সেনাবাহিনী

যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় হামলা শুরু করলে, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হবে
যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় হামলা শুরু করলে, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হবে, ইরানের হুশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর বিমান হামলা চালালে সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলে আরও বিস্তৃত হতে পারে।   বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, বিশেষ করে বিমান হামলার পথ বেছে নেয়, তাহলে সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তার আরও বাড়বে।    আকরামিনিয়ার দাবি, চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত প্রভাব ফেলেছে। তিনি ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ইরানের সামরিক তৎপরতার প্রভাব এখন জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে শুরু করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছেছে।    ইরানের এই সামরিক মুখপাত্র আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান ‘কঠিন ও অস্থিতিশীল’ হয়ে উঠেছে এবং ওয়াশিংটন এখন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন কৌশল খুঁজছে। তার ভাষায়, “যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।”    সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীও লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে একাধিক সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।    এদিকে, সাম্প্রতিক খবরে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত নতুন হামলা স্থগিত রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ মূল্যায়ন করছে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
কাশিশ মেথওয়ানি
গ্ল্যামার জগত মাতিয়ে এবার ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট হলেন 'মিস ইন্ডিয়া' কাশিশ

গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্য আর সামরিক জীবনের কঠিন শৃঙ্খলা— এই দুই বিপরীত মেরুকে এক সুতোয় বেঁধে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কাশিশ মেথওয়ানি। ২০২৩ সালে ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া’র মুকুট জয়ী এই সুন্দরী এখন আর কেবল র‍্যাম্পের মডেল নন, তিনি এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত লেফটেন্যান্ট। ভারতের পুণের সাবিত্রীবাই ফুলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী কাশিশের স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শৈশব থেকেই তাঁর মনে ছিল দেশসেবার অদম্য বাসনা। ২০২৩ সালে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় সাফল্যের শীর্ষবিন্দু ছোঁয়ার পর তিনি থেমে থাকেননি। নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে যোগ দেন কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসেস (সিডিএস) পরীক্ষায়। সেখানেও সফলতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি, অর্জন করেন সর্বভারতীয় দ্বিতীয় র‍্যাঙ্ক। চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে টানা ১১ মাসের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর পাসিং আউট প্যারেডের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন তিনি। কাশিশ প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা আর একাগ্রতা থাকলে একই অঙ্গে রূপ আর শৌর্যের মিলন ঘটানো সম্ভব। উল্লেখ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও কাশিশ পিছিয়ে নেই। ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়ে তিনি ‘ক্রিটিক্যাল কজ’ নামক একটি উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল রক্তদান ও অঙ্গদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। র‍্যাম্পের মোহময়ী জগত ছেড়ে দেশের সীমান্ত রক্ষার এই কঠিন পথ বেছে নেওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন এই নতুন সেনাসদস্য।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ লেবাননে সেনা উপস্থিতি বাড়ালো ইসরাইল
দক্ষিণ লেবাননে সেনা উপস্থিতি বাড়ালো ইসরাইল

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন এই ডিভিশন সামনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে এবং উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য হুমকি কমাতে ভূমিকা রাখবে।   এদিকে ইসরাইলের সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের ভৌগোলিক পরিবেশ—বিশেষ করে পাহাড়ি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা—গাজার তুলনায় বেশি জটিল, যা অভিযানে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। অভিযানের একটি বড় লক্ষ্য হচ্ছে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লিতানি নদীর উত্তরে সরিয়ে দেওয়া এবং সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী একটি বিস্তৃত সামরিক পরিকল্পনা রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতেও অভিযান চালিয়ে যাওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ইসরাইলের ‘নিরাপত্তা বলয়’ তৈরির কৌশলের অংশ হলেও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে তা দখলদারিত্ব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
জেনারেল ডেভিড এম. হোডনি এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র
সেনাপ্রধানের পর আরও দুই শীর্ষ জেনারেলকে সরালেন হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগে বড় ধরনের রদবদল ও অস্থিরতা নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে নাটকীয়ভাবে অপসারণের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও দুজন প্রভাবশালী শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। পেন্টাগনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের শিকার হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন— জেনারেল ডেভিড এম. হোডনি এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে শীর্ষ সারির কর্মকর্তাদের এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মার্কিন সামরিক প্রশাসনের অন্দরে তীব্র উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, জেনারেল হোডনি অতি সম্প্রতি গত অক্টোবর মাসে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ট্রান্সফরমেশন অ্যান্ড ট্রেনিং কমান্ড’-এর নেতৃত্বে ছিলেন। বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণে এই চার-তারকা পদের ভূমিকা অপরিসীম। অন্যদিকে, মেজর জেনারেল গ্রিন সেনাবাহিনীর ‘টপ চ্যাপলিন’ বা প্রধান যাজক হিসেবে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক দিকগুলো তদারকি করতেন। উল্লেখ্য, এর আগে বরখাস্ত হওয়া সেনাপ্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনোনীত করেছিলেন। সাধারণত চার বছর মেয়াদী এই পদ থেকে মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থান মার্কিন সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ আমলাতন্ত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংস্কার নাকি কোনো গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ— ঠিক কী কারণে এই ‘ক্লিনআপ ড্রাইভ’ বা গণ-বরখাস্তের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষমতাধর মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেনি, যা জনমনে এবং সামরিক বাহিনীতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

Unknown এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আইডিএফ প্রধানের সতর্কবার্তা: ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে
আইডিএফ প্রধানের সতর্কবার্তা: ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির সতর্ক করেছেন, জনবল সংকট দ্রুত সমাধান না হলে সেনাবাহিনী যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে। এ সতর্কবার্তা তিনি এক নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বৈঠকে দিয়েছেন, রিপোর্ট করেছে জেরুজালেম পোস্ট।   সেনাবাহিনীর সামরিক সূত্র জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের পরিস্থিতিতে জনবল ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও পশ্চিম তীর সীমান্তে আরও বেশি সৈন্য প্রয়োজন হতে পারে। যথেষ্ট সংখ্যক নিয়োগ না হলে বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।   বিশেষ করে হরেদি (অতি-অর্থডক্স ইহুদি) সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির কোনো কার্যকর আইন এখনও নেই, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। এর আগে সরকার ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’-এর আগে একটি বিতর্কিত ড্রাফট আইন প্রণয়ন করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সমালোচকেরা বলছেন, এটি মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং বাস্তবে নিয়োগ বৃদ্ধি করতে কার্যকর হতো না।   জামিরের সতর্কবার্তার পর বিরোধীরা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইয়ার ল্যাপিড বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো বিপর্যয় ঘটলে সরকার দায় এড়াতে পারবে না। অ্যাভিগডর লিবারম্যান সকল নাগরিকের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বর্তমান সরকারের দেরি করার সমালোচনা করেছেন।   অন্যদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট বলেন, সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু করা এখন সময়ের দাবি। জনবল সংকট, বিতর্কিত নিয়োগ নীতি এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব মিলিয়ে ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।   সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হচ্ছে আমেরিকার দুর্ধর্ষ '৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন'

ইরানের সাথে আলোচনার টেবিলে যখন আশার আলো দেখছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ঠিক সেই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ‘৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন’-এর প্রায় ১,০০০ সৈন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে রওনা হতে প্রস্তুত। উত্তর ক্যারোলিনা থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মাত্র ১৮ ঘণ্টার নোটিশে পৌঁছে যাওয়ার অবিশ্বাস্য সক্ষমতা রয়েছে এই বাহিনীর। একে বলা হয় ‘ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স’ বা আইআরএফ। এই বিশেষ সক্ষমতা সর্বশেষ ২০২১ সালে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছিল, যখন আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দর থেকে তড়িঘড়ি করে মার্কিন নাগরিক ও মিত্রদের সরিয়ে নিতে ঝড়ের গতিতে পৌঁছে গিয়েছিল এই ৮২তম ডিভিশন। এই বিশেষ ডিভিশনের শক্তি অপরিসীম। এতে রয়েছে প্রায় ৪,০০০ সৈন্যের তিনটি কমব্যাট টিম, বিধ্বংসী হেলিকপ্টার বহর সংবলিত অ্যাভিয়েশন ব্রিগেড, শক্তিশালী গোলন্দাজ ইউনিট এবং একটি দক্ষ লজিস্টিক ব্রিগেড। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় গঠিত এই বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার প্রথম প্যারাশুট বা এয়ারবোর্ন ডিভিশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৪৪ সালের ঐতিহাসিক নরম্যান্ডি আক্রমণ থেকে শুরু করে ভিয়েতনাম, গ্রেনাডা, পানামা, ইরাক এবং আফগানিস্তানে আইসিসের বিরুদ্ধে লড়াই—প্রতিটি বড় যুদ্ধেই এই বাহিনীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই 'এলিট' বাহিনীর উপস্থিতি নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০