- প্রচ্ছদ
- Topic
স্বাস্থ্যসেবা
যুক্তরাষ্ট্রের দুই বড় স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ও হিউমানা ২০২৭ সালের জন্য তাদের কিছু মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার গ্রাহক প্রভাবিত হতে পারেন। এর মধ্যে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার এবং হিউমানার প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক রয়েছেন। আগামী বছর থেকে তাঁদের বর্তমান বিমা পরিকল্পনা আর কার্যকর থাকবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা সরকারি মেডিকেয়ার সুবিধা হারাবেন। তাঁদের নতুন বিমা পরিকল্পনা বেছে নিতে হবে অথবা প্রচলিত মেডিকেয়ার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিকল্প বিবেচনা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজউইক ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসাসেবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিমা সুবিধা ব্যবহারের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করছে। ইউনাইটেড হেলথকেয়ার জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে বিমা কার্যক্রম টেকসই রাখার লক্ষ্যেই ২০২৭ সালের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বজায় রাখার বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, হিউমানা জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে প্রভাবিত অধিকাংশ গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির অন্য কোনো মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। এই পরিবর্তনের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের মেডিকেয়ার বিমার বার্ষিক নিবন্ধন ও পরিকল্পনা পরিবর্তনের সময় চলছে। ১৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সময়সীমা শেষ হবে ৭ ডিসেম্বর। এ সময় গ্রাহকেরা নিজেদের বর্তমান বিমার সুবিধা পর্যালোচনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নিতে পারবেন। বন্ধ হতে যাওয়া পরিকল্পনাগুলো ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং নতুন পরিকল্পনা সাধারণত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তাই যাঁদের বিমা পরিকল্পনা বন্ধ হচ্ছে, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মেডিকেয়ার কর্মসূচির অধীনে বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে চিকিৎসক ও হাসপাতালের নেটওয়ার্ক, ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের খরচ এবং কখনো কখনো দাঁত ও চোখের চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে পরিকল্পনাভেদে এসব সুবিধা ও খরচের পার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় গেলে গ্রাহকদের চিকিৎসক বা হাসপাতাল বদলাতে হতে পারে, ওষুধের আওতা পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা নিজের পকেট থেকে খরচ বাড়তে পারে। ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের পরিবর্তন মূলত পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতালের নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও চিকিৎসা নেওয়ার তুলনামূলক বেশি সুযোগ দেওয়া পিপিও পরিকল্পনাগুলোকে কেন্দ্র করে। অন্যদিকে, হিউমানা কম লাভজনক কিছু পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভাগের প্রধান সেলেস্তে মেলেট আগে জানিয়েছিলেন, প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন, যা তাদের মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ গ্রাহকের প্রায় ৮ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, প্রভাবিত গ্রাহকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে নিজেদের অন্য পরিকল্পনায় ধরে রাখার চেষ্টা করবে। স্বাস্থ্যবিমা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা ব্যয় ও ওষুধের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনার সংখ্যা কমাচ্ছে, কিছু অতিরিক্ত সুবিধা সীমিত করছে এবং গ্রাহকদের নিজস্ব খরচের অংশ বাড়াচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৭ সালেও দেশের ৯৯ শতাংশের বেশি মেডিকেয়ার গ্রাহকের অন্তত একটি মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় প্রবেশের সুযোগ থাকবে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ ব্যবস্থায় গড় মাসিক প্রিমিয়াম ২০২৬ সালের ১৪ দশমিক ৩৭ ডলার থেকে ২০২৭ সালে ১২ ডলারে নেমে আসতে পারে। যাঁদের বর্তমান পরিকল্পনা বন্ধ হচ্ছে, তাঁদের চিকিৎসক, হাসপাতাল, ওষুধের আওতা, মাসিক প্রিমিয়াম এবং চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে দিতে হবে এমন অর্থের পরিমাণ তুলনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কেউ নতুন মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় যেতে পারেন, আবার কেউ প্রচলিত মেডিকেয়ার ব্যবস্থায় ফিরে গিয়ে আলাদা ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের বিমা নিতে পারেন। কোন বিকল্পটি উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে ব্যক্তির চিকিৎসার প্রয়োজন ও আর্থিক সামর্থ্যের ওপর। সূত্র: নিউজউইক, সিবিএস নিউজ ও যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ ও যোগ্য ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারের বার্ষিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের জন্য বিমা পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার এই সময়ে ওষুধের খরচ, মাসিক প্রিমিয়াম এবং নিজস্ব পকেট থেকে দেওয়া অর্থের সীমায় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিশেষ করে মেডিকেয়ারের পার্ট ডি কর্মসূচির আওতায় ওষুধ কেনা ব্যক্তিদের কারও কারও ব্যয় বাড়তে পারে। তবে সব গ্রাহকের খরচ বাড়বে না। স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অনেক গ্রাহকের প্রিমিয়ামে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে। তাই নিবন্ধনের সময় নিজের ওষুধের তালিকা, চিকিৎসকের নেটওয়ার্ক এবং পরিকল্পনার খরচ তুলনা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। মেডিকেয়ারের বার্ষিক নিবন্ধন ১৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে গ্রাহকেরা প্রচলিত মেডিকেয়ার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধের বিমা পরিকল্পনার মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারবেন। এ সময়ে নির্বাচিত নতুন পরিকল্পনা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ফলে বর্তমান পরিকল্পনায় থাকা ব্যক্তিদেরও পরবর্তী বছরের প্রিমিয়াম, ওষুধের আওতা এবং অন্যান্য খরচ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মেডিকেয়ারের পার্ট ডি কর্মসূচিতে ওষুধের জন্য নিজস্ব পকেট থেকে ব্যয়ের বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা ২০২৬ সালের ২ হাজার ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৭ সালে ২ হাজার ৪০০ ডলার হচ্ছে। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির সাধারণ বাৎসরিক কর্তনযোগ্য অর্থের পরিমাণ ৬১৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭০০ ডলার হবে। কর্তনযোগ্য অর্থ হলো সেই পরিমাণ, যা বিমা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সুবিধা কার্যকর হওয়ার আগে গ্রাহককে নিজের অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হয়। ফলে যাঁদের নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়, তাঁদের জন্য পরিকল্পনার শর্তগুলো ভালোভাবে বোঝা জরুরি। ২০২৭ সালে কিছু জনপ্রিয় ওষুধের বিমা পরিকল্পনায় মাসিক প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এএআরপি ব্র্যান্ডের ইউনাইটেডের পার্ট ডি পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকেরা পরিকল্পনা পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই মাসে অন্তত ৫০ ডলার অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের মুখে পড়তে পারেন। এর মধ্যে ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে মাসিক বৃদ্ধি ৭৫ ডলারের বেশি হতে পারে এবং চারটি অঙ্গরাজ্যে তা ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। এএআরপি মেডিকেয়ার আরএক্স সেভার পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও ৩৩টি অঙ্গরাজ্যে মাসিক প্রিমিয়াম অন্তত ৫০ ডলার বাড়তে পারে। দুটি পরিকল্পনা মিলিয়ে গ্রাহকসংখ্যা ২০ লাখের বেশি। তবে কেএফএফ জানিয়েছে, পার্ট ডির অধিকাংশ গ্রাহক প্রিমিয়ামের পরিবর্তনে একই মাত্রায় প্রভাবিত হবেন না এবং অনেকের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নাও ঘটতে পারে। তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প পরিকল্পনা থাকলেও অনেক গ্রাহক নিবন্ধনের সময় অন্য পরিকল্পনার সঙ্গে তুলনা করেন না বা পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন না। এএআরপির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা ন্যান্সি লিমন্ড বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়ায় বয়স্ক মার্কিনিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, খরচ ও বিমার আওতা প্রতিবছর বদলানোর কারণে বিকল্পগুলো যাচাই করে নিজের জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা বেছে নেওয়া আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মেডিকেয়ারের সঙ্গে দর-কষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত নতুন দামে ১৫টি ওষুধ পাওয়া যাবে। এর মধ্যে ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওজেম্পিক, রাইবেলসাস ও ওয়েগোভির পাশাপাশি ট্রেলেজি এলিপ্টা, এক্সটান্ডি, পোমালিস্ট, আইব্র্যান্স, ওফেভ, লিনজেস, ক্যালকুয়েন্স, অস্টেডো, ব্রিও এলিপ্টা, ট্রাডজেন্টা, জিফ্যাক্সান, ভ্রেলার, জানুমেট ও ওটেজলার মতো ওষুধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড পরিষেবা কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, নতুন মূল্যব্যবস্থার ফলে ২০২৭ সালে মেডিকেয়ারে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ব্যয় প্রায় ৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার কমতে পারে। প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচে পরিবর্তন আসায় নিবন্ধনের সময় শুধু মাসিক কিস্তি দেখে পরিকল্পনা বেছে না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞরা। কোন ওষুধ বিমার আওতায় রয়েছে, ওষুধের জন্য কত টাকা দিতে হবে, বার্ষিক ব্যয়ের সীমা কত এবং চিকিৎসক বা ফার্মেসি পরিকল্পনার নেটওয়ার্কে রয়েছে কি না, সেগুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে পরিবর্তন করা গেলে নতুন সুবিধা বা খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিকল্প বেছে নেওয়া সম্ভব। নতুন পরিকল্পনা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, কেএফএফ ও ফক্সের স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালগুলোর ওপর সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় কম্পিউটার ও ডিজিটাল ব্যবস্থা ছাড়াই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, হাসপাতালগুলো প্রযুক্তির ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে হঠাৎ কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে নিয়মিত মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত নিউজউইকের এআই হেলথ সামিটে এসব উদ্বেগ তুলে ধরেন জেফারসন হেলথের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান ডিজিটাল ও তথ্য কর্মকর্তা লুইস টাভেরাস। তিনি জানান, সাইবার অপরাধীদের হামলার ঝুঁকি বাড়ার কারণে হাসপাতালের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হচ্ছে। টাভেরাসের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি দল মাসে একবার বিভিন্ন নিরাপত্তা সংশোধনী ইনস্টল করত। কিন্তু এখন সাইবার হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধীরা আর্থিকভাবে শক্তিশালী এবং প্রতিদিনই নতুন উপায়ে হাসপাতালের প্রযুক্তিব্যবস্থায় প্রবেশের চেষ্টা করছে। সাইবার হামলা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তার একটি উদাহরণ দেখা গেছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ওই সময় র্যানসমওয়্যার হামলার কারণে ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপি মেডিকেল সেন্টারের প্রায় তিন ডজন ক্লিনিক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। হাসপাতালটির ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ড ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় নির্ধারিত কিছু চিকিৎসা কার্যক্রম বাতিল করা হয় এবং কর্মীদের হাতে-কলমে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। সাইবার হামলার প্রভাব শুধু চিকিৎসাসেবা বন্ধ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রোগীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকান ইকোনমিক জার্নাল: ইকোনমিক পলিসিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সাইবার হামলা শুরুর সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার ৩৪ থেকে ৩৮ শতাংশ বেশি ছিল। তবে গবেষণায় পাওয়া এই পার্থক্যকে সব হাসপাতাল বা প্রতিটি সাইবার হামলার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। জেফারসন হেলথের কর্মকর্তা টাভেরাস জানান, এতদিন হাসপাতালগুলো ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তিব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে রোগীদের চিকিৎসা কীভাবে অব্যাহত থাকবে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁর প্রতিষ্ঠান এখন চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার ছাড়াই জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা এবং হাসপাতালের ন্যূনতম কোন সেবা ও ব্যবস্থা চালু রাখা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা। প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মধ্যেও রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রাখাই এর উদ্দেশ্য। কয়েক সপ্তাহ আগে জেফারসন হেলথে প্রায় তিন ঘণ্টার জন্য প্রযুক্তিব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন টাভেরাস। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে তরুণ চিকিৎসকদের অনেকেই কম্পিউটার ব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, তা বুঝতে পারছিলেন না। এই অভিজ্ঞতার পর হাসপাতালগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ মহড়ার মতো প্রযুক্তিব্যবস্থা বন্ধ থাকার পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। টাভেরাস প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চিকিৎসাকর্মীদের প্রস্তুত করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শুধু সাইবার হামলা প্রতিরোধ করাই যথেষ্ট নয়। কোনো কারণে নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যর্থ হলে হাসপাতাল যেন দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হাসপাতালের কার্যক্রম ছয় থেকে আট সপ্তাহ বন্ধ থাকার মতো পরিস্থিতি এড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সম্মেলনে প্রযুক্তিব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আরেকটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন মেট্রোহেলথ সিস্টেমের প্রধান ক্লিনিক্যাল ট্রান্সফরমেশন, ইনোভেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি কর্মকর্তা ডা. নাবিল চেহাদে। তিনি জানান, সম্মেলনের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ প্রযুক্তিগত বিপর্যয় ঘটে। তবে মেট্রোহেলথের ওই ঘটনা সাইবার হামলার কারণে ঘটেনি। ডেটা সেন্টারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সমস্যার কারণে দিনের মাঝামাঝি সময়ে কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এতে চিকিৎসাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং বহির্বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। ডা. চেহাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু চিকিৎসক তাঁদের নিয়মিত ব্যবহৃত প্রযুক্তিব্যবস্থা ছাড়া কীভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন, তা বুঝতে না পেরে কর্মস্থল ছেড়ে যেতে শুরু করেছিলেন। এই অভিজ্ঞতা হাসপাতালের প্রযুক্তিনির্ভরতার সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে। এর আগে ২০২৪ সালে চেঞ্জ হেলথকেয়ারের ওপর বড় ধরনের র্যানসমওয়্যার হামলা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী এএলপিএইচভি ব্ল্যাকক্যাটের ওই হামলায় চিকিৎসার বিলসংক্রান্ত দাবি, প্রেসক্রিপশন এবং স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আমেরিকান হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলার প্রভাব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোতে পড়েছিল। প্রায় এক হাজার হাসপাতালের ওপর পরিচালিত সংস্থাটির জরিপে ৭৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান রোগীদের চিকিৎসাসেবায় প্রভাব পড়ার কথা জানায়। একই জরিপে ৯৪ শতাংশ হাসপাতাল আর্থিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার তথ্য দেয়। এ ছাড়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হাসপাতাল জানায়, হামলার কারণে তাদের মোট আয়ের অর্ধেকের বেশি অংশ প্রভাবিত হয়েছিল। স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালগুলোতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও বাড়ানো প্রয়োজন। সাইবার হামলা কিংবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ে কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলেও রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যাতে অব্যাহত থাকে, সেই প্রস্তুতির ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা। সূত্র: নিউজউইক
নিউ ইয়র্ক সিটিতে ডেন্টাল ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও কম খরচে দাঁতের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লিনিকে আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে ছাড় পাওয়া যায়। কিছু প্রতিষ্ঠানে দাঁত পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক সেবা বিনা খরচেও দেওয়া হয়। তবে সব চিকিৎসা ফ্রি নয় এবং একেক প্রতিষ্ঠানের ফি, যোগ্যতা ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম আলাদা। এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের মাধ্যমে দাঁতের চিকিৎসা নেওয়া যায়। এনওয়াইসি কেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সদস্য ও অন্য ইন্স্যুরেন্সবিহীন রোগীদের জন্য ডেন্টাল সেবায় স্লাইডিং ফি ব্যবস্থা রয়েছে। এতে রোগীর আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে খরচ নির্ধারণ করা হয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও উপযুক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য জানতে কল করা যাবে ১-৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে। ম্যানহাটনে এই নেটওয়ার্কের গভর্নর কেন্দ্রের ঠিকানা ২২৭ ম্যাডিসন স্ট্রিট। ব্রুকলিনে কাম্বারল্যান্ড কেন্দ্র ১০০ নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ এবং ইস্ট নিউ ইয়র্ক কেন্দ্র ২০৯৪ পিটকিন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত। কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে রুজভেল্ট কেন্দ্রের ঠিকানা ৩৭-৫০, ৭২তম স্ট্রিট। এসব কেন্দ্রে কোন ডেন্টাল সেবা পাওয়া যাবে এবং নতুন রোগী নেওয়া হচ্ছে কি না, তা কেন্দ্রীয় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বরে জেনে নেওয়া যাবে। ব্রঙ্কসের বাসিন্দাদের জন্য বেলভিস কেন্দ্রের ঠিকানা ৫৪৫ ইস্ট ১৪২তম স্ট্রিট। কুইন্সে এলমহার্স্ট হাসপাতালের ঠিকানা ৭৯-০১ ব্রডওয়ে। উভয় প্রতিষ্ঠানেই ডেন্টাল চিকিৎসক রয়েছেন। নির্দিষ্ট চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও আর্থিক সহায়তার নিয়ম আগে নিশ্চিত করতে হবে। কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলোর মধ্যে চার্লস বি. ওয়াং কমিউনিটি হেলথ সেন্টার একটি বিকল্প। প্রতিষ্ঠানটির ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে ম্যানহাটনের ১২৫ ওয়াকার স্ট্রিটের দ্বিতীয় তলায় এবং কুইন্সের ফ্লাশিংয়ে ১৩১-৭২, ৪০তম রোডে। দুই কেন্দ্রের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর ৭১৮-৫৮৭-১১১১। এখানে দাঁতের পরীক্ষা, ক্লিনিং, এক্স-রে, ফিলিং, ক্রাউন, দাঁত তোলা, রুট ক্যানেল এবং ডেনচারসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি Medicaid গ্রহণ করে এবং যোগ্য রোগীদের আয়ভিত্তিক ছাড় দেয়। চার্লস বি. ওয়াংয়ের ছাড় নির্ধারণে পরিবারের মোট আয় ও সদস্যসংখ্যা বিবেচনা করা হয়। আয়ের প্রমাণ হিসেবে সর্বশেষ ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন, সাম্প্রতিক এক মাসের পে-স্টাব অথবা বেতনের তথ্যসহ নিয়োগকর্তার চিঠি নেওয়া যেতে পারে। এসব কাগজ না থাকলে শেষ বিকল্প হিসেবে নিজের আয়ের ঘোষণাও বিবেচিত হতে পারে। আয়ের প্রমাণ দিতে না পারলে প্রথমে সর্বোচ্চ ভিজিট ফি নেওয়া হতে পারে। তবে ভিজিটের দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রমাণ জমা দিলে ফি সমন্বয় করে রিফান্ড বা ক্রেডিট দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বাংলাভাষী রোগীদের জন্যও এখানে ভাষাগত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কর্মীরা বাংলাসহ একাধিক ভাষায় কথা বলেন এবং ভিডিও বা অডিওর মাধ্যমে দোভাষীর ব্যবস্থাও রয়েছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় বাংলা ভাষায় সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো যেতে পারে। নতুন রোগীর প্রথম ভিজিটে সাধারণত দাঁতের পরীক্ষা হয়; ক্লিনিংয়ের জন্য আলাদা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়। ব্রুকলিনের ব্রাউন্সভিলে বিএমএসের মেডিকেল ও ডেন্টাল কেন্দ্রের ঠিকানা ২৫৯ ব্রিস্টল স্ট্রিট। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের প্রকাশিত স্লাইডিং ফি তালিকায় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আয়ের রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ডেন্টাল পরীক্ষা ও নিয়মিত ক্লিনিংয়ের ফি শূন্য ডলার দেখানো হয়েছে। এক সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে এই আয়সীমা বছরে ১৫ হাজার ৯৬০ ডলার। তবে এটি সব ধরনের ডেন্টাল চিকিৎসা বিনা খরচে পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। যোগাযোগের নম্বর ৭১৮-৩৪৫-৫০০০। ম্যানহাটনের হারলেমে ফ্যামিলি হেলথ সেন্টার অব হারলেমের ঠিকানা ১৮২৪ ম্যাডিসন অ্যাভিনিউ। ডেন্টাল বিভাগের নম্বর ২১২-৪২৩-৪৪০০। ব্রুকলিনে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের সানসেট পার্ক ফ্যামিলি হেলথ সেন্টারের ডেন্টাল সেবা রয়েছে ১৫০, ৫৫তম স্ট্রিটে। সেখানে যোগাযোগের নম্বর ৭১৮-৬৩০-৬৮৭৫। চিকিৎসার ধরন, ইন্স্যুরেন্স গ্রহণ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ ফোন করে জেনে নেওয়া উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লিনিকেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ডেন্টাল মেডিসিনের জেনারেল অ্যান্ড স্পেশালটি ডেন্টিস্ট্রি ক্লিনিকের ঠিকানা ম্যানহাটনের ৬২২ ওয়েস্ট ১৬৮তম স্ট্রিট। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর ২১২-৩০৫-৬১০০। এখানে প্রথমে রোগীর প্রয়োজন মূল্যায়ন করে উপযুক্ত চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের স্লাইডিং ফি ব্যবস্থা নেই এবং তারা বিনা খরচে চিকিৎসা দেয় না। চিকিৎসা শুরুর আগে পরিকল্পনা ও ফি জেনে নেওয়া জরুরি। বিনা খরচে প্রতিরোধমূলক ডেন্টাল সেবার একটি সুযোগ রয়েছে ব্রঙ্কসের হোস্টোস কমিউনিটি কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডেন্টাল হাইজিন ক্লিনিকে প্রধানত ক্লিনিং ও ডেন্টাল এক্স-রে সেবা দেওয়া হয়। ঠিকানা ৫০০ গ্র্যান্ড কনকোর্স, বি বিল্ডিং। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য কল করা যাবে ৭১৮-৩১৯-৭৯৪৩ নম্বরে। এই সেবাকে রুট ক্যানেল, ফিলিং বা দাঁত তোলাসহ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার বিকল্প ধরে নেওয়া যাবে না। ব্রুকলিনের সিটি টেকের ডেন্টাল হাইজিন ক্লিনিকের ঠিকানা ২৮৫ জে স্ট্রিট, একাডেমিক বিল্ডিংয়ের সপ্তম তলায়, কক্ষ এ-৭০১। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর ৭১৮-২৬০-৫০৭৪। এখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডেন্টিস্ট ও ডেন্টাল হাইজিনিস্টের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা সেবা দেন। ক্লিনিকটি ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে চলে; জানুয়ারি ও গ্রীষ্মকালীন বিরতিতে বন্ধ থাকে। প্রতি ভিজিটে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে এবং একাধিকবার যেতে হতে পারে। বর্তমান ফি ও সময়সূচি ফোন করে নিশ্চিত করতে হবে। যাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেই, তারা এনওয়াইসি কেয়ারের যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন। এটি ইন্স্যুরেন্স নয়, নিউ ইয়র্ক সিটির যোগ্য বাসিন্দাদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার একটি কর্মসূচি। এতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নাম লেখানো ও আর্থিক সহায়তার তথ্য জানতে কল করা যাবে ১-৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে। ডেন্টাল সেবার খরচও আলাদাভাবে জেনে নিতে হবে। যাওয়ার আগে ফোন করে নতুন রোগী নেওয়া হচ্ছে কি না, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেখানে হয় কি না এবং মোট আনুমানিক খরচ কত, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আয়ভিত্তিক ছাড় চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাওয়া কাগজপত্র সঙ্গে নিতে হবে। কম খরচের ক্লিনিক মানেই সব চিকিৎসা ফ্রি নয়; পরীক্ষা, ক্লিনিং ও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আলাদা ফি বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যে জরায়ু অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর সংক্রমণে দুই পা, ডান হাত এবং ঠোঁট ও জিহ্বার কিছু অংশ হারিয়েছেন ছয় সন্তানের মা ত্রিশা স্টিভেনস। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা ও সংক্রমণ শনাক্ত করতে দেরি করার অভিযোগে তিন চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন ৪৬ বছর বয়সী এই নারী। মামলায় তাঁর শারীরিক ক্ষতি, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সক্ষমতা হারানোর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ওরেগনের বোরিং এলাকার বাসিন্দা ত্রিশার অস্ত্রোপচার হয়েছিল ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর। তাঁর জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব অপসারণ করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের চার দিন পর পরীক্ষার ফলাফলে প্রদাহের লক্ষণ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট সার্জন ডা. অ্যালভিন নাকামুরা তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেননি। ফলে সম্ভাব্য সংক্রমণ শনাক্ত ও চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে দেরি হয় বলে অভিযোগ করেছেন ত্রিশা। অস্ত্রোপচারের পরের দিনগুলোতে তাঁর পেটের ব্যথা ক্রমেই বাড়তে থাকে। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ছেলের ফুটবল খেলার সময় গ্যালারির সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পেটের ভেতরে হঠাৎ কিছু ছিঁড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হয়। এরপরও তাঁর শারীরিক সমস্যা চলতে থাকে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২২ অক্টোবর ত্রিশা অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসাকেন্দ্রে ফোন করে অতিরিক্ত র ক্তপাত, জ্বর, ডায়রিয়া ও পেটে মোচড় দেওয়ার মতো ব্যথার কথা জানান। এ সময় তাঁর শরীর থেকে বেসবলের আকারের একটি র ক্তের জমাট অংশ বের হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফোনে একজন নার্স তাঁকে বিশ্রাম নিতে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে বলেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। চিকিৎসক নাকামুরাও নার্সকে র ক্তপাত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিতে বলেন এবং আরেকটি বড় জমাট র ক্ত বের হলে হাসপাতালে আসতে নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ। কিন্তু প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর, রাত ১১টা ১০ মিনিটে, ত্রিশার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। তাঁকে জরুরি চিকিৎসার জন্য লিগ্যাসি মাউন্ট হুড হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় তাঁর হৃদস্পন্দন অত্যন্ত দ্রুত ছিল, র ক্তচাপ কমে গিয়েছিল এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গিয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন প্রতি ঘণ্টায় তিনটি করে স্যানিটারি প্যাড র ক্তে ভিজে যাচ্ছিল। পরীক্ষায় তাঁর পেরিটোনাইটিস বা পেটের ভেতরের আবরণে প্রদাহ, র ক্তে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াজনিত ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস এবং কিডনির আকস্মিক ক্ষতি শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁর র ক্তপ্রবাহে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পান। তাঁর শরীরে সেপটিক শকের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, যা সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট একটি প্রাণঘাতী জটিলতা। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জরুরি দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. গ্রেগরি আইলার্স অস্ত্রোপচারের ক্ষত পরীক্ষা করে সেটির কিনারা আলাদা হয়ে যাওয়া এবং কাঁচা ও সংক্রমিত দেখানোর বিষয়টি শনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু তখনই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া বা পেটের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ত্রিশা। এর কয়েক ঘণ্টা পর আরেক চিকিৎসক ডা. রবার্ট আজার তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করেন। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দেন। কিন্তু এর মধ্যেই সংক্রমণ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। ত্রিশার অভিযোগ, দ্রুত অস্ত্রোপচার করে সংক্রমণের উৎস পরিষ্কার করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। সংক্রমণের ভয়াবহ পরিণতিতে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর তাঁর দুই পা হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলতে হয়। পরে ডান হাত, বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল এবং বাঁ হাতের কয়েকটি আঙুলের অংশও বাদ দিতে হয়। সংক্রমণের কারণে টিস্যু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাঁর ঠোঁট ও জিহ্বার কিছু অংশ হারিয়ে যায়। পাশাপাশি মেরুদণ্ডের ক্ষতির কারণে কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে গেছে। অস্ত্রোপচারের আগ পর্যন্ত ত্রিশা ছিলেন ছয় সন্তানের সক্রিয় মা। তাঁর সন্তানদের বয়স তখন সাত থেকে ২১ বছরের মধ্যে। পরিবারের দৈনন্দিন কাজ সামলানো, সন্তানদের বিভিন্ন কার্যক্রমে নিয়ে যাওয়া, গাড়ি চালানো, রান্না ও ঘর পরিষ্কার করার মতো কাজ তিনি নিজেই করতেন। এখন দৈনন্দিন অনেক কাজের জন্য তাঁকে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। ত্রিশার আইনজীবী রেট ফ্রেজার জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল এখন নিজে নিজে খেতেও পারেন না এবং কিছু শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে সমস্যায় পড়েন। ক্ষতস্থানের নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি তাঁকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও সহায়তা নিতে হচ্ছে। নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ত্রিশা বলেন, প্রায় মৃ ত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা আর জেগে উঠে জীবনের হারিয়ে যাওয়া সবকিছু উপলব্ধি করা—কোনটি বেশি কঠিন, তা অনেক দিন বুঝতে পারেন না তিনি। তাঁর স্বামী ব্রায়ান একজন দমকলকর্মী। কঠিন এই পরিস্থিতিতে পরিবারকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। মামলায় ডা. নাকামুরা, ডা. আইলার্স ও ডা. আজারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এখন ৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে করা মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে। ত্রিশার ঘটনাটি অস্ত্রোপচারের পর জটিলতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত মূল্যায়ন ও চিকিৎসার গুরুত্বও সামনে এনেছে। তবে আদালতের সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার বিল তৈরি, রোগীর আর্থিক সক্ষমতা যাচাই এবং বকেয়া চিকিৎসা ঋণ আদায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। চিকিৎসকের কক্ষে রোগীর কথোপকথন থেকে তথ্য সংগ্রহ, চিকিৎসাসেবার বিল নির্ধারণ এবং বকেয়া পরিশোধের বার্তা পাঠানোর কাজেও যুক্ত হচ্ছে এই প্রযুক্তি। এর মধ্যেই স্বাস্থ্যবিমার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন কমানোর কারণে আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি মানুষ চিকিৎসার ঋণের চাপে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার বিল ও ঋণ আদায়ের প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন আসছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, বিল প্রস্তুত এবং অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করছে। আরবান ইনস্টিটিউট ও রবার্ট উড জনসন ফাউন্ডেশনের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের একজনের বেশি চিকিৎসাসংক্রান্ত ঋণ থাকার কথা জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিমা থাকা ব্যক্তিদের মধ্যেও প্রায় প্রতি চারজনের একজনের চিকিৎসার ঋণ রয়েছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিমা থাকলেও অনেক আমেরিকান চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে পারছেন না। ন্যাশনাল কনজিউমার ল সেন্টারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এপ্রিল কুয়েনহফ বলেছেন, আগামী বছরগুলোতে স্বাস্থ্যবিমা থাকা এবং না থাকা উভয় ধরনের মানুষের চিকিৎসার ঋণ বাড়তে পারে। কারণ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনায় চিকিৎসার খরচের বড় অংশ রোগীদের নিজেদের বহন করতে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ বিমার খরচ বহন করতে না পেরে কভারেজ হারাতে পারেন। আবার কেউ নতুন কঠোর শর্ত পূরণ করতে না পারায় বিমার সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারেন। অন্যদিকে যাঁরা বিমা ধরে রাখতে পারবেন, তাঁদেরও বেশি ডিডাক্টিবল, কো-পে এবং নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্তও এই পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্টের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে ফেডারেল ব্যয় প্রায় এক লাখ কোটি ডলার কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে ওবামাকেয়ারের স্বাস্থ্যবিমা বাজারে অতিরিক্ত ভর্তুকির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যুক্ত হলে বিমাবিহীন মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেএফএফের হিসাব অনুযায়ী, এসব নীতিগত পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ অতিরিক্ত মানুষ স্বাস্থ্যবিমার বাইরে চলে যেতে পারেন। তবে এটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির পূর্বাভাস, ইতিমধ্যে বিমা হারানো মানুষের সংখ্যা নয়। স্বাস্থ্যবিমাবিহীন মানুষের সংখ্যা বাড়লে হাসপাতালের অনাদায়ী বিলও বাড়তে পারে। চিকিৎসা নেওয়ার পর রোগী অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে সেই খরচ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হয়। স্বাস্থ্য খাতে এই পরিস্থিতিকে অনাদায়ী চিকিৎসাসেবার ব্যয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আরবান ইনস্টিটিউটের একটি হিসাবে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যনীতি পরিবর্তনের ফলে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত অনাদায়ী চিকিৎসাসেবার ব্যয় ২৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক চাপে থাকা হাসপাতালগুলো বকেয়া অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার চেষ্টা করতে পারে। এই সুযোগে চিকিৎসার বিল ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিডার নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যেটি হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রদানকারীদের বিল তৈরি, রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা পরিচালনায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সিডারের প্রধান কৌশল কর্মকর্তা ডুগান উইঙ্কি জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যবিমাবিহীন এবং মেডিকেইড পাওয়ার যোগ্য রোগীদের নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি রোগীদের বিমা পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী বিল পরিশোধের সুবিধা সম্পর্কে জানায়। সিডারের প্রযুক্তিতে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য ব্যবহার করে রোগীর বিল পরিশোধের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট রোগীর জন্য ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন একক মায়ের ১০ হাজার ডলারের চিকিৎসার বিল এবং উচ্চ আয়ের একজন কর্মকর্তার ৫০ ডলারের কো-পে একইভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। রোগীর আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগাযোগ ও পরিশোধের ব্যবস্থা আলাদা করার চেষ্টা করে প্রতিষ্ঠানটি। সিডার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি কথোপকথন ব্যবস্থাও ব্যবহার করছে, যার নাম কোরা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রোগীরা চিকিৎসার বিল নিয়ে প্রশ্ন করতে এবং অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য জানতে পারেন। এতে হাসপাতালের বিল বিভাগে সরাসরি ফোন করার প্রয়োজন কমানো সম্ভব বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি। তবে রোগীর আর্থিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিভেদে আলাদা ছাড় নির্ধারণের বিষয়টি নতুন প্রশ্নও তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন এর আগে ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে পণ্য বা সেবার দাম নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চিকিৎসার বিল আদায়ে একই ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা স্বচ্ছ, সেটিও আলোচনায় এসেছে। এদিকে চিকিৎসকের সঙ্গে রোগীর কথোপকথন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি তৈরি এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিল নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়েও বিতর্ক চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কিছু ব্যবস্থা চিকিৎসকের কক্ষে কথোপকথন শুনে তা লিখিত নথিতে রূপান্তর করে। পরে সেই নথি ও রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস বিশ্লেষণ করে বিলের জন্য প্রয়োজনীয় কোডের পরামর্শ দেয়। ২০২৬ সালের বসন্তে ব্লু ক্রস ব্লু শিল্ড অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সন্তান জন্মদানের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য রোগীদের বিল দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অথচ একই সময়ে রক্ত দেওয়ার হারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নথি তৈরি ও কোড নির্ধারণের ব্যবস্থা হাসপাতালের বিলের পরিমাণ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তাদের আরেকটি বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, এ ধরনের প্রযুক্তির কারণে এক বছরে স্বাস্থ্যসেবার খরচ অতিরিক্ত ১০০ কোটি ডলার বেড়েছে। তবে হাসপাতালগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী আমেরিকান হসপিটাল অ্যাসোসিয়েশন এই ব্যাখ্যা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, বিলের কোড ব্যবহারের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ থেকে হাসপাতালগুলো ভুলভাবে বিল তৈরি করছে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে অযৌক্তিক খরচ বাড়ছে, তা প্রমাণিত হয় না। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিকিৎসার নথি তৈরির সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিলের নির্ভুলতা বাড়ানোর দাবি করছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে চিকিৎসকপ্রতি বছরে অতিরিক্ত ১৩ হাজার ডলার আয় তৈরি হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আরও নির্ভুলভাবে চিকিৎসাসেবার কোড নির্ধারণের মাধ্যমে এই আয় সম্ভব। শুধু হাসপাতাল নয়, স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু বিমা প্রতিষ্ঠান অ্যালগরিদম ব্যবহার করে চিকিৎসাসেবার অনুমোদন বিলম্বিত কিংবা প্রত্যাখ্যান করছে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা একইভাবে প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ারও কিছু চিকিৎসাসেবার আগাম অনুমোদন যাচাইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহৃত পদ্ধতির সঙ্গে এই উদ্যোগের মিল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার বিল তৈরি থেকে বকেয়া অর্থ আদায় পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যবস্থাকে বিল ব্যবস্থাপনা সহজ করা এবং অর্থ আদায়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর উপায় হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে রোগীদের আর্থিক চাপ, বিলের নির্ভুলতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তা অধিকারকর্মী ও স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকেরা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অর্থের উদ্দেশ্য হলো যোগ্য ব্যক্তিদের সরকারি চিকিৎসাবিমার নির্দিষ্ট মাসিক খরচ মেটাতে সহায়তা করা। কর্মসূচিটির মোট ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি ডলার। তবে দেশটির মোট ৬ কোটি ৪২ লাখ মেডিকেয়ারভুক্ত মানুষের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য। এই সহায়তা মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা প্রচলিত মেডিকেয়ার কর্মসূচির ‘পার্ট বি’ অংশের আওতায় রয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন এবং নির্দিষ্ট অতিরিক্ত সহায়তা বা আয়ভিত্তিক বাড়তি মাসিক প্রিমিয়াম দেন না। ‘পার্ট বি’ সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ, পরীক্ষাগার পরীক্ষা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার মতো চিকিৎসাব্যয়ের অংশবিশেষ বহন করে। এই কর্মসূচির মাসিক খরচ সাধারণত প্রায় ২০০ ডলার থেকে শুরু হয়; ব্যক্তির আয় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হতে পারে। যাঁরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ’ পরিকল্পনায় যুক্ত, তাঁরা এই এককালীন অর্থ পাবেন না। কম আয়ের যেসব প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অন্য সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে ইতিমধ্যে তাঁদের চিকিৎসাবিমার মাসিক খরচে সহায়তা পান, তাঁরাও এই অর্থের বাইরে থাকবেন। এ ছাড়া আয়ভিত্তিক বাড়তি মাসিক প্রিমিয়াম প্রদানকারী নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাও যোগ্য নন। ফলে শুধু মেডিকেয়ার কার্ড থাকলেই ৯০ ডলার পাওয়া যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যোগ্য ব্যক্তিদের অর্থ পাওয়ার জন্য আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়ার কথা। অধিকাংশ যোগ্য ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে; অন্যদের কাছে অক্টোবরের পরবর্তী সময়ে ডাকযোগে সরকারি চেক পৌঁছানোর কথা। অর্থ পাঠানোর সময়সূচি ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। এই সহায়তার অর্থ আসছে কংগ্রেসের তৈরি মেডিকেয়ার উন্নয়ন তহবিল থেকে। তহবিলটি মূলত সরকারি চিকিৎসাবিমা কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য গঠন করা হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসনের সময়ে এই তহবিল থেকে সরাসরি সুবিধাভোগীদের অর্থ দেওয়ার ঘটনা প্রথম বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, নির্বাচনের আগে এককালীন অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসাব্যয়ের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের মতে, চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের তুলনায় ৯০ ডলারের সহায়তা সীমিত। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য হলো, যোগ্য মানুষকে সরাসরি অর্থ দিলে তাঁদের চিকিৎসাবিমার খরচ মেটাতে কিছুটা সুবিধা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাঁদের চিকিৎসাবিমার ধরন যাচাই করা। পরিবারের কেউ মেডিকেয়ারভুক্ত হলে তিনি প্রচলিত কর্মসূচির আওতায় আছেন, নাকি বেসরকারি ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনায় যুক্ত—তা জানা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি অন্য কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তা পান কি না, সেটিও যোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অর্থ পাওয়ার যোগ্য কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে সরকারি মেডিকেয়ার সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। অর্থ পাওয়ার আশায় অপরিচিত কাউকে ব্যাংক হিসাবের গোপন তথ্য, পাসওয়ার্ড বা পরিচয়সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া উচিত নয়। এই অর্থ পাওয়ার জন্য আলাদা আবেদন প্রয়োজন নেই বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে; তাই অর্থ ছাড়ের নামে কেউ টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে সতর্ক থাকা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য প্রবীণদের জন্য এককালীন ৯০ ডলারের সহায়তা চিকিৎসাবিমার খরচে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু এই অর্থ সবার জন্য নয় এবং এটি নিয়মিত মাসিক ভাতা নয়। তাই খবরটি দেখেই অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা ধরে না নিয়ে নিজের চিকিৎসাবিমার ধরন ও যোগ্যতা যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে লাখো বয়স্ক মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এ সপ্তাহে ৯০ ডলারের এককালীন পেমেন্ট পৌঁছাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের মাধ্যমে পাঠানো এই অর্থ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কেন এই টাকা দেওয়া হচ্ছে এবং কারা এটি পাওয়ার যোগ্য? এই ৯০ ডলারের অর্থ মূলত মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা কমাতে দেওয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০ মিলিয়নের বেশি মেডিকেয়ার সদস্যকে এই এককালীন অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে মেডিকেয়ারে থাকা সব বয়স্ক মানুষ এই অর্থ পাবেন না। প্রায় ৪ কোটি পার্ট বি সদস্য এই পেমেন্টের জন্য যোগ্য নন। মেডিকেয়ার পার্ট বি সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ, বহির্বিভাগের চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, ল্যাব পরীক্ষা ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা ব্যয় কভার করে। এর মাসিক প্রিমিয়াম আয় ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। ২০২৬ সালে পার্ট বি প্রিমিয়ামে বছরে ২০০ ডলারের বেশি বৃদ্ধি হয়েছে। আগামী বছরও প্রিমিয়াম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ৯০ ডলারের এই পেমেন্ট অনেকের জন্য কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দিতে পারে, যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের পুরোটা এটি সামাল দিতে পারবে না। কারা পাবেন এই ৯০ ডলার? সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অরিজিনাল মেডিকেয়ার পার্ট বি সদস্যরা এই পেমেন্টের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে তাদের প্রিমিয়ামের খরচ মেডিকেইডের মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া যাবে না এবং আয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত মাসিক প্রিমিয়ামও দিতে হবে না। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা সদস্যরাও এই অর্থ পাবেন না। সিএমএসের হিসাবে, মোট ২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন আমেরিকান এই পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্য। অর্থাৎ পার্ট বি-তে থাকা প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ সদস্যের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সুবিধা পাচ্ছেন। বাকি প্রায় ৪ কোটি মানুষ বিভিন্ন কারণে এর বাইরে থাকছেন। যারা মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে আছেন, যাদের প্রিমিয়াম মেডিকেইডের মাধ্যমে সহায়তা করা হয়, যারা আয়ের কারণে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দেন এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন না—তারা এই ৯০ ডলারের পেমেন্টের আওতায় পড়বেন না। কীভাবে পাওয়া যাচ্ছে টাকা? যোগ্য অধিকাংশ সদস্য সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৯০ ডলার পাবেন। সিএমএস জানিয়েছে, বেশির ভাগ যোগ্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে ৮ অক্টোবরের আশপাশে এই অর্থ জমা হওয়ার কথা। ইতোমধ্যে কিছু সদস্যের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে বা জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাদের সরাসরি ব্যাংক জমার ব্যবস্থা নেই, তারা ট্রেজারি বিভাগের মাধ্যমে কাগজের চেক পাবেন। এসব চেক অক্টোবরের পরের দিকে ডাকযোগে পাঠানো হবে। চেকের সঙ্গে পেমেন্টটির উদ্দেশ্য উল্লেখ করা থাকবে। এই অর্থ আসছে কোথা থেকে? ৯০ ডলারের পেমেন্টের অর্থ আসছে মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ড থেকে। কংগ্রেস ২০০৮ সালে এই তহবিল তৈরি করে অরিজিনাল মেডিকেয়ারের কার্যক্রম ও সেবা উন্নত করার জন্য। তহবিলে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। এবারই প্রথম এই তহবিল থেকে সরাসরি মেডিকেয়ার সদস্যদের প্রিমিয়াম কমাতে অর্থ দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। তবে অতীতে তহবিলটি একেবারে ব্যবহার করা হয়নি—এমন নয়। কেএফএফের স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞ ল্যারি লেভিট জানিয়েছেন, আগের প্রশাসনগুলো সরাসরি এই ধরনের পেমেন্ট না দিলেও কংগ্রেস বিভিন্ন সময় অন্য স্বাস্থ্যসেবা ও বাজেট সংক্রান্ত কাজে তহবিল থেকে অর্থ সরিয়েছে। ২০১০ সালে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ওবামাকেয়ার বাস্তবায়নের অর্থায়নেও প্রায় ২০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ৯০ ডলারের পেমেন্ট এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় থাকা প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য ৫০০ ডলারের রিবেট পেমেন্টের কথাও জানিয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে মেডিকেয়ার সদস্যরা ১-৮০০-মেডিকেয়ার নম্বরে ফোন করে ৯০ ডলারের পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে পারবেন। আর পেমেন্ট পাঠানো হয়েছে কি না, তা জানতে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ১-৮০০-৭৭২-১২১৩ নম্বরে ১৫ অক্টোবর থেকে যোগাযোগ করা যাবে। অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হঠাৎ ৯০ ডলার জমা পড়লে সেটি কোনো ভুল বা অতিরিক্ত সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা নয়। যোগ্য মেডিকেয়ার পার্ট বি সদস্যদের জন্য এটি অক্টোবর মাসের প্রিমিয়াম খরচ কিছুটা কমাতে দেওয়া এককালীন পেমেন্ট। তবে মেডিকেয়ারের ধরন, আয় এবং প্রিমিয়াম সহায়তার অবস্থার ওপর নির্ভর করে সবাই এই অর্থ পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে নতুন ফেডারেল আইনের কারণে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ অ-নাগরিকের মেডিকেইড স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে গ্রিন কার্ড না থাকা শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবপাচার থেকে বেঁচে যাওয়া কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীর ওপর। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালে স্বাক্ষর করা এইচআর-১, যা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, তার আওতায় মেডিকেইডের যোগ্যতার নিয়ম বদলানোর ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইলিনয়ের স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ জানিয়েছে, যেসব অ-নাগরিক নতুন নিয়মের আওতায় আর পূর্ণ মেডিকেইডের যোগ্য নন, তাদের সর্বশেষ কভারেজের দিন ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। রাজ্য কর্তৃপক্ষ আগেই সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিঠি পাঠিয়ে পরিবর্তনের বিষয়ে জানিয়েছিল। নতুন নিয়মটি ইলিনয় রাজ্য নিজে থেকে তৈরি করেনি, বরং ফেডারেল আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে রাজ্যকে তা বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। নতুন নিয়মে সব বৈধ অভিবাসী মেডিকেইড হারাচ্ছেন না। ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ মেডিকেইডের আওতায় থাকার জন্য প্রধানত গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী এবং ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের রাখা হয়েছে। এছাড়া ইলিনয়ে বৈধভাবে বসবাসকারী ১৯ বছরের কম বয়সী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য কিছু সুবিধা বহাল রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যভিত্তিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিরাও সুবিধা পেতে পারেন। এর ফলে বিশেষ করে এমন অভিবাসীরা সমস্যায় পড়েছেন, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থান থাকলেও এখনো গ্রিন কার্ড হয়নি। শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতেও সাধারণত নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, শরণার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে এক বছর থাকার পর এবং আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিরা আশ্রয়ের অনুমোদনের এক বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার পরও গ্রিন কার্ড পেতে আরও সময় লাগতে পারে। ইলিনয়ের পরিস্থিতি বোঝাতে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো কয়েকটি পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরেছে। শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে ৬৬ বছর বয়সী তেরেসিতা ভি. মোরালেসের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ইউগেন কুতার ঘটনা উঠে এসেছে। রোমানিয়া থেকে আসা কুতা ১৫ বছরেরও বেশি আগে গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এতে তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং কথা বলার সক্ষমতাও হারান। এরপর থেকে তিনি নার্সিং হোমে বসবাস করছেন এবং তার সার্বক্ষণিক পরিচর্যার খরচ মেটাতে মেডিকেইডের ওপর নির্ভর করছিলেন। মোরালেস জানান, আগস্টে তার সঙ্গীর কাছে রাজ্য সরকারের পাঠানো একটি চিঠি আসে। সেখানে বলা হয়, তার ‘অ-নাগরিক’ অবস্থানের কারণে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর তিনি আর মেডিকেইডের যোগ্য থাকবেন না। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও নার্সিং হোমের খরচ কীভাবে চালানো হবে, তা নিয়ে এরপর থেকে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন মোরালেস। ইলিনয় কোয়ালিশন ফর ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটসের স্বাস্থ্যনীতি ও ন্যায়বিচার বিভাগের পরিচালক এডিথ আভিলা হেসার পরিবারটিকে বিষয়টি মোকাবিলায় সহায়তা করার চেষ্টা করছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মেডিকেইড হারানোর প্রভাব শুধু দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ওপর নয়, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের ওপরও পড়তে পারে। কুক কাউন্টি হেলথের চিকিৎসক নিম্মি রাজাগোপাল জানিয়েছেন, মেডিকেইড হারাতে যাওয়া কিছু রোগী তাদের নিয়মিত ওষুধ কীভাবে সংগ্রহ করবেন, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কুক কাউন্টিতে ইলিনয়ের মেডিকেইড হারাতে যাওয়া মানুষের ৪০ শতাংশেরও বেশি বসবাস করেন এবং তাদের অনেকেই ইউক্রেনীয় ভাষাভাষী বলে কাউন্টি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। শিকাগো ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে। লিগ্যাল কাউন্সিল ফর হেলথ জাস্টিসের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আন্দ্রেয়া কোভাচের মতে, অনেক অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেইডের মাধ্যমে নিয়মিত চিকিৎসা, রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছিলেন। কভারেজ বন্ধ হলে এসব সেবায় বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মেডিকেইড হারানো ব্যক্তিদের জন্য কিছু বিকল্প ব্যবস্থা থাকছে। ফেডারেলভাবে অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো অনেক ক্ষেত্রে বিনা খরচে বা আয় অনুযায়ী কম খরচে চিকিৎসা দিতে পারে। জরুরি অবস্থায় ‘ইমার্জেন্সি মেডিকেইড’ সুবিধাও পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি নিয়মিত চিকিৎসা, প্রেসক্রিপশন ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার পূর্ণ বিকল্প নয়। ইলিনয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, শুধু অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে মেডিকেইডের যোগ্য না থাকলেও জরুরি চিকিৎসার জন্য এই সুবিধা বহাল থাকবে। কিছু শরণার্থী মেডিকেইডের বিকল্প হিসেবে ‘রিফিউজি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স’ পেতে পারেন। তবে এই কর্মসূচির সুবিধা সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত বা নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি মেডিকেইডের সমতুল্য নিরাপত্তা তৈরি করে না। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা তাই মেডিকেইড হারানো রোগীদের চিকিৎসা পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। ইলিনয়ের এই পরিবর্তন আসলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মেডিকেইড ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রথম ধাপগুলোর একটি। কেএফএফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন ফেডারেল নিয়মে মেডিকেইড ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি বা সিএইচআইপির যোগ্যতা মূলত গ্রিন কার্ডধারী, নির্দিষ্ট কিউবান ও হাইতিয়ান অভিবাসী, সিওএফএ দেশের নাগরিক এবং কিছু বৈধভাবে বসবাসকারী শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তির মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে গ্রিন কার্ড ছাড়া শরণার্থী ও আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তিসহ আরও কয়েকটি বৈধ অভিবাসী গোষ্ঠী ফেডারেলভাবে অর্থায়িত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বাদ পড়েছেন। কেএফএফের হিসাবে, শুধু মেডিকেইড ও সিএইচআইপির যোগ্যতা সীমিত করার বিধানই ২০৩৪ সালের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যবিমাহীন করে তুলতে পারে। একই আইনের অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরিবর্তন ধরলে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ বৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী স্বাস্থ্যবিমা হারাতে পারেন বলে কেএফএফের পূর্বাভাস। ইলিনয়ে এখন নতুন নিয়মের বাস্তব প্রভাব শুরু হলেও বিষয়টি পুরোপুরি এখানেই শেষ নয়। যাদের অভিবাসনগত অবস্থান যাচাই করা নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রাজ্য অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৯০ দিনের সময়ও দিতে পারে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারও যোগ্য অভিবাসনগত অবস্থান প্রমাণিত হলে তিনি নতুন নিয়ম অনুযায়ী কভারেজ ধরে রাখতে পারেন। সূত্র: শিকাগো ট্রিবিউন, ইলিনয় স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারসেবা বিভাগ, কেএফএফ
নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির তালিকায় ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কয়েকটি পদে আবেদন চলছে। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া বিজ্ঞপ্তিগুলোর মধ্যে অরেঞ্জ কাউন্টিতে ফায়ার সেফটি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, চেনাঙ্গো কাউন্টিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স এবং অ্যালবানিতে স্বাস্থ্যসেবার আর্থিক কার্যক্রমসংক্রান্ত পদ রয়েছে। যোগ্যতা ও আবেদনের শেষ দিন পদভেদে আলাদা। অরেঞ্জ কাউন্টির নিউবার্গে স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসের ট্রেনিং অফিসার পদের আবেদন শেষ হবে ১০ অক্টোবর। বার্ষিক বেতন ৭৩ হাজার ২৯৭ ডলার। দায়িত্বের মধ্যে ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা রয়েছে। এটি অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করার পদ নয়। চেনাঙ্গো কাউন্টির অক্সফোর্ডে নিউইয়র্ক স্টেট ভেটেরান্স হোমে অস্থায়ী লাইসেন্সড প্র্যাকটিক্যাল নার্স পদেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আবেদনের শেষ দিন ১২ অক্টোবর। পদটির জন্য প্রয়োজনীয় নার্সিং লাইসেন্সসহ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া যোগ্যতা দেখতে হবে। অ্যালবানিতে নিউইয়র্ক স্টেটের অফিস অব মেন্টাল হেলথ রিসোর্সেস অ্যান্ড রিইম্বার্সমেন্ট এজেন্ট প্রশিক্ষণার্থী পদে আবেদন নিচ্ছে। বেতন শুরু বছরে ৫৬ হাজার ১৮৩ ডলার থেকে; আবেদন শেষ ১২ অক্টোবর। প্রশিক্ষণার্থী স্তরেও সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে অভিজ্ঞতার একটি অংশ পূরণের সুযোগ আছে। খসড়ায় উল্লিখিত নিউইয়র্ক সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর পদটি সিটির চাকরির তালিকায় মেয়াদোত্তীর্ণ দেখাচ্ছে। তাই সেটিকে এখন আবেদনযোগ্য পদ হিসেবে প্রচার করা যাবে না। একইভাবে ‘আজই ৫০০টির বেশি পদে নিয়োগ’ কিংবা অ্যামাজনের নির্দিষ্ট বেতন ও সুযোগসুবিধার দাবিও নিশ্চিত তথ্য ছাড়া ব্যবহার করা ঠিক হবে না। নিউইয়র্ক সিটির সব সরকারি চাকরিতে নাগরিকত্ব বা গ্রিন কার্ড বাধ্যতামূলক, এমন নিয়ম নেই। পদের বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকত্বের শর্ত থাকলে তা মানতে হবে; শর্ত না থাকলে নিয়োগের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেখাতে হয়। আবেদনকারীদের তাই পদের যোগ্যতা, কর্মস্থল, শেষ দিন ও আবেদনের পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
নিউইয়র্ক সিটিতে চাকরি খুঁজতে গেলে স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও সরকারি সেবার মতো বড় খাতগুলো নিয়মিত নজরে রাখা যায়। তবে এসব খাতে বছরের প্রতিটি সময় নিয়োগ চলে বা আবেদন করলেই কাজ মেলে, এমন দাবি সরকারি তথ্য সমর্থন করে না। সিটির কম্পট্রোলারের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে স্বাস্থ্যসেবার বাইরে নতুন চাকরি তৈরির গতি কম থাকার কথা বলা হয়েছে। তাই কোন পেশায় সুযোগ আছে, তার পাশাপাশি এখন কোন পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে। প্রথমত, রেজিস্টার্ড নার্স। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সরকারি চাকরির তালিকায় কুইন্স ও ম্যানহাটনের প্রতিষ্ঠানে নার্স পদের বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট। তৃতীয়ত, ক্লিনিক্যাল মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট। শেষের দুটি পেশার প্রশিক্ষণ নিউইয়র্ক সিটির সীমিতসংখ্যক ইনডিভিজুয়াল ট্রেনিং গ্রান্টের যোগ্য কোর্সের তালিকায় রয়েছে। চিকিৎসাসংক্রান্ত এসব কাজের জন্য পদভেদে আলাদা লাইসেন্স, সনদ বা অন্যান্য যোগ্যতা প্রয়োজন হতে পারে। চতুর্থত, বাসচালক এবং পঞ্চমত, ট্রাক বা বাণিজ্যিক যানবাহনের চালক। সিটির প্রশিক্ষণ নির্দেশিকায় এসব পেশার জন্য কোর্স রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণের তালিকায় কোনো পেশার নাম থাকা মানেই এমটিএ বা অন্য প্রতিষ্ঠানে এই মুহূর্তে নির্দিষ্টসংখ্যক পদ খালি আছে, তা নয়। মূল লেখায় উল্লেখ করা এমটিএর ২ হাজার ৮৬৮টি শূন্যপদের সংখ্যাটি নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যে নিশ্চিত করা যায়নি। ষষ্ঠত, কম্পিউটার সাপোর্ট স্পেশালিস্ট এবং সপ্তমত, নেটওয়ার্ক বা কম্পিউটার সিস্টেমস অ্যানালিস্ট। এই পেশাগুলোও সিটির প্রশিক্ষণ নির্দেশিকায় রয়েছে। অষ্টমত, আনআর্মড সিকিউরিটি গার্ডের প্রশিক্ষণও একই তালিকায় আছে। আবেদনকারীর আগের দক্ষতা, প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট এবং নিয়োগদাতার শর্ত অনুযায়ী সুযোগ বদলায়। নবমত, নির্মাণ ও ভবন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির পোর্টালে ভবন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, প্রকৌশল এবং স্থাপনা পরিকল্পনার আলাদা বিভাগ রয়েছে। দশমত, সিটি সরকারের সামাজিক সেবা, প্রশাসন ও গ্রাহকসেবার পদ। এসব পদের কিছুতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা লাগে; কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগের পর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার শর্তও থাকতে পারে। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির ন্যূনতম যোগ্যতা তাই আলাদা করে পড়তে হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তালিকাকে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হওয়া চাকরির তালিকা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি বিজ্ঞপ্তি থেকে পুরো খাতে সারা বছর নিয়োগ চলে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পছন্দের পেশা বেছে নিয়ে সিটি, অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতার বর্তমান বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতা, কাজের স্থান এবং আবেদনের শেষ তারিখ মিলিয়ে দেখা।
কানাডায় চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের ব্যবস্থা চালুর এক দশক পূর্ণ হওয়ার সময়ে এ ব্যবস্থার আওতায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে চালু হওয়া ‘মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং’ বা এমএআইডির আওতায় ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালেই এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মারা গেছেন ১৬ হাজার ৪৯৯ জন। কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে এমএআইডির আওতায় মৃত্যুর হার আরও বেশি। বিশেষ করে কুইবেক প্রদেশের লানদিয়ের অঞ্চলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট মৃত্যুর ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ এমএআইডির আওতায় হয়েছে বলে কুইবেকের জীবনাবসান-সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। একই সময়ে পুরো কুইবেকে ৬ হাজার ২৬৮ জন এমএআইডির মাধ্যমে মারা যান, যা আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। তবে কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে। এমএআইডিকে দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে মৃত্যুর একটি ‘কারণ’ হিসেবে গণ্য করা হয় না। যেমন, কোনো ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তি এমএআইডি গ্রহণ করে মারা গেলে মৃত্যুসনদে সাধারণত ক্যানসারকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাই এমএআইডির সংখ্যা সরাসরি অন্যান্য রোগ বা মৃত্যুর কারণের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। ২০২৪ সালের সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই বছর এমএআইডির আওতায় মৃত্যুর ৯৫ দশমিক ৬ শতাংশ ছিল ‘ট্র্যাক-১’ শ্রেণির। অর্থাৎ এসব ব্যক্তির স্বাভাবিক মৃত্যু যুক্তিসংগতভাবে অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত ছিল। বাকি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল ‘ট্র্যাক-২’, যেখানে স্বাভাবিক মৃত্যু অদূর ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত ছিল না। ২০১৯ সালে কানাডায় এমএআইডির আওতায় ৫ হাজার ৪৬১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২০ সালে তা বেড়ে ৭ হাজার ৪৬৯, ২০২১ সালে ১০ হাজার ৬৬, ২০২২ সালে ১৩ হাজার ১৯৯ এবং ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৪২৭ জনে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে সংখ্যা বেড়ে হয় ১৬ হাজার ৪৯৯। যদিও সংখ্যা বাড়ছে, বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমেছে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে এমএআইডির জন্য মোট ২২ হাজার ৫৩৫টি অনুরোধের তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৪৯৯ জন শেষ পর্যন্ত এমএআইডি পান। আরও ৪ হাজার ১৭ জন আবেদনকারী অন্য কোনো কারণে মারা যান, ১ হাজার ৩২৭ জনকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি এবং ৬৯২ জন নিজেদের আবেদন প্রত্যাহার করেন। কানাডায় এমএআইডি চালুর পেছনে ২০১৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় ছিল। এরপর ২০১৬ সালে পার্লামেন্ট আইন প্রণয়ন করে নির্দিষ্ট শর্ত ও সুরক্ষা ব্যবস্থার অধীনে যোগ্য প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের সুযোগ দেয়। বর্তমানে মানসিক অসুস্থতাকে একমাত্র ভিত্তি হিসেবে এমএআইডির যোগ্যতার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ১৭ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। এদিকে কানাডার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ফ্রেজার ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের চিকিৎসা-অপেক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক চিকিৎসকের কাছ থেকে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর পর চিকিৎসা পাওয়া পর্যন্ত কানাডায় মধ্যমা অপেক্ষার সময় ছিল ২৮ দশমিক ৬ সপ্তাহ। অস্থি-সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে তা ছিল ৪৮ দশমিক ৬ সপ্তাহ। তবে এটি একটি স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকদের ওপর পরিচালিত জরিপভিত্তিক হিসাব, সরকারি স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান নয়। এমএআইডি নিয়ে বিতর্কের একটি বড় অংশ হলো, এটি রোগীর নিজের সিদ্ধান্ত ও কষ্ট থেকে মুক্তির অধিকারকে গুরুত্ব দেয়, নাকি গুরুতর অসুস্থ ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন করে তুলতে পারে। কানাডার সরকার বলছে, এমএআইডির জন্য কঠোর যোগ্যতার শর্ত ও সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে কিছু চিকিৎসক, অধিকারকর্মী ও সংগঠন এসব সুরক্ষা কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যক্তিগত ঘটনাও এ বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। ৮৩ বছর বয়সী ব্রিজিট স্টেগেমানের মৃত্যুকে ঘিরে তার নাতনি অভিযোগ করেছেন, এমএআইডি গ্রহণের আগে তার দাদি সিদ্ধান্তটি নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন এবং শেষ মুহূর্তে বলেছিলেন, ‘আমি ভুল করেছি’। পরিবারটি ঘটনাটি তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও এমএআইডির সব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা স্বাধীন তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। আরেকটি আলোচিত ঘটনা ২৬ বছর বয়সী কিয়ানো ভাফাইয়ানের। তিনি ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এমএআইডির মাধ্যমে মারা যান। তার মা দাবি করেছেন, ছেলের শারীরিক সমস্যা ও মানসিক অবস্থার কারণে তিনি ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত অবস্থায় ছিলেন না। তবে এমএআইডি প্রদানকারী চিকিৎসক এলেন ভিয়েবে বলেছেন, তিনি কাউকে কেবল মানসিক অসুস্থতার ভিত্তিতে এমএআইডি দেননি। কানাডায় শুধু মানসিক অসুস্থতাকে ভিত্তি করে এমএআইডি দেওয়ার সুযোগ এখনও স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে এমএআইডির সমর্থকেরা বলেন, গুরুতর ও অসহনীয় কষ্টে থাকা যোগ্য রোগীদের নিজেদের জীবনের শেষ পর্যায় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। কানাডার সরকারি প্রতিবেদনও এমএআইডিকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও আইনি সুরক্ষার অধীনে দেওয়া একটি স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে বর্ণনা করেছে। কানাডায় এমএআইডি চালুর ১০ বছর পূর্তির সময়ে তাই এ ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক কেবল মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধিকে ঘিরে নয়। রোগীর স্বায়ত্তশাসন, চিকিৎসকের ভূমিকা, প্যালিয়েটিভ বা জীবনাবসানকালীন সেবা, চিকিৎসা পাওয়ার অপেক্ষার সময় এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের সুরক্ষা, সবকিছুই এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সূত্র: কানাডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কুইবেক কমিশন অন এনড-অব-লাইফ কেয়ার, ফ্রেজার ইনস্টিটিউট, নিউইয়র্ক পোস্ট
প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য উপযুক্ত শহর বেছে নেওয়া অনেক সময় অন্যদের তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। যাতায়াত ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার খরচ, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সামগ্রিক জীবনমান—সবকিছুই বিবেচনায় নিতে হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ১৮০টির বেশি বড় শহর বিশ্লেষণ করে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি ও কম সুবিধাজনক শহরের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ওয়ালেটহাব। গবেষণায় মিসৌরির সেন্ট লুইসকে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সুবিধাজনক শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর রয়েছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস এবং ওহাইওর কলম্বাস। এসব শহরে সহজে ব্যবহারযোগ্য জনপরিকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এবং তুলনামূলকভাবে কম জীবনযাত্রার খরচকে ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধিতা থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের ২৮ শতাংশের বেশি নির্দিষ্ট বা সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে তাদের জন্য আবাসন, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি চলাচলের সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় জনসেবার সহজলভ্যতাও শহর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। গবেষণায় এগিয়ে থাকা শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে সেন্ট লুইস, মিনিয়াপোলিস, কলম্বাস, ক্যালিফোর্নিয়ার হান্টিংটন বিচ, মিনেসোটার সেন্ট পল, মিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডস, অ্যারিজোনার স্কটসডেল, পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গ, মিসৌরির কানসাস সিটি এবং মেরিল্যান্ডের কলাম্বিয়া। এছাড়া তালিকায় রয়েছে অ্যারিজোনার চ্যান্ডলার ও পিওরিয়া, মেইনের পোর্টল্যান্ড, কলোরাডোর ডেনভার, ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ড ও গ্লেনডেল, ভার্জিনিয়ার ভার্জিনিয়া বিচ এবং অ্যারিজোনার মেসা। মূল প্রতিবেদনে শীর্ষ ২০ শহরের কথা বলা হলেও প্রকাশিত তালিকায় ১৮টি শহরের নাম দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আলাস্কার জুনোসহ তালিকার নিচের দিকে থাকা কিছু শহরকে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারীদের জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি চ্যালেঞ্জিং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জায়গায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হওয়া, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য জনসেবা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকার মতো বিষয়গুলো সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে। ওয়ালেটহাবের এই বিশ্লেষণে মূলত অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনমানের মতো বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে শহরগুলোর তুলনা করা হয়েছে। ফলে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বসবাসকারী মানুষের জন্য কোনো শহর বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এসব বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার একটি উপায় হিসেবে তালিকাটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় থাকা ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বিমা তালিকাভুক্তি বাতিল করেছে দেশটির সরকার। এসব তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া নাম যুক্ত করা বা যোগ্যতা নিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর এ তথ্য প্রকাশ করে সিএমএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৩১ আগস্ট প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার তালিকাভুক্তি বাতিল করা হয়েছে, যার আওতায় ছিলেন ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। এসব বাতিলের ফলে আগাম দেওয়া প্রিমিয়াম কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ ফেরত আসবে বলে আশা করছে সিএমএস। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, বাতিল হওয়া তালিকাভুক্তির মধ্যে এমন মানুষ রয়েছেন, যাদের অস্তিত্ব নিয়ে কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন রয়েছে, আবার এমন বাস্তব ব্যক্তিও রয়েছেন যারা স্বাস্থ্যবিমার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করেননি। কিছু মানুষকে তাদের অজান্তেই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছিল বলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। সিএমএসের প্রশাসক মেহমেট ওজ জানিয়েছেন, যেসব তালিকাভুক্তিকে ‘ফ্যান্টম’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিষয়ে কর্মকর্তারা মনে করছেন তারা হয় বাস্তবে ওই বিমা পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার কথা জানতেন না, অথবা তাদের অস্তিত্বই নিশ্চিত করা যায়নি। এসব ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি এবং তারা বিমার আওতায় কোনো দাবি জমা দিয়েছেন কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনায় মানুষকে যুক্ত করা এজেন্ট ও ব্রোকারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে সিএমএস। সংস্থাটি ২০২৬ সালের আবেদনগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, যেমন সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, না থাকা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক হারে আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগে ৫৬৯ জন ব্রোকারের বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর মধ্যে প্রথম ১০০ জনের জবাব দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৬৬ জনকে চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সিএমএসের অভিযোগ, কিছু ব্রোকার গ্রাহকের প্রকৃত সম্মতি ছাড়াই তাদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত করেছেন, অনুমতি ছাড়া পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছেন, ভুল তথ্য ব্যবহার করেছেন অথবা কমিশন পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্দেহজনক আবেদন তৈরি করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে নতুন করে নিবন্ধিত হওয়া এজেন্ট ও ব্রোকারদের সংখ্যা মোট ব্রোকারদের তুলনায় কম হলেও তাদের মধ্যে অননুমোদিত তালিকাভুক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। এ কারণে নতুন এজেন্ট ও ব্রোকার নিবন্ধনের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশও দিয়েছে সিএমএস। ২০২৬ সালের জন্য সক্রিয় এক্সচেঞ্জ চুক্তি নেই এমন এজেন্ট ও ব্রোকাররা ২০২৭ সালের পরিকল্পনার জন্য নতুন করে নিবন্ধন করতে পারবেন না। এই স্থগিতাদেশ ২০২৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তিও উঠেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেনিফিটস অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স প্রফেশনালস নামের একটি শিল্প সংগঠন বলেছে, সব নতুন ব্রোকারের ওপর একসঙ্গে স্থগিতাদেশ দিলে বৈধভাবে কাজ করা পেশাজীবীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। সংগঠনটি অনিয়মে জড়িত নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে। সরকারের হিসাবে, ২০২৬ সালের পরিকল্পনা বছরে অননুমোদিত ও সন্দেহজনক ওবামাকেয়ার তালিকাভুক্তির কারণে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ৬৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে ব্যয় হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে বাতিল করা তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আগাম দেওয়া কর-ছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে বলে সিএমএস জানিয়েছে। ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনিয়মবিরোধী উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওবামাকেয়ার মূলত ২০১০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে প্রণীত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম কমানোর সুযোগ রয়েছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও আইনটি বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন, যদিও তা সফল হয়নি। তার প্রশাসন বর্তমানে এই কর্মসূচির বিভিন্ন নিয়ম ও ভর্তুকি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি অনিয়ম ঠেকানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের জুনে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের নীতিবিষয়ক কার্যালয় এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ওবামাকেয়ারে নতুন করে যুক্ত হওয়া মানুষের প্রায় অর্ধেকের তালিকাভুক্তি অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে এ ধরনের তালিকাভুক্তির সংখ্যা আনুমানিক ৫৬ লাখে পৌঁছেছিল। তবে এগুলো সরাসরি প্রমাণিত প্রতারণার সংখ্যা নয়, বরং সরকারি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে করা অনুমান। সিএমএস আরও জানিয়েছে, ২০২৬ সালে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ওবামাকেয়ার এক্সচেঞ্জ পরিকল্পনায় যুক্ত রয়েছেন। সংস্থাটির হিসাবে, এর মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ তালিকাভুক্তি এখনও অনিয়মিত, কাল্পনিক বা প্রতারণামূলক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিমা খাতের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং সরকারি হিসাবগুলো মূলত প্রশাসনিক তথ্য ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে অতিরিক্ত কোভিড-পরবর্তী স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়ার কারণে অনেক মার্কিন নাগরিকের মাসিক বিমা প্রিমিয়াম বেড়েছে। এর ফলে চলতি বছরে ওবামাকেয়ার থেকে অনেক মানুষের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ঠেকানোর সরকারি পদক্ষেপ স্বাস্থ্যবিমা বাজারে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (CMS)
ম্যাসাচুসেটসে সন্তান জন্মের পর নতুন মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠিয়ে স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থার স্ক্রিনিং করার কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। গভর্নর মাউরা হিলি ১৫ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচি সম্প্রসারণে ২০ লাখ ডলার এবং প্রসব-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে কর্মসূচিটি স্বেচ্ছামূলক হওয়া সত্ত্বেও সরকারি হস্তক্ষেপ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিবারের স্বাধীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে থাকা ‘ওয়েলকাম ফ্যামিলি’ কর্মসূচির মাধ্যমে সন্তান জন্মের পর প্রশিক্ষিত মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য নার্স পরিবারের বাড়িতে গিয়ে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজ নেন। নার্সরা নবজাতকের যত্ন, বুকের দুধ খাওয়ানো, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে পরামর্শ দেন। প্রয়োজন হলে পরিবারকে চিকিৎসা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থাও করা হয়। গভর্নর হিলির প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো এই সেবা পুরো ম্যাসাচুসেটসে আরও সহজলভ্য করা। রাজ্য সরকারের হিসাবে, বর্তমানে ‘ওয়েলকাম ফ্যামিলি’ বছরে প্রায় ৩ হাজার পরিবারকে সেবা দেয়। অতিরিক্ত অর্থায়নের ফলে বছরে প্রায় ৬৮ হাজার সন্তান জন্ম দেওয়া পরিবারকে এই বাড়ি পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি বাধ্যতামূলক কর্মসূচি নয়। রাজ্য সরকারের ঘোষণায় এটিকে বিনামূল্যের স্বেচ্ছামূলক সেবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়িতে গিয়ে নার্সরা শুধু শিশুর স্বাস্থ্য নয়, মায়ের প্রসব-পরবর্তী মানসিক অবস্থাও মূল্যায়ন করতে পারেন। বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মাদক ব্যবহারের মতো উদ্বেগের লক্ষণ শনাক্ত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা অন্যান্য সহায়তার সঙ্গে পরিবারকে যুক্ত করা হয়। ২০২৫ সালে কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৬২০টি প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতার স্ক্রিনিং করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০৮ জনের স্ক্রিনিংয়ে উদ্বেগের লক্ষণ পাওয়া যায় এবং প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় সেবার জন্য রেফার করা হয় বলে রাজ্য সরকার জানিয়েছে। ম্যাসাচুসেটসে প্রসব-পরবর্তী মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলাকে ঘিরে। সাবেক এই নার্সের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তাঁর তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ ওঠে। মামলায় তাঁর আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে তিনি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পরে জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় মামলাটিতে মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করা হয়। হিলির নতুন উদ্যোগ ঘোষণার সময় এই মামলাটি আবারও আলোচনায় আসে। তবে কর্মসূচিটি নিয়ে সমালোচনাও দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকজন ব্যবহারকারী বাড়িতে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। কেউ এটিকে অপ্রয়োজনীয় সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ অভিভাবকদের বাড়িতে এ ধরনের পরিদর্শন গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব প্রতিক্রিয়া মূলত পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসর, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে ম্যাসাচুসেটস সরকার বলছে, কর্মসূচির উদ্দেশ্য পরিবারকে নজরদারি করা নয়, বরং সন্তান জন্মের পরের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়তার সঙ্গে দ্রুত যুক্ত করা। রাজ্যের আইনে ইতোমধ্যে প্রসব-পরবর্তী বাড়ি পরিদর্শন সেবা স্বেচ্ছামূলক ও প্রমাণভিত্তিক সেবা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। আইনে অন্তত একটি পরিদর্শন সন্তান জন্মের পর আট সপ্তাহের মধ্যে বাড়িতে অথবা পরিবার ও সেবাদাতার সম্মত অন্য কোনো স্থানে করার কথা বলা হয়েছে। ফলে নতুন উদ্যোগটি ম্যাসাচুসেটসে মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রসব-পরবর্তী মানসিক সহায়তা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবার কতটা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রাখবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কোথায় পর্যন্ত পৌঁছানো উচিত, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। রাজ্য সরকার এখন অর্থায়ন ও কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই সেবা আরও বেশি পরিবারের কাছে পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের বেকি জোন্সের বয়স তখন মাত্র ২১ বছর। তীব্র মাইগ্রেনের চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাকে জানানো হয়, তিনি চতুর্থ ধাপের গ্লিওব্লাস্টোমায় আক্রান্ত এবং বেঁচে থাকার সময় হাতে রয়েছে মাত্র কয়েক মাস। এরপর দীর্ঘ ১১ বছর তাকে কেমোথেরাপির ওষুধ টেমোজোলোমাইড নিতে হয়। কিন্তু পরে জানা যায়, তার মস্তিষ্কে ক্যানসারই ছিল না। তিনি আসলে এমন এক ধরনের মস্তিষ্কের প্রদাহে ভুগছিলেন, যার চিকিৎসায় স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ৩৪ বছর বয়সী বেকি দুই সন্তানের মা। তার দাবি, ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় দীর্ঘ ও কষ্টকর চিকিৎসার মধ্যে কেটে গেছে। কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বমি, তীব্র ক্লান্তি ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। সামাজিক জীবন, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং কর্মজীবনেও এর প্রভাব পড়ে। বেকির চিকিৎসা হয়েছিল যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার এনএইচএস ট্রাস্টের অধীনে। তিনি এখন ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া ৪০ জনের বেশি রোগীর একজন। তাদের অভিযোগের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসায় টেমোজোলোমাইড নামের কেমোথেরাপি ওষুধ দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের বিষয়টি। বেকি জানিয়েছেন, চিকিৎসক প্রফেসর ইয়ান ব্রাউন তাকে বারবার বলেছিলেন, কেমোথেরাপি বন্ধ করলে তিনি মারা যেতে পারেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রাউন তাকে দীর্ঘদিন টেমোজোলোমাইড চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। অথচ একাধিক স্ক্যানে মস্তিষ্কে স্পষ্ট টিউমারের প্রমাণ না পাওয়ায় বেকি প্রশ্ন তুলেছিলেন। তখন তাকে বলা হয়েছিল, তার ক্যানসার খালি চোখে দেখা যাবে না। ২০১২ সালে তীব্র মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বেকির মস্তিষ্কে বায়োপসি করা হয়। তার দাবি, চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার আগেই তাকে চতুর্থ ধাপের গ্লিওব্লাস্টোমা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। তাকে আরও বলা হয়েছিল, তিনি ভবিষ্যতে মা হতে পারবেন না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি দুই সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসার সময় বেকির জীবন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে কেমোথেরাপি নেওয়ার কারণে তিনি নিয়মিত অসুস্থ থাকতেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে তিনি ব্যায়াম করতেন, বাইরে খেতে যেতেন এবং স্বাভাবিক সামাজিক জীবন কাটাতেন। চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর এসবের অনেকটাই বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে হঠাৎ হাসপাতাল থেকে ফোন করে বেকিকে জানানো হয়, তার কেমোথেরাপি বন্ধ করা হচ্ছে। তাকে বলা হয়, প্রফেসর ইয়ান ব্রাউন অবসর নিয়েছেন। তবে চিকিৎসা বন্ধের বিষয়ে সে সময় তিনি পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা বা সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেন। ব্রাউন অবসরের পর তার রোগীদের চিকিৎসা নতুন চিকিৎসকদের অধীনে যায় এবং দীর্ঘদিনের টেমোজোলোমাইড ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে নজরে আসে। এরপর ২০২৫ সালের মে মাসে বেকির আইনজীবীদের উদ্যোগে স্বাধীন নিউরোসার্জন ও রেডিওলজিস্টরা তার পুরোনো চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা করেন। সেই পর্যালোচনার পর তাকে জানানো হয়, তার মস্তিষ্কে কখনো ক্যানসার ছিল না। তার প্রকৃত সমস্যা ছিল ‘টিউমেফ্যাকটিভ ডিমাইলিনেশন’, যা এক ধরনের মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং সাধারণত স্টেরয়েড দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। বেকির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পাশাপাশি একই চিকিৎসকের অধীনে থাকা আরও রোগীর অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকজন রোগী জানিয়েছেন, তাদেরও বছরের পর বছর টেমোজোলোমাইড দেওয়া হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে চিকিৎসা বহু বছর ধরে চলেছে, যদিও সাধারণ নির্দেশনায় এ ধরনের কেমোথেরাপি সাধারণত কয়েকটি সাইকেল বা সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ব্রাবনার্সের তথ্য অনুযায়ী, কিছু রোগী ১২ সাইকেলেরও বেশি চিকিৎসা পেয়েছেন। এই অভিযোগের পর ইউনিভার্সিটি হসপিটালস কভেন্ট্রি অ্যান্ড ওয়ারউইকশায়ার এনএইচএস ট্রাস্ট রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসকে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার দায়িত্ব দেয়। প্রাথমিক পর্যালোচনায় ২০টি রোগীর ঘটনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৫টি ক্ষেত্রে সামগ্রিক চিকিৎসাসেবাকে ‘অসন্তোষজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনো ঘটনাকেই ভালো চিকিৎসা চর্চার উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, টেমোজোলোমাইড ব্যবহারের ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার যৌক্তিকতা সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ ও নথি ছিল না। রোগীদের দীর্ঘ সময় ধরে ওষুধ দেওয়ার বিষয়ে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রশ্ন তোলা হয়নি বলেও পর্যালোচনায় গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ব্রাবনার্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পর্যালোচনায় রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা সিদ্ধান্ত এবং রোগীর সম্মতি নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বেকি মনে করেন, ঘটনাটি শুধু একজন চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, বরং হাসপাতালের তদারকি ব্যবস্থারও বড় ব্যর্থতা। তার অভিযোগ, একজন চিকিৎসক কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলেন এবং অন্য বিশেষজ্ঞরা কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন না, সেটিও তদন্তের বিষয় হওয়া উচিত। ইউএইচসিডব্লিউ এনএইচএস ট্রাস্ট জানিয়েছে, তারা রোগীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দীর্ঘদিন টেমোজোলোমাইড নেওয়া রোগীদের চিকিৎসা নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ট্রাস্ট আরও জানিয়েছে, রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের স্বাধীন পর্যালোচনায় তারা সহযোগিতা করছে। চলমান আইনি প্রক্রিয়া ও রোগীর গোপনীয়তার কারণে নির্দিষ্ট রোগীর ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তারা অনিচ্ছুক। অভিযুক্ত প্রফেসর ইয়ান ব্রাউনের সঙ্গেও মন্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। এদিকে বেকি জোন্সসহ ৪০ জনের বেশি রোগীর আইনি পদক্ষেপ এবং রয়্যাল কলেজ অব ফিজিশিয়ানসের পর্যালোচনা এই চিকিৎসা ব্যবস্থার তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির এক চিকিৎসককে মেডিকেয়ার জালিয়াতির মামলায় ৪২ মাস বা সাড়ে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। হেলেন বোরম্যান নামে ওই চিকিৎসক প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া মেডিকেয়ার দাবি জমা দিয়েছিলেন এবং এর মধ্যে প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। আদালত তাকে প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। টেনেসির ব্রেন্টউড এলাকায় নিজের চক্ষু চিকিৎসাকেন্দ্রের মাধ্যমে বোরম্যান এই জালিয়াতি করেন। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এমন ক্ষত চিকিৎসার পণ্যের জন্য মেডিকেয়ারে অর্থ দাবি করেন, যেগুলো তিনি বাস্তবে কেনেননি বা ব্যবহার করেননি। একবার ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত চিকিৎসা পণ্য ভাগ করে একাধিক চিকিৎসায় ব্যবহারের পরও সেগুলো নতুন পণ্য হিসেবে দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হয়। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মে মাসে দুইজন মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে একাধিক তারিখে ক্ষত চিকিৎসার পণ্য ব্যবহারের দাবি জমা দেওয়া হয়েছিল। দাবিতে ২০, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মে চিকিৎসা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, তাদের নির্ধারিত সাক্ষাৎ ছিল শুধু ২০, ২৪ ও ২৭ মে। অভিযোগ অনুযায়ী, যেসব দিনে রোগীদের কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল না, সেসব তারিখের দাবিকে সমর্থন করতে চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্মীদের দিয়ে অতিরিক্ত নথি তৈরির নির্দেশ দেন বোরম্যান। এভাবে চিকিৎসার রেকর্ড ও মেডিকেয়ার দাবির মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি হয়। পরে তিনি মামলায় দোষ স্বীকার করে স্বীকার করেন যে, পুরো সময়কালে প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া মেডিকেয়ার দাবি জমা দিয়েছিলেন এবং প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের মে মাসের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, বোরম্যানের বিরুদ্ধে মেডিকেয়ার ছাড়াও টেনেসির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি এবং ফেডারেল কর্মচারীদের স্বাস্থ্যসুবিধা কর্মসূচিতে ভুয়া দাবি জমা দেওয়ার বিষয়ও উঠে এসেছে। এসব দাবির সময়কাল ছিল ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। বোরম্যান ২০২৬ সালের মে মাসে আদালতে দোষ স্বীকার করেন। সে সময় তিনি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের মুখোমুখি ছিলেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর টেনেসির মধ্যাঞ্চলের ফেডারেল আদালতে তার সাজা ঘোষণা করা হয়। বিচারক উইলিয়াম এল. ক্যাম্পবেল জুনিয়র তাকে ৪২ মাসের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের সাজা ঘোষণার তথ্য অনুযায়ী, বোরম্যানকে সঙ্গে সঙ্গে কারাগারে পাঠানো হয়নি। তাকে বড়দিনের ছুটির পর কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে তার কারাদণ্ড শুরু হওয়ার কথা। মামলার আর্থিক হিসাবেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বোরম্যান প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলারের ভুয়া দাবি জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু সেসব দাবির বিপরীতে তিনি প্রায় ৬.৯ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। আদালতের নথিতেও প্রায় ৬.৯৭ মিলিয়ন ডলারের প্রকৃত ক্ষতির হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শিরোনামে ৬.৯ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির কথা বলা হলেও মামলায় জমা দেওয়া ভুয়া দাবির মোট অঙ্ক ছিল প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলার। সূত্র: ডব্লিউকেআরএন
ক্যালিফোর্নিয়ায় হঠাৎ অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত সঠিক জায়গায় পৌঁছানো। জীবন-হুমকির পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে কল করতে বলা হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য বা আচরণগত সংকটে ৯৮৮ নম্বরে কল বা খুদে বার্তা পাঠিয়ে ২৪ ঘণ্টা সহায়তা পাওয়া যায়। বিষক্রিয়া বা কোনো বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শের ক্ষেত্রে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ১-৮০০-২২২-১২২২ নম্বরেও ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া যায়। জরুরি নম্বরগুলো এক নজরে ৯১১ — জীবন-হুমকির জরুরি পরিস্থিতি, দুর্ঘটনা বা গুরুতর অসুস্থতা ৯৮৮ — মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে জরুরি সহায়তা ১-৮০০-২২২-১২২২ — বিষক্রিয়া বা বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ক্যালিফোর্নিয়ায় হাসপাতালের সংখ্যা অনেক এবং হাসপাতালের ধরনও এক নয়। ক্যালিফোর্নিয়া জনস্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন ধরনের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রণ করে। এর মধ্যে সাধারণ জরুরি চিকিৎসা হাসপাতাল এবং মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালও রয়েছে। রাজ্যের লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য খুঁজতে স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত সরকারি তথ্যভান্ডার ব্যবহার করা যায়। সেখানে হাসপাতালের লাইসেন্স, অবস্থান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। এসব তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হওয়ায় পুরনো অনলাইন তালিকার তুলনায় সরকারি তথ্যভান্ডার বেশি নির্ভরযোগ্য। জরুরি পরিস্থিতিতে কোন নম্বরে কল করতে হবে, সেটি আগে থেকেই জানা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অচেতন হয়ে পড়লে, শ্বাসকষ্ট হলে, গুরুতর আঘাত পেলে বা জীবন ঝুঁকিতে থাকলে ৯১১ নম্বরে কল করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ বা ফায়ার সার্ভিস পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারেন। মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, আত্মহত্যার চিন্তা, তীব্র মানসিক অস্থিরতা বা আচরণগত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৮৮ নম্বরে কল বা খুদে বার্তা পাঠানো যায়। অনলাইন কথোপকথনের মাধ্যমেও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সেবা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন চালু থাকে। কোনো ওষুধ, রাসায়নিক, পরিষ্কারক পণ্য, উদ্ভিদ বা অন্য কোনো সম্ভাব্য বিষাক্ত পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ১-৮০০-২২২-১২২২ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। এই সেবা বিনামূল্যে এবং ২৪ ঘণ্টা চালু। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হয়ে গেলে, খিঁচুনি হলে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে অপেক্ষা না করে ৯১১ নম্বরে কল করতে হবে। হাসপাতাল খোঁজার সময় শুধু দূরত্ব নয়, হাসপাতালটি কী ধরনের চিকিৎসা দেয় সেটিও দেখা জরুরি। কোনো হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ থাকলেও সেখানে সব ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসা নাও পাওয়া যেতে পারে। গুরুতর পরিস্থিতিতে তাই নিজের মতো করে দূরের কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল খোঁজার পরিবর্তে ৯১১-এর জরুরি সহায়তা নেওয়া নিরাপদ। স্বাস্থ্যবিমা থাকা রোগীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাসপাতালটি তাদের স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার আওতাভুক্ত কি না। জরুরি নয় এমন চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালে যাওয়ার আগে নিজের স্বাস্থ্যবিমা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন হাসপাতাল ও চিকিৎসক পরিকল্পনার আওতাভুক্ত, তা জেনে নেওয়া যেতে পারে। এতে চিকিৎসার সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে জীবন-হুমকির জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়। গুরুতর অসুস্থতা বা আঘাতের ক্ষেত্রে আগে জরুরি চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। যাদের মেডি-ক্যাল আছে বা মেডি-ক্যালের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের জন্যও জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়া যায়। কিছু যোগ্য আবেদনকারী হাসপাতাল থেকেই সাময়িক মেডি-ক্যাল সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগ বা দাতব্য চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচির সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। অনেক হাসপাতাল যোগ্য রোগীদের জন্য চিকিৎসার খরচ কমানো বা পরিশোধে সহায়তার ব্যবস্থা রাখে। এ বিষয়ে চিকিৎসা নেওয়ার আগে বা বিল পাওয়ার পর হাসপাতালের আর্থিক সহায়তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি হলো নিজের বাসার কাছের হাসপাতাল ও জরুরি বিভাগের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর আগে থেকেই ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা। একই সঙ্গে ৯১১, ৯৮৮ এবং বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের নম্বরও ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা ভালো। হাসপাতালের ঠিকানা, চিকিৎসাসেবা, লাইসেন্সের অবস্থা বা জরুরি বিভাগের কার্যক্রম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরনো ব্লগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অননুমোদিত তালিকার ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত। জীবন-হুমকির জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালের তালিকা খুঁজতে সময় নষ্ট না করে সরাসরি ৯১১ নম্বরে কল করুন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১০ লাখ আমেরিকানকে ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের দাবি, ‘অতিরিক্ত ফি’ নেওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। আগামী অক্টোবর থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে এই অর্থ পাঠানোর কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক ভিডিওতে ট্রাম্প এই ‘রিবেট চেক’ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রায় ১০ লাখ পরিশ্রমী আমেরিকানকে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের (এসিএ) আওতায় ভুলভাবে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়েছিল। এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ৩০টি অঙ্গরাজ্যের এমন বাসিন্দারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন, যারা স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়ামে কোনো সরকারি ভর্তুকি পাননি এবং ফেডারেল ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসে সম্পূর্ণ ফি পরিশোধ করেছেন। যেসব অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, সেগুলো হলো—আলাবামা, আলাস্কা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, মিসৌরি, মন্টানা, নেব্রাস্কা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, নর্থ ক্যারোলাইনা, নর্থ ডাকোটা, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওরেগন, সাউথ ক্যারোলাইনা, সাউথ ডাকোটা, টেনেসি, টেক্সাস, ইউটা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং। ট্রাম্প দাবি করেন, এসব মানুষকে অতিরিক্ত ফি হিসেবে অন্তত ৫০ কোটি ডলার দিতে হয়েছিল। তার ভাষ্য, আগের প্রশাসন বিষয়টি জানত এবং এ নিয়ে পর্যালোচনাও করেছিল, কিন্তু অর্থ ফেরত দেয়নি। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ৫০০ ডলারের এই অর্থ অনেক ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের নীতির কারণে স্বাস্থ্যবিমার খরচ বেড়ে যাওয়ার পুরোটা বা বড় একটি অংশ পূরণ করবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবির সঙ্গে একমত নন এমআইটির অর্থনীতির অধ্যাপক ও ওবামাকেয়ারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত জনাথন গ্রুবার। তিনি এই দাবিকে বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থায় প্রশাসনিক খরচ থাকা স্বাভাবিক এবং ওবামাকেয়ার মার্কেটপ্লেসের ফিগুলো তুলনামূলকভাবে যৌক্তিক ছিল। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্রোটেক্ট আওয়ার কেয়ার এই ৫০০ ডলারের অর্থকে ‘লোক দেখানো উদ্যোগ’ বলে সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার বাড়তি খরচের তুলনায় ৫০০ ডলার খুবই কম। সংগঠনটি আরও বলেছে, আরবান ইনস্টিটিউটের হিসাবে একজন আমেরিকানের স্বাস্থ্যবিমার গড় মাসিক খরচ প্রায় ৬১১ ডলার। ফলে ৫০০ ডলারের এই অর্থ অনেকের এক মাসের স্বাস্থ্যবিমার খরচও পুরোপুরি মেটাতে পারবে না। ট্রাম্পের ৫০০ ডলারের এই ঘোষণা এসেছে এর ঠিক একদিন পর, যখন তিনি রিপাবলিকানরা নভেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। এই ৫ হাজার ডলারের প্রস্তাব নিয়েও ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সঙ্গে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির আইনগত বৈধতা, এত বড় অর্থ ব্যয়ের জন্য ট্রাম্পের ক্ষমতা এবং এই অর্থের উৎস নিয়ে আইনপ্রণেতা ও অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলেছেন। কমিটি ফর এ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্ক গোল্ডওয়েইন হিসাব করে বলেছেন, ৫ হাজার ডলারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এক বছরে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এত বিপুল অর্থ অর্থনীতিতে ঢোকানো হলে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং সরকারের ঋণ আরও বেড়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে ৫৯ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। তবে সব খাতে চাকরির প্রবৃদ্ধি সমান হবে না। স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি, প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক সেবার মতো কিছু খাতে নিয়োগ বাড়লেও প্রশাসনিক ও বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পেশায় চাকরি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের এই পূর্বাভাসে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি আসবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। স্বাস্থ্যসেবায় ২২ লাখ নতুন চাকরি আগামী দশকে সবচেয়ে বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতে। এ খাতে প্রায় ২২ লাখ নতুন চাকরি যোগ হতে পারে, যা ২০৩৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হতে যাওয়া মোট নতুন চাকরির প্রায় ৩৭ শতাংশ। খাতটির কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং হৃদ্রোগ, ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদাও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে নার্স প্র্যাকটিশনারের চাকরি পেশাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হতে পারে নার্স প্র্যাকটিশনারদের চাকরিতে। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৪১ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা পেশাগুলোর তালিকায় আরও রয়েছে সোলার ফটোভোলটাইক ইনস্টলার, ডেটা সায়েন্টিস্ট, উইন্ড টারবাইন সার্ভিস টেকনিশিয়ান এবং মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজার। মেডিকেল ও হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারদের কর্মসংস্থান ২৪ শতাংশ বাড়তে পারে। এআই ও ডেটা সেন্টারে ইউটিলিটি খাতে নিয়োগ প্রবৃদ্ধির হারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে ইউটিলিটি খাত। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ খাতে কর্মসংস্থান ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে খাতটির আকার তুলনামূলক ছোট হওয়ায় নতুন চাকরি হবে প্রায় ৫৮ হাজার ৮০০টি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ডেটা সেন্টারের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে এই কর্মসংস্থান বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চাকরি ১৫৩ শতাংশ এবং বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রযুক্তি খাতেও বাড়বে চাকরি এআই-এর বিস্তারে প্রযুক্তি খাতে চাকরি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও এই খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পেশাগত, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সেবা খাত ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে এবং প্রায় ৯ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে। এআই-ভিত্তিক সিস্টেম, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি পরামর্শক সেবার চাহিদা এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হবে। ডেটা সায়েন্টিস্টদের কর্মসংস্থান প্রায় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের ২১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এআই-এর চাপে কমবে কিছু চাকরি সব পেশায় অবশ্য চাকরি বাড়বে না। এআই ও অটোমেশনের প্রভাবে অফিস ও প্রশাসনিক সহায়তা-সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান কমতে পারে। এই খাতে চাকরি প্রায় ৪ শতাংশ বা ৭ লাখ ৫২ হাজার ১০০টি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। একই সঙ্গে ই-কমার্সের বিস্তার এবং ব্যবসায় এআই ব্যবহারের কারণে বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট পেশাতেও কর্মসংস্থান ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমতে পারে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআই পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে। ফলে কিছু পেশায় কর্মীর প্রয়োজন কমে যেতে পারে। বিশেষ করে শিল্প, নকশা, বিনোদন, ক্রীড়া ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কিছু চাকরিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামগ্রিক চাকরির প্রবৃদ্ধি হবে ধীর সব মিলিয়ে ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কর্মসংস্থান ১৭ কোটি ৬ লাখ থেকে বেড়ে ১৭ কোটি ৬২ লাখে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ৫৯ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হলেও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার হবে মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের দশকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। আগামী দশকের মার্কিন চাকরির বাজারে তাই শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা নয়, চাকরির ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা, এআই, প্রযুক্তি ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট পেশাগুলোই এই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ায় নতুন বসবাস শুরু করা বাংলাদেশিদের জন্য চাকরি, সন্তানদের স্কুলে ভর্তি, ইংরেজি শেখা, স্বাস্থ্যসেবা, খাবার সহায়তা, আইনি পরামর্শ ও ড্রাইভার লাইসেন্সের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সরকারি ও কমিউনিটি পর্যায়ে সহায়তার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ফিলাডেলফিয়া, আপার ডারবি, পিটসবার্গ ও অ্যালেন্টাউনের মতো এলাকায় নিজের জিপ কোড ব্যবহার করে কাছাকাছি বিভিন্ন সেবা খুঁজে পাওয়া যায়। চাকরি খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ক্যারিয়ারলিংক গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সেবা। এখানে চাকরির সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি রেজিউমে তৈরি, চাকরির ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি এবং ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণের মতো বিভিন্ন সহায়তা পাওয়া যায়। অনলাইনে নিজের প্রোফাইল তৈরি করে চাকরির জন্য আবেদনও করা যায়। স্থানীয় সরকারি ও সামাজিক সেবা খুঁজতে পেনসিলভেনিয়া ২১১ সেবা বেশ কার্যকর। ২১১ নম্বরে ফোন করে কিংবা নিজের জিপ কোড ৮৯৮-২১১ নম্বরে টেক্সট করে কাছাকাছি খাবার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তার তথ্য পাওয়া যায়। সন্তানের স্কুলে ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে আগে নিজের এলাকার স্কুল ডিস্ট্রিক্ট সম্পর্কে জানা জরুরি। ফিলাডেলফিয়ায় স্কুল ডিস্ট্রিক্ট অব ফিলাডেলফিয়ার শিক্ষার্থী ভর্তি ও প্লেসমেন্ট অফিস নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি এবং স্কুল সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে থাকে। বসবাসের ঠিকানা ও জিপ কোডের ভিত্তিতে কোন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে, সে তথ্যও পাওয়া যায়। ইংরেজি শেখার জন্য পেনসিলভেনিয়ায় বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। ফিলাডেলফিয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে ইএসএল ক্লাস পরিচালিত হয়। অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য দ্য ওয়েলকামিং সেন্টারেও বিনামূল্যে ইংরেজি ও ডিজিটাল দক্ষতা শেখার সুযোগ রয়েছে। নতুন অভিবাসীদের জন্য ফ্রি লাইব্রেরি অব ফিলাডেলফিয়াও গুরুত্বপূর্ণ একটি রিসোর্স। লাইব্রেরি কার্ডের মাধ্যমে বই পড়ার পাশাপাশি চাকরি খোঁজা, রেজিউমে তৈরি, ক্যারিয়ার প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন বিনামূল্যের সেবা ব্যবহার করা যায়। কিছু শাখায় নতুন আমেরিকানদের জন্য ইংরেজি শেখা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। খাবারের প্রয়োজন হলে পেনসিলভেনিয়া ২১১-এর মাধ্যমে কাছাকাছি ফুড প্যান্ট্রি ও ফুড ব্যাংকের তথ্য পাওয়া যায়। ফিলাডেলফিয়ায় জিপ কোড বা ঠিকানা দিয়ে ফ্রি খাবার ও গ্রোসারি সহায়তার বিভিন্ন স্থান খুঁজে বের করা সম্ভব। কিছু প্রতিষ্ঠানে সহায়তা নিতে পরিচয়পত্র বা আয়ের প্রমাণের প্রয়োজন নাও হতে পারে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধা সম্পর্কে জানতে ফিলাডেলফিয়ায় বেনিফিলির সহায়তা নেওয়া যায়। এসএনএপি, মেডিকেইড, এলআইএইচইএপি, এসএসআই ও এসএসডিআই-এর মতো সুবিধার যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কাউন্সেলরদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি হেলথ সেন্টার ও স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজে আসতে পারে। হেলথ ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও কিছু প্রতিষ্ঠানে কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসার ধরন, যোগ্যতা ও খরচ প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জেনে নেওয়া ভালো। ইমিগ্রেশন, হাউজিং বা কর্মক্ষেত্রে নিজের অধিকার নিয়ে সমস্যায় পড়লে পেনসিলভেনিয়া লিগ্যাল এইড নেটওয়ার্কের স্থানীয় সংস্থাগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। ফ্রি বা কম খরচে আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা ব্যক্তির আয় ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। ড্রাইভার লাইসেন্স বা স্টেট আইডির জন্য পেনডটের ড্রাইভার লাইসেন্স সেন্টার ব্যবহার করা যায়। অনলাইনে নিজের জিপ কোড দিয়ে কাছাকাছি সেন্টার খুঁজে প্রয়োজনীয় সেবার তথ্য এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা করা সম্ভব। বাংলাদেশি কমিউনিটির সহায়তাও নতুনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠন ও মসজিদভিত্তিক কমিউনিটি কার্যক্রম রয়েছে। ঈদ, বৈশাখী অনুষ্ঠান, স্বাস্থ্য মেলা, সামাজিক সহায়তা এবং নতুন অভিবাসীদের জন্য বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক কার্যক্রম এসব সংগঠনের মাধ্যমে আয়োজন করা হয়। পেনসিলভেনিয়ায় নতুন কেউ কোনো সেবা খুঁজলে নিজের জিপ কোড ব্যবহার করাই সবচেয়ে সহজ উপায়। যেমন, নিজের এলাকার জিপ কোড যোগ করে চাকরি বা বিনামূল্যের ইএসএল ক্লাসের জন্য অনলাইনে খোঁজ করলে কাছাকাছি সুযোগগুলো দ্রুত পাওয়া যায়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে তাদের বর্তমান সময়সূচি, যোগ্যতা এবং সেবা চালু আছে কি না, তা অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।