সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

স্বাস্থ্যসেবা

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে নতুন সম্ভাবনা—বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ, বদলাচ্ছে কাজের ধরন
আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯ লাখ নতুন চাকরি, সবচেয়ে বেশি সুযোগ স্বাস্থ্যসেবায়

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে ৫৯ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তবে সব খাতে চাকরির প্রবৃদ্ধি সমান হবে না। স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি, প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সেবার মতো কিছু খাতে নিয়োগ বাড়লেও প্রশাসনিক ও বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পেশায় চাকরি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের এই পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি আসবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। স্বাস্থ্যসেবায় ২২ লাখ নতুন চাকরি আগামী দশকে সবচেয়ে বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। এ খাতে প্রায় ২২ লাখ নতুন চাকরি যোগ হতে পারে, যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে যাওয়া মোট নতুন চাকরির প্রায় ৩৭ শতাংশ। খাতটির কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হৃদ্‌রোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদাও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে নার্স প্র্যাকটিশনারের চাকরি পেশাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হতে পারে নার্স প্র্যাকটিশনারদের চাকরিতে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় আরও রয়েছে সোলার ফটোভোলটাইক ইনস্টলার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, উইন্ড টারবাইন সার্ভিস টেকনিশিয়ান এবং মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজার। মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারদের কর্মসংস্থান ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে। এআই ও ডেটা সেন্টারে ইউটিলিটি খাতে নিয়োগ প্রবৃদ্ধির হারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে ইউটিলিটি খাত। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ খাতে কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে খাতটির আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় নতুন চাকরি হবে প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০টি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে এই কর্মসংস্থান বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চাকরি ১৫৩ শতাংশ এবং বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রযুক্তি খাতেও বাড়বে চাকরি এআই-এর বিস্তারে প্রযুক্তি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এই খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সেবা খাত ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে এবং প্রায় ৯ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে। এআই-ভিত্তিক সিস্টেম, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি পরামর্শক সেবার চাহিদা এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হবে। ডেটা সায়েন্টিস্টদের কর্মসংস্থান প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এআই-এর চাপে কমবে কিছু চাকরি সব পেশায় অবশ্য চাকরি বাড়বে না। এআই ও অটোমেশনের প্রভাবে অফিস ও প্রশাসনিক সহায়তা-সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান কমতে পারে। এই খাতে চাকরি প্রায় ৪ শতাংশ বা ৭ লাখ ৫২ হাজার ১০০টি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে ই-কমার্সের বিস্তার এবং ব্যবসায় এআই ব্যবহারের কারণে বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট পেশাতেও কর্মসংস্থান ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআই পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। ফলে কিছু পেশায় কর্মীর প্রয়োজন কমে যেতে পারে। বিশেষ করে শিল্প, নকশা, বিনোদন, ক্রীড়া ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কিছু চাকরিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিক চাকরির প্রবৃদ্ধি হবে ধীর সব মিলিয়ে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মসংস্থান ১৭ কোটি ৬ লাখ থেকে বেড়ে ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ৫৯ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার হবে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের দশকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী দশকের মার্কিন চাকরির বাজারে তাই শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা নয়, চাকরির ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, এআই, প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোই এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
পেনসিলভেনিয়ায় নতুন? চাকরি, শিক্ষা ও কমিউনিটি সহায়তার জন্য যেসব জায়গা চেনা ও জানা জরুরী
পেনসিলভেনিয়ায় নতুন? চাকরি, শিক্ষা ও কমিউনিটি সহায়তার জন্য যেসব জায়গা চেনা ও জানা জরুরী

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় নতুন বসবাস শুরু করা বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি, সন্তানদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার সহায়তা, আইনি পরামর্শ ও ড্রাইভার লাইসেন্সের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি ও কমিউনিটি পর্যায়ে সহায়তার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, আপার ডারবি, পিটসবার্গ ও অ্যালেন্টাউনের মতো এলাকায় নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে কাছাকাছি বিভিন্ন সেবা খুঁজে পাওয়া যায়।   চাকরি খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ক্যারিয়ারলিংক গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা। এখানে চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি রেজিউমে তৈরি, চাকরির ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের মতো বিভিন্ন সহায়তা পাওয়া যায়। অনলাইনে নিজের প্রোফাইল তৈরি করে চাকরির জন্য আবেদনও করা যায়।   স্থানীয় সরকারি ও সামাজিক সেবা খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ২১১ সেবা বেশ কার্যকর। ২১১ নম্বরে ফোন করে কিংবা নিজের জিপ কোড ৮৯৮-২১১ নম্বরে টেক্সট করে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়।   সন্তানের স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে আগে নিজের এলাকার স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সম্পর্কে জানা জরুরি। ফিলাডেলফিয়ায় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট অব ফিলাডেলফিয়ার শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্লেসমেন্ট অফিস নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি এবং স্কুল সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে থাকে। বসবাসের ঠিকানা ও জিপ কোডের ভিত্তিতে কোন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সে তথ্যও পাওয়া যায়।   ইংরেজি শেখার জন্য পেনসিলভেনিয়ায় বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে ইএসএল ক্লাস পরিচালিত হয়। অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য দ্য ওয়েলকামিং সেন্টারেও বিনামূল্যে ইংরেজি ও ডিজিটাল দক্ষতা শেখার সুযোগ রয়েছে।   নতুন অভিবাসীদের জন্য ফ্রি লাইব্রেরি অব ফিলাডেলফিয়াও গুরুত্বপূর্ণ একটি রিসোর্স। লাইব্রেরি কার্ডের মাধ্যমে বই পড়ার পাশাপাশি চাকরি খোঁজা, রেজিউমে তৈরি, ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিনামূল্যের সেবা ব্যবহার করা যায়। কিছু শাখায় নতুন আমেরিকানদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।   খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি ও ফুড ব্যাংকের তথ্য পাওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ায় জিপ কোড বা ঠিকানা দিয়ে ফ্রি খাবার ও গ্রোসারি সহায়তার বিভিন্ন স্থান খুঁজে বের করা সম্ভব। কিছু প্রতিষ্ঠানে সহায়তা নিতে পরিচয়পত্র বা আয়ের প্রমাণের প্রয়োজন নাও হতে পারে।   সরকারি বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে জানতে ফিলাডেলফিয়ায় বেনিফিলির সহায়তা নেওয়া যায়। এসএনএপি, মেডিকেইড, এলআইএইচইএপি, এসএসআই ও এসএসডিআই-এর মতো সুবিধার যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কাউন্সেলরদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়।   স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজে আসতে পারে। হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও কিছু প্রতিষ্ঠানে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসার ধরন, যোগ্যতা ও খরচ প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো।   ইমিগ্রেশন, হাউজিং বা কর্মক্ষেত্রে নিজের অধিকার নিয়ে সমস্যায় পড়লে পেনসিলভেনিয়া লিগ্যাল এইড নেটওয়ার্কের স্থানীয় সংস্থাগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ফ্রি বা কম খরচে আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা ব্যক্তির আয় ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে।   ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স সেন্টার ব্যবহার করা যায়। অনলাইনে নিজের জিপ কোড দিয়ে কাছাকাছি সেন্টার খুঁজে প্রয়োজনীয় সেবার তথ্য এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করা সম্ভব।   বাংলাদেশি কমিউনিটির সহায়তাও নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন ও মসজিদভিত্তিক কমিউনিটি কার্যক্রম রয়েছে। ঈদ, বৈশাখী অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্য মেলা, সামাজিক সহায়তা এবং নতুন অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম এসব সংগঠনের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়।   পেনসিলভেনিয়ায় নতুন কেউ কোনো সেবা খুঁজলে নিজের জিপ কোড ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ উপায়। যেমন, নিজের এলাকার জিপ কোড যোগ করে চাকরি বা বিনামূল্যের ইএসএল ক্লাসের জন্য অনলাইনে খোঁজ করলে কাছাকাছি সুযোগগুলো দ্রুত পাওয়া যায়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে তাদের বর্তমান সময়সূচি, যোগ্যতা এবং সেবা চালু আছে কি না, তা অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে যাওয়া ১০টি পেশার ছয়টিই স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতের। ছবি: সংগৃহীত
আগামী দিনের সেরা ১০ চাকরির ৬টিই স্বাস্থ্যসেবায়! যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে যে পেশাগুলোর চাহিদা

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে পারে এমন ১০টি পেশার ছয়টিই স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতের। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর নতুন পূর্বাভাসে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে নার্স অনুশীলনকারীর পেশা। আগামী এক দশকে এই পেশায় প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে।   স্বাস্থ্যসেবা খাতে চাকরির চাহিদা বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও আচরণগত স্বাস্থ্য সমস্যার ব্যাপকতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে আগামী বছরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে আরও কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।   নার্স অনুশীলনকারীর পাশাপাশি চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপকদের চাকরিও দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই পেশায় প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। নতুন চাকরির সংখ্যার হিসাবে এটি দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি হতে পারে।   দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের আরও কয়েকটি পেশা রয়েছে। জনসংখ্যার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা, পরিচর্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন বাড়তে থাকায় এসব পেশায় কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আচরণগত স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।   তালিকায় প্রযুক্তি ও গণিতভিত্তিক দুটি পেশাও রয়েছে। তথ্যবিজ্ঞানী এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীর চাকরি আগামী এক দশকে বাড়তে পারে। বড় পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন এবং তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধিকে এসব পেশায় কর্মসংস্থান বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   তথ্যবিজ্ঞানীর পেশায় ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ৯৫ হাজার ৪০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীর পেশায় প্রায় ৮ হাজার ৪০০টি নতুন চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এই দুই পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করেছে।   দ্রুত বাড়তে থাকা পেশার তালিকার বাকি দুটি চাকরি পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতের। সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী এবং বায়ু টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদের চাহিদা দ্রুত বাড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং তথ্যকেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে এসব পেশার প্রয়োজনও বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এসব পেশায় শতকরা হারে প্রবৃদ্ধি বেশি হলেও নতুন চাকরির মোট সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী ও বায়ু টারবাইন রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তিবিদের পেশা মিলিয়ে আগামী এক দশকে ১৫ হাজারের কম নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে।   ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কর্মসংস্থান প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ১৭ কোটি ৩ লাখ চাকরি থেকে ২০৩৫ সালে তা প্রায় ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের ১০ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম।   জনসংখ্যার বয়স বাড়তে থাকায় আগামী দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়াও এর একটি কারণ। অনেক বয়স্ক কর্মী অবসরের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছেন এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে তাদের জায়গায় তরুণ কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।   অন্যদিকে খুচরা বাণিজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। খুচরা বাণিজ্যে কর্মসংস্থান শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। তবে কোনো পেশায় কর্মসংস্থান কমার পূর্বাভাস থাকলেও সেখানে চাকরির সুযোগ একেবারে শেষ হয়ে যাবে, এমনটা নয়।   শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে। তারপরও এই পূর্বাভাস থেকে আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে কোন পেশাগুলোর কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে, তার একটি ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি খাতের পেশাগুলো এই তালিকায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।   সূত্র: সিএনবিসি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় যুবক যুবান ইবানেজ গারওয়ার
একই চিকিৎসা ভারতে ৪৮ হাজার, যুক্তরাষ্ট্রে ২২ লাখ! ক্ষোভে ছাড়তে চান যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় যুবক যুবান ইবানেজ গারওয়ারে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, চিকিৎসার খরচের কারণে তিনি ভারতে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি ভারতে চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫০০ ডলার খরচের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া ২৩ হাজার ডলারের হাসপাতাল বিলের তুলনা করেছেন।  যুবানের দাবি, কয়েক বছর আগে ভারতে বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কোনো দীর্ঘ কাগজপত্রের ঝামেলা ছাড়াই তাকে একটি প্রাইভেট রুম দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসিজি, এমআরআই, সিটি স্ক্যান ও বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসার পর রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পরিকল্পনা দেওয়া হয় এবং পুরো চিকিৎসায় তার খরচ হয়েছিল প্রায় ৫০০ ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৭ হাজার রুপি।    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাস্কেটবল খেলার সময় হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন বলে জানান যুবান। তার দাবি, অ্যাম্বুলেন্সের খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল বলেও তিনি জানান। পরে চিকিৎসকেরা তাকে জানান, তার ছোট ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।  যুবানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালের বিল শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায় প্রায় ২৩ হাজার ডলারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২২ লাখ রুপি। তার আরও দাবি, ভালো হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও নিজের পকেট থেকে প্রায় ৭ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার রুপি দিতে হয়েছে।    এই অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে ভাবছেন বলে জানিয়েছেন যুবান। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামো ও জীবনযাপনের কিছু সুবিধা থাকলেও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলছে।    তবে যুবানের অভিজ্ঞতা তার ব্যক্তিগত বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার খরচ রোগীর হেলথ ইন্স্যুরেন্স, চিকিৎসার ধরন, হাসপাতাল, ডিডাক্টিবল, কো-পে এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে পুরো যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সার্বিক চিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় অত্যাধিক বৃদ্ধির কারণে হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
খরচের চাপে চিকিৎসা এড়িয়ে চলছেন ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৫ জন আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন বা চিকিৎসা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ওয়েস্ট হেলথ ও গ্যালাপের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৪৯ শতাংশ আমেরিকান নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচ বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে ছিলেন। এক বছরে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ এই আর্থিক নিরাপত্তার অবস্থান থেকে ছিটকে পড়েছেন।    চিকিৎসার খরচের চাপ শুধু নিম্নআয়ের বা হেলথ ইন্স্যুরেন্সবিহীন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কমনওয়েলথ ফান্ডের ২০২৪ সালের জরিপে দেখা গেছে, কর্মক্ষম বয়সী আমেরিকানদের ২৩ শতাংশ সারা বছর ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকলেও উচ্চ ব্যক্তিগত খরচ ও বেশি ডিডাক্টিবলের কারণে তারা পর্যাপ্ত কভারেজ পাননি। এই শ্রেণির ৫৭ শতাংশ খরচের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেননি।    চিকিৎসা নিতে দেরি করার প্রভাবও গুরুতর হতে পারে। জরিপে খরচের কারণে চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া বা বাদ দেওয়া কর্মক্ষম বয়সী মানুষের ৪১ শতাংশ জানিয়েছেন, এতে তাদের স্বাস্থ্য সমস্যা আরও খারাপ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অনেক মানুষ ওষুধের খরচ বেশি হওয়ায় প্রয়োজনীয় ডোজ বাদ দিয়েছেন বা প্রেসক্রিপশন পূরণ করেননি। ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।    চিকিৎসার ব্যয়ের সঙ্গে বাড়ছে মেডিকেল ঋণের চাপও। কমনওয়েলথ ফান্ডের জরিপ অনুযায়ী, কর্মক্ষম বয়সী মানুষের প্রায় ৩০ শতাংশ চিকিৎসা বা ডেন্টাল বিলের ঋণ কিস্তিতে পরিশোধ করছিলেন। যাদের মেডিকেল ঋণ রয়েছে, তাদের প্রায় ৪৮ শতাংশের বকেয়া ছিল ২ হাজার ডলার বা তার বেশি।  এই ঋণের প্রভাব শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মেডিকেল ঋণ থাকা পরিবারের এক-তৃতীয়াংশের বেশি জানিয়েছে, ঋণের কারণে পরিবারের কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা প্রেসক্রিপশন ওষুধ নেওয়া পিছিয়ে দিয়েছেন। একইভাবে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরিবার খাবার, ঘরের গরম রাখার খরচ বা ভাড়ার মতো মৌলিক ব্যয় কমাতে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই সঞ্চয়ের অর্থ চিকিৎসা ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছেন।    চিকিৎসার খরচের চাপ বয়স্কদেরও ছাড়ছে না। কমনওয়েলথ ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের ২১ শতাংশ খরচের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করেছেন বা তা বাদ দিয়েছেন। প্রায় ১৮ শতাংশের চিকিৎসা বিল বা ঋণ পরিশোধ নিয়ে সমস্যাও রয়েছে।    হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকলেও সব চিকিৎসা খরচ যে পুরোপুরি কভার হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বেশি ডিডাক্টিবল, কো-পেমেন্ট এবং ব্যক্তিগত খরচের কারণে অনেক বীমা করা মানুষও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বাধার মুখে পড়ছেন। কমনওয়েলথ ফান্ডের জরিপে দেখা গেছে, সারা বছর ইন্স্যুরেন্স থাকা কিন্তু পর্যাপ্ত কভারেজ না থাকা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার খরচ সামলাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা বাদ দিয়েছেন বা পিছিয়ে দিয়েছেন।    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ওয়েস্ট হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ৫ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে হাসপাতালের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্যয় প্রায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।    ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় এখন শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সময়মতো না পাওয়া বা ওষুধের ডোজ বাদ দেওয়া একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে, অন্যদিকে পরে আরও বড় চিকিৎসা ব্যয়ের কারণ হতে পারে।   ওয়েস্ট হেলথ, গ্যালাপ ও কমনওয়েলথ ফান্ডের গবেষণাগুলো মিলিয়ে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে চিকিৎসা ব্যয় কমানো, হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং মেডিকেল ঋণের ঝুঁকি কমানো যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা কতটা উন্নত, তার পাশাপাশি মানুষ সেই চিকিৎসা বাস্তবে কতটা বহন করতে পারছেন, সেটিও এখন স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

তাবাস্সুম আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেন-জি প্রবাসীদের বড় একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত
সন্তান জন্ম দিতে বিদেশে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেন-জি বাবা-মায়েরা, পছন্দ কানাডা-যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ

সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে দেশটির তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। বিশেষ করে জেনারেশন জেড বা জেন-জি প্রবাসীদের একটি অংশ তুলনামূলক ভালো চিকিৎসাসেবা, কম খরচ, বেশি মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নাগরিকত্বের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।   গ্রিনব্যাক এক্সপ্যাট ট্যাক্স সার্ভিসেসের একটি জরিপে দেখা গেছে, বিদেশে বসবাসরত মার্কিন জেন-জি প্রবাসীদের ২৮ শতাংশ ইতোমধ্যে বিদেশে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। আরও ৬৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। জরিপের ফলাফল নিয়ে ভাইসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।   জরিপে অংশ নেওয়া সব মার্কিন প্রবাসীর মধ্যে ৫৪ শতাংশ জানিয়েছেন, বিদেশে বসবাসের সময় তাঁদের সন্তান জন্ম হয়েছে। প্রজন্মভেদে সহস্রাব্দ প্রজন্ম বা মিলেনিয়ালরা এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। তাঁদের প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। জেন-জি প্রবাসীদের মধ্যে এই হার ২৮ শতাংশ হলেও ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ্রহ তাঁদের মধ্যে বেশ বেশি।   বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার পেছনে শুধু ভ্রমণের আগ্রহ কাজ করছে না। তরুণ মার্কিন বাবা-মায়েদের কাছে জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত উদ্বেগ গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে। জরিপে চিকিৎসাসেবার মান, সন্তান জন্ম দেওয়ার খরচ, নাগরিকত্বের সুবিধা এবং মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির নীতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রক্রিয়া তাঁদের কাছে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মনে হয়েছে।   কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির মতো দেশগুলো এ ক্ষেত্রে অনেক মার্কিন পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এসব দেশে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারকেন্দ্রিক বিভিন্ন সরকারি সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ভিন্ন হওয়ায় সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু পরিবার বিদেশকে বিকল্প হিসেবে দেখছে। নাগরিকত্বও অনেকের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিছু দেশে জন্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ থাকায় সন্তানের ভবিষ্যৎ ভ্রমণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা। জরিপে প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজন প্রবাসী বলেছেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার দেশ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা তাঁদের বিবেচনায় থাকে।   তবে বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সবার অবস্থান এক নয়। জরিপে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রবাসী বলেছেন, সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে তাঁরা সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা বিবেচনা করবেন। প্রায় ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, পরিবার বা বন্ধুদের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য তাঁদের ওপর চাপ ছিল। তারপরও অনেকে বিদেশেই সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। জরিপে পাঁচজনের মধ্যে একজনের বেশি বলেছেন, ভবিষ্যতে সুযোগ থাকলেও তাঁরা বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়াকেই বেছে নেবেন।   বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমদিকে অবশ্য অনেকের উদ্বেগ থাকে। জেন-জি ও মিলেনিয়াল প্রবাসীদের অর্ধেকের বেশি জানিয়েছেন, বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার চিন্তায় তাঁরা শুরুতে অস্বস্তি বা দুশ্চিন্তা অনুভব করেছিলেন। কিন্তু যারা শেষ পর্যন্ত বিদেশে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, তাঁদের বড় অংশ অভিজ্ঞতাটি নিয়ে সন্তুষ্ট। জরিপ অনুযায়ী, বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়া মিলেনিয়ালদের ৯৩ শতাংশ এবং জেন-জির ৮৯ শতাংশ অন্যদেরও এমন অভিজ্ঞতার সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন।   এর পেছনে আরও একটি পরিবর্তন কাজ করছে। দূরবর্তী কাজের সুযোগ বাড়ায় অনেক তরুণ মার্কিন নাগরিকের কর্মস্থল ও বসবাসের জায়গার মধ্যে আগের মতো কঠোর সম্পর্ক নেই। ফলে সন্তান জন্ম, পরিবার গঠন কিংবা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য অন্য দেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াও তুলনামূলক সহজ হচ্ছে। তবে জরিপটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সব জেন-জি বাবা-মায়ের ওপর করা কোনো জাতীয় জনসংখ্যাভিত্তিক জরিপ নয়। মূলত বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন প্রবাসীদের মধ্যে পরিচালিত জরিপের ফলাফল থেকে এই প্রবণতার চিত্র পাওয়া গেছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সব তরুণ পরিবার বিদেশে সন্তান জন্ম দিতে চাইছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।   গ্রিনব্যাকের অন্যান্য গবেষণাতেও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী নাগরিকদের মধ্যে জীবনযাত্রার মান, খরচ, স্বাস্থ্যসেবা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবনা বিদেশে থাকার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালের তাদের আরেক জরিপে ৩৫ শতাংশ সাধারণ মার্কিন উত্তরদাতা বিদেশে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছিলেন।   সব মিলিয়ে বিদেশে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের মূলধারার সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠেনি। তবে জেন-জি প্রবাসীদের মধ্যে চিকিৎসা খরচ, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবারবান্ধব নীতি ও ভবিষ্যৎ নাগরিকত্বের সুযোগকে গুরুত্ব দিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার দেশ বেছে নেওয়ার প্রবণতা যে তৈরি হয়েছে, জরিপের ফলাফল তা স্পষ্ট করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
ক্যান্সারের অভিযোগে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণে রাজি জনসন অ্যান্ড জনসন
ক্যান্সারের অভিযোগে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণে রাজি জনসন অ্যান্ড জনসন

বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন  তাদের ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার ও অন্যান্য পণ্যের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ডিম্বাশয়ের ক্যানসার সংক্রান্ত হাজারো মামলার নিষ্পত্তিতে ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর এটি কোম্পানির জন্য অন্যতম বড় সমঝোতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।    কোম্পানির ঘোষণা অনুযায়ী, এই সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আদালতে চলমান প্রায় ৬৯ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হবে, যা দেশটিতে ট্যাল্ক পণ্যসংক্রান্ত অবশিষ্ট মামলার প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে চুক্তিটি কার্যকর হতে হলে অন্তত ৯৫ শতাংশ বাদীকে এতে সম্মতি দিতে হবে।    বহু বছর ধরে হাজারো নারী অভিযোগ করে আসছেন, জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার নিয়মিত ব্যবহারের ফলে তাদের ডিম্বাশয়ের ক্যানসার হয়েছে। কোম্পানিটি শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের দাবি, বৈজ্ঞানিকভাবে ট্যাল্ক ও ক্যানসারের মধ্যে কোনো কারণগত সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি। তবুও দীর্ঘমেয়াদি মামলা থেকে বেরিয়ে আসতেই এই সমঝোতার পথে হেঁটেছে প্রতিষ্ঠানটি।    জনসন অ্যান্ড জনসনের লিটিগেশন বিভাগের প্রধান এরিক হাস এক বিবৃতিতে বলেন, কোম্পানি এখন এই দীর্ঘ আইনি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়ে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি উন্নয়নের মূল কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে চায়। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীরাও এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন।    ট্যাল্ক একটি প্রাকৃতিক খনিজ, যা একসময় প্রসাধনী ও বেবি পাউডারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। তবে ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকায় জনসন অ্যান্ড জনসন ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ট্যাল্কভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে দেয়। এছাড়া ২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর ক্যানসার গবেষণা সংস্থা আইএআরসি ট্যাল্ককে "সম্ভবত মানুষের জন্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী" হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে।    তবে এই সমঝোতা যুক্তরাজ্যে চলমান মামলাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সেখানে সাত হাজারের বেশি সম্ভাব্য দাবিদারকে নিয়ে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় পণ্য দায়বদ্ধতা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায়ও অভিযোগ করা হয়েছে, কোম্পানিটি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি জেনেও ট্যাল্কভিত্তিক পণ্য বাজারজাত করেছে। যদিও সেই অভিযোগও অস্বীকার করেছে জনসন অ্যান্ড জনসন।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
স্বাস্থ্যসেবা মূল্যায়নের জাতীয় প্রতিবেদনে জর্জিয়ার অবস্থান দেশের নিচের সারিতে। ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্যসেবায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ রাজ্যগুলোর একটি জর্জিয়া, অবস্থান ৪৯তম

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নতুন জাতীয় মূল্যায়নে একেবারে নিচের সারিতে জায়গা পেয়েছে জর্জিয়া। স্বাস্থ্যসেবার খরচ, চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রাপ্যতা, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ এবং রোগীদের স্বাস্থ্যগত ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৯তম বলে জানিয়েছে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব।   সোমবার, ২৭ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার খরচের ক্ষেত্রে জর্জিয়ার অবস্থান ৩৭তম হলেও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে রাজ্যটি নেমে গেছে ৪৯তম স্থানে। স্বাস্থ্যগত ফলাফলে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৩তম। এসব সূচকের সম্মিলিত মূল্যায়নে সামগ্রিকভাবে রাজ্যটির অবস্থান হয়েছে ৪৯তম।   ওয়ালেটহাবের গবেষণায় ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিকে মোট ৪৪টি সূচকে তুলনা করা হয়েছে। এর মধ্যে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের খরচ, চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রাপ্যতা, ইন্স্যুরেন্স কভারেজে থাকা মানুষের হার এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত ফলাফল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   প্রতিবেদনে জর্জিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ। মাথাপিছু হাসপাতালের শয্যার সংখ্যায় রাজ্যটির অবস্থান ৪২তম। মাথাপিছু চিকিৎসকের সংখ্যাতেও জর্জিয়া ৪২তম এবং দন্তচিকিৎসকের সংখ্যায় ৪৬তম।   হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ইন্স্যুরেন্স কভারেজ থাকা মানুষের হারে জর্জিয়ার অবস্থান ৪৯তম। শিশুদের ইন্স্যুরেন্স কভারেজের ক্ষেত্রে অবস্থান ৪২তম।   তবে সব সূচকে জর্জিয়ার অবস্থান একই রকম খারাপ নয়। গড় মাসিক ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে রাজ্যটি তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই সূচকে জর্জিয়ার অবস্থান ২২তম।   ওয়ালেটহাবের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার পেছনে একজন আমেরিকান বছরে গড়ে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ ডলার ব্যয় করেন। বিপুল এই ব্যয়ের পরও দেশের সব এলাকায় সমানভাবে চিকিৎসক, হাসপাতাল ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাওয়ার সুযোগ নেই। রাজ্যভেদে এসব ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, সবচেয়ে ভালো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা থাকা রাজ্যগুলো উচ্চমানের চিকিৎসাকে মানুষের আর্থিক নাগালের মধ্যে রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত চিকিৎসকের বিকল্প এবং সহজে হেলথ ইন্স্যুরেন্স পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে।   জর্জিয়ার নিচের দিকের অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাজ্যটিতে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটি হেলথ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে ফেডারেল সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস রাজ্যের জন্য ১০টি স্টেট ডিরেক্টেড পেমেন্ট কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আনুমানিক ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা রয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এর লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ও চিকিৎসার ফলাফল উন্নত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করা।   স্বল্প আয়ের বাসিন্দাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের আওতায় আনতেও জর্জিয়ায় ‘জর্জিয়া পাথওয়েজ টু কভারেজ’ কর্মসূচি চালু রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ফেডারেল সরকার কর্মসূচিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দেয়। জর্জিয়া গভর্নরের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত কর্মসূচিটির মাধ্যমে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ সেবা পেয়েছিলেন।   তবে ওয়ালেটহাবের নতুন মূল্যায়ন বলছে, এসব উদ্যোগের মধ্যেও সামগ্রিকভাবে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ এবং ইন্স্যুরেন্স কভারেজের ক্ষেত্রে জর্জিয়া এখনো দেশের অধিকাংশ রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।   এবারের মূল্যায়নে দেশের সেরা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বীকৃতি পেয়েছে নিউ হ্যাম্পশায়ার। শীর্ষস্থানীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে মিনেসোটা ও আইওয়াও রয়েছে। অন্যদিকে তালিকার একেবারে নিচের দিকের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে জর্জিয়া।   তবে এই র‌্যাঙ্কিংয়ের অর্থ জর্জিয়ার প্রতিটি হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের, এমন নয়। ওয়ালেটহাবের গবেষণাটি কোনো নির্দিষ্ট হাসপাতালের মান নির্ধারণ না করে পুরো রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে খরচ, সেবা পাওয়ার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে তুলনা করেছে। ফলে একজন রোগীর বাস্তব অভিজ্ঞতা তার অবস্থান, হেলথ ইন্স্যুরেন্স কভারেজ, চিকিৎসার ধরন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে সেবা নিচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।   তারপরও ইন্স্যুরেন্স কভারেজে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের হার, মাথাপিছু চিকিৎসক, হাসপাতালের শয্যা এবং দন্তচিকিৎসকের প্রাপ্যতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে জর্জিয়ার নিচের দিকের অবস্থান রাজ্যটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জগুলো নতুন করে সামনে এনেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
উন্নত জীবনমানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে প্রশংসা পাচ্ছে সিয়াটল। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক-লস অ্যাঞ্জেলেস নয়, জীবনমানের দৌড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১ নাম্বার হলো যে শহর

যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় বসবাস করলে জীবনযাত্রার মান সবচেয়ে ভালো হবে, এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নতুন এক শহরকে এগিয়ে রেখেছে ভ্রমণ ও জীবনযাপন বিষয়ক ম্যাগাজিন ট্রাভেল অ্যান্ড লেইজার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ এবং সামগ্রিক জীবনমান বিবেচনায় শহরটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অন্যতম সেরা স্থান হিসেবে উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসবাসের উপযোগিতা নির্ধারণে শুধু চাকরি বা আয় নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন কতটা আরামদায়ক, পরিবেশ কেমন, স্বাস্থ্যসেবা কতটা সহজলভ্য এবং পরিবার নিয়ে বসবাসের সুযোগ কেমন এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষ বড় শহরের ব্যস্ততা, অতিরিক্ত খরচ ও চাপ থেকে দূরে গিয়ে তুলনামূলক শান্ত, নিরাপদ এবং উন্নত জীবনমানের জায়গা খুঁজছেন। এ কারণে ছোট ও মাঝারি আকারের শহরগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।   ট্রাভেল অ্যান্ড লেইজারের তালিকায় থাকা শহরটি তার সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা, স্থানীয় সুযোগ-সুবিধা এবং বাসিন্দাদের জন্য উন্নত জীবনধারার কারণে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় শহরে যেমন নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস বা সান ফ্রান্সিসকোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ও অনেক বেশি। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট শহরগুলোতে কম চাপের জীবন, বেশি খোলা জায়গা এবং পরিবারবান্ধব পরিবেশ অনেক মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   জীবনযাত্রার মান নিয়ে তৈরি হওয়া এসব তালিকা সাধারণত আবাসন খরচ, অপরাধের হার, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার সুযোগ, পরিবেশ, বিনোদন এবং স্থানীয় সুযোগ-সুবিধার মতো বিষয় বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সময়ে মানুষ শুধু ভালো চাকরি নয়, বরং ভারসাম্যপূর্ণ জীবন, মানসিক শান্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য সেরা জায়গার তালিকায় নতুন নতুন শহর আলোচনায় আসছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়া ও মিনেসোটার জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মেডিকেইড অর্থ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়া-মিনেসোটার মেডিকেইড তহবিল স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় লাখো বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীর স্বাস্থ্যসেবা

ক্যালিফোর্নিয়া ও মিনেসোটার জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ছাড়া হবে না। তবে দুই অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন।    মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস) জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য ৮৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং মিনেসোটার জন্য ১৯৯ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি স্থায়ী অর্থ কর্তন নয়; সংশ্লিষ্ট দাবির বৈধতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে অর্থ ছেড়ে দেওয়া হবে।    স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র বলেন, মেডিকেইড কর্মসূচির অর্থ কেবল বৈধ দাবির ক্ষেত্রেই ব্যয় হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে জালিয়াতি, অপচয় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সিএমএসের প্রশাসক ড. মেহমেত ওজও বলেন, অর্থ বিতরণের পর তা উদ্ধারের চেয়ে আগে থেকেই সন্দেহজনক দাবিগুলো যাচাই করাই সংস্থার নতুন কৌশল।    প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশেষ করে ইন-হোম কেয়ার কর্মসূচির ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মিনেসোটার ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতে কিছু দাবির বিষয়ে অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফেডারেল সরকার নির্দিষ্ট কোনো জালিয়াতির প্রমাণ প্রকাশ করেনি।    এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ক্যালিফোর্নিয়ার ইন-হোম সাপোর্টিভ সার্ভিসেস (আইএইচএসএস) কর্মসূচির ওপর, যার মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি নিজ বাড়িতে পরিচর্যা সেবা পান। অর্থ দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিচর্যাকারীদের অর্থপ্রদান বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। তবে বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা বা স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করা হয়নি।    অন্যদিকে মিনেসোটায় স্থগিত হওয়া অর্থ ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও কতজন সুবিধাভোগী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন, সে সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি ফেডারেল সরকার বা অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ।    ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রশাসন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই অর্থ স্থগিত করেছে এবং এর ফলে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।    মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের পরিবার, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগীর জন্য পরিচালিত যৌথ ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। সাম্প্রতিক এই অর্থ স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে স্বাস্থ্যনীতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
প্রতিষ্ঠানের পটক ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান, নিষিদ্ধ ১ হাজার ২১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগে দেশজুড়ে তদন্তের পর ১ হাজার ২১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি থেকে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (ডিএইচএস)।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় (ওআইজি) কংগ্রেসে জমা দেওয়া অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তের ভিত্তিতে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মেডিকেয়ার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে ফেডারেল পর্যায়ে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।   তদন্তে বড় কয়েকটি মামলাও উঠে এসেছে। এর মধ্যে টেলিমেডিসিন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের জালিয়াতি পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মেডিকেয়ার সুবিধা সংক্রান্ত অতিরিক্ত বিলের অভিযোগে কাইজার পারমানেন্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং সিভিএস হেলথের এ্যাটনা-র সঙ্গে মোট ৬৭ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমঝোতা হয়েছে।   তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেডারেল পর্যায়ে ফৌজদারি ও দেওয়ানি পদক্ষেপের সংখ্যা আগের সময়ের তুলনায় কমেছে। সর্বশেষ সময়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ৬০৪টি, যা আগের প্রতিবেদনের ৮৩৩টি ঘটনার চেয়ে কম।   স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি ঠেকাতে হোয়াইট হাউসের একটি বিশেষ টাস্কফোর্সের সঙ্গেও কাজ করছে ওআইজি। এই উদ্যোগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র এবং মেডিকেয়ার প্রধান মেহমেত ওজ যুক্ত রয়েছেন।   তবে সরকারি কর্মকর্তাদের কিছু দাবির সঙ্গে ওআইজির প্রতিবেদনের তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি এমন কিছু অর্থের অনিয়ম নিয়েও আলাদাভাবে দাবি করা হয়েছে।   ওআইজি জানিয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কিছু অনিয়মিত অর্থপ্রদানের ঘটনা পাওয়া গেছে। তবে এসব নিরীক্ষায় সরাসরি কোনো সংঘবদ্ধ জালিয়াতির পরিকল্পনার প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অর্থের অপচয় ও অনিয়ম বন্ধে তদন্ত ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Unknown জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ছুটির ভুয়া ইমেইল পাঠিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে প্রতারণা, কানাডায় তীব্র ক্ষোভ

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের হাজার হাজার কর্মী দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং মানসিক ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। ঠিক এমন সময়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে "জুন হলিডে" শিরোনামে আসা একটি ইমেইল তাদের সাময়িক স্বস্তি ও আনন্দ দিয়েছিল। ইমেইলটিতে নতুন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর পেছনে স্বাস্থ্যকর্মীদের কঠোর পরিশ্রম ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে তাদের একদিনের জন্য 'সবেতন ছুটি' বা পেইড লিভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, এটি মূলত একটি ভুয়া ইমেইল এবং কর্তৃপক্ষের তৈরি করা সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা বা 'ফিশিং টেস্ট'।   কর্তৃপক্ষের এই অসংবেদনশীল রসিকতা ও প্রতারণার শিকার হয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন প্রদেশের স্বাস্থ্যকর্মীরা। ইমেইলে বলা হয়েছিল, ছুটির সুবিধাটি পেতে হলে কর্মীদের একটি লিংকে ক্লিক করতে হবে। কিন্তু লিংকে ক্লিক করার পরদিনই তাদের জানানো হয় যে এটি কোনো আসল ছুটি ছিল না, বরং কর্মীদের সাইবার সচেতনতা যাচাই করার জন্য একটি কৃত্রিম পরীক্ষা ছিল। ছুটির এমন নিষ্ঠুর মিথ্যা আশ্বাস পেয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে এবং ইতিমধ্যে অন্তত একজন কর্মী ক্ষোভে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।   স্থানীয় পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেরি আর্ল এই ঘটনাটিকে একটি ‘নিষ্ঠুর প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমাদের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করার পর ছুটির লোভ দেখিয়ে এমন তামাশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা এর চেয়ে অনেক ভালো আচরণ পাওয়ার যোগ্য।" অন্যদিকে রেজিস্টার্ড নার্সেস ইউনিয়নের সভাপতি ইভেট কফি এই পরীক্ষাকে চরম 'অসংবেদনশীল এবং অসম্মানজনক' বলে অভিহিত করেছেন এবং এর জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।   হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো প্রায়শই হ্যাকারদের সাইবার হামলার শিকার হয়ে থাকে, তাই এই ধরনের সচেতনতামূলক পরীক্ষা নেওয়া জরুরি বলে মনে করে প্রশাসন। তবে এই বিশেষ ইমেইলটির স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য বোর্ডের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রন জনসন ইতিমধ্যে কর্মীদের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে এই পরীক্ষাটি তাদের কর্মীদের মূল্যায়ন করার সঠিক পদ্ধতি ছিল না এবং কীভাবে এই ইমেইলটি পাঠানো হলো তা খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি মানুষ চিকিৎসা খরচ মেটাতে পারছেন না

আমেরিকার অর্ধেকেরও কম নাগরিক এখন তাদের প্রয়োজনীয় মানসম্মত চিকিৎসা এবং ওষুধের খরচ মেটাতে সক্ষম বলে বিশ্বখ্যাত জরিপকারী সংস্থা গ্যালাপের নতুন একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে। দেশটিতে চিকিৎসা খাতের ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি অনেক উচ্চ আয়ের পরিবারগুলোও এখন তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, যা মার্কিন সমাজব্যবস্থায় গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।   গ্যালাপের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আমেরিকার মাত্র ৪৯ শতাংশ মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ডাক্তার দেখানো এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কেনার খরচ সহজেই মেটাতে পেরেছেন। ২০২২ সালে এই অর্থনৈতিকভাবে নিরাপদ নাগরিকদের হার ছিল সর্বোচ্চ ৬১ শতাংশ, যা সময়ের ব্যবধানে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়ে এখন ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে।   চিকিৎসার খরচ মেটানোর এই সক্ষমতা কমার পাশাপাশি আগামী দিনে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহন করা নিয়ে সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মানসিক উদ্বেগ অনেক তীব্র হচ্ছে। গ্যালাপের এই জাতীয় সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫১ শতাংশ মানুষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তারা আগামী এক বছরে নিজেদের চিকিৎসা খরচ চালানো নিয়ে খুবই চিন্তিত এবং ৪২ শতাংশ মানুষ ওষুধ কেনার খরচ মেটানো নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।   এই তীব্র আর্থিক সংকট কেবল দেশটির নিম্ন বা মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সব স্তরের আয়ের মানুষের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যালাপের সমীক্ষায় দেখা গেছে, বছরে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৯ ডলার আয় করা সচ্ছল পরিবারগুলোর এক-তৃতীয়াংশ এবং বছরে কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার আয় করা উচ্চবিত্ত পরিবারের এক-পঞ্চমাংশ মানুষ হয় ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না অথবা দামি ওষুধ কেনার মতো প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন।   বয়সভিত্তিক সামাজিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫০ থেকে ৬৫ বছর বয়সীদের একটি নির্দিষ্ট অংশকে বাদ দিয়ে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আমেরিকার সব বয়সের মানুষেরই নিজের চিকিৎসা খরচ মেটানোর বাস্তব ক্ষমতা অনেক কমেছে। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে রয়েছেন, কারণ এই তরুণদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বর্তমানে চিকিৎসার খরচ মেটাতে নিরাপদ আর্থিক অবস্থানে আছেন।   জরিপের এই উদ্বেগজনক তথ্যগুলো মূলত গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৬৬০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর ওয়েব ও ডাক মেইলের মাধ্যমে নিখুঁত জরিপ চালিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এই সংকটের মাঝেই গত জানুয়ারি মাসে ট্রাম্প প্রশাসন সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যবীমার প্রিমিয়াম কমাতে একটি নতুন পরিকল্পনা এবং পরবর্তী মাসে সুলভ মূল্যে ওষুধ দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করার ঘোষণা দেয়।

তাবাস্সুম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
লাখো আমেরিকান চিকিৎসা নিতে পারে না, অথচ কেউ ট্রিলিয়নিয়ার’—ওয়ারেনের সমালোচনা

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান সম্পদ বৈষম্য ও স্বাস্থ্যসেবার উচ্চ ব্যয় নিয়ে আবারও সরব হয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যে একজন ব্যক্তি ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হওয়ার পথে এগিয়ে যেতে পারেন, অথচ লাখো আমেরিকান চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার খরচও বহন করতে পারেন না।   ম্যাসাচুসেটসের এই সিনেটর বলেন, দেশের সম্পদ ক্রমশ অল্প কয়েকজন ধনীর হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ব্যয়, বাসস্থান, শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, বর্তমান ব্যবস্থায় সম্পদ ধনীদের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে, আর মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।   এই প্রেক্ষাপটে ওয়ারেন আবারও তাঁর বহুল আলোচিত ‘ওয়েলথ ট্যাক্স’ বা সম্পদ করের প্রস্তাব সামনে আনেন। তিনি মনে করেন, অতিধনীদের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারবে, যা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে।   অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে ওয়ারেনের অবস্থান নতুন নয়। গত কয়েক বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, আয়ের পাশাপাশি বিপুল সম্পদের ওপরও কর আরোপ করা হলে অর্থনৈতিক ভারসাম্য কিছুটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।   তবে এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদ রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, সম্পদ কর বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক উদ্যোগকে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং এর বাস্তবায়নও জটিল হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ধনী-গরিব বৈষম্য কমাতে এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করতে এমন পদক্ষেপ প্রয়োজন।   ওয়ারেনের সাম্প্রতিক মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, আয় বৈষম্য এবং ধনীদের কর কাঠামো নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকেই অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর প্রস্তাবিত সমাধানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।   অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ওয়ারেনের অবস্থান স্পষ্ট—তাঁর মতে, এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে কেবল অল্প কয়েকজন নয়, বরং সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা সহজে পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় ৫৮ মিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি, সাজা শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পরিচালিত বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি মামলায় এক অভিবাসী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটরদের মতে, তিনি এবং তার সহযোগীরা মেডিকেয়ার, মেডিকেইড ও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে ৫৮ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থের প্রতারণামূলক দাবি জমা দিয়েছিলেন।   মামলার তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থ ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে প্রেসক্রিপশন গ্রহণে রাজি করাতেন। পরে সেই প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিগুলোর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের 340B Drug Pricing Program-এর সুযোগ কাজে লাগিয়ে।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই প্রতারণা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে সাউথ ফ্লোরিডায় একটি বিলাসবহুল বাড়ি, একটি বেন্টলি, একাধিক মার্সিডিজ গাড়ি এবং বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ সম্পত্তি কিনেছিলেন। তদন্তের সময় এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত খতিয়ে দেখে জালিয়াতির প্রমাণ সংগ্রহ করে।   দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ফেডারেল আদালত তাকে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাজা সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার (ডিপোর্ট) করা হবে।   এই মামলাটি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণা প্রতিরোধ এবং 340B কর্মসূচির তদারকি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, নিম্ন আয়ের রোগীদের সহায়তার জন্য চালু করা এই কর্মসূচির কিছু দুর্বলতা অসাধু চক্রগুলো কাজে লাগাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে নিয়ম-কানুন আরও কঠোর করার দাবি উঠেছে।   কোর্ট ডকুমেন্ট থেকে জানা গেছে, ওই অভিবাসীর নাম জিন জেথ্রো আলেকজান্দ্রে এবং তিনি হাইতির নাগরিক।   ফেডারেল কর্মকর্তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি ডলারের ক্ষতির কারণ হয়। ফ্লোরিডার এই মামলাটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় স্বাস্থ্যসেবা প্রতারণার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে চায়।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বসবাসকারীদের জন্য কী কী সরকারি সুবিধা
নিউইয়র্কে বসবাসকারীদের জন্য কী কী সরকারি সুবিধা রয়েছে? শিশু থেকে প্রবীণ—কারা পাচ্ছেন কোন সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্ক। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় দেশের অনেক এলাকার তুলনায় বেশি। তবে এই উচ্চ ব্যয়ের বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে নিউইয়র্ক স্টেট সরকার এবং নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন কয়েক দশক ধরে বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর লাখো বাসিন্দা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সুবিধা, শিশু পরিচর্যা, জ্বালানি ব্যয়, কর-সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। যদিও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা রয়েছে যে এসব সুবিধা কেবল নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য, বাস্তবে অনেক কর্মসূচি শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, কর্মজীবী পরিবার, নতুন বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও উন্মুক্ত।   নিউইয়র্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা অন্যতম। সীমিত আয়ের পরিবার, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। অনেক পরিবার বিনামূল্যে অথবা স্বল্প খরচে চিকিৎসা, ওষুধ এবং স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে এসব কর্মসূচি বহু পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।   খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও নিউইয়র্কের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ। যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক খাদ্য কেনার জন্য সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের কর্মজীবী পরিবার, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সহায়তা জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   গর্ভবতী নারী, নবজাতক শিশু এবং অল্পবয়সী শিশুদের জন্য আলাদা পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ এবং শিশুদের সুস্থ বিকাশে সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রতি বছর হাজারো পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসে।   কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশু পরিচর্যা ব্যয় অনেক সময় বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিউইয়র্কে শিশু পরিচর্যা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। যোগ্য পরিবারগুলো শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা অনুমোদিত পরিচর্যা সেবার ব্যয়ের একটি অংশ কিংবা উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। এর ফলে অনেক অভিভাবক নিশ্চিন্তে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেন।   নতুন বাবা-মায়েদের জন্য বেতনসহ পারিবারিক ছুটির সুবিধা নিউইয়র্কের অন্যতম আলোচিত কর্মসূচি। সন্তান জন্ম, দত্তক গ্রহণ অথবা পরিবারের গুরুতর অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যার জন্য কর্মরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতনসহ ছুটি গ্রহণ করতে পারেন। পরিবার ও কর্মজীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় এই কর্মসূচিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।   অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। যেসব পরিবার সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়ে, তারা খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয় মেটাতে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।   নিউইয়র্কে আবাসন ব্যয় দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয়। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক পরিবার সরকারি ভাড়া সহায়তা, ভর্তুকিযুক্ত আবাসন এবং বিশেষ আবাসন কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করে। গৃহহীনতা প্রতিরোধ এবং স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্টেট ও সিটি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।   শীতপ্রধান এই অঙ্গরাজ্যে জ্বালানি ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং গৃহ উষ্ণ রাখার ব্যয় কমাতে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গরম করার যন্ত্রপাতি মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।   প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি কর্মসূচি, পরিবহন সহায়তা, বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা এবং সামাজিক অংশগ্রহণমূলক নানা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবীণদের স্বাধীন ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।   প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও নিউইয়র্কে বিস্তৃত সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের পরিচর্যাকারী হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।   চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য বেকারত্বকালীন সহায়তা নিউইয়র্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবাও গ্রহণ করতে পারেন।   শিক্ষার্থী এবং শিশুদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি। বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার, শিক্ষা সহায়তা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে শিশু কর-সুবিধার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেতে পারে।   নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা স্টেট সরকারের সুবিধার পাশাপাশি নগর প্রশাসনের বিভিন্ন বিশেষ সেবাও পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি সহায়তা, সামাজিক সেবা, অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি, নগর পরিচয়পত্র, আইনি সহায়তা, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়সেবা এবং বিভিন্ন কমিউনিটিভিত্তিক সুবিধা। বর্তমানে এসব সেবার বড় অংশ অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, ফলে আবেদন ও তথ্য সংগ্রহ আরও সহজ হয়েছে।   এছাড়া নিউইয়র্কে কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য কর-সুবিধা, শিশুদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা, প্রবীণদের জন্য সম্পত্তি কর-ছাড় এবং বিভিন্ন শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার সরাসরি নগদ সহায়তার জন্য যোগ্য না হলেও এসব কর-সুবিধা ও পরিবারভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো কেবল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নয়; বরং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা শিশু, পরিবার, কর্মজীবী মানুষ, প্রবীণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে। তবে প্রতিটি কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড রয়েছে এবং আবেদনকারীর আয়, পারিবারিক অবস্থা, বসবাসের স্থান এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সুবিধা প্রদান করা হয়।   জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ার এই সময়ে নিউইয়র্ক স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের এসব সহায়তা কর্মসূচি লাখো মানুষের জন্য আর্থিক স্বস্তি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিশু থেকে প্রবীণ, শিক্ষার্থী থেকে কর্মজীবী পরিবার—জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। অনেকের কাছে এসব কর্মসূচি শুধু সরকারি সুবিধা নয়, বরং কঠিন সময়ে জীবনকে স্থিতিশীল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ব্যবস্থা।

নীলুফা নিশাত জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি চিকিৎসা গবেষক ডঃ জহরা শোকরি ভারনিয়াব এবং তার স্বামী আশকান পুরাভারি ল্যাঙরউডি | ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড জটিলতায় অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজার রোগীর চিকিৎসক ডা. ফয়সাল

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কর্মরত এক অভিবাসী চিকিৎসক গ্রিন কার্ড নবায়ন জটিলতায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে প্রায় এক হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।   লিবিয়া থেকে আসা চিকিৎসক ডা. ফয়সাল আলঘৌলা একজন ফুসফুস ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ। তিনি ইন্ডিয়ানা, ইলিনয় ও কেনটাকির গ্রামীণ এলাকার রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। স্থানীয়ভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট থাকায় তার সেবার ওপর অনেক রোগী নির্ভরশীল।   খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় চালু হওয়া একটি নীতির কারণে তার গ্রিন কার্ড নবায়নের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। আবেদন বাতিল হলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই তার বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে।   চিকিৎসক ও অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের জটিলতায় বিদেশি চিকিৎসকদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বিদেশি চিকিৎসকদের ওপর স্বাস্থ্যসেবা অনেকটাই নির্ভরশীল।   তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার চিকিৎসকদের জন্য একটি বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা চালু করেছে। নতুন এই নীতির আওতায় যেসব চিকিৎসকের গ্রিন কার্ড বা ভিসা আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, তারা কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে ডা. ফয়সাল আলঘৌলার মতো অনেক বিদেশি চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রে থেকে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   বিদেশি চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় রোগীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তাবাস্সুম মে ৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০