সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সৌদি

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি
মার্কিন দূতাবাসের কিছু কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ

সৌদি আরবে বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার মধ্যে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন সরকারি কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার, ২১ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্ত জানায়। ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলা বাড়তে থাকায় কর্মীদের নিরাপত্তায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।    মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট স্পষ্ট করেছেন, নির্দেশটি শুধু সৌদি আরবে থাকা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য। উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মী ও পরিবার সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে খবর প্রকাশের পর তিনি এ ব্যাখ্যা দেন। ফলে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসের সব কর্মীকে চলে যেতে বলা হয়েছে, এমন তথ্য সঠিক নয়।  পিগটের বক্তব্য অনুযায়ী, হুতিরা সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা বাড়িয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার পাশাপাশি যাতায়াতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসও বুধবার সম্ভাব্য আরও হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।    এদিকে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন বাসিন্দা নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। হামলায় স্থাপনার কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।  একই দিনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সীমান্তের কাছে শায়বাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় হামলার উদ্দেশ্যে আসা ড্রোন প্রতিহত করার পর ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত ও আরও দুজন আহত হন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের একজন ফিলিপাইনের এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। ওই ড্রোন কারা পাঠিয়েছিল, মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে তা উল্লেখ করা হয়নি।   অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশেও বুধবার কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা। সংস্থাটির প্রতিবেদনে সিরিকের কারপান এলাকার কথা বলা হয়েছে। তবে বিস্ফোরণের ধরন বা কারণ স্থানীয় সূত্রগুলো তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি।    সৌদি আরব নিয়ে ১২ অক্টোবর জারি করা মার্কিন ভ্রমণ সতর্কতায় দেশটিতে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি প্রতিহত করা অস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকেও ঝুঁকির কথা উল্লেখ রয়েছে। সৌদি আরবে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মীদের যেকোনো বিমানবন্দর ব্যবহারের জন্য বিশেষ অনুমতি নেওয়ার বিধানও রয়েছে।   

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
সৌদি যুবরাজের কঠিন সময়, ইয়েমেন যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে চাপে পড়েছে

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে নতুন করে তীব্র হওয়া সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের সামনে তৈরি হয়েছে কঠিন পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর ২০ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণেও যুবরাজের প্রধান কৌশলগুলোর ওপর চাপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।    সৌদি যুবরাজের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতে হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও ২০২৬ সালে আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের সঙ্গে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিমান চলাচল ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে যায়। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সবকিছু সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও স্বাধীনভাবে সেগুলো যাচাই করতে পারেনি। এদিকে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।    এই পরিস্থিতিতে সৌদি নেতৃত্বের সামনে কঠিন সিদ্ধান্তের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সামরিক অভিযান আরও জোরদার করলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলে হুথিদের সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। ফলে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   মোহাম্মদ বিন সালমানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনা। এ উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচি। এর আওতায় পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনোদন, পরিবহন, আবাসন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সৌদি আরবকে বৈশ্বিক পর্যটন ও ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।   তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলেছে। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরব কিছু বড় প্রকল্পের পরিধি ও সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করছে। জানুয়ারিতে রিয়াদের নিউ মুরাব্বা প্রকল্পের কেন্দ্রীয় আকৃতির বিশাল ভবন ‘মুকাব’-এর নির্মাণকাজও স্থগিত রাখার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।   নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে অর্থ বিনিয়োগের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং ব্যবসার পরিবেশ বিবেচনা করেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা কিংবা বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়লে দেশটির বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভিশন ২০৩০ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে গেছে। পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে সংঘাত কত দিন স্থায়ী হয় এবং সরকার কীভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে, তার ওপর।   সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। উন্নত অস্ত্র, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং সামরিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন রিয়াদের অন্যতম প্রধান সহযোগী। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।   দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর সৌদি যুবরাজের নির্ভরতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সৌদি আরব আশা করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আঞ্চলিক সংকটে দেশটির অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবকে ইসরায়েল অনেক সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
সৌদি আরবকে অনেক সাহায্য করছে ইসরায়েল, সম্পর্কও স্বাভাবিক হতে পারে: ট্রাম্প

ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবকে ইসরায়েল অনেক সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে ইসরায়েল কী ধরনের সহায়তা দিয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।    টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের মোকাবিলায় ইসরায়েলের সহায়তার প্রস্তাব সৌদি আরবের গ্রহণ করা উচিত কি না, সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান। জবাবে তিনি সম্মতি জানান এবং সৌদি আরব সেই সহায়তা গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই আলাপে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদ জানান ট্রাম্প। আব্রাহাম চুক্তির আওতায় সেই সম্ভাবনা আবার আলোচনায় এসেছে কি না, এমন প্রশ্নে তাঁর বক্তব্য ছিল, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।    তবে ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবকে ইসরায়েল ইতিমধ্যে সরাসরি সহায়তা দিয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টাইমস অব ইসরায়েলও প্রতিবেদনে এই অস্পষ্টতার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। ফলে তাঁর বক্তব্যকে নির্দিষ্ট কোনো সামরিক সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।  ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত বেড়ে যাওয়ার পর ইসরায়েল হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি। তবে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মাধ্যমে সৌদি আরবকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য দেওয়ার বিষয়ে সেপ্টেম্বরে খবর পাওয়া গিয়েছিল। এটি সূত্রনির্ভর তথ্য, ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে এমন কোনো ব্যবস্থার বিস্তারিত জানাননি।    ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। সৌদি আরবকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার চেষ্টা চললেও রিয়াদ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট পথ তৈরির শর্ত বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের আশাবাদের পাশাপাশি এই শর্তও দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।  

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট
মক্কায় অনৈতিক কাজে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, আগে না জানায় তথ্য চেয়ে চিঠি বাংলাদেশের

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছে কনস্যুলেটের একটি সূত্র। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠানো হয়।  ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দার কনস্যুলেটের সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। শুক্রবার বিকেলে কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, বুধবার, ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে যেসব কর্মকাণ্ডকে সৌদি কর্তৃপক্ষ ‘অনৈতিক ও অশালীন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, সেসব ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের এ দণ্ড দেওয়া হয়। প্রকাশিত বিবৃতিতে কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।  গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ও তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে পাঠানো হয়। আদালত শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ বা বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেন। সৌদি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, অপরাধের গুরুত্ব, মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় এ রায় দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখার পর রাজকীয় আদেশে তা কার্যকর করা হয়।    প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে মামলাটির বিচার চলছিল। বিচারপ্রক্রিয়ায় দুজন বাংলাদেশি দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে। তবে তাঁদের ভূমিকা ও অভিযুক্তদের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিদেশে আটক কোনো ব্যক্তি অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিলম্ব না করে তাঁর দেশের কনস্যুলেটকে জানাতে হয়। আটক ব্যক্তিকে এ অধিকার সম্পর্কেও অবহিত করার বিধান রয়েছে। কনস্যুলার কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ, সাক্ষাৎ এবং আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে পারেন।    নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার কনস্যুলেটকে জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কি না, তাঁদের এ অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়েছিল কি না এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁরা কী ধরনের আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া বিস্তারিত তথ্য এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেডারেল রিজার্ভের
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আবারও সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত ফেডারেল রিজার্ভের

সাম্প্রতিক এক সভার কার্যবিবরণী বা মিনিটস থেকে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের অধিকাংশ কর্মকর্তাই চলতি বছর সুদের হার আরেক দফা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। গত বুধবার প্রকাশিত ওই কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি।   এই পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে গত ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের সভায় তারা তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ৩.৯ শতাংশে উন্নীত করেছিল।   সুদের হার বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত কমানোর আহ্বানের ঠিক উল্টো ছিল। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের সুদ-নির্ধারণী কমিটির তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাদের ‘অত্যন্ত রাজনীতিকরণ’ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে তার নিজেরই নিয়োগ দেওয়া বর্তমান ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রতি তিনি এখনও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।   আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক সাত সপ্তাহ আগে এই সুদের হার বৃদ্ধির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা মুদিপণ্য, জ্বালানি এবং বাসস্থানের উচ্চ ব্যয়ের কারণে ইতিমধ্যেই দিশেহারা। এছাড়া সরকারি ঋণ বৃদ্ধি, ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল ঋণ গ্রহণ, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সেমিকন্ডাক্টর ও কম্পিউটার সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদহারও গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের ধারণা, ২৮-২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সভায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ডিসেম্বরের সভায় তা আবারও বাড়ানো হতে পারে। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, মূল্যস্ফীতির হার দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত বেশি রয়েছে এবং তা দ্রুত নামিয়ে আনতে কমিটি কাজ করছে।   যেহেতু মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনও আড়াই থেকে তিন শতাংশ বেশি রয়েছে, তাই অর্থনীতিকে কিছুটা শীতল করার জন্য একাধিকবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে ফেডের অনেক নীতিনির্ধারক ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান
সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জামাদির ওপর ইরান পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি আরব এবং কুয়েতে কর্মরত মার্কিন সেনাসদস্যদের পাঠানো নতুন কিছু ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান, বিধ্বস্ত ক্যাম্প, ফাঁপা হয়ে যাওয়া ভবন ও পুড়ে যাওয়া যানবাহনের ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে।   এই ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া ২৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক আমেরিকান ই-৩ সেন্ট্রি গোয়েন্দা বিমান। সে সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে থাকা ১৬টি এধরনের বিমানের মধ্যে ছয়টিই ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল।   এছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং এবং ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন গ্রাউন্ড ট্রুপসদের ব্যবহৃত ট্রেইলার ও গাড়ি ধ্বংসের ছবিও সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, ক্যাম্প আরিফজানের কয়েক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত শুয়াইবা বন্দরেই যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সেনাসদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘাঁটিতে হওয়া এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা আমেরিকান জনগণের কাছে গোপন রাখা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পরিস্থিতি এমন যে তারা চোখ বন্ধ করে কেবল মার খাচ্ছেন। ওই সেনাসদস্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সেই দাবিও দৃঢ়ভাবে খণ্ডন করেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে মাত্র কয়েকটি ইরানি হামলা মার্কিন প্রতিরক্ষা ভেদ করতে পেরেছে।   হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা আসলে ঘাঁটিগুলোর কোনো প্রতিরক্ষাই দিতে পারছেন না, বরং চোখের সামনে কেবল সেগুলো ধ্বংস হতে দেখছেন। এই বিস্ফোরক তথ্যের বিষয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।   হামলার এই ভয়াবহ ছবিগুলো এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যার মাত্র দুদিন আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের ওপর তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ইউএসএআইডি-এর তথ্য সম্বলিত ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সংঘাতে প্রায় ৬০টি বিমানসহ মোট সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের খরচ বাদ দিয়েই যুদ্ধের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
অসহায় প্রবাসী জামাল। ছবি:সংগৃহীত
অসুস্থ হওয়ায় রাস্তায় ফেলে যান স্ত্রী, সেই সৌদি ফেরত জামাল মারা গেছেন

টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাতে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা সৌদি প্রবাসী জামাল উদ্দিন মারা গেছেন। সোমবার ১৭ আগস্ট দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় ভাতিজির বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের বরাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।   জামাল উদ্দিন কালমেঘা এলাকার মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।   জামালের ভাতিজির স্বামী শাহ আলম জানান, অসুস্থ অবস্থায় জামালকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার পর তারা নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাও করানো হয়। গত শুক্রবার হাসপাতাল থেকে আবার ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল।   শাহ আলম বলেন, সোমবার দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে জামাল মারা যান। তার ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পৌঁছানোর পর সবার সঙ্গে আলোচনা করে জানাজার ব্যবস্থা করা হবে।   জামাল উদ্দিনকে ঘিরে আলোচনার শুরু আগস্টের প্রথম দিকে। ১ আগস্ট গভীর রাতে তাকে কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক ভিটার কাছাকাছি একটি রাস্তার পাশে রেখে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা অসুস্থ অবস্থায় তাকে সেখানে দেখতে পান। পরে বৃষ্টি শুরু হলে তার ভাতিজি ইসমত আরা তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। জামাল কিডনির সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না বলে সে সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন।   প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, জামাল দীর্ঘদিন আগে নিজের পৈতৃক এলাকা ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান এবং প্রায় ১২ বছর সেখানে কাজ করেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বড় অংশ তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন।   তবে জামালের দেশে ফেরার সময় নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। পরিবারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলা হয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রায় আট মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। অন্যদিকে আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পরিবারের সদস্যদের বরাতে বলা হয়েছিল, তিনি প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছিলেন। ফলে দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট সময় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। তখন চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের অভিযোগ সামনে আসে।   জামালকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছিলেন তার স্ত্রী রিনা আক্তার। সে সময় তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগেই জামালকে ডিভোর্স দিয়েছেন এবং রাতে তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।   ঘটনার পর জামালের ছেলে আবু রায়হানও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বাবাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বাবার সঙ্গে এমন আচরণ ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।   স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অসুস্থ একজন মানুষকে এভাবে রাস্তায় রেখে যাওয়ার অভিযোগকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছিলেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন সে সময় জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।   রাস্তায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর প্রকাশের প্রায় দুই সপ্তাহ পর মারা গেলেন জামাল উদ্দিন। জীবনের দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটানো এই ব্যক্তির শেষ দিনগুলো কেটেছে নিজের পৈতৃক এলাকার ভাতিজির বাড়িতে, যেখানে তাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিলেন স্বজনরা।

Unknown আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয়: রিয়াদ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো সামরিক অক্ষ বা ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয় বলে জানিয়েছে রিয়াদ।   সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও টেকসই করা। চুক্তিটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত নয় বলে সৌদি পক্ষ জানিয়েছে।    গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।    চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসবে।    এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং বড় প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী, আর পাকিস্তানের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা।    তবে তিন দেশই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। তুরস্কের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু ব্যাখ্যা চুক্তিটির প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।    চুক্তিটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে নতুন এই প্রতিরক্ষা কাঠামোকে অনেকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে সৌদি আরবের বক্তব্য হলো, এর উদ্দেশ্য নতুন কোনো ‘সামরিক অক্ষ’ তৈরি করা নয়।    বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক সম্পর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি Strategic Mutual Defense Agreement স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে এক দেশের ওপর আগ্রাসনকে উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছিল। নতুন মক্কা চুক্তিতে তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় সেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন ত্রিপক্ষীয় কাঠামো পেয়েছে।    চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। তিন দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, সমন্বয়, প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।    অন্যদিকে, চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে ভারতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোও নজর রাখছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উত্তেজনার কারণে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামাবাদের এই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোকে দিল্লি কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তবে এখনই এটিকে ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। চুক্তির প্রকাশ্য ভাষ্য অনুযায়ী এটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাঠামো; আর সৌদি আরব স্পষ্টভাবেই বলছে, এর লক্ষ্য কোনো নতুন সামরিক অক্ষ তৈরি করা নয়।    অর্থাৎ, মক্কা থেকে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হলেও এর প্রকৃত কৌশলগত প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে চুক্তির অধীনে তারা কতটা যৌথ সামরিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়ন করে তার ওপর।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের সৌদি পারমাণবিক চুক্তির বিরোধিতা করলেন রিপাবলিকান সেনেটর জন কেনেডি

সৌদি আরবের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা ও সংশয় প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান সেনেটর জন কেনেডি। মার্কিন আইনপ্রণেতারা যখন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি পর্যালোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই নিজের দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে এই অবস্থান নেন তিনি। সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে কেনেডি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে এই ধরনের চুক্তি করা একেবারেই সমীচীন নয়।   লুইজিয়ানার এই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা যুক্তি দেন যে, একদিকে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে সেজন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, আর অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যেরই আরেক দেশের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সই করা একটি চরম আন্তর্জাতিক বিরোধ তৈরি করে। যদিও এটি কেবল বেসামরিক বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি একটি প্রস্তাব, তবুও বিশ্বজুড়ে এটি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ সুগম করবে বলেই ধরে নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। কেনেডি ট্রাম্পের সার্বিক পররাষ্ট্রনীতির সমর্থক হলেও, বর্তমানের উত্তপ্ত বিশ্ব পরিস্থিতিতে সময়সীমা নির্বাচন নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।   চুক্তিটি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হঠাৎ শর্ত জুড়ে দেন যে, চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সৌদি আরবকে অবশ্যই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। তবে সেনেটর কেনেডির মতে, ট্রাম্পের এই শর্ত পূরণ হওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ সৌদি আরব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুস্পষ্ট অগ্রগতি ছাড়া তারা ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবে না; যা আবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত।   অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সেনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনও ট্রাম্প প্রশাসনের এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি শেষ মুহূর্তে নতুন শর্ত যুক্ত করার বিষয়টিকে সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে এক ধরনের ‘প্রতারণামূলক কৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন। অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্ট অনুযায়ী মার্কিন কংগ্রেসে ৯০ দিনের পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই প্রস্তাবটি। তবে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র বিরোধিতা এবং নিজস্ব দলেই কেনেডির মতো প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার উদ্বেগের কারণে ক্যাপিটল হিলে চুক্তিটি পাস করানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বেশ কঠিন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
হরমুজ অবরোধ না করতে ট্রাম্পকে বিরল হুঁশিয়ারি সৌদি যুবরাজের

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক নজিরবিহীন ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন সৌদি আরবের ক্ষমতাধর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। হরমুজ প্রণালী ও ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বিতর্কিত অবস্থানের প্রেক্ষিতে সৌদি যুবরাজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি তার বর্তমান অবস্থান থেকে সরে না আসে, তবে ইরানকে ঠেকানোর দায়িত্ব থেকে রিয়াদ হাত গুটিয়ে নেবে। সাম্প্রতিক এক টেলিফোনালাপে এমবিএস ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, "পিছু হটো, নতুবা ইরানকে আমরা উন্মুক্ত করে দেব (Unleash)।" বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি সৌদির পক্ষ থেকে আসা অন্যতম কঠোর ও বিরল হুঁশিয়ারি। দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে চাপে রাখার যে কৌশলে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র একসাথে কাজ করছিল, ট্রাম্পের কিছু একক সিদ্ধান্তের ফলে তাতে ফাটল ধরার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলা নিয়ে ট্রাম্পের হঠকারী মন্তব্য রিয়াদকে ক্ষুব্ধ করেছে। সৌদি আরবের আশঙ্কা, ট্রাম্পের অপরিপক্ব পদক্ষেপের ফলে ইরান যদি পূর্ণমাত্রায় প্রতিশোধমূলক আক্রমণ শুরু করে, তবে তার মূল ধাক্কা পড়বে সৌদি তেল উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর ওপর। যুবরাজ সালমান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৌদির পরামর্শ না শোনে, তবে রিয়াদ আর ইরানের মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে না। এতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। হোয়াইট হাউস থেকে এই হুঁশিয়ারির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, এই ঘটনা ট্রাম্প-এমবিএস দীর্ঘদিনের মিত্রতায় বড় ধরনের টানাপোড়েনের আভাস দিচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতা ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি: ত্রিভুজ সংকটে পাকিস্তান

বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এক অভিনব এবং অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে পাকিস্তান। একদিকে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রশমনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, অন্যদিকে সৌদি আরবের সাথে তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতে হচ্ছে।  আল-জাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ইসলামাবাদের এই ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ বা ভারসাম্য রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জের চিত্র। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়, যার নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। যখন এই আলোচনার টেবিলে বিশ্বশান্তির আশা জাগছিল, ঠিক তখনই রিয়াদ ঘোষণা করে যে, কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির (SMDA) আওতায় পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর একটি বিশাল বহর সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতামত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের জন্য এটি এক অগ্নিপরীক্ষা। ইরানের সাথে তাদের দীর্ঘ সীমান্ত এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব পাকিস্তানের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক মিত্র। আল-জাজিরার মতে, পাকিস্তান যদি সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়, তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের আস্থা হারানো এবং নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ শিয়া জনগোষ্ঠীর অসন্তোষের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কূটনৈতিক ভারসাম্য কি সম্ভব? পাকিস্তানি কর্মকর্তা এবং বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, ইসলামাবাদ দুটি দায়িত্বই পালনে সক্ষম। তারা একদিকে শান্তি বজায় রাখতে কূটনীতি চালাচ্ছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তজনা এই ভারসাম্য বজায় রাখাকে দিনে দিনে আরও কঠিন করে তুলছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
সৌদির যুবরাজকে চরম অপমান ট্রাম্পের: ‘পশ্চাদ্দেশে চুমু খেতে হবে’ মন্তব্যে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি

ইরান ইস্যুতে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির মধ্যেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে বিস্ফোরক ও অপমানজনক মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় আয়োজিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সামিট’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি সরাসরি যুবরাজকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ কটাক্ষ করেন। সভায় ট্রাম্প দম্ভোক্তি করে বলেন, “তিনি হয়তো ভেবেছিলেন আমি একজন ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাকে বুঝতে হবে যে এখন আমার তোষামোদ করা ছাড়া তার উপায় নেই। এমনকি তাকে আমার পশ্চাদ্দেশে চুমু খেতে হবে।” সেখানে উপস্থিত সৌদি প্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “ওনাকে বলবেন আমার সঙ্গে যেন ভালো ব্যবহার করেন।” ট্রাম্পের এই আচমকা রাগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এক বছর আগের একটি ঘটনা। ট্রাম্পের দাবি, এক বছর আগে যুবরাজ সালমান আমেরিকাকে একটি ‘মৃতপ্রায় দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ইরানের হুমকির মুখে পড়ে আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সেই পুরনো ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে সৌদি আরব যখন নিজেদের ভূখণ্ড মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রিয়াদকে চরম বার্তা দিলেন। তবে বক্তব্যের শেষে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে গিয়ে তিনি যুবরাজকে ‘প্রকৃত যোদ্ধা’ ও ‘অসাধারণ মানুষ’ বলেও অভিহিত করেন। একইসাথে ইরান বিরোধী যুদ্ধে সৌদি আরবসহ কাতার, কুয়েত ও আমিরাতের সমর্থনের প্রশংসাও করেন তিনি।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
সৌদি আরব ও কুয়েতে রাতভর ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলা ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় আবারও যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গতরাতে সৌদি আরব এবং কুয়েতের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন ও ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা ২৮টি ড্রোন এবং একটি ব্যালেস্টিক মিসাইল সফলভাবে ভূপাতিত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ধ্বংসাবশেষের আঘাতে কিছু স্থাপনার সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন আঘাত হানলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। কুয়েত সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে এবং এতে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হলেও কোনো হতাহত নেই।  ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে। এই হামলার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

এক ঠিকানায় ৫০টি পার্সেল, ওয়ালমার্ট চালকের সন্দেহেই ধরা পড়ল ১৪ লাখ ডলারের জালিয়াতি

এক ঠিকানায় ৫০টি পার্সেল, ওয়ালমার্ট চালকের সন্দেহেই ধরা পড়ল ১৪ লাখ ডলারের জালিয়াতি

অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০