ইরান ইস্যুতে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির মধ্যেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে বিস্ফোরক ও অপমানজনক মন্তব্য করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় আয়োজিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সামিট’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি সরাসরি যুবরাজকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ কটাক্ষ করেন।
সভায় ট্রাম্প দম্ভোক্তি করে বলেন, “তিনি হয়তো ভেবেছিলেন আমি একজন ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাকে বুঝতে হবে যে এখন আমার তোষামোদ করা ছাড়া তার উপায় নেই। এমনকি তাকে আমার পশ্চাদ্দেশে চুমু খেতে হবে।” সেখানে উপস্থিত সৌদি প্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “ওনাকে বলবেন আমার সঙ্গে যেন ভালো ব্যবহার করেন।”
ট্রাম্পের এই আচমকা রাগের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এক বছর আগের একটি ঘটনা। ট্রাম্পের দাবি, এক বছর আগে যুবরাজ সালমান আমেরিকাকে একটি ‘মৃতপ্রায় দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ইরানের হুমকির মুখে পড়ে আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সেই পুরনো ক্ষোভ ঝাড়লেন ট্রাম্প।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে সৌদি আরব যখন নিজেদের ভূখণ্ড মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, ঠিক তখনই ট্রাম্প এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রিয়াদকে চরম বার্তা দিলেন। তবে বক্তব্যের শেষে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে গিয়ে তিনি যুবরাজকে ‘প্রকৃত যোদ্ধা’ ও ‘অসাধারণ মানুষ’ বলেও অভিহিত করেন। একইসাথে ইরান বিরোধী যুদ্ধে সৌদি আরবসহ কাতার, কুয়েত ও আমিরাতের সমর্থনের প্রশংসাও করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়ায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে দেশটির ভেতরে ৯ শতাধিক সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে পুয়ের্তো রিকো ও কুরাসাওতে আরও প্রায় ৮০০ মার্কিন সামরিক সদস্য প্রস্তুত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ডোনোভান বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দর পুনরায় সচল করতে সহায়তা করছে এবং আকাশ ও নৌপথে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে চার থেকে পাঁচটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মায়ামিভিত্তিক একটি সমন্বিত তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে এসব ড্রোন থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, সড়ক যোগাযোগ এবং ধসে পড়া স্থাপনার অবস্থান শনাক্তে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ডোনোভানের ভাষায়, সাধারণত আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত সামরিক সক্ষমতাগুলো বর্তমানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে কাজে লাগানো হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছু পরিস্থিতিতে আকাশপথ থেকে পর্যবেক্ষণ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য মাটির পর্যায়ের মূল্যায়নের তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সহযোগিতাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারসংক্রান্ত অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা ছিল। তবে মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার কারাগারভিত্তিক অপরাধী গোষ্ঠী ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র নেতাকে লক্ষ্য করে আরেকটি অভিযান চালায়। ডোনোভান জানান, ওই অভিযান ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সমন্বয়েই পরিচালিত হয়েছিল। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এখন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত বুধবার এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে ভেনেজুয়েলার আইনসভার প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটির বয়স তিন বছর। তবে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। ডোনোভান বলেন, মার্কিন মেরিন সদস্যরাই প্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক উদ্ধারকারী দল পরিবহনেও সহায়তা করেছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স থেকে যাওয়া একটি উদ্ধারকারী দল একজন মা ও তার ৯ মাস বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ করেছে। ত্রাণ কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাকে উল্লেখ করেন ডোনোভান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা যেন প্রবেশপথে আটকে না পড়ে এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটিই এখন প্রধান লক্ষ্য। দুর্যোগের শুরুর দিকে পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল না পাঠানোয় সমালোচনার মুখে পড়ে ভেনেজুয়েলা সরকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে প্রথম কয়েক দিন হাত, কোদাল ও দড়ি ব্যবহার করে নিজেরাই স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। গত শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে কয়েকটি এলাকায় ভারী নির্মাণযন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো মরদেহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডোনোভান বলেন, কয়েক দশকের দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওষুধ ও হাসপাতালের জনবলসংকট মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়াতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কত দিন ভেনেজুয়েলায় সামরিক সহায়তা কার্যক্রম চালাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি ডোনোভান। তিনি বলেন, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এবং বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির কোনো পরিকল্পনা নেই। ডোনোভানের ভাষায়, "থেকে যাওয়ার কোনো আলোচনা নেই। ত্রাণ কার্যক্রম শেষ হলে আমরা চলে যাব।" তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই মানবিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সামরিক সম্পর্কোন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে মাঝারি মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ০। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল এল প্রোগ্রেসো থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে। কম্পনটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে, যা তুলনামূলকভাবে অগভীর হওয়ায় বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হতে পারে। ইউএসজিএস আরও জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগর এলাকায় এই ভূমিকম্পটি ঘটে। যদিও কম্পনের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর মধ্যে অবস্থান করায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ঘটে থাকে। ফলে মাঝারি মাত্রার কম্পনও এখানে অস্বাভাবিক নয়। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে—প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি কম্পন অনুভূত হয়। এ ধরনের ঘটনাকে ‘ডাবলেট’ বলা হয়, যা একই এলাকায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় সমমাত্রার দুটি ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়াকে বোঝায় এবং এতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ইউএসজিএসের হিসাব অনুযায়ী, ১৯ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৪ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার মোট ৯৩টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যা বৈশ্বিকভাবে ভূমিকম্পের তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় রেডউড ভ্যালির কাছেও ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মেনডোসিনো কাউন্টিতে অবস্থিত এর কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫ মাইল নিচে ছিল বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনার পেছনে ভূত্বকের স্বাভাবিক গতিশীলতা কাজ করলেও, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রস্তুতি ও সচেতনতা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ২০ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছেন এবং এর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করেছেন। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল ও দ্য জেরুজালেম পোস্ট ইসরায়েলি পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন তথ্য ও ছবি পাঠানোর প্রতিটি কাজের জন্য তিনি কয়েক ডলার থেকে কয়েকশ ডলার পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ৯ জুন জেরুজালেম জেলা পুলিশের সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করেন। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউটরস ডিক্লারেশন দাখিল করা হয়েছে। ইসরায়েলের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের আগের ধাপ। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হতে পারে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেসব স্থাপনার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলোর মধ্যে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানও রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব স্থাপনার বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় ইসরায়েলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইসরায়েলে একাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন। ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে তথ্য সংগ্রহে প্ররোচিত করার চেষ্টা করছে। যদিও এ ধরনের অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে আসছে তেহরান। এদিকে একই দিনে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের বিষয়টি একটি বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় পরিচালিত হয় এবং এ বিষয়ে বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ রাখতে এবং আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ফ্রান্স তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবে। তাঁর ওই মন্তব্যের পরই ইরান জানিয়ে দেয়, এ বিষয়ে তারা কোনো তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা মেনে নেবে না। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর নিরাপত্তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য টাইমস অব ইসরায়েল, দ্য জেরুজালেম পোস্ট