূর্ণমাত্রায় প্রতিশোধমূলক আক্রমণ শুরু করে, তবে তার মূল ধাক্কা পড়বে সৌদি তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর ওপর। যুবরাজ সালমান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৌদির পরামর্শ না শোনে, তবে রিয়াদ আর ইরানের মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে না। এতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। হোয়াইট হাউস থেকে এই হুঁশিয়ারির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, এই ঘটনা ট্রাম্প-এমবিএস দীর্ঘদিনের মিত্রতায় বড় ধরনের টানাপোড়েনের আভাস দিচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতা ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি: ত্রিভুজ সংকটে পাকিস্তান

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এক অভিনব এবং অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তান। একদিকে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সাথে তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতে হচ্ছে।  আল-জাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইসলামাবাদের এই ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ বা ভারসাম্য রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জের চিত্র। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়, যার নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। যখন এই আলোচনার টেবিলে বিশ্বশান্তির আশা জাগছিল, ঠিক তখনই রিয়াদ ঘোষণা করে যে, কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির (SMDA) আওতায় পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর একটি বিশাল বহর সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতামত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের জন্য এটি এক অগ্নিপরীক্ষা। ইরানের সাথে তাদের দীর্ঘ সীমান্ত এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক মিত্র। আল-জাজিরার মতে, পাকিস্তান যদি সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়, তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের আস্থা হারানো এবং নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ শিয়া জনগোষ্ঠীর অসন্তোষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কূটনৈতিক ভারসাম্য কি সম্ভব? পাকিস্তানি কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, ইসলামাবাদ দুটি দায়িত্বই পালনে সক্ষম। তারা একদিকে শান্তি বজায় রাখতে কূটনীতি চালাচ্ছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তজনা এই ভারসাম্য বজায় রাখাকে দিনে দিনে আরও কঠিন করে তুলছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
সৌদির যুবরাজকে চরম অপমান ট্রাম্পের: ‘পশ্চাদ্দেশে চুমু খেতে হবে’ মন্তব্যে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি

ইরান ইস্যুতে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির মধ্যেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে বিস্ফোরক ও অপমানজনক মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় আয়োজিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সামিট’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি সরাসরি যুবরাজকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ কটাক্ষ করেন। সভায় ট্রাম্প দম্ভোক্তি করে বলেন, “তিনি হয়তো ভেবেছিলেন আমি একজন ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাকে বুঝতে হবে যে এখন আমার তোষামোদ করা ছাড়া তার উপায় নেই। এমনকি তাকে আমার পশ্চাদ্দেশে চুমু খেতে হবে।” সেখানে উপস্থিত সৌদি প্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “ওনাকে বলবেন আমার সঙ্গে যেন ভালো ব্যবহার করেন।” ট্রাম্পের এই আচমকা রাগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এক বছর আগের একটি ঘটনা। ট্রাম্পের দাবি, এক বছর আগে যুবরাজ সালমান আমেরিকাকে একটি ‘মৃতপ্রায় দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ইরানের হুমকির মুখে পড়ে আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সেই পুরনো ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে সৌদি আরব যখন নিজেদের ভূখণ্ড মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রিয়াদকে চরম বার্তা দিলেন। তবে বক্তব্যের শেষে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে গিয়ে তিনি যুবরাজকে ‘প্রকৃত যোদ্ধা’ ও ‘অসাধারণ মানুষ’ বলেও অভিহিত করেন। একইসাথে ইরান বিরোধী যুদ্ধে সৌদি আরবসহ কাতার, কুয়েত ও আমিরাতের সমর্থনের প্রশংসাও করেন তিনি।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
সৌদি আরব ও কুয়েতে রাতভর ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় আবারও যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গতরাতে সৌদি আরব এবং কুয়েতের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা ২৮টি ড্রোন এবং একটি ব্যালেস্টিক মিসাইল সফলভাবে ভূপাতিত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কিছু স্থাপনার সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন আঘাত হানলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। কুয়েত সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হলেও কোনো হতাহত নেই।  ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে। এই হামলার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে মন্দার প্রভাবে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতেই বাড়ির দাম কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরে সবচেয়ে দ্রুত কমছে বাড়ির দাম, ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০