মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের সেনাপ্রধানের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল আমির হাতামি।
রোববার ইরানের সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাতামি এ ঘোষণা দেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানি বাহিনীর কোনো সদস্য একজন মার্কিন ‘আগ্রাসী’ সেনাকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে জনগণের অংশগ্রহণে তাকে এই অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে।
হাতামির এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাতের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। যুদ্ধবিরতি ও অন্তর্বর্তী সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা থাকলেও সর্বশেষ আলোচনাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই নিয়ন্ত্রণের দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ বজায় রাখার কথা জানিয়েছে এবং প্রয়োজনে সেটি অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কথাও বলেছে।
অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সত্ত্বেও ইরান নিজেদের শর্ত ছাড়া নৌপথটি স্বাভাবিকভাবে খুলবে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৪০ দিনের বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে রণতরীটির নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কথা মার্কিন আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন।
এই দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি কমে যাচ্ছে, যা চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মধ্যে নতুন কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হলে তেহরানকে এর জন্য বড় মূল্য দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। একই সময়ে ইরানও যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
ফলে দুই দেশের মধ্যে শুধু সামরিক সংঘাতই নয়, পাল্টাপাল্টি হুমকি, অবরোধ, পুরস্কার ঘোষণা এবং কূটনৈতিক চাপও ক্রমেই বাড়ছে।
আমির হাতামির ৩০ হাজার ডলারের এই ঘোষণা সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে ঘোষণাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে, পুরস্কারের অর্থ কে দেবে এবং এ ধরনের কোনো পুরস্কার ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও হরমুজ প্রণালি, নৌ অবরোধ, সামরিক অভিযান এবং ক্ষতিপূরণের মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশের অবস্থান এখনো ব্যাপকভাবে ভিন্ন। ফলে সামরিক উত্তেজনা কমানোর বদলে পাল্টাপাল্টি চাপের এই পরিস্থিতি আরও কতদিন চলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির সরবরাহ কমে যাওয়ায় নতুন ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। জাতীয় রিয়েলটরস অ্যাসোসিয়েশনের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্রি না হওয়া বিদ্যমান বাড়ির মজুত জুনের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৫ লাখ ৪০ হাজার ইউনিটে নেমেছে। বর্তমান বিক্রির গতিতে এই মজুত দিয়ে প্রায় ৪ দশমিক ৬ মাসের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। একই সময়ে প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া ক্রেতাদের অংশ জুলাইয়ে মাত্র ২৯ শতাংশে নেমেছে, যা জুনের ৩৩ শতাংশের চেয়ে কম। সুস্থ আবাসন বাজারে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি থাকা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমিত সরবরাহের পাশাপাশি উচ্চ বন্ধকি ঋণের সুদ ও বাড়ির বাড়তি দাম ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি করছে। জুলাইয়ে বিদ্যমান বাড়ির মধ্যম দামও এক বছর আগের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে বাড়ি কিনতে আগ্রহী অনেক মানুষ উচ্চ খরচের কারণে অপেক্ষা করছেন, আবার কম সুদের পুরোনো ঋণ ধরে রাখতে অনেক বাড়ির মালিকও নতুন করে বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন না। এতে বাজারে বাড়ির সরবরাহ আরও সংকুচিত থাকছে।
মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের সেনাপ্রধানের
যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশে তীব্র তাপপ্রবাহ, ঝুঁকিতে প্রায় ৯ কোটি ৭০ লাখ মানুষ
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ উপসাগরীয় মিত্ররা, মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে খুঁজছে বিকল্প নিরাপত্তা বলয়
সৌদি আরবের বিপুল আর্থিক সক্ষমতা, তুরস্কের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের বিশাল সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা—এই তিন শক্তিকে একই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় নিয়ে এসেছে নতুন ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া এই চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব এখন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করছে ভারত। গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষর করে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ঘোষণা হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাকিস্তান অবশ্য স্পষ্ট করেছে, এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়নি। চুক্তিটি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান প্রথমে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। এরপর তুরস্ককে যুক্ত করে ত্রিপক্ষীয় কাঠামো তৈরির আলোচনা শুরু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর তিন দেশের একটি খসড়া প্রতিরক্ষা চুক্তি তৈরি হয়েছে। আগস্টে সেটিই পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে রূপ নেয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই তিন দেশ একে অপরকে আসলে কী দিতে পারে? সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় শক্তি অর্থনীতি। তেলসমৃদ্ধ দেশটির বিপুল আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে রিয়াদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কও আছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংকটের মধ্যেও পাকিস্তানের জন্য সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তার উৎস হয়ে উঠেছে। ফলে যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, সামরিক অবকাঠামো কিংবা নতুন প্রতিরক্ষা প্রকল্পে সৌদি অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তুরস্ক নিয়ে আসছে অন্য ধরনের শক্তি—প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক শিল্প। ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তি এবং নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদনে গত কয়েক বছরে দ্রুত এগিয়েছে আঙ্কারা। নতুন চুক্তিতেও স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রে যৌথ মহড়া এবং ড্রোন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে যৌথভাবে অস্ত্র তৈরি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের ব্যবস্থাও চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর পাকিস্তানের হাতে রয়েছে এমন একটি সক্ষমতা, যা সৌদি আরব ও তুরস্ক—কোনো দেশেরই নেই: পারমাণবিক অস্ত্র। এখানেই ভারতের জন্য বিষয়টি সবচেয়ে স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—নতুন চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্র সৌদি আরব বা তুরস্কের জন্য ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দিয়েছে, এমন কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই। পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা এই জোটের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ায়—কিন্তু এটিকে তিন দেশের যৌথ ‘পারমাণবিক ছাতা’ হিসেবে এখনই বর্ণনা করা যাবে না। পাকিস্তান-সৌদি আগের চুক্তির ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা এ ধরনের কৌশলগত অস্পষ্টতার কথা বলেছেন। তবু দিল্লি বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, সরকার তা মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দিল্লি। ভারতের উদ্বেগের বড় জায়গা পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই সম্পর্কের সঙ্গে সৌদি অর্থায়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব যুক্ত হলে পাকিস্তানের সামরিক আধুনিকায়নের গতি বাড়তে পারে—বিশেষ করে ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সাইবার সক্ষমতা এবং যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে। চুক্তিতে এসব ক্ষেত্রের সহযোগিতা স্পষ্টভাবে রাখা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের অবস্থান ভারতের জন্য তুলনামূলক জটিল। রিয়াদ পাকিস্তানের পুরোনো মিত্র হলেও ভারতের সঙ্গেও তার গভীর অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ভারত-পাকিস্তান কোনো ভবিষ্যৎ সংকটে সৌদি আরব স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামাবাদের সামরিক অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একাত্ম হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি এখনো নেই। এই কারণেই নতুন চুক্তিকে সরাসরি ‘ভারতবিরোধী জোট’ বলা ঠিক হবে না। চুক্তির তিন দেশই বলছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। বরং দ্রুত বদলে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও একে দেখা হচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই কাঠামো তিন দেশেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। তুরস্ক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অন্য দেশকেও যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে এবং মিশরের নাম সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সেটি বাস্তবায়িত হলে জোটটির ভৌগোলিক ও সামরিক পরিধি আরও বড় হতে পারে। তবে এখনই একে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলা অতিরঞ্জিত হবে। তিন দেশের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা স্বার্থ সব ক্ষেত্রে এক নয়। তাদের অস্ত্রব্যবস্থাও ভিন্ন উৎসনির্ভর। তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অংশীদার, আর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় চীনের বড় প্রভাব রয়েছে। ফলে ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত সামরিক জোটে রূপ নিতে বাস্তব অনেক বাধা রয়েছে। তারপরও চুক্তিটিকে শুধু প্রতীকী ঘোষণা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ কমছে। বৃহস্পতিবার তুরস্ক যে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, তাতে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয় ব্যবস্থা, যৌথ মহড়া, গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং যৌথ অস্ত্র উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো বাস্তব পদক্ষেপ রয়েছে। ফলে ভারতের জন্য আসল প্রশ্নটি হয়তো এই জোট কাকে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছে—সেটি নয়। বরং প্রশ্ন হলো, আগামী কয়েক বছরে সৌদির অর্থ, তুরস্কের প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতার এই সমন্বয় কতটা কার্যকর সামরিক কাঠামোয় রূপ নেয়। কারণ পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা যদি তুরস্কের উন্নত প্রযুক্তি ও সৌদি আরবের আর্থিক শক্তির মাধ্যমে দ্রুত আধুনিক হয়, তার সবচেয়ে প্রত্যক্ষ কৌশলগত প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে। আর ঠিক সেই কারণেই মক্কায় স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির গতিপথ এখন খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি।
২০২৮-এর লড়াইয়ে তরুণ ডেমোক্র্যাটদের প্রথম পছন্দ কমলা হ্যারিস, পেছনে মিশেল ওবামা
কেয়ারগিভার সুবিধা পেতে মিথ্যা তথ্য, ভিএর ১ লাখ ৭০ হাজার ডলার প্রতারণায় সাবেক সেনাসদস্য
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে খাবারের মান নিয়ে নতুন অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে নৌবাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক সনদের আবেদন শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন মুদ্রা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় বা ওসিসি প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক সনদের আবেদনে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিং কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি স্টেবলকয়েন নিয়েও কাজ করছে। স্টেবলকয়েন হলো এমন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি, যার মূল্য সাধারণত কোনো প্রচলিত মুদ্রা বা নির্দিষ্ট সম্পদের সঙ্গে যুক্ত রাখা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রধান প্রশ্ন, দেশটির প্রেসিডেন্টের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সিদ্ধান্তটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ প্রেসিডেন্টের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে ওয়ারেনের বক্তব্যের পাশাপাশি এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে, কোনো ব্যাংক সনদ অনুমোদন পাওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছামতো অর্থ গ্রহণ বা স্থানান্তর করতে পারবে—এমন নয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থপাচার প্রতিরোধ, গ্রাহক যাচাই এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও নিয়ন্ত্রণ প্রযোজ্য থাকে। সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, প্রেসিডেন্টের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ প্রবাহ হলে সেটি রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থের সংঘাতের নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ ঘুষ গ্রহণ বা অর্থপাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণিত তথ্য বর্তমানে প্রকাশ্যে নেই। ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা এর আগেও রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। নতুন ব্যাংক সনদের অনুমোদনের ফলে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এখন নজর থাকবে, শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কার্যক্রম শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কীভাবে এর আর্থিক লেনদেন ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত তদারকি করে।
১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির
প্রেমের বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা, বাড়িতে আগুন ২১ বছরের যুবকের